বরিশাল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা খায়রুল আলম সুমন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের ৩৬ প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা খায়রুল আলম সুমন। প্রতীক প্রাপ্তির পরে বিএনপি, জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনসহ অপরাপর রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রচার শুরু করেছেন।
গৌরনদী-আগৈলঝাড়া নিয়ে গঠিত বরিশাল-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৮ হাজার ২০০। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনকে ধানের শীষ, একই দলের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহানকে ফুটবল, জামায়াতের প্রার্থী কামরুল ইসলাম খানকে দাঁড়িপাল্লা এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রাসেল সরদার মেহেদীকে হাতপাখা প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে।
বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৪ হাজার ২৫০। এখানে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, জামায়াত ইসলামী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাস্টার আবদুল মান্নান এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মাদ নেছার উদ্দিন হাতপাখা বরাদ্দ পেয়েছেন।
বাবুগঞ্জ-মুলাদী উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির জয়নুল আবেদীনকে ধানের শীষ, জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) গোলাম কিবরিয়া টিপুকে লাঙ্গল, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখার প্রার্থী মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম এবং এবি পার্টির আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে ঈগল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬৬১।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে বিএনপির রাজিব আহসানকে ধানের শীষ, জামায়াতের আবদুল জব্বারকে দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়েরকে হাতপাখা প্রতীক দেওয়া হয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৫৮।
বরিশাল জেলার ৬টি আসনের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ববহ বরিশাল-৫, যাকে মর্যাদার আসনও বলা হয়। এই আসনটি বরিশাল সিটির ৩০টি ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫ হাজার। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন বিএনপির মজিবর রহমান সরওয়ার। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম হাতপাখা এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ডা. মনীষা চক্রবর্তীকে মই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বাকেরগঞ্জের ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বরিশাল-৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯ হাজার ৪০০। এখানে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আবুল হোসেন খান, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার মাহামুদুন্নবী তালুকদার এবং ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিমকে হাতপাখা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ নির্বাচনে ৬টি আসনে মোট ৩৬ প্রার্থী অংশ নিতে যাচ্ছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) তাদের সকলের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ফয়জুল করিম বরিশাল সদর ও বাকেরগঞ্জ দুটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন।
বরিশাল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা খায়রুল আলম সুমন বরিশালটাইমসকে জানান, বরিশালের সবকটি আসনে নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে। এ ছাড়া প্রার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। তারা সেই সম্পর্ক বজায় রেখে ও আচরণবিধি মেনেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। যদি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশালটাইমস/ মেহেদী হাসান

২৯ জুলাই, ২০২৬ ০০:৩০
সমাজের অবহেলা, বৈষম্য আর বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে নতুন জীবনের পথে হাঁটতে শুরু করলেন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক মাইদুল ইসলাম অভি। বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) মজুরিভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন তিনি, যা শুধু একটি নিয়োগ নয়—বরং সমতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা।
মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
বিসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভি যোগদানের দিন থেকেই মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন। কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নির্ধারণ না হলেও তাঁকে সম্মানজনক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত অভি বলেন, “আমাদের মতো মানুষদের প্রতিনিয়ত অবহেলা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। এই চাকরি শুধু কর্মসংস্থান নয়, এটি আমার জন্য সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ। এখন আমি আত্মমর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারব।”
বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ অনেকের কাছে একটি চাকরির খবর হলেও, বাস্তবে এটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—যেখানে পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মানবিকতাই হবে মানুষের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।’
সমাজের অবহেলা, বৈষম্য আর বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে নতুন জীবনের পথে হাঁটতে শুরু করলেন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক মাইদুল ইসলাম অভি। বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) মজুরিভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন তিনি, যা শুধু একটি নিয়োগ নয়—বরং সমতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা।
মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
বিসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভি যোগদানের দিন থেকেই মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন। কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নির্ধারণ না হলেও তাঁকে সম্মানজনক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত অভি বলেন, “আমাদের মতো মানুষদের প্রতিনিয়ত অবহেলা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। এই চাকরি শুধু কর্মসংস্থান নয়, এটি আমার জন্য সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ। এখন আমি আত্মমর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারব।”
বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ অনেকের কাছে একটি চাকরির খবর হলেও, বাস্তবে এটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—যেখানে পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মানবিকতাই হবে মানুষের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।’

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৬
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’

২৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩১
বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকার কর্মক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন। দীর্ঘফষন তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকলেও মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে ২২ জুলাই চাকরিচ্যুৎ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃষ্টি হওয়ার আগের পদবি ব্যবহার করে শঙ্কর চন্দ্র মালাকার প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেন। এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত আরও ২২২ একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়। এছাড়া স্থানীয় রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া যায়।
এইসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরে ২২ জুলাই তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়। ওই দিন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করে হোল্ডিং খুলে দিয়ে সরকারের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেন। এবং দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭ টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিবিবর্জিত এই কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা জনস্বার্থ ও সরকারি স্বার্থের পরিপন্থী। তাই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া সরকারি খাসজমি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সাময়িক বরখাস্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলা ভূমি অফিসে আদেশ পৌঁছেছে। ওই আদেশের আগেই প্রায় সব খাসজমি উদ্ধার করা হয়। এরপরেও খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় আছে কি না তা তদন্তের জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকার কর্মক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন। দীর্ঘফষন তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকলেও মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে ২২ জুলাই চাকরিচ্যুৎ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃষ্টি হওয়ার আগের পদবি ব্যবহার করে শঙ্কর চন্দ্র মালাকার প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেন। এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত আরও ২২২ একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়। এছাড়া স্থানীয় রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া যায়।
এইসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরে ২২ জুলাই তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়। ওই দিন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করে হোল্ডিং খুলে দিয়ে সরকারের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেন। এবং দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭ টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিবিবর্জিত এই কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা জনস্বার্থ ও সরকারি স্বার্থের পরিপন্থী। তাই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া সরকারি খাসজমি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সাময়িক বরখাস্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলা ভূমি অফিসে আদেশ পৌঁছেছে। ওই আদেশের আগেই প্রায় সব খাসজমি উদ্ধার করা হয়। এরপরেও খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় আছে কি না তা তদন্তের জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:০০
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের ৩৬ প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা খায়রুল আলম সুমন। প্রতীক প্রাপ্তির পরে বিএনপি, জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনসহ অপরাপর রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রচার শুরু করেছেন।
গৌরনদী-আগৈলঝাড়া নিয়ে গঠিত বরিশাল-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৮ হাজার ২০০। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনকে ধানের শীষ, একই দলের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহানকে ফুটবল, জামায়াতের প্রার্থী কামরুল ইসলাম খানকে দাঁড়িপাল্লা এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রাসেল সরদার মেহেদীকে হাতপাখা প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে।
বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৪ হাজার ২৫০। এখানে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, জামায়াত ইসলামী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাস্টার আবদুল মান্নান এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মাদ নেছার উদ্দিন হাতপাখা বরাদ্দ পেয়েছেন।
বাবুগঞ্জ-মুলাদী উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৩ আসনে বিএনপির জয়নুল আবেদীনকে ধানের শীষ, জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) গোলাম কিবরিয়া টিপুকে লাঙ্গল, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখার প্রার্থী মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম এবং এবি পার্টির আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে ঈগল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬৬১।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে বিএনপির রাজিব আহসানকে ধানের শীষ, জামায়াতের আবদুল জব্বারকে দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়েরকে হাতপাখা প্রতীক দেওয়া হয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৫৮।
বরিশাল জেলার ৬টি আসনের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ববহ বরিশাল-৫, যাকে মর্যাদার আসনও বলা হয়। এই আসনটি বরিশাল সিটির ৩০টি ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫ হাজার। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন বিএনপির মজিবর রহমান সরওয়ার। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম হাতপাখা এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ডা. মনীষা চক্রবর্তীকে মই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বাকেরগঞ্জের ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বরিশাল-৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯ হাজার ৪০০। এখানে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আবুল হোসেন খান, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার মাহামুদুন্নবী তালুকদার এবং ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিমকে হাতপাখা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ নির্বাচনে ৬টি আসনে মোট ৩৬ প্রার্থী অংশ নিতে যাচ্ছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) তাদের সকলের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ফয়জুল করিম বরিশাল সদর ও বাকেরগঞ্জ দুটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন।
বরিশাল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা খায়রুল আলম সুমন বরিশালটাইমসকে জানান, বরিশালের সবকটি আসনে নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে। এ ছাড়া প্রার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। তারা সেই সম্পর্ক বজায় রেখে ও আচরণবিধি মেনেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। যদি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশালটাইমস/ মেহেদী হাসান
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৪০
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩২
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৫০
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১৭:১৬