
২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২০:০৮
মর্যাদার আসন বরিশাল-৫ (সদর) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরের আসন বলে দাবি করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম। তার বক্তব্য, এই আসনের সঙ্গে তাদের পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয় জড়িয়ে আছে। অন্য কেউ এই আসন চাইতে পারবে এমন প্রশ্নই ওঠে না।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বরিশাল-৫ (সিটি করপোরেশন-সদর উপজেলা) আসনে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলালকে দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে একই আসনে ফয়জুল করিম নিজেও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
ফয়জুল করিম বলেন, ‘বরিশাল-৫ আমাদের আমিরের আসন। এখানে আমাদের জন্ম, দাদার জন্ম, বাবার জন্ম। এটি অবশ্যই আমাদের থাকবে। ৮ দলীয় জোটের অন্য শরিকরা এ আসন চাইবে এমন প্রশ্নই আসে না।’
তিনি উল্টো প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমি কি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের আসনটি চাইতে পারি? না, সেটা সম্ভব নয়।’
আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে ফয়জুল করিম বলেন, ‘জামায়াতসহ সমমনা আট দলের মধ্যে আসন ভাগাভাগি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। যে আসনে যে দলের শক্ত অবস্থান রয়েছে, সেই আসন সেই দলকেই দেওয়া হবে। দলভিত্তিক আসন বণ্টনের পর সংশ্লিষ্ট দলই তাদের প্রার্থী নির্বাচন করবে।’
ফয়জুল করিম আরও বলেন, ‘দল চাইলে আমি বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনের যেকোনো একটিতে বা উভয় আসনেই নির্বাচন করতে প্রস্তুত।’
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এখনো সমান সুযোগের মাঠ তৈরি হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে।’
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস ও হুমকির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান ফয়জুল করিম। তার মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কেবল একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি। সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও মহানগর কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়, বরিশাল-৫ আসনে ২০০১ সালের নির্বাচনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ফয়জুল করিম লাঙল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি ১১.৩০ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে হাতপাখা প্রতীকে ভোটে লড়েন ফয়জুল করিম। তিনি ১১.৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে আবারও তৃতীয় হন।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারান ফয়জুল করিম। হাতপাখা প্রতীকে তিনি পান ২৭,০৬২ ভোট। ২০২৩ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ফয়জুল করিম মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ ৮৭,৮০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ফয়জুল করিমের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৩৩,৮২৮।
এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে বরিশাল সদর আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাতে অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল জেলা আমির আবুল হাসানাত মো. নুরুল্লাহ পান ৫,৭০৪ ভোট।
পরে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বরিশাল-৫ আসনে অংশ নেন। তিনি পান ৪,৬৬৭ ভোট। ১৯৯৬ সালের পর এই আসনে আর কোনো নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি জামায়াত।
বরিশাল মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘ইসলামী সমমনা ৮ দলীয় জোটের মধ্যে এখনো আসন বণ্টন চূড়ান্ত হয়নি। এ কারণে বরিশালের ৬টি সংসদীয় আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখনো মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। দলীয় সিদ্ধান্তের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
বরিশাল টাইমস
মর্যাদার আসন বরিশাল-৫ (সদর) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরের আসন বলে দাবি করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম। তার বক্তব্য, এই আসনের সঙ্গে তাদের পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয় জড়িয়ে আছে। অন্য কেউ এই আসন চাইতে পারবে এমন প্রশ্নই ওঠে না।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বরিশাল-৫ (সিটি করপোরেশন-সদর উপজেলা) আসনে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলালকে দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে একই আসনে ফয়জুল করিম নিজেও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
ফয়জুল করিম বলেন, ‘বরিশাল-৫ আমাদের আমিরের আসন। এখানে আমাদের জন্ম, দাদার জন্ম, বাবার জন্ম। এটি অবশ্যই আমাদের থাকবে। ৮ দলীয় জোটের অন্য শরিকরা এ আসন চাইবে এমন প্রশ্নই আসে না।’
তিনি উল্টো প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমি কি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের আসনটি চাইতে পারি? না, সেটা সম্ভব নয়।’
আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে ফয়জুল করিম বলেন, ‘জামায়াতসহ সমমনা আট দলের মধ্যে আসন ভাগাভাগি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। যে আসনে যে দলের শক্ত অবস্থান রয়েছে, সেই আসন সেই দলকেই দেওয়া হবে। দলভিত্তিক আসন বণ্টনের পর সংশ্লিষ্ট দলই তাদের প্রার্থী নির্বাচন করবে।’
ফয়জুল করিম আরও বলেন, ‘দল চাইলে আমি বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনের যেকোনো একটিতে বা উভয় আসনেই নির্বাচন করতে প্রস্তুত।’
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এখনো সমান সুযোগের মাঠ তৈরি হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে।’
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস ও হুমকির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান ফয়জুল করিম। তার মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কেবল একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি। সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও মহানগর কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়, বরিশাল-৫ আসনে ২০০১ সালের নির্বাচনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ফয়জুল করিম লাঙল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি ১১.৩০ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে হাতপাখা প্রতীকে ভোটে লড়েন ফয়জুল করিম। তিনি ১১.৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে আবারও তৃতীয় হন।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারান ফয়জুল করিম। হাতপাখা প্রতীকে তিনি পান ২৭,০৬২ ভোট। ২০২৩ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ফয়জুল করিম মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ ৮৭,৮০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ফয়জুল করিমের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৩৩,৮২৮।
এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে বরিশাল সদর আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাতে অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল জেলা আমির আবুল হাসানাত মো. নুরুল্লাহ পান ৫,৭০৪ ভোট।
পরে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বরিশাল-৫ আসনে অংশ নেন। তিনি পান ৪,৬৬৭ ভোট। ১৯৯৬ সালের পর এই আসনে আর কোনো নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি জামায়াত।
বরিশাল মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘ইসলামী সমমনা ৮ দলীয় জোটের মধ্যে এখনো আসন বণ্টন চূড়ান্ত হয়নি। এ কারণে বরিশালের ৬টি সংসদীয় আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখনো মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। দলীয় সিদ্ধান্তের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
বরিশাল টাইমস

২৫ মার্চ, ২০২৬ ১৬:৪৫
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনে অনিয়ম করায় বরিশালের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক এবং ভোলার দৌলতখান উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা এসএম ইশতিয়াক আহমাদকে যথাক্রমে বেতন বৃদ্ধি স্থগিত ও গ্রেড অবনমনের শাস্তি দিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (২৪ মার্চ) এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বরিশালের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হকের ক্ষেত্রে জারি করা ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের অভিযোগে বরিশালের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ প্রাথমিক যাচাইয়ে সত্য প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’- এর অভিযোগ আনা হয়।
কারণ দর্শানোর জবাব ও ব্যক্তিগত শুনানি শেষে গঠিত তদন্ত বোর্ড অভিযোগ প্রমাণিত বলে প্রতিবেদন দেয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর জবাবে তিনি অনিচ্ছাকৃত ভুলের কথা স্বীকার করেন। নথি পর্যালোচনা শেষে তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে ‘তিরস্কার’ এবং এক বছরের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। বিভাগীয় মামলা নম্বর-১৪/২০২৫ এর মাধ্যমে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
এদিকে দৌলতখান উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা এস এম ইশতিয়াক আহমাদের ক্ষেত্রে জারি করা ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাচন অফিসার এস এম ইশতিয়াক আহমাদের বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত ও জন্ম সনদ থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে তিনি নয়টি এনআইডি সংশোধনের আবেদন অনুমোদন করেন এবং প্রযোজ্য নির্দেশনাও অমান্য করেন।
এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে শুনানি ও তদন্ত শেষে ‘অসদাচরণ’- এর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবসহ সবকিছু পর্যালোচনায় তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে বেতন গ্রেডের নিম্নতর ধাপে অবনমিত করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, তার বর্তমান মূল বেতন ২১ হাজার ৪৭০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিভাগীয় মামলা নম্বর-১৭/২০২৫ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।’
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনে অনিয়ম করায় বরিশালের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হক এবং ভোলার দৌলতখান উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা এসএম ইশতিয়াক আহমাদকে যথাক্রমে বেতন বৃদ্ধি স্থগিত ও গ্রেড অবনমনের শাস্তি দিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (২৪ মার্চ) এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বরিশালের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হকের ক্ষেত্রে জারি করা ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের অভিযোগে বরিশালের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুল হকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ প্রাথমিক যাচাইয়ে সত্য প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’- এর অভিযোগ আনা হয়।
কারণ দর্শানোর জবাব ও ব্যক্তিগত শুনানি শেষে গঠিত তদন্ত বোর্ড অভিযোগ প্রমাণিত বলে প্রতিবেদন দেয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর জবাবে তিনি অনিচ্ছাকৃত ভুলের কথা স্বীকার করেন। নথি পর্যালোচনা শেষে তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে ‘তিরস্কার’ এবং এক বছরের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। বিভাগীয় মামলা নম্বর-১৪/২০২৫ এর মাধ্যমে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
এদিকে দৌলতখান উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা এস এম ইশতিয়াক আহমাদের ক্ষেত্রে জারি করা ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাচন অফিসার এস এম ইশতিয়াক আহমাদের বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত ও জন্ম সনদ থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে তিনি নয়টি এনআইডি সংশোধনের আবেদন অনুমোদন করেন এবং প্রযোজ্য নির্দেশনাও অমান্য করেন।
এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে শুনানি ও তদন্ত শেষে ‘অসদাচরণ’- এর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবসহ সবকিছু পর্যালোচনায় তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে বেতন গ্রেডের নিম্নতর ধাপে অবনমিত করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, তার বর্তমান মূল বেতন ২১ হাজার ৪৭০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিভাগীয় মামলা নম্বর-১৭/২০২৫ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।’

২৩ মার্চ, ২০২৬ ১৮:৩৯
বরিশালের বাবুগঞ্জে মাদক বেচাকেনার সময় হাতেনাতে আটক মাদকব্যবসায়ী এক ইয়াবা বিক্রেতাকে জরিমানসহ ১ বছরের কারাদণ্ড এবং তার মাদকসেবি ক্রেতাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় তাদের হেফাজত থেকে ১৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও বিক্রিত টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামে ওই অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা উল হুসনা। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন লোহালিয়া গ্রামের মাদকব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন মিয়া (৪০) এবং মাদকসেবি জয়নাল আবেদীন (৪২)। দেলোয়ার লোহালিয়া গ্রামে মাদকসম্রাট নামে পরিচিত এবং স্থানীয় শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
জানা যায়, উপজেলার লোহালিয়া গ্রামের একটি বাড়িতে মাদকের আস্তানা বসেছে এবং সেখানে ইয়াবা বেচাকেনা চলছে- গোপন সোর্সের মাধ্যমে এমন খবর পাওয়ার পরে সেখানে তাৎক্ষণিক অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় জয়নালের বাড়িতে বসে মাদকদ্রব্য বেচাকেনাকালে হাতেনাতে আটক হন লোহালিয়া গ্রামের কুখ্যাত মাদকসম্রাট ইয়াবা বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন মিয়া এবং তার মাদকসেবি ক্রেতা জয়নাল আবেদীন। তাদের কাছ থেকে ১৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। এসময় মাদক বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন মিয়াকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা এবং ক্রেতা জয়নাল আবেদীনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালত। রায় কার্যকর করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্তদের বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক আসমা উল হুসনা বলেন, 'সোর্সের মাধ্যমে প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আজ দুপুরে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় লোহালিয়া গ্রামের কুখ্যাত মাদকসম্রাট দেলোয়ার এবং তার ক্রেতা জয়নালকে মাদকসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত আলামত, উপস্থিত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অভিযুক্তদের দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮'এর ৩৬(১) ধারা অনুযায়ী উভয়ে দোষী সাব্যস্ত হয়। এসময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিক্রেতা দেলোয়ারকে ১ বছরের কারাদণ্ড এবং ক্রেতা জয়নালকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়াও তাদের উভয়কেই যথাক্রমে ২ হাজার এবং ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তাই বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এই মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।' #

বরিশালের বাবুগঞ্জে মাদক বেচাকেনার সময় হাতেনাতে আটক মাদকব্যবসায়ী এক ইয়াবা বিক্রেতাকে জরিমানসহ ১ বছরের কারাদণ্ড এবং তার মাদকসেবি ক্রেতাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় তাদের হেফাজত থেকে ১৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও বিক্রিত টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামে ওই অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা উল হুসনা। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন লোহালিয়া গ্রামের মাদকব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন মিয়া (৪০) এবং মাদকসেবি জয়নাল আবেদীন (৪২)। দেলোয়ার লোহালিয়া গ্রামে মাদকসম্রাট নামে পরিচিত এবং স্থানীয় শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
জানা যায়, উপজেলার লোহালিয়া গ্রামের একটি বাড়িতে মাদকের আস্তানা বসেছে এবং সেখানে ইয়াবা বেচাকেনা চলছে- গোপন সোর্সের মাধ্যমে এমন খবর পাওয়ার পরে সেখানে তাৎক্ষণিক অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় জয়নালের বাড়িতে বসে মাদকদ্রব্য বেচাকেনাকালে হাতেনাতে আটক হন লোহালিয়া গ্রামের কুখ্যাত মাদকসম্রাট ইয়াবা বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন মিয়া এবং তার মাদকসেবি ক্রেতা জয়নাল আবেদীন। তাদের কাছ থেকে ১৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। এসময় মাদক বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন মিয়াকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা এবং ক্রেতা জয়নাল আবেদীনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালত। রায় কার্যকর করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্তদের বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক আসমা উল হুসনা বলেন, 'সোর্সের মাধ্যমে প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আজ দুপুরে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় লোহালিয়া গ্রামের কুখ্যাত মাদকসম্রাট দেলোয়ার এবং তার ক্রেতা জয়নালকে মাদকসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত আলামত, উপস্থিত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অভিযুক্তদের দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮'এর ৩৬(১) ধারা অনুযায়ী উভয়ে দোষী সাব্যস্ত হয়। এসময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিক্রেতা দেলোয়ারকে ১ বছরের কারাদণ্ড এবং ক্রেতা জয়নালকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়াও তাদের উভয়কেই যথাক্রমে ২ হাজার এবং ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তাই বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এই মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।' #


২৩ মার্চ, ২০২৬ ১৫:২৩
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের পল্লীতে সালিশ বৈঠকে পুলিশের সমক্ষে জনৈক শ্রমিককে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঈদের পর দিন অর্থাৎ রোববার বিকেলে সালিশ চলাকালে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপ সংঘার্ষে জড়িয়ে পড়ে। এবং পৌরসভার দক্ষিণ চরহোগলায় গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব খোরশেদকে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদার লোকজন নিয়ে এলোপাতাড়ি পিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ এবং বিএনপি নেতাদের সালিশ বৈঠকে বসার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকায় নদীবেষ্টিত মেহেন্দিগঞ্জের এই রোমহর্ষক ঘটনাটি বেশিমাত্রায় আলোচিত হচ্ছে। বিশেষ করে মারামারির বেশকিছু ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। শাসক দল বিএনপি এই বর্বরতার ঘটনায় তাদের দলীয় কর্মী জাহাঙ্গীর হাওলাদারের পদ ইতিমধ্যে কেড়ে নিলেও থানা পুলিশ নিজেদের দায় এড়াতে বিভিন্ন কৌশল নিয়েছে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ট্যানারি শ্রমিক খোরশেদের কাছে আড়াই লাখ টাকা পাবেন দাবি করে রোববার থানায় অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হাওলাদার। সেই অভিযোগের সূত্র ধরে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বিকেলে ঘটনাস্থল ছুটে যান মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই নাজমুল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুলিশ কর্মকর্তা নামজুল উভয়পক্ষের সাথে আলোচনা করে দুই প্রতিবেশি জাহাঙ্গীর এবং খোরশেদকে বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকের ভিডিও ধারণ করছিলেন রাজধানী ঢাকার হাজারীবাগের ট্যানারি শ্রমিক খোরশেদের পক্ষের লোকজন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিএনপি নেতা এবং তার বাহিনী। একপার্যায়ে উভয়গ্রুপ এনিয়ে তুমুল তর্কবিতর্ক থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। অন্তত আধা ঘণ্টার সংঘাত-সংষর্ষে ট্যানারি শ্রমিক খোরশেদের মৃত্যু হলে বিএনপি নেতাসহ ক্যাডার বাহিনী পালিয়ে যায়।
এই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, দুটি গ্রুপের লোকজন চেয়ার এবং লাঠিসোটা নিয়ে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এবং পোশাক পরিহিত ৪/৫ জন পুলিশ সদস্য সংঘাত থামানোতো দূরের কথা, যেনো পুরো বিষয়টি প্রত্যক্ষ করছেন। পুলিশের উপস্থিতিতে বিএনপির নেতা নেতৃত্বে ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষ হত্যার বিষয়টি বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বলছে, সালিশ বৈঠকে অংশ নিতে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনেক আগেই বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন। সেই নির্দেশ উপেক্ষা করেছেন জাহাঙ্গীর হাওলাদার, এই ঘটনায় তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়।
সালিশ বৈঠকে বসার ক্ষেত্রে পুলিশেরও নিষেধাজ্ঞা আছে, ইতিপূর্বে উচ্চআদালত অসংখ্যবার থানাসহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমঝোতা বা আপস-মীমাংসায় অংশ নিতে বারণ করেছেন। এবং এই নির্দেশনা কঠোরভাবে প্রতিপালন করতেও পুলিশের উচ্চমহলকে জানানো হয়। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, পুলিশ আদালতের এই নির্দেশনার কোনো গুরুত্বই দেয় না, বরং থানাগুলোকে এক ধরনের সালিশ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের এই বর্বরতা হয়তো তারই জ¦লন্ত উদাহরণ বা খেসারত।
নিহতের ভাতিজা রাকিব সিকদার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, আমার চাচাকে বিএনপি জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে খুন করা হয়, যা অসংখ্য মানুষ প্রত্যক্ষ করেছেন। কিন্তু কেউ তার জীবন রক্ষার্থে এগিয়ে আসেনি, কারণ বিএনপি নেতার সন্ত্রাসী বাহিনী অত্যন্ত শক্তিশালী এবং পুলিশ তাদের সহযোগিতা করে।
সালিশ বৈঠকে বসা এবং সেখানে খুন এই বিতর্কিত বিষয়ে জানতে মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিউর রহমানকে সোমবার অপরাহ্নে ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তার অফিসিয়াল মোবাইলে রিং হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
তবে ওসি এর আগে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সাথে কথা বলেছেন এবং জানান, ঘটনাটি তদন্ত করাসহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। জেলা পুলিশের একটি সূত্র বলছে, এমনিতেই সালিশেতে পুলিশের অংশগ্রহণে বারণ আছে, তদুপরি সেখানে খুন হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ওসি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের চাপের মুখে আছেন এবং মিডিয়াকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। সেই চেষ্টার অংশ হিসেবে সংবাদকর্মীদের ফোন তুলছেন।
তবে বরিশাল জেলা পুলিশ এজেড এম মোস্তাফিজুর রহমান এ প্রতিবেদককে যা বলছেন, তা স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সাথে অমিল রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, অভিযোগ এবং দু’গ্রুপের মধ্যেকার উত্তেজনার খবর পেয়ে রোববার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। তখন উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু একটি পক্ষ বিকালে ফোন করে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার বিষয়টি অবহিত করে, ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌছানোর আগেই দুটি গ্রুপ সংঘার্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং এতে একজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় সোমবার নামধারী ৫ জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা করা হয়েছে এবং পুলিশ তাদের ধরতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। পরিশেষে এসপি মন্তব্য করেন, পুলিশ সালিশ করেনি এবং করতেও পারে না।
মেহেন্দিগঞ্জ পল্লীর এই আলোচিত ঘটনায় কর্মী জাহাঙ্গীর হাওলাদারকে বিএনপি থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। পৌর বিএনপির সদস্যসচিব রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী (দিনু মিয়া) সাংবাদিকদের বলেন, বিশৃঙ্খলায় জড়িত থাকার অভিযোগে জাহাঙ্গীরের পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের পল্লীতে সালিশ বৈঠকে পুলিশের সমক্ষে জনৈক শ্রমিককে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঈদের পর দিন অর্থাৎ রোববার বিকেলে সালিশ চলাকালে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপ সংঘার্ষে জড়িয়ে পড়ে। এবং পৌরসভার দক্ষিণ চরহোগলায় গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব খোরশেদকে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদার লোকজন নিয়ে এলোপাতাড়ি পিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ এবং বিএনপি নেতাদের সালিশ বৈঠকে বসার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকায় নদীবেষ্টিত মেহেন্দিগঞ্জের এই রোমহর্ষক ঘটনাটি বেশিমাত্রায় আলোচিত হচ্ছে। বিশেষ করে মারামারির বেশকিছু ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। শাসক দল বিএনপি এই বর্বরতার ঘটনায় তাদের দলীয় কর্মী জাহাঙ্গীর হাওলাদারের পদ ইতিমধ্যে কেড়ে নিলেও থানা পুলিশ নিজেদের দায় এড়াতে বিভিন্ন কৌশল নিয়েছে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ট্যানারি শ্রমিক খোরশেদের কাছে আড়াই লাখ টাকা পাবেন দাবি করে রোববার থানায় অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হাওলাদার। সেই অভিযোগের সূত্র ধরে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বিকেলে ঘটনাস্থল ছুটে যান মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই নাজমুল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুলিশ কর্মকর্তা নামজুল উভয়পক্ষের সাথে আলোচনা করে দুই প্রতিবেশি জাহাঙ্গীর এবং খোরশেদকে বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকের ভিডিও ধারণ করছিলেন রাজধানী ঢাকার হাজারীবাগের ট্যানারি শ্রমিক খোরশেদের পক্ষের লোকজন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিএনপি নেতা এবং তার বাহিনী। একপার্যায়ে উভয়গ্রুপ এনিয়ে তুমুল তর্কবিতর্ক থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। অন্তত আধা ঘণ্টার সংঘাত-সংষর্ষে ট্যানারি শ্রমিক খোরশেদের মৃত্যু হলে বিএনপি নেতাসহ ক্যাডার বাহিনী পালিয়ে যায়।
এই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, দুটি গ্রুপের লোকজন চেয়ার এবং লাঠিসোটা নিয়ে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এবং পোশাক পরিহিত ৪/৫ জন পুলিশ সদস্য সংঘাত থামানোতো দূরের কথা, যেনো পুরো বিষয়টি প্রত্যক্ষ করছেন। পুলিশের উপস্থিতিতে বিএনপির নেতা নেতৃত্বে ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষ হত্যার বিষয়টি বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বলছে, সালিশ বৈঠকে অংশ নিতে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনেক আগেই বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন। সেই নির্দেশ উপেক্ষা করেছেন জাহাঙ্গীর হাওলাদার, এই ঘটনায় তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়।
সালিশ বৈঠকে বসার ক্ষেত্রে পুলিশেরও নিষেধাজ্ঞা আছে, ইতিপূর্বে উচ্চআদালত অসংখ্যবার থানাসহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমঝোতা বা আপস-মীমাংসায় অংশ নিতে বারণ করেছেন। এবং এই নির্দেশনা কঠোরভাবে প্রতিপালন করতেও পুলিশের উচ্চমহলকে জানানো হয়। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, পুলিশ আদালতের এই নির্দেশনার কোনো গুরুত্বই দেয় না, বরং থানাগুলোকে এক ধরনের সালিশ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের এই বর্বরতা হয়তো তারই জ¦লন্ত উদাহরণ বা খেসারত।
নিহতের ভাতিজা রাকিব সিকদার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, আমার চাচাকে বিএনপি জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে খুন করা হয়, যা অসংখ্য মানুষ প্রত্যক্ষ করেছেন। কিন্তু কেউ তার জীবন রক্ষার্থে এগিয়ে আসেনি, কারণ বিএনপি নেতার সন্ত্রাসী বাহিনী অত্যন্ত শক্তিশালী এবং পুলিশ তাদের সহযোগিতা করে।
সালিশ বৈঠকে বসা এবং সেখানে খুন এই বিতর্কিত বিষয়ে জানতে মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিউর রহমানকে সোমবার অপরাহ্নে ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তার অফিসিয়াল মোবাইলে রিং হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
তবে ওসি এর আগে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সাথে কথা বলেছেন এবং জানান, ঘটনাটি তদন্ত করাসহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। জেলা পুলিশের একটি সূত্র বলছে, এমনিতেই সালিশেতে পুলিশের অংশগ্রহণে বারণ আছে, তদুপরি সেখানে খুন হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ওসি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের চাপের মুখে আছেন এবং মিডিয়াকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। সেই চেষ্টার অংশ হিসেবে সংবাদকর্মীদের ফোন তুলছেন।
তবে বরিশাল জেলা পুলিশ এজেড এম মোস্তাফিজুর রহমান এ প্রতিবেদককে যা বলছেন, তা স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সাথে অমিল রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, অভিযোগ এবং দু’গ্রুপের মধ্যেকার উত্তেজনার খবর পেয়ে রোববার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। তখন উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু একটি পক্ষ বিকালে ফোন করে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার বিষয়টি অবহিত করে, ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌছানোর আগেই দুটি গ্রুপ সংঘার্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং এতে একজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় সোমবার নামধারী ৫ জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা করা হয়েছে এবং পুলিশ তাদের ধরতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। পরিশেষে এসপি মন্তব্য করেন, পুলিশ সালিশ করেনি এবং করতেও পারে না।
মেহেন্দিগঞ্জ পল্লীর এই আলোচিত ঘটনায় কর্মী জাহাঙ্গীর হাওলাদারকে বিএনপি থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। পৌর বিএনপির সদস্যসচিব রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী (দিনু মিয়া) সাংবাদিকদের বলেন, বিশৃঙ্খলায় জড়িত থাকার অভিযোগে জাহাঙ্গীরের পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৩৪
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১৪:১৪
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১৩:৪২
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১৩:৩৪