বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের ইতিহাস মানেই বিশাল সব জলযানের রাজত্ব। আজকের দিনে আমরা যখন এমভি মানামী, অ্যাডভেঞ্চার বা সুরভী-এর মতো দানবীয় ও আধুনিক লঞ্চ দেখি, তখন প্রবীণ যাত্রী ও নৌ-প্রেমীদের স্মৃতিতে আজও অম্লান হয়ে আছে একটি নাম— ‘সামাদ’। এক সময় এই রুটে ‘সামাদ’ ছিল আভিজাত্য, গতি এবং নির্ভরতার সমার্থক। আধুনিক লঞ্চের ভিড়ে সেই পুরনো দিনের ঐতিহ্যবাহী সামাদ লঞ্চের গল্প আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যায়, আশি এবং নব্বইয়ের দশকে যখন ঢাকা-বরিশাল রুটে আজকের মতো শত শত কেবিন সমৃদ্ধ লঞ্চ ছিল না, তখন সামাদ লঞ্চ ছিল যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। বিশেষ করে এর গঠনশৈলী এবং নদীতে চলার সময় এর রাজকীয় ভঙ্গিমা মানুষকে মুগ্ধ করত। সেই সময় এই লঞ্চটি ছিল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এক প্রকার গর্বের বিষয়। তৎকালীন সময়ে বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য এই লঞ্চের কেবিন পাওয়া ছিল রীতিমতো ভাগ্যের ব্যাপার।
পুরনো লঞ্চগুলোর মধ্যে সামাদ-এর বিশেষত্ব ছিল এর মজবুত কাঠামো এবং কাঠের নিখুঁত কারুকাজ। আজকের লঞ্চগুলোতে স্টিল আর কাঁচের আধিক্য থাকলেও, সামাদ লঞ্চের অন্দরসজ্জায় ছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া। বড় বড় কাঠের জানালা, প্রশস্ত ডেক এবং মাঝ বরাবর চলে যাওয়া গলিগুলো আজও প্রবীণদের নস্টালজিক করে তোলে। লঞ্চটির সার্চলাইট যখন রাতের আঁধারে মেঘনার বুকে আছড়ে পড়ত, তীরের মানুষ বুঝত— ‘সামাদ’ যাচ্ছে।
যাত্রীদের গভীর আবেগ
বরিশাল-ঢাকা রুটের নিয়মিত যাত্রীদের কাছে সামাদ কেবল একটি নৌযান ছিল না, বরং ছিল যাতায়াতের এক নিরাপদ আশ্রয়। লঞ্চের মাস্টার থেকে শুরু করে সারেং ও সুকানিদের সাথে যাত্রীদের গড়ে উঠত এক নিবিড় সম্পর্ক। এই লঞ্চের ডাইনিং বা ক্যান্টিনের রান্নার স্বাদও ছিল লোকমুখে প্রচলিত। নদীর টাটকা ইলিশ আর ঘন ডাল দিয়ে রাতের ডিনার সেরে ডেকের ওপর চাদর বিছিয়ে শুয়ে থাকার যে আনন্দ, তা আজকের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনে অনেক যাত্রীই খুঁজে পান না।
কালের বিবর্তনে প্রস্থান
সময়ের সাথে সাথে নৌ-প্রকৌশল বিদ্যায় এসেছে বিশাল পরিবর্তন। নতুন নতুন স্টিল বডি ও ডাবল ডেকার-ট্রিপল ডেকার লঞ্চের ভিড়ে পুরনো কাঠের অবকাঠামোর লঞ্চগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। নাব্য সংকট, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে এক সময় ঐতিহ্যের সামাদ লঞ্চটি এই রুট থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়। যদিও সামাদ নামধারী বিভিন্ন নৌযান পরবর্তী সময়ে এসেছে, কিন্তু সেই আদি ও অকৃত্রিম ‘সামাদ’ আজও মানুষের স্মৃতির পাতায় এক সোনালী অধ্যায় হয়ে আছে।
সূত্র বলছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় বিমানের গোলার আঘাতে জাহাজটি কীর্তনখোলা নদীতে ডুবে গিয়েছিল। স্বাধীনতার পর বরিশালের এক ব্যবসায়ী নিজ খরচে জাহাজটি উদ্ধার করে কুমিল্লার দাউদকান্দির সাবেক এমপি মুন্সী আবদুল আলীর কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে মুন্সী আবদুল আলী এটিকে একটি আধুনিক যাত্রীবাহী লঞ্চে রূপান্তরিত করেন এবং নিজের বাবার নামানুসারে লঞ্চটির নামকরণ করেন 'এম ভি সামাদ'। অবশ্য ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে বরিশালের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী মোহন মিয়া লঞ্চটি কিনে নেন।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের সেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে কীর্তনখোলা নদীর কাউয়ার চরে লঞ্চটিকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের কারণে বেঁধে রাখা হয়েছিল। প্রবল বাতাস এবং জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে লঞ্চটি মাঝ নদীতে উল্টে গিয়ে সলিল সমাধি ঘটে। পরবর্তীতে একটি স্যালভেজ কোম্পানি লঞ্চটি কেটে পানি থেকে উদ্ধার করে, যার মাধ্যমেই চিরতরে বিলীন হয়ে যায় ইতিহাসের এই কিংবদন্তি।
বর্তমানে বরিশাল-ঢাকা রুটে হয়তো এর চেয়েও দশগুণ বড় ও বিলাসবহুল লঞ্চ চলাচল করে। কিন্তু বরিশালের প্রবীণ মানুষরা যখন আজও স্টিমার ঘাটে দাঁড়ান, তখন তারা সেই পুরনো ভোঁ-র শব্দ আর কাঠের কাঠামোর সামাদ লঞ্চটিকে মিস করেন। এটি কেবল একটি পরিবহন ছিল না, এটি ছিল একটি সময়ের প্রতিনিধি।
নৌপথের আধুনিকায়ন অবশ্যই কাম্য, তবে সামাদের মতো যেসব লঞ্চ এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে, তাদের ইতিহাস সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। বরিশালের নৌ-সংস্কৃতিতে ‘সামাদ’ লঞ্চটি তাই কেবল একটি নাম নয়, বরং এক অবিনাশী ঐতিহ্য হিসেবে চিরকাল বেঁচে থাকবে।’

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:২৯
বৃহস্পতিবারের (০৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যাটা অন্যরকম ছিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ক্যাম্পাসজুড়ে তখন তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, বন্ধুদের আড্ডা আর অপেক্ষা, কখন মঞ্চে উঠবে প্রিয় ব্যান্ড সহজিয়া। গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল আয়োজিত ‘পলাশ কুঁড়ি অভিষেক ৩.০’ অনুষ্ঠানের সেই সন্ধ্যা শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় গান, নাচ, উচ্ছ্বাস আর মানবিকতার এক অনন্য মিলনমেলায়।
মঞ্চে সহজিয়া উঠতেই যেন বদলে যায় পুরো পরিবেশ। একে একে পরিবেশিত হতে থাকে তাদের জনপ্রিয় গান। আর প্রিয় গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতে মেলাতে শ্রোতারা কখন যে দর্শক থেকে অনুষ্ঠানেরই অংশ হয়ে উঠেছেন, তা বোঝার উপায় ছিল না।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় লোক-রক ব্যান্ডের মূল প্রতিষ্ঠাতা, গীতিকার ও ভোকালিস্ট রাজিব আহমেদ রাজুর গান শুরু হতেই উচ্ছ্বাস যেন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসে। রাজু ভাইয়ের কণ্ঠের সঙ্গে কণ্ঠ মেলায় শত শত শিক্ষার্থী। কেউ গাইছেন, কেউ নাচছেন, কেউবা মোবাইলের ক্যামেরায় ধরে রাখছেন স্মরণীয় মুহূর্তগুলো। মনে হচ্ছিল, গানটি শুধু মঞ্চে নয়, সেদিন গাওয়া হচ্ছিল পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদয় থেকে।
এরপর আসে ‘বোকা পাখি’, ‘ছোট্ট পাখি’ ও ‘অপেক্ষা’সহ আরও কয়েকটি জনপ্রিয় গান। প্রতিটি গানের সঙ্গে শ্রোতাদের উচ্ছ্বাস যেন আরও বাড়তে থাকে। পরিচিত সুর আর কথাগুলো ক্যাম্পাসের বাতাসে মিশে তৈরি করে এক আবেগঘন পরিবেশ।
তবে সন্ধ্যাটি শুধু আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সহজিয়ার পক্ষ থেকে একটি গান উৎসর্গ করা হয় ফিলিস্তিনের শিশুদের প্রতি। যুদ্ধের নির্মমতায় যেসব শিশু হারিয়েছে শৈশব, নিরাপত্তা আর স্বাভাবিক জীবনের অধিকার, তাদের স্মরণে গাওয়া সেই গান আনন্দের সন্ধ্যায় এনে দেয় এক গভীর মানবিক অনুভূতি।
একদিকে হাজারো তরুণের কণ্ঠে গান, অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের প্রতি সংহতির বার্তা, সন্ধ্যাটি তাই হয়ে ওঠে একই সঙ্গে আনন্দের এবং অনুভূতির।
সংগীতের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো এখানেই, এটি মানুষকে একত্র করে। ভাষা, মত কিংবা পরিচয়ের সীমারেখা পেরিয়ে কয়েকটি সুর মানুষকে একই অনুভূতিতে যুক্ত করতে পারে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সন্ধ্যায় সহজিয়া ঠিক সেটিই যেন করে দেখাল।
রাত বাড়ল। মঞ্চের আলো নিভল। ধীরে ধীরে অনুষ্ঠান শেষ হলো। কিন্তু সহজিয়ার সুর তখনও যেন ভেসে বেড়াচ্ছিল ক্যাম্পাসের পথে-প্রান্তরে। শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি, মনে গানের রেশ আর স্মৃতিতে জমে রইল একটি অসাধারণ সন্ধ্যা।
‘পলাশ কুঁড়ি অভিষেক ৩.০’, শুধু একটি আয়োজন নয়; বরং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তারুণ্য, সংগীত, বন্ধুত্ব, সংস্কৃতি ও মানবিকতার এক স্মরণীয় সন্ধ্যার নাম। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত নানা পরিবেশনা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক আবহে মুখর হয়ে ওঠে কীর্তনখোলা নদীর তীরের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
এর আগে বিকেল নাগাদ শুরু হয় গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘পলাশ কুঁড়ি অভিষেক ৩.০’। নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা ও উদ্বোধনী গণসংগীত ‘মুক্তিরও মন্দিরও সোপানতলে’র মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। এরপর হাসিবুর রহমানের কণ্ঠে বিদ্রোহী কবিতা এবং ফারিয়া রহমানের আবৃত্তিতে ‘সৃষ্টির মানুষ’ পরিবেশিত হয়।
পরে আনুষ্ঠানিকভাবে আয়োজনের উদ্বোধন করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক আহ্বায়ক সুজয় শুভ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখভাগে যখন বিকেলের আয়োজন জমে উঠেছে, তখনই হঠাৎ বৃষ্টি এসে ছন্দপতন ঘটায়। তবে বৃষ্টি দমাতে পারেনি তরুণদের। উপায়ান্ত না দেখে আয়োজক ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত মঞ্চ সরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারের মেঝেতে নতুন করে মঞ্চ তৈরির উদ্যোগ নেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বদলে যায় আয়োজনের স্থান।
মঞ্চ সরানোর সেই কাজে শুধু আয়োজক বা শিক্ষার্থীরাই নন, সাংবাদিক মানজুর আল মতিনকেও হাত লাগাতে দেখা যায়। তারুণ্যের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনকে ভিন্ন এক মাত্রা দেয়।
নতুন মঞ্চে আয়োজন শুরুর পর সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন লেখক ও গবেষক মাহাতাব উদ্দিন, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকার এবং আইনজীবী ও সাংবাদিক মানজুর আল মতিন। তাদের আলোচনায় উঠে আসে তরুণ প্রজন্ম, সমাজ, সংস্কৃতি ও সমকালীন নানা প্রসঙ্গ।
আলোচনা শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। কল্পনা চাকমার কণ্ঠে কোরাস গান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোরাস আবৃত্তি আসর দর্শকদের মধ্যে তৈরি করে অন্যরকম আবহ। শাকিরা বিনতে সাঈদের পরিবেশনা ‘ও যে মানে না মানা’ও ছিল প্রশংসনীয়।
তবে সন্ধ্যার অন্যতম প্রশান্তিময় মুহূর্ত হয়ে ওঠে হনুফা আহমেদের কণ্ঠে ‘জাত গেল বলে’ গানটি। তার পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় গভীর মনোযোগ ও মুগ্ধতা।
এরপর একে একে মঞ্চে আসেন অরূপ শিকদার, পূর্ণা বচনিকা, অর্জিত ও প্রিয়রত্না। তাদের গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। জারিনের কণ্ঠে ‘প্রিয় যাই যাই বলো না’ এবং শ্রেয়ার রবীন্দ্রসংগীতেও মুগ্ধ হন দর্শকরা।
গালিবের ‘হার কালা করলা রে...’ গানটিও ছিল বেশ উপভোগ্য। শাওনও নিজের পরিবেশনায় দর্শকদের জন্য উপহার দেন একটি চমৎকার গান।
আয়োজনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ ছিল আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নৃত্য পরিবেশনা। তাদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের ছন্দে কীর্তনখোলা নদীতীরের বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন আরও বর্ণিল হয়ে ওঠে। বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির এই উপস্থাপন পুরো আয়োজনের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দেয়।
সবশেষে মঞ্চ মাতাতে আসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড ‘রিটেক’। তাদের পরিবেশনার পর অপেক্ষা ছিল ‘সহজিয়া’র জন্য। জনপ্রিয় এই ব্যান্ড মঞ্চে আসার আগেই রিটেকের পরিবেশনায় উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। পরে সহজিয়ার সুরে রাত আরও গভীর হয়, আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে পুরো প্রাঙ্গণে।
পুরো আয়োজনের সঞ্চালনায় ছিলেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের উদীয়মান নেতৃত্ব ভূমিকা সরকার। তার সাবলীল উপস্থাপনায় বিকেল থেকে রাতের পুরো অনুষ্ঠান এগিয়ে যায় প্রাণবন্ত গতিতে।
বৃষ্টির বাধা, মঞ্চ বদলের তাড়াহুড়ো, স্বেচ্ছাশ্রম, আলোচনা, আবৃত্তি, গান, নৃত্য আর ব্যান্ডের সুর, সবকিছু মিলিয়ে ‘পলাশ কুঁড়ি অভিষেক ৩.০’ শেষ পর্যন্ত কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকেনি। এটি হয়ে উঠেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের নিজেদের মতো করে সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও সৃজনশীলতাকে উদ্যাপনের এক অনন্য আয়োজন।
কীর্তনখোলার বাতাসে যখন শেষ রাতের সুর মিলিয়ে যাচ্ছিল, তখনও যেন থেকে যাচ্ছিল একটি বার্তা—তারুণ্য শুধু উচ্ছ্বাসের নাম নয়; প্রয়োজনের মুহূর্তে একসঙ্গে দাঁড়ানোর, সংস্কৃতিকে ধারণ করার এবং মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখারও নাম তারুণ্য।
হাসিবুল ইসলাম, সংবাদকর্মী ও কলাম লেখক।
বৃহস্পতিবারের (০৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যাটা অন্যরকম ছিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ক্যাম্পাসজুড়ে তখন তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, বন্ধুদের আড্ডা আর অপেক্ষা, কখন মঞ্চে উঠবে প্রিয় ব্যান্ড সহজিয়া। গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল আয়োজিত ‘পলাশ কুঁড়ি অভিষেক ৩.০’ অনুষ্ঠানের সেই সন্ধ্যা শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় গান, নাচ, উচ্ছ্বাস আর মানবিকতার এক অনন্য মিলনমেলায়।
মঞ্চে সহজিয়া উঠতেই যেন বদলে যায় পুরো পরিবেশ। একে একে পরিবেশিত হতে থাকে তাদের জনপ্রিয় গান। আর প্রিয় গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতে মেলাতে শ্রোতারা কখন যে দর্শক থেকে অনুষ্ঠানেরই অংশ হয়ে উঠেছেন, তা বোঝার উপায় ছিল না।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় লোক-রক ব্যান্ডের মূল প্রতিষ্ঠাতা, গীতিকার ও ভোকালিস্ট রাজিব আহমেদ রাজুর গান শুরু হতেই উচ্ছ্বাস যেন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসে। রাজু ভাইয়ের কণ্ঠের সঙ্গে কণ্ঠ মেলায় শত শত শিক্ষার্থী। কেউ গাইছেন, কেউ নাচছেন, কেউবা মোবাইলের ক্যামেরায় ধরে রাখছেন স্মরণীয় মুহূর্তগুলো। মনে হচ্ছিল, গানটি শুধু মঞ্চে নয়, সেদিন গাওয়া হচ্ছিল পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদয় থেকে।
এরপর আসে ‘বোকা পাখি’, ‘ছোট্ট পাখি’ ও ‘অপেক্ষা’সহ আরও কয়েকটি জনপ্রিয় গান। প্রতিটি গানের সঙ্গে শ্রোতাদের উচ্ছ্বাস যেন আরও বাড়তে থাকে। পরিচিত সুর আর কথাগুলো ক্যাম্পাসের বাতাসে মিশে তৈরি করে এক আবেগঘন পরিবেশ।
তবে সন্ধ্যাটি শুধু আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সহজিয়ার পক্ষ থেকে একটি গান উৎসর্গ করা হয় ফিলিস্তিনের শিশুদের প্রতি। যুদ্ধের নির্মমতায় যেসব শিশু হারিয়েছে শৈশব, নিরাপত্তা আর স্বাভাবিক জীবনের অধিকার, তাদের স্মরণে গাওয়া সেই গান আনন্দের সন্ধ্যায় এনে দেয় এক গভীর মানবিক অনুভূতি।
একদিকে হাজারো তরুণের কণ্ঠে গান, অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের প্রতি সংহতির বার্তা, সন্ধ্যাটি তাই হয়ে ওঠে একই সঙ্গে আনন্দের এবং অনুভূতির।
সংগীতের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো এখানেই, এটি মানুষকে একত্র করে। ভাষা, মত কিংবা পরিচয়ের সীমারেখা পেরিয়ে কয়েকটি সুর মানুষকে একই অনুভূতিতে যুক্ত করতে পারে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সন্ধ্যায় সহজিয়া ঠিক সেটিই যেন করে দেখাল।
রাত বাড়ল। মঞ্চের আলো নিভল। ধীরে ধীরে অনুষ্ঠান শেষ হলো। কিন্তু সহজিয়ার সুর তখনও যেন ভেসে বেড়াচ্ছিল ক্যাম্পাসের পথে-প্রান্তরে। শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি, মনে গানের রেশ আর স্মৃতিতে জমে রইল একটি অসাধারণ সন্ধ্যা।
‘পলাশ কুঁড়ি অভিষেক ৩.০’, শুধু একটি আয়োজন নয়; বরং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তারুণ্য, সংগীত, বন্ধুত্ব, সংস্কৃতি ও মানবিকতার এক স্মরণীয় সন্ধ্যার নাম। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত নানা পরিবেশনা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক আবহে মুখর হয়ে ওঠে কীর্তনখোলা নদীর তীরের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
এর আগে বিকেল নাগাদ শুরু হয় গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘পলাশ কুঁড়ি অভিষেক ৩.০’। নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা ও উদ্বোধনী গণসংগীত ‘মুক্তিরও মন্দিরও সোপানতলে’র মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। এরপর হাসিবুর রহমানের কণ্ঠে বিদ্রোহী কবিতা এবং ফারিয়া রহমানের আবৃত্তিতে ‘সৃষ্টির মানুষ’ পরিবেশিত হয়।
পরে আনুষ্ঠানিকভাবে আয়োজনের উদ্বোধন করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক আহ্বায়ক সুজয় শুভ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখভাগে যখন বিকেলের আয়োজন জমে উঠেছে, তখনই হঠাৎ বৃষ্টি এসে ছন্দপতন ঘটায়। তবে বৃষ্টি দমাতে পারেনি তরুণদের। উপায়ান্ত না দেখে আয়োজক ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত মঞ্চ সরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারের মেঝেতে নতুন করে মঞ্চ তৈরির উদ্যোগ নেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বদলে যায় আয়োজনের স্থান।
মঞ্চ সরানোর সেই কাজে শুধু আয়োজক বা শিক্ষার্থীরাই নন, সাংবাদিক মানজুর আল মতিনকেও হাত লাগাতে দেখা যায়। তারুণ্যের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনকে ভিন্ন এক মাত্রা দেয়।
নতুন মঞ্চে আয়োজন শুরুর পর সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন লেখক ও গবেষক মাহাতাব উদ্দিন, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকার এবং আইনজীবী ও সাংবাদিক মানজুর আল মতিন। তাদের আলোচনায় উঠে আসে তরুণ প্রজন্ম, সমাজ, সংস্কৃতি ও সমকালীন নানা প্রসঙ্গ।
আলোচনা শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। কল্পনা চাকমার কণ্ঠে কোরাস গান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোরাস আবৃত্তি আসর দর্শকদের মধ্যে তৈরি করে অন্যরকম আবহ। শাকিরা বিনতে সাঈদের পরিবেশনা ‘ও যে মানে না মানা’ও ছিল প্রশংসনীয়।
তবে সন্ধ্যার অন্যতম প্রশান্তিময় মুহূর্ত হয়ে ওঠে হনুফা আহমেদের কণ্ঠে ‘জাত গেল বলে’ গানটি। তার পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় গভীর মনোযোগ ও মুগ্ধতা।
এরপর একে একে মঞ্চে আসেন অরূপ শিকদার, পূর্ণা বচনিকা, অর্জিত ও প্রিয়রত্না। তাদের গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। জারিনের কণ্ঠে ‘প্রিয় যাই যাই বলো না’ এবং শ্রেয়ার রবীন্দ্রসংগীতেও মুগ্ধ হন দর্শকরা।
গালিবের ‘হার কালা করলা রে...’ গানটিও ছিল বেশ উপভোগ্য। শাওনও নিজের পরিবেশনায় দর্শকদের জন্য উপহার দেন একটি চমৎকার গান।
আয়োজনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ ছিল আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নৃত্য পরিবেশনা। তাদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের ছন্দে কীর্তনখোলা নদীতীরের বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন আরও বর্ণিল হয়ে ওঠে। বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির এই উপস্থাপন পুরো আয়োজনের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দেয়।
সবশেষে মঞ্চ মাতাতে আসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড ‘রিটেক’। তাদের পরিবেশনার পর অপেক্ষা ছিল ‘সহজিয়া’র জন্য। জনপ্রিয় এই ব্যান্ড মঞ্চে আসার আগেই রিটেকের পরিবেশনায় উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। পরে সহজিয়ার সুরে রাত আরও গভীর হয়, আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে পুরো প্রাঙ্গণে।
পুরো আয়োজনের সঞ্চালনায় ছিলেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের উদীয়মান নেতৃত্ব ভূমিকা সরকার। তার সাবলীল উপস্থাপনায় বিকেল থেকে রাতের পুরো অনুষ্ঠান এগিয়ে যায় প্রাণবন্ত গতিতে।
বৃষ্টির বাধা, মঞ্চ বদলের তাড়াহুড়ো, স্বেচ্ছাশ্রম, আলোচনা, আবৃত্তি, গান, নৃত্য আর ব্যান্ডের সুর, সবকিছু মিলিয়ে ‘পলাশ কুঁড়ি অভিষেক ৩.০’ শেষ পর্যন্ত কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকেনি। এটি হয়ে উঠেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের নিজেদের মতো করে সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও সৃজনশীলতাকে উদ্যাপনের এক অনন্য আয়োজন।
কীর্তনখোলার বাতাসে যখন শেষ রাতের সুর মিলিয়ে যাচ্ছিল, তখনও যেন থেকে যাচ্ছিল একটি বার্তা—তারুণ্য শুধু উচ্ছ্বাসের নাম নয়; প্রয়োজনের মুহূর্তে একসঙ্গে দাঁড়ানোর, সংস্কৃতিকে ধারণ করার এবং মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখারও নাম তারুণ্য।
হাসিবুল ইসলাম, সংবাদকর্মী ও কলাম লেখক।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০৮
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাসহ ১৯২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক বৃহস্পতিবার ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করছে শিক্ষার্থীরা। শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে অত্যাধুনিক ডাস্টবিন। উপজেলার অর্ধশতাধিক হাট-বাজার এবং স্টেশনেও নিয়মিত চলছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কের পাশে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করে লাগানো হচ্ছে কৃষ্ণচূড়া, কাঠগোলাপ, কামিনী, বাগানবিলাস, আমলকি, নারিকেল কিংবা জামের মতো বাহারি সব ফলদ আর সৌন্দর্যবর্ধনের গাছ। বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এমন ব্যতিক্রমী কর্মযজ্ঞ দেখে যারপরনাই আপ্লুত হয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পরিদর্শনে এসে বদলে যাওয়া এক নতুন বাবুগঞ্জের যাত্রা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে নিজ হাতে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারাও রোপন করেছেন তিনি। একইসাথে সেখানে একটি কাঠগোলাপের চারা রোপণ করেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার। বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রধান সড়কের রহমতপুর থেকে খানপুরা পর্যন্ত রাস্তার পাশে প্রায় দেড় কিলোমিটার জায়গায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করার পরে সেখানে বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে এর শুভ উদ্বোধন করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোশাহিদুল্লাহ। রহমতপুর-মীরগঞ্জ সড়কে ওই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন কালে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও আসমা উল হুসনা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না, বরিশাল বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার রায়, বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুহাম্মদ আব্দুর রউফ, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সন্ন্যামত, শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন ডলি, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন জোবায়েদা আক্তার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল হোসেন, রহমতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সুমন সিকদার, বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি আরিফ আহমেদ মুন্না, সম্পাদক রোকন মিয়া, বিডি ক্লিনের বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী জায়েদ ইরফান, সহ-সমন্বয়কারী আরিফ হোসেন, মাঠের খবরের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ মামুন প্রমুখ। এসময় বিডি ক্লিনের একটি পেশাদার টিম ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাবুগঞ্জে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের উদ্যোক্তা বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনার অনুরোধে সাড়া দিয়ে এসময় 'গ্রীণ বাবুগঞ্জ' কর্মসূচিতে ১ হাজার বনজ ও ফলদ গাছের চারা উপহার দেয় পূবালী ব্যাংক পিএলসির বাবুগঞ্জ শাখা। এরআগে ইউএনওর আহবানে 'ক্লিন বাবুগঞ্জ' কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে উপজেলার শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অত্যাধুনিক ডাস্টবিন উপহার দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স। গত ২৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বহনযোগ্য চাকা ও ঢাকনাযুক্ত আধুনিক ওই ডাস্টবিনগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের হাতে তুলে দেন ইউএনও আসমা উল হুসনা।
এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রহমতপুর-মীরগঞ্জ সড়কে ওই বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত সুধীজনদের সাথে এক মতবিনিময় সভা করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ। এসময় তিনি বলেন, 'পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। ইউএনও আসমা উল হুসনা বাবুগঞ্জ উপজেলায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন সেগুলো নিঃসন্দেহে অনন্য এবং অনুকরণীয়। ইতোমধ্যে বরিশালের অধিকাংশ উপজেলায় বাবুগঞ্জকে অনুসরণ করে কাজ শুরু করেছে। ভালো কাজে প্রতিযোগিতা থাকলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়। আমি সবাইকে বলেছি শুধু গাছ লাগালেই হবে না। পরিকল্পিতভাবে লাগাতে হবে এবং সেগুলো পরিচর্যা করতে হবে। হিজল, তমাল, বকুল, জারুলসহ অনেক গাছ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। সেগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে। এর পাশাপাশি মানুষ এবং পাখির খাবারের জন্য বেশি বেশি ফলের গাছ লাগাতে হবে। ফুলের গাছ লাগাতে হবে। বেশি অক্সিজেন দেয় এমন গাছ নির্বাচন করতে হবে। ইউক্যালিপটাস বা আকাশমণি গাছগুলো আগে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো হলেও পরিবেশের জন্য এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। তাই এসব গাছ পরিহার করে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পরিকল্পিতভাবে ফলদ ও বনজ গাছের চারা লাগাতে হবে।'
উল্লেখ্য বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা নেতৃত্বে প্রায় ২ মাস আগে থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার, বৃক্ষরোপণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনকে সাথে নিয়ে নাগরিক সংগঠন সুজন-এর সহায়তায় একটি সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। 'বাবুগঞ্জ ক্লিন' শীর্ষক ওই কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলার ১৯২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করাসহ উপজেলার শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহনযোগ্য এবং অটোমেটিক ঢাকনাযুক্ত আধুনিক ডাস্টবিন প্রদান করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উপজেলার সকল হাট-বাজার এবং স্টেশনে নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলার জন্য স্থায়ী ডাস্টবিন স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন খালগুলো ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানা মুক্ত করে পানি প্রবাহ সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে স্বেচ্ছাসেবী ও সুনাগরিকসহ উপজেলার সকল শ্রেণিপেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করেছেন ইউএনও আসমা উল হুসনা। #
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাসহ ১৯২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক বৃহস্পতিবার ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করছে শিক্ষার্থীরা। শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে অত্যাধুনিক ডাস্টবিন। উপজেলার অর্ধশতাধিক হাট-বাজার এবং স্টেশনেও নিয়মিত চলছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কের পাশে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করে লাগানো হচ্ছে কৃষ্ণচূড়া, কাঠগোলাপ, কামিনী, বাগানবিলাস, আমলকি, নারিকেল কিংবা জামের মতো বাহারি সব ফলদ আর সৌন্দর্যবর্ধনের গাছ। বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এমন ব্যতিক্রমী কর্মযজ্ঞ দেখে যারপরনাই আপ্লুত হয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পরিদর্শনে এসে বদলে যাওয়া এক নতুন বাবুগঞ্জের যাত্রা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে নিজ হাতে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারাও রোপন করেছেন তিনি। একইসাথে সেখানে একটি কাঠগোলাপের চারা রোপণ করেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার। বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রধান সড়কের রহমতপুর থেকে খানপুরা পর্যন্ত রাস্তার পাশে প্রায় দেড় কিলোমিটার জায়গায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করার পরে সেখানে বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে এর শুভ উদ্বোধন করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসির উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোশাহিদুল্লাহ। রহমতপুর-মীরগঞ্জ সড়কে ওই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন কালে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও আসমা উল হুসনা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না, বরিশাল বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার রায়, বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুহাম্মদ আব্দুর রউফ, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সন্ন্যামত, শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন ডলি, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন জোবায়েদা আক্তার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল হোসেন, রহমতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সুমন সিকদার, বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি আরিফ আহমেদ মুন্না, সম্পাদক রোকন মিয়া, বিডি ক্লিনের বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী জায়েদ ইরফান, সহ-সমন্বয়কারী আরিফ হোসেন, মাঠের খবরের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ মামুন প্রমুখ। এসময় বিডি ক্লিনের একটি পেশাদার টিম ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাবুগঞ্জে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের উদ্যোক্তা বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনার অনুরোধে সাড়া দিয়ে এসময় 'গ্রীণ বাবুগঞ্জ' কর্মসূচিতে ১ হাজার বনজ ও ফলদ গাছের চারা উপহার দেয় পূবালী ব্যাংক পিএলসির বাবুগঞ্জ শাখা। এরআগে ইউএনওর আহবানে 'ক্লিন বাবুগঞ্জ' কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে উপজেলার শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অত্যাধুনিক ডাস্টবিন উপহার দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স। গত ২৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বহনযোগ্য চাকা ও ঢাকনাযুক্ত আধুনিক ওই ডাস্টবিনগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের হাতে তুলে দেন ইউএনও আসমা উল হুসনা।
এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রহমতপুর-মীরগঞ্জ সড়কে ওই বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত সুধীজনদের সাথে এক মতবিনিময় সভা করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ। এসময় তিনি বলেন, 'পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। ইউএনও আসমা উল হুসনা বাবুগঞ্জ উপজেলায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন সেগুলো নিঃসন্দেহে অনন্য এবং অনুকরণীয়। ইতোমধ্যে বরিশালের অধিকাংশ উপজেলায় বাবুগঞ্জকে অনুসরণ করে কাজ শুরু করেছে। ভালো কাজে প্রতিযোগিতা থাকলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়। আমি সবাইকে বলেছি শুধু গাছ লাগালেই হবে না। পরিকল্পিতভাবে লাগাতে হবে এবং সেগুলো পরিচর্যা করতে হবে। হিজল, তমাল, বকুল, জারুলসহ অনেক গাছ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। সেগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে। এর পাশাপাশি মানুষ এবং পাখির খাবারের জন্য বেশি বেশি ফলের গাছ লাগাতে হবে। ফুলের গাছ লাগাতে হবে। বেশি অক্সিজেন দেয় এমন গাছ নির্বাচন করতে হবে। ইউক্যালিপটাস বা আকাশমণি গাছগুলো আগে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো হলেও পরিবেশের জন্য এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। তাই এসব গাছ পরিহার করে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পরিকল্পিতভাবে ফলদ ও বনজ গাছের চারা লাগাতে হবে।'
উল্লেখ্য বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা নেতৃত্বে প্রায় ২ মাস আগে থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার, বৃক্ষরোপণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনকে সাথে নিয়ে নাগরিক সংগঠন সুজন-এর সহায়তায় একটি সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। 'বাবুগঞ্জ ক্লিন' শীর্ষক ওই কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলার ১৯২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করাসহ উপজেলার শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহনযোগ্য এবং অটোমেটিক ঢাকনাযুক্ত আধুনিক ডাস্টবিন প্রদান করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উপজেলার সকল হাট-বাজার এবং স্টেশনে নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলার জন্য স্থায়ী ডাস্টবিন স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন খালগুলো ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানা মুক্ত করে পানি প্রবাহ সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে স্বেচ্ছাসেবী ও সুনাগরিকসহ উপজেলার সকল শ্রেণিপেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করেছেন ইউএনও আসমা উল হুসনা। #

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২২
এবার অতি শক্তিশালী নিনোর প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, পৃথিবী প্রবেশ করেছে ‘চরম আবহাওয়ার বিপজ্জনক অঞ্চলে’। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবারের এল নিনো গত ৭০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে। এর প্রভাব অন্তত ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) সর্বশেষ তথ্য বলছে, প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ওপরে ছিল। কোনো কোনো মাসে তা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি হতে পারে। এমনটা হলে ১৯৫০ সালের পর এটিই হতে পারে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “আমাদের চোখের সামনেই এল নিনো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।” তার ভাষায়, পৃথিবী এখন এমন এক অজানা পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে, যেখানে তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়া প্রবণতা, যা প্রশান্ত মহাসাগরে বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর প্রভাবে বিশ্বের কোথাও খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়তে পারে, আবার কোথাও দেখা দিতে পারে অতিবৃষ্টি, বন্যা ও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। এর সঙ্গে মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে চলমান বৈশ্বিক উষ্ণায়ন যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো সতর্ক করে বলেছেন, এল নিনো বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও অর্থনীতির ওপর ব্যাপক আঘাত হানতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়বে। ইতোমধ্যে কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় পানামা খালে জাহাজ চলাচল ১০ শতাংশেরও বেশি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় চলতি শুষ্ক মৌসুমে ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমি দাবানলে পুড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দেশটি ক্লাউড সিডিংয়ের জন্য বিমান মোতায়েন করছে।
অন্যদিকে, চীন চলতি বছর সাতটি টাইফুনের আঘাতের আশঙ্কা করছে। আগস্টে টাইফুন ডলফিনের আঘাতে ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় আবার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর প্রভাব শুধু আবহাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর সঙ্গে খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্য, জীবিকা ও অর্থনীতির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। তাই সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা, চিকিৎসা সহায়তা ও জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করছে বিভিন্ন দেশ।
সূত্র: বিবিসি
এবার অতি শক্তিশালী নিনোর প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, পৃথিবী প্রবেশ করেছে ‘চরম আবহাওয়ার বিপজ্জনক অঞ্চলে’। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবারের এল নিনো গত ৭০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে। এর প্রভাব অন্তত ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) সর্বশেষ তথ্য বলছে, প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ওপরে ছিল। কোনো কোনো মাসে তা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি হতে পারে। এমনটা হলে ১৯৫০ সালের পর এটিই হতে পারে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “আমাদের চোখের সামনেই এল নিনো ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।” তার ভাষায়, পৃথিবী এখন এমন এক অজানা পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে, যেখানে তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়া প্রবণতা, যা প্রশান্ত মহাসাগরে বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর প্রভাবে বিশ্বের কোথাও খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়তে পারে, আবার কোথাও দেখা দিতে পারে অতিবৃষ্টি, বন্যা ও শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। এর সঙ্গে মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে চলমান বৈশ্বিক উষ্ণায়ন যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো সতর্ক করে বলেছেন, এল নিনো বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও অর্থনীতির ওপর ব্যাপক আঘাত হানতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়বে। ইতোমধ্যে কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় পানামা খালে জাহাজ চলাচল ১০ শতাংশেরও বেশি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় চলতি শুষ্ক মৌসুমে ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমি দাবানলে পুড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দেশটি ক্লাউড সিডিংয়ের জন্য বিমান মোতায়েন করছে।
অন্যদিকে, চীন চলতি বছর সাতটি টাইফুনের আঘাতের আশঙ্কা করছে। আগস্টে টাইফুন ডলফিনের আঘাতে ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় আবার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর প্রভাব শুধু আবহাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর সঙ্গে খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্য, জীবিকা ও অর্থনীতির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। তাই সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা, চিকিৎসা সহায়তা ও জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করছে বিভিন্ন দেশ।
সূত্র: বিবিসি

০৬ মে, ২০২৬ ০৩:১৫
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের ইতিহাস মানেই বিশাল সব জলযানের রাজত্ব। আজকের দিনে আমরা যখন এমভি মানামী, অ্যাডভেঞ্চার বা সুরভী-এর মতো দানবীয় ও আধুনিক লঞ্চ দেখি, তখন প্রবীণ যাত্রী ও নৌ-প্রেমীদের স্মৃতিতে আজও অম্লান হয়ে আছে একটি নাম— ‘সামাদ’। এক সময় এই রুটে ‘সামাদ’ ছিল আভিজাত্য, গতি এবং নির্ভরতার সমার্থক। আধুনিক লঞ্চের ভিড়ে সেই পুরনো দিনের ঐতিহ্যবাহী সামাদ লঞ্চের গল্প আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যায়, আশি এবং নব্বইয়ের দশকে যখন ঢাকা-বরিশাল রুটে আজকের মতো শত শত কেবিন সমৃদ্ধ লঞ্চ ছিল না, তখন সামাদ লঞ্চ ছিল যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। বিশেষ করে এর গঠনশৈলী এবং নদীতে চলার সময় এর রাজকীয় ভঙ্গিমা মানুষকে মুগ্ধ করত। সেই সময় এই লঞ্চটি ছিল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এক প্রকার গর্বের বিষয়। তৎকালীন সময়ে বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য এই লঞ্চের কেবিন পাওয়া ছিল রীতিমতো ভাগ্যের ব্যাপার।
পুরনো লঞ্চগুলোর মধ্যে সামাদ-এর বিশেষত্ব ছিল এর মজবুত কাঠামো এবং কাঠের নিখুঁত কারুকাজ। আজকের লঞ্চগুলোতে স্টিল আর কাঁচের আধিক্য থাকলেও, সামাদ লঞ্চের অন্দরসজ্জায় ছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া। বড় বড় কাঠের জানালা, প্রশস্ত ডেক এবং মাঝ বরাবর চলে যাওয়া গলিগুলো আজও প্রবীণদের নস্টালজিক করে তোলে। লঞ্চটির সার্চলাইট যখন রাতের আঁধারে মেঘনার বুকে আছড়ে পড়ত, তীরের মানুষ বুঝত— ‘সামাদ’ যাচ্ছে।
যাত্রীদের গভীর আবেগ
বরিশাল-ঢাকা রুটের নিয়মিত যাত্রীদের কাছে সামাদ কেবল একটি নৌযান ছিল না, বরং ছিল যাতায়াতের এক নিরাপদ আশ্রয়। লঞ্চের মাস্টার থেকে শুরু করে সারেং ও সুকানিদের সাথে যাত্রীদের গড়ে উঠত এক নিবিড় সম্পর্ক। এই লঞ্চের ডাইনিং বা ক্যান্টিনের রান্নার স্বাদও ছিল লোকমুখে প্রচলিত। নদীর টাটকা ইলিশ আর ঘন ডাল দিয়ে রাতের ডিনার সেরে ডেকের ওপর চাদর বিছিয়ে শুয়ে থাকার যে আনন্দ, তা আজকের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনে অনেক যাত্রীই খুঁজে পান না।
কালের বিবর্তনে প্রস্থান
সময়ের সাথে সাথে নৌ-প্রকৌশল বিদ্যায় এসেছে বিশাল পরিবর্তন। নতুন নতুন স্টিল বডি ও ডাবল ডেকার-ট্রিপল ডেকার লঞ্চের ভিড়ে পুরনো কাঠের অবকাঠামোর লঞ্চগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। নাব্য সংকট, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে এক সময় ঐতিহ্যের সামাদ লঞ্চটি এই রুট থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়। যদিও সামাদ নামধারী বিভিন্ন নৌযান পরবর্তী সময়ে এসেছে, কিন্তু সেই আদি ও অকৃত্রিম ‘সামাদ’ আজও মানুষের স্মৃতির পাতায় এক সোনালী অধ্যায় হয়ে আছে।
সূত্র বলছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় বিমানের গোলার আঘাতে জাহাজটি কীর্তনখোলা নদীতে ডুবে গিয়েছিল। স্বাধীনতার পর বরিশালের এক ব্যবসায়ী নিজ খরচে জাহাজটি উদ্ধার করে কুমিল্লার দাউদকান্দির সাবেক এমপি মুন্সী আবদুল আলীর কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে মুন্সী আবদুল আলী এটিকে একটি আধুনিক যাত্রীবাহী লঞ্চে রূপান্তরিত করেন এবং নিজের বাবার নামানুসারে লঞ্চটির নামকরণ করেন 'এম ভি সামাদ'। অবশ্য ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে বরিশালের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী মোহন মিয়া লঞ্চটি কিনে নেন।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের সেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে কীর্তনখোলা নদীর কাউয়ার চরে লঞ্চটিকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের কারণে বেঁধে রাখা হয়েছিল। প্রবল বাতাস এবং জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে লঞ্চটি মাঝ নদীতে উল্টে গিয়ে সলিল সমাধি ঘটে। পরবর্তীতে একটি স্যালভেজ কোম্পানি লঞ্চটি কেটে পানি থেকে উদ্ধার করে, যার মাধ্যমেই চিরতরে বিলীন হয়ে যায় ইতিহাসের এই কিংবদন্তি।
বর্তমানে বরিশাল-ঢাকা রুটে হয়তো এর চেয়েও দশগুণ বড় ও বিলাসবহুল লঞ্চ চলাচল করে। কিন্তু বরিশালের প্রবীণ মানুষরা যখন আজও স্টিমার ঘাটে দাঁড়ান, তখন তারা সেই পুরনো ভোঁ-র শব্দ আর কাঠের কাঠামোর সামাদ লঞ্চটিকে মিস করেন। এটি কেবল একটি পরিবহন ছিল না, এটি ছিল একটি সময়ের প্রতিনিধি।
নৌপথের আধুনিকায়ন অবশ্যই কাম্য, তবে সামাদের মতো যেসব লঞ্চ এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে, তাদের ইতিহাস সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। বরিশালের নৌ-সংস্কৃতিতে ‘সামাদ’ লঞ্চটি তাই কেবল একটি নাম নয়, বরং এক অবিনাশী ঐতিহ্য হিসেবে চিরকাল বেঁচে থাকবে।’
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:২৯