ঈদের ছুটি শেষে লঞ্চ ও বাসে যাত্রী চাপ বেড়ে যাওয়ায় কাউন্টারে মিলছে না টিকিট। অধিকাংশ বাস কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকেও টিকিট কিনতে ব্যর্থ হচ্ছে যাত্রীরা। তাই বাধ্য হয়ে দেড় থেকে দুই গুণেরও বেশি টাকায় দালালদের কাছ টিকিট কিনতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।
এ কারণে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। তবে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টার্মিনালগুলোতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
বুধবার (১২ জুন) বরিশাল নৌবন্দর ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদে সরেজমিনে দেখা গেছে। তথ্য মতে, যাত্রী সামাল দিতে প্রতিদিন ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে ভায়া ও সরাসরি মিলিয়ে অর্ধ ডজন বিলাসবহুল নৌযান যাত্রী পরিবহণ করছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, এ রুটের লঞ্চে এক হাজার টাকার সিঙ্গেল কেবিন ১২শ ও ২ হাজার টাকার ডাবল কেবিন হয়েছে ২৪০০ টাকায় বিক্রি করলেও তা পাচ্ছে না সাধারণ যাত্রীরা। কারণ এসব টিকিট আগেই দখলে নিয়েছে কালোবাজারিরা।
ফলে কাউন্টার বা নৌবন্দরে গিয়েও মিলছে টিকিট। তাই বাধ্য হয়ে যাত্রীদের দেড় বা দুইগুণ বেশি দামে সেই টিকিট কিনতে হচ্ছে নৌবন্দরে থাকা দালাল চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে। লেদু, ইমাম, বসির, খোকনসহ ডজনখানেক ব্যক্তি টিকিট কালোবাজারি করে থাকেন বলে অভিযোগ যাত্রীদের। এছাড়া এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রী হয়রানির অভিযোগে কীর্তনখোলা ১০ লঞ্চের মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কোস্টগার্ড।
এদিকে ঢাকা-বরিশাল সড়ক পথে অধিকাংশ বাসের অগ্রিম সকল টিকিট বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে ওয়েবসাইট থেকে উধাও হয়ে গেছে। ফলে সাধারণ যাত্রীরা ওয়েবসাইটে ঢুকে টিকিট কিনতে ব্যর্থ হয়েছে। কাউন্টারেও মিলছে না টিকিট।
পরে সাড়ে ৫শ টাকার টিকিট এক হাজার থেকে ১২শ টাকায় দালালদের কাছ থেকে কিনতে হয়েছে যাত্রীদের। ফলে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বরিশাল কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল নথুল্লাবাদে কাশেম ও মান্নানের নামে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ রয়েছে।
চালাল চক্রের সদস্যরা অগ্রিম টিকিট বিক্রির সময় বিভিন্ন কৌশলে তা দখলে নিয়ে নেয়। এর সঙ্গে লঞ্চ ও বাসের কাউন্টারের এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারীরাও জড়িত বলে জানা গেছে। তবে বেশ কয়েকটি লঞ্চ ও বাস কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে তারা নিয়মানুযায়ী ভাড়া আদায় করছে।
বাসযাত্রী ইমতিয়াজ অমিত বলেন, ১৪ তারিখ ঢাকা যাওয়ার জন্য টিকিট কিনতে একটি বাস কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করি। তখন বিক্রির জন্য টিকিট উন্মুক্ত করার পর দুটি সিট অবিক্রীত দেখতে পাই। তখন ওই একটি সিট কিনতে চেষ্টা করেও পারিনি। পরে স্বাভাবিক সময়ের সাড়ে ৫শ টাকার বাসের টিকিট দালালদের কাছ থেকে কিনতে হয়েছে ১২০০ টাকায়।
লঞ্চ যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, লঞ্চের কাউন্টারে ঘুরেও কেবিনের একটি টিকিট কিনতে পারিনি। পরে লঞ্চঘাটে থাকা একজন দালালের কাছ থেকে দ্বিগুণ দামে কেবিনের টিকিট কিনতে হয়েছে। আর যাত্রী হয়রানিও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি তার।
বিজ্ঞাপন
বরিশাল সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসীম কুমার বলেন, আমি বিষয়টি অবগত নই। দালালদের ধরতে অভিযান চালানো হবে। তাছাড়া আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলেও ব্যবস্থা নেব।
বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের উপ-পরিচালক সেলিম রেজা জানান, দালালদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে। যাত্রী হয়রানিসহ যেকোনো অভিযোগ পেলেই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বরিশাল নগর পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, লঞ্চ ও বাসটার্মিনালে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধসহ শতভাগ যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সদস্যরাও রয়েছেন। স্থায়ীভাবে এ সংকট দূর করতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর কর্মকর্তাসহ জনসাধারণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা কামনা করেন তিনি।

২২ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৩২
দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।
তিনি জানান, সভায় ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও বরিশালের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে তিনটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত বরিশাল (রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা) রুটটি বেছে নেওয়া হয়েছে। এই রুটে মহাসড়ক নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াতে সমন্বিত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার এই উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রস্তাবিত রুটে বিদ্যমান সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি নতুন সড়ক নির্মাণ এবং তিনটি ছোট সেতু নির্মাণ করতে হবে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা দ্রুত যাচাই করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভোলার সঙ্গে বরিশাল, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হবে। এতে যাতায়াতের সময় ও খরচ— দুটিই কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
নদীবেষ্টিত হওয়ায় ভোলার মানুষের যোগাযোগে দীর্ঘদিন ধরে নৌপথের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। নতুন সড়ক সংযোগ তৈরি হলে সেই নির্ভরতা কমবে।
সভায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটের বড় সুবিধা হলো দূরত্ব, সময় ও ব্যয় সাশ্রয়।
বিশেষ করে ঢাকা ও বরিশালের সঙ্গে ভোলার যোগাযোগে এটি একটি কার্যকর বিকল্প পথ হয়ে উঠতে পারে।
সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদসূত্র: বাসস।
দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।
তিনি জানান, সভায় ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও বরিশালের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে তিনটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত বরিশাল (রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা) রুটটি বেছে নেওয়া হয়েছে। এই রুটে মহাসড়ক নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াতে সমন্বিত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার এই উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রস্তাবিত রুটে বিদ্যমান সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি নতুন সড়ক নির্মাণ এবং তিনটি ছোট সেতু নির্মাণ করতে হবে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা দ্রুত যাচাই করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভোলার সঙ্গে বরিশাল, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হবে। এতে যাতায়াতের সময় ও খরচ— দুটিই কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
নদীবেষ্টিত হওয়ায় ভোলার মানুষের যোগাযোগে দীর্ঘদিন ধরে নৌপথের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। নতুন সড়ক সংযোগ তৈরি হলে সেই নির্ভরতা কমবে।
সভায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটের বড় সুবিধা হলো দূরত্ব, সময় ও ব্যয় সাশ্রয়।
বিশেষ করে ঢাকা ও বরিশালের সঙ্গে ভোলার যোগাযোগে এটি একটি কার্যকর বিকল্প পথ হয়ে উঠতে পারে।
সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদসূত্র: বাসস।

২১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০৬
চরমোনাই পির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘোষণা দিলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ভোট দিয়েছেন দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য (এমপি) মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। অবশ্য দলের নেতাদের দাবি, দলীয় আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের সিদ্ধান্তে অলিউল্লাহ ভোট দিতে যান। দলটির প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ সাংবাদিকদের বলেন, ইসলামী আন্দোলনের এমপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠায় ইসলামী আন্দোলন। বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাওয়ায় তারা এ নির্বাচনে ভোট দেবেন না। বিবৃতি এবং ভোট দেওয়ার বিষয়ে জানতে গাজী আতাউর রহমান ও অলিউল্লাহর মোবাইলে কয়েকবার ফোন করা হলেও তারা ধরেননি।
ইসলামী আন্দোলনের বিবৃতিতে আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে সংকট, তার অন্যতম কারণ দলীয় রাষ্ট্রপতি। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন বিষয়ে বেশ কিছু নীতিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিএনপিরও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) ছিল না। তারা প্রত্যাশা করেছিল, জুলাই সনদের সেই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া নীতিকে মান্য করে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু তা যেহেতু হয়নি, তাই এ নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে তারা সমীচীন মনে করছে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই সনদে একমত হওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে রাষ্ট্রপতি শিরোনামে ধারা-১০-এ বর্ণিত হয়েছে যে রাষ্ট্রপতি আইনসভার উভয় কক্ষের (উচ্চ ও নিম্নকক্ষ) সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হবেন। এ ধারায় বিএনপিও একমত হয়েছিল। ধারা-২৮-এ বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দান প্রসঙ্গে অর্থ বিল ও আস্থা ভোট বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। এ বিষয়ে বিএনপিসহ সবাই একমত হয়েছে। এই দুটি বিষয়ের কোনোটিই মান্য করা হচ্ছে না। এটা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়।’
চরমোনাই পির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘোষণা দিলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ভোট দিয়েছেন দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য (এমপি) মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। অবশ্য দলের নেতাদের দাবি, দলীয় আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের সিদ্ধান্তে অলিউল্লাহ ভোট দিতে যান। দলটির প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ সাংবাদিকদের বলেন, ইসলামী আন্দোলনের এমপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠায় ইসলামী আন্দোলন। বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাওয়ায় তারা এ নির্বাচনে ভোট দেবেন না। বিবৃতি এবং ভোট দেওয়ার বিষয়ে জানতে গাজী আতাউর রহমান ও অলিউল্লাহর মোবাইলে কয়েকবার ফোন করা হলেও তারা ধরেননি।
ইসলামী আন্দোলনের বিবৃতিতে আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে সংকট, তার অন্যতম কারণ দলীয় রাষ্ট্রপতি। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন বিষয়ে বেশ কিছু নীতিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিএনপিরও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) ছিল না। তারা প্রত্যাশা করেছিল, জুলাই সনদের সেই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া নীতিকে মান্য করে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু তা যেহেতু হয়নি, তাই এ নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে তারা সমীচীন মনে করছে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই সনদে একমত হওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে রাষ্ট্রপতি শিরোনামে ধারা-১০-এ বর্ণিত হয়েছে যে রাষ্ট্রপতি আইনসভার উভয় কক্ষের (উচ্চ ও নিম্নকক্ষ) সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হবেন। এ ধারায় বিএনপিও একমত হয়েছিল। ধারা-২৮-এ বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দান প্রসঙ্গে অর্থ বিল ও আস্থা ভোট বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। এ বিষয়ে বিএনপিসহ সবাই একমত হয়েছে। এই দুটি বিষয়ের কোনোটিই মান্য করা হচ্ছে না। এটা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়।’

২০ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:১৫
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ হাজার চারা গাছ বিতরণ করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব গাছের চারা বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল অডিটোরিয়ামে চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এবং বিসিসির সচিব রুম্পা শিকদার।
এছাড়া বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বনায়ন শাখার কর্মকর্তা এবং বরিশাল নগরীর বিভিন্ন কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সর্বমোট ১৪৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার গাছের চারা প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ নগরী গড়ে তুলতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নগরবাসীকে এই সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।'
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ হাজার চারা গাছ বিতরণ করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব গাছের চারা বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল অডিটোরিয়ামে চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এবং বিসিসির সচিব রুম্পা শিকদার।
এছাড়া বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বনায়ন শাখার কর্মকর্তা এবং বরিশাল নগরীর বিভিন্ন কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সর্বমোট ১৪৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার গাছের চারা প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ নগরী গড়ে তুলতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নগরবাসীকে এই সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।'

১২ জুন, ২০২৫ ১২:১৪
ঈদের ছুটি শেষে লঞ্চ ও বাসে যাত্রী চাপ বেড়ে যাওয়ায় কাউন্টারে মিলছে না টিকিট। অধিকাংশ বাস কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকেও টিকিট কিনতে ব্যর্থ হচ্ছে যাত্রীরা। তাই বাধ্য হয়ে দেড় থেকে দুই গুণেরও বেশি টাকায় দালালদের কাছ টিকিট কিনতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।
এ কারণে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। তবে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টার্মিনালগুলোতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
বুধবার (১২ জুন) বরিশাল নৌবন্দর ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদে সরেজমিনে দেখা গেছে। তথ্য মতে, যাত্রী সামাল দিতে প্রতিদিন ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে ভায়া ও সরাসরি মিলিয়ে অর্ধ ডজন বিলাসবহুল নৌযান যাত্রী পরিবহণ করছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, এ রুটের লঞ্চে এক হাজার টাকার সিঙ্গেল কেবিন ১২শ ও ২ হাজার টাকার ডাবল কেবিন হয়েছে ২৪০০ টাকায় বিক্রি করলেও তা পাচ্ছে না সাধারণ যাত্রীরা। কারণ এসব টিকিট আগেই দখলে নিয়েছে কালোবাজারিরা।
ফলে কাউন্টার বা নৌবন্দরে গিয়েও মিলছে টিকিট। তাই বাধ্য হয়ে যাত্রীদের দেড় বা দুইগুণ বেশি দামে সেই টিকিট কিনতে হচ্ছে নৌবন্দরে থাকা দালাল চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে। লেদু, ইমাম, বসির, খোকনসহ ডজনখানেক ব্যক্তি টিকিট কালোবাজারি করে থাকেন বলে অভিযোগ যাত্রীদের। এছাড়া এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রী হয়রানির অভিযোগে কীর্তনখোলা ১০ লঞ্চের মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কোস্টগার্ড।
এদিকে ঢাকা-বরিশাল সড়ক পথে অধিকাংশ বাসের অগ্রিম সকল টিকিট বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে ওয়েবসাইট থেকে উধাও হয়ে গেছে। ফলে সাধারণ যাত্রীরা ওয়েবসাইটে ঢুকে টিকিট কিনতে ব্যর্থ হয়েছে। কাউন্টারেও মিলছে না টিকিট।
পরে সাড়ে ৫শ টাকার টিকিট এক হাজার থেকে ১২শ টাকায় দালালদের কাছ থেকে কিনতে হয়েছে যাত্রীদের। ফলে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বরিশাল কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল নথুল্লাবাদে কাশেম ও মান্নানের নামে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ রয়েছে।
চালাল চক্রের সদস্যরা অগ্রিম টিকিট বিক্রির সময় বিভিন্ন কৌশলে তা দখলে নিয়ে নেয়। এর সঙ্গে লঞ্চ ও বাসের কাউন্টারের এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারীরাও জড়িত বলে জানা গেছে। তবে বেশ কয়েকটি লঞ্চ ও বাস কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে তারা নিয়মানুযায়ী ভাড়া আদায় করছে।
বাসযাত্রী ইমতিয়াজ অমিত বলেন, ১৪ তারিখ ঢাকা যাওয়ার জন্য টিকিট কিনতে একটি বাস কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করি। তখন বিক্রির জন্য টিকিট উন্মুক্ত করার পর দুটি সিট অবিক্রীত দেখতে পাই। তখন ওই একটি সিট কিনতে চেষ্টা করেও পারিনি। পরে স্বাভাবিক সময়ের সাড়ে ৫শ টাকার বাসের টিকিট দালালদের কাছ থেকে কিনতে হয়েছে ১২০০ টাকায়।
লঞ্চ যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, লঞ্চের কাউন্টারে ঘুরেও কেবিনের একটি টিকিট কিনতে পারিনি। পরে লঞ্চঘাটে থাকা একজন দালালের কাছ থেকে দ্বিগুণ দামে কেবিনের টিকিট কিনতে হয়েছে। আর যাত্রী হয়রানিও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি তার।
বিজ্ঞাপন
বরিশাল সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসীম কুমার বলেন, আমি বিষয়টি অবগত নই। দালালদের ধরতে অভিযান চালানো হবে। তাছাড়া আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলেও ব্যবস্থা নেব।
বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের উপ-পরিচালক সেলিম রেজা জানান, দালালদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে। যাত্রী হয়রানিসহ যেকোনো অভিযোগ পেলেই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বরিশাল নগর পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, লঞ্চ ও বাসটার্মিনালে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধসহ শতভাগ যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সদস্যরাও রয়েছেন। স্থায়ীভাবে এ সংকট দূর করতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর কর্মকর্তাসহ জনসাধারণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা কামনা করেন তিনি।
২৭ আগস্ট, ২০২৬ ০২:০৯
২৬ আগস্ট, ২০২৬ ২০:১৪
২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৫৬
২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৫৭