
৩১ আগস্ট, ২০২৫ ১২:২৮
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার হাঁপানিয়ায় রামচন্দ্রপুর গ্রামে বৃদ্ধা মাকে মারধরের ঘটনায় ছেলে ও পুত্রবধূসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এর আগে শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে হাঁপানিয়া রামচন্দ্রপুর নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় বৃদ্ধার মেয়ে আম্বিয়া খাতুন বাদী হয়ে রাতেই সাঁথিয়া থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন।
গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন- ছেলে নজরুল ইসলাম (৪০), পুত্রবধূ সোনালী খাতুন (৩৫), নজরুলের দুই শ্যালক মো. টিপু মিয়া (২৫) ও মো. মিনার হোসেন (৩০), শ্যালিকা মুর্শিদা খাতুন (২৮)।ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রথমে বৃদ্ধা কাঞ্চন খাতুনকে (৭৫) পুত্রবধূ সোনালী মাটিতে ফেলে মারধর করে।
দ্বিতীয় দফায় ছেলে নজরুল ইসলাম তার মাকে অনেকক্ষণ গলা টিপে ধরে। একপর্যায়ে ছেলে মাকে তুলে মাটিতে আছাড় মেরে লাথি মেরে হত্যার চেষ্টা করে। বৃদ্ধা মা চিৎকার করে কান্না করলেও ভিডিওতে কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। রোমহর্ষক এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সাঁথিয়া থানা পুলিশের ওসি আনিসুর রহমান বলেন, বৃদ্ধ মাকে মারধরের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এমন সব অভিযোগে ছেলে ও পুত্রবধূসহ পাঁচজনকে আটক করে নিয়ে আসছি। গত রাতে মেয়ে আম্বিয়া খাতুন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন। রোববার (৩১ আগস্ট) আদালতের মাধ্যমে পাবনা কারাগারে পাঠানো হবে।
সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, মাকে মারধরে ঘটনা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে থানা পুলিশ শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে স্থানীয়রা সমস্যার সৃষ্টি করে। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেনাবাহিনীর সহায়তায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার হাঁপানিয়ায় রামচন্দ্রপুর গ্রামে বৃদ্ধা মাকে মারধরের ঘটনায় ছেলে ও পুত্রবধূসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এর আগে শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে হাঁপানিয়া রামচন্দ্রপুর নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় বৃদ্ধার মেয়ে আম্বিয়া খাতুন বাদী হয়ে রাতেই সাঁথিয়া থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন।
গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন- ছেলে নজরুল ইসলাম (৪০), পুত্রবধূ সোনালী খাতুন (৩৫), নজরুলের দুই শ্যালক মো. টিপু মিয়া (২৫) ও মো. মিনার হোসেন (৩০), শ্যালিকা মুর্শিদা খাতুন (২৮)।ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রথমে বৃদ্ধা কাঞ্চন খাতুনকে (৭৫) পুত্রবধূ সোনালী মাটিতে ফেলে মারধর করে।
দ্বিতীয় দফায় ছেলে নজরুল ইসলাম তার মাকে অনেকক্ষণ গলা টিপে ধরে। একপর্যায়ে ছেলে মাকে তুলে মাটিতে আছাড় মেরে লাথি মেরে হত্যার চেষ্টা করে। বৃদ্ধা মা চিৎকার করে কান্না করলেও ভিডিওতে কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। রোমহর্ষক এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সাঁথিয়া থানা পুলিশের ওসি আনিসুর রহমান বলেন, বৃদ্ধ মাকে মারধরের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এমন সব অভিযোগে ছেলে ও পুত্রবধূসহ পাঁচজনকে আটক করে নিয়ে আসছি। গত রাতে মেয়ে আম্বিয়া খাতুন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন। রোববার (৩১ আগস্ট) আদালতের মাধ্যমে পাবনা কারাগারে পাঠানো হবে।
সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, মাকে মারধরে ঘটনা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে থানা পুলিশ শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে স্থানীয়রা সমস্যার সৃষ্টি করে। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেনাবাহিনীর সহায়তায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।

০২ জুলাই, ২০২৬ ২২:৪৪

০১ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৩৬
ফরিদপুরের ভাঙা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ৪ ঘণ্টাব্যাপী ভয়াবহ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে সুমন (২০) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাতটা থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদি গ্রামের কয়েকজন কিশোরের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার জেরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে সন্ধ্যার পর দুই পক্ষের বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সাথে আগ্নেয়াস্ত্র সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
এ সময় অন্ধকারে ছোড়া গুলিতে সুমন নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। এ সময় আশেপাশের মসজিদের মাইক থেকে সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য বলা হয়। গুলিবিদ্ধ সুমনকে ভাঙা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্য নেওয়া হলে পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার হয়। রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহতের বড় ভাই জিহাদ শেখ। নিহত সুমন শেখ ভাঙা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুরিয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখ-এর ছেলে।
ভাঙা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষ শুরু হলে রাত সাড়ে ৭ দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে যানবাহন চলাচল আবার শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু সাংবাদিকদের বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে, কাপুড়িয়া সদরদী ও হাসামদিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তিনি আরও জানান, নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে বর্তমানে তিনি নিজে ভারী পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।’

২৫ জুন, ২০২৬ ২২:৩২
টানা ৮ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে রাজারবাগ পুলিশ টেলিকমের ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গতকাল বুধবার (২৪ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিষয়টি জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়, রাজারবাগ পুলিশ টেলিকমের (সংযুক্ত) ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদার গত বছরের ৬ অক্টোবর থেকে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার এমন কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধি অনুসারে যথাক্রমে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’ এর পর্যায়ভুক্ত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ কারণে বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী যে তারিখ থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত সেই তারিখ থেকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।
বিপ্লব বিজয় তালুকদার ২০০১ সালে ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। ২০২৩ সালে তিনি ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।
বরিশাল টাইমস
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, উপকূলীয় এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সমুদ্রসম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছে জাপানের দেওয়া পাঁচটি আধুনিক উচ্চগতির পেট্রোল বোট।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জাপানের Official Security Assistance (OSA) কর্মসূচির আওতায় প্রাপ্ত পাঁচটি পেট্রোল বোট আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমোয়াকি। অনুষ্ঠানে জাপানের প্রতিনিধি দল, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের নভেম্বরে পাঁচটি উচ্চগতিসম্পন্ন পেট্রোল বোট সংগ্রহের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। একই বছরের নভেম্বরে নোট বিনিময়ের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি বোটগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়।
পরবর্তীতে জাপানি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে বানৌজা নির্ভীক-এ নৌবাহিনীর সদস্যদের বোট পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
নৌবাহিনী সূত্র জানায়, প্রতিটি পেট্রোল বোটের দৈর্ঘ্য ১৬ দশমিক ১৫ মিটার, প্রস্থ ৩ দশমিক ৫৩ মিটার, গভীরতা ১ দশমিক ৭৮ মিটার এবং ধারণক্ষমতা ১৩ দশমিক ৫ টন। বোটগুলো ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩২ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলাচল করতে সক্ষম। কম গভীরতাসম্পন্ন জলপথে চলাচলের উপযোগী হওয়ায় দেশের নদী, মোহনা ও উপকূলীয় অঞ্চলের সংকীর্ণ ও দুর্গম নৌপথে দ্রুত ও কার্যকরভাবে অভিযান পরিচালনায় এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নিয়মিত টহল, নজরদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে এসব পেট্রোল বোট কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নৌবাহিনী জানিয়েছে, জাপানের OSA কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্প শুধু বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতাই বৃদ্ধি করবে না, বরং বাংলাদেশ ও জাপানের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত করবে।
বরিশাল টাইমস
দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, উপকূলীয় এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সমুদ্রসম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছে জাপানের দেওয়া পাঁচটি আধুনিক উচ্চগতির পেট্রোল বোট।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জাপানের Official Security Assistance (OSA) কর্মসূচির আওতায় প্রাপ্ত পাঁচটি পেট্রোল বোট আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমোয়াকি। অনুষ্ঠানে জাপানের প্রতিনিধি দল, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের নভেম্বরে পাঁচটি উচ্চগতিসম্পন্ন পেট্রোল বোট সংগ্রহের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। একই বছরের নভেম্বরে নোট বিনিময়ের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি বোটগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়।
পরবর্তীতে জাপানি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে বানৌজা নির্ভীক-এ নৌবাহিনীর সদস্যদের বোট পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
নৌবাহিনী সূত্র জানায়, প্রতিটি পেট্রোল বোটের দৈর্ঘ্য ১৬ দশমিক ১৫ মিটার, প্রস্থ ৩ দশমিক ৫৩ মিটার, গভীরতা ১ দশমিক ৭৮ মিটার এবং ধারণক্ষমতা ১৩ দশমিক ৫ টন। বোটগুলো ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩২ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলাচল করতে সক্ষম। কম গভীরতাসম্পন্ন জলপথে চলাচলের উপযোগী হওয়ায় দেশের নদী, মোহনা ও উপকূলীয় অঞ্চলের সংকীর্ণ ও দুর্গম নৌপথে দ্রুত ও কার্যকরভাবে অভিযান পরিচালনায় এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নিয়মিত টহল, নজরদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে এসব পেট্রোল বোট কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নৌবাহিনী জানিয়েছে, জাপানের OSA কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্প শুধু বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতাই বৃদ্ধি করবে না, বরং বাংলাদেশ ও জাপানের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত করবে।
বরিশাল টাইমস
ফরিদপুরের ভাঙা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ৪ ঘণ্টাব্যাপী ভয়াবহ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে সুমন (২০) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাতটা থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদি গ্রামের কয়েকজন কিশোরের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার জেরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে সন্ধ্যার পর দুই পক্ষের বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সাথে আগ্নেয়াস্ত্র সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
এ সময় অন্ধকারে ছোড়া গুলিতে সুমন নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। এ সময় আশেপাশের মসজিদের মাইক থেকে সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য বলা হয়। গুলিবিদ্ধ সুমনকে ভাঙা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্য নেওয়া হলে পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার হয়। রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহতের বড় ভাই জিহাদ শেখ। নিহত সুমন শেখ ভাঙা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুরিয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখ-এর ছেলে।
ভাঙা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষ শুরু হলে রাত সাড়ে ৭ দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে যানবাহন চলাচল আবার শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু সাংবাদিকদের বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে, কাপুড়িয়া সদরদী ও হাসামদিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তিনি আরও জানান, নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে বর্তমানে তিনি নিজে ভারী পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।’
টানা ৮ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে রাজারবাগ পুলিশ টেলিকমের ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গতকাল বুধবার (২৪ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিষয়টি জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়, রাজারবাগ পুলিশ টেলিকমের (সংযুক্ত) ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদার গত বছরের ৬ অক্টোবর থেকে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার এমন কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধি অনুসারে যথাক্রমে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’ এর পর্যায়ভুক্ত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ কারণে বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী যে তারিখ থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত সেই তারিখ থেকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।
বিপ্লব বিজয় তালুকদার ২০০১ সালে ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। ২০২৩ সালে তিনি ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।
বরিশাল টাইমস