রেট চার্ট না টাঙিয়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ, বিআইডব্লিউটিএ’র রহস্যজনক ভূমিকায় পরিবহন মালিক শ্রমিকদের ক্ষোভ।
বরিশালের লাহারহাট ফেরিঘাটে ইজারা উত্তোলনের পাশাপাশি স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছেন। অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি চাঁদপুরা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল খান লোকজন দিয়ে পরিবহন সিরিয়ালের নামে ১০০ করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। প্রতিদিন অন্তত শতাধিক পরিবহন থেকে অবৈধভাবে উত্তেলিত এই ১০ হাজারের বেশি টাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং নিজেদের মধ্যেকার ভাগবাটোয়ারা করছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবহন মালিক শ্রমিকসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ক্ষোভ থাকলেও বিএনপি নেতা সাইফুলের প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস দেখাচ্ছেন না।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ইজারাদার ও বরিশাল বন্দর বিভাগের যোগসাজোসে আওয়ামী লীগের শাসনামলেও এই ধরনের চাঁদাবাজি সদর উপজেলার লাহারহাট ফেরিঘাটে চলছিল। এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে ক্ষমতার পালাবদল হলে পরিবহন মালিক শ্রমিক এবং স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে মুখে পড়েন তৎকালীন ইজারাদার রেজাউল। তখন এনিয়ে তুমুল বিতর্কের একপর্যায়ে সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবৈধভাবে পরিবহন থেকে ১০০ টাকা করে উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। সূত্র জানায়, এরপরে বরিশাল মহানগর ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো. কামরুজ্জামান দীর্ঘ এক বছর ঘাটটি পরিচালনা করলেও তিনি এই অবৈধ টাকা বা অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন বন্ধ রেখেছিলেন।
পরিবহন মালিক শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরে সিরিয়ালের নামে ১০০ টাকা নেওয়া বন্ধ ছিল, এমনকি পরিবহন থেকেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়নি। কিন্তু চলতি বছরের জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে ইজারাদার স্থানীয় বিএনপি নেতা সাইফুল খান এই চাঁদাবাজির রীতি ফের চালু করাসহ প্রতিটি পরিবহন থেকে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করছেন।
বিএনপি নেতার সাথে এই চাঁদাবাজিতে সামিল আছেন সাবেক ইজারাদার রেজাউল ইসলাম। তিনি আওয়ামী পরিবারের সন্তান এবং মূলত সাইফুলকে তিনিই অবৈধপন্থায় অর্থ উপার্জনের পথ বাতলে দেন। তাদের দুজনের নির্দেশনার আলোকে মাঠপর্যায়ে অর্থাৎ ঘাটে চাঁদাবাজিতে নিয়োজিত আছেন আল আমিন, সাইদুল এবং পরশ নামের তিন যুবক।
শুক্রবার সরেজমিনে গেলে খোদ ইজারাদারের এই চাঁদাবাজির বিষয়টি প্রত্যক্ষ করা যায়। এবং ইজারা উত্তোলনে নিয়োজিত রায়হান নামের এক যুবক স্বীকারও করেন প্রতি গাড়ি থেকে ১০০ টাকা হারে নেওয়া হয়, যা আল-আমিন, সাইদুল এবং পরশ তুলে থাকেন। এই সংক্রান্ত একটি গোপন ভিডিও এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
ইজারাদার বিএনপি নেতা সাইফুলের এই চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় একাধিক বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, পরিবহন থেকে ৭৫ টাকা করে ইজারা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা অনেক বেশি নিচ্ছেন, এমনকি কখনও কখনও ১৫০ থেকে ২০০ টাকা টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। যদি কোনো পরিবহন শ্রমিক তাদের প্রত্যাশিত অর্থ না দেন, তখন তাদের গালিগালাজ করাসহ শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। এক মাসের অধিক সময় ধরে লাহারহাট ফেরিঘাট কেন্দ্রিক এই চাঁদাবাজি চললেও সংশ্লিষ্ট বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ তা রোহিতকরণে কোনো ভূমিকা রাখছে না, এমনকি তাদের অবহিত করা হলেও রহস্যজনক কারণে প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
অথচ সরকারি আইন অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএ’র প্রতিটি ঘাটে রেট চার্ট ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বরিশাল বন্দর বিভাগকে দীর্ঘদিনেও এই ধরনের কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এক্ষেত্রে কজন সাবেক ইজারাদারের অভিযোগ হচ্ছে, রেট চার্ট টাঙিয়ে রাখলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি করা সম্ভব নয়। এই কারণে রেট চার্ট না টাঙিয়ে ইজারাদার পরিবহন মালিক শ্রমিকদের জিম্মি করছে, অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এবং দিন বা মাস থেকে ভাগবাটোয়ার অর্থ তাদের কাছেও পৌছে যায়, যাচ্ছে।
পরিবহন থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সিরিয়ালের নামে প্রতি পরিবহন থেকে ১০০ টাকা চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে ইজারাদার বিএনপি নেতা সাইফুল খানকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
এর আগে তার সহযোগী রেজাউলকে ফোন করা হলে তিনি অভিযোগসমূহ মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করলেও কিছুক্ষণ পরে বলেন ঘাট মালিকই তিনি নন। অবশ্য তার কিছুক্ষণ পরেই আবার এই রেজাউল এ প্রতিবেদককে ফোন করে একসাথে চা খাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তিনি এবার নিজেকে ঘাট ইজারাদার পরিচয় দেন। তাহলে প্রথমে অস্বীকার করলেন কেনো প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি তালগোল পাকিয়ে ফেলেন এবং মোবাইল সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ফেরিঘাট ইজারা নিয়ে বিএনপি নেতা সাইফুলের এই চাঁদাবাজি সম্পর্কে মোটেও ওয়াকিবহাল নন বলে জানিয়েছেন বরিশাল বন্দর কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজির ভাগ নেওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করে তিনি বলছেন, আগে এগুলো ছিল, কিন্তু ৫ আগস্টের পরেতো বন্ধ হয়েছে। এখন যেহেতু নতুন করে ইজারাদারের বিরুদ্ধে সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি এবং অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ এসেছে, সেক্ষেত্রে তাদের নোটিস দেওয়া হবে। পাশাপাশি ফেরিঘাটে একটি রেট চার্ট ঝুলিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ১ জুলাই ইজারা কার্যকরের দিন থেকে রেট চার্ট কেনো লাগানো হয়নি প্রশ্ন করা হলেও বন্দর কর্মকর্তা প্রতিত্তোরে বলেন, রোববার অফিস খোলার দিনে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
সূত্রের খবর হচ্ছে, বরিশাল বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন ৭৫টির বেশি ঘাট বা ইজারা পয়েন্ট রয়েছে। কিন্তু একটিতেও রেট চার্ট টাঙানো হয়নি। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অভিযোগ, রেট চার্ট টাঙানো হলে সিরিয়ালের নামে বাণিজ্য এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে- এমন শঙ্কায় ইজারাদার ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা যোগসাজোস করে সবকিছু আড়ালে রাখছেন।’

১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:২১
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এই সরকার ৬ মাসের মধ্যে দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আমরা বলছি, সংকট আছে। সেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করছি। মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস আমরা দেই না। রোববার অপরাহ্ণে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির প্রস্তাবিত ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
শান্ত স্নিগ্ধ কীর্তনখোলা তীর জনপদের রূপ সৌন্দর্যে বিমোহিত মন্ত্রী বলেন, জীবনানন্দ দাশের বরিশালে বেড়াতে এসে মনে হচ্ছে, কবি যেমন বলেছিলেন, মানুষের ব্যথা আমি পেয়ে গেছি পৃথিবীর পথে এসে। তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে পারি, আইনজীবীদের ব্যথা আমি পেয়ে গেছি বরিশাল বারে এসে।
আইনজীবীদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা শুনে আইনমন্ত্রী বলেন, বারের সংস্কারের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং বই কেনার জন্য ৫ লাখ টাকা আপাতত দিলাম। ভবন নির্মাণের জন্য যা যা করা দরকার, তা করা হবে।
তিনি বিএনপি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, এই সরকার ৬ মাসের মধ্যে দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। আমরা বলছি, সংকট আছে। সেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করছি। মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস আমরা দেই না।
ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, পুরো পৃথিবী যখন বিপর্যস্ত, তখন বিশ্বের সব দেশেই তেলের দাম বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি সবার শেষে তেলের দাম বাড়াতে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকে যারা গুপ্ত-সুপ্ত আছে, তারা ফ্যামিলি কার্ডের বিপক্ষে ছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় এসে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। আগামী ৫ বছরে দেশের সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে যাবে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি করার অপরাধে ৬০ লাখের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় এমন ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে, যিনি ২০ বছর আগেই মারা গেছেন।
মতবিনিময় সভায় বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা আইনজীবীদের বিভিন্ন সমস্যা, অবকাঠামোগত সংকট ও দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, সদস্য এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এই সরকার ৬ মাসের মধ্যে দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আমরা বলছি, সংকট আছে। সেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করছি। মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস আমরা দেই না। রোববার অপরাহ্ণে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির প্রস্তাবিত ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
শান্ত স্নিগ্ধ কীর্তনখোলা তীর জনপদের রূপ সৌন্দর্যে বিমোহিত মন্ত্রী বলেন, জীবনানন্দ দাশের বরিশালে বেড়াতে এসে মনে হচ্ছে, কবি যেমন বলেছিলেন, মানুষের ব্যথা আমি পেয়ে গেছি পৃথিবীর পথে এসে। তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে পারি, আইনজীবীদের ব্যথা আমি পেয়ে গেছি বরিশাল বারে এসে।
আইনজীবীদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা শুনে আইনমন্ত্রী বলেন, বারের সংস্কারের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং বই কেনার জন্য ৫ লাখ টাকা আপাতত দিলাম। ভবন নির্মাণের জন্য যা যা করা দরকার, তা করা হবে।
তিনি বিএনপি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, এই সরকার ৬ মাসের মধ্যে দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। আমরা বলছি, সংকট আছে। সেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করছি। মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস আমরা দেই না।
ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, পুরো পৃথিবী যখন বিপর্যস্ত, তখন বিশ্বের সব দেশেই তেলের দাম বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি সবার শেষে তেলের দাম বাড়াতে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকে যারা গুপ্ত-সুপ্ত আছে, তারা ফ্যামিলি কার্ডের বিপক্ষে ছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় এসে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। আগামী ৫ বছরে দেশের সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে যাবে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি করার অপরাধে ৬০ লাখের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় এমন ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে, যিনি ২০ বছর আগেই মারা গেছেন।
মতবিনিময় সভায় বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা আইনজীবীদের বিভিন্ন সমস্যা, অবকাঠামোগত সংকট ও দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, সদস্য এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’

১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:১৩
বরিশালের বানারীপাড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সংযোগ প্রকল্পের বিল পরিশোধকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে একটি হাতে লেখা হিসাবের নথিতে বিভিন্ন সময় টাকা নেওয়ার তথ্য উঠে আসায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারী নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, তিনি স্কাই ভিউ অনলাইন কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে বরিশালে কর্মরত রয়েছেন। তার দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় গত অর্থবছরের বিল সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন মাসে বানারীপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় ৮ লাখ টাকার বিল চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়।
তবে বিল পাওয়ার কয়েক দিন পর বানারীপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম মিঠু ফোন করে অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। নুরে আলম সিদ্দিকীর ভাষ্য, তাকে বলা হয়,এখানে ব্যবসা করতে হলে আমাদের টাকা দিতে হবে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, প্রথমে তিনি ১ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং ৩ লাখ টাকার বেশি অর্থ দাবি করা হয়। ভবিষ্যতে এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।এদিকে, হাতে লেখা একটি নোট বা হিসাবপত্রেও বিভিন্ন সময় অর্থ গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নথিতে ১ হাজার টাকা, ২ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ লেনদেনের উল্লেখ রয়েছে। কোথাও ফি, কোথাও প্রয়োজনীয় খরচের কথা বলে টাকা নেওয়ার হিসাব লেখা আছে। তবে ওই অর্থ কোন খাতে, কার কাছে এবং কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে,তা নথি দেখে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম মিঠু নিয়মিত তার বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে শিক্ষা অফিসে প্রভাব বিস্তার ও দালালির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মনিরুল আলম মিঠুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক।
বরিশালের বানারীপাড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সংযোগ প্রকল্পের বিল পরিশোধকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে একটি হাতে লেখা হিসাবের নথিতে বিভিন্ন সময় টাকা নেওয়ার তথ্য উঠে আসায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারী নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, তিনি স্কাই ভিউ অনলাইন কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে বরিশালে কর্মরত রয়েছেন। তার দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় গত অর্থবছরের বিল সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন মাসে বানারীপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় ৮ লাখ টাকার বিল চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়।
তবে বিল পাওয়ার কয়েক দিন পর বানারীপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম মিঠু ফোন করে অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। নুরে আলম সিদ্দিকীর ভাষ্য, তাকে বলা হয়,এখানে ব্যবসা করতে হলে আমাদের টাকা দিতে হবে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, প্রথমে তিনি ১ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং ৩ লাখ টাকার বেশি অর্থ দাবি করা হয়। ভবিষ্যতে এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।এদিকে, হাতে লেখা একটি নোট বা হিসাবপত্রেও বিভিন্ন সময় অর্থ গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নথিতে ১ হাজার টাকা, ২ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ লেনদেনের উল্লেখ রয়েছে। কোথাও ফি, কোথাও প্রয়োজনীয় খরচের কথা বলে টাকা নেওয়ার হিসাব লেখা আছে। তবে ওই অর্থ কোন খাতে, কার কাছে এবং কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে,তা নথি দেখে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম মিঠু নিয়মিত তার বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে শিক্ষা অফিসে প্রভাব বিস্তার ও দালালির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মনিরুল আলম মিঠুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক।

১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৪৮
ডিজিটাল বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপ দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা ১২টায় বরিশাল শহরের কাশিপুরে ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দে বিভাগীয় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্মাণ হতে যাওয়া আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সে বিশ্বের সবচেয়ে তথ্য সমৃদ্ধ আর্কাইভসহ প্রযুক্তিতে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি সেবা দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার দেশে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির তথ্য কমপ্লেক্স তৈরির কাজ চালাচ্ছে। প্রযুক্তির বিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বাংলাদেশও এগিয়ে যাবে আগামীর পথে। এছাড়াও প্রচলিত অর্থেই উন্নয়ন নয়, আধুনিক জ্ঞাননির্ভর উন্নতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান রাখেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল জলিল প্রমুখ।
ডিজিটাল বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপ দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা ১২টায় বরিশাল শহরের কাশিপুরে ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দে বিভাগীয় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্মাণ হতে যাওয়া আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সে বিশ্বের সবচেয়ে তথ্য সমৃদ্ধ আর্কাইভসহ প্রযুক্তিতে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি সেবা দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার দেশে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির তথ্য কমপ্লেক্স তৈরির কাজ চালাচ্ছে। প্রযুক্তির বিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বাংলাদেশও এগিয়ে যাবে আগামীর পথে। এছাড়াও প্রচলিত অর্থেই উন্নয়ন নয়, আধুনিক জ্ঞাননির্ভর উন্নতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান রাখেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল জলিল প্রমুখ।

১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৪১
রেট চার্ট না টাঙিয়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ, বিআইডব্লিউটিএ’র রহস্যজনক ভূমিকায় পরিবহন মালিক শ্রমিকদের ক্ষোভ।
বরিশালের লাহারহাট ফেরিঘাটে ইজারা উত্তোলনের পাশাপাশি স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছেন। অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি চাঁদপুরা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল খান লোকজন দিয়ে পরিবহন সিরিয়ালের নামে ১০০ করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। প্রতিদিন অন্তত শতাধিক পরিবহন থেকে অবৈধভাবে উত্তেলিত এই ১০ হাজারের বেশি টাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং নিজেদের মধ্যেকার ভাগবাটোয়ারা করছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবহন মালিক শ্রমিকসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ক্ষোভ থাকলেও বিএনপি নেতা সাইফুলের প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস দেখাচ্ছেন না।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ইজারাদার ও বরিশাল বন্দর বিভাগের যোগসাজোসে আওয়ামী লীগের শাসনামলেও এই ধরনের চাঁদাবাজি সদর উপজেলার লাহারহাট ফেরিঘাটে চলছিল। এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে ক্ষমতার পালাবদল হলে পরিবহন মালিক শ্রমিক এবং স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে মুখে পড়েন তৎকালীন ইজারাদার রেজাউল। তখন এনিয়ে তুমুল বিতর্কের একপর্যায়ে সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবৈধভাবে পরিবহন থেকে ১০০ টাকা করে উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। সূত্র জানায়, এরপরে বরিশাল মহানগর ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো. কামরুজ্জামান দীর্ঘ এক বছর ঘাটটি পরিচালনা করলেও তিনি এই অবৈধ টাকা বা অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন বন্ধ রেখেছিলেন।
পরিবহন মালিক শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরে সিরিয়ালের নামে ১০০ টাকা নেওয়া বন্ধ ছিল, এমনকি পরিবহন থেকেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়নি। কিন্তু চলতি বছরের জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে ইজারাদার স্থানীয় বিএনপি নেতা সাইফুল খান এই চাঁদাবাজির রীতি ফের চালু করাসহ প্রতিটি পরিবহন থেকে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করছেন।
বিএনপি নেতার সাথে এই চাঁদাবাজিতে সামিল আছেন সাবেক ইজারাদার রেজাউল ইসলাম। তিনি আওয়ামী পরিবারের সন্তান এবং মূলত সাইফুলকে তিনিই অবৈধপন্থায় অর্থ উপার্জনের পথ বাতলে দেন। তাদের দুজনের নির্দেশনার আলোকে মাঠপর্যায়ে অর্থাৎ ঘাটে চাঁদাবাজিতে নিয়োজিত আছেন আল আমিন, সাইদুল এবং পরশ নামের তিন যুবক।
শুক্রবার সরেজমিনে গেলে খোদ ইজারাদারের এই চাঁদাবাজির বিষয়টি প্রত্যক্ষ করা যায়। এবং ইজারা উত্তোলনে নিয়োজিত রায়হান নামের এক যুবক স্বীকারও করেন প্রতি গাড়ি থেকে ১০০ টাকা হারে নেওয়া হয়, যা আল-আমিন, সাইদুল এবং পরশ তুলে থাকেন। এই সংক্রান্ত একটি গোপন ভিডিও এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
ইজারাদার বিএনপি নেতা সাইফুলের এই চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় একাধিক বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, পরিবহন থেকে ৭৫ টাকা করে ইজারা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা অনেক বেশি নিচ্ছেন, এমনকি কখনও কখনও ১৫০ থেকে ২০০ টাকা টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। যদি কোনো পরিবহন শ্রমিক তাদের প্রত্যাশিত অর্থ না দেন, তখন তাদের গালিগালাজ করাসহ শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। এক মাসের অধিক সময় ধরে লাহারহাট ফেরিঘাট কেন্দ্রিক এই চাঁদাবাজি চললেও সংশ্লিষ্ট বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ তা রোহিতকরণে কোনো ভূমিকা রাখছে না, এমনকি তাদের অবহিত করা হলেও রহস্যজনক কারণে প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
অথচ সরকারি আইন অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএ’র প্রতিটি ঘাটে রেট চার্ট ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বরিশাল বন্দর বিভাগকে দীর্ঘদিনেও এই ধরনের কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এক্ষেত্রে কজন সাবেক ইজারাদারের অভিযোগ হচ্ছে, রেট চার্ট টাঙিয়ে রাখলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি করা সম্ভব নয়। এই কারণে রেট চার্ট না টাঙিয়ে ইজারাদার পরিবহন মালিক শ্রমিকদের জিম্মি করছে, অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এবং দিন বা মাস থেকে ভাগবাটোয়ার অর্থ তাদের কাছেও পৌছে যায়, যাচ্ছে।
পরিবহন থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সিরিয়ালের নামে প্রতি পরিবহন থেকে ১০০ টাকা চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে ইজারাদার বিএনপি নেতা সাইফুল খানকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
এর আগে তার সহযোগী রেজাউলকে ফোন করা হলে তিনি অভিযোগসমূহ মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করলেও কিছুক্ষণ পরে বলেন ঘাট মালিকই তিনি নন। অবশ্য তার কিছুক্ষণ পরেই আবার এই রেজাউল এ প্রতিবেদককে ফোন করে একসাথে চা খাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তিনি এবার নিজেকে ঘাট ইজারাদার পরিচয় দেন। তাহলে প্রথমে অস্বীকার করলেন কেনো প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি তালগোল পাকিয়ে ফেলেন এবং মোবাইল সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ফেরিঘাট ইজারা নিয়ে বিএনপি নেতা সাইফুলের এই চাঁদাবাজি সম্পর্কে মোটেও ওয়াকিবহাল নন বলে জানিয়েছেন বরিশাল বন্দর কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজির ভাগ নেওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করে তিনি বলছেন, আগে এগুলো ছিল, কিন্তু ৫ আগস্টের পরেতো বন্ধ হয়েছে। এখন যেহেতু নতুন করে ইজারাদারের বিরুদ্ধে সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি এবং অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ এসেছে, সেক্ষেত্রে তাদের নোটিস দেওয়া হবে। পাশাপাশি ফেরিঘাটে একটি রেট চার্ট ঝুলিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ১ জুলাই ইজারা কার্যকরের দিন থেকে রেট চার্ট কেনো লাগানো হয়নি প্রশ্ন করা হলেও বন্দর কর্মকর্তা প্রতিত্তোরে বলেন, রোববার অফিস খোলার দিনে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
সূত্রের খবর হচ্ছে, বরিশাল বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন ৭৫টির বেশি ঘাট বা ইজারা পয়েন্ট রয়েছে। কিন্তু একটিতেও রেট চার্ট টাঙানো হয়নি। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অভিযোগ, রেট চার্ট টাঙানো হলে সিরিয়ালের নামে বাণিজ্য এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে- এমন শঙ্কায় ইজারাদার ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা যোগসাজোস করে সবকিছু আড়ালে রাখছেন।’
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:২১
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:১৩
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৪৮
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৩০