আওয়ামী লীগ নেতাদের ধারাবাহিক জামিনে মুক্তি দেওয়ার প্রতিবাদে বিচারকের উপস্থিতিতে এজলাস কক্ষে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে কেন্দ্র বুধবার বরিশালে উত্তেজনাকর একটি দিন পার হলো।
একদিন আগের সেই ঘটনায় বুধবার বেলা ১০টার দিকে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা সাদিকুর রহমান লিংকনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করলে বিচারকের কারাগারে প্রেরণ আদেশ উত্তেজনার পারদ আরও উর্ধ্বমুখী করে তোলে। বিশেষ করে বরিশাল আদালত চত্ত্বরে ক্ষোভে ফেটে পড়তে দেখা যায় বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের। কিন্তু তাদের কোনো লাভ হয়নি, বরং বারের সভাপতিকে শেষ পর্যন্ত কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাস কক্ষের একটি হট্টগোলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকের উপস্থিতিতে এজলাস কক্ষের এই ধরনের বিশৃঙ্খল ভিডিও নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালত থেকে সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের অন্তত অর্ধডজন শীর্ষস্থানীয় নেতাদের জামিন অযোগ্য মামলায় জামিন দেওয়া হয়। গত সোমবার একই আদালত থেকে একটি আলোচিত মামলায় জামিনে মুক্তি বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দুইবারের সাবেক এমপি তালুকদার মো. ইউনুস। শীর্ষস্থানীয় নেতা ইউনুস জামিনে মুক্তি প্রাপ্তির পরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা।
এর প্রতিবাদে তারা মঙ্গলবার আদালত বর্জন করেন এবং বরিশালে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাস কক্ষে প্রবেশ করে হট্টগোল শুরু করে দেন। মূলত সেই ঘটনায় আদালতের সিসি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। অবশ্য এই ভিডিওর সাথে নেতিবাচক শিরোনামজুড়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ফেসবুক থেকেও প্রচার করা হয়। এবং সেই ভিডিওর নিচে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের নেতিবাচক কমেন্টও লক্ষ্য করা যায়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার এজলাস কক্ষের সেই ঘটনাকে কেন্দ্র বুধবার সকাল থেকেই আদালত চত্ত্বরে অবস্থান নেয় পুলিশসংখ্যক পুলিশ। পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। বেলা ১০টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি টিম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে আইনজীবী কক্ষ থেকে আটক করে এবং সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বাবের সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে কারাগারে পাঠানোর খবর সংক্ষুব্ধ করে তোলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের। এই ঘটনায় বুধবার সকাল থেকেই তারা আদালত বর্জন করাসহ অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারকের অপসারণ দাবি করেন। পাশাপাশি সভাপতির মুক্তির দাবিতে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মুল ফটকে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন। তখন সাদিকুর রহমান লিংকন আদালত ভবনের নিতে পুলিশ হেফাজতে ছিলেন।
নেতাকে মুক্ত করতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিক্ষোভে আদালত চত্ত্বরের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেনাবাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য সেখানে অবস্থান নেন। এবং পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে কাজ করেন।
বলা যায়, সেনা বাহিনী-পুলিশ এবং র্যাব আদালত কম্পাউন্ডে এক ধরনের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। কিন্তু বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিক্ষোভ প্রতিবাদের কারণে সাদিকুর রহমানকে কিছুতেই আদালতের হাজতখানা থেকে বাহির করা যাচ্ছিল না।
ফলে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও আদালতে এই ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করে এবং সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। তবে সবশেষ বিকেল ৫টার দিকে আদালত প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কৌশলী পদক্ষেপ রাখায় বিএনপি নেতাকে কারাগারে যাওয়া থেকে আর রক্ষা করা যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আদালতের একাধিক সূত্র রূপালী বাংলাদেশকে নিশ্চিত করে, আদালতের এজলাসে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় বুধবার দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা হয়।
অবশ্য এই মামলা গ্রহণের আগেই পুলিশ তাকে আদালত চত্ত্বর থেকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেয়, এমনকি কিছুক্ষণের মধ্যে আদালতেও তোলে।
পরে তাকে দ্রুত বিচার আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলে বিকেলে তার জামিন আবেদন করে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা। কিন্তু বিচারক সেই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন এবং আগামী ২ মার্চ এই মামলার শুনানির দিনক্ষণ ধার্য রাখেন। আদালত থেকে সবশেষ এই সিদ্ধান্ত আসার পরে সেনাবাহিনী- পুলিশ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মুখ কর্ডন করে আসামী বহনকারী প্রিজনভ্যানে করে সাদিকুর রহমান লিংকনকে কারাগারের অভিমুখে নিয়ে যায়।
সভাপতিকে কারাগারে পাঠানোর এই ঘটনায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বৃহস্পতিবারও আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। এবং সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার আগাম বার্তা সাংবাদিকদের দিয়ে রেখেছেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিংকনসহ নামধারী ১২জনকে অভিযুক্ত করে মামলা গ্রহণ করা হয়।
এই মামলায় আরও চারজন অজ্ঞাত আসামি আছেন। বুধবার সভাপতিকে আটকের পরে আদালতে সোপর্দ করলে তাকে বিচারক কারাগারে প্রেরণ আদেশ দেন। বিকেলে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে তার মুক্তির দাবিতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বিক্ষোভ করেন। এই গোটা ঘটনায় আদালত প্রশাসন কোনো রূপ মন্তব্য না করলেও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দাবি, বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক শরীয়তউল্লাহ স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোষর। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুসকে জামিন দিয়ে তার প্রমাণ দিয়েছেন।
এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল ৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তিন নেতা জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। জামিনপ্রাপ্ত অন্য দুজন হচ্ছেন, বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন এবং বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান।
আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিনের ধারাবাহিকতা বহাল থাকা এবং তাদের নেতাকে মামলায় কারাগারে পাঠানো নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবী এইচএম আনিসুর রহমান।
তিনি জানান, বিচারক স্বৈরাচারের পক্ষ নিয়ে বরিশাল আদালতে একটি কালো অধ্যয় তৈরি তৈরি করলেন, যা খুব খারাপ একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই ঘটনায় পরবর্তী পদক্ষেপ বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা কি রাখবেন তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে, মন্তব্য করেন তিনি।

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৬
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’

২৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩১
বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকার কর্মক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন। দীর্ঘফষন তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকলেও মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে ২২ জুলাই চাকরিচ্যুৎ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃষ্টি হওয়ার আগের পদবি ব্যবহার করে শঙ্কর চন্দ্র মালাকার প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেন। এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত আরও ২২২ একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়। এছাড়া স্থানীয় রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া যায়।
এইসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরে ২২ জুলাই তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়। ওই দিন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করে হোল্ডিং খুলে দিয়ে সরকারের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেন। এবং দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭ টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিবিবর্জিত এই কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা জনস্বার্থ ও সরকারি স্বার্থের পরিপন্থী। তাই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া সরকারি খাসজমি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সাময়িক বরখাস্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলা ভূমি অফিসে আদেশ পৌঁছেছে। ওই আদেশের আগেই প্রায় সব খাসজমি উদ্ধার করা হয়। এরপরেও খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় আছে কি না তা তদন্তের জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকার কর্মক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন। দীর্ঘফষন তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকলেও মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে ২২ জুলাই চাকরিচ্যুৎ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃষ্টি হওয়ার আগের পদবি ব্যবহার করে শঙ্কর চন্দ্র মালাকার প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেন। এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত আরও ২২২ একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়। এছাড়া স্থানীয় রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া যায়।
এইসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরে ২২ জুলাই তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়। ওই দিন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করে হোল্ডিং খুলে দিয়ে সরকারের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেন। এবং দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭ টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিবিবর্জিত এই কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা জনস্বার্থ ও সরকারি স্বার্থের পরিপন্থী। তাই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া সরকারি খাসজমি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সাময়িক বরখাস্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলা ভূমি অফিসে আদেশ পৌঁছেছে। ওই আদেশের আগেই প্রায় সব খাসজমি উদ্ধার করা হয়। এরপরেও খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় আছে কি না তা তদন্তের জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

২৬ জুলাই, ২০২৬ ১৫:০৩
বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগের প্রতিবাদ এবং বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিতর্কিত ও শাস্তিপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা তারা মেনে নেবেন না।
পরে শিক্ষার্থীরা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, যোগদানের শেষ দিন হলেও ডা. মনিরুজ্জামান অফিসে উপস্থিত হননি। এরপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার জন্য নির্ধারিত কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন জানিয়েছেন, যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে, তাকে বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তার দাবি, ডা. মনিরুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতা সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। বরিশালে একজন সৎ, যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার বলেছেন, বরিশালের মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। তাই জনস্বার্থে বিতর্কিত কর্মকর্তাকে অপসারণ করে নতুন সিভিল সার্জন নিয়োগ দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন জনস্বার্থে।
কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা দ্রুত ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগ বাতিল এবং একজন যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাকে বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগের দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।’
বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগের প্রতিবাদ এবং বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিতর্কিত ও শাস্তিপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা তারা মেনে নেবেন না।
পরে শিক্ষার্থীরা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, যোগদানের শেষ দিন হলেও ডা. মনিরুজ্জামান অফিসে উপস্থিত হননি। এরপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার জন্য নির্ধারিত কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন জানিয়েছেন, যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে, তাকে বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তার দাবি, ডা. মনিরুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতা সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। বরিশালে একজন সৎ, যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার বলেছেন, বরিশালের মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। তাই জনস্বার্থে বিতর্কিত কর্মকর্তাকে অপসারণ করে নতুন সিভিল সার্জন নিয়োগ দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন জনস্বার্থে।
কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা দ্রুত ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগ বাতিল এবং একজন যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাকে বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগের দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।’

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:৪৪
আওয়ামী লীগ নেতাদের ধারাবাহিক জামিনে মুক্তি দেওয়ার প্রতিবাদে বিচারকের উপস্থিতিতে এজলাস কক্ষে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে কেন্দ্র বুধবার বরিশালে উত্তেজনাকর একটি দিন পার হলো।
একদিন আগের সেই ঘটনায় বুধবার বেলা ১০টার দিকে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা সাদিকুর রহমান লিংকনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করলে বিচারকের কারাগারে প্রেরণ আদেশ উত্তেজনার পারদ আরও উর্ধ্বমুখী করে তোলে। বিশেষ করে বরিশাল আদালত চত্ত্বরে ক্ষোভে ফেটে পড়তে দেখা যায় বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের। কিন্তু তাদের কোনো লাভ হয়নি, বরং বারের সভাপতিকে শেষ পর্যন্ত কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাস কক্ষের একটি হট্টগোলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকের উপস্থিতিতে এজলাস কক্ষের এই ধরনের বিশৃঙ্খল ভিডিও নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালত থেকে সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের অন্তত অর্ধডজন শীর্ষস্থানীয় নেতাদের জামিন অযোগ্য মামলায় জামিন দেওয়া হয়। গত সোমবার একই আদালত থেকে একটি আলোচিত মামলায় জামিনে মুক্তি বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দুইবারের সাবেক এমপি তালুকদার মো. ইউনুস। শীর্ষস্থানীয় নেতা ইউনুস জামিনে মুক্তি প্রাপ্তির পরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা।
এর প্রতিবাদে তারা মঙ্গলবার আদালত বর্জন করেন এবং বরিশালে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাস কক্ষে প্রবেশ করে হট্টগোল শুরু করে দেন। মূলত সেই ঘটনায় আদালতের সিসি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। অবশ্য এই ভিডিওর সাথে নেতিবাচক শিরোনামজুড়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ফেসবুক থেকেও প্রচার করা হয়। এবং সেই ভিডিওর নিচে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের নেতিবাচক কমেন্টও লক্ষ্য করা যায়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার এজলাস কক্ষের সেই ঘটনাকে কেন্দ্র বুধবার সকাল থেকেই আদালত চত্ত্বরে অবস্থান নেয় পুলিশসংখ্যক পুলিশ। পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। বেলা ১০টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি টিম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে আইনজীবী কক্ষ থেকে আটক করে এবং সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বাবের সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে কারাগারে পাঠানোর খবর সংক্ষুব্ধ করে তোলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের। এই ঘটনায় বুধবার সকাল থেকেই তারা আদালত বর্জন করাসহ অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারকের অপসারণ দাবি করেন। পাশাপাশি সভাপতির মুক্তির দাবিতে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মুল ফটকে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন। তখন সাদিকুর রহমান লিংকন আদালত ভবনের নিতে পুলিশ হেফাজতে ছিলেন।
নেতাকে মুক্ত করতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিক্ষোভে আদালত চত্ত্বরের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেনাবাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য সেখানে অবস্থান নেন। এবং পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে কাজ করেন।
বলা যায়, সেনা বাহিনী-পুলিশ এবং র্যাব আদালত কম্পাউন্ডে এক ধরনের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। কিন্তু বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিক্ষোভ প্রতিবাদের কারণে সাদিকুর রহমানকে কিছুতেই আদালতের হাজতখানা থেকে বাহির করা যাচ্ছিল না।
ফলে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও আদালতে এই ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করে এবং সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। তবে সবশেষ বিকেল ৫টার দিকে আদালত প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কৌশলী পদক্ষেপ রাখায় বিএনপি নেতাকে কারাগারে যাওয়া থেকে আর রক্ষা করা যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আদালতের একাধিক সূত্র রূপালী বাংলাদেশকে নিশ্চিত করে, আদালতের এজলাসে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় বুধবার দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা হয়।
অবশ্য এই মামলা গ্রহণের আগেই পুলিশ তাকে আদালত চত্ত্বর থেকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেয়, এমনকি কিছুক্ষণের মধ্যে আদালতেও তোলে।
পরে তাকে দ্রুত বিচার আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলে বিকেলে তার জামিন আবেদন করে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা। কিন্তু বিচারক সেই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন এবং আগামী ২ মার্চ এই মামলার শুনানির দিনক্ষণ ধার্য রাখেন। আদালত থেকে সবশেষ এই সিদ্ধান্ত আসার পরে সেনাবাহিনী- পুলিশ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মুখ কর্ডন করে আসামী বহনকারী প্রিজনভ্যানে করে সাদিকুর রহমান লিংকনকে কারাগারের অভিমুখে নিয়ে যায়।
সভাপতিকে কারাগারে পাঠানোর এই ঘটনায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বৃহস্পতিবারও আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। এবং সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার আগাম বার্তা সাংবাদিকদের দিয়ে রেখেছেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিংকনসহ নামধারী ১২জনকে অভিযুক্ত করে মামলা গ্রহণ করা হয়।
এই মামলায় আরও চারজন অজ্ঞাত আসামি আছেন। বুধবার সভাপতিকে আটকের পরে আদালতে সোপর্দ করলে তাকে বিচারক কারাগারে প্রেরণ আদেশ দেন। বিকেলে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে তার মুক্তির দাবিতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বিক্ষোভ করেন। এই গোটা ঘটনায় আদালত প্রশাসন কোনো রূপ মন্তব্য না করলেও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দাবি, বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক শরীয়তউল্লাহ স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোষর। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুসকে জামিন দিয়ে তার প্রমাণ দিয়েছেন।
এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল ৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তিন নেতা জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। জামিনপ্রাপ্ত অন্য দুজন হচ্ছেন, বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন এবং বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান।
আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিনের ধারাবাহিকতা বহাল থাকা এবং তাদের নেতাকে মামলায় কারাগারে পাঠানো নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবী এইচএম আনিসুর রহমান।
তিনি জানান, বিচারক স্বৈরাচারের পক্ষ নিয়ে বরিশাল আদালতে একটি কালো অধ্যয় তৈরি তৈরি করলেন, যা খুব খারাপ একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই ঘটনায় পরবর্তী পদক্ষেপ বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা কি রাখবেন তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে, মন্তব্য করেন তিনি।