
২৮ নভেম্বর, ২০২৫ ১৮:৩৫
একসময় শীতকাল এলেই বাংলাদেশের উপকূলীয় বরগুনার বামনা উপজেলার গ্রামগঞ্জে যে উৎসবের আমেজ বইত, তার প্রধান আকর্ষণ ছিল সুস্বাদু খেজুরের রস ও গুড়। হেমন্তের মাঝামাঝি থেকে শীতের ভরা মৌসুম পর্যন্ত পুরো জনপদে চলত নবান্নের উৎসব।
কিন্তু কালের বিবর্তন এবং প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট তিন কারণে সেই চিরচেনা দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। ঐতিহ্যের প্রতীক খেজুর গাছ আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। উপজেলার গ্রামে-গ্রামে শীতের সকালে মিষ্টি রোদের তাপ নিতে নিতে মাটির ভাঁড়ে খেজুরের সুস্বাদু রস পান করার স্মৃতি আজও অমলিন। শুধু পানীয় হিসাবে নয়, এই রস দিয়ে তৈরি হতো নানান ধরনের পিঠা, পায়েস, ক্ষীর এবং লোভনীয় পাটালি ও নালি গুড়। এটি ছিল বরগুনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের নবান্নের সেরা উপহার ও আবহমান বাংলার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। খেজুর গুড় ছাড়া এই অঞ্চলের শীতকালীন উৎসব ভাবাই যেত না। খেজুরের রস ছিল গ্রামীণ জীবনের শীতের উৎসবের মূল সূচনা।
এখন চোখে পড়ে না রস আহরণে গাছিদের সেই ব্যস্ততা। কোমরে দড়ির সঙ্গে ঝুড়ি বেঁধে ধারালো দা দিয়ে গাছ চাঁচাছোলা ও নলি বসানোর কাজ। এখন শুধু ক্যালেন্ডার ও ছবিতেই সেই দৃশ্য দেখা যায়। সাতসকালে খেজুরের রস নিয়ে গাছিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাঁকডাক দিতেন, সেই দৃশ্যও এখন বিরল। ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড় দুষ্প্রাপ্য হয়ে ওঠায় হতাশ এ অঞ্চলের গাছিরা। যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে অচিরেই এই ঐতিহ্য চিরতরে হারিয়ে যাবে। তবে অল্পকিছু নিবেদিতপ্রাণ গাছি এখনো সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।
বামনা উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন সিডর, আইলার আঘাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খেজুর গাছ কমে গেছে। গত ৯-১০ বছর ধরে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দক্ষিণাঞ্চলে খেজুর গাছের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। একসময় শীতকালে এই অঞ্চলের সর্বত্র শীত উদ্যাপনের আয়োজন শুরু হয়ে যেত এবং অতিথিদের রসের তৈরি পায়েস দিয়ে আপ্যায়ন করার প্রচলন ছিল। এখন রস না পাওয়ায় নবান্নের সেই আনন্দ থেকে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন।
বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের বলইবুনিয়া গ্রামের গাছি মো. ফিরোজ মিয়া জানান, আগে তাদের দারুণ কদর ছিল। মৌসুম শুরুর আগে থেকেই কথাবার্তা পাকা হতো কার কটি খেজুর গাছ কাটতে হবে। কিন্তু এখন আর আগের মতো গাছও নেই, আর গ্রামের লোকরাও তেমন খেজুর রস সংগ্রহ করতে চান না। তারা অল্পকিছু গাছ কেটে নিজেদের চাহিদা মেটান।
উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুরা গ্রামের গাছি আব্দুল খালেক দফাদার এখনো রস সংগ্রহ করছেন। প্রতিদিন ভোরে গাছিদের কাছে খেজুরের রস খাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের ভিড় দেখা যায়। রস সংগ্রহের জন্য তিনি বাদুড়ের সংস্পর্শ এড়াতে বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। গাছি খালেক দফাদার বলেন, শীত মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত রসের সন্ধান পাচ্ছি না। গ্রামে দিনদিন কমে যাচ্ছে খেজুর গাছের সংখ্যা। গাছ কম থাকায় এখন শুধু রস বিক্রি করা হয়। প্রতি গ্লাস রসের দাম ২০ টাকা এবং প্রতি লিটার ৮০ টাকা। তিনি বলেন, অনেক গাছ কেটে ফেলেছে। এজন্য রসের দাম বেশি।
বামনা উপজেলাজুড়ে খেজুর গাছ কমে যাওয়ার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ দায়ী। এর মধ্যে রয়েছে-ইটভাটার জ্বালানি হিসাবে খেজুর গাছের ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, গাছিদের অভাব ও পেশার অনিশ্চয়তা।
পরিবেশ রক্ষা এবং রসের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে রাস্তার পাশে খেজুর গাছ লাগানোর দাবি উঠেছে। বামনার বাসিন্দারা বলছেন, এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা শুধু অর্থনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত দিক থেকেও জরুরি। এখনই যদি খেজুর গাছ লাগানো ও রক্ষার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া না হয় তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শুধু স্মৃতিতেই খুঁজে পাবে এই ঐতিহ্যকে।
একসময় শীতকাল এলেই বাংলাদেশের উপকূলীয় বরগুনার বামনা উপজেলার গ্রামগঞ্জে যে উৎসবের আমেজ বইত, তার প্রধান আকর্ষণ ছিল সুস্বাদু খেজুরের রস ও গুড়। হেমন্তের মাঝামাঝি থেকে শীতের ভরা মৌসুম পর্যন্ত পুরো জনপদে চলত নবান্নের উৎসব।
কিন্তু কালের বিবর্তন এবং প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট তিন কারণে সেই চিরচেনা দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। ঐতিহ্যের প্রতীক খেজুর গাছ আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। উপজেলার গ্রামে-গ্রামে শীতের সকালে মিষ্টি রোদের তাপ নিতে নিতে মাটির ভাঁড়ে খেজুরের সুস্বাদু রস পান করার স্মৃতি আজও অমলিন। শুধু পানীয় হিসাবে নয়, এই রস দিয়ে তৈরি হতো নানান ধরনের পিঠা, পায়েস, ক্ষীর এবং লোভনীয় পাটালি ও নালি গুড়। এটি ছিল বরগুনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের নবান্নের সেরা উপহার ও আবহমান বাংলার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। খেজুর গুড় ছাড়া এই অঞ্চলের শীতকালীন উৎসব ভাবাই যেত না। খেজুরের রস ছিল গ্রামীণ জীবনের শীতের উৎসবের মূল সূচনা।
এখন চোখে পড়ে না রস আহরণে গাছিদের সেই ব্যস্ততা। কোমরে দড়ির সঙ্গে ঝুড়ি বেঁধে ধারালো দা দিয়ে গাছ চাঁচাছোলা ও নলি বসানোর কাজ। এখন শুধু ক্যালেন্ডার ও ছবিতেই সেই দৃশ্য দেখা যায়। সাতসকালে খেজুরের রস নিয়ে গাছিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাঁকডাক দিতেন, সেই দৃশ্যও এখন বিরল। ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড় দুষ্প্রাপ্য হয়ে ওঠায় হতাশ এ অঞ্চলের গাছিরা। যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে অচিরেই এই ঐতিহ্য চিরতরে হারিয়ে যাবে। তবে অল্পকিছু নিবেদিতপ্রাণ গাছি এখনো সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।
বামনা উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন সিডর, আইলার আঘাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খেজুর গাছ কমে গেছে। গত ৯-১০ বছর ধরে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দক্ষিণাঞ্চলে খেজুর গাছের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। একসময় শীতকালে এই অঞ্চলের সর্বত্র শীত উদ্যাপনের আয়োজন শুরু হয়ে যেত এবং অতিথিদের রসের তৈরি পায়েস দিয়ে আপ্যায়ন করার প্রচলন ছিল। এখন রস না পাওয়ায় নবান্নের সেই আনন্দ থেকে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন।
বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের বলইবুনিয়া গ্রামের গাছি মো. ফিরোজ মিয়া জানান, আগে তাদের দারুণ কদর ছিল। মৌসুম শুরুর আগে থেকেই কথাবার্তা পাকা হতো কার কটি খেজুর গাছ কাটতে হবে। কিন্তু এখন আর আগের মতো গাছও নেই, আর গ্রামের লোকরাও তেমন খেজুর রস সংগ্রহ করতে চান না। তারা অল্পকিছু গাছ কেটে নিজেদের চাহিদা মেটান।
উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুরা গ্রামের গাছি আব্দুল খালেক দফাদার এখনো রস সংগ্রহ করছেন। প্রতিদিন ভোরে গাছিদের কাছে খেজুরের রস খাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের ভিড় দেখা যায়। রস সংগ্রহের জন্য তিনি বাদুড়ের সংস্পর্শ এড়াতে বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। গাছি খালেক দফাদার বলেন, শীত মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত রসের সন্ধান পাচ্ছি না। গ্রামে দিনদিন কমে যাচ্ছে খেজুর গাছের সংখ্যা। গাছ কম থাকায় এখন শুধু রস বিক্রি করা হয়। প্রতি গ্লাস রসের দাম ২০ টাকা এবং প্রতি লিটার ৮০ টাকা। তিনি বলেন, অনেক গাছ কেটে ফেলেছে। এজন্য রসের দাম বেশি।
বামনা উপজেলাজুড়ে খেজুর গাছ কমে যাওয়ার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ দায়ী। এর মধ্যে রয়েছে-ইটভাটার জ্বালানি হিসাবে খেজুর গাছের ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, গাছিদের অভাব ও পেশার অনিশ্চয়তা।
পরিবেশ রক্ষা এবং রসের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে রাস্তার পাশে খেজুর গাছ লাগানোর দাবি উঠেছে। বামনার বাসিন্দারা বলছেন, এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা শুধু অর্থনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত দিক থেকেও জরুরি। এখনই যদি খেজুর গাছ লাগানো ও রক্ষার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া না হয় তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শুধু স্মৃতিতেই খুঁজে পাবে এই ঐতিহ্যকে।

১১ মার্চ, ২০২৬ ১৩:৫৪
বরগুনার তালতলীতে গৃহবধূ আছিয়া আক্তার হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় মায়ের হত্যার বিচার দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকা আছিয়ার চার বছরের শিশু সন্তান উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মৌরভী এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ছয় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা ‘আছিয়া হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানান।
এ সময় বক্তব্য দেন নিহত আছিয়ার বাবা মজিবর জমাদ্দার, চাচা জাহাঙ্গীর জমাদ্দার, বোন মনিরা বেগম, স্থানীয় মসজিদের ইমামসহ গ্রামবাসী। বক্তারা অভিযোগ করেন, যৌতুকের টাকার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন আছিয়া আক্তার। সামান্য ঈদের কাপড়চোপড়ের টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকারীরা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করেছিল। পুলিশ যখন মৃতদেহ উদ্ধার করতে যায়, তখনই আসামিরা পালিয়ে যায়, যা প্রমাণ করে তারা প্রকৃতপক্ষে হত্যাকারী।
নিহত আছিয়ার শিশু সন্তান যে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে ছিল, তাতে লেখা ছিল, ‘বাবা, আমার মাকে ফিরিয়ে দাও। আমার মা কেন কবরে? প্রশাসনের কাছে জবাব চাই।’ হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে।
[125311
মানববন্ধনে বক্তারা প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, ‘এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় এলাকাবাসী তালতলী থানা ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।’
তালতলী থানার ওসি আশাদুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আমরা মামলাটি তদন্ত করছি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
বরিশাল টাইমস
বরগুনার তালতলীতে গৃহবধূ আছিয়া আক্তার হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় মায়ের হত্যার বিচার দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকা আছিয়ার চার বছরের শিশু সন্তান উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মৌরভী এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ছয় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা ‘আছিয়া হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানান।
এ সময় বক্তব্য দেন নিহত আছিয়ার বাবা মজিবর জমাদ্দার, চাচা জাহাঙ্গীর জমাদ্দার, বোন মনিরা বেগম, স্থানীয় মসজিদের ইমামসহ গ্রামবাসী। বক্তারা অভিযোগ করেন, যৌতুকের টাকার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন আছিয়া আক্তার। সামান্য ঈদের কাপড়চোপড়ের টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকারীরা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করেছিল। পুলিশ যখন মৃতদেহ উদ্ধার করতে যায়, তখনই আসামিরা পালিয়ে যায়, যা প্রমাণ করে তারা প্রকৃতপক্ষে হত্যাকারী।
নিহত আছিয়ার শিশু সন্তান যে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে ছিল, তাতে লেখা ছিল, ‘বাবা, আমার মাকে ফিরিয়ে দাও। আমার মা কেন কবরে? প্রশাসনের কাছে জবাব চাই।’ হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে।
[125311
মানববন্ধনে বক্তারা প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, ‘এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় এলাকাবাসী তালতলী থানা ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।’
তালতলী থানার ওসি আশাদুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আমরা মামলাটি তদন্ত করছি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
বরিশাল টাইমস

১০ মার্চ, ২০২৬ ২১:৫৪
পাথরঘাটায় টেকসই কার্যক্রম নিশ্চিতকরণের ধরণসমূহ এবং প্রকল্প সমাপ্তি পরিকল্পনা বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার সকালে পাথরঘাটা সংকল্প ট্রাস্ট সেমিনার কক্ষে-এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস এবং একশনএইড বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় এফোরটি প্রকল্পের আওতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
এনএসএস-এর পরিচালক (কার্যক্রম) মো: শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, শিক্ষক, নেটওয়ার্ক প্রতিনিধি, এনজিও কর্মী, সাংবাদিক ও কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের স্টেকহোল্ডাররা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালার উদ্দেশ্য ও বিগত বছরের অর্জনসমূহ তুলে ধরে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মো:মনিরুজ্জামান। এছাড়া কর্মশালা থেকে প্রত্যাশা ও টেকসই কার্যক্রম নিশ্চিতকরণের বিভিন্ন ধরণ নিয়ে আলোচনা করেন একশন এইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার (ইয়ুথ হাব মোবিলাইজেশন এন্ড ক্লাইমেট একশান) মো: মাসুদ পারভেজ। কর্মশালায় সার্বিক সহায়তা করেন একশানএইড’র ইন্সপিরেটর মো: রোকনুজ্জামান।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিমেল আল ইসলাম, সমাজসেবা দপ্তরের শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা সৈকত চন্দ্র হাওলাদার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো.কবির আহমেদ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার জিন্নাত জাহান, পরিবেশ নেটওয়ার্কের সভাপতি মো.শফিকুল ইসলাম খোকন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো: মেহেদী হাসান এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরীসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান, সচিববৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি ও যুব সদস্যরা।
কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল উন্নয়ন স্থায়িত্ব সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা সুদৃঢ় করা এবং এর ব্যবহারিক প্রয়োগে যৌথ বোঝাপড়া তৈরি করা। আলোচনায় প্রাতিষ্ঠানিক, আর্থিক, নেতৃত্ব ও নেটওয়ার্কভিত্তিক স্থায়িত্বের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। প্রকল্প-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের ভূমিকা ও দায়িত্ব চিহ্নিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
কর্মশালায় একটি যৌথ টেকসইতা ভিশন ও রূপান্তর রোডম্যাপ প্রণয়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যুব সদস্য মো: জাকির হোসেন নাইম ও মুক্তি রানী।
পাথরঘাটায় টেকসই কার্যক্রম নিশ্চিতকরণের ধরণসমূহ এবং প্রকল্প সমাপ্তি পরিকল্পনা বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার সকালে পাথরঘাটা সংকল্প ট্রাস্ট সেমিনার কক্ষে-এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস এবং একশনএইড বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় এফোরটি প্রকল্পের আওতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
এনএসএস-এর পরিচালক (কার্যক্রম) মো: শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, শিক্ষক, নেটওয়ার্ক প্রতিনিধি, এনজিও কর্মী, সাংবাদিক ও কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের স্টেকহোল্ডাররা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালার উদ্দেশ্য ও বিগত বছরের অর্জনসমূহ তুলে ধরে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মো:মনিরুজ্জামান। এছাড়া কর্মশালা থেকে প্রত্যাশা ও টেকসই কার্যক্রম নিশ্চিতকরণের বিভিন্ন ধরণ নিয়ে আলোচনা করেন একশন এইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার (ইয়ুথ হাব মোবিলাইজেশন এন্ড ক্লাইমেট একশান) মো: মাসুদ পারভেজ। কর্মশালায় সার্বিক সহায়তা করেন একশানএইড’র ইন্সপিরেটর মো: রোকনুজ্জামান।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিমেল আল ইসলাম, সমাজসেবা দপ্তরের শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা সৈকত চন্দ্র হাওলাদার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো.কবির আহমেদ, উপজেলা শিক্ষা অফিসার জিন্নাত জাহান, পরিবেশ নেটওয়ার্কের সভাপতি মো.শফিকুল ইসলাম খোকন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো: মেহেদী হাসান এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরীসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান, সচিববৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি ও যুব সদস্যরা।
কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল উন্নয়ন স্থায়িত্ব সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা সুদৃঢ় করা এবং এর ব্যবহারিক প্রয়োগে যৌথ বোঝাপড়া তৈরি করা। আলোচনায় প্রাতিষ্ঠানিক, আর্থিক, নেতৃত্ব ও নেটওয়ার্কভিত্তিক স্থায়িত্বের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। প্রকল্প-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের ভূমিকা ও দায়িত্ব চিহ্নিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
কর্মশালায় একটি যৌথ টেকসইতা ভিশন ও রূপান্তর রোডম্যাপ প্রণয়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যুব সদস্য মো: জাকির হোসেন নাইম ও মুক্তি রানী।

১০ মার্চ, ২০২৬ ২০:২৩
বরগুনার তালতলীতে গৃহবধূ আছিয়া আক্তার হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় মায়ের হত্যার বিচার দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকা আছিয়ার চার বছরের শিশু সন্তান উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মৌরভী এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ছয় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা ‘আছিয়া হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানান।
এ সময় বক্তব্য দেন নিহত আছিয়ার বাবা মজিবর জমাদ্দার, চাচা জাহাঙ্গীর জমাদ্দার, বোন মনিরা বেগম, স্থানীয় মসজিদের ইমামসহ গ্রামবাসী। বক্তারা অভিযোগ করেন, যৌতুকের টাকার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন আছিয়া আক্তার। সামান্য ঈদের কাপড়চোপড়ের টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকারীরা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করেছিল। পুলিশ যখন মৃতদেহ উদ্ধার করতে যায়, তখনই আসামিরা পালিয়ে যায়, যা প্রমাণ করে তারা প্রকৃতপক্ষে হত্যাকারী।
নিহত আছিয়ার শিশু সন্তান যে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে ছিল, তাতে লেখা ছিল, ‘বাবা, আমার মাকে ফিরিয়ে দাও। আমার মা কেন কবরে? প্রশাসনের কাছে জবাব চাই।’ হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে।
মানববন্ধনে বক্তারা প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, ‘এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় এলাকাবাসী তালতলী থানা ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।’
তালতলী থানার ওসি আশাদুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আমরা মামলাটি তদন্ত করছি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
বরগুনার তালতলীতে গৃহবধূ আছিয়া আক্তার হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় মায়ের হত্যার বিচার দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকা আছিয়ার চার বছরের শিশু সন্তান উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মৌরভী এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ছয় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা ‘আছিয়া হত্যার বিচার চাই’ এবং ‘হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানান।
এ সময় বক্তব্য দেন নিহত আছিয়ার বাবা মজিবর জমাদ্দার, চাচা জাহাঙ্গীর জমাদ্দার, বোন মনিরা বেগম, স্থানীয় মসজিদের ইমামসহ গ্রামবাসী। বক্তারা অভিযোগ করেন, যৌতুকের টাকার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন আছিয়া আক্তার। সামান্য ঈদের কাপড়চোপড়ের টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকারীরা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করেছিল। পুলিশ যখন মৃতদেহ উদ্ধার করতে যায়, তখনই আসামিরা পালিয়ে যায়, যা প্রমাণ করে তারা প্রকৃতপক্ষে হত্যাকারী।
নিহত আছিয়ার শিশু সন্তান যে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে ছিল, তাতে লেখা ছিল, ‘বাবা, আমার মাকে ফিরিয়ে দাও। আমার মা কেন কবরে? প্রশাসনের কাছে জবাব চাই।’ হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে।
মানববন্ধনে বক্তারা প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, ‘এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় এলাকাবাসী তালতলী থানা ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।’
তালতলী থানার ওসি আশাদুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আমরা মামলাটি তদন্ত করছি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.