মহালয়ার মধ্য দিয়ে আগামীকাল শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। এ উৎসবকে ঘিরে বরিশাল জেলা ও মহানগরজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা নির্মাণ, রং-তুলির কাজ, মণ্ডপ সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পী ও পূজার আয়োজকেরা।
এ বছর বরিশাল জেলা ও মহানগর মিলিয়ে মোট ৬৩৭টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ৫৯০টি এবং মহানগর এলাকায় ৪৭টি মণ্ডপ রয়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল থেকে নগরীর ফলপট্টি কালিমাতা ঠাকুরানীর মন্দির, সদর রোডের শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির ও শ্রীশ্রী শংকর মঠ মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধন, দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা।
উৎসবকে ঘিরে মণ্ডপগুলো আকর্ষণীয় করে তুলতে চলছে নানা আয়োজন। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দিন-রাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এদিকে, প্রতিমা তৈরির উপকরণসহ বিভিন্ন জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি চাপের মুখে পড়েছেন প্রতিমাশিল্পীরা। খরচ বাড়লেও পূজা কমিটির বাজেট সেই তুলনায় না বাড়ায় আগের চেয়ে কম প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন কেউ কেউ।
নগরীর শ্রীশ্রী শংকর মঠ মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত ছিলেন ফরিদপুরের প্রতিমাশিল্পী কার্তিক চন্দ্র পাল। এ বছর তিনি মোট ১২টি প্রতিমা তৈরি করছেন। এর মধ্যে বরিশাল নগরীতে পাঁচটি এবং বাবুগঞ্জের মাধবপাশায় একটি প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন তিনি।
কার্তিক চন্দ্র পাল বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিমা তৈরির কাজ কম করছি। সব মিলিয়ে ১২টি প্রতিমা তৈরি করছি। গত বছরের তুলনায় এবার সবকিছুর দাম দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় পূজা কমিটির বাজেট বাড়েনি। তারপরও বহুকাল ধরে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত আছি। লাভ-লোকসান যাই হোক, কাজ করে যাচ্ছি।
শাস্ত্রমতে, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। প্রচলিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঘোড়ায় আগমন সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করা হয়। অন্যদিকে, নৌকায় গমন শস্যবৃদ্ধি ও মনোকামনা পূরণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হলেও অতিবৃষ্টি বা বন্যার আশঙ্কার কথাও বলা হয়।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামীকাল ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন ও অকালবোধন, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান ও পূজা, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী ও সন্ধিপূজা, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।
বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন, মহানগরীতে এ বছর ৪৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার একটি মণ্ডপ বেড়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
অপর দিকে পূজামণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের প্রস্তুতিও চলছে। বিভিন্ন মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। পূজামণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ চরচাকে বলেন , যেখানে যেখানে প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে সেখানে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুরোহিত দের নিয়ে আমরা টিম করেছি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কমিটি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এবার বিভাগে প্রায় ১৬২৮ টি পূজামন্ডপ আছে (কম বেশি হতে পারে) প্রতিটি পূজামন্ডবে যাতে দর্শনার্থীরা আসাযাওয়া করতে পারে এবং একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশে যাতে সবাই সুন্দর ভাবে পূজা উদযাপন করতে পারে সেজন্য আমাদের বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি যেদিন প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে সেদিন কোস্ট গার্ডকে বলে রেখেছি সকল ধরনের বাণিজ্যিক ট্রলার বাল্কহেড যেন বন্ধ রাখা হয়। যাতে করে কোন ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। সেই প্রচেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সকল ম্যাজিস্ট্রেড দের ছুটিও বাতিল করেছি। সবাই সকলের দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করবে বলে আশা করছি। আমি মনে করি এবার অত্যন্ত অনন্দ ঘন পরিবেশ বরিশালে পূজা উদযাপন হবে।

০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২৬
বরিশাল ও পটুয়াখালীসহ দেশের চার জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখানোর নির্দেশনা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বরিশাল ও পটুয়াখালীসহ দেশের চার জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখানোর নির্দেশনা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:১৯
বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির মামলা। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে দিন কাটছে তার। উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির দীর্ঘসূত্রতায় অনিশ্চয়তা কাটছে না। কারাগারে ইবাদত-বন্দেগি করেই সময় পার করছেন তিনি। মাসে একবার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান।
২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। ওই বছরের ৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলও করেন ৬ আসামি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে হাইকোর্টে ১ হাজার ২৬৫টি ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ডেথ রেফারেন্স কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির জানিয়েছেন, বর্তমানে ২০১৯ সালে আসা ডেথ রেফারেন্সগুলোর শুনানি চলছে। রিফাত হত্যা মামলাটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা খোঁজ নিয়ে জানাতে হবে।
এদিকে, অসুস্থতা ও নারী বন্দি হিসেবে বিশেষ বিবেচনায় ২০২২ সালের ১৬ অক্টোবর মিন্নির জামিন আবেদন করা হয়। ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আবেদনটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে অন্য বেঞ্চে উপস্থাপনের পর আবেদনটি মুলতবি হয়। এরপর আর শুনানির তালিকায় ওঠেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের দাবি, ষড়যন্ত্র করে তার মেয়েকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, কারাগারে মিন্নির শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। মাসে একবার মেয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান তারা। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় মিন্নির জামিন চান তিনি। এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মামলা পরিচালনার সুবিধার্থে মিন্নিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। কারা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সেখানকার কনডেম সেলে তিনিই একমাত্র নারী বন্দি। নিয়ম অনুযায়ী, বন্দিরা মাসে একবার স্বজনদের সঙ্গে দেখা এবং সপ্তাহে একবার নির্ধারিত সময়ে পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ পান।
কারা সূত্রের দাবি, মিন্নি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, চুপচাপ থাকেন এবং তার আচরণ সন্তোষজনক।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃত্যুদণ্ডের রায় চূড়ান্ত হওয়ার আগে বছরের পর বছর কনডেম সেলে থাকা মানবাধিকারের প্রশ্ন তৈরি করে। হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলেও আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এমনকি দীর্ঘ কারাবাসের পর আপিল বিভাগে খালাস পাওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
মিন্নির মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কবে হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে, নাকি রায়ে পরিবর্তন আসবে—সেই সিদ্ধান্ত আদালতের। তবে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যে বন্দিদের অধিকার ও মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির প্রশ্নটি সামনে আসছে বারবার।
বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির মামলা। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে দিন কাটছে তার। উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির দীর্ঘসূত্রতায় অনিশ্চয়তা কাটছে না। কারাগারে ইবাদত-বন্দেগি করেই সময় পার করছেন তিনি। মাসে একবার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান।
২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। ওই বছরের ৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলও করেন ৬ আসামি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে হাইকোর্টে ১ হাজার ২৬৫টি ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ডেথ রেফারেন্স কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির জানিয়েছেন, বর্তমানে ২০১৯ সালে আসা ডেথ রেফারেন্সগুলোর শুনানি চলছে। রিফাত হত্যা মামলাটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা খোঁজ নিয়ে জানাতে হবে।
এদিকে, অসুস্থতা ও নারী বন্দি হিসেবে বিশেষ বিবেচনায় ২০২২ সালের ১৬ অক্টোবর মিন্নির জামিন আবেদন করা হয়। ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আবেদনটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে অন্য বেঞ্চে উপস্থাপনের পর আবেদনটি মুলতবি হয়। এরপর আর শুনানির তালিকায় ওঠেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের দাবি, ষড়যন্ত্র করে তার মেয়েকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, কারাগারে মিন্নির শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। মাসে একবার মেয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান তারা। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় মিন্নির জামিন চান তিনি। এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মামলা পরিচালনার সুবিধার্থে মিন্নিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। কারা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সেখানকার কনডেম সেলে তিনিই একমাত্র নারী বন্দি। নিয়ম অনুযায়ী, বন্দিরা মাসে একবার স্বজনদের সঙ্গে দেখা এবং সপ্তাহে একবার নির্ধারিত সময়ে পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ পান।
কারা সূত্রের দাবি, মিন্নি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, চুপচাপ থাকেন এবং তার আচরণ সন্তোষজনক।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃত্যুদণ্ডের রায় চূড়ান্ত হওয়ার আগে বছরের পর বছর কনডেম সেলে থাকা মানবাধিকারের প্রশ্ন তৈরি করে। হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলেও আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এমনকি দীর্ঘ কারাবাসের পর আপিল বিভাগে খালাস পাওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
মিন্নির মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কবে হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে, নাকি রায়ে পরিবর্তন আসবে—সেই সিদ্ধান্ত আদালতের। তবে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যে বন্দিদের অধিকার ও মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির প্রশ্নটি সামনে আসছে বারবার।

০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১০
বরিশালের বাকেরগঞ্জে অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে বিয়ে ছাড়াই প্রায় সাত মাস ধরে বসবাসের অভিযোগ উঠেছে এক মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে। স্থানীয় লোকজন ও ওই নারীর স্বামীর স্বজনরা ইমাম ও নারীকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। পরে কোনো অভিযোগ না থাকায় মুচলেকা নিয়ে দুজনকে নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ তুহিন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের মোস্তফাপুর গ্রামের আব্দুল কাশেমের ছেলে। তিনি দাড়িয়াল ইউনিয়নের বাংলাবাজার জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে তুহিনের সঙ্গে পাশের গ্রামের এক নারীর বিয়ে হয়। পরে পটুয়াখালীর মজিদপুর গ্রামের একটি মসজিদে ইমামতি করার সময় ওই মসজিদের পাশের বাড়ির এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে ওই নারী স্বামী-সংসার ছেড়ে তুহিনের সঙ্গে চলে আসেন।
সূত্রের দাবি, প্রায় সাত মাস আগে তারা বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল ইউনিয়নে এসে বসবাস শুরু করেন। সেখানে বাংলাবাজার জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মসজিদের পাশেই একটি বাসা ভাড়া নিয়ে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে বসবাস করছিলেন তুহিন।
বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে বুধবার ওই ইমাম ও নারীকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ তুহিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। কারও কোনো অভিযোগ না থাকায় মুচলেকা নিয়ে দুজনকে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে বিয়ে ছাড়াই প্রায় সাত মাস ধরে বসবাসের অভিযোগ উঠেছে এক মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে। স্থানীয় লোকজন ও ওই নারীর স্বামীর স্বজনরা ইমাম ও নারীকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। পরে কোনো অভিযোগ না থাকায় মুচলেকা নিয়ে দুজনকে নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ তুহিন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের মোস্তফাপুর গ্রামের আব্দুল কাশেমের ছেলে। তিনি দাড়িয়াল ইউনিয়নের বাংলাবাজার জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে তুহিনের সঙ্গে পাশের গ্রামের এক নারীর বিয়ে হয়। পরে পটুয়াখালীর মজিদপুর গ্রামের একটি মসজিদে ইমামতি করার সময় ওই মসজিদের পাশের বাড়ির এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে ওই নারী স্বামী-সংসার ছেড়ে তুহিনের সঙ্গে চলে আসেন।
সূত্রের দাবি, প্রায় সাত মাস আগে তারা বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল ইউনিয়নে এসে বসবাস শুরু করেন। সেখানে বাংলাবাজার জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মসজিদের পাশেই একটি বাসা ভাড়া নিয়ে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে বসবাস করছিলেন তুহিন।
বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে বুধবার ওই ইমাম ও নারীকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ তুহিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। কারও কোনো অভিযোগ না থাকায় মুচলেকা নিয়ে দুজনকে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৩২
মহালয়ার মধ্য দিয়ে আগামীকাল শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। এ উৎসবকে ঘিরে বরিশাল জেলা ও মহানগরজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা নির্মাণ, রং-তুলির কাজ, মণ্ডপ সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পী ও পূজার আয়োজকেরা।
এ বছর বরিশাল জেলা ও মহানগর মিলিয়ে মোট ৬৩৭টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ৫৯০টি এবং মহানগর এলাকায় ৪৭টি মণ্ডপ রয়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল থেকে নগরীর ফলপট্টি কালিমাতা ঠাকুরানীর মন্দির, সদর রোডের শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির ও শ্রীশ্রী শংকর মঠ মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধন, দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা।
উৎসবকে ঘিরে মণ্ডপগুলো আকর্ষণীয় করে তুলতে চলছে নানা আয়োজন। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দিন-রাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এদিকে, প্রতিমা তৈরির উপকরণসহ বিভিন্ন জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি চাপের মুখে পড়েছেন প্রতিমাশিল্পীরা। খরচ বাড়লেও পূজা কমিটির বাজেট সেই তুলনায় না বাড়ায় আগের চেয়ে কম প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন কেউ কেউ।
নগরীর শ্রীশ্রী শংকর মঠ মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত ছিলেন ফরিদপুরের প্রতিমাশিল্পী কার্তিক চন্দ্র পাল। এ বছর তিনি মোট ১২টি প্রতিমা তৈরি করছেন। এর মধ্যে বরিশাল নগরীতে পাঁচটি এবং বাবুগঞ্জের মাধবপাশায় একটি প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন তিনি।
কার্তিক চন্দ্র পাল বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিমা তৈরির কাজ কম করছি। সব মিলিয়ে ১২টি প্রতিমা তৈরি করছি। গত বছরের তুলনায় এবার সবকিছুর দাম দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় পূজা কমিটির বাজেট বাড়েনি। তারপরও বহুকাল ধরে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত আছি। লাভ-লোকসান যাই হোক, কাজ করে যাচ্ছি।
শাস্ত্রমতে, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। প্রচলিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঘোড়ায় আগমন সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করা হয়। অন্যদিকে, নৌকায় গমন শস্যবৃদ্ধি ও মনোকামনা পূরণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হলেও অতিবৃষ্টি বা বন্যার আশঙ্কার কথাও বলা হয়।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামীকাল ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন ও অকালবোধন, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান ও পূজা, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী ও সন্ধিপূজা, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।
বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন, মহানগরীতে এ বছর ৪৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার একটি মণ্ডপ বেড়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
অপর দিকে পূজামণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের প্রস্তুতিও চলছে। বিভিন্ন মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। পূজামণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ চরচাকে বলেন , যেখানে যেখানে প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে সেখানে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুরোহিত দের নিয়ে আমরা টিম করেছি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কমিটি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এবার বিভাগে প্রায় ১৬২৮ টি পূজামন্ডপ আছে (কম বেশি হতে পারে) প্রতিটি পূজামন্ডবে যাতে দর্শনার্থীরা আসাযাওয়া করতে পারে এবং একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশে যাতে সবাই সুন্দর ভাবে পূজা উদযাপন করতে পারে সেজন্য আমাদের বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি যেদিন প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে সেদিন কোস্ট গার্ডকে বলে রেখেছি সকল ধরনের বাণিজ্যিক ট্রলার বাল্কহেড যেন বন্ধ রাখা হয়। যাতে করে কোন ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। সেই প্রচেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সকল ম্যাজিস্ট্রেড দের ছুটিও বাতিল করেছি। সবাই সকলের দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করবে বলে আশা করছি। আমি মনে করি এবার অত্যন্ত অনন্দ ঘন পরিবেশ বরিশালে পূজা উদযাপন হবে।
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০৩
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৪৯
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:১৯
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:০৫