
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪৮
রমজান মাস মানেই আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং ইবাদতের বসন্তকাল। তবে একজন কর্মজীবী মানুষের জন্য এই মাসটি দ্বিগুণ পরীক্ষার। একদিকে অফিসের টাইট ডেডলাইন, মিটিং আর পেশাগত দায়িত্ব; অন্যদিকে রোজা রেখে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থেকে ইবাদতে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া। অনেক সময় কাজের চাপে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি, ফলে ইবাদত ঠিক মতো করা হয় না।
কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, সময়ের ব্যবস্থাপনা এবং খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলে অফিস সামলে ইবাদতে পূর্ণ সওয়াব হাসিল করা সম্ভব। কর্মব্যস্ত জীবনে রমজানের বরকত অর্জনের কিছু কার্যকর কৌশল নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সেহরি থেকে অফিসের প্রস্তুতি: দিনের শুরু হোক বরকতময়
রমজানে আপনার দিন শুরু হয় সেহরির মাধ্যমে। অফিসের কাজের এনার্জি এখান থেকেই সঞ্চয় করতে হবে।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: সেহরিতে এমন খাবার বেছে নিন যা ধীরে ধীরে হজম হয় (Complex Carbs), যেমন—লাল চালের ভাত, ওটস, খেজুর বা কলা। এগুলো আপনাকে দীর্ঘ সময় শক্তি দেবে।
ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ: সেহরিতে অতিরিক্ত চা বা কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন। এটি শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে দেয়, ফলে অফিসে মাথাব্যথা বা ঝিমুনি আসতে পারে।
ভোরবেলার বরকত: সেহরি ও ফজরের পর না ঘুমিয়ে অফিসের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলো গুছিয়ে নিন। গবেষণায় দেখা গেছে, ভোরে মানুষের মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি কার্যকর থাকে।
২. কর্মক্ষেত্রে 'টাইম ব্লকিং' ও প্রোডাক্টিভিটি
অফিসে গিয়ে কাজ শুরুর আগে আপনার কাজের একটি তালিকা (To-do List) তৈরি করুন।
গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে: অফিসের প্রথম ৩-৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজগুলো শেষ করুন। জোহরের পর শরীর কিছুটা ক্লান্ত হয়ে আসে, তখন হালকা বা রুটিনমাফিক কাজগুলো (যেমন: ইমেইল চেক করা বা ফাইল গোছানো) রাখুন।
অপ্রয়োজনীয় মিটিং পরিহার: সম্ভব হলে খুব জরুরি না হলে দীর্ঘ মিটিং এড়িয়ে চলুন বা সংক্ষিপ্ত করার অনুরোধ করুন। এতে আপনার মানসিক শক্তি ও সময় দুই-ই বাঁচবে।
৩. বিরতির সময়টুকু ইবাদতে রূপান্তর
অফিসের লাঞ্চ ব্রেক বা মধ্যাহ্নভোজের বিরতি এখন আপনার জন্য এক বিশাল সুযোগ।
মসজিদে সময় কাটানো: জোহরের নামাজের পর ১৫-২০ মিনিট মসজিদে বা নিরিবিলি স্থানে বসে কোরআন তেলাওয়াত করুন। এই আধ্যাত্মিক সংযোগ আপনাকে বিকেলের কাজের জন্য মানসিক প্রশান্তি দেবে।
পাওয়ার ন্যাপ (Power Nap): দুপুরের বিরতিতে ১০-১৫ মিনিটের একটি ছোট ঘুম বা চোখ বুজে বিশ্রাম নিন। সুন্নাহসম্মত এই 'কায়লুলা' আপনার মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করবে এবং ইফতারের পর তারাবির জন্য শক্তি জোগাবে।
৪. যাতায়াতের সময়কে কাজে লাগানো
ঢাকা বা বড় শহরগুলোতে যাতায়াতের সময়টা অনেক বড় একটি অংশ কেড়ে নেয়। এই সময়টুকু অপচয় না করে:
স্মার্টফোনে ইসলামিক পডকাস্ট বা কোরআনের তাফসির শুনতে পারেন।
ডিজিটাল তসবীহ ব্যবহার করে জিকির (সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ) করতে পারেন।
স্মার্টফোনে কোরআন অ্যাপ ব্যবহার করে তিলাওয়াত বা অর্থ পড়তে পারেন।
৫. আচরণ ও পেশাদারিত্ব: এটিও একটি ইবাদত
অনেকে রোজা রেখে খিটখিটে মেজাজ দেখান বা কাজে ফাঁকি দেন। মনে রাখবেন, সততার সাথে দায়িত্ব পালন করাও ইসলামের দৃষ্টিতে বড় ইবাদত।
ধৈর্যের পরীক্ষা: সহকর্মীদের সাথে হাসিমুখে কথা বলুন এবং রাগকে নিয়ন্ত্রণ করুন।
পরনিন্দা থেকে দূরে থাকা: অফিসের আড্ডায় বসে গীবত বা পরচর্চা করা থেকে বিরত থাকুন। এটি রোজার সওয়াব কমিয়ে দেয়।
৬. ইফতার ও তারাবির সমন্বয়
অফিস থেকে ফিরে তাড়াহুড়ো করে অনেক বেশি ভাজাপোড়া খাবেন না।
হালকা ইফতার: খেজুর, ফল এবং পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ইফতার করুন। অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার শরীরকে ভারী করে দেয়, ফলে এশার নামাজ ও তারাবিতে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
দ্রুত বিশ্রাম: তারাবি শেষ করে অপ্রয়োজনে মোবাইল না টিপে দ্রুত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে পরের দিন অফিসে আপনার প্রোডাক্টিভিটি কমে যাবে।
কর্মজীবীদের জন্য একটি বিশেষ টিপস: আপনার নিয়ত পরিষ্কার রাখুন। আপনি যখন অফিসের কাজ করছেন এই নিয়তে যে—আপনি আপনার পরিবারের জন্য হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করছেন, তখন আপনার প্রতিটি কাজের সেকেন্ড ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে।
রমজান আমাদের শেখায় কীভাবে সুশৃঙ্খল হতে হয়। অফিস এবং ইবাদত একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং পরিপূরক। সঠিক রুটিন আর ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে আপনি একজন সফল পেশাজীবী হওয়ার পাশাপাশি একজন একনিষ্ঠ ইবাদতকারীও হতে পারবেন। এই রমজান হোক আপনার ক্যারিয়ার ও আখেরাত—উভয় দিক থেকেই সফলতার মাস।
বরিশাল টাইমস
ছবি- সংগৃহীত
রমজান মাস মানেই আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং ইবাদতের বসন্তকাল। তবে একজন কর্মজীবী মানুষের জন্য এই মাসটি দ্বিগুণ পরীক্ষার। একদিকে অফিসের টাইট ডেডলাইন, মিটিং আর পেশাগত দায়িত্ব; অন্যদিকে রোজা রেখে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থেকে ইবাদতে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া। অনেক সময় কাজের চাপে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি, ফলে ইবাদত ঠিক মতো করা হয় না।
কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, সময়ের ব্যবস্থাপনা এবং খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলে অফিস সামলে ইবাদতে পূর্ণ সওয়াব হাসিল করা সম্ভব। কর্মব্যস্ত জীবনে রমজানের বরকত অর্জনের কিছু কার্যকর কৌশল নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সেহরি থেকে অফিসের প্রস্তুতি: দিনের শুরু হোক বরকতময়
রমজানে আপনার দিন শুরু হয় সেহরির মাধ্যমে। অফিসের কাজের এনার্জি এখান থেকেই সঞ্চয় করতে হবে।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: সেহরিতে এমন খাবার বেছে নিন যা ধীরে ধীরে হজম হয় (Complex Carbs), যেমন—লাল চালের ভাত, ওটস, খেজুর বা কলা। এগুলো আপনাকে দীর্ঘ সময় শক্তি দেবে।
ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ: সেহরিতে অতিরিক্ত চা বা কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন। এটি শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে দেয়, ফলে অফিসে মাথাব্যথা বা ঝিমুনি আসতে পারে।
ভোরবেলার বরকত: সেহরি ও ফজরের পর না ঘুমিয়ে অফিসের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলো গুছিয়ে নিন। গবেষণায় দেখা গেছে, ভোরে মানুষের মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি কার্যকর থাকে।
২. কর্মক্ষেত্রে 'টাইম ব্লকিং' ও প্রোডাক্টিভিটি
অফিসে গিয়ে কাজ শুরুর আগে আপনার কাজের একটি তালিকা (To-do List) তৈরি করুন।
গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে: অফিসের প্রথম ৩-৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজগুলো শেষ করুন। জোহরের পর শরীর কিছুটা ক্লান্ত হয়ে আসে, তখন হালকা বা রুটিনমাফিক কাজগুলো (যেমন: ইমেইল চেক করা বা ফাইল গোছানো) রাখুন।
অপ্রয়োজনীয় মিটিং পরিহার: সম্ভব হলে খুব জরুরি না হলে দীর্ঘ মিটিং এড়িয়ে চলুন বা সংক্ষিপ্ত করার অনুরোধ করুন। এতে আপনার মানসিক শক্তি ও সময় দুই-ই বাঁচবে।
৩. বিরতির সময়টুকু ইবাদতে রূপান্তর
অফিসের লাঞ্চ ব্রেক বা মধ্যাহ্নভোজের বিরতি এখন আপনার জন্য এক বিশাল সুযোগ।
মসজিদে সময় কাটানো: জোহরের নামাজের পর ১৫-২০ মিনিট মসজিদে বা নিরিবিলি স্থানে বসে কোরআন তেলাওয়াত করুন। এই আধ্যাত্মিক সংযোগ আপনাকে বিকেলের কাজের জন্য মানসিক প্রশান্তি দেবে।
পাওয়ার ন্যাপ (Power Nap): দুপুরের বিরতিতে ১০-১৫ মিনিটের একটি ছোট ঘুম বা চোখ বুজে বিশ্রাম নিন। সুন্নাহসম্মত এই 'কায়লুলা' আপনার মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করবে এবং ইফতারের পর তারাবির জন্য শক্তি জোগাবে।
৪. যাতায়াতের সময়কে কাজে লাগানো
ঢাকা বা বড় শহরগুলোতে যাতায়াতের সময়টা অনেক বড় একটি অংশ কেড়ে নেয়। এই সময়টুকু অপচয় না করে:
স্মার্টফোনে ইসলামিক পডকাস্ট বা কোরআনের তাফসির শুনতে পারেন।
ডিজিটাল তসবীহ ব্যবহার করে জিকির (সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ) করতে পারেন।
স্মার্টফোনে কোরআন অ্যাপ ব্যবহার করে তিলাওয়াত বা অর্থ পড়তে পারেন।
৫. আচরণ ও পেশাদারিত্ব: এটিও একটি ইবাদত
অনেকে রোজা রেখে খিটখিটে মেজাজ দেখান বা কাজে ফাঁকি দেন। মনে রাখবেন, সততার সাথে দায়িত্ব পালন করাও ইসলামের দৃষ্টিতে বড় ইবাদত।
ধৈর্যের পরীক্ষা: সহকর্মীদের সাথে হাসিমুখে কথা বলুন এবং রাগকে নিয়ন্ত্রণ করুন।
পরনিন্দা থেকে দূরে থাকা: অফিসের আড্ডায় বসে গীবত বা পরচর্চা করা থেকে বিরত থাকুন। এটি রোজার সওয়াব কমিয়ে দেয়।
৬. ইফতার ও তারাবির সমন্বয়
অফিস থেকে ফিরে তাড়াহুড়ো করে অনেক বেশি ভাজাপোড়া খাবেন না।
হালকা ইফতার: খেজুর, ফল এবং পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ইফতার করুন। অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার শরীরকে ভারী করে দেয়, ফলে এশার নামাজ ও তারাবিতে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
দ্রুত বিশ্রাম: তারাবি শেষ করে অপ্রয়োজনে মোবাইল না টিপে দ্রুত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে পরের দিন অফিসে আপনার প্রোডাক্টিভিটি কমে যাবে।
কর্মজীবীদের জন্য একটি বিশেষ টিপস: আপনার নিয়ত পরিষ্কার রাখুন। আপনি যখন অফিসের কাজ করছেন এই নিয়তে যে—আপনি আপনার পরিবারের জন্য হালাল রিজিকের ব্যবস্থা করছেন, তখন আপনার প্রতিটি কাজের সেকেন্ড ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে।
রমজান আমাদের শেখায় কীভাবে সুশৃঙ্খল হতে হয়। অফিস এবং ইবাদত একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং পরিপূরক। সঠিক রুটিন আর ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে আপনি একজন সফল পেশাজীবী হওয়ার পাশাপাশি একজন একনিষ্ঠ ইবাদতকারীও হতে পারবেন। এই রমজান হোক আপনার ক্যারিয়ার ও আখেরাত—উভয় দিক থেকেই সফলতার মাস।
বরিশাল টাইমস

১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:৫৩
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ঈদ উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চালের বস্তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম সংবলিত স্লোগান থাকায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে চাল বিতরণকালে বিষয়টি জানাজানি হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে চর কালকিনি ইউনিয়নের ৪ হাজার অসহায় পরিবারের জন্য মাথাপিছু ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিতরণের সময় দেখা যায়, চালের বস্তাগুলোতে লেখা রয়েছে— ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সরকারি ত্রাণের বস্তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এমন স্লোগান দেখে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও সুবিধাভোগীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
চালের বস্তায় এ স্লোগান থাকায় বিতরণকাজে অংশ নেওয়া সরকারি তদারকি কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্টদের।
উপজেলা খাদ্য ভাণ্ডার পরিদর্শক নিশাদ জাহান জানান, গুদাম থেকে চাল সরবরাহের সময় সাধারণত পুরোনো নাম বা স্লোগানগুলো রং দিয়ে মুছে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তিনি বলেন, বস্তাগুলো ডেলিভারি দেওয়ার সময় রং দিয়ে মুছে দেওয়া হয়। এরপরও দু-একটি বস্তায় চোখের অগোচরে পূর্বের নাম থেকে যেতে পারে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে, এমন হওয়ার কথা নয়। খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ও ওসিএলএসডির সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিতর্ক এড়াতে বর্তমানে বিতরণ কেন্দ্রে থাকা বাকি বস্তাগুলোর লেখা মুছে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সচেতন মহলের দাবি, সরকারি কাজে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল যাতে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি না ছড়ায়।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ঈদ উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চালের বস্তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম সংবলিত স্লোগান থাকায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে চাল বিতরণকালে বিষয়টি জানাজানি হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে চর কালকিনি ইউনিয়নের ৪ হাজার অসহায় পরিবারের জন্য মাথাপিছু ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিতরণের সময় দেখা যায়, চালের বস্তাগুলোতে লেখা রয়েছে— ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সরকারি ত্রাণের বস্তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এমন স্লোগান দেখে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও সুবিধাভোগীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
চালের বস্তায় এ স্লোগান থাকায় বিতরণকাজে অংশ নেওয়া সরকারি তদারকি কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্টদের।
উপজেলা খাদ্য ভাণ্ডার পরিদর্শক নিশাদ জাহান জানান, গুদাম থেকে চাল সরবরাহের সময় সাধারণত পুরোনো নাম বা স্লোগানগুলো রং দিয়ে মুছে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তিনি বলেন, বস্তাগুলো ডেলিভারি দেওয়ার সময় রং দিয়ে মুছে দেওয়া হয়। এরপরও দু-একটি বস্তায় চোখের অগোচরে পূর্বের নাম থেকে যেতে পারে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে, এমন হওয়ার কথা নয়। খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ও ওসিএলএসডির সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিতর্ক এড়াতে বর্তমানে বিতরণ কেন্দ্রে থাকা বাকি বস্তাগুলোর লেখা মুছে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সচেতন মহলের দাবি, সরকারি কাজে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল যাতে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি না ছড়ায়।

১২ মার্চ, ২০২৬ ১৩:১৫
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলীর (৬২) ওপর হামলা করে ভিজিএফ কার্ডের তালিকা ছিনতাই হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের সময় প্রাণ বাঁচাতে আজাদ আলী মোটরসাইকেল ফেলে পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে মোটরসাইকেলযোগে শ্যামপুর বাজার হয়ে উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন আজাদ আলী। এ সময় আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করা ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী তার গতি পথরোধ করেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। পরে তার কাছ থেকে ভিজিএফ কার্ডের তালিকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
মারধরের একপর্যায়ে নিজেকে রক্ষা করতে মোটরসাইকেল ফেলে পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মারধরের শিকার আজাদ আলী নওপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড (নান্দীগ্রাম) বিএনপির সভাপতি এবং একই ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য (প্যানেল চেয়ারম্যান)। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ওই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিকে বরখাস্ত করা হয়। পরে প্রশাসনিক আদেশে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে আজাদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলীর অভিযোগ, একই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও শ্যামপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল ইসলামের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা তাকে মারধর করেন এবং পরিষদের দাপ্তরিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হতদরিদ্রদের জন্য ভিজিএফ কার্ডের তালিকা প্রস্তুত ও চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মীর সঙ্গে আজাদ আলীর বিরোধ তৈরি হয়। এর জের ধরেই ওই হামলার ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নওপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর (শ্যামপুর) ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম বলেন, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চেয়ারম্যান ভিজিএফ কার্ডের তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম ও বিএনপি নেতা আফাজ আলী তার পথরোধ করে হামলা চালান।
তবে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম হামলার ঘটনা স্বীকার করলেও দাবি করেন, ভিজিএফ কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। এ কারণেই তাকে মারধর করা হয়েছে।
অন্যদিকে আজাদ আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টাকা দাবি করার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। রেজাউল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি ২৪০ জনের একটি তালিকা তাকে দিয়েছিলেন। সেই তালিকা অনুযায়ী কার্ড দিতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছেন।
দুর্গাপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফোনে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলীর (৬২) ওপর হামলা করে ভিজিএফ কার্ডের তালিকা ছিনতাই হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের সময় প্রাণ বাঁচাতে আজাদ আলী মোটরসাইকেল ফেলে পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে মোটরসাইকেলযোগে শ্যামপুর বাজার হয়ে উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন আজাদ আলী। এ সময় আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করা ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী তার গতি পথরোধ করেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। পরে তার কাছ থেকে ভিজিএফ কার্ডের তালিকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
মারধরের একপর্যায়ে নিজেকে রক্ষা করতে মোটরসাইকেল ফেলে পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মারধরের শিকার আজাদ আলী নওপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড (নান্দীগ্রাম) বিএনপির সভাপতি এবং একই ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য (প্যানেল চেয়ারম্যান)। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ওই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিকে বরখাস্ত করা হয়। পরে প্রশাসনিক আদেশে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে আজাদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলীর অভিযোগ, একই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও শ্যামপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল ইসলামের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা তাকে মারধর করেন এবং পরিষদের দাপ্তরিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হতদরিদ্রদের জন্য ভিজিএফ কার্ডের তালিকা প্রস্তুত ও চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মীর সঙ্গে আজাদ আলীর বিরোধ তৈরি হয়। এর জের ধরেই ওই হামলার ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নওপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর (শ্যামপুর) ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম বলেন, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চেয়ারম্যান ভিজিএফ কার্ডের তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম ও বিএনপি নেতা আফাজ আলী তার পথরোধ করে হামলা চালান।
তবে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম হামলার ঘটনা স্বীকার করলেও দাবি করেন, ভিজিএফ কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। এ কারণেই তাকে মারধর করা হয়েছে।
অন্যদিকে আজাদ আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টাকা দাবি করার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। রেজাউল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি ২৪০ জনের একটি তালিকা তাকে দিয়েছিলেন। সেই তালিকা অনুযায়ী কার্ড দিতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছেন।
দুর্গাপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফোনে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১১ মার্চ, ২০২৬ ২৩:০২
ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে সোম ও মঙ্গলবার (৯ ও ১০ মার্চ) মোট পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ডিপোর সংরক্ষণাগারে পৌঁছেছে।
আজ বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর ব্যবস্থাপক আহসান হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহসান হাবিব জানান, আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে সরাসরি পাইপলাইনে ডিজেল আসতে সময় লেগেছে প্রায় ৬০ ঘণ্টা।
জানা গেছে, কৃষিনির্ভর উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় সেচ কার্যক্রমে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ডিজেল-নির্ভর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর ভারতের সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। এই চুক্তির আওতায় আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে, যাতে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা পরিবহণ ঝুঁকির সময়েও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত না হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ এক লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করতে পারবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
ডিজেল আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। এর একটি অংশ বিপিসির নিজস্ব অর্থায়নে এবং বাকি অংশ ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।
এদিকে, আগামী চার মাসের মধ্যে একই পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিপিসি।
পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ২০২৩ সালে ৩৫ হাজার ৭১৮ মেট্রিক টন, ২০২৪ সালে ২৮ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন এবং ২০২৫ সালে এক লাখ ২৪ হাজার ২১৬ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করেছে।
বরিশাল টাইমস
ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে সোম ও মঙ্গলবার (৯ ও ১০ মার্চ) মোট পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ডিপোর সংরক্ষণাগারে পৌঁছেছে।
আজ বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর ব্যবস্থাপক আহসান হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহসান হাবিব জানান, আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে সরাসরি পাইপলাইনে ডিজেল আসতে সময় লেগেছে প্রায় ৬০ ঘণ্টা।
জানা গেছে, কৃষিনির্ভর উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় সেচ কার্যক্রমে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ডিজেল-নির্ভর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর ভারতের সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। এই চুক্তির আওতায় আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে, যাতে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা পরিবহণ ঝুঁকির সময়েও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত না হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ এক লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করতে পারবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
ডিজেল আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। এর একটি অংশ বিপিসির নিজস্ব অর্থায়নে এবং বাকি অংশ ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।
এদিকে, আগামী চার মাসের মধ্যে একই পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিপিসি।
পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ২০২৩ সালে ৩৫ হাজার ৭১৮ মেট্রিক টন, ২০২৪ সালে ২৮ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন এবং ২০২৫ সালে এক লাখ ২৪ হাজার ২১৬ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করেছে।
বরিশাল টাইমস
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:৫৩
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:২৫
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:০৩
১২ মার্চ, ২০২৬ ২০:০১