Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:১৬
বরিশালের বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদী থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলনের কারণে ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা।বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে এ ভাঙন আরও তীব্ররূপ ধারণ করেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে- উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের খেজুরবাড়ি, গোয়াইলবাড়ি ও খোদাবখশা, বাইশারী ইউনিয়নের উত্তরকুল, বাংলাবাজার, নাটুয়ার পাড়, শিয়ালকাঠী, উত্তর নাজিরপুর দান্ডয়াট ও ডুমুরিয়া,সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের মসজিদবাড়ী, সাতবাড়িয়া,পূর্ব জিরারকাঠী, দাসেরহাট, দিদিহার ও নলশ্রী, সদর ইউনিয়নের জম্বুদ্বীপ, ব্রাহ্মণকাঠী ও কাজলাহার এবং চাখার ইউনিয়নের চাউলাকাঠী, চালিতাবাড়ী,
চিরাপাড়া, কালিরবাজার, হক সাহেবের হাট প্রভৃতি এলাকায় ভয়াবহভাবে ভাঙছে সন্ধ্যা নদী। এসব গ্রাম মানচিত্রে থাকলেও বাস্তবে সিংহভাগ নদী গ্রাস করে ফেলেছে। ফলে ভিটেমাটি ফসলি জমি সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব ও রিক্ত হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার।
নদী ভাঙনের কারণে ঝুঁকির মুখে বানারীপাড়ার শিয়ালকাঠী ফেরী ঘাট, উত্তর নাজিরপুর জামে মসজিদ, মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খোদাবখশা দাখিল মাদরাসা, কালির বাজার, জম্বুদ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিরেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা।
এর মধ্যে মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দান্ডয়াট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাটুয়ারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসা, উত্তরকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,, নলশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাঙ্গালীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খোদাবখশা দাখিল মাদরাসাসহ আরও বেশ কয়েকটি স্কুল-মাদরাসা চার থেকে পাঁচ বার স্থানান্তর করতে হয়েছে।
এমন পরিবারও রয়েছে যারা নদী ভাঙনের কারণে ৪-৫ বার ঘর স্থানান্তর করেও ফের নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। বানারীপাড়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলার বহু এলাকাও পড়েছে সন্ধ্যা নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে।
উজিরপুরের শিকারপুর, দাসেরহাট,,লস্করপুর, চতলবাড়ী ও ডাবেরকুলসহ বহু এলাকায় নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছে শত শত মানুষ। গত আওয়ামী লী সরকারের আমলে স্থানীয় জনসাধারণের বিক্ষোভ-প্রতিবাদ সত্ত্বেও বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে ৬টি ও অন্তর্বতীকালীণ সরকারের আমলে ৩টি পয়েন্টের বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়।
এবারও বরিশাল জেলা প্রশাসন এ ভাঙনকবলিত নদীতে বালুমহাল ইজারা দিয়েছে। ভাঙনপ্রবণ এ সন্ধ্যা নদীর বানারীপাড়া উপজেলার খেজুরবাড়ী ও মসজিদবাড়ীর পয়েন্টে যথাক্রমে দুই একর ও সাত একর নদীর জায়গা বালুমহাল ঘোষণা করে সম্প্রতি ইজারা দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে বরিশালের রূপাতলীর মুসলিম ট্রেডার্স এ বালুমহাল দুটির ইজারা পেয়েছে।
উপজেলার মসজিদ বাড়ীর যে পয়েন্টে পাঁচ একর বালুমহাল ঘোষণা করে ইজারা দেওয়া হয়েছে , সেই পয়েন্টে মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মসজিদ বাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ বাড়ী দারুসসুন্নাত আলিম মাদরাসা, মসজিদবাড়ী ইসলামিয়া কলেজ, মসজিদ বাড়ী বালিকা বিদ্যালয়সহ স্থানীয় সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি,রাস্তা-ঘাট, মসজিদ নদীতে বিলীণ হয়ে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি- নদীতে ব্লক দিয়ে ও জিও ব্যাগ ফেলে নদীভাঙনের হাত থেকে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করা, কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন তা না করে উল্টো বালুমহাল ইজারা দিয়েছে। এর ফলে নদীর তীরবর্তী জনসাধারণের মাঝে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে । এর আগে গত বছর এ নদীতে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে বানারীপাড়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ মিছিল ও মানববন্ধন করে সর্বস্তরের মানুষ।
নদী ভাঙন রোধে বিভিন্ন সময় বালুমহাল ইজারা বন্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশনও দাখিল করা হয়। উপজেলার খেজুরবাড়ি ও মসজিদবাড়ীতে বালুমহাল ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সচেতনমহল।
তাদের মতে, স্থানীয় জনমতকে উপেক্ষা করে নদী ভাঙনকবলিত এলাকায় বালু উত্তোলন করা হলে মানুষের দুর্ভোগ ও বাস্তুহারা হওয়ার ঝুঁকি চরমভাবে বৃদ্ধি পাবে।
নদী ভাঙন কবলিত এলাকার বিশিষ্টজন, বাংলা একাডেমি পুরস্কাপ্রাপ্ত অনুবাদক ও সাবেক রাজস্ব বোর্ডের সদস্য আলী আহমদ বলেন, ভাঙনকবলিত নদীতে স্থানীয় প্রশাসন কীভাবে বালুমহাল ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে আমি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এ ভাঙনকবলিত নদীতে বালু তোলার কারণে আমার এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মসজিদ বাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৪ বার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আবার সবার সহযোগিতায় নতুন করে স্থানান্তর করে তৈরি করেছি। অব্যাহত ভাঙনের ফলে এখন আবার এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নদীর কিণারে এসেছে।
আমরা নদীভাঙন রোধে যেখানে সরকারের সহযোগিতা চাচ্ছি, সেখানে স্থানীয় প্রশাসন বালুখেকোদের বালু তোলার সুব্যবস্থা করে দিয়ে আমাদের সাধারণ মানুষদেরকে নদীগর্ভে বিলীন করতে চাচ্ছে। মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ নজরুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, সন্ধ্যা নদী ষাট দশক ধরে ভাঙছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি চার বার স্থানান্তর করতে হয়েছে।
মসজিদ বাড়ী গ্রামে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নাম মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ হলেও নদী ভাঙনের কারনে স্থানান্তর করে এটি পাশের গ্রাম সাতবাড়িয়ায় নেওয়া হয়েছে। এখন সাতবাড়িয়া গ্রামও ভাঙছে।
সেখানেও ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। উপজেলার খোদাবখশা দাখিল মাদরাসার সহকারি শিক্ষক মোঃ খায়রুল ইসলাম রাসেল বলেন নদী ভাঙনের ফলে বেশ কয়েকবার মাদরাসাটি স্থানান্তর করতে হয়েছে।
এখনও ভাঙন হুমকিতে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। তাদের বসত বাড়িও নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে বলেও জানান তিনি। উপজেলার উত্তর নাজিরপুর ধানের হাট জামে মসজিদের সাবেক সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন ফকির বলেন,নদী ভাঙনের ফলে বার বার মসজিদটি স্থানান্তর করতে হয়েছে ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় মসজিদটি এখন আবার নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মৎস্য সম্পদে সন্ধ্যা নদী ভরপুর। এ নদীর দু’পাড়ের অসংখ্য মানুষ এ নদীতে ইঁলিশসহ নানা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ নদীতে বালু তোলার ফলে মৎস্য প্রজননের অভয়ারণ্য বিনষ্ট হচ্ছে। ফলে জেলেদের জীবন-জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০- উল্লেখ রয়েছে- বালু বা মাটি উত্তোলন বা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ড্রেজিংয়ের ফলে যদি কোনো নদীর তীর ভাঙনের শিকার হয় এমন নদী থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে না।
নদীর ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য, মৎস্য, জলজ ও স্থলজ প্রাণি, ফসলি জমি বা উদ্ভিদ বিনষ্ট হয় বা হবার আশঙ্কা থাকে এমন নদী থেকেও বালু উত্তোলন করা যাবে না।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়- নদী ভাঙনের কারণ হচ্ছে নদী দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধ করতে হবে। জেলা প্রশাসন বালু উত্তোলনের জন্য বালুমহাল ইজারা দিয়ে থাকে।
সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসনকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে বালুমহাল ঘোষণা করতে হবে। তবে অনেক সময় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইজারাদাররা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশে নদীর তীরসংলগ্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করে।
ফলে নদীর তীর সংরক্ষণ করা যায় না, আবার ভাঙন শুরু হয়। নদীশাসন ও নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধ না করা গেলে প্রকল্পগুলোর সুফল অনেকাংশে কমে যাবে। তাই যেকোনোভাবেই স্থানীয় প্রশাসনকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বায়েজিদুর রহমান বলেন, বরিশাল জেলার মধ্যে শুধু বানারীপাড়া উপজেলার সন্ধ্যা নদীতে দুটি পয়েন্টে বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে।
উন্নয়নমূলক কাজে বালুর চাহিদার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধে বৈধ বালু মহাল ইজারা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও বরিশাল জেলা বলুমহাল কমিটির সভাপতি মো,. খায়রুল আলম সুমনের সঙ্গে তার অফিসিয়াল মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিলে তিনি সাড়া না দেওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে নদীর ভাঙনকবলিত ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর কাছে নদী ভাঙনরোধকল্পে স্থায়ী ও টেকসই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বরিশালের বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদী থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলনের কারণে ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা।বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে এ ভাঙন আরও তীব্ররূপ ধারণ করেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে- উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের খেজুরবাড়ি, গোয়াইলবাড়ি ও খোদাবখশা, বাইশারী ইউনিয়নের উত্তরকুল, বাংলাবাজার, নাটুয়ার পাড়, শিয়ালকাঠী, উত্তর নাজিরপুর দান্ডয়াট ও ডুমুরিয়া,সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের মসজিদবাড়ী, সাতবাড়িয়া,পূর্ব জিরারকাঠী, দাসেরহাট, দিদিহার ও নলশ্রী, সদর ইউনিয়নের জম্বুদ্বীপ, ব্রাহ্মণকাঠী ও কাজলাহার এবং চাখার ইউনিয়নের চাউলাকাঠী, চালিতাবাড়ী,
চিরাপাড়া, কালিরবাজার, হক সাহেবের হাট প্রভৃতি এলাকায় ভয়াবহভাবে ভাঙছে সন্ধ্যা নদী। এসব গ্রাম মানচিত্রে থাকলেও বাস্তবে সিংহভাগ নদী গ্রাস করে ফেলেছে। ফলে ভিটেমাটি ফসলি জমি সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব ও রিক্ত হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার।
নদী ভাঙনের কারণে ঝুঁকির মুখে বানারীপাড়ার শিয়ালকাঠী ফেরী ঘাট, উত্তর নাজিরপুর জামে মসজিদ, মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খোদাবখশা দাখিল মাদরাসা, কালির বাজার, জম্বুদ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিরেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা।
এর মধ্যে মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দান্ডয়াট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাটুয়ারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসা, উত্তরকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,, নলশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাঙ্গালীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খোদাবখশা দাখিল মাদরাসাসহ আরও বেশ কয়েকটি স্কুল-মাদরাসা চার থেকে পাঁচ বার স্থানান্তর করতে হয়েছে।
এমন পরিবারও রয়েছে যারা নদী ভাঙনের কারণে ৪-৫ বার ঘর স্থানান্তর করেও ফের নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। বানারীপাড়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলার বহু এলাকাও পড়েছে সন্ধ্যা নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে।
উজিরপুরের শিকারপুর, দাসেরহাট,,লস্করপুর, চতলবাড়ী ও ডাবেরকুলসহ বহু এলাকায় নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছে শত শত মানুষ। গত আওয়ামী লী সরকারের আমলে স্থানীয় জনসাধারণের বিক্ষোভ-প্রতিবাদ সত্ত্বেও বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে ৬টি ও অন্তর্বতীকালীণ সরকারের আমলে ৩টি পয়েন্টের বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়।
এবারও বরিশাল জেলা প্রশাসন এ ভাঙনকবলিত নদীতে বালুমহাল ইজারা দিয়েছে। ভাঙনপ্রবণ এ সন্ধ্যা নদীর বানারীপাড়া উপজেলার খেজুরবাড়ী ও মসজিদবাড়ীর পয়েন্টে যথাক্রমে দুই একর ও সাত একর নদীর জায়গা বালুমহাল ঘোষণা করে সম্প্রতি ইজারা দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে বরিশালের রূপাতলীর মুসলিম ট্রেডার্স এ বালুমহাল দুটির ইজারা পেয়েছে।
উপজেলার মসজিদ বাড়ীর যে পয়েন্টে পাঁচ একর বালুমহাল ঘোষণা করে ইজারা দেওয়া হয়েছে , সেই পয়েন্টে মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মসজিদ বাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ বাড়ী দারুসসুন্নাত আলিম মাদরাসা, মসজিদবাড়ী ইসলামিয়া কলেজ, মসজিদ বাড়ী বালিকা বিদ্যালয়সহ স্থানীয় সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি,রাস্তা-ঘাট, মসজিদ নদীতে বিলীণ হয়ে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি- নদীতে ব্লক দিয়ে ও জিও ব্যাগ ফেলে নদীভাঙনের হাত থেকে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করা, কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন তা না করে উল্টো বালুমহাল ইজারা দিয়েছে। এর ফলে নদীর তীরবর্তী জনসাধারণের মাঝে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে । এর আগে গত বছর এ নদীতে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে বানারীপাড়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ মিছিল ও মানববন্ধন করে সর্বস্তরের মানুষ।
নদী ভাঙন রোধে বিভিন্ন সময় বালুমহাল ইজারা বন্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশনও দাখিল করা হয়। উপজেলার খেজুরবাড়ি ও মসজিদবাড়ীতে বালুমহাল ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সচেতনমহল।
তাদের মতে, স্থানীয় জনমতকে উপেক্ষা করে নদী ভাঙনকবলিত এলাকায় বালু উত্তোলন করা হলে মানুষের দুর্ভোগ ও বাস্তুহারা হওয়ার ঝুঁকি চরমভাবে বৃদ্ধি পাবে।
নদী ভাঙন কবলিত এলাকার বিশিষ্টজন, বাংলা একাডেমি পুরস্কাপ্রাপ্ত অনুবাদক ও সাবেক রাজস্ব বোর্ডের সদস্য আলী আহমদ বলেন, ভাঙনকবলিত নদীতে স্থানীয় প্রশাসন কীভাবে বালুমহাল ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে আমি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এ ভাঙনকবলিত নদীতে বালু তোলার কারণে আমার এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মসজিদ বাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৪ বার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আবার সবার সহযোগিতায় নতুন করে স্থানান্তর করে তৈরি করেছি। অব্যাহত ভাঙনের ফলে এখন আবার এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নদীর কিণারে এসেছে।
আমরা নদীভাঙন রোধে যেখানে সরকারের সহযোগিতা চাচ্ছি, সেখানে স্থানীয় প্রশাসন বালুখেকোদের বালু তোলার সুব্যবস্থা করে দিয়ে আমাদের সাধারণ মানুষদেরকে নদীগর্ভে বিলীন করতে চাচ্ছে। মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ নজরুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, সন্ধ্যা নদী ষাট দশক ধরে ভাঙছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি চার বার স্থানান্তর করতে হয়েছে।
মসজিদ বাড়ী গ্রামে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নাম মসজিদবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ হলেও নদী ভাঙনের কারনে স্থানান্তর করে এটি পাশের গ্রাম সাতবাড়িয়ায় নেওয়া হয়েছে। এখন সাতবাড়িয়া গ্রামও ভাঙছে।
সেখানেও ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। উপজেলার খোদাবখশা দাখিল মাদরাসার সহকারি শিক্ষক মোঃ খায়রুল ইসলাম রাসেল বলেন নদী ভাঙনের ফলে বেশ কয়েকবার মাদরাসাটি স্থানান্তর করতে হয়েছে।
এখনও ভাঙন হুমকিতে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। তাদের বসত বাড়িও নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে বলেও জানান তিনি। উপজেলার উত্তর নাজিরপুর ধানের হাট জামে মসজিদের সাবেক সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন ফকির বলেন,নদী ভাঙনের ফলে বার বার মসজিদটি স্থানান্তর করতে হয়েছে ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় মসজিদটি এখন আবার নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মৎস্য সম্পদে সন্ধ্যা নদী ভরপুর। এ নদীর দু’পাড়ের অসংখ্য মানুষ এ নদীতে ইঁলিশসহ নানা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ নদীতে বালু তোলার ফলে মৎস্য প্রজননের অভয়ারণ্য বিনষ্ট হচ্ছে। ফলে জেলেদের জীবন-জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০- উল্লেখ রয়েছে- বালু বা মাটি উত্তোলন বা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ড্রেজিংয়ের ফলে যদি কোনো নদীর তীর ভাঙনের শিকার হয় এমন নদী থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে না।
নদীর ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য, মৎস্য, জলজ ও স্থলজ প্রাণি, ফসলি জমি বা উদ্ভিদ বিনষ্ট হয় বা হবার আশঙ্কা থাকে এমন নদী থেকেও বালু উত্তোলন করা যাবে না।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়- নদী ভাঙনের কারণ হচ্ছে নদী দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধ করতে হবে। জেলা প্রশাসন বালু উত্তোলনের জন্য বালুমহাল ইজারা দিয়ে থাকে।
সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসনকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে বালুমহাল ঘোষণা করতে হবে। তবে অনেক সময় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইজারাদাররা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশে নদীর তীরসংলগ্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করে।
ফলে নদীর তীর সংরক্ষণ করা যায় না, আবার ভাঙন শুরু হয়। নদীশাসন ও নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধ না করা গেলে প্রকল্পগুলোর সুফল অনেকাংশে কমে যাবে। তাই যেকোনোভাবেই স্থানীয় প্রশাসনকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বায়েজিদুর রহমান বলেন, বরিশাল জেলার মধ্যে শুধু বানারীপাড়া উপজেলার সন্ধ্যা নদীতে দুটি পয়েন্টে বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে।
উন্নয়নমূলক কাজে বালুর চাহিদার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধে বৈধ বালু মহাল ইজারা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও বরিশাল জেলা বলুমহাল কমিটির সভাপতি মো,. খায়রুল আলম সুমনের সঙ্গে তার অফিসিয়াল মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিলে তিনি সাড়া না দেওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে নদীর ভাঙনকবলিত ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর কাছে নদী ভাঙনরোধকল্পে স্থায়ী ও টেকসই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:৫৫
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে একদিনে শিশুসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহতরা সবাই গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন নিয়েছেন।
আহতরা হলেন, উপজেলার কটকস্থল গ্রামের সুমন তালুকদারের সাড়ে পাঁচ বছরের মেয়ে আবিদা, একই গ্রামের আল-আমিনের তিন বছরের ছেলে আয়াত, মিঠু সরদারের আট বছরের মেয়ে লাইজু, ইউনুস প্যাদার মেয়ে মুনা (২২), ইয়াছিন মিয়ার চার বছরের মেয়ে তাইয়েবা, মোনতাজ হোসেনের স্ত্রী জোলেখা বেগম (৪০), সুন্দরদী গ্রামের সামছুল আলমের মেয়ে মাসুদা বেগম (৩৬), একই গ্রামের রাজিব ঘরামীর সাড়ে তিন বছরের মেয়ে খাদিজা, টরকী এলাকার ভরদ দাসের মেয়ে শিউলী (৩৩), উত্তর বাউরগাতি গ্রামের শাহজাহানের মেয়ে পারুল বেগম (৫০), পশ্চিম বাউরগাতি গ্রামের লিখন প্যাদার ছেলে আবু বক্কর (১২), শামীম ঘরামীর সাত বছরের মেয়ে সামিয়া, বড় দুলালী গ্রামের মজিবর সিকদারের ছয় বছরের ছেলে নবীন, আগৈলঝাড়া উপজেলার মাগুরা গ্রামের ইসমাইল বেপারীর ছেলে সবুজ বেপারী (৩২) প্রমুখ।
গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সমিরন হালদার জানিয়েছেন, কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন।
বরিশাল টাইমস

৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৪৬

২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩:৪২
দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় পড়ে থাকা দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মধ্যে বরিশাল নগরীর রুপাতলী ১৬ এম.এল.ডি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট মেরামত, উন্নয়ন ও ব্যবহার উপযোগী করে পুনরায় সচল করে আজ উদ্বোধন করেছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
২৯ এপ্রিল বেলা বারোটার দিকে দোয়া মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ফিতা কেটে এর উদ্বোধন করা হয়। এ সময় বিসিসি প্রশাসক বলেন, এটি উদ্বোধনের ফলে নগরবাসীর বিশুদ্ধ পানি পাবে। তাছাড়া ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে বরিশাল শহর যেভাবে নিচের দিকে দেবে যাচ্ছে তা থেকে এই নগরী রক্ষা পাবে। ডিপটিওবয়েল এবং সাবমারসিবল পাম্প বসানোর ক্ষেত্রে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে উদ্বোধনের পর রুপাতলী এলাকার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সন্নিকটে দোকানদাররা জানান, ওই এলাকায় পানি সরবরাহ নাই। পানি সংযোগ এখনো সব জায়গায় পৌঁছায়নি বলে দাবি করেন তারা।
সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, যে দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সচল করা হয়েছে, সেগুলো দিয়ে নগরবাসীর পানির অর্ধেক চাহিদা মিটবে। বাকি আরও দুটো প্লান্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে, সে দুটি নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে নগরবাসীর চাহিদা পূরণ হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী, প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির এবং পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুকসহ বিসিসির বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ।’
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে একদিনে শিশুসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহতরা সবাই গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন নিয়েছেন।
আহতরা হলেন, উপজেলার কটকস্থল গ্রামের সুমন তালুকদারের সাড়ে পাঁচ বছরের মেয়ে আবিদা, একই গ্রামের আল-আমিনের তিন বছরের ছেলে আয়াত, মিঠু সরদারের আট বছরের মেয়ে লাইজু, ইউনুস প্যাদার মেয়ে মুনা (২২), ইয়াছিন মিয়ার চার বছরের মেয়ে তাইয়েবা, মোনতাজ হোসেনের স্ত্রী জোলেখা বেগম (৪০), সুন্দরদী গ্রামের সামছুল আলমের মেয়ে মাসুদা বেগম (৩৬), একই গ্রামের রাজিব ঘরামীর সাড়ে তিন বছরের মেয়ে খাদিজা, টরকী এলাকার ভরদ দাসের মেয়ে শিউলী (৩৩), উত্তর বাউরগাতি গ্রামের শাহজাহানের মেয়ে পারুল বেগম (৫০), পশ্চিম বাউরগাতি গ্রামের লিখন প্যাদার ছেলে আবু বক্কর (১২), শামীম ঘরামীর সাত বছরের মেয়ে সামিয়া, বড় দুলালী গ্রামের মজিবর সিকদারের ছয় বছরের ছেলে নবীন, আগৈলঝাড়া উপজেলার মাগুরা গ্রামের ইসমাইল বেপারীর ছেলে সবুজ বেপারী (৩২) প্রমুখ।
গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সমিরন হালদার জানিয়েছেন, কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন।
বরিশাল টাইমস
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা ও চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সভায় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন- বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা। ডিনদের মধ্যে এ সময় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ইসরাত জাহান লিজা, কলা অনুষদের ডিন ড. আব্দুল বাতেন, কম্পিউটার বিজ্ঞান অনুষদের ডিন রাহাত হোসেন ফয়সাল এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন হাফিজ আশরাফুল ইসলাম বৈঠকে উপস্থিত হন।
দীর্ঘ আলোচনার পর উপাচার্য ও বিভাগীয় কমিশনার সাংবাদিকদের জানান, একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় সচল করার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার ও উপাচার্য শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত দাবিগুলো নিয়ম অনুযায়ী পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, তারা (বিভাগীয় কমিশনার ও উপাচার্য) আমাদের বলেছেন, আপনারা আইন অনুযায়ী সব কিছু পাবেন। তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ক্লাসে ফিরে যাবার অনুরোধ জানিয়েছেন। এখন যেহেতু পূর্ববর্তী পুরো সিদ্ধান্ত আমরা সব শিক্ষকরা মিলে নিয়েছিলাম, তাই আবার সব শিক্ষকদের সঙ্গে রবি-সোমবারের মধ্যে বসে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।
ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, চলমান বিষয় নিয়ে আজকে বিভাগীয় কমিশনার ও ভিসির সঙ্গে ডিনদের মিটিং ছিল, সেখানে ছয় অনুষদের ছয়জন ডিনের মধ্যে পাঁচজন ডিন উপস্থিত ছিলেন।
তারা (বিভাগীয় কমিশনার ও ভিসি) আমাদের দাবির কিছু বিষয়ে আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন এবং তারা বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষকদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পরবর্তীতে যত দ্রুত সম্ভব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও বোর্ড বসানো হবে। এ ছাড়াও তারা আমাদের ক্লাস এবং পরীক্ষা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানান।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ তৌফিক আলম বলেন, আজকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি ডিনদের সঙ্গে একটা ত্রিপক্ষীয় মিটিং হয়েছে।
মিটিংয়ে আমরা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সিন্ধান্ত নিয়েছি, ক্লাস পরীক্ষা যেগুলো বন্ধ রয়েছে সেগুলো একাডেমিক কার্যক্রম শিক্ষকরা খুব দ্রুতই চালু করবে। একইসঙ্গে তাদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলোর সমাধানের জন্য আগামী সিন্ডিকেটে সিন্ধান্ত নেয়া হবে। খুব শিগগিরই একটা সিন্ডিকেট সভা ডাকা হবে। সিন্ডিকেটে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা ও চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সভায় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন- বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা। ডিনদের মধ্যে এ সময় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ইসরাত জাহান লিজা, কলা অনুষদের ডিন ড. আব্দুল বাতেন, কম্পিউটার বিজ্ঞান অনুষদের ডিন রাহাত হোসেন ফয়সাল এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন হাফিজ আশরাফুল ইসলাম বৈঠকে উপস্থিত হন।
দীর্ঘ আলোচনার পর উপাচার্য ও বিভাগীয় কমিশনার সাংবাদিকদের জানান, একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় সচল করার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার ও উপাচার্য শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত দাবিগুলো নিয়ম অনুযায়ী পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, তারা (বিভাগীয় কমিশনার ও উপাচার্য) আমাদের বলেছেন, আপনারা আইন অনুযায়ী সব কিছু পাবেন। তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ক্লাসে ফিরে যাবার অনুরোধ জানিয়েছেন। এখন যেহেতু পূর্ববর্তী পুরো সিদ্ধান্ত আমরা সব শিক্ষকরা মিলে নিয়েছিলাম, তাই আবার সব শিক্ষকদের সঙ্গে রবি-সোমবারের মধ্যে বসে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।
ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, চলমান বিষয় নিয়ে আজকে বিভাগীয় কমিশনার ও ভিসির সঙ্গে ডিনদের মিটিং ছিল, সেখানে ছয় অনুষদের ছয়জন ডিনের মধ্যে পাঁচজন ডিন উপস্থিত ছিলেন।
তারা (বিভাগীয় কমিশনার ও ভিসি) আমাদের দাবির কিছু বিষয়ে আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন এবং তারা বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষকদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পরবর্তীতে যত দ্রুত সম্ভব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও বোর্ড বসানো হবে। এ ছাড়াও তারা আমাদের ক্লাস এবং পরীক্ষা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানান।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ তৌফিক আলম বলেন, আজকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি ডিনদের সঙ্গে একটা ত্রিপক্ষীয় মিটিং হয়েছে।
মিটিংয়ে আমরা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সিন্ধান্ত নিয়েছি, ক্লাস পরীক্ষা যেগুলো বন্ধ রয়েছে সেগুলো একাডেমিক কার্যক্রম শিক্ষকরা খুব দ্রুতই চালু করবে। একইসঙ্গে তাদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলোর সমাধানের জন্য আগামী সিন্ডিকেটে সিন্ধান্ত নেয়া হবে। খুব শিগগিরই একটা সিন্ডিকেট সভা ডাকা হবে। সিন্ডিকেটে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় পড়ে থাকা দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মধ্যে বরিশাল নগরীর রুপাতলী ১৬ এম.এল.ডি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট মেরামত, উন্নয়ন ও ব্যবহার উপযোগী করে পুনরায় সচল করে আজ উদ্বোধন করেছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
২৯ এপ্রিল বেলা বারোটার দিকে দোয়া মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ফিতা কেটে এর উদ্বোধন করা হয়। এ সময় বিসিসি প্রশাসক বলেন, এটি উদ্বোধনের ফলে নগরবাসীর বিশুদ্ধ পানি পাবে। তাছাড়া ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে বরিশাল শহর যেভাবে নিচের দিকে দেবে যাচ্ছে তা থেকে এই নগরী রক্ষা পাবে। ডিপটিওবয়েল এবং সাবমারসিবল পাম্প বসানোর ক্ষেত্রে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে উদ্বোধনের পর রুপাতলী এলাকার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সন্নিকটে দোকানদাররা জানান, ওই এলাকায় পানি সরবরাহ নাই। পানি সংযোগ এখনো সব জায়গায় পৌঁছায়নি বলে দাবি করেন তারা।
সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, যে দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সচল করা হয়েছে, সেগুলো দিয়ে নগরবাসীর পানির অর্ধেক চাহিদা মিটবে। বাকি আরও দুটো প্লান্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে, সে দুটি নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে নগরবাসীর চাহিদা পূরণ হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী, প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির এবং পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুকসহ বিসিসির বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ।’