আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের ১০ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, 'চব্বিশের জুলাই-আগস্টের টানা ৩৬ দিনের গণআন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, এটি ছিল দীর্ঘদিনের দুঃশাসন এবং ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সম্মিলিত বিদ্রোহ। এটি ছিল নতুন বাংলাদেশ গড়ার একটি ঐতিহাসিক লড়াই। জুলাই- আগস্টের সেই আন্দোলন ছিল এমন এক তরুণ সমাজের নেতৃত্বে, যারা আগে কখনো সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। কোটি কোটি তরুণ বুক চিতিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিয়েছিল- এই বাংলাদেশ আমরা চাই না। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চাই। এই আন্দোলনের গভীরে ছিল বুকের ভেতরের ঝড়। সেই ঝড় কেন তৈরি হয়েছিল, তা না বুঝলে আগামী দিনের বাংলাদেশকে বোঝা যাবে না। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার ১০ দলীয় জোটের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরো বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় হতে পাস করে মেধার শীর্ষে থেকেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়, আত্মীয়তার সুপারিশ বা তথাকথিত ‘চোতা’ না থাকায় যখন একজন তরুণ চাকরি পায় না, তখন তার বুকের ভেতর ঝড় ওঠে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে ব্যবসা আর সুবিধাভোগী রাজনীতির কোটানির্ভর বৈষম্য সেই ঝড়ের জন্ম দেয়। মামা-খালু ছাড়া চাকরির ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢোকা যায় না, এই উপলব্ধি লক্ষ লক্ষ তরুণ-যুবককে ক্ষুব্ধ করেছে। হাসপাতালে যখন দালাল ছাড়া চিকিৎসা মেলে না, কৃষক যখন ন্যায্য দামে সার, বীজ, কীটনাশক পায় না, প্রবাসী শ্রমিক ভাইয়েরা রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে যখন দেশে টাকা পাঠিয়েও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, তখন তাদের বুকের ভেতর ঝড় ওঠে। এসব কারণেই সেদিন কোটি মানুষের বুকের ভিতর ঝড় উঠেছিলো। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ সেদিন বিস্ফোরিত হয়েছিল।'
ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করেন, 'আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর যোগসাজশে মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরপরাধ মানুষকে গ্রেপ্তার, হয়রানি এবং ডিটেনশনে পাঠানো হচ্ছে। ঘুষ ছাড়া রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানে ন্যায্য সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। এসব অনিয়ম-জুলুমের বিরুদ্ধেই ২০২৪ সালের গণআন্দোলন হয়েছিল। সেই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তারা স্পষ্ট করে বলে গেছেন- এমন বাংলাদেশ আমরা চাই না, যেখানে রাষ্ট্র পরতে পরতে মানুষের বিপক্ষে কাজ করে।' আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, '১২ তারিখের ভোট শুধু দুই রঙের দুইটি কাগজে সিল মারা নয়, এটি বাংলাদেশ বদলে দেওয়ার একটি লড়াই। নতুন বাংলাদেশের নতুন রাজনীতি এবং পরিবর্তনকে যদি না বলা হয় তাহলে আগামী দিনগুলোতে দেশবাসীকে আগের মতোই জুলুম-নির্যাতনের মধ্যে বাঁচতে হবে। আগের মতোই দিল্লির আধিপত্যবাদের গোলামী করতে হবে। এখন আপনি গোলামী চাইবেন নাকি আজাদী চাইবেন, জুলুম চাইবেন নাকি ইনসাফ চাইবেন, সেটা বেছে নেওয়ার অধিকার একান্তই আপনার। তবে আপনি যদি মুক্তি চান, আজাদী চান, ইনসাফ চান, তবে আপনাকে হ্যাঁ-এর পক্ষেই রায় দিতে হবে।'
বাবুগঞ্জ উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ওই ১০ দলীয় জোটের প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাবুগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াত নেতা আজিজুর রহমান অলিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতা অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন খায়ের, এবি পার্টির জেলা ও মহানগরের যুগ্ম-আহবায়ক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সুজন তালুকদার, সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জি.এম রাব্বী, যুগ্ম-সদস্য সচিব ডাঃ তানভীর আহমেদ, বাবুগঞ্জ উপজেলা জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি সালাম মাঝি প্রমুখসহ ১০ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ এবং তাদের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। #

২২ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৫৪
নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকাল ৪টায় রাজধানীর মিন্টো রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সংগঠনের আমীর শফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই জরুরি বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্যকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পর জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি সাংগঠনিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করা হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
এদিকে জামায়াত নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানানোর পর আইনি প্রক্রিয়ায় তার সংসদ সদস্য (এমপি) পদ বাতিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকাল ৪টায় রাজধানীর মিন্টো রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সংগঠনের আমীর শফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই জরুরি বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্যকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পর জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি সাংগঠনিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে তার নৈতিক স্খলনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করা হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
এদিকে জামায়াত নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানানোর পর আইনি প্রক্রিয়ায় তার সংসদ সদস্য (এমপি) পদ বাতিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:৩৯
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা। পরে একই কক্ষের আরও ভিডিও সামনে আসলে ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণীকে এমপির স্ত্রী দাবি করেছেন জামায়াতের স্থানীয় নেতারা।
জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে।’
সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে একটি কক্ষে অবস্থান করতে দেখা যায়। ফুটেজের বিভিন্ন অংশে তাকে কখনো মোবাইল ফোনে কথা বলতে, আবার কখনো ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’র পক্ষ থেকে কয়েকটি পোস্ট দিয়ে দাবি করা হয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়া ভিডিও।
তবে তথ্য যাচাইকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বলছে, ভিডিওটিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার বা ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনের কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি। এআই ভিডিওর কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে, এই ভিডিওগুলোতে সেসব নেই। এটি একটি বাস্তব ভিডিও বলে প্রাথমিক বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে থাকা টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটি নিয়ে বক্তব্য জানতে গাজী নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে কালবেলার সঙ্গে কথা বলেছেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’
দ্বিতীয় বিয়ে কবে হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ আমার জানা নেই। তবে বেশ কিছুদিন আগে বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে বলে আমরা জেনেছি।
ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণীর বয়স বেশ কম মনে হয়েছে। কালবেলার হাতে তরুণীর একটি বায়োডাটা এসেছে। সেখানে দেওয়া তার জন্মতারিখ অনুযায়ী এখন বয়স হওয়ার কথা ১৮ বছর ২ মাস। মেয়েটির প্রাইভেসি রক্ষায় এই প্রতিবেদনে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট এমপির ‘জোর সুপারিশ’ করা ওই বায়োডাটায় মেয়েটি নিজেকে অবিবাহিত বলে উল্লেখ করেছেন।
২০২৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তার ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ থাকায় কালবেলার পক্ষ থেকে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে হোয়াটসঅ্যাপের ছবি দেখে বোঝা গেছে, তার পরিবারও জামায়াত ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছবিতে জামায়াতের ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে থাকা পরিবারের এক সদস্যের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।’
সংবাদসূত্র: দৈনিক কালবেলা।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা। পরে একই কক্ষের আরও ভিডিও সামনে আসলে ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণীকে এমপির স্ত্রী দাবি করেছেন জামায়াতের স্থানীয় নেতারা।
জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে।’
সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে একটি কক্ষে অবস্থান করতে দেখা যায়। ফুটেজের বিভিন্ন অংশে তাকে কখনো মোবাইল ফোনে কথা বলতে, আবার কখনো ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’র পক্ষ থেকে কয়েকটি পোস্ট দিয়ে দাবি করা হয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়া ভিডিও।
তবে তথ্য যাচাইকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বলছে, ভিডিওটিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার বা ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনের কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি। এআই ভিডিওর কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে, এই ভিডিওগুলোতে সেসব নেই। এটি একটি বাস্তব ভিডিও বলে প্রাথমিক বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে থাকা টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটি নিয়ে বক্তব্য জানতে গাজী নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে কালবেলার সঙ্গে কথা বলেছেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’
দ্বিতীয় বিয়ে কবে হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ আমার জানা নেই। তবে বেশ কিছুদিন আগে বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে বলে আমরা জেনেছি।
ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণীর বয়স বেশ কম মনে হয়েছে। কালবেলার হাতে তরুণীর একটি বায়োডাটা এসেছে। সেখানে দেওয়া তার জন্মতারিখ অনুযায়ী এখন বয়স হওয়ার কথা ১৮ বছর ২ মাস। মেয়েটির প্রাইভেসি রক্ষায় এই প্রতিবেদনে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট এমপির ‘জোর সুপারিশ’ করা ওই বায়োডাটায় মেয়েটি নিজেকে অবিবাহিত বলে উল্লেখ করেছেন।
২০২৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তার ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ থাকায় কালবেলার পক্ষ থেকে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে হোয়াটসঅ্যাপের ছবি দেখে বোঝা গেছে, তার পরিবারও জামায়াত ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছবিতে জামায়াতের ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে থাকা পরিবারের এক সদস্যের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।’
সংবাদসূত্র: দৈনিক কালবেলা।

১৬ জুলাই, ২০২৬ ১৫:২২
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ও ৪৫ বছর ধরে পলাতক অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে ডিবি পুলিশ আটক করেছে। পরে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ও ৪৫ বছর ধরে পলাতক অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে ডিবি পুলিশ আটক করেছে। পরে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:০৭
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের ১০ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, 'চব্বিশের জুলাই-আগস্টের টানা ৩৬ দিনের গণআন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, এটি ছিল দীর্ঘদিনের দুঃশাসন এবং ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সম্মিলিত বিদ্রোহ। এটি ছিল নতুন বাংলাদেশ গড়ার একটি ঐতিহাসিক লড়াই। জুলাই- আগস্টের সেই আন্দোলন ছিল এমন এক তরুণ সমাজের নেতৃত্বে, যারা আগে কখনো সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। কোটি কোটি তরুণ বুক চিতিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিয়েছিল- এই বাংলাদেশ আমরা চাই না। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চাই। এই আন্দোলনের গভীরে ছিল বুকের ভেতরের ঝড়। সেই ঝড় কেন তৈরি হয়েছিল, তা না বুঝলে আগামী দিনের বাংলাদেশকে বোঝা যাবে না। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার ১০ দলীয় জোটের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরো বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় হতে পাস করে মেধার শীর্ষে থেকেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়, আত্মীয়তার সুপারিশ বা তথাকথিত ‘চোতা’ না থাকায় যখন একজন তরুণ চাকরি পায় না, তখন তার বুকের ভেতর ঝড় ওঠে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে ব্যবসা আর সুবিধাভোগী রাজনীতির কোটানির্ভর বৈষম্য সেই ঝড়ের জন্ম দেয়। মামা-খালু ছাড়া চাকরির ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢোকা যায় না, এই উপলব্ধি লক্ষ লক্ষ তরুণ-যুবককে ক্ষুব্ধ করেছে। হাসপাতালে যখন দালাল ছাড়া চিকিৎসা মেলে না, কৃষক যখন ন্যায্য দামে সার, বীজ, কীটনাশক পায় না, প্রবাসী শ্রমিক ভাইয়েরা রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে যখন দেশে টাকা পাঠিয়েও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, তখন তাদের বুকের ভেতর ঝড় ওঠে। এসব কারণেই সেদিন কোটি মানুষের বুকের ভিতর ঝড় উঠেছিলো। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ সেদিন বিস্ফোরিত হয়েছিল।'
ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করেন, 'আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর যোগসাজশে মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরপরাধ মানুষকে গ্রেপ্তার, হয়রানি এবং ডিটেনশনে পাঠানো হচ্ছে। ঘুষ ছাড়া রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানে ন্যায্য সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। এসব অনিয়ম-জুলুমের বিরুদ্ধেই ২০২৪ সালের গণআন্দোলন হয়েছিল। সেই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তারা স্পষ্ট করে বলে গেছেন- এমন বাংলাদেশ আমরা চাই না, যেখানে রাষ্ট্র পরতে পরতে মানুষের বিপক্ষে কাজ করে।' আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, '১২ তারিখের ভোট শুধু দুই রঙের দুইটি কাগজে সিল মারা নয়, এটি বাংলাদেশ বদলে দেওয়ার একটি লড়াই। নতুন বাংলাদেশের নতুন রাজনীতি এবং পরিবর্তনকে যদি না বলা হয় তাহলে আগামী দিনগুলোতে দেশবাসীকে আগের মতোই জুলুম-নির্যাতনের মধ্যে বাঁচতে হবে। আগের মতোই দিল্লির আধিপত্যবাদের গোলামী করতে হবে। এখন আপনি গোলামী চাইবেন নাকি আজাদী চাইবেন, জুলুম চাইবেন নাকি ইনসাফ চাইবেন, সেটা বেছে নেওয়ার অধিকার একান্তই আপনার। তবে আপনি যদি মুক্তি চান, আজাদী চান, ইনসাফ চান, তবে আপনাকে হ্যাঁ-এর পক্ষেই রায় দিতে হবে।'
বাবুগঞ্জ উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ওই ১০ দলীয় জোটের প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাবুগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াত নেতা আজিজুর রহমান অলিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতা অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন খায়ের, এবি পার্টির জেলা ও মহানগরের যুগ্ম-আহবায়ক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সুজন তালুকদার, সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জি.এম রাব্বী, যুগ্ম-সদস্য সচিব ডাঃ তানভীর আহমেদ, বাবুগঞ্জ উপজেলা জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি সালাম মাঝি প্রমুখসহ ১০ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ এবং তাদের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। #