পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ও চরবিশ্বাস ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকে চরকাজল ইউনিয়নের চরশিবা এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যও মোতায়েন রাখা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. নুরুল হক নুর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের মো. হাসান মামুনের ঘোষিত নির্বাচনী কর্মসূচি পর্যালোচনা করে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে দুই প্রার্থীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ও চরবিশ্বাস ইউনিয়নে একই সময় ও কাছাকাছি স্থানে দুই প্রার্থীর প্রচারণা ও জনসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণায় উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়।
এছাড়া প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ৩১ জানুয়ারির পরবর্তী আরও তিনটি তারিখেও একই বা কাছাকাছি স্থান এবং প্রায় একই সময়ে দুই প্রার্থী নির্বাচনী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এসব কর্মসূচি রিটার্নিং অফিসারের পূর্বানুমোদন ছাড়াই সমন্বয়হীনভাবে ঘোষিত হওয়ায় তা ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫’-এর বিধি-৬-এর উপবিধি (খ)-এর পরিপন্থি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে একাধিকবার মৌখিকভাবে কর্মসূচি সমন্বয় করে ভিন্ন তারিখ, স্থান ও সময়ে প্রচারণা চালানোর অনুরোধ জানানো হলেও উভয় প্রার্থী তা মানেননি। ফলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে আচরণবিধি অনুসরণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী প্রচারণা ও জনসমাবেশের সময়সূচি দাখিল এবং অনুমোদন নেওয়ার জন্য উভয় প্রার্থীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাময়িকভাবে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কোথাও জনসমাগম করতে দেওয়া হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরে পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নুর ও হাসান মামুনের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যে গত ২৬ জানুয়ারি দশমিনা উপজেলার চর বোরহান এবং ২৭ জানুয়ারি গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৭:২৫
পটুয়াখালীর বাউফলে সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে একটি পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় ২০ হাজার টাকা নগদ ও ১০ হাজার টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে রক্ষা পান ওই পরিবারটি। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাউফল থানায় মামলা করেছেন রতন মন্ডল নামের ভুক্তভোগী পরিবারের এক ব্যক্তি। মামলায় দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচ-ছয়জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের।
মামলায় উল্লেখ দুই আসামি হলেন এনামুল হক এনা (৩৫) ও মো. রিয়াজ (৩৭)। এনামুল হক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উপকূলীয় প্রতিনিধি। রিয়াজ দৈনিক জাগো জনতার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি।
মামলার এজাহার,স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,তিন বছরেরও বেশি সময় আগে অসম প্রেমের সম্পর্কের টানে একটি মুসলিম পরিবারের মেয়ে পালিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ছেলেকে বিয়ে করে। এ নিয়ে শুরুতে দুই পরিবারের মধ্যে বিভেদ তৈরি হলেও পরে এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করেননি মুসলিম পরিবারটি। মেয়েটি হিন্দু ধর্ম পালন করছে। তাঁদের সংসারে ছয় মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
ওই পুরানো ঘটনাকে সামনে এনে গত রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সাংবাদিক এনামুল হক মো. রিয়াজসহ আর পাঁচ-ছয় জন নিজেদের সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য পরিচয়ে ওই হিন্দু পরিবারের বাড়িতে যান এবং হিন্দু পরিবারের ঘরে ঢুকে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
মামলার বাদী রতন মন্ডললের ভাষ্য মতে এনামুল হক পুলিশ পরিচয়ে তাঁদেরকে (হিন্দু পরিবার) বলেন-মুসলিম মেয়েকে অবৈধভাবে ঘরে রেখে অবৈধ কাজ করা হচ্ছে। বাঁচতে হলে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। পরে তাঁরা (হিন্দু পরিবার) মিনতি করে বলেন, তাঁরা (হিন্দু পরিবার) গরীব মানুষ, তাঁদের কাছে টাকা নাই। তখন তাঁরা (সাংবাদিক ও পুলিশ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা) ঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাড়ির অদূরে এক দোকানির কাছ থেকে ধার করে এনে এনামুলের হাতে ২০ হাজার টাকা দেন এবং পরের দিন (মঙ্গলবার) সকালে আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলে তাঁরা চলে আসেন।
এ বিষয়ে এনামুল হক এনা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাংবাদিক পরিচয়ে বলেন,একজন মুসলিম নারীকে হিন্দু পরিবারের এক ছেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিবাহ ব্যতীত তাঁদের ঘরে রেখেছে, সন্তান প্রসব করিয়েছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তিনিসহ মানবকন্ঠের ডিজিটাল বিভাগের প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন অন্তু, জাগো জনতার মো. রিয়াজ ও আনন্দ টিভির জেলা প্রতিনিধি এম নাজিম উদ্দিন সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য যান। তবে চাঁদা দাবি ও চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সত্য না।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে চাঁদা দাবি ও চাঁদা গ্রহণের সত্যতা পাওয়ায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’
পটুয়াখালীর বাউফলে সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে একটি পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় ২০ হাজার টাকা নগদ ও ১০ হাজার টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে রক্ষা পান ওই পরিবারটি। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাউফল থানায় মামলা করেছেন রতন মন্ডল নামের ভুক্তভোগী পরিবারের এক ব্যক্তি। মামলায় দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচ-ছয়জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের।
মামলায় উল্লেখ দুই আসামি হলেন এনামুল হক এনা (৩৫) ও মো. রিয়াজ (৩৭)। এনামুল হক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উপকূলীয় প্রতিনিধি। রিয়াজ দৈনিক জাগো জনতার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি।
মামলার এজাহার,স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,তিন বছরেরও বেশি সময় আগে অসম প্রেমের সম্পর্কের টানে একটি মুসলিম পরিবারের মেয়ে পালিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ছেলেকে বিয়ে করে। এ নিয়ে শুরুতে দুই পরিবারের মধ্যে বিভেদ তৈরি হলেও পরে এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করেননি মুসলিম পরিবারটি। মেয়েটি হিন্দু ধর্ম পালন করছে। তাঁদের সংসারে ছয় মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
ওই পুরানো ঘটনাকে সামনে এনে গত রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সাংবাদিক এনামুল হক মো. রিয়াজসহ আর পাঁচ-ছয় জন নিজেদের সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য পরিচয়ে ওই হিন্দু পরিবারের বাড়িতে যান এবং হিন্দু পরিবারের ঘরে ঢুকে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
মামলার বাদী রতন মন্ডললের ভাষ্য মতে এনামুল হক পুলিশ পরিচয়ে তাঁদেরকে (হিন্দু পরিবার) বলেন-মুসলিম মেয়েকে অবৈধভাবে ঘরে রেখে অবৈধ কাজ করা হচ্ছে। বাঁচতে হলে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। পরে তাঁরা (হিন্দু পরিবার) মিনতি করে বলেন, তাঁরা (হিন্দু পরিবার) গরীব মানুষ, তাঁদের কাছে টাকা নাই। তখন তাঁরা (সাংবাদিক ও পুলিশ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা) ঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাড়ির অদূরে এক দোকানির কাছ থেকে ধার করে এনে এনামুলের হাতে ২০ হাজার টাকা দেন এবং পরের দিন (মঙ্গলবার) সকালে আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলে তাঁরা চলে আসেন।
এ বিষয়ে এনামুল হক এনা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাংবাদিক পরিচয়ে বলেন,একজন মুসলিম নারীকে হিন্দু পরিবারের এক ছেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিবাহ ব্যতীত তাঁদের ঘরে রেখেছে, সন্তান প্রসব করিয়েছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তিনিসহ মানবকন্ঠের ডিজিটাল বিভাগের প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন অন্তু, জাগো জনতার মো. রিয়াজ ও আনন্দ টিভির জেলা প্রতিনিধি এম নাজিম উদ্দিন সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য যান। তবে চাঁদা দাবি ও চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সত্য না।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে চাঁদা দাবি ও চাঁদা গ্রহণের সত্যতা পাওয়ায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১৫
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের সৈকত হোটেলের সামনে তাঁকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের–ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ব্যক্তির নাম কে এম বাচ্চু। তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ও কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি।
পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বায়জিদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি শহিদ সিকদার, স্থানীয় হারুন মুসল্লিসহ আরও কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেন বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন কেএম বাচ্চুর ছোট ভাই সোহাগ খলিফা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বায়জিদসহ অভিযুক্ত কয়েকজনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সৈকত হোটেলের সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন কে এম বাচ্চু। এ সময় বায়জিদ সেখানে এসে তাঁর প্রকাশিত একটি সংবাদ নিয়ে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে বায়জিদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে বাচ্চুর ওপর হামলা চালান। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। হামলাকারীরা বাচ্চুকে আহত অবস্থায় ফেলে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, কে এম বাচ্চুর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।
ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ। একই কথা বলেছেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুকও।
মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বরিশালটাইমসকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের সৈকত হোটেলের সামনে তাঁকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের–ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ব্যক্তির নাম কে এম বাচ্চু। তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ও কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি।
পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বায়জিদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি শহিদ সিকদার, স্থানীয় হারুন মুসল্লিসহ আরও কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেন বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন কেএম বাচ্চুর ছোট ভাই সোহাগ খলিফা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বায়জিদসহ অভিযুক্ত কয়েকজনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সৈকত হোটেলের সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন কে এম বাচ্চু। এ সময় বায়জিদ সেখানে এসে তাঁর প্রকাশিত একটি সংবাদ নিয়ে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে বায়জিদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে বাচ্চুর ওপর হামলা চালান। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। হামলাকারীরা বাচ্চুকে আহত অবস্থায় ফেলে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, কে এম বাচ্চুর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।
ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ। একই কথা বলেছেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুকও।
মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বরিশালটাইমসকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১৪:২১
পটুয়াখালীর মহিপুরে ছোয়ামনি (১১) নামের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে মহিপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের পূর্ব নতুনপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ছোট ভাইকে নিয়ে অবস্থান করছিল ওই শিশু। এ সময় তার মা জরুরি কাজে এবং বাবা জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, এই সুযোগে একই এলাকার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ হাওলাদার শিশুটির বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় লোকজন চলে আসতে দেখে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর সামাজিক লজ্জা ও স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ করেননি। দীর্ঘদিন স্থানীয়ভাবে সুবিচার পাওয়ার চেষ্টা করেও কোনো ফল না পাওয়ায় বুধবার (২২ জুলাই) শিশুটির মা মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মহিপুর থানা পুলিশ মামলা রুজু করে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পটুয়াখালীর মহিপুরে ছোয়ামনি (১১) নামের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে মহিপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের পূর্ব নতুনপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ছোট ভাইকে নিয়ে অবস্থান করছিল ওই শিশু। এ সময় তার মা জরুরি কাজে এবং বাবা জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, এই সুযোগে একই এলাকার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ হাওলাদার শিশুটির বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় লোকজন চলে আসতে দেখে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর সামাজিক লজ্জা ও স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ করেননি। দীর্ঘদিন স্থানীয়ভাবে সুবিচার পাওয়ার চেষ্টা করেও কোনো ফল না পাওয়ায় বুধবার (২২ জুলাই) শিশুটির মা মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মহিপুর থানা পুলিশ মামলা রুজু করে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ২৩:৪৬
পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ও চরবিশ্বাস ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকে চরকাজল ইউনিয়নের চরশিবা এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যও মোতায়েন রাখা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. নুরুল হক নুর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের মো. হাসান মামুনের ঘোষিত নির্বাচনী কর্মসূচি পর্যালোচনা করে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে দুই প্রার্থীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ও চরবিশ্বাস ইউনিয়নে একই সময় ও কাছাকাছি স্থানে দুই প্রার্থীর প্রচারণা ও জনসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণায় উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়।
এছাড়া প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ৩১ জানুয়ারির পরবর্তী আরও তিনটি তারিখেও একই বা কাছাকাছি স্থান এবং প্রায় একই সময়ে দুই প্রার্থী নির্বাচনী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এসব কর্মসূচি রিটার্নিং অফিসারের পূর্বানুমোদন ছাড়াই সমন্বয়হীনভাবে ঘোষিত হওয়ায় তা ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫’-এর বিধি-৬-এর উপবিধি (খ)-এর পরিপন্থি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে একাধিকবার মৌখিকভাবে কর্মসূচি সমন্বয় করে ভিন্ন তারিখ, স্থান ও সময়ে প্রচারণা চালানোর অনুরোধ জানানো হলেও উভয় প্রার্থী তা মানেননি। ফলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে আচরণবিধি অনুসরণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী প্রচারণা ও জনসমাবেশের সময়সূচি দাখিল এবং অনুমোদন নেওয়ার জন্য উভয় প্রার্থীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাময়িকভাবে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কোথাও জনসমাগম করতে দেওয়া হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরে পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নুর ও হাসান মামুনের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যে গত ২৬ জানুয়ারি দশমিনা উপজেলার চর বোরহান এবং ২৭ জানুয়ারি গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।