ঈদের ছুটি শেষে লঞ্চ ও বাসে যাত্রী চাপ বেড়ে যাওয়ায় কাউন্টারে মিলছে না টিকিট। অধিকাংশ বাস কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকেও টিকিট কিনতে ব্যর্থ হচ্ছে যাত্রীরা। তাই বাধ্য হয়ে দেড় থেকে দুই গুণেরও বেশি টাকায় দালালদের কাছ টিকিট কিনতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।
এ কারণে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। তবে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টার্মিনালগুলোতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
বুধবার (১২ জুন) বরিশাল নৌবন্দর ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদে সরেজমিনে দেখা গেছে। তথ্য মতে, যাত্রী সামাল দিতে প্রতিদিন ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে ভায়া ও সরাসরি মিলিয়ে অর্ধ ডজন বিলাসবহুল নৌযান যাত্রী পরিবহণ করছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, এ রুটের লঞ্চে এক হাজার টাকার সিঙ্গেল কেবিন ১২শ ও ২ হাজার টাকার ডাবল কেবিন হয়েছে ২৪০০ টাকায় বিক্রি করলেও তা পাচ্ছে না সাধারণ যাত্রীরা। কারণ এসব টিকিট আগেই দখলে নিয়েছে কালোবাজারিরা।
ফলে কাউন্টার বা নৌবন্দরে গিয়েও মিলছে টিকিট। তাই বাধ্য হয়ে যাত্রীদের দেড় বা দুইগুণ বেশি দামে সেই টিকিট কিনতে হচ্ছে নৌবন্দরে থাকা দালাল চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে। লেদু, ইমাম, বসির, খোকনসহ ডজনখানেক ব্যক্তি টিকিট কালোবাজারি করে থাকেন বলে অভিযোগ যাত্রীদের। এছাড়া এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রী হয়রানির অভিযোগে কীর্তনখোলা ১০ লঞ্চের মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কোস্টগার্ড।
এদিকে ঢাকা-বরিশাল সড়ক পথে অধিকাংশ বাসের অগ্রিম সকল টিকিট বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে ওয়েবসাইট থেকে উধাও হয়ে গেছে। ফলে সাধারণ যাত্রীরা ওয়েবসাইটে ঢুকে টিকিট কিনতে ব্যর্থ হয়েছে। কাউন্টারেও মিলছে না টিকিট।
পরে সাড়ে ৫শ টাকার টিকিট এক হাজার থেকে ১২শ টাকায় দালালদের কাছ থেকে কিনতে হয়েছে যাত্রীদের। ফলে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বরিশাল কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল নথুল্লাবাদে কাশেম ও মান্নানের নামে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ রয়েছে।
চালাল চক্রের সদস্যরা অগ্রিম টিকিট বিক্রির সময় বিভিন্ন কৌশলে তা দখলে নিয়ে নেয়। এর সঙ্গে লঞ্চ ও বাসের কাউন্টারের এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারীরাও জড়িত বলে জানা গেছে। তবে বেশ কয়েকটি লঞ্চ ও বাস কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে তারা নিয়মানুযায়ী ভাড়া আদায় করছে।
বাসযাত্রী ইমতিয়াজ অমিত বলেন, ১৪ তারিখ ঢাকা যাওয়ার জন্য টিকিট কিনতে একটি বাস কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করি। তখন বিক্রির জন্য টিকিট উন্মুক্ত করার পর দুটি সিট অবিক্রীত দেখতে পাই। তখন ওই একটি সিট কিনতে চেষ্টা করেও পারিনি। পরে স্বাভাবিক সময়ের সাড়ে ৫শ টাকার বাসের টিকিট দালালদের কাছ থেকে কিনতে হয়েছে ১২০০ টাকায়।
লঞ্চ যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, লঞ্চের কাউন্টারে ঘুরেও কেবিনের একটি টিকিট কিনতে পারিনি। পরে লঞ্চঘাটে থাকা একজন দালালের কাছ থেকে দ্বিগুণ দামে কেবিনের টিকিট কিনতে হয়েছে। আর যাত্রী হয়রানিও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি তার।
বিজ্ঞাপন
বরিশাল সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসীম কুমার বলেন, আমি বিষয়টি অবগত নই। দালালদের ধরতে অভিযান চালানো হবে। তাছাড়া আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলেও ব্যবস্থা নেব।
বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের উপ-পরিচালক সেলিম রেজা জানান, দালালদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে। যাত্রী হয়রানিসহ যেকোনো অভিযোগ পেলেই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বরিশাল নগর পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, লঞ্চ ও বাসটার্মিনালে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধসহ শতভাগ যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সদস্যরাও রয়েছেন। স্থায়ীভাবে এ সংকট দূর করতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর কর্মকর্তাসহ জনসাধারণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা কামনা করেন তিনি।

২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৫২
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে সরকারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও পাঁচজন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার ও পুলিশের কর্মকর্তারা।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল থেকে রাজশাহীগামী আরপি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। বাসটি পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছিল। অন্যদিকে ট্রাকটি কুড়িগ্রাম থেকে পাবনার দিকে যাচ্ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে অংশ নেন। আহতদের উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাটোর জেনারেল হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনায় বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বাসচালক সোহেল রানা (৪০), রাজশাহীর বাগমারার আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের আট বছর বয়সী তাসফিয়া খাতুন এবং শরীয়তপুরের জাজিরা এলাকার কয়েকজন বাসযাত্রী। বাকিদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
এদিকে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নাটোর জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে।’
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে সরকারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও পাঁচজন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার ও পুলিশের কর্মকর্তারা।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল থেকে রাজশাহীগামী আরপি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। বাসটি পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছিল। অন্যদিকে ট্রাকটি কুড়িগ্রাম থেকে পাবনার দিকে যাচ্ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে অংশ নেন। আহতদের উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাটোর জেনারেল হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনায় বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বাসচালক সোহেল রানা (৪০), রাজশাহীর বাগমারার আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের আট বছর বয়সী তাসফিয়া খাতুন এবং শরীয়তপুরের জাজিরা এলাকার কয়েকজন বাসযাত্রী। বাকিদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
এদিকে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নাটোর জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে।’

১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০১
সরকারি বরিশাল কলেজের পুকুরের ভরাট করা অংশ থেকে বালু সরিয়ে জলাশয়টি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কলেজ অধ্যক্ষকে সাত কর্মদিবসের সময় বেঁধে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি। রোববার (১৮ অক্টোবর) পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা কার্যালয় থেকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।
নগরীর উত্তর মল্লিক রোডে অবস্থিত কলেজটির পুকুরে রাতের আঁধারে ট্রাকে করে বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বালু অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
কলেজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট নিরসনে ওই জমিতে ১০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। এ জন্য মাটির পরীক্ষা বা সয়েল টেস্টও করা হয়। সেই কাজের অংশ হিসেবে ডোবার একাংশে বালু ফেলা শুরু হয়েছিল। পরিবেশ অধিদপ্তর আপত্তি জানানোর পর কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন বলেন, সরকারি বরিশাল কলেজে আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমছে। এ পরিস্থিতিতে কলেজের প্রবেশমুখে মসজিদসংলগ্ন এক একর জমির অর্ধেক অংশে ছাত্রাবাস নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
তিনি দাবি করেন, ডোবার অর্ধেক আগেই ভরাট করা হয়েছে। বাকি অংশে ক্লিনিকের বর্জ্য ও আশপাশের বাসিন্দাদের ফেলা ময়লায় মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। ডোবাটি ভরাট করে টিন-কাঠের আবাসন নির্মাণ করা হলে অন্তত ২৫ শিক্ষার্থীর থাকার ব্যবস্থা করা যেত।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জমির শ্রেণি পরিবর্তন বা ভরাটের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি হলেও নির্ধারিত জলাশয় ইচ্ছামতো ভরাটের সুযোগ নেই। বিশেষ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল বিভাগের সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন বলেন, বরিশালে জলাশয় রক্ষায় আদালতেও মামলা হয়েছে। সরকারি বরিশাল কলেজের পুকুর ভরাটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য কবি হেনরী স্বপন বলেন, এর আগেও একাধিকবার সরকারি বরিশাল কলেজের পুকুর ভরাটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নাগরিকদের আন্দোলনের কারণে সেসব উদ্যোগ সফল হয়নি।
এদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, নিয়ম না মেনেই কলেজ কর্তৃপক্ষ পুকুরে বালু ফেলে ভরাটের কাজ শুরু করেছিল। খবর পেয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।
এখন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে ভরাট করা বালু সরিয়ে পুকুরটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কথা রয়েছে।'
সরকারি বরিশাল কলেজের পুকুরের ভরাট করা অংশ থেকে বালু সরিয়ে জলাশয়টি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কলেজ অধ্যক্ষকে সাত কর্মদিবসের সময় বেঁধে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি। রোববার (১৮ অক্টোবর) পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা কার্যালয় থেকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।
নগরীর উত্তর মল্লিক রোডে অবস্থিত কলেজটির পুকুরে রাতের আঁধারে ট্রাকে করে বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বালু অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
কলেজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট নিরসনে ওই জমিতে ১০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। এ জন্য মাটির পরীক্ষা বা সয়েল টেস্টও করা হয়। সেই কাজের অংশ হিসেবে ডোবার একাংশে বালু ফেলা শুরু হয়েছিল। পরিবেশ অধিদপ্তর আপত্তি জানানোর পর কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন বলেন, সরকারি বরিশাল কলেজে আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমছে। এ পরিস্থিতিতে কলেজের প্রবেশমুখে মসজিদসংলগ্ন এক একর জমির অর্ধেক অংশে ছাত্রাবাস নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
তিনি দাবি করেন, ডোবার অর্ধেক আগেই ভরাট করা হয়েছে। বাকি অংশে ক্লিনিকের বর্জ্য ও আশপাশের বাসিন্দাদের ফেলা ময়লায় মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। ডোবাটি ভরাট করে টিন-কাঠের আবাসন নির্মাণ করা হলে অন্তত ২৫ শিক্ষার্থীর থাকার ব্যবস্থা করা যেত।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জমির শ্রেণি পরিবর্তন বা ভরাটের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি হলেও নির্ধারিত জলাশয় ইচ্ছামতো ভরাটের সুযোগ নেই। বিশেষ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল বিভাগের সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন বলেন, বরিশালে জলাশয় রক্ষায় আদালতেও মামলা হয়েছে। সরকারি বরিশাল কলেজের পুকুর ভরাটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য কবি হেনরী স্বপন বলেন, এর আগেও একাধিকবার সরকারি বরিশাল কলেজের পুকুর ভরাটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নাগরিকদের আন্দোলনের কারণে সেসব উদ্যোগ সফল হয়নি।
এদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, নিয়ম না মেনেই কলেজ কর্তৃপক্ষ পুকুরে বালু ফেলে ভরাটের কাজ শুরু করেছিল। খবর পেয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।
এখন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে ভরাট করা বালু সরিয়ে পুকুরটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কথা রয়েছে।'

১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৫৩
বরিশাল নগরীতে অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে নগরীর বিএম কলেজ রোডের তালভিটা লেন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. নয়ন (২৫) এবং তাঁর স্ত্রী মুক্তা আক্তার (২৯)। তাঁরা নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের তালভিটা লেনের কাশেম মহলের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বরিশালের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ খোরশিদ আলমের পাঠানো তথ্যে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সকালে বিএম কলেজসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন ওই দুজনকে তল্লাশি করে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি ইনফিনিক্স স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে।'
বরিশাল নগরীতে অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে নগরীর বিএম কলেজ রোডের তালভিটা লেন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. নয়ন (২৫) এবং তাঁর স্ত্রী মুক্তা আক্তার (২৯)। তাঁরা নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের তালভিটা লেনের কাশেম মহলের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বরিশালের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ খোরশিদ আলমের পাঠানো তথ্যে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সকালে বিএম কলেজসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন ওই দুজনকে তল্লাশি করে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি ইনফিনিক্স স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে।'

১২ জুন, ২০২৫ ১২:১৪
ঈদের ছুটি শেষে লঞ্চ ও বাসে যাত্রী চাপ বেড়ে যাওয়ায় কাউন্টারে মিলছে না টিকিট। অধিকাংশ বাস কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকেও টিকিট কিনতে ব্যর্থ হচ্ছে যাত্রীরা। তাই বাধ্য হয়ে দেড় থেকে দুই গুণেরও বেশি টাকায় দালালদের কাছ টিকিট কিনতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।
এ কারণে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। তবে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টার্মিনালগুলোতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
বুধবার (১২ জুন) বরিশাল নৌবন্দর ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদে সরেজমিনে দেখা গেছে। তথ্য মতে, যাত্রী সামাল দিতে প্রতিদিন ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে ভায়া ও সরাসরি মিলিয়ে অর্ধ ডজন বিলাসবহুল নৌযান যাত্রী পরিবহণ করছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, এ রুটের লঞ্চে এক হাজার টাকার সিঙ্গেল কেবিন ১২শ ও ২ হাজার টাকার ডাবল কেবিন হয়েছে ২৪০০ টাকায় বিক্রি করলেও তা পাচ্ছে না সাধারণ যাত্রীরা। কারণ এসব টিকিট আগেই দখলে নিয়েছে কালোবাজারিরা।
ফলে কাউন্টার বা নৌবন্দরে গিয়েও মিলছে টিকিট। তাই বাধ্য হয়ে যাত্রীদের দেড় বা দুইগুণ বেশি দামে সেই টিকিট কিনতে হচ্ছে নৌবন্দরে থাকা দালাল চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে। লেদু, ইমাম, বসির, খোকনসহ ডজনখানেক ব্যক্তি টিকিট কালোবাজারি করে থাকেন বলে অভিযোগ যাত্রীদের। এছাড়া এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রী হয়রানির অভিযোগে কীর্তনখোলা ১০ লঞ্চের মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কোস্টগার্ড।
এদিকে ঢাকা-বরিশাল সড়ক পথে অধিকাংশ বাসের অগ্রিম সকল টিকিট বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে ওয়েবসাইট থেকে উধাও হয়ে গেছে। ফলে সাধারণ যাত্রীরা ওয়েবসাইটে ঢুকে টিকিট কিনতে ব্যর্থ হয়েছে। কাউন্টারেও মিলছে না টিকিট।
পরে সাড়ে ৫শ টাকার টিকিট এক হাজার থেকে ১২শ টাকায় দালালদের কাছ থেকে কিনতে হয়েছে যাত্রীদের। ফলে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বরিশাল কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল নথুল্লাবাদে কাশেম ও মান্নানের নামে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ রয়েছে।
চালাল চক্রের সদস্যরা অগ্রিম টিকিট বিক্রির সময় বিভিন্ন কৌশলে তা দখলে নিয়ে নেয়। এর সঙ্গে লঞ্চ ও বাসের কাউন্টারের এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারীরাও জড়িত বলে জানা গেছে। তবে বেশ কয়েকটি লঞ্চ ও বাস কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে তারা নিয়মানুযায়ী ভাড়া আদায় করছে।
বাসযাত্রী ইমতিয়াজ অমিত বলেন, ১৪ তারিখ ঢাকা যাওয়ার জন্য টিকিট কিনতে একটি বাস কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করি। তখন বিক্রির জন্য টিকিট উন্মুক্ত করার পর দুটি সিট অবিক্রীত দেখতে পাই। তখন ওই একটি সিট কিনতে চেষ্টা করেও পারিনি। পরে স্বাভাবিক সময়ের সাড়ে ৫শ টাকার বাসের টিকিট দালালদের কাছ থেকে কিনতে হয়েছে ১২০০ টাকায়।
লঞ্চ যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, লঞ্চের কাউন্টারে ঘুরেও কেবিনের একটি টিকিট কিনতে পারিনি। পরে লঞ্চঘাটে থাকা একজন দালালের কাছ থেকে দ্বিগুণ দামে কেবিনের টিকিট কিনতে হয়েছে। আর যাত্রী হয়রানিও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি তার।
বিজ্ঞাপন
বরিশাল সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসীম কুমার বলেন, আমি বিষয়টি অবগত নই। দালালদের ধরতে অভিযান চালানো হবে। তাছাড়া আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলেও ব্যবস্থা নেব।
বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের উপ-পরিচালক সেলিম রেজা জানান, দালালদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে। যাত্রী হয়রানিসহ যেকোনো অভিযোগ পেলেই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বরিশাল নগর পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, লঞ্চ ও বাসটার্মিনালে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধসহ শতভাগ যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সদস্যরাও রয়েছেন। স্থায়ীভাবে এ সংকট দূর করতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর কর্মকর্তাসহ জনসাধারণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা কামনা করেন তিনি।
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২০
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১১
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৫৮