পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাস্তা নির্মাণে বাধা দেওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিমকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে, এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি।
বিভিন্ন মাধ্যম জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিজের কেনা জমিতে প্রবেশের জন্য কাফি ওই রাস্তা নির্মাণ করেন। নুরুজ্জামান কাফি ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন। তিনি উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের রজপাড়া গ্রামের শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৪ সালে রজপাড়া মৌজার খঞ্জন আলী হাওলাদারের কাছ থেকে ৩ একর ৩৩ শতাংশ, ১৯৫৯ সালে মোবারক আলীর কাছ থেকে ৩ একর ৩৩ শতাংশ, ১৯৬৭ সালে এডিএফসি ব্যাংকের নিলাম থেকে ২৯ একর ১৮ শতাংশ এবং পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকজন মালিকের কাছ থেকে ৪ একর ৮০ শতাংশ জমি ক্রয় করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এসব জমি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় ভোগদখল করে আসছে।
মোট ৪০ একর ৬৪ শতাংশ জমির মধ্যে রজপাড়া মৌজার জেএল নম্বর-৯-এর বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমির খাজনা ১৪৩২ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের পর সরকারি বিধি অনুযায়ী এসব জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে দলিল করা হয়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত সপ্তাহে ওই জমির মধ্যে সিক্স লেন সড়কের উত্তর পাশে প্রায় ৬ শতাংশ জমি দখল করে নুরুজ্জামান কাফি রাস্তা নির্মাণ করেন। ওই জমির পাশেই কাফির মালিকানাধীন জমি রয়েছে। সেখানে যাতায়াতের পথ না থাকায় তিনি রাস্তা নির্মাণ করেন বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে রাতের আঁধারে নুরুজ্জামান কাফি বিদ্যালয়ের জমির প্রায় ৬ শতাংশ অংশ দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেন। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়। জমি উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুজ্জামান কাফি সাংবাদিকদের বলেন, সবাই বলে ওই জমি খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখলে আছে। আমার কেনা জমিটি ওই জমির পেছনে, কিন্তু সেখানে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। তাই প্রথমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম স্যারের কাছে জমিটি কেনার প্রস্তাব দিই। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের জমি বিক্রির এখতিয়ার তার নেই এবং শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
তিনি আরও বলেন, পরে জানতে পারি, মোবারক পঞ্চায়েতের নাতি সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানসহ উত্তরাধিকারীরা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে রায় পেয়েছেন। এরপর তাদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে কিনে দখল বুঝে নিই। পরে ওই জমিতে রাস্তা নির্মাণ করি। আমি কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি নই যে অন্যের জমি দখল করব। প্রকৃত মালিকের কাছ থেকেই জমি কিনেছি। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে সালাউদ্দিন নয়ন পাহলান সাংবাদিকদের বলেন, আমার দাদা মোবারক পঞ্চায়েতের ২৯ একর জমি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর ধরে মামলা চলছিল। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মালিকানা দাবি করলেও আদালতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি। পরে পটুয়াখালী আদালত এবং ২০২৫ সালের জুনে সুপ্রিম কোর্ট আমাদের পক্ষে রায় দেন।
তিনি দাবি করেন, পরবর্তীতে নুরুজ্জামান কাফির যাতায়াতের জন্য ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর তিনি সেখানে রাস্তা নির্মাণ করেন। আদালতের রায় অনুযায়ী ওই জমির প্রকৃত মালিক আমরা উত্তরাধিকারীরা। তাই রাস্তা নির্মাণে বাধা দেওয়ার আইনগত ভিত্তি নেই।
তথ্যসূত্র: বাংলাভিশন।

১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৫৬
পটুয়াখালীর বাউফলে বিদ্যুৎ অফিসের অবহেলায় সড়কের ওপর পড়ে থাকা ছেঁড়া বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ইউসুফ রাড়ি (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কমলাপুর এলাকায় স্কুলসংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইউসুফ রাড়ি কমলাপুর এলাকার ইসহাক রাড়ির ছেলে।
স্থানীয়দের সুত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার সকালে একটি ভ্যাকু মেশিন রাস্তা দিয়ে নেওয়ার সময় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি থেকে একটি তার ছিঁড়ে সড়কের ওপর পড়ে। বিষয়টি জানানো হলে পল্লী বিদ্যুতের মমিনপুর জোনাল অফিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন। অফিসের লোকজন ছেঁড়া তার মেরামতের জন্য কয়েকজন গ্রাহকের কাছে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় তারটি সড়কের ওপর পড়ে থাকলেও তা মেরামত না করেই কর্মীরা চলে যান। এরপর সোমবার দুপুরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যাওয়ার সময় সড়কের ওপর পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা পল্লী বিদ্যুতের মমিনপুর জোনাল অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আবুল কাশেম বলেছেন, একজন বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে নিহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। ঘটনাটি কালিশুরী অফিসের আওতাধীন। বিষয়টি তদন্তের জন্য অফিস প্রধানকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তিনি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দিলে বিস্তারিত জানা যাবে।
বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
পটুয়াখালীর বাউফলে বিদ্যুৎ অফিসের অবহেলায় সড়কের ওপর পড়ে থাকা ছেঁড়া বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ইউসুফ রাড়ি (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কমলাপুর এলাকায় স্কুলসংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইউসুফ রাড়ি কমলাপুর এলাকার ইসহাক রাড়ির ছেলে।
স্থানীয়দের সুত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার সকালে একটি ভ্যাকু মেশিন রাস্তা দিয়ে নেওয়ার সময় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি থেকে একটি তার ছিঁড়ে সড়কের ওপর পড়ে। বিষয়টি জানানো হলে পল্লী বিদ্যুতের মমিনপুর জোনাল অফিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন। অফিসের লোকজন ছেঁড়া তার মেরামতের জন্য কয়েকজন গ্রাহকের কাছে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় তারটি সড়কের ওপর পড়ে থাকলেও তা মেরামত না করেই কর্মীরা চলে যান। এরপর সোমবার দুপুরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যাওয়ার সময় সড়কের ওপর পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা পল্লী বিদ্যুতের মমিনপুর জোনাল অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আবুল কাশেম বলেছেন, একজন বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে নিহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। ঘটনাটি কালিশুরী অফিসের আওতাধীন। বিষয়টি তদন্তের জন্য অফিস প্রধানকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তিনি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দিলে বিস্তারিত জানা যাবে।
বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৩২
পটুয়ালীর বাউফলে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে একটি নামধারী এনজিওর কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গ্রাহক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে বাউফল পৌরসভার মুসলিমপাড়া মোড় এলাকায় জালাল আহমেদের একটি ভবন ভাড়া নিয়ে ‘সমাজ কল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা’ নামের একটি এনজিও কার্যক্রম শুরু করে। দুই বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিমা ও সঞ্চয়ের নামে প্রায় অর্ধকোটি টাকা সংগ্রহ করেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা।
ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাবেয়া বেগমের কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা, বাবুল সিপাইয়ের কাছ থেকে ১১ হাজার, মাসুদুর রহমানের কাছ থেকে ২০ হাজার, মলিন্দ্রের কাছ থেকে ২০ হাজার, মনু বেগমের কাছ থেকে ১২ হাজার, তাসলিমা বেগমের কাছ থেকে ১১ হাজার এবং আব্দুল আজিজের কাছ থেকে দুই নামে ৩৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও অনেকের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীরা জানান, দুই বছরের মেয়াদে ঋণ দেওয়ার কথা বলে রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে সবাইকে অফিসে আসতে বলা হয়। ঋণ বিতরণের উদ্ধোধন অনুষ্ঠানের প্রস্তুুতি হিসেবে ডেকোয়ারেটর ভাড়া করে চেয়ার-টেবিলও আনা হয়। কিন্তু ভুক্তভোগীরা নির্ধারিত সময়ে অফিসে গিয়ে কাউকে দেখতে পাননি। এর আগেই কথিত সংস্থার লোকজন অফিস ছেড়ে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ জানান, ‘সমাজ কল্যাণ সংস্থা’ নামে একজন মাঠকর্মী তাদের ঋণ দেওয়ার কথা বলেন। রোববার সকাল ১০টার মধ্যে সঞ্চয়ের টাকা জমা দিতে এবং দুপুর ৩টায় ঋণের টাকা দেওয়ার কথা ছিল।
তিনি বলেন, চার লাখ টাকা ঋণের জন্য দুই নামে ৩৭ হাজার টাকা দিয়েছি। সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তাদের আর খুঁজে পাইনি।
রাবেয়া বেগম জানান, দুই বছর মেয়াদে ঋণ দেওয়ার কথা বলে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তাদের বাড়িতে যান। এক লাখ টাকা ঋণ দিলে মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে পরিশোধ করতে হবে বলে জানানো হয়। এ জন্য ১১ হাজার টাকা দিতে বলা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার টাকা বিমা এবং ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় হিসেবে নেওয়া হয়। অফিস উদ্বোধনের দিনই ঋণের টাকা দেওয়া হবে বলে তাদের জানানো হয়েছিল।
রাবেয়া বলেন, আমার গাড়ি নষ্ট। তাই গাড়ি কেনার জন্য ঋণের টাকা প্রয়োজন ছিল। এ কারণে আমিও টাকা দিয়েছি। রবিবার বিকেলে ঋণের টাকা নিতে গেলে জানতে পারি, তারা পালিয়ে গেছে।
ভবনের মালিক জালাল আহমেদের স্ত্রী সৈয়দা শৈলী বলেন, মৌখিক চুক্তিতে মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাড়া এবং দুই লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়ার শর্তে তাদের অফিস ভাড়া দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়ালীর বাউফলে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে একটি নামধারী এনজিওর কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গ্রাহক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে বাউফল পৌরসভার মুসলিমপাড়া মোড় এলাকায় জালাল আহমেদের একটি ভবন ভাড়া নিয়ে ‘সমাজ কল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা’ নামের একটি এনজিও কার্যক্রম শুরু করে। দুই বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিমা ও সঞ্চয়ের নামে প্রায় অর্ধকোটি টাকা সংগ্রহ করেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা।
ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাবেয়া বেগমের কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা, বাবুল সিপাইয়ের কাছ থেকে ১১ হাজার, মাসুদুর রহমানের কাছ থেকে ২০ হাজার, মলিন্দ্রের কাছ থেকে ২০ হাজার, মনু বেগমের কাছ থেকে ১২ হাজার, তাসলিমা বেগমের কাছ থেকে ১১ হাজার এবং আব্দুল আজিজের কাছ থেকে দুই নামে ৩৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও অনেকের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীরা জানান, দুই বছরের মেয়াদে ঋণ দেওয়ার কথা বলে রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে সবাইকে অফিসে আসতে বলা হয়। ঋণ বিতরণের উদ্ধোধন অনুষ্ঠানের প্রস্তুুতি হিসেবে ডেকোয়ারেটর ভাড়া করে চেয়ার-টেবিলও আনা হয়। কিন্তু ভুক্তভোগীরা নির্ধারিত সময়ে অফিসে গিয়ে কাউকে দেখতে পাননি। এর আগেই কথিত সংস্থার লোকজন অফিস ছেড়ে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ জানান, ‘সমাজ কল্যাণ সংস্থা’ নামে একজন মাঠকর্মী তাদের ঋণ দেওয়ার কথা বলেন। রোববার সকাল ১০টার মধ্যে সঞ্চয়ের টাকা জমা দিতে এবং দুপুর ৩টায় ঋণের টাকা দেওয়ার কথা ছিল।
তিনি বলেন, চার লাখ টাকা ঋণের জন্য দুই নামে ৩৭ হাজার টাকা দিয়েছি। সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তাদের আর খুঁজে পাইনি।
রাবেয়া বেগম জানান, দুই বছর মেয়াদে ঋণ দেওয়ার কথা বলে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তাদের বাড়িতে যান। এক লাখ টাকা ঋণ দিলে মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে পরিশোধ করতে হবে বলে জানানো হয়। এ জন্য ১১ হাজার টাকা দিতে বলা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার টাকা বিমা এবং ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় হিসেবে নেওয়া হয়। অফিস উদ্বোধনের দিনই ঋণের টাকা দেওয়া হবে বলে তাদের জানানো হয়েছিল।
রাবেয়া বলেন, আমার গাড়ি নষ্ট। তাই গাড়ি কেনার জন্য ঋণের টাকা প্রয়োজন ছিল। এ কারণে আমিও টাকা দিয়েছি। রবিবার বিকেলে ঋণের টাকা নিতে গেলে জানতে পারি, তারা পালিয়ে গেছে।
ভবনের মালিক জালাল আহমেদের স্ত্রী সৈয়দা শৈলী বলেন, মৌখিক চুক্তিতে মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাড়া এবং দুই লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়ার শর্তে তাদের অফিস ভাড়া দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৩৪
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাহিন নামে এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ওই প্রবাসীর ছেলে নাইমের (২২) পায়ে গুলি করে ডাকাত দল। এছাড়া নাইমের মা রুমা বেগম (৪০) এবং তার স্ত্রীর হাত পা বেঁধে মারধর করা হয়। শিশু তাসফির (২) মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২ লাখ টাকা ও একটি আইফোন লুট করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম এ তথ্য সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর পরই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য সবাইকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
রুমা বেগম জানান, তার স্বামী মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। রাতের খাবার খেয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে পাঁচ-ছয় জনের ডাকাতদল জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। বাইরে ডাকাতদলের আরও কয়েকজন সদস্য ছিল। পরে সবাইকে হাত ও পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করে এবং নাইমের স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় নাইম বাধা দিলে তার পায়ের হাটুর ওপরে গুলি করে। এরপর তার শিশু সন্তান তাসফির মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২ লাখ টাকা ও একটি আইফোন লুট করে নিয়ে যায়।
ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাহিন নামে এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ওই প্রবাসীর ছেলে নাইমের (২২) পায়ে গুলি করে ডাকাত দল। এছাড়া নাইমের মা রুমা বেগম (৪০) এবং তার স্ত্রীর হাত পা বেঁধে মারধর করা হয়। শিশু তাসফির (২) মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২ লাখ টাকা ও একটি আইফোন লুট করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম এ তথ্য সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর পরই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য সবাইকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
রুমা বেগম জানান, তার স্বামী মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। রাতের খাবার খেয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে পাঁচ-ছয় জনের ডাকাতদল জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। বাইরে ডাকাতদলের আরও কয়েকজন সদস্য ছিল। পরে সবাইকে হাত ও পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করে এবং নাইমের স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় নাইম বাধা দিলে তার পায়ের হাটুর ওপরে গুলি করে। এরপর তার শিশু সন্তান তাসফির মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২ লাখ টাকা ও একটি আইফোন লুট করে নিয়ে যায়।
ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

১৫ জুলাই, ২০২৬ ১৮:১৮
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাস্তা নির্মাণে বাধা দেওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিমকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে, এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি।
বিভিন্ন মাধ্যম জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিজের কেনা জমিতে প্রবেশের জন্য কাফি ওই রাস্তা নির্মাণ করেন। নুরুজ্জামান কাফি ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন। তিনি উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের রজপাড়া গ্রামের শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৪ সালে রজপাড়া মৌজার খঞ্জন আলী হাওলাদারের কাছ থেকে ৩ একর ৩৩ শতাংশ, ১৯৫৯ সালে মোবারক আলীর কাছ থেকে ৩ একর ৩৩ শতাংশ, ১৯৬৭ সালে এডিএফসি ব্যাংকের নিলাম থেকে ২৯ একর ১৮ শতাংশ এবং পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকজন মালিকের কাছ থেকে ৪ একর ৮০ শতাংশ জমি ক্রয় করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এসব জমি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় ভোগদখল করে আসছে।
মোট ৪০ একর ৬৪ শতাংশ জমির মধ্যে রজপাড়া মৌজার জেএল নম্বর-৯-এর বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমির খাজনা ১৪৩২ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের পর সরকারি বিধি অনুযায়ী এসব জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে দলিল করা হয়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত সপ্তাহে ওই জমির মধ্যে সিক্স লেন সড়কের উত্তর পাশে প্রায় ৬ শতাংশ জমি দখল করে নুরুজ্জামান কাফি রাস্তা নির্মাণ করেন। ওই জমির পাশেই কাফির মালিকানাধীন জমি রয়েছে। সেখানে যাতায়াতের পথ না থাকায় তিনি রাস্তা নির্মাণ করেন বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে রাতের আঁধারে নুরুজ্জামান কাফি বিদ্যালয়ের জমির প্রায় ৬ শতাংশ অংশ দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেন। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়। জমি উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুজ্জামান কাফি সাংবাদিকদের বলেন, সবাই বলে ওই জমি খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখলে আছে। আমার কেনা জমিটি ওই জমির পেছনে, কিন্তু সেখানে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। তাই প্রথমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম স্যারের কাছে জমিটি কেনার প্রস্তাব দিই। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের জমি বিক্রির এখতিয়ার তার নেই এবং শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
তিনি আরও বলেন, পরে জানতে পারি, মোবারক পঞ্চায়েতের নাতি সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানসহ উত্তরাধিকারীরা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে রায় পেয়েছেন। এরপর তাদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে কিনে দখল বুঝে নিই। পরে ওই জমিতে রাস্তা নির্মাণ করি। আমি কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি নই যে অন্যের জমি দখল করব। প্রকৃত মালিকের কাছ থেকেই জমি কিনেছি। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে সালাউদ্দিন নয়ন পাহলান সাংবাদিকদের বলেন, আমার দাদা মোবারক পঞ্চায়েতের ২৯ একর জমি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর ধরে মামলা চলছিল। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মালিকানা দাবি করলেও আদালতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি। পরে পটুয়াখালী আদালত এবং ২০২৫ সালের জুনে সুপ্রিম কোর্ট আমাদের পক্ষে রায় দেন।
তিনি দাবি করেন, পরবর্তীতে নুরুজ্জামান কাফির যাতায়াতের জন্য ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর তিনি সেখানে রাস্তা নির্মাণ করেন। আদালতের রায় অনুযায়ী ওই জমির প্রকৃত মালিক আমরা উত্তরাধিকারীরা। তাই রাস্তা নির্মাণে বাধা দেওয়ার আইনগত ভিত্তি নেই।
তথ্যসূত্র: বাংলাভিশন।