দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে গ্রামাঞ্চলের মানুষ সহজেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এসএম. জিয়াউদ্দিন হায়দার। শুক্রবার (০৭ অগাস্ট) সকালে বরিশাল শহরের একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মাল্টি সেক্টোরাল অ্যাডভোকেসি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি, ইপিআই, এইচপিভি টিকাদান এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ওপেন এসআরপি কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড চালু হলে প্রত্যেক নাগরিকের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করা যাবে। একই সঙ্গে দেশের যেকোনো স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও সহজ হবে।
তিনি বলেন, সরকার চিকিৎসানির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার দিকে এগোচ্ছে। রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা বেশি কার্যকর। এ কারণে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য সহকারী, পরিবার কল্যাণ সহকারী ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি পরিবারের কাছে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান, মাতৃ ও শিশুসেবা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে।
মাঠপর্যায়ে দায়িত্বশীলতা, কার্যকর তদারকি ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ এবং পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক আবদুর রাজ্জাক।
সভায় বরিশাল বিভাগের সব সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।'

০৮ আগস্ট, ২০২৬ ০১:১২
বরিশালে বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করতে গিয়ে তুমুল বিতর্কে জড়ানোসহ হাস্যরসের জন্ম দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা। উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খান শুক্রবার সকালে লাল ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে সাঁকোটি উদ্বোধন করেন, তার এই মহৎ কর্মের খবর সমাজপাতায় ছড়িয়ে পড়লে দিনভর চলে আলোচনা-সমালোচনা এবং হাস্যরস-উপহাস। বিশেষ করে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কয়েকটিতে এই খবর ফলাও করে প্রকাশ হওয়ায় ফেসবুকে নেটিজেনদেরও সরব হতে দেখা গেছে, বিভিন্ন নেতিবাচক কমেন্টে পোস্টের নিচে প্রকারান্তে সাইবারযুক্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
বিভিন্ন মাধ্যম জানা গেছে, উজিরপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানীয়দের অর্থায়নে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। আনুমানিক ২০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সাঁকোটি উদ্বোধনে শুক্রবার সকালে ওয়ার্ডটিতে যান পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খান। একপর্যায়ে তিনি বেশকিছু নারী-পুরুষকে সাথে নিয়ে লাল ফিতা কেটে সাঁকোটি উদ্বোধন করেন।
শীর্ষস্থানীয় বিএনপি নেতার এই বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন আয়োজনের বেশকিছু ভিডিওচিত্র এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। পাশাপাশি নেটিজেনদের বিষয়টি নিয়ে উপহাস-হাস্যরস করতে দেখা গেছে। অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশিত এই খবর ফলাও করে প্রকাশ হলে স্যোশালমাধ্যম ফেসবুক আরও সগরম হয়ে ওঠে। একাধিক পত্রিকার ফেসবুক পেইজ প্রকাশিত সংবাটির কমেন্ট বক্সে ঘুরে আসলে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্যও পাওয়া যায়। অবশ্য কেউ কেউ আবার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখছেন, তবে এই সংখ্যা অনেকাংশে কম।
তবে এই গোটা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় অনেকে। তাদের দাবি, এলাকার খালটির ওপর সেতু না থাকায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী, বৃদ্ধ ও কর্মজীবী মানুষের চলাচল ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে এই যাত্রা আরও ভয়ানক হয়ে ওঠে। এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। পরিশেষে বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা ফান্ডসংগ্রহ করে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণে উদ্যোগ নেয়, যা শুক্রবার উদ্বোধন করেছেন উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খান। এই বিষয়টিকে নিয়ে ফেসবুকে নোংরামী চলছে। এতে নিজ দলীয় কতিপয় কর্মীরও আস্কারা আছে, অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা।
তবে এই ধরনের সমালোচনা ও অপপ্রচারে তিনি মোটেও বিচলিত নন এবং আগামীতে জনকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে আরও বিস্তৃত করতে চাইছেন।
আত্মপক্ষ সমর্থনে বিএনপি নেতা সরল স্বীকারোক্তি পাওয়া গেলেও ফেসবুকে বিতর্ক কমছে না, বরং ক্ষণেক্ষণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ হাস্যরসের ছলে সাঁকো উদ্বোধনকে বৃহৎ এবং মহৎ কর্ম উল্লেখ করে নেতিবাচক কমেন্ট করেন। পাশাপাশি আরও বিস্তর কমেন্ট দেখা যায়, যা অশ্লীয় ভাষার সংমিশ্রণ এবং বরিশালটাইমসের সম্পাদকীয় নীতিপরিপন্থী হওয়ায় প্রকাশযোগ্য নয়।’
বরিশালে বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করতে গিয়ে তুমুল বিতর্কে জড়ানোসহ হাস্যরসের জন্ম দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা। উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খান শুক্রবার সকালে লাল ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে সাঁকোটি উদ্বোধন করেন, তার এই মহৎ কর্মের খবর সমাজপাতায় ছড়িয়ে পড়লে দিনভর চলে আলোচনা-সমালোচনা এবং হাস্যরস-উপহাস। বিশেষ করে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কয়েকটিতে এই খবর ফলাও করে প্রকাশ হওয়ায় ফেসবুকে নেটিজেনদেরও সরব হতে দেখা গেছে, বিভিন্ন নেতিবাচক কমেন্টে পোস্টের নিচে প্রকারান্তে সাইবারযুক্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
বিভিন্ন মাধ্যম জানা গেছে, উজিরপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানীয়দের অর্থায়নে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। আনুমানিক ২০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সাঁকোটি উদ্বোধনে শুক্রবার সকালে ওয়ার্ডটিতে যান পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খান। একপর্যায়ে তিনি বেশকিছু নারী-পুরুষকে সাথে নিয়ে লাল ফিতা কেটে সাঁকোটি উদ্বোধন করেন।
শীর্ষস্থানীয় বিএনপি নেতার এই বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন আয়োজনের বেশকিছু ভিডিওচিত্র এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। পাশাপাশি নেটিজেনদের বিষয়টি নিয়ে উপহাস-হাস্যরস করতে দেখা গেছে। অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশিত এই খবর ফলাও করে প্রকাশ হলে স্যোশালমাধ্যম ফেসবুক আরও সগরম হয়ে ওঠে। একাধিক পত্রিকার ফেসবুক পেইজ প্রকাশিত সংবাটির কমেন্ট বক্সে ঘুরে আসলে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্যও পাওয়া যায়। অবশ্য কেউ কেউ আবার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখছেন, তবে এই সংখ্যা অনেকাংশে কম।
তবে এই গোটা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় অনেকে। তাদের দাবি, এলাকার খালটির ওপর সেতু না থাকায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী, বৃদ্ধ ও কর্মজীবী মানুষের চলাচল ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে এই যাত্রা আরও ভয়ানক হয়ে ওঠে। এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। পরিশেষে বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা ফান্ডসংগ্রহ করে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণে উদ্যোগ নেয়, যা শুক্রবার উদ্বোধন করেছেন উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খান। এই বিষয়টিকে নিয়ে ফেসবুকে নোংরামী চলছে। এতে নিজ দলীয় কতিপয় কর্মীরও আস্কারা আছে, অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা।
তবে এই ধরনের সমালোচনা ও অপপ্রচারে তিনি মোটেও বিচলিত নন এবং আগামীতে জনকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে আরও বিস্তৃত করতে চাইছেন।
আত্মপক্ষ সমর্থনে বিএনপি নেতা সরল স্বীকারোক্তি পাওয়া গেলেও ফেসবুকে বিতর্ক কমছে না, বরং ক্ষণেক্ষণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ হাস্যরসের ছলে সাঁকো উদ্বোধনকে বৃহৎ এবং মহৎ কর্ম উল্লেখ করে নেতিবাচক কমেন্ট করেন। পাশাপাশি আরও বিস্তর কমেন্ট দেখা যায়, যা অশ্লীয় ভাষার সংমিশ্রণ এবং বরিশালটাইমসের সম্পাদকীয় নীতিপরিপন্থী হওয়ায় প্রকাশযোগ্য নয়।’

০৭ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৩৬
কয়েক সপ্তাহের টানা বর্ষণে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদীর অংশে অসংখ্য খানাখন্দে ভরে গেছে। সড়কের কোথাও কোথাও বিটুমিন (পিচ)-পাথর একাকার হয়ে উপড়ে জেগে উঠছে টিউমারের ন্যায়। আবার কোথাও সৃষ্টি হয়েছে, হচ্ছে ছোটবড় গর্ত, যা দেখে বোঝার উপায় এটা নেই এটা ব্যস্ততম ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল দশায় চরম জনদুর্ভোগে আছেন দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীরা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে গৌরনদী উপজলোর ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে দক্ষিণ উজিরপুর সীমান্ত পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের অসংখ্য স্থানে ছোট-বড় গর্তের চিত্র।
বিশেষ করে ব্যস্ততম টরকী বাসষ্টান্ড, মদিনা স্টান্ড, গৌরনদী বাসষ্টান্ড হয়ে আশোকাঠী, কাসেমাবাদ, মাহিলাড়া, বাটাজোর, বামরাইল বাসষ্ট্যান্ডের অবস্থা সবচেয়ে বেহাল।
এসব বাসষ্ট্যান্ডের সড়কের মাঝখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারনে চরম ঝুঁকির মধ্যে যানবাহন চলাচল করছে।
বিপর্যস্ত এ মহাসড়কের গর্তের মধ্যে ইট দিয়ে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করে যাচ্ছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কয়েকদিনের টানা বর্ষনে জনজীবনের ন্যায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সড়কের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়নি। মহাসড়কের যেসব জায়গা প্রশস্ত করা হয়েছে। তা উচু-নিচু হওয়ায় যানবাহন চলাচল করতে পারছেনা।
আবার কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। সরু সড়কে অসংখ্য গর্তের পাশাপাশি চালকদের বেপরোয়াগতি এবং বিবেকহীন প্রতিযোগিতায় প্রতিদিনই দূর্ঘটনা ঘটছে।
তারা আরও জানিয়েছেন-সড়ক ও জনপদ বিভাগ ইট দিয়ে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে ভারি যানবাহনের চাঁপায় ইট গুড়ো হয়ে ধুলোর সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ছোট যানবাহনের চালক ও পথচারীরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘ বছর ধরে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় মহাসড়কের গৌরনদী অংশের অবস্থা চরম বেহাল।
একাধিক চালকরা জানিয়েছেন, মহাসড়কের গৌরনদী অংশের কোথাও খানাখন্দ আবার কোথাও ঢেউয়ের মত উচু-নিচু।
ফলে উচু-নিচু এ মহাসড়ক পার হতে মালবাহী ও যাত্রীবাহী পরিবহনের চাকা গর্তে পড়ে ইঞ্জিন ও টায়ার-টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পাশাপাশি যাত্রীদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবী জানিয়েছেন চালকরা।
এ বিষয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ষ্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্তে ভরে গেছে। এছাড়াও মূল অংশের সঙ্গে বর্ধিত অংশ উচি-নিচু হওয়ায় কম প্রশস্ত সড়ক দিয়ে ওভার স্পীডে যানবাহনগুলো যাতায়ত করে। তাছাড়া মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী থ্রি-হুইলারগুলো বর্ধিত অংশে না গিয়ে মূল সড়কে চলাচল করে। যে কারনে সড়কে দূর্ঘটনা লেগেই আছে। সড়কটি সম্পূর্ন বর্ধিত করে মেরামত করা হলে এবং চালকদের সচেতন করে তোলা হলে এ মহাসড়কে দূর্ঘটনা কমে আসবে।
বরিশাল সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিন খান জানিয়েছেন, ভারি বর্ষার কারনে সড়কের কোথাও কোথাও গর্ত হয়েছে। সেগুলো আমরা মেরামতের করে যাচ্ছি। তবে বৃষ্টির কারনে তা টেকসই হচ্ছেনা।
কয়েক সপ্তাহের টানা বর্ষণে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদীর অংশে অসংখ্য খানাখন্দে ভরে গেছে। সড়কের কোথাও কোথাও বিটুমিন (পিচ)-পাথর একাকার হয়ে উপড়ে জেগে উঠছে টিউমারের ন্যায়। আবার কোথাও সৃষ্টি হয়েছে, হচ্ছে ছোটবড় গর্ত, যা দেখে বোঝার উপায় এটা নেই এটা ব্যস্ততম ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল দশায় চরম জনদুর্ভোগে আছেন দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীরা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে গৌরনদী উপজলোর ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে দক্ষিণ উজিরপুর সীমান্ত পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের অসংখ্য স্থানে ছোট-বড় গর্তের চিত্র।
বিশেষ করে ব্যস্ততম টরকী বাসষ্টান্ড, মদিনা স্টান্ড, গৌরনদী বাসষ্টান্ড হয়ে আশোকাঠী, কাসেমাবাদ, মাহিলাড়া, বাটাজোর, বামরাইল বাসষ্ট্যান্ডের অবস্থা সবচেয়ে বেহাল।
এসব বাসষ্ট্যান্ডের সড়কের মাঝখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারনে চরম ঝুঁকির মধ্যে যানবাহন চলাচল করছে।
বিপর্যস্ত এ মহাসড়কের গর্তের মধ্যে ইট দিয়ে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করে যাচ্ছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কয়েকদিনের টানা বর্ষনে জনজীবনের ন্যায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সড়কের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়নি। মহাসড়কের যেসব জায়গা প্রশস্ত করা হয়েছে। তা উচু-নিচু হওয়ায় যানবাহন চলাচল করতে পারছেনা।
আবার কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। সরু সড়কে অসংখ্য গর্তের পাশাপাশি চালকদের বেপরোয়াগতি এবং বিবেকহীন প্রতিযোগিতায় প্রতিদিনই দূর্ঘটনা ঘটছে।
তারা আরও জানিয়েছেন-সড়ক ও জনপদ বিভাগ ইট দিয়ে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে ভারি যানবাহনের চাঁপায় ইট গুড়ো হয়ে ধুলোর সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ছোট যানবাহনের চালক ও পথচারীরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘ বছর ধরে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় মহাসড়কের গৌরনদী অংশের অবস্থা চরম বেহাল।
একাধিক চালকরা জানিয়েছেন, মহাসড়কের গৌরনদী অংশের কোথাও খানাখন্দ আবার কোথাও ঢেউয়ের মত উচু-নিচু।
ফলে উচু-নিচু এ মহাসড়ক পার হতে মালবাহী ও যাত্রীবাহী পরিবহনের চাকা গর্তে পড়ে ইঞ্জিন ও টায়ার-টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পাশাপাশি যাত্রীদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবী জানিয়েছেন চালকরা।
এ বিষয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ষ্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্তে ভরে গেছে। এছাড়াও মূল অংশের সঙ্গে বর্ধিত অংশ উচি-নিচু হওয়ায় কম প্রশস্ত সড়ক দিয়ে ওভার স্পীডে যানবাহনগুলো যাতায়ত করে। তাছাড়া মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী থ্রি-হুইলারগুলো বর্ধিত অংশে না গিয়ে মূল সড়কে চলাচল করে। যে কারনে সড়কে দূর্ঘটনা লেগেই আছে। সড়কটি সম্পূর্ন বর্ধিত করে মেরামত করা হলে এবং চালকদের সচেতন করে তোলা হলে এ মহাসড়কে দূর্ঘটনা কমে আসবে।
বরিশাল সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিন খান জানিয়েছেন, ভারি বর্ষার কারনে সড়কের কোথাও কোথাও গর্ত হয়েছে। সেগুলো আমরা মেরামতের করে যাচ্ছি। তবে বৃষ্টির কারনে তা টেকসই হচ্ছেনা।

০৭ আগস্ট, ২০২৬ ২২:২১
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, প্রত্যয়নপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত প্রত্যয়নসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো সেবাগ্রহীতা। এ পরিস্থিতির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলটন চন্দ্র পালের কিছু সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন ইউনিয়ন পরিষদসমূহের চেয়ারম্যান ও পরিষদের সচিবরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা ও মাসিক সমন্বয় সভায় উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ফলে তারা সভায় অংশ নিতে পারেননি। চেয়ারম্যানদের দাবি, তাদের কাউকেই দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়নি এবং তারা স্বেচ্ছায়ও কারও কাছে দায়িত্ব অর্পণ করেননি।
উপজেলার চারাদি, দাড়িয়াল, দুধল, ফরিদপুর, কবাই, নলুয়া, কলসকাঠি, গারুড়িয়া, ভরপাশা, রঙ্গশ্রী ও পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানান, সভায় আমন্ত্রণ না পাওয়ায় তারা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। তাদের ভাষ্য, পরিষদের চেয়ারম্যানদের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হলে পরিষদের সচিবদের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চেয়ারম্যানদের পরিষদের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই ইউনিয়ন পরিষদগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
কবাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক বাদল তালুকদার বলেন, সারাদেশে বহু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হলেও কোথাও প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। যদি বাকেরগঞ্জে প্রশাসক নিয়োগের গেজেট হয়ে থাকে, সেটি আমাদের দেখানো হলে আমরা নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব বুঝিয়ে দেব। কিন্তু মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় আমন্ত্রণ না দিয়ে আমাদের অবজ্ঞা করা হয়েছে।
রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন পরিষদ সচিব আবুল বাশার জনবানীকে বলেন, গত ৪ আগস্ট ইউএনও তাদের কার্যালয়ে ডেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে এবং প্রশাসক নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করার কথা বলেন। তবে তারা এতে সম্মত না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও তার মনগড়া সিদ্ধান্তে চেয়ারম্যানদের পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। পরিষদে নতুন কোন নির্বাচিত চেয়ারম্যান না হওয়া পর্যন্ত সকল কার্যক্রম সাবেক চেয়ারম্যানদেরই করার কথা। তবে ইউএনও বিশেষ উদ্দেশ ও নিজের স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে পরিষদে প্রশাসক নিয়োগে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
এদিকে, চেয়ারম্যানদের সঙ্গে প্রশাসনিক জটিলতার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। দাড়িয়াল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা খাদিজা বেগম জানান, তিনি তিন দিন ধরে ওয়ারিশ সনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েও সেবা পাননি।
এছাড়া, কয়েকজন চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন যে, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করেই বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নামে সরকারি বরাদ্দের অর্থ বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে তারা কোনো নথিপত্র উপস্থাপন করেননি এবং বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাসিক সভায় আমন্ত্রণ জানানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নাজিরের। তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। প্রশাসক নিয়োগের গেজেট সংক্রান্ত প্রশ্নেরও তিনি সরাসরি জবাব দেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তারা দ্রুত বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং নাগরিক সেবা স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয়ে জানতে বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং বলেন, বাকেরগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবেন।
বরিশালটাইমস/ জিয়াউল হক, বাকেরগঞ্জ
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, প্রত্যয়নপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত প্রত্যয়নসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো সেবাগ্রহীতা। এ পরিস্থিতির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলটন চন্দ্র পালের কিছু সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন ইউনিয়ন পরিষদসমূহের চেয়ারম্যান ও পরিষদের সচিবরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা ও মাসিক সমন্বয় সভায় উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ফলে তারা সভায় অংশ নিতে পারেননি। চেয়ারম্যানদের দাবি, তাদের কাউকেই দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়নি এবং তারা স্বেচ্ছায়ও কারও কাছে দায়িত্ব অর্পণ করেননি।
উপজেলার চারাদি, দাড়িয়াল, দুধল, ফরিদপুর, কবাই, নলুয়া, কলসকাঠি, গারুড়িয়া, ভরপাশা, রঙ্গশ্রী ও পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানান, সভায় আমন্ত্রণ না পাওয়ায় তারা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। তাদের ভাষ্য, পরিষদের চেয়ারম্যানদের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হলে পরিষদের সচিবদের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চেয়ারম্যানদের পরিষদের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই ইউনিয়ন পরিষদগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
কবাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক বাদল তালুকদার বলেন, সারাদেশে বহু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হলেও কোথাও প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। যদি বাকেরগঞ্জে প্রশাসক নিয়োগের গেজেট হয়ে থাকে, সেটি আমাদের দেখানো হলে আমরা নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব বুঝিয়ে দেব। কিন্তু মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় আমন্ত্রণ না দিয়ে আমাদের অবজ্ঞা করা হয়েছে।
রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন পরিষদ সচিব আবুল বাশার জনবানীকে বলেন, গত ৪ আগস্ট ইউএনও তাদের কার্যালয়ে ডেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে এবং প্রশাসক নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করার কথা বলেন। তবে তারা এতে সম্মত না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও তার মনগড়া সিদ্ধান্তে চেয়ারম্যানদের পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। পরিষদে নতুন কোন নির্বাচিত চেয়ারম্যান না হওয়া পর্যন্ত সকল কার্যক্রম সাবেক চেয়ারম্যানদেরই করার কথা। তবে ইউএনও বিশেষ উদ্দেশ ও নিজের স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে পরিষদে প্রশাসক নিয়োগে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
এদিকে, চেয়ারম্যানদের সঙ্গে প্রশাসনিক জটিলতার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। দাড়িয়াল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা খাদিজা বেগম জানান, তিনি তিন দিন ধরে ওয়ারিশ সনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েও সেবা পাননি।
এছাড়া, কয়েকজন চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন যে, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করেই বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নামে সরকারি বরাদ্দের অর্থ বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে তারা কোনো নথিপত্র উপস্থাপন করেননি এবং বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাসিক সভায় আমন্ত্রণ জানানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নাজিরের। তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। প্রশাসক নিয়োগের গেজেট সংক্রান্ত প্রশ্নেরও তিনি সরাসরি জবাব দেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তারা দ্রুত বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং নাগরিক সেবা স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয়ে জানতে বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং বলেন, বাকেরগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবেন।
বরিশালটাইমস/ জিয়াউল হক, বাকেরগঞ্জ

০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:১৩
দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে গ্রামাঞ্চলের মানুষ সহজেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এসএম. জিয়াউদ্দিন হায়দার। শুক্রবার (০৭ অগাস্ট) সকালে বরিশাল শহরের একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মাল্টি সেক্টোরাল অ্যাডভোকেসি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি, ইপিআই, এইচপিভি টিকাদান এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ওপেন এসআরপি কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড চালু হলে প্রত্যেক নাগরিকের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করা যাবে। একই সঙ্গে দেশের যেকোনো স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও সহজ হবে।
তিনি বলেন, সরকার চিকিৎসানির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার দিকে এগোচ্ছে। রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা বেশি কার্যকর। এ কারণে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য সহকারী, পরিবার কল্যাণ সহকারী ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি পরিবারের কাছে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান, মাতৃ ও শিশুসেবা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে।
মাঠপর্যায়ে দায়িত্বশীলতা, কার্যকর তদারকি ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ এবং পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক আবদুর রাজ্জাক।
সভায় বরিশাল বিভাগের সব সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।'
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ০১:১২
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৩৬
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ২২:২১
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৫০