কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগে হাবিবুর রহমান হেলালী নামে এক জামায়াত নেতাকে আটক করেছেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে থানায় নিয়ে যান। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দাবি, এটি ‘ষড়যন্ত্র’।
আজ বুধবার সকালে উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের নেয়ামতকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে ওই জামায়াত নেতাকে আটক করে থানায় আনা হয়।
আটক হাবিবুর রহমান হেলালী উপজেলার ধামঘর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির। তাঁর বাড়িও সেখানে। তিনি উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক।
স্থানীয় লোকজনের দাবি, আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করছিলেন হাবিবুর রহমান হেলালী। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে ১ হাজার টাকার দুটি বান্ডিলে নগদ ২ লাখ টাকাসহ হাবিবুর রহমান হেলালীকে আটক করে মুরাদনগর থানায় নেওয়া হয়।
আটকের পর অভিযোগ অস্বীকার করে হাবিবুর রহমান হেলালী দাবি করেন, তাঁর কাছে এত টাকা ছিল না। নির্বাচনী কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত জামায়াতে ইসলামীর এজেন্টদের খাবার খরচের জন্য অল্প কিছু টাকা ছিল। তাঁর গাড়িতে জোর করে অতিরিক্ত টাকা রেখে বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।
একই দাবি করেছেন মুরাদনগর উপজেলা জামায়াতের আমির আ ন ম ইলিয়াস। আজ দুপুরে তিনি বলেন, ‘ওই ইউনিয়নে আমাদের দায়িত্বশীল তেমন কেউ না থাকায় ধামঘর ইউনিয়নের হাবিবুর রহমান হেলালীকে ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আজ সকালে তিনি আমাদের নির্বাচনী এজেন্টদের কাছে যাচ্ছিলেন। এমন সময় স্থানীয় লোকজনের নামে মূলত বিএনপির লোকজন তাঁকে আটক করে। কিন্তু তাঁর সঙ্গে টাকা ছিল না। যারা তাঁকে আটক করেছে, তারাই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একটি বাজারের ব্যাগে দুই লাখ টাকা ভরে ব্যাগটি হাবিবুর রহমান হেলালীর গাড়ির পেছনের মালামাল রাখার জায়গায় রেখে দেয়। বিষয়টি পুরোপুরি তাদের ষড়যন্ত্র। জামায়াতে ইসলামী এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়।’
তবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জামায়াত নেতার এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন। মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘জামায়াত কুমিল্লা-৩ আসনের প্রতিটি এলাকায় এভাবে টাকা বিতরণ করে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নষ্ট করছে। তারা ভোটের পরিবেশ নষ্ট করে উল্টো মিথ্যাচার করছে। আজ সকালে একটি এলাকায় টাকা বিতরণের সময় তাদের একজনকে হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। আমাদের মনে হয়, জামায়াত ভোটের পরিবেশ নষ্ট করে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে।’
আজ বেলা ৩টার দিকে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘টাকা বিতরণের খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এরপর ওই ব্যক্তিকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। যেহেতু ওই ব্যক্তিকে টাকা বিতরণের সময় হাতেনাতে আটক করতে পারেননি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, এ জন্য আমরা বিষয়টি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়েছি। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।’
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে ভোটে লড়ছেন ৯ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি আসনটির পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য। আর ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ইউসুফ সোহেল।’

০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০১
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার মজুদের দায়ে মনিরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক সার ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মনিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।
মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। স্থানীয়দের কাছ থেকে অবৈধভাবে সার মজুদের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, মনিরুল ইসলাম তার গুদাম থেকে বাড়িতে নিয়ে সার মজুদ করছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সার ব্যবস্থাপনা আইনে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন ও কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার মজুদের দায়ে মনিরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক সার ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মনিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।
মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। স্থানীয়দের কাছ থেকে অবৈধভাবে সার মজুদের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, মনিরুল ইসলাম তার গুদাম থেকে বাড়িতে নিয়ে সার মজুদ করছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সার ব্যবস্থাপনা আইনে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন ও কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৮
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বলেন, নাজমুল ঠাকুরের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বলেন, নাজমুল ঠাকুরের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০২
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃতদের তালিকা প্রকাশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহবুবার রহমান ওরফে বাবু, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া, এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন এবং প্রক্টর দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃতদের তালিকা প্রকাশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহবুবার রহমান ওরফে বাবু, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া, এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন এবং প্রক্টর দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়।

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৫৪
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগে হাবিবুর রহমান হেলালী নামে এক জামায়াত নেতাকে আটক করেছেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে থানায় নিয়ে যান। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দাবি, এটি ‘ষড়যন্ত্র’।
আজ বুধবার সকালে উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের নেয়ামতকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুপুরে ওই জামায়াত নেতাকে আটক করে থানায় আনা হয়।
আটক হাবিবুর রহমান হেলালী উপজেলার ধামঘর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির। তাঁর বাড়িও সেখানে। তিনি উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক।
স্থানীয় লোকজনের দাবি, আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করছিলেন হাবিবুর রহমান হেলালী। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে ১ হাজার টাকার দুটি বান্ডিলে নগদ ২ লাখ টাকাসহ হাবিবুর রহমান হেলালীকে আটক করে মুরাদনগর থানায় নেওয়া হয়।
আটকের পর অভিযোগ অস্বীকার করে হাবিবুর রহমান হেলালী দাবি করেন, তাঁর কাছে এত টাকা ছিল না। নির্বাচনী কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত জামায়াতে ইসলামীর এজেন্টদের খাবার খরচের জন্য অল্প কিছু টাকা ছিল। তাঁর গাড়িতে জোর করে অতিরিক্ত টাকা রেখে বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।
একই দাবি করেছেন মুরাদনগর উপজেলা জামায়াতের আমির আ ন ম ইলিয়াস। আজ দুপুরে তিনি বলেন, ‘ওই ইউনিয়নে আমাদের দায়িত্বশীল তেমন কেউ না থাকায় ধামঘর ইউনিয়নের হাবিবুর রহমান হেলালীকে ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আজ সকালে তিনি আমাদের নির্বাচনী এজেন্টদের কাছে যাচ্ছিলেন। এমন সময় স্থানীয় লোকজনের নামে মূলত বিএনপির লোকজন তাঁকে আটক করে। কিন্তু তাঁর সঙ্গে টাকা ছিল না। যারা তাঁকে আটক করেছে, তারাই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একটি বাজারের ব্যাগে দুই লাখ টাকা ভরে ব্যাগটি হাবিবুর রহমান হেলালীর গাড়ির পেছনের মালামাল রাখার জায়গায় রেখে দেয়। বিষয়টি পুরোপুরি তাদের ষড়যন্ত্র। জামায়াতে ইসলামী এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়।’
তবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জামায়াত নেতার এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন। মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘জামায়াত কুমিল্লা-৩ আসনের প্রতিটি এলাকায় এভাবে টাকা বিতরণ করে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নষ্ট করছে। তারা ভোটের পরিবেশ নষ্ট করে উল্টো মিথ্যাচার করছে। আজ সকালে একটি এলাকায় টাকা বিতরণের সময় তাদের একজনকে হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। আমাদের মনে হয়, জামায়াত ভোটের পরিবেশ নষ্ট করে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে।’
আজ বেলা ৩টার দিকে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘টাকা বিতরণের খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এরপর ওই ব্যক্তিকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। যেহেতু ওই ব্যক্তিকে টাকা বিতরণের সময় হাতেনাতে আটক করতে পারেননি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, এ জন্য আমরা বিষয়টি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়েছি। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।’
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে ভোটে লড়ছেন ৯ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি আসনটির পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য। আর ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ইউসুফ সোহেল।’