ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের ৬টি আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ঢাকায় তলব করা হয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর সোমবার এসব নেতার রাজধানীর বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য নেতারা এসব প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেবেন। ইতোমধ্যেই প্রত্যেক প্রার্থীর ভোটার আইডি কার্ড ও এক কপি ছবি পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তবে গোয়েন্দা সংস্থা ও দলীয় রিপোর্টের ভিত্তিতে এরই মধ্যে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থীদের নাম প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি সূত্রটির। এর মধ্যে কেবল বরিশাল-১ আসনের প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সূত্রটি জানায়, বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে প্রার্থীর মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত। কোনো কোনো আসনে একাধিক প্রার্থীর নাম রয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে চূড়ান্ত করা হবে। এর মধ্যে বরিশালের আসনগুলোর মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থীর খসড়া তালিকা করা হয়েছে। বড় ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটলে এ তালিকার পরিবর্তন হবে না।
সূত্রটি আরও জানায়, বরিশাল-১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার (অ্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দীন স্বপন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম স্বজল মনোনয়নপ্রত্যাশী।
এদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দীন স্বপন আলোচনায় আছেন। তাদের মধ্যে যে কেউ মনোনয়ন পাবেন বলে দাবি সূত্রটির।
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সংসদীয় আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান প্রয়াত বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল হক জামাল এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নির্বাচনে এ আসনে আবারো বিএনপির মনোনয়ন পাচ্ছেন এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু। প্রাথমিক খসড়া তালিকায় তার নাম রয়েছে বলে জানা যায়।
এছাড়া আসনটিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, বিএনপি নেতা কর্নেল (অব.) আনোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য দুলাল হোসেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদ মাহমুদ জুয়েল, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক লায়ন আক্তার সেন্টু মনোনয়নপ্রত্যাশী। আগামী সোমবার মনোনয়নপ্রত্যাশী এসব নেতাকে ঢাকায় ডাকা হয়েছে।
বরিশাল-৩ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জয়নাল আবেদীন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জয়নাল আবেদীনের নাম চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। এ আসনে তিনিই মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে দাবি সূত্রটির। এ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সত্তার খান, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান আসাদ মনোনয়নপ্রত্যাশী।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) সংসদীয় আসনে ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে মেজবাহ উদ্দীন ফরহাদ বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পান। তবে আগামী নির্বাচনে খসড়া প্রার্থীর তালিকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানের নাম চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহউদ্দীন ফরহাদ, বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য নেতা অ্যাডভোকেট এম হেলাল উদ্দীন, সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল খালেক হাওলাদার, বরিশাল জেলা (উত্তর) বিএনপির আহ্বায়ক দেওয়ান মো. শহিদুল্লাহ।
বরিশালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত বরিশাল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এবারও মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। খসড়া তালিকায় তার নাম রয়েছে। এ লক্ষেই সম্প্রতি সরোয়ারের বলয়ের নেতাদের দিয়েই সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মনোনয়নপ্রত্যাশী মজিবর রহমান সরোয়ারসহ অন্যদের জেলা মহানগর বিএনপি নেতাদের কেন্দ্রে ডেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাবেক সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (পদ স্থগিত) এক সময়ের তুখোড় নেত্রী অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক জেলা এিনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাছরিন আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। এসব নেতাকেও ডাকা হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বরিশাল-৬ বাকেরগঞ্জ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বাক আবুল হোসেন খান আবারও এ আসন থেকে মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক খসড়া তালিকায় তার নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। তবে দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজন মনোনয়ন পেতে এখনো প্রাণপণ চেষ্টা করছেন।
এছাড়া কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক লায়ন নুরুল ইসলাম খান মাসুদ, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট বিএনপির সাবেক সভাপতি সোলায়মান সেরনিয়াবাত নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী।
এদিকে সূত্র জানায়, বরিশাল বিভাগের ২১ আসনের মধ্যে ১৮টিতে প্রার্থী তালিকা ১ থেকে ২ জনের মধ্যে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান জানান, আগামী ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতাদের ঢাকায় ডাকা হয়েছে। দলের জন্য যারা নিবেদিতপ্রাণ তাদের মনোনয়ন দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইতোমধ্যেই বিভিন্নভাবে তিনি প্রার্থীদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। তবে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন, দলের সঙ্গে কখনো বেইমানি করেননি, এমন যোগ্য নেতারাই এবার মনোনয়ন পাবেন বলে দাবি করেন তিনি।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
‘মাদককে বলি না, শিক্ষা ও সৃষ্টিশীলতায় এগিয়ে চলি সর্বদা’ -এ স্লোগানকে সামনে রেখে বাবুগঞ্জে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন শুরু করেছে বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার কলেজ মিলনায়তনে এক মাদকবিরোধী সচেতনতা ও উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মাদক প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা।
রোববার সকালে বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ওই উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের অধ্যক্ষ আ.ন.ম. আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক সামসুল আলম ফকির, কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহে আলম, সহকারী অধ্যাপক মো. গোলাম হোসেন, কলেজের গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য হারুন অর রশীদ, বাবুগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মাসুদ রানা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাহ-ই আলম হাওলাদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, 'মাদক আজ এক সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। মাদকের জন্য ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাই সবার আগে আমাদের শিক্ষার্থী এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এজন্য পারিবারিক, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি।'
মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আ.ন.ম. আব্দুল হালিম জানান, মাদক আজ সর্বত্র সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে নিরাপদ রাখতে বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের পক্ষ থেকে এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের সাথে এ বিষয়ে নিয়মিত মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম করা হবে। বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস মাদকমুক্ত রাখাসহ অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যাতে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে সেজন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের নিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগসহ বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। #
‘মাদককে বলি না, শিক্ষা ও সৃষ্টিশীলতায় এগিয়ে চলি সর্বদা’ -এ স্লোগানকে সামনে রেখে বাবুগঞ্জে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন শুরু করেছে বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার কলেজ মিলনায়তনে এক মাদকবিরোধী সচেতনতা ও উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মাদক প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা।
রোববার সকালে বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ওই উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের অধ্যক্ষ আ.ন.ম. আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক সামসুল আলম ফকির, কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহে আলম, সহকারী অধ্যাপক মো. গোলাম হোসেন, কলেজের গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য হারুন অর রশীদ, বাবুগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মাসুদ রানা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাহ-ই আলম হাওলাদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, 'মাদক আজ এক সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। মাদকের জন্য ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাই সবার আগে আমাদের শিক্ষার্থী এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এজন্য পারিবারিক, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি।'
মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আ.ন.ম. আব্দুল হালিম জানান, মাদক আজ সর্বত্র সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে নিরাপদ রাখতে বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের পক্ষ থেকে এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের সাথে এ বিষয়ে নিয়মিত মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম করা হবে। বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস মাদকমুক্ত রাখাসহ অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যাতে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে সেজন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের নিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগসহ বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। #

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
বরিশালে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসতাক আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। পরে তাদের বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মহাসিন মন্টু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার সুত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরের সদর রোডে অবস্থিত হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের পঞ্চম তলার একটি কক্ষে স্ত্রী নাজমা জহির শোভাকে নিয়ে যান জহিরুল ইসলাম। সেখানে ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে শোভাকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার দিনই নিহতের বোন নিলুফা আইরিন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় জহিরুল ইসলাম ও হোটেলটির ম্যানেজার আবদুল মালেককে আসামি করা হয়।
পরে পুলিশ তদন্ত শেষে দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান জানান, নিহত শোভার ছোট বোন রুমা আক্তারের সঙ্গে জহিরুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি শোভা জানতে পারার পর তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় জহিরুল ইসলাম বরিশাল এলজিইডিতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
অন্যদিকে, হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে হোটেল পরিচালনায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বলে জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী।
প্রায় ১৬ বছর ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়ার পর দেওয়া এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন ও বাদীপক্ষ।
আইনজীবী আনোয়ার হোসেন মিজান বলেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন না।
বরিশালে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসতাক আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। পরে তাদের বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মহাসিন মন্টু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার সুত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরের সদর রোডে অবস্থিত হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের পঞ্চম তলার একটি কক্ষে স্ত্রী নাজমা জহির শোভাকে নিয়ে যান জহিরুল ইসলাম। সেখানে ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে শোভাকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার দিনই নিহতের বোন নিলুফা আইরিন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় জহিরুল ইসলাম ও হোটেলটির ম্যানেজার আবদুল মালেককে আসামি করা হয়।
পরে পুলিশ তদন্ত শেষে দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান জানান, নিহত শোভার ছোট বোন রুমা আক্তারের সঙ্গে জহিরুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি শোভা জানতে পারার পর তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় জহিরুল ইসলাম বরিশাল এলজিইডিতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
অন্যদিকে, হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে হোটেল পরিচালনায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বলে জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী।
প্রায় ১৬ বছর ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়ার পর দেওয়া এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন ও বাদীপক্ষ।
আইনজীবী আনোয়ার হোসেন মিজান বলেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন না।

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:২৯
একজন সাংবাদিকের দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ অধ্যায় কি এমনই হওয়ার কথা ছিল? দুই দশকেরও বেশি সময় সাংবাদিকতা করেছেন পুলক চ্যাটার্জি। দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির বরিশাল ব্যুরোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ কর্মজীবনের শেষদিকে এসে চাকরি হারিয়েছেন, দীর্ঘ সময় বেকার ছিলেন, আর্থিক সংকটে পড়েছেন- এমন তথ্যই এখন তাঁর মৃত্যুর পর সামনে আসছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) তাঁর আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর সেই প্রশ্নটিই সবচেয়ে জোরালো হয়ে উঠেছে-একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক যখন একের পর এক সংকটে পড়ছিলেন, তখন তাঁর পাশে ছিলেন কে?
শুধু ব্যক্তিগত হতাশা, শারীরিক সমস্যা কিংবা আর্থিক সংকট দিয়ে কি এই মৃত্যুর পুরো প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করা সম্ভব? নাকি এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পেশাগত অনিশ্চয়তা, কর্মহীনতা, পাওনা নিয়ে জটিলতা এবং সাংবাদিক সমাজের কাঠামোগত দুর্বলতা? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন জরুরি।
সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি ২০০৫ সালে দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর তিনি বরিশাল ব্যুরোর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে সমকাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ব্যুরোর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর সহকর্মী স্টাফ রিপোর্টার সুমন চৌধুরীকে দিয়ে ব্যুরোর কার্যক্রম চালানো হয়। কিন্তু চাকরি বা দায়িত্ব হারানোর পর পুলক চ্যাটার্জির আর্থিক ও পেশাগত পরিস্থিতি কী দাঁড়িয়েছিল- এখন সেটিই অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিশেষ করে তাঁর ন্যায্য পাওনা আদৌ পরিশোধ করা হয়েছিল কি না, হয়ে থাকলে কতটুকু এবং না হয়ে থাকলে কেন- এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রয়োজন। কারণ একজন সাংবাদিকের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবসান শুধু একটি পদ হারানোর ঘটনা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তাঁর জীবিকা, পরিবারের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের প্রশ্ন।
পরিবার ও সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরি হারানোর পরও সমকালের সঙ্গে পুলক চ্যাটার্জির সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তাঁর কাছে সাবেক অফিসের একটি বিকল্প চাবি ছিল বলে জানা গেছে। তিনি মাঝেমধ্যে সেখানে যেতেন, বসতেন এবং পত্রিকা পড়তেন। এখানেও রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- কর্মস্থল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও একজন সাবেক ব্যুরোপ্রধান কেন সেখানে নিয়মিত যেতেন? এটি কি শুধুই পুরোনো কর্মস্থলের প্রতি আবেগ? নাকি দীর্ঘ কর্মজীবনের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও পরিচিত পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে না পারার এক ধরনের মানসিক টান? সহকর্মীদের কেউ কেউ বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখেছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু তাঁর জীবনের শেষ সময়ের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে ঘটনাটির সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিকও তদন্তের দাবি রাখে।
মৃত্যুর পর পুলক চ্যাটার্জির পাশে একাধিক চিরকুট পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব লেখায় আর্থিক সংকট, শারীরিক সমস্যা এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়ার অনুভূতির কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। একটি চিঠিতে সহকর্মী সুমন চৌধুরীর প্রসঙ্গ এসেছে। ছোট ভাই ভূমি কর্মকর্তা দীপক, দুই সন্তান পিয়াঙ্কা ও প্রদ্ধতি এবং বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনকে উদ্দেশ করেও পৃথক লেখা থাকার কথা জানা গেছে। এসব চিঠির বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা ও প্রেক্ষাপট অবশ্যই তদন্তের বিষয়। কিন্তু সেগুলো যদি তাঁর শেষ সময়ের মানসিক ও আর্থিক অবস্থার প্রতিফলন হয়ে থাকে, তাহলে সাংবাদিক সমাজের সামনে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন দাঁড়ায়- তিনি যখন সংকটে ছিলেন, তখন তাঁর সহকর্মীরা কী জানতেন? আর জানলে কী করেছিলেন? নেতৃত্বের দায় কতটুকু?
বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পুলক চ্যাটার্জি। অর্থাৎ সাংবাদিকদের অধিকার, পেশাগত নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে কাজ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নেতৃত্বে তিনি নিজেই ছিলেন। কিন্তু একই সঙ্গে বরিশালের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণ, কিছু সংগঠনে পেশাদার সাংবাদিকদের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তি-স্বার্থের প্রভাব কখনো কখনো বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক ব্যক্তি-বিশেষের প্রভাব সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ওপর চেপে বসলে পেশাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথার্থ মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই কারণে পুলক চ্যাটার্জির মতো দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও যোগ্য সাংবাদিকরা যথার্থ সম্মান ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অবশ্য কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মৃত্যুর দায় সরাসরি কোনো সংগঠন বা ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনের পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত। কিন্তু একজন প্রবীণ সাংবাদিক দীর্ঘদিন কর্মহীন ও আর্থিক সংকটে থাকলে তাঁর সহকর্মী সংগঠনগুলোর সামাজিক ও পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। বিশেষ করে সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণ তহবিল, জরুরি সহায়তা, কর্মসংস্থান বা পেশাগত পুনর্বাসনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা আছে কি না- পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে অনৈক্য ও নেতৃত্বের বিভাজন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃত্বে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সাংবাদিকদের স্বার্থ কতটা অগ্রাধিকার পাচ্ছে- এ নিয়েও প্রশ্ন আছে। পুলক চ্যাটার্জির মতো অভিজ্ঞ সাংবাদিক কর্মজীবন হারানোর পর যদি দীর্ঘ সময় নিজেকে একা মনে করে থাকেন, তবে সেটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সংকট নয়; সাংবাদিক সমাজের সাংগঠনিক সক্ষমতারও একটি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় বরিশালের সাংবাদিক সংগঠনগুলো কতটা সফল- এখন সেটিই আলোচনার বিষয়।
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অন্তত কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত ২০২৩ সালে তাঁর চাকরি বা দায়িত্ব পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল? দ্বিতীয়ত, সমকাল কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর কোনো ন্যায্য পাওনা বকেয়া ছিল কি না? তৃতীয়ত, চাকরি হারানোর পর তাঁর আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতি কী ছিল? চতুর্থত, সাংবাদিক সংগঠন ও সহকর্মীরা তাঁর সংকট সম্পর্কে কতটা অবগত ছিলেন এবং তাঁকে কোনো সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না? পঞ্চমত, মৃত্যুর আগে পাওয়া চিঠিগুলোর বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তে কী উঠে আসে? ষষ্ঠত, স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে রাজনৈতিক প্রভাব কতটা রয়েছে এবং তার কারণে পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা, অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- এই মৃত্যু কি কেবল একজন মানুষের ব্যক্তিগত সংকটের পরিণতি, নাকি এর সঙ্গে পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতারও কোনো যোগসূত্র রয়েছে?
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু নিয়ে আবেগ থাকবে, শোক থাকবে, স্মৃতিচারণ থাকবে। কিন্তু শুধু শোক প্রকাশ করে যদি বিষয়টি শেষ হয়ে যায়, তাহলে তাঁর মৃত্যুর পর সামনে আসা প্রশ্নগুলোর উত্তর আর পাওয়া যাবে না। প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত। প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য। প্রয়োজন তাঁর চাকরি হারানোর প্রেক্ষাপট ও পাওনা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ। প্রয়োজন সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নিজেদের ভূমিকা পর্যালোচনা।
একজন সাংবাদিক তাঁর জীবনের বড় একটি অংশ সংবাদপেশা ও সমাজের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। শেষ জীবনে যদি তিনি আর্থিক সংকট, পেশাগত অনিশ্চয়তা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ভারে ন্যুব্জ হয়ে থাকেন, তবে তাঁর মৃত্যুকে শুধু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখলে মূল প্রশ্নটি আড়ালেই থেকে যাবে। পুলক চ্যাটার্জি নেই। কিন্তু তাঁর মৃত্যু বরিশালের সাংবাদিক সমাজের সামনে যে প্রশ্নগুলো রেখে গেছে, সেগুলো এখনো জীবিত।
একজন সাংবাদিকের দুর্দিনে সাংবাদিক সমাজ কোথায় থাকে- আর সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব যখন পেশাদারিত্বের বদলে অন্য কোনো প্রভাবের কাছে দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন যোগ্য সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াবে কে? পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু এখন সেই প্রশ্নের উত্তর দাবি করছে।’
হাসিবুল ইসলাম, সংবাদকর্মী ও কলাম লেখক।
একজন সাংবাদিকের দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ অধ্যায় কি এমনই হওয়ার কথা ছিল? দুই দশকেরও বেশি সময় সাংবাদিকতা করেছেন পুলক চ্যাটার্জি। দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির বরিশাল ব্যুরোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ কর্মজীবনের শেষদিকে এসে চাকরি হারিয়েছেন, দীর্ঘ সময় বেকার ছিলেন, আর্থিক সংকটে পড়েছেন- এমন তথ্যই এখন তাঁর মৃত্যুর পর সামনে আসছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) তাঁর আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর সেই প্রশ্নটিই সবচেয়ে জোরালো হয়ে উঠেছে-একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক যখন একের পর এক সংকটে পড়ছিলেন, তখন তাঁর পাশে ছিলেন কে?
শুধু ব্যক্তিগত হতাশা, শারীরিক সমস্যা কিংবা আর্থিক সংকট দিয়ে কি এই মৃত্যুর পুরো প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করা সম্ভব? নাকি এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পেশাগত অনিশ্চয়তা, কর্মহীনতা, পাওনা নিয়ে জটিলতা এবং সাংবাদিক সমাজের কাঠামোগত দুর্বলতা? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন জরুরি।
সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি ২০০৫ সালে দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর তিনি বরিশাল ব্যুরোর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে সমকাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ব্যুরোর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর সহকর্মী স্টাফ রিপোর্টার সুমন চৌধুরীকে দিয়ে ব্যুরোর কার্যক্রম চালানো হয়। কিন্তু চাকরি বা দায়িত্ব হারানোর পর পুলক চ্যাটার্জির আর্থিক ও পেশাগত পরিস্থিতি কী দাঁড়িয়েছিল- এখন সেটিই অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিশেষ করে তাঁর ন্যায্য পাওনা আদৌ পরিশোধ করা হয়েছিল কি না, হয়ে থাকলে কতটুকু এবং না হয়ে থাকলে কেন- এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রয়োজন। কারণ একজন সাংবাদিকের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবসান শুধু একটি পদ হারানোর ঘটনা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তাঁর জীবিকা, পরিবারের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের প্রশ্ন।
পরিবার ও সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরি হারানোর পরও সমকালের সঙ্গে পুলক চ্যাটার্জির সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তাঁর কাছে সাবেক অফিসের একটি বিকল্প চাবি ছিল বলে জানা গেছে। তিনি মাঝেমধ্যে সেখানে যেতেন, বসতেন এবং পত্রিকা পড়তেন। এখানেও রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- কর্মস্থল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও একজন সাবেক ব্যুরোপ্রধান কেন সেখানে নিয়মিত যেতেন? এটি কি শুধুই পুরোনো কর্মস্থলের প্রতি আবেগ? নাকি দীর্ঘ কর্মজীবনের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও পরিচিত পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে না পারার এক ধরনের মানসিক টান? সহকর্মীদের কেউ কেউ বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখেছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু তাঁর জীবনের শেষ সময়ের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে ঘটনাটির সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিকও তদন্তের দাবি রাখে।
মৃত্যুর পর পুলক চ্যাটার্জির পাশে একাধিক চিরকুট পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব লেখায় আর্থিক সংকট, শারীরিক সমস্যা এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়ার অনুভূতির কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। একটি চিঠিতে সহকর্মী সুমন চৌধুরীর প্রসঙ্গ এসেছে। ছোট ভাই ভূমি কর্মকর্তা দীপক, দুই সন্তান পিয়াঙ্কা ও প্রদ্ধতি এবং বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনকে উদ্দেশ করেও পৃথক লেখা থাকার কথা জানা গেছে। এসব চিঠির বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা ও প্রেক্ষাপট অবশ্যই তদন্তের বিষয়। কিন্তু সেগুলো যদি তাঁর শেষ সময়ের মানসিক ও আর্থিক অবস্থার প্রতিফলন হয়ে থাকে, তাহলে সাংবাদিক সমাজের সামনে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন দাঁড়ায়- তিনি যখন সংকটে ছিলেন, তখন তাঁর সহকর্মীরা কী জানতেন? আর জানলে কী করেছিলেন? নেতৃত্বের দায় কতটুকু?
বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পুলক চ্যাটার্জি। অর্থাৎ সাংবাদিকদের অধিকার, পেশাগত নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে কাজ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নেতৃত্বে তিনি নিজেই ছিলেন। কিন্তু একই সঙ্গে বরিশালের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণ, কিছু সংগঠনে পেশাদার সাংবাদিকদের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তি-স্বার্থের প্রভাব কখনো কখনো বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক ব্যক্তি-বিশেষের প্রভাব সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ওপর চেপে বসলে পেশাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথার্থ মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই কারণে পুলক চ্যাটার্জির মতো দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও যোগ্য সাংবাদিকরা যথার্থ সম্মান ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অবশ্য কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মৃত্যুর দায় সরাসরি কোনো সংগঠন বা ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনের পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত। কিন্তু একজন প্রবীণ সাংবাদিক দীর্ঘদিন কর্মহীন ও আর্থিক সংকটে থাকলে তাঁর সহকর্মী সংগঠনগুলোর সামাজিক ও পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। বিশেষ করে সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণ তহবিল, জরুরি সহায়তা, কর্মসংস্থান বা পেশাগত পুনর্বাসনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা আছে কি না- পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে অনৈক্য ও নেতৃত্বের বিভাজন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃত্বে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সাংবাদিকদের স্বার্থ কতটা অগ্রাধিকার পাচ্ছে- এ নিয়েও প্রশ্ন আছে। পুলক চ্যাটার্জির মতো অভিজ্ঞ সাংবাদিক কর্মজীবন হারানোর পর যদি দীর্ঘ সময় নিজেকে একা মনে করে থাকেন, তবে সেটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সংকট নয়; সাংবাদিক সমাজের সাংগঠনিক সক্ষমতারও একটি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় বরিশালের সাংবাদিক সংগঠনগুলো কতটা সফল- এখন সেটিই আলোচনার বিষয়।
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অন্তত কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত ২০২৩ সালে তাঁর চাকরি বা দায়িত্ব পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল? দ্বিতীয়ত, সমকাল কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর কোনো ন্যায্য পাওনা বকেয়া ছিল কি না? তৃতীয়ত, চাকরি হারানোর পর তাঁর আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতি কী ছিল? চতুর্থত, সাংবাদিক সংগঠন ও সহকর্মীরা তাঁর সংকট সম্পর্কে কতটা অবগত ছিলেন এবং তাঁকে কোনো সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না? পঞ্চমত, মৃত্যুর আগে পাওয়া চিঠিগুলোর বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তে কী উঠে আসে? ষষ্ঠত, স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে রাজনৈতিক প্রভাব কতটা রয়েছে এবং তার কারণে পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা, অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- এই মৃত্যু কি কেবল একজন মানুষের ব্যক্তিগত সংকটের পরিণতি, নাকি এর সঙ্গে পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতারও কোনো যোগসূত্র রয়েছে?
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু নিয়ে আবেগ থাকবে, শোক থাকবে, স্মৃতিচারণ থাকবে। কিন্তু শুধু শোক প্রকাশ করে যদি বিষয়টি শেষ হয়ে যায়, তাহলে তাঁর মৃত্যুর পর সামনে আসা প্রশ্নগুলোর উত্তর আর পাওয়া যাবে না। প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত। প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য। প্রয়োজন তাঁর চাকরি হারানোর প্রেক্ষাপট ও পাওনা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ। প্রয়োজন সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নিজেদের ভূমিকা পর্যালোচনা।
একজন সাংবাদিক তাঁর জীবনের বড় একটি অংশ সংবাদপেশা ও সমাজের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। শেষ জীবনে যদি তিনি আর্থিক সংকট, পেশাগত অনিশ্চয়তা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ভারে ন্যুব্জ হয়ে থাকেন, তবে তাঁর মৃত্যুকে শুধু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখলে মূল প্রশ্নটি আড়ালেই থেকে যাবে। পুলক চ্যাটার্জি নেই। কিন্তু তাঁর মৃত্যু বরিশালের সাংবাদিক সমাজের সামনে যে প্রশ্নগুলো রেখে গেছে, সেগুলো এখনো জীবিত।
একজন সাংবাদিকের দুর্দিনে সাংবাদিক সমাজ কোথায় থাকে- আর সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব যখন পেশাদারিত্বের বদলে অন্য কোনো প্রভাবের কাছে দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন যোগ্য সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াবে কে? পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু এখন সেই প্রশ্নের উত্তর দাবি করছে।’
হাসিবুল ইসলাম, সংবাদকর্মী ও কলাম লেখক।

২৬ অক্টোবর, ২০২৫ ১৪:৪৮
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের ৬টি আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ঢাকায় তলব করা হয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর সোমবার এসব নেতার রাজধানীর বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য নেতারা এসব প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেবেন। ইতোমধ্যেই প্রত্যেক প্রার্থীর ভোটার আইডি কার্ড ও এক কপি ছবি পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তবে গোয়েন্দা সংস্থা ও দলীয় রিপোর্টের ভিত্তিতে এরই মধ্যে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থীদের নাম প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি সূত্রটির। এর মধ্যে কেবল বরিশাল-১ আসনের প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সূত্রটি জানায়, বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে প্রার্থীর মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত। কোনো কোনো আসনে একাধিক প্রার্থীর নাম রয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে চূড়ান্ত করা হবে। এর মধ্যে বরিশালের আসনগুলোর মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থীর খসড়া তালিকা করা হয়েছে। বড় ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটলে এ তালিকার পরিবর্তন হবে না।
সূত্রটি আরও জানায়, বরিশাল-১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার (অ্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দীন স্বপন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম স্বজল মনোনয়নপ্রত্যাশী।
এদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দীন স্বপন আলোচনায় আছেন। তাদের মধ্যে যে কেউ মনোনয়ন পাবেন বলে দাবি সূত্রটির।
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সংসদীয় আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান প্রয়াত বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল হক জামাল এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নির্বাচনে এ আসনে আবারো বিএনপির মনোনয়ন পাচ্ছেন এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু। প্রাথমিক খসড়া তালিকায় তার নাম রয়েছে বলে জানা যায়।
এছাড়া আসনটিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, বিএনপি নেতা কর্নেল (অব.) আনোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য দুলাল হোসেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদ মাহমুদ জুয়েল, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক লায়ন আক্তার সেন্টু মনোনয়নপ্রত্যাশী। আগামী সোমবার মনোনয়নপ্রত্যাশী এসব নেতাকে ঢাকায় ডাকা হয়েছে।
বরিশাল-৩ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জয়নাল আবেদীন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জয়নাল আবেদীনের নাম চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। এ আসনে তিনিই মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে দাবি সূত্রটির। এ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সত্তার খান, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান আসাদ মনোনয়নপ্রত্যাশী।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) সংসদীয় আসনে ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে মেজবাহ উদ্দীন ফরহাদ বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পান। তবে আগামী নির্বাচনে খসড়া প্রার্থীর তালিকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানের নাম চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহউদ্দীন ফরহাদ, বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য নেতা অ্যাডভোকেট এম হেলাল উদ্দীন, সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল খালেক হাওলাদার, বরিশাল জেলা (উত্তর) বিএনপির আহ্বায়ক দেওয়ান মো. শহিদুল্লাহ।
বরিশালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত বরিশাল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এবারও মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। খসড়া তালিকায় তার নাম রয়েছে। এ লক্ষেই সম্প্রতি সরোয়ারের বলয়ের নেতাদের দিয়েই সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মনোনয়নপ্রত্যাশী মজিবর রহমান সরোয়ারসহ অন্যদের জেলা মহানগর বিএনপি নেতাদের কেন্দ্রে ডেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাবেক সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (পদ স্থগিত) এক সময়ের তুখোড় নেত্রী অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক জেলা এিনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাছরিন আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। এসব নেতাকেও ডাকা হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বরিশাল-৬ বাকেরগঞ্জ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বাক আবুল হোসেন খান আবারও এ আসন থেকে মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক খসড়া তালিকায় তার নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। তবে দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজন মনোনয়ন পেতে এখনো প্রাণপণ চেষ্টা করছেন।
এছাড়া কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক লায়ন নুরুল ইসলাম খান মাসুদ, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট বিএনপির সাবেক সভাপতি সোলায়মান সেরনিয়াবাত নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী।
এদিকে সূত্র জানায়, বরিশাল বিভাগের ২১ আসনের মধ্যে ১৮টিতে প্রার্থী তালিকা ১ থেকে ২ জনের মধ্যে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান জানান, আগামী ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতাদের ঢাকায় ডাকা হয়েছে। দলের জন্য যারা নিবেদিতপ্রাণ তাদের মনোনয়ন দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইতোমধ্যেই বিভিন্নভাবে তিনি প্রার্থীদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। তবে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন, দলের সঙ্গে কখনো বেইমানি করেননি, এমন যোগ্য নেতারাই এবার মনোনয়ন পাবেন বলে দাবি করেন তিনি।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬