
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪৮
রমজান মাস মানেই আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং ইবাদতের বসন্তকাল। তবে একজন কর্মজীবী মানুষের জন্য এই মাসটি দ্বিগুণ পরীক্ষার। একদিকে অফিসের টাইট ডেডলাইন, মিটিং আর পেশাগত দায়িত্ব; অন্যদিকে রোজা রেখে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থেকে ইবাদতে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া। অনেক সময় কাজের চাপে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি, ফলে ইবাদত ঠিক মতো করা হয় না।
কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, সময়ের ব্যবস্থাপনা এবং খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলে অফিস সামলে ইবাদতে পূর্ণ সওয়াব হাসিল করা সম্ভব। কর্মব্যস্ত জীবনে রমজানের বরকত অর্জনের কিছু কার্যকর কৌশল নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সেহরি থেকে অফিসের প্রস্তুতি: দিনের শুরু হোক বরকতময়
রমজানে আপনার দিন শুরু হয় সেহরির মাধ্যমে। অফিসের কাজের এনার্জি এখান থেকেই সঞ্চয় করতে হবে।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: সেহরিতে এমন খাবার বেছে নিন যা ধীরে ধীরে হজম হয় (Complex Carbs), যেমন—লাল চালের ভাত, ওটস, খেজুর বা কলা। এগুলো আপনাকে দীর্ঘ সময় শক্তি দেবে।
ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ: সেহরিতে অতিরিক্ত চা বা কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন। এটি শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে দেয়, ফলে অফিসে মাথাব্যথা বা ঝিমুনি আসতে পারে।
ভোরবেলার বরকত: সেহরি ও ফজরের পর না ঘুমিয়ে অফিসের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলো গুছিয়ে নিন। গবেষণায় দেখা গেছে, ভোরে মানুষের মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি কার্যকর থাকে।
২. কর্মক্ষেত্রে 'টাইম ব্লকিং' ও প্রোডাক্টিভিটি
অফিসে গিয়ে কাজ শুরুর আগে আপনার কাজের একটি তালিকা (To-do List) তৈরি করুন।
গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে: অফিসের প্রথম ৩-৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজগুলো শেষ করুন। জোহরের পর শরীর কিছুটা ক্লান্ত হয়ে আসে, তখন হালকা বা রুটিনমাফিক কাজগুলো (যেমন: ইমেইল চেক করা বা ফাইল গোছানো) রাখুন।
অপ্রয়োজনীয় মিটিং পরিহার: সম্ভব হলে খুব জরুরি না হলে দীর্ঘ মিটিং এড়িয়ে চলুন বা সংক্ষিপ্ত করার অনুরোধ করুন। এতে আপনার মানসিক শক্তি ও সময় দুই-ই বাঁচবে।
৩. বিরতির সময়টুকু ইবাদতে রূপান্তর
অফিসের লাঞ্চ ব্রেক বা মধ্যাহ্নভোজের বিরতি এখন আপনার জন্য এক বিশাল সুযোগ।
মসজিদে সময় কাটানো: জোহরের নামাজের পর ১৫-২০ মিনিট মসজিদে বা নিরিবিলি স্থানে বসে কোরআন তেলাওয়াত করুন। এই আধ্যাত্মিক সংযোগ আপনাকে বিকেলের কাজের জন্য মানসিক প্রশান্তি দেবে।
পাওয়ার ন্যাপ (Power Nap): দুপুরের বিরতিতে ১০-১৫ মিনিটের একটি ছোট ঘুম বা চোখ বুজে বিশ্রাম নিন। সুন্নাহসম্মত এই 'কায়লুলা' আপনার মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করবে এবং ইফতারের পর তারাবির জন্য শক্তি জোগাবে।
৪. যাতায়াতের সময়কে কাজে লাগানো
ঢাকা বা বড় শহরগুলোতে যাতায়াতের সময়টা অনেক বড় একটি অংশ কেড়ে নেয়। এই সময়টুকু অপচয় না করে:
স্মার্টফোনে ইসলামিক পডকাস্ট বা কোরআনের তাফসির শুনতে পারেন।
ডিজিটাল তসবীহ ব্যবহার করে জিকির (সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ) করতে পারেন।
স্মার্টফোনে কোরআন অ্যাপ ব্যবহার করে তিলাওয়াত বা অর্থ পড়তে পারেন।
৫. আচরণ ও পেশাদারিত্ব: এটিও একটি ইবাদত
অনেকে রোজা রেখে খিটখিটে মেজাজ দেখান বা কাজে ফাঁকি দেন। মনে রাখবেন, সততার সাথে দায়িত্ব পালন করাও ইসলামের দৃষ্টিতে বড় ইবাদত।
ধৈর্যের পরীক্ষা: সহকর্মীদের সাথে হাসিমুখে কথা বলুন এবং রাগকে নিয়ন্ত্রণ করুন।
পরনিন্দা থেকে দূরে থাকা: অফিসের আড্ডায় বসে গীবত বা পরচর্চা করা থেকে বিরত থাকুন। এটি রোজার সওয়াব কমিয়ে দেয়।
৬. ইফতার ও তারাবির সমন্বয়
অফিস থেকে ফিরে তাড়াহুড়ো করে অনেক বেশি ভাজাপোড়া খাবেন না।
হালকা ইফতার: খেজুর, ফল এবং পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ইফতার করুন। অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার শরীরকে ভারী করে দেয়, ফলে এশার নামাজ ও তারাবিতে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
দ্রুত বিশ্রাম: তারাবি শেষ করে অপ্রয়োজনে মোবাইল না টিপে দ্রুত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে পরের দিন অফিসে আপনার প্রোডাক্টিভিটি কমে যাবে।
কর্মজীবীদের জন্য একটি বিশেষ টিপস: আপনার নিয়ত পরিষ্কার রাখুন। আপনি যখন অফিসের কাজ করছেন এই নিয়তে যে—আপনি আপনার পরিবারের জন্য হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করছেন, তখন আপনার প্রতিটি কাজের সেকেন্ড ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে।
রমজান আমাদের শেখায় কীভাবে সুশৃঙ্খল হতে হয়। অফিস এবং ইবাদত একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং পরিপূরক। সঠিক রুটিন আর ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে আপনি একজন সফল পেশাজীবী হওয়ার পাশাপাশি একজন একনিষ্ঠ ইবাদতকারীও হতে পারবেন। এই রমজান হোক আপনার ক্যারিয়ার ও আখেরাত—উভয় দিক থেকেই সফলতার মাস।
বরিশাল টাইমস
ছবি- সংগৃহীত
রমজান মাস মানেই আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং ইবাদতের বসন্তকাল। তবে একজন কর্মজীবী মানুষের জন্য এই মাসটি দ্বিগুণ পরীক্ষার। একদিকে অফিসের টাইট ডেডলাইন, মিটিং আর পেশাগত দায়িত্ব; অন্যদিকে রোজা রেখে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থেকে ইবাদতে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া। অনেক সময় কাজের চাপে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি, ফলে ইবাদত ঠিক মতো করা হয় না।
কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, সময়ের ব্যবস্থাপনা এবং খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলে অফিস সামলে ইবাদতে পূর্ণ সওয়াব হাসিল করা সম্ভব। কর্মব্যস্ত জীবনে রমজানের বরকত অর্জনের কিছু কার্যকর কৌশল নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সেহরি থেকে অফিসের প্রস্তুতি: দিনের শুরু হোক বরকতময়
রমজানে আপনার দিন শুরু হয় সেহরির মাধ্যমে। অফিসের কাজের এনার্জি এখান থেকেই সঞ্চয় করতে হবে।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: সেহরিতে এমন খাবার বেছে নিন যা ধীরে ধীরে হজম হয় (Complex Carbs), যেমন—লাল চালের ভাত, ওটস, খেজুর বা কলা। এগুলো আপনাকে দীর্ঘ সময় শক্তি দেবে।
ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ: সেহরিতে অতিরিক্ত চা বা কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন। এটি শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে দেয়, ফলে অফিসে মাথাব্যথা বা ঝিমুনি আসতে পারে।
ভোরবেলার বরকত: সেহরি ও ফজরের পর না ঘুমিয়ে অফিসের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলো গুছিয়ে নিন। গবেষণায় দেখা গেছে, ভোরে মানুষের মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি কার্যকর থাকে।
২. কর্মক্ষেত্রে 'টাইম ব্লকিং' ও প্রোডাক্টিভিটি
অফিসে গিয়ে কাজ শুরুর আগে আপনার কাজের একটি তালিকা (To-do List) তৈরি করুন।
গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে: অফিসের প্রথম ৩-৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজগুলো শেষ করুন। জোহরের পর শরীর কিছুটা ক্লান্ত হয়ে আসে, তখন হালকা বা রুটিনমাফিক কাজগুলো (যেমন: ইমেইল চেক করা বা ফাইল গোছানো) রাখুন।
অপ্রয়োজনীয় মিটিং পরিহার: সম্ভব হলে খুব জরুরি না হলে দীর্ঘ মিটিং এড়িয়ে চলুন বা সংক্ষিপ্ত করার অনুরোধ করুন। এতে আপনার মানসিক শক্তি ও সময় দুই-ই বাঁচবে।
৩. বিরতির সময়টুকু ইবাদতে রূপান্তর
অফিসের লাঞ্চ ব্রেক বা মধ্যাহ্নভোজের বিরতি এখন আপনার জন্য এক বিশাল সুযোগ।
মসজিদে সময় কাটানো: জোহরের নামাজের পর ১৫-২০ মিনিট মসজিদে বা নিরিবিলি স্থানে বসে কোরআন তেলাওয়াত করুন। এই আধ্যাত্মিক সংযোগ আপনাকে বিকেলের কাজের জন্য মানসিক প্রশান্তি দেবে।
পাওয়ার ন্যাপ (Power Nap): দুপুরের বিরতিতে ১০-১৫ মিনিটের একটি ছোট ঘুম বা চোখ বুজে বিশ্রাম নিন। সুন্নাহসম্মত এই 'কায়লুলা' আপনার মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করবে এবং ইফতারের পর তারাবির জন্য শক্তি জোগাবে।
৪. যাতায়াতের সময়কে কাজে লাগানো
ঢাকা বা বড় শহরগুলোতে যাতায়াতের সময়টা অনেক বড় একটি অংশ কেড়ে নেয়। এই সময়টুকু অপচয় না করে:
স্মার্টফোনে ইসলামিক পডকাস্ট বা কোরআনের তাফসির শুনতে পারেন।
ডিজিটাল তসবীহ ব্যবহার করে জিকির (সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ) করতে পারেন।
স্মার্টফোনে কোরআন অ্যাপ ব্যবহার করে তিলাওয়াত বা অর্থ পড়তে পারেন।
৫. আচরণ ও পেশাদারিত্ব: এটিও একটি ইবাদত
অনেকে রোজা রেখে খিটখিটে মেজাজ দেখান বা কাজে ফাঁকি দেন। মনে রাখবেন, সততার সাথে দায়িত্ব পালন করাও ইসলামের দৃষ্টিতে বড় ইবাদত।
ধৈর্যের পরীক্ষা: সহকর্মীদের সাথে হাসিমুখে কথা বলুন এবং রাগকে নিয়ন্ত্রণ করুন।
পরনিন্দা থেকে দূরে থাকা: অফিসের আড্ডায় বসে গীবত বা পরচর্চা করা থেকে বিরত থাকুন। এটি রোজার সওয়াব কমিয়ে দেয়।
৬. ইফতার ও তারাবির সমন্বয়
অফিস থেকে ফিরে তাড়াহুড়ো করে অনেক বেশি ভাজাপোড়া খাবেন না।
হালকা ইফতার: খেজুর, ফল এবং পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ইফতার করুন। অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার শরীরকে ভারী করে দেয়, ফলে এশার নামাজ ও তারাবিতে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
দ্রুত বিশ্রাম: তারাবি শেষ করে অপ্রয়োজনে মোবাইল না টিপে দ্রুত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে পরের দিন অফিসে আপনার প্রোডাক্টিভিটি কমে যাবে।
কর্মজীবীদের জন্য একটি বিশেষ টিপস: আপনার নিয়ত পরিষ্কার রাখুন। আপনি যখন অফিসের কাজ করছেন এই নিয়তে যে—আপনি আপনার পরিবারের জন্য হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করছেন, তখন আপনার প্রতিটি কাজের সেকেন্ড ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে।
রমজান আমাদের শেখায় কীভাবে সুশৃঙ্খল হতে হয়। অফিস এবং ইবাদত একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং পরিপূরক। সঠিক রুটিন আর ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে আপনি একজন সফল পেশাজীবী হওয়ার পাশাপাশি একজন একনিষ্ঠ ইবাদতকারীও হতে পারবেন। এই রমজান হোক আপনার ক্যারিয়ার ও আখেরাত—উভয় দিক থেকেই সফলতার মাস।
বরিশাল টাইমস

০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৪৮
জামালপুরে বাবর আলী নামের এক আইনজীবীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (০১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
জানা গেছে, দায়িত্ব পালন শেষে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আদালতের পাশের রাস্তা দিয়ে হেঁটে মূল সড়কের দিকে যাচ্ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল মাহবুবুর রহমান। এ সময় অ্যাডভোকেট বাবর আলী প্রাইভেটকার চালিয়ে এসে পেছন থেকে তাকে চাপা দেয়।
এতে পুলিশ সদস্য মাহবুবুর রহমান গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক।
জামালপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মুমূর্ষু অবস্থায় পুলিশ সদস্য মাহবুবুর রহমানকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত বাবর আলীকে আটক করেছে পুলিশ। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন আছে।
আটক বাবর আলী জামালপুর জেলা জাতীয় পার্টি জেপির (মঞ্জু) সভাপতি। তিনি সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদসহ একাধিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর সদর (৫) আসনে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:২৮
মাদারীপুরে ডাসার উপলোর নবগ্রামে প্রেমিকার বাড়িতে বিয়ের স্বীকৃতি ও প্রিয় মানুষকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে এক যুবকের অনশন ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অনশনে বসা ওই যুবক ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আলিসাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা বিপ্রদাশ পাত্রের ছেলে বিশ্বজিৎ পাত্র (২৮)। তার প্রেমিকা পাশের বাড়ির মনোতোষ বাড়ৈর মেয়ে অনুশীলা বাড়ৈ।
বুধবার (১ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আলিসাকান্দি গ্রামে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) থেকে প্রেমিকা অনুশীলা বাড়ৈর বাড়ির সামনে অনশনে বসেন বিশ্বজিৎ।
বিশ্বজিৎ পাত্রর দাবি, অনুশীলা বাড়ৈর (২৩) সঙ্গে ১০ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তারা চার বছর আগে কোর্ট ম্যারেজ করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি বিয়ের স্বীকৃতির দাবি করেন।
তিনি বলেন, অনুশীলা বাড়ৈর নার্সিং পড়ালেখার জন্য প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকা খরচ করি। ঢাকায় একসঙ্গে দীর্ঘ সময় বাসা ভাড়া করে থেকেছি। তার পরিবার ও গ্রামের কমবেশি সবাই জানে।
সম্প্রতি লেখাপড়া শেষ করে আমার স্ত্রী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্সিংয়ে চাকরি নিয়েছে। এরপর থেকে আমার সঙ্গে পরিবারের কথায় দূরত্ব বজায় রাখছে। ১২ দিন হয় আমার সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে। তাই আমি নিরুপায় হয়ে তার বাড়িতে আমাদের বিয়ের সম্পর্কের স্বীকৃতি পেতে অনশনে বসেছি। সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এখানেই অনশন চালিয়ে যাব।
অনুশীলা বাড়ৈ বলেন, তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল। জোর করে কোর্ট ম্যারেজে সই করাইছে। আমি এক সপ্তাহ আগে তাকে ডিভোর্স দিয়েছি। তার সঙ্গে আমি সংসার করব না।
স্থানীয় মেম্বার ও কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছেলে ও মেয়ের। সেই সম্পর্কের জেরে তারা দুজনের সম্মতিতে গোপনে বিয়ে করছে। তাদের বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে ছেলেটি দুই দিন ধরে অনশনে বসেছে। উভয় পরিবারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করছি।
এ ব্যাপারে ডাসার থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, তাদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে থানায় এখনো কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:২১
ঈশ্বরদীতে জেলা সহকারী জজ পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ঈশ্বরদী থানায় এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তির নাম সৈয়দ জিয়া পির মোহাম্মদ আলী।
তিনি যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার বাগমারা গ্রামের মৃত আব্দুল আলীমের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি এক নারীসহ ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. মমিনুজ্জামানের কক্ষে উপস্থিত হয়ে নিজেকে যশোর জেলা সহকারী জজ হিসেবে পরিচয় দেন।
এ সময় তিনি পুলিশি পাহারায় রাত্রীযাপনের জন্য সহযোগিতা কামনা করেন। তবে তার কথাবার্তা ও আচরণে অসঙ্গতি হওয়ায় পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় যাচাই-বাছাই শুরু করে পুলিশ।আরও জানায়, যাচাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি কোনো বিচারক নন; বরং ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন।
তিনি পূর্বে ভূমি অফিসে তহশিলদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে তিনি চাকরি হারান। ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা নারী পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. মমিনুজ্জামান বলেন, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি থানার হাজতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
জামালপুরে বাবর আলী নামের এক আইনজীবীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (০১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
জানা গেছে, দায়িত্ব পালন শেষে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আদালতের পাশের রাস্তা দিয়ে হেঁটে মূল সড়কের দিকে যাচ্ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল মাহবুবুর রহমান। এ সময় অ্যাডভোকেট বাবর আলী প্রাইভেটকার চালিয়ে এসে পেছন থেকে তাকে চাপা দেয়।
এতে পুলিশ সদস্য মাহবুবুর রহমান গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক।
জামালপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মুমূর্ষু অবস্থায় পুলিশ সদস্য মাহবুবুর রহমানকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত বাবর আলীকে আটক করেছে পুলিশ। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন আছে।
আটক বাবর আলী জামালপুর জেলা জাতীয় পার্টি জেপির (মঞ্জু) সভাপতি। তিনি সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদসহ একাধিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর সদর (৫) আসনে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
মাদারীপুরে ডাসার উপলোর নবগ্রামে প্রেমিকার বাড়িতে বিয়ের স্বীকৃতি ও প্রিয় মানুষকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে এক যুবকের অনশন ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অনশনে বসা ওই যুবক ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আলিসাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা বিপ্রদাশ পাত্রের ছেলে বিশ্বজিৎ পাত্র (২৮)। তার প্রেমিকা পাশের বাড়ির মনোতোষ বাড়ৈর মেয়ে অনুশীলা বাড়ৈ।
বুধবার (১ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আলিসাকান্দি গ্রামে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) থেকে প্রেমিকা অনুশীলা বাড়ৈর বাড়ির সামনে অনশনে বসেন বিশ্বজিৎ।
বিশ্বজিৎ পাত্রর দাবি, অনুশীলা বাড়ৈর (২৩) সঙ্গে ১০ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তারা চার বছর আগে কোর্ট ম্যারেজ করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি বিয়ের স্বীকৃতির দাবি করেন।
তিনি বলেন, অনুশীলা বাড়ৈর নার্সিং পড়ালেখার জন্য প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকা খরচ করি। ঢাকায় একসঙ্গে দীর্ঘ সময় বাসা ভাড়া করে থেকেছি। তার পরিবার ও গ্রামের কমবেশি সবাই জানে।
সম্প্রতি লেখাপড়া শেষ করে আমার স্ত্রী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্সিংয়ে চাকরি নিয়েছে। এরপর থেকে আমার সঙ্গে পরিবারের কথায় দূরত্ব বজায় রাখছে। ১২ দিন হয় আমার সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে। তাই আমি নিরুপায় হয়ে তার বাড়িতে আমাদের বিয়ের সম্পর্কের স্বীকৃতি পেতে অনশনে বসেছি। সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এখানেই অনশন চালিয়ে যাব।
অনুশীলা বাড়ৈ বলেন, তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল। জোর করে কোর্ট ম্যারেজে সই করাইছে। আমি এক সপ্তাহ আগে তাকে ডিভোর্স দিয়েছি। তার সঙ্গে আমি সংসার করব না।
স্থানীয় মেম্বার ও কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছেলে ও মেয়ের। সেই সম্পর্কের জেরে তারা দুজনের সম্মতিতে গোপনে বিয়ে করছে। তাদের বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে ছেলেটি দুই দিন ধরে অনশনে বসেছে। উভয় পরিবারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করছি।
এ ব্যাপারে ডাসার থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, তাদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে থানায় এখনো কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঈশ্বরদীতে জেলা সহকারী জজ পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ঈশ্বরদী থানায় এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তির নাম সৈয়দ জিয়া পির মোহাম্মদ আলী।
তিনি যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার বাগমারা গ্রামের মৃত আব্দুল আলীমের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি এক নারীসহ ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. মমিনুজ্জামানের কক্ষে উপস্থিত হয়ে নিজেকে যশোর জেলা সহকারী জজ হিসেবে পরিচয় দেন।
এ সময় তিনি পুলিশি পাহারায় রাত্রীযাপনের জন্য সহযোগিতা কামনা করেন। তবে তার কথাবার্তা ও আচরণে অসঙ্গতি হওয়ায় পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় যাচাই-বাছাই শুরু করে পুলিশ।আরও জানায়, যাচাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি কোনো বিচারক নন; বরং ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন।
তিনি পূর্বে ভূমি অফিসে তহশিলদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে তিনি চাকরি হারান। ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা নারী পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. মমিনুজ্জামান বলেন, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি থানার হাজতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৪৮
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৩৯
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:২৮
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:১৮