বরগুনার পাথরঘাটা উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জলদস্যুদের তৎপরতা। একের পর এক অপহরণ, লুটপাট ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন জেলেরা।
নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক জেলে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না, যার ফলে জীবিকা সংকটে পড়েছে হাজারো জেলে পরিবার এবং বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে সামুদ্রিক মৎস্য খাত।
স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিকদের অভিযোগ, এক সময় বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে জলদস্যু কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে নজরদারি কমায় তারা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গভীর সাগরে ট্রলার ঘিরে ফেলা, মারধর, জাল ও মাছ লুট এবং জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করার ঘটনা এখন নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি সুন্দরবন সংলগ্ন কটকা এলাকায় পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা গ্রামের আব্দুল সরদারসহ চার জেলেকে অপহরণ করে জলদস্যুরা। পরে প্রায় চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাদের ছাড়িয়ে আনেন।
ফিরে আসা আব্দুল সরদার জানান, দস্যুরা তাকে পায়ে শিকল দিয়ে চার দিন আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে। তিনি বলেন, “গভীর রাতে ট্রলারের শব্দ পেয়ে আমরা বাতি নিভিয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাদের ধরে ফেলে। জালে আটকে থাকায় ট্রলার নিতে না পেরে আমাকে তুলে নিয়ে যায় এবং প্রতিদিন মারধর করে।”
এছাড়া গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা স্লুইজ এলাকায় নোঙর করা একটি ট্রলার থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর পাহারাদার মিরাজুলকে তুলে নিয়ে যায় দস্যুরা। একই সঙ্গে ট্রলারটিও ছিনতাই করা হয় বলে জানা গেছে।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “জেলেদের একের পর এক অপহরণ করা হচ্ছে। অনেকে মুক্তিপণ দিয়ে ফেরত আসছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।”
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, “এ ধরনের ঘটনার নির্ভরযোগ্য তথ্য বা লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাগরে প্রশাসনিক টহল রয়েছে এবং প্রয়োজনে তা আরও জোরদার করা হবে।”
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। একদিকে দস্যুদের ভয়, অন্যদিকে ঋণের বোঝা—সব মিলিয়ে উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের জীবন এখন বিপর্যস্ত।

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৪৮
বরগুনার আমতলীতে আমড়া ও লেবু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮ বছরের এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হোসেন হাওলাদার আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে শিশুটি সহপাঠীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি মসজিদে আরবি পড়তে যাচ্ছিল। পথে হোসেন হাওলাদার আমড়া ও লেবু দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন বলে অভিযোগ। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে সহপাঠীরা তার চাচিকে খবর দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সাত দিনেও কোনো সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শিশুটির বাবা বলেন, মসজিদে যাওয়ার পথে তার মেয়েকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তের স্ত্রী মমতাজ বেগম। তার দাবি, জমি নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বরগুনার আমতলীতে আমড়া ও লেবু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮ বছরের এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হোসেন হাওলাদার আমতলী উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট বিকেলে শিশুটি সহপাঠীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি মসজিদে আরবি পড়তে যাচ্ছিল। পথে হোসেন হাওলাদার আমড়া ও লেবু দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন বলে অভিযোগ। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে সহপাঠীরা তার চাচিকে খবর দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সাত দিনেও কোনো সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শিশুটির বাবা বলেন, মসজিদে যাওয়ার পথে তার মেয়েকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তের স্ত্রী মমতাজ বেগম। তার দাবি, জমি নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, শিশুটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:২৫
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে বরগুনার নিখোঁজ পাঁচ জেলের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তার নাম সাইকুল মীর (৪৫)। তিনি পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদাত মীরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে দুটি ট্রলার পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযানে মঙ্গলবার বিকালের দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারের স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এই জেলের লাশ ভাসতে দেখেন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটার ঘাটে পৌঁছান।
বরগুনা জেলা মৎস্য মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে আমাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক দুটি ট্রলার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে ডুবুরি দলও পাঠানো হয়। তবে সেখানে আমাদের উদ্ধার অভিযানে যাও দুটি ট্রলার নিখোঁজদের খুঁজতে থাকে, পরে বিকালে একজনের লাশ ভাসতে দেখে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে করে আজ সকালে ঘাটে পৌঁছায়। তবে আমাদের উদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, অন্য নিখোঁজ চার জেলেদের জন্য।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ‘এফবি বরকত’ ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও পাঁচ জন।
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে বরগুনার নিখোঁজ পাঁচ জেলের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তার নাম সাইকুল মীর (৪৫)। তিনি পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদাত মীরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে দুটি ট্রলার পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযানে মঙ্গলবার বিকালের দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারের স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এই জেলের লাশ ভাসতে দেখেন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটার ঘাটে পৌঁছান।
বরগুনা জেলা মৎস্য মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে আমাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক দুটি ট্রলার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে ডুবুরি দলও পাঠানো হয়। তবে সেখানে আমাদের উদ্ধার অভিযানে যাও দুটি ট্রলার নিখোঁজদের খুঁজতে থাকে, পরে বিকালে একজনের লাশ ভাসতে দেখে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে করে আজ সকালে ঘাটে পৌঁছায়। তবে আমাদের উদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, অন্য নিখোঁজ চার জেলেদের জন্য।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ‘এফবি বরকত’ ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও পাঁচ জন।

২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৫২
বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে বরগুনার পাথরঘাটার মাছ ধরার ট্রলার ‘এফবি বরকত’ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজের ২২ ঘণ্টা পর পাঁচ জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) গভীর সমুদ্র থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
ট্রলারটির মালিক ও মাঝি বাদল মোল্লা সাংবাদিকদের জানান, গভীর সমুদ্র থেকে পাঁচ জেলের লাশ উদ্ধার করে একটি ট্রলার বর্তমানে উপকূলের দিকে ফিরছে। পাথরঘাটায় পৌঁছাতে তাদের প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর আট জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও পাঁচজন।
নিখোঁজ পাঁচ জেলে হলেন—নুর আলম (৩৭), কাওসার (৩০), সাইকুল (৩৩), ইব্রাহিম (২৮) ও বেল্লাল (২২)। তাদের বাড়ি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়।
উদ্ধার হওয়া জেলে ও ট্রলারের বাবুর্চি ইউনুস মোল্লা জানান, দুর্ঘটনার সময় সাগরে প্রচণ্ড ঝড় ও তুফান চলছিল। জাল ফেলার প্রস্তুতির মধ্যে ক্লান্ত হয়ে কয়েকজন জেলে ট্রলারের ব্রিজের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড় ও ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উলটে যায়। পরে আট জেলে প্রায় দুই ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকার পর অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলারে উঠে প্রাণে বাঁচেন।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে একটি ট্রলার পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত পাঁচ জেলের লাশের সন্ধান পাওয়া যায়।
বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে বরগুনার পাথরঘাটার মাছ ধরার ট্রলার ‘এফবি বরকত’ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজের ২২ ঘণ্টা পর পাঁচ জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) গভীর সমুদ্র থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
ট্রলারটির মালিক ও মাঝি বাদল মোল্লা সাংবাদিকদের জানান, গভীর সমুদ্র থেকে পাঁচ জেলের লাশ উদ্ধার করে একটি ট্রলার বর্তমানে উপকূলের দিকে ফিরছে। পাথরঘাটায় পৌঁছাতে তাদের প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর আট জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও পাঁচজন।
নিখোঁজ পাঁচ জেলে হলেন—নুর আলম (৩৭), কাওসার (৩০), সাইকুল (৩৩), ইব্রাহিম (২৮) ও বেল্লাল (২২)। তাদের বাড়ি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়।
উদ্ধার হওয়া জেলে ও ট্রলারের বাবুর্চি ইউনুস মোল্লা জানান, দুর্ঘটনার সময় সাগরে প্রচণ্ড ঝড় ও তুফান চলছিল। জাল ফেলার প্রস্তুতির মধ্যে ক্লান্ত হয়ে কয়েকজন জেলে ট্রলারের ব্রিজের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড় ও ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উলটে যায়। পরে আট জেলে প্রায় দুই ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকার পর অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলারে উঠে প্রাণে বাঁচেন।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে একটি ট্রলার পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত পাঁচ জেলের লাশের সন্ধান পাওয়া যায়।

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:১৬
বরগুনার পাথরঘাটা উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জলদস্যুদের তৎপরতা। একের পর এক অপহরণ, লুটপাট ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন জেলেরা।
নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক জেলে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না, যার ফলে জীবিকা সংকটে পড়েছে হাজারো জেলে পরিবার এবং বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে সামুদ্রিক মৎস্য খাত।
স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিকদের অভিযোগ, এক সময় বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে জলদস্যু কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে নজরদারি কমায় তারা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গভীর সাগরে ট্রলার ঘিরে ফেলা, মারধর, জাল ও মাছ লুট এবং জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করার ঘটনা এখন নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি সুন্দরবন সংলগ্ন কটকা এলাকায় পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা গ্রামের আব্দুল সরদারসহ চার জেলেকে অপহরণ করে জলদস্যুরা। পরে প্রায় চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাদের ছাড়িয়ে আনেন।
ফিরে আসা আব্দুল সরদার জানান, দস্যুরা তাকে পায়ে শিকল দিয়ে চার দিন আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে। তিনি বলেন, “গভীর রাতে ট্রলারের শব্দ পেয়ে আমরা বাতি নিভিয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাদের ধরে ফেলে। জালে আটকে থাকায় ট্রলার নিতে না পেরে আমাকে তুলে নিয়ে যায় এবং প্রতিদিন মারধর করে।”
এছাড়া গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা স্লুইজ এলাকায় নোঙর করা একটি ট্রলার থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর পাহারাদার মিরাজুলকে তুলে নিয়ে যায় দস্যুরা। একই সঙ্গে ট্রলারটিও ছিনতাই করা হয় বলে জানা গেছে।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “জেলেদের একের পর এক অপহরণ করা হচ্ছে। অনেকে মুক্তিপণ দিয়ে ফেরত আসছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।”
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, “এ ধরনের ঘটনার নির্ভরযোগ্য তথ্য বা লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাগরে প্রশাসনিক টহল রয়েছে এবং প্রয়োজনে তা আরও জোরদার করা হবে।”
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। একদিকে দস্যুদের ভয়, অন্যদিকে ঋণের বোঝা—সব মিলিয়ে উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের জীবন এখন বিপর্যস্ত।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬