রাষ্ট্রদ্রোহ ও অন্যায় প্রভাব খাটিয়ে প্রহসনের নির্বাচন দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর শেরে বাংলা থানার মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ক্ষমতার লোভ শেখ মুজিবও সামলাতে পারেননি।
নির্বাচন কমিশনের অসহায়ত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মৌলিক সংস্কার ছাড়া আগামী ১ হাজার বছরেও এদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) এ মামলায় রিমান্ড শুনানিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। এসময় তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক শামসুজ্জোহা সরকার এ আবেদন করেন।
শুনানিকালে দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে তোলা হয়। এসময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে দশ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন।
শুনানিতে তিনি বলেন, এই আসামি ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার আমলে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি এদেশে কলঙ্কজনক নির্বাচন হয়। সেই ডামি নির্বাচনে আ.লীগ ও ২/১টি দল ছাড়া আর কেউ অংশ নেয়নি।
সেই নির্বাচন ছিল ডামি নির্বাচন, একতরফা, লোক দেখানো ও প্রহসনের নির্বাচন। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিতে পারেননি। তখন তিনি (আউয়াল) বলেছেন, ‘কেউ নির্বাচনে না এলে আমি কি বসে থাকবো?’ তিনি ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে চলে যান। অন্যায় করেছেন বলেই তিনি গা ঢাকা দেন।
শুনানিতে ওমর ফারুক আরও বলেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘সারাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে’। এত বড় মিথ্যা বলে তিনি কীভাবে তার ফ্যামিলির সামনে মুখ দেখান। ওইদিন সকাল ৮টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ২৭.১৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানান।
তার এক ঘণ্টা পর ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানান। অথচ আমরা দেখেছি কেন্দ্রগুলোতে কোনো মানুষ ছিল না। কুকুর-বিড়াল কেন্দ্রে শুয়ে আছে। ওই এক ঘণ্টা তিনি কোথায় ছিলেন জানতে চাইলে গণমাধ্যমকে বলেন, ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। কতটা হাস্যকর কথাবার্তা।
শুনানিতে সরকারি এই কৌঁসুলি আরও বলেন, আসামির বিরুদ্ধে তৎকালীন সরকারের সঙ্গে আঁতাত করার অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনে থোক বরাদ্দ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। সংবিধান বহির্ভূত বক্তব্য দিয়ে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহ করেছেন। আমরা তার সর্বোচ্চ রিমান্ড প্রার্থনা করছি।
আসামি পক্ষের আইনজীবী এমিল হাসান রুমেল তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে বলেন, তার বয়স ৭০। তিনি অনেক দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছেন। আমরা যেন ফ্যাসিস্ট দমাতে গিয়ে নিজেরা ফ্যাসিস্ট না হয়ে যাই।
এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, প্রসিকিউশনের বক্তব্যের সঙ্গে আমিও একমত। নির্বাচনটি ডামি ও প্রহসনের নির্বাচন ছিল। এসময় তাকে থামিয়ে বিচারক বলেন, প্রত্যেক জেলায় নির্বাচনী ইনকোয়ারি কমিটি করা হয়।
যেখানে যুগ্ম জেলা জজ পদমর্যাদার একজন দায়িত্বে থাকেন। আগে যার ভাতা ছিল ২২ হাজার টাকা সেটা আপনি ৫ লাখে উন্নীত করেছেন। এতে কি জনগণের টাকা অপচয় হয়নি? এ বিষয়ে তার জানা নেই জানিয়ে বলেন, পাঁচ বছরের মুদ্রাস্ফীতি হিসেব করে হয়তো ভাতা বাড়ানো হয়েছিল।
এরপর বিচারক আবারও বলেন, এই যে ইনকোয়ারি কমিটি করা হয়েছিল নির্বাচনের সময় কোথাও কী তারা সরেজমিনে গিয়েছিলেন? তখন আউয়াল বলেন, একজন রিটার্নিং অফিসারের অধীনে ৪-৫টা সংসদীয় আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাকে সহযোগিতা করতে আরও ৪-৫ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার থাকেন। একটা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করার জন্য ২ ভাগ দায়িত্ব কমিশনের বাকি ৯৮ ভাগ দায়িত্ব মাঠ পর্যায়ে কাজ করা অফিসারদের।
নির্বাচনের আগে এমন অবস্থা জেনে আপনি পদত্যাগ করলেন না কেন? বিচারকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই অবস্থায় পদত্যাগ করা সম্ভব ছিল না। আমার এক বন্ধুও আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল পদত্যাগের কথা, আমি বলেছি তুমি যদি আগে বলতা এমন ভয়ংকর নির্বাচন হবে তাহলে আমি দায়িত্বই নিতাম না।
আউয়াল পূর্বের নির্বাচনের কথা তুলে ধরে বলেন, ৭২ এর সংবিধান প্রণয়নের তিন মাসের মাথায় অনুষ্ঠিত ৭৩ এর নির্বাচনে আ.লীগ ২৯৩টি আসন পায়। সেই নির্বাচনও সুষ্ঠু ছিল না। ক্ষমতার লোভ এমন যে শেখ মুজিবও তা সামলাতে পারেননি। ৯৬ সালে আ.লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করে। পরবর্তী সময়ে তারাই আবার দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সংবিধান সংশোধন করে।
এসময় পাবলিক প্রসিকিউটর উত্তেজিত হয়ে আদালতকে বলেন, তিনি নিজেকে জাস্টিফাই করছেন। তার এসব বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। এসময় আউয়াল বলেন, জাস্টিফাই না করতে দিলে রিভলবার দিয়ে গুলি করে মেরে ফেলেন। এসময় উপস্থিত আইনজীবীরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে এজলাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।
নির্বাচন কমিশনের অসহায়ত্ব তুলে ধরে আউয়াল আরও বলেন, মৌলিক সংস্কার ছাড়া আগামী ১ হাজার বছরেও এদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আধ ঘণ্টার দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
এর আগে বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর মগবাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আওয়ামী লীগ আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আসামি করে মামলা করে বিএনপি। মামলায় মোট ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত ২২ জুন বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহউদ্দিন খান বাদী হয়ে এ মামলা করেন। এছাড়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, এ কে এম শহীদুল হক, জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজির আহমেদ ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও আসামি করা হয়েছে এ মামলায়।

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪৬

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২১

০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৪৫

২৬ জুন, ২০২৫ ১৫:৫৪
রাষ্ট্রদ্রোহ ও অন্যায় প্রভাব খাটিয়ে প্রহসনের নির্বাচন দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর শেরে বাংলা থানার মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ক্ষমতার লোভ শেখ মুজিবও সামলাতে পারেননি।
নির্বাচন কমিশনের অসহায়ত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মৌলিক সংস্কার ছাড়া আগামী ১ হাজার বছরেও এদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) এ মামলায় রিমান্ড শুনানিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। এসময় তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক শামসুজ্জোহা সরকার এ আবেদন করেন।
শুনানিকালে দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে তোলা হয়। এসময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে দশ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন।
শুনানিতে তিনি বলেন, এই আসামি ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার আমলে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি এদেশে কলঙ্কজনক নির্বাচন হয়। সেই ডামি নির্বাচনে আ.লীগ ও ২/১টি দল ছাড়া আর কেউ অংশ নেয়নি।
সেই নির্বাচন ছিল ডামি নির্বাচন, একতরফা, লোক দেখানো ও প্রহসনের নির্বাচন। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিতে পারেননি। তখন তিনি (আউয়াল) বলেছেন, ‘কেউ নির্বাচনে না এলে আমি কি বসে থাকবো?’ তিনি ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে চলে যান। অন্যায় করেছেন বলেই তিনি গা ঢাকা দেন।
শুনানিতে ওমর ফারুক আরও বলেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘সারাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে’। এত বড় মিথ্যা বলে তিনি কীভাবে তার ফ্যামিলির সামনে মুখ দেখান। ওইদিন সকাল ৮টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ২৭.১৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানান।
তার এক ঘণ্টা পর ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানান। অথচ আমরা দেখেছি কেন্দ্রগুলোতে কোনো মানুষ ছিল না। কুকুর-বিড়াল কেন্দ্রে শুয়ে আছে। ওই এক ঘণ্টা তিনি কোথায় ছিলেন জানতে চাইলে গণমাধ্যমকে বলেন, ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। কতটা হাস্যকর কথাবার্তা।
শুনানিতে সরকারি এই কৌঁসুলি আরও বলেন, আসামির বিরুদ্ধে তৎকালীন সরকারের সঙ্গে আঁতাত করার অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনে থোক বরাদ্দ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। সংবিধান বহির্ভূত বক্তব্য দিয়ে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহ করেছেন। আমরা তার সর্বোচ্চ রিমান্ড প্রার্থনা করছি।
আসামি পক্ষের আইনজীবী এমিল হাসান রুমেল তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে বলেন, তার বয়স ৭০। তিনি অনেক দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছেন। আমরা যেন ফ্যাসিস্ট দমাতে গিয়ে নিজেরা ফ্যাসিস্ট না হয়ে যাই।
এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, প্রসিকিউশনের বক্তব্যের সঙ্গে আমিও একমত। নির্বাচনটি ডামি ও প্রহসনের নির্বাচন ছিল। এসময় তাকে থামিয়ে বিচারক বলেন, প্রত্যেক জেলায় নির্বাচনী ইনকোয়ারি কমিটি করা হয়।
যেখানে যুগ্ম জেলা জজ পদমর্যাদার একজন দায়িত্বে থাকেন। আগে যার ভাতা ছিল ২২ হাজার টাকা সেটা আপনি ৫ লাখে উন্নীত করেছেন। এতে কি জনগণের টাকা অপচয় হয়নি? এ বিষয়ে তার জানা নেই জানিয়ে বলেন, পাঁচ বছরের মুদ্রাস্ফীতি হিসেব করে হয়তো ভাতা বাড়ানো হয়েছিল।
এরপর বিচারক আবারও বলেন, এই যে ইনকোয়ারি কমিটি করা হয়েছিল নির্বাচনের সময় কোথাও কী তারা সরেজমিনে গিয়েছিলেন? তখন আউয়াল বলেন, একজন রিটার্নিং অফিসারের অধীনে ৪-৫টা সংসদীয় আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাকে সহযোগিতা করতে আরও ৪-৫ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার থাকেন। একটা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করার জন্য ২ ভাগ দায়িত্ব কমিশনের বাকি ৯৮ ভাগ দায়িত্ব মাঠ পর্যায়ে কাজ করা অফিসারদের।
নির্বাচনের আগে এমন অবস্থা জেনে আপনি পদত্যাগ করলেন না কেন? বিচারকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই অবস্থায় পদত্যাগ করা সম্ভব ছিল না। আমার এক বন্ধুও আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল পদত্যাগের কথা, আমি বলেছি তুমি যদি আগে বলতা এমন ভয়ংকর নির্বাচন হবে তাহলে আমি দায়িত্বই নিতাম না।
আউয়াল পূর্বের নির্বাচনের কথা তুলে ধরে বলেন, ৭২ এর সংবিধান প্রণয়নের তিন মাসের মাথায় অনুষ্ঠিত ৭৩ এর নির্বাচনে আ.লীগ ২৯৩টি আসন পায়। সেই নির্বাচনও সুষ্ঠু ছিল না। ক্ষমতার লোভ এমন যে শেখ মুজিবও তা সামলাতে পারেননি। ৯৬ সালে আ.লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করে। পরবর্তী সময়ে তারাই আবার দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সংবিধান সংশোধন করে।
এসময় পাবলিক প্রসিকিউটর উত্তেজিত হয়ে আদালতকে বলেন, তিনি নিজেকে জাস্টিফাই করছেন। তার এসব বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। এসময় আউয়াল বলেন, জাস্টিফাই না করতে দিলে রিভলবার দিয়ে গুলি করে মেরে ফেলেন। এসময় উপস্থিত আইনজীবীরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে এজলাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।
নির্বাচন কমিশনের অসহায়ত্ব তুলে ধরে আউয়াল আরও বলেন, মৌলিক সংস্কার ছাড়া আগামী ১ হাজার বছরেও এদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আধ ঘণ্টার দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
এর আগে বুধবার (২৫ জুন) রাজধানীর মগবাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আওয়ামী লীগ আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আসামি করে মামলা করে বিএনপি। মামলায় মোট ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত ২২ জুন বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহউদ্দিন খান বাদী হয়ে এ মামলা করেন। এছাড়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, এ কে এম শহীদুল হক, জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজির আহমেদ ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও আসামি করা হয়েছে এ মামলায়।
ট্রাস্টের নামে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ ও আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিভিন্ন ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা ফান্ড (সিএসআর) থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে এই টাকা সংগ্রহ করা হয়।
মামলায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারকেও আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলা করেন। পরে দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর অনুকূলে সংগ্রহ করেন। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ‘দ্য ট্রাস্টস অ্যাক্ট, ১৮৮২’-এর আওতায় শেখ হাসিনা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি এবং শেখ রেহানা ছিলেন সহ-সভাপতি। ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এজহারে দুদক জানায়, সংস্থাটি বাংলাদেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে। এতে দেখা যায়, তৎকালীন বিএবি সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার তার প্রভাব খাটিয়ে বিএবির নির্বাহী কমিটির সভায় আলোচ্যসূচিতে না থাকা সত্ত্বেও ‘বিবিধ’ আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করেন। পরে নির্বাহী কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ট্রাস্টের অনুকূলে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।
দুদকের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী ‘পলিসি গাইডলাইন অন করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ফর ব্যাংকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস’-এ সিএসআর অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে নির্দেশনা থাকলেও ট্রাস্টে এ ধরনের অনুদান দেওয়ার কোনো বিধান নেই।
এজাহারে আরও বলা হয়, দুদকের সরেজমিন পরিদর্শনে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর ঠিকানায় দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ট্রাস্টটি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাস্টের প্রতিশ্রুত কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রমাণও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ব্যক্তিগত লাভের অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলে বিএবির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ফান্ড থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, বিএবির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন। এই ফান্ডের অর্থ ট্রাস্টে অনুদান দেওয়ার বিধান না থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংকগুলোকে অর্থ প্রদানে বাধ্য করার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতি করে রাজউকের আবাসন প্রকল্পে ১০ কাঠা করে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা করেছে দুদক।
ট্রাস্টের নামে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ ও আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিভিন্ন ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা ফান্ড (সিএসআর) থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে এই টাকা সংগ্রহ করা হয়।
মামলায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারকেও আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলা করেন। পরে দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর অনুকূলে সংগ্রহ করেন। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ‘দ্য ট্রাস্টস অ্যাক্ট, ১৮৮২’-এর আওতায় শেখ হাসিনা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি এবং শেখ রেহানা ছিলেন সহ-সভাপতি। ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এজহারে দুদক জানায়, সংস্থাটি বাংলাদেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে। এতে দেখা যায়, তৎকালীন বিএবি সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার তার প্রভাব খাটিয়ে বিএবির নির্বাহী কমিটির সভায় আলোচ্যসূচিতে না থাকা সত্ত্বেও ‘বিবিধ’ আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করেন। পরে নির্বাহী কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ট্রাস্টের অনুকূলে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।
দুদকের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী ‘পলিসি গাইডলাইন অন করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ফর ব্যাংকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস’-এ সিএসআর অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে নির্দেশনা থাকলেও ট্রাস্টে এ ধরনের অনুদান দেওয়ার কোনো বিধান নেই।
এজাহারে আরও বলা হয়, দুদকের সরেজমিন পরিদর্শনে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর ঠিকানায় দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ট্রাস্টটি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাস্টের প্রতিশ্রুত কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রমাণও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ব্যক্তিগত লাভের অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলে বিএবির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ফান্ড থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, বিএবির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন। এই ফান্ডের অর্থ ট্রাস্টে অনুদান দেওয়ার বিধান না থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংকগুলোকে অর্থ প্রদানে বাধ্য করার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতি করে রাজউকের আবাসন প্রকল্পে ১০ কাঠা করে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা করেছে দুদক।
বরিশালের বাবুগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার ৫৩টি জেলে পরিবারের মধ্যে এমপির ব্যক্তিগত অনুদানের চেক বিতরণ এবং আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে ওই প্রীতি ফুটবল ম্যাচের শুভ উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা। বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খানের সভাপতিত্বে বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স, সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক সামসুল আলম ফকির, যুগ্ম-আহবায়ক আরিফুর রহমান শিমুল সিকদার, রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল করিম হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক রাজন সিকদার, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল মালেক সিকদার, বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক রকিবুল হাসান খান রাকিব, সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক রফিকুল ইসলাম রাফিল, বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আজিজুল হক, বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুর রহমান আল-আমিন, সদস্য সচিব ইয়াসিন আরাফাত মৃধা প্রমুখ। এসময় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, 'সুস্থ শরীর সুস্থ মন গঠন করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলাই পারে আমাদের তরুণ যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতিতে যেমন একজন বিচক্ষণ নেতা তেমনি তিনি একজন ক্রীড়ামোদি মানুষ। দেশের বিভিন্ন জায়গায় সফরে গিয়েও তিনি নিজ হাতে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করেন। খেলাধুলা এবং সংস্কৃতির উন্নয়নে তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ক্রীড়া এবং সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।' তিনি আরো বলেন, 'বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য দেশি-বিদেশি নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। বিভিন্ন ধরনের প্রোপাগান্ডা এবং অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই সকল জাতীয়তাবাদী কর্মীকে সতর্ক এবং ঐক্যবদ্ধ থেকে সকল চক্রান্ত মোকাবেলা করতে হবে।'
উল্লেখ্য, বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আয়োজনে এবং উপজেলা ছাত্রদলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ওই প্রীতি ফুটবল ম্যাচে লাল দল ২-০ গোলে সাদা দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এসময় চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের মাঝে পুরস্কারের ট্রফি বিতরণ করেন অতিথিরা। এর আগে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের ব্যক্তিগত বেতনভাতার তহবিল থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার ৫৩টি জেলে পরিবারের জন্য আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। এছাড়াও বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ও সুধীজনদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন তিনি। #
বরিশালের বাবুগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার ৫৩টি জেলে পরিবারের মধ্যে এমপির ব্যক্তিগত অনুদানের চেক বিতরণ এবং আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে ওই প্রীতি ফুটবল ম্যাচের শুভ উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা। বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খানের সভাপতিত্বে বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স, সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক সামসুল আলম ফকির, যুগ্ম-আহবায়ক আরিফুর রহমান শিমুল সিকদার, রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল করিম হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক রাজন সিকদার, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল মালেক সিকদার, বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক রকিবুল হাসান খান রাকিব, সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক রফিকুল ইসলাম রাফিল, বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আজিজুল হক, বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুর রহমান আল-আমিন, সদস্য সচিব ইয়াসিন আরাফাত মৃধা প্রমুখ। এসময় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, 'সুস্থ শরীর সুস্থ মন গঠন করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলাই পারে আমাদের তরুণ যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতিতে যেমন একজন বিচক্ষণ নেতা তেমনি তিনি একজন ক্রীড়ামোদি মানুষ। দেশের বিভিন্ন জায়গায় সফরে গিয়েও তিনি নিজ হাতে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করেন। খেলাধুলা এবং সংস্কৃতির উন্নয়নে তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ক্রীড়া এবং সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।' তিনি আরো বলেন, 'বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য দেশি-বিদেশি নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। বিভিন্ন ধরনের প্রোপাগান্ডা এবং অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই সকল জাতীয়তাবাদী কর্মীকে সতর্ক এবং ঐক্যবদ্ধ থেকে সকল চক্রান্ত মোকাবেলা করতে হবে।'
উল্লেখ্য, বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আয়োজনে এবং উপজেলা ছাত্রদলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ওই প্রীতি ফুটবল ম্যাচে লাল দল ২-০ গোলে সাদা দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এসময় চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের মাঝে পুরস্কারের ট্রফি বিতরণ করেন অতিথিরা। এর আগে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের ব্যক্তিগত বেতনভাতার তহবিল থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার ৫৩টি জেলে পরিবারের জন্য আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। এছাড়াও বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ও সুধীজনদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন তিনি। #
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশ ও আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এখন দল ও সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখা। এর জন্য জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জনগণের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকতে হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, ৪৮ বছর আগে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে কয়েকটি প্রত্যয়কে সামনে রেখে বিএনপির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন, উৎপাদন ও আত্মনির্ভরশীলতার লক্ষ্যে তিনি বৈপ্লবিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন।
তিনি বলেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বৈদেশিক নীতি, অভ্যন্তরীণ নীতি ও আইনশৃঙ্খলা—সব ক্ষেত্রেই শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে একটি গৌরবজনক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত হয় এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে বিভিন্ন মত ও পথের মানুষ তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পান।
রিজভী আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আজ যারা সংবাদপত্রে দায়িত্ব পালন করছেন এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করছেন, এর পেছনে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বিদেশে শ্রমশক্তি রপ্তানি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান একটি আদর্শভিত্তিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমরা তার নীতি, আদর্শ ও দর্শনের পতাকা ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছি।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, পরবর্তীতে আবারও চক্রান্ত ও নানা ধরনের নীলনকশার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতা দখল করেন এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ স্তব্ধ করে দেন। সেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বেগম খালেদা জিয়া নয় বছর আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি কারও সঙ্গে আপস করেননি এবং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার রক্ষা করেছেন।
বিএনপিকে ‘ওয়াদা রক্ষাকারী দল’ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, নানা নিপীড়ন, নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়া দেশ ও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চক্রান্তের মাধ্যমে বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে প্রতিহত করার চেষ্টা হলেও সব বাধা অতিক্রম করে তিনি জনগণের ও গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করেছেন।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি নিজে অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। বছরের পর বছর কারাগারে বন্দি থেকেছেন। যথাযথ চিকিৎসা ও বন্দির প্রাপ্য মানবাধিকার থেকেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন; তবুও কোনো আপস করেননি। শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি ছিলেন মূল প্রেরণা।
রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া যখন কারাবন্দি ছিলেন, তখন দল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। তিনি পিতা-মাতার আদর্শের পতাকা ধারণ করে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত গোটা জাতিকে সংগঠিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সাল থেকে যে গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, পরবর্তীতে তা জুলাই বিপ্লবের প্রবল তরঙ্গে রূপ নেয়। রাজপথে জনতার শক্তির বিস্ফোরণ ঘটে এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন হয়।
রিজভী বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া গোটা জাতির কাছে গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে ছিলেন। তিনি সবাইকে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং ফ্যাসিবাদের পতনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ, সাহস, বীরত্ব এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পতাকা তার পুত্র তারেক রহমানের হাতে সঁপে দিয়ে গেছেন।
বর্তমান সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় এসে জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করছেন। সামাজিক সুরক্ষা, উন্নয়ন ও উৎপাদনের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।
‘চ্যালেঞ্জ আছে’ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, দেশে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ও চক্রান্ত থাকতে পারে। তবে সেগুলো মোকাবিলা করেই তারেক রহমান সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফার্মার কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতাসহ জনগণের কাছে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি শুধু বিএনপি বা সরকারের সংকট নয়; এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়া এবং জ্বালানিবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।
তিনি জানান, সরকার সংকট মোকাবিলায় বসে নেই। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দের বাইরে আরও প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহেশখালীর একটি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি মেরামত করা হয়েছে এবং পুনরায় গ্যাস রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দল ও সরকারের সম্পর্কের বিষয়ে রিজভী বলেন, দল ও সরকার দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠান হলেও তাদের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে, তাই বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্য থেকেই সরকারের মন্ত্রী হওয়া স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করবেন। দল তার জায়গায় থাকবে, সরকার তার জায়গায় থাকবে। যারা দলের দায়িত্বে আছেন, তারা দলের দায়িত্ব পালন করবেন। আর যারা সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা মন্ত্রিত্বের পাশাপাশি দলের ওপর অর্পিত দায়িত্বও পদ অনুযায়ী পালন করবেন।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অঙ্গীকার তুলে ধরে রিজভী বলেন, ১৭ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক চেতনা, জনগণের সামাজিক সুরক্ষা এবং দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনের যে অঙ্গীকার ৩১ দফা, নির্বাচনি ইশতেহার এবং বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’-এ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
তিনি পরিশেষে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে বিএনপি আজ জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়েছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণের এই আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখা। এজন্য সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে, প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকতে হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশ ও আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এখন দল ও সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখা। এর জন্য জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জনগণের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকতে হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, ৪৮ বছর আগে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে কয়েকটি প্রত্যয়কে সামনে রেখে বিএনপির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন, উৎপাদন ও আত্মনির্ভরশীলতার লক্ষ্যে তিনি বৈপ্লবিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন।
তিনি বলেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বৈদেশিক নীতি, অভ্যন্তরীণ নীতি ও আইনশৃঙ্খলা—সব ক্ষেত্রেই শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে একটি গৌরবজনক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত হয় এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে বিভিন্ন মত ও পথের মানুষ তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পান।
রিজভী আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আজ যারা সংবাদপত্রে দায়িত্ব পালন করছেন এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করছেন, এর পেছনে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বিদেশে শ্রমশক্তি রপ্তানি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান একটি আদর্শভিত্তিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমরা তার নীতি, আদর্শ ও দর্শনের পতাকা ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছি।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, পরবর্তীতে আবারও চক্রান্ত ও নানা ধরনের নীলনকশার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতা দখল করেন এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ স্তব্ধ করে দেন। সেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বেগম খালেদা জিয়া নয় বছর আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি কারও সঙ্গে আপস করেননি এবং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার রক্ষা করেছেন।
বিএনপিকে ‘ওয়াদা রক্ষাকারী দল’ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, নানা নিপীড়ন, নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়া দেশ ও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চক্রান্তের মাধ্যমে বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে প্রতিহত করার চেষ্টা হলেও সব বাধা অতিক্রম করে তিনি জনগণের ও গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করেছেন।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি নিজে অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। বছরের পর বছর কারাগারে বন্দি থেকেছেন। যথাযথ চিকিৎসা ও বন্দির প্রাপ্য মানবাধিকার থেকেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন; তবুও কোনো আপস করেননি। শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি ছিলেন মূল প্রেরণা।
রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া যখন কারাবন্দি ছিলেন, তখন দল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। তিনি পিতা-মাতার আদর্শের পতাকা ধারণ করে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত গোটা জাতিকে সংগঠিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সাল থেকে যে গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, পরবর্তীতে তা জুলাই বিপ্লবের প্রবল তরঙ্গে রূপ নেয়। রাজপথে জনতার শক্তির বিস্ফোরণ ঘটে এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন হয়।
রিজভী বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া গোটা জাতির কাছে গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে ছিলেন। তিনি সবাইকে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং ফ্যাসিবাদের পতনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ, সাহস, বীরত্ব এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পতাকা তার পুত্র তারেক রহমানের হাতে সঁপে দিয়ে গেছেন।
বর্তমান সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় এসে জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করছেন। সামাজিক সুরক্ষা, উন্নয়ন ও উৎপাদনের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।
‘চ্যালেঞ্জ আছে’ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, দেশে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ও চক্রান্ত থাকতে পারে। তবে সেগুলো মোকাবিলা করেই তারেক রহমান সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফার্মার কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতাসহ জনগণের কাছে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি শুধু বিএনপি বা সরকারের সংকট নয়; এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়া এবং জ্বালানিবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।
তিনি জানান, সরকার সংকট মোকাবিলায় বসে নেই। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দের বাইরে আরও প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহেশখালীর একটি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি মেরামত করা হয়েছে এবং পুনরায় গ্যাস রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দল ও সরকারের সম্পর্কের বিষয়ে রিজভী বলেন, দল ও সরকার দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠান হলেও তাদের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে, তাই বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্য থেকেই সরকারের মন্ত্রী হওয়া স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করবেন। দল তার জায়গায় থাকবে, সরকার তার জায়গায় থাকবে। যারা দলের দায়িত্বে আছেন, তারা দলের দায়িত্ব পালন করবেন। আর যারা সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা মন্ত্রিত্বের পাশাপাশি দলের ওপর অর্পিত দায়িত্বও পদ অনুযায়ী পালন করবেন।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অঙ্গীকার তুলে ধরে রিজভী বলেন, ১৭ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক চেতনা, জনগণের সামাজিক সুরক্ষা এবং দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনের যে অঙ্গীকার ৩১ দফা, নির্বাচনি ইশতেহার এবং বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’-এ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
তিনি পরিশেষে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে বিএনপি আজ জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়েছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণের এই আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখা। এজন্য সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে, প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকতে হবে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬