ছবি- সংগৃহীত
বরিশালের বাকেরগঞ্জে বডি স্প্রে ব্যবহারের কারণে ১৪ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পরেছে। মারাত্মক অসুস্থ ৩ জন শিক্ষার্থীকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
২৩ জুন মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের শিবপুর পাবলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থদের মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী মারাত্মক অসুস্থ হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলো বিথি আক্তার (১৪), মারুফ খান (১৪), তানজিলা আক্তার, সারা মনি (১৪), তাজু (১৪), মাহিন (১৪), সুমাইয়া (১৪), ইশরাত (১৪), সাদিয়া (১৪), লামিয়া (১৪), অন্তরা (১৪) ও জিসান (১৪)। বাকি দুই শিক্ষার্থীর নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি, এবং তারা সবাই নবম শ্রেনীর শিক্ষার্থী।
হাসপাতাল ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ব্যাগে থাকা ‘ওয়াইল্ড স্টোন (WILD STONE)’ ব্র্যান্ডের একটি বডি স্প্রে ব্যবহার করার পর প্রথমে বিথি আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে দেখতে গিয়ে এবং ঘটনাটি নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মোট ১৪ জন শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার উপসর্গে আক্রান্ত হয়।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারুফ খান জানান, তাদের সহপাঠী তাওসিফের ব্যাগে থাকা বডি স্প্রে ব্যবহার করার পর প্রথমে বিথি আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে দেখতে আসা অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও একে একে অসুস্থ হয়ে যায়।
শিবপুর পাবলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হান্নান মিয়া বলেন, “দুপুর দেড়টার দিকে হঠাৎ করে একের পর এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের দ্রুত বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এক শিক্ষার্থী বডি স্প্রে ব্যবহারের পর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই অন্যদের মধ্যে একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়।”
বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুজিত চন্দ্র ঢালি বলেন, “শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও অজ্ঞান হওয়ার উপসর্গ নিয়ে শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে অধিকাংশকে চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে তিনজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধুমাত্র একটি বডি স্প্রে ব্যবহারের কারণে একসঙ্গে এত শিক্ষার্থীর অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক নয়। এর সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক বা সাইকোলজিক্যাল প্রভাব জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি চিকিৎসকরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।”
এদিকে ঘটনার পর পুলিশ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছে। বাকেরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
বরিশালে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসতাক আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। পরে তাদের বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মহাসিন মন্টু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার সুত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরের সদর রোডে অবস্থিত হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের পঞ্চম তলার একটি কক্ষে স্ত্রী নাজমা জহির শোভাকে নিয়ে যান জহিরুল ইসলাম। সেখানে ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে শোভাকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার দিনই নিহতের বোন নিলুফা আইরিন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় জহিরুল ইসলাম ও হোটেলটির ম্যানেজার আবদুল মালেককে আসামি করা হয়।
পরে পুলিশ তদন্ত শেষে দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান জানান, নিহত শোভার ছোট বোন রুমা আক্তারের সঙ্গে জহিরুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি শোভা জানতে পারার পর তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় জহিরুল ইসলাম বরিশাল এলজিইডিতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
অন্যদিকে, হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে হোটেল পরিচালনায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বলে জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী।
প্রায় ১৬ বছর ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়ার পর দেওয়া এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন ও বাদীপক্ষ।
আইনজীবী আনোয়ার হোসেন মিজান বলেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন না।
বরিশালে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসতাক আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। পরে তাদের বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মহাসিন মন্টু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার সুত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরের সদর রোডে অবস্থিত হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের পঞ্চম তলার একটি কক্ষে স্ত্রী নাজমা জহির শোভাকে নিয়ে যান জহিরুল ইসলাম। সেখানে ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে শোভাকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার দিনই নিহতের বোন নিলুফা আইরিন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় জহিরুল ইসলাম ও হোটেলটির ম্যানেজার আবদুল মালেককে আসামি করা হয়।
পরে পুলিশ তদন্ত শেষে দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান জানান, নিহত শোভার ছোট বোন রুমা আক্তারের সঙ্গে জহিরুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি শোভা জানতে পারার পর তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় জহিরুল ইসলাম বরিশাল এলজিইডিতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
অন্যদিকে, হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে হোটেল পরিচালনায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বলে জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী।
প্রায় ১৬ বছর ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়ার পর দেওয়া এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন ও বাদীপক্ষ।
আইনজীবী আনোয়ার হোসেন মিজান বলেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন না।

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:২৯
একজন সাংবাদিকের দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ অধ্যায় কি এমনই হওয়ার কথা ছিল? দুই দশকেরও বেশি সময় সাংবাদিকতা করেছেন পুলক চ্যাটার্জি। দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির বরিশাল ব্যুরোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ কর্মজীবনের শেষদিকে এসে চাকরি হারিয়েছেন, দীর্ঘ সময় বেকার ছিলেন, আর্থিক সংকটে পড়েছেন- এমন তথ্যই এখন তাঁর মৃত্যুর পর সামনে আসছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) তাঁর আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর সেই প্রশ্নটিই সবচেয়ে জোরালো হয়ে উঠেছে-একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক যখন একের পর এক সংকটে পড়ছিলেন, তখন তাঁর পাশে ছিলেন কে?
শুধু ব্যক্তিগত হতাশা, শারীরিক সমস্যা কিংবা আর্থিক সংকট দিয়ে কি এই মৃত্যুর পুরো প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করা সম্ভব? নাকি এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পেশাগত অনিশ্চয়তা, কর্মহীনতা, পাওনা নিয়ে জটিলতা এবং সাংবাদিক সমাজের কাঠামোগত দুর্বলতা? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন জরুরি।
সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি ২০০৫ সালে দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর তিনি বরিশাল ব্যুরোর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে সমকাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ব্যুরোর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর সহকর্মী স্টাফ রিপোর্টার সুমন চৌধুরীকে দিয়ে ব্যুরোর কার্যক্রম চালানো হয়। কিন্তু চাকরি বা দায়িত্ব হারানোর পর পুলক চ্যাটার্জির আর্থিক ও পেশাগত পরিস্থিতি কী দাঁড়িয়েছিল- এখন সেটিই অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিশেষ করে তাঁর ন্যায্য পাওনা আদৌ পরিশোধ করা হয়েছিল কি না, হয়ে থাকলে কতটুকু এবং না হয়ে থাকলে কেন- এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রয়োজন। কারণ একজন সাংবাদিকের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবসান শুধু একটি পদ হারানোর ঘটনা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তাঁর জীবিকা, পরিবারের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের প্রশ্ন।
পরিবার ও সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরি হারানোর পরও সমকালের সঙ্গে পুলক চ্যাটার্জির সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তাঁর কাছে সাবেক অফিসের একটি বিকল্প চাবি ছিল বলে জানা গেছে। তিনি মাঝেমধ্যে সেখানে যেতেন, বসতেন এবং পত্রিকা পড়তেন। এখানেও রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- কর্মস্থল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও একজন সাবেক ব্যুরোপ্রধান কেন সেখানে নিয়মিত যেতেন? এটি কি শুধুই পুরোনো কর্মস্থলের প্রতি আবেগ? নাকি দীর্ঘ কর্মজীবনের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও পরিচিত পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে না পারার এক ধরনের মানসিক টান? সহকর্মীদের কেউ কেউ বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখেছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু তাঁর জীবনের শেষ সময়ের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে ঘটনাটির সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিকও তদন্তের দাবি রাখে।
মৃত্যুর পর পুলক চ্যাটার্জির পাশে একাধিক চিরকুট পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব লেখায় আর্থিক সংকট, শারীরিক সমস্যা এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়ার অনুভূতির কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। একটি চিঠিতে সহকর্মী সুমন চৌধুরীর প্রসঙ্গ এসেছে। ছোট ভাই ভূমি কর্মকর্তা দীপক, দুই সন্তান পিয়াঙ্কা ও প্রদ্ধতি এবং বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনকে উদ্দেশ করেও পৃথক লেখা থাকার কথা জানা গেছে। এসব চিঠির বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা ও প্রেক্ষাপট অবশ্যই তদন্তের বিষয়। কিন্তু সেগুলো যদি তাঁর শেষ সময়ের মানসিক ও আর্থিক অবস্থার প্রতিফলন হয়ে থাকে, তাহলে সাংবাদিক সমাজের সামনে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন দাঁড়ায়- তিনি যখন সংকটে ছিলেন, তখন তাঁর সহকর্মীরা কী জানতেন? আর জানলে কী করেছিলেন? নেতৃত্বের দায় কতটুকু?
বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পুলক চ্যাটার্জি। অর্থাৎ সাংবাদিকদের অধিকার, পেশাগত নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে কাজ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নেতৃত্বে তিনি নিজেই ছিলেন। কিন্তু একই সঙ্গে বরিশালের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণ, কিছু সংগঠনে পেশাদার সাংবাদিকদের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তি-স্বার্থের প্রভাব কখনো কখনো বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক ব্যক্তি-বিশেষের প্রভাব সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ওপর চেপে বসলে পেশাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথার্থ মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই কারণে পুলক চ্যাটার্জির মতো দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও যোগ্য সাংবাদিকরা যথার্থ সম্মান ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অবশ্য কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মৃত্যুর দায় সরাসরি কোনো সংগঠন বা ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনের পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত। কিন্তু একজন প্রবীণ সাংবাদিক দীর্ঘদিন কর্মহীন ও আর্থিক সংকটে থাকলে তাঁর সহকর্মী সংগঠনগুলোর সামাজিক ও পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। বিশেষ করে সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণ তহবিল, জরুরি সহায়তা, কর্মসংস্থান বা পেশাগত পুনর্বাসনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা আছে কি না- পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে অনৈক্য ও নেতৃত্বের বিভাজন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃত্বে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সাংবাদিকদের স্বার্থ কতটা অগ্রাধিকার পাচ্ছে- এ নিয়েও প্রশ্ন আছে। পুলক চ্যাটার্জির মতো অভিজ্ঞ সাংবাদিক কর্মজীবন হারানোর পর যদি দীর্ঘ সময় নিজেকে একা মনে করে থাকেন, তবে সেটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সংকট নয়; সাংবাদিক সমাজের সাংগঠনিক সক্ষমতারও একটি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় বরিশালের সাংবাদিক সংগঠনগুলো কতটা সফল- এখন সেটিই আলোচনার বিষয়।
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অন্তত কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত ২০২৩ সালে তাঁর চাকরি বা দায়িত্ব পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল? দ্বিতীয়ত, সমকাল কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর কোনো ন্যায্য পাওনা বকেয়া ছিল কি না? তৃতীয়ত, চাকরি হারানোর পর তাঁর আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতি কী ছিল? চতুর্থত, সাংবাদিক সংগঠন ও সহকর্মীরা তাঁর সংকট সম্পর্কে কতটা অবগত ছিলেন এবং তাঁকে কোনো সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না? পঞ্চমত, মৃত্যুর আগে পাওয়া চিঠিগুলোর বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তে কী উঠে আসে? ষষ্ঠত, স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে রাজনৈতিক প্রভাব কতটা রয়েছে এবং তার কারণে পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা, অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- এই মৃত্যু কি কেবল একজন মানুষের ব্যক্তিগত সংকটের পরিণতি, নাকি এর সঙ্গে পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতারও কোনো যোগসূত্র রয়েছে?
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু নিয়ে আবেগ থাকবে, শোক থাকবে, স্মৃতিচারণ থাকবে। কিন্তু শুধু শোক প্রকাশ করে যদি বিষয়টি শেষ হয়ে যায়, তাহলে তাঁর মৃত্যুর পর সামনে আসা প্রশ্নগুলোর উত্তর আর পাওয়া যাবে না। প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত। প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য। প্রয়োজন তাঁর চাকরি হারানোর প্রেক্ষাপট ও পাওনা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ। প্রয়োজন সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নিজেদের ভূমিকা পর্যালোচনা।
একজন সাংবাদিক তাঁর জীবনের বড় একটি অংশ সংবাদপেশা ও সমাজের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। শেষ জীবনে যদি তিনি আর্থিক সংকট, পেশাগত অনিশ্চয়তা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ভারে ন্যুব্জ হয়ে থাকেন, তবে তাঁর মৃত্যুকে শুধু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখলে মূল প্রশ্নটি আড়ালেই থেকে যাবে। পুলক চ্যাটার্জি নেই। কিন্তু তাঁর মৃত্যু বরিশালের সাংবাদিক সমাজের সামনে যে প্রশ্নগুলো রেখে গেছে, সেগুলো এখনো জীবিত।
একজন সাংবাদিকের দুর্দিনে সাংবাদিক সমাজ কোথায় থাকে- আর সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব যখন পেশাদারিত্বের বদলে অন্য কোনো প্রভাবের কাছে দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন যোগ্য সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াবে কে? পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু এখন সেই প্রশ্নের উত্তর দাবি করছে।’
হাসিবুল ইসলাম, সংবাদকর্মী ও কলাম লেখক।
একজন সাংবাদিকের দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ অধ্যায় কি এমনই হওয়ার কথা ছিল? দুই দশকেরও বেশি সময় সাংবাদিকতা করেছেন পুলক চ্যাটার্জি। দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির বরিশাল ব্যুরোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ কর্মজীবনের শেষদিকে এসে চাকরি হারিয়েছেন, দীর্ঘ সময় বেকার ছিলেন, আর্থিক সংকটে পড়েছেন- এমন তথ্যই এখন তাঁর মৃত্যুর পর সামনে আসছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) তাঁর আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর সেই প্রশ্নটিই সবচেয়ে জোরালো হয়ে উঠেছে-একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক যখন একের পর এক সংকটে পড়ছিলেন, তখন তাঁর পাশে ছিলেন কে?
শুধু ব্যক্তিগত হতাশা, শারীরিক সমস্যা কিংবা আর্থিক সংকট দিয়ে কি এই মৃত্যুর পুরো প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করা সম্ভব? নাকি এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পেশাগত অনিশ্চয়তা, কর্মহীনতা, পাওনা নিয়ে জটিলতা এবং সাংবাদিক সমাজের কাঠামোগত দুর্বলতা? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন জরুরি।
সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি ২০০৫ সালে দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর তিনি বরিশাল ব্যুরোর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে সমকাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ব্যুরোর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর সহকর্মী স্টাফ রিপোর্টার সুমন চৌধুরীকে দিয়ে ব্যুরোর কার্যক্রম চালানো হয়। কিন্তু চাকরি বা দায়িত্ব হারানোর পর পুলক চ্যাটার্জির আর্থিক ও পেশাগত পরিস্থিতি কী দাঁড়িয়েছিল- এখন সেটিই অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিশেষ করে তাঁর ন্যায্য পাওনা আদৌ পরিশোধ করা হয়েছিল কি না, হয়ে থাকলে কতটুকু এবং না হয়ে থাকলে কেন- এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রয়োজন। কারণ একজন সাংবাদিকের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবসান শুধু একটি পদ হারানোর ঘটনা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তাঁর জীবিকা, পরিবারের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের প্রশ্ন।
পরিবার ও সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরি হারানোর পরও সমকালের সঙ্গে পুলক চ্যাটার্জির সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তাঁর কাছে সাবেক অফিসের একটি বিকল্প চাবি ছিল বলে জানা গেছে। তিনি মাঝেমধ্যে সেখানে যেতেন, বসতেন এবং পত্রিকা পড়তেন। এখানেও রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- কর্মস্থল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও একজন সাবেক ব্যুরোপ্রধান কেন সেখানে নিয়মিত যেতেন? এটি কি শুধুই পুরোনো কর্মস্থলের প্রতি আবেগ? নাকি দীর্ঘ কর্মজীবনের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও পরিচিত পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে না পারার এক ধরনের মানসিক টান? সহকর্মীদের কেউ কেউ বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখেছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু তাঁর জীবনের শেষ সময়ের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে ঘটনাটির সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিকও তদন্তের দাবি রাখে।
মৃত্যুর পর পুলক চ্যাটার্জির পাশে একাধিক চিরকুট পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব লেখায় আর্থিক সংকট, শারীরিক সমস্যা এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়ার অনুভূতির কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। একটি চিঠিতে সহকর্মী সুমন চৌধুরীর প্রসঙ্গ এসেছে। ছোট ভাই ভূমি কর্মকর্তা দীপক, দুই সন্তান পিয়াঙ্কা ও প্রদ্ধতি এবং বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনকে উদ্দেশ করেও পৃথক লেখা থাকার কথা জানা গেছে। এসব চিঠির বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা ও প্রেক্ষাপট অবশ্যই তদন্তের বিষয়। কিন্তু সেগুলো যদি তাঁর শেষ সময়ের মানসিক ও আর্থিক অবস্থার প্রতিফলন হয়ে থাকে, তাহলে সাংবাদিক সমাজের সামনে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন দাঁড়ায়- তিনি যখন সংকটে ছিলেন, তখন তাঁর সহকর্মীরা কী জানতেন? আর জানলে কী করেছিলেন? নেতৃত্বের দায় কতটুকু?
বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পুলক চ্যাটার্জি। অর্থাৎ সাংবাদিকদের অধিকার, পেশাগত নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে কাজ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নেতৃত্বে তিনি নিজেই ছিলেন। কিন্তু একই সঙ্গে বরিশালের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণ, কিছু সংগঠনে পেশাদার সাংবাদিকদের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তি-স্বার্থের প্রভাব কখনো কখনো বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক ব্যক্তি-বিশেষের প্রভাব সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ওপর চেপে বসলে পেশাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথার্থ মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই কারণে পুলক চ্যাটার্জির মতো দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও যোগ্য সাংবাদিকরা যথার্থ সম্মান ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অবশ্য কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মৃত্যুর দায় সরাসরি কোনো সংগঠন বা ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনের পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত। কিন্তু একজন প্রবীণ সাংবাদিক দীর্ঘদিন কর্মহীন ও আর্থিক সংকটে থাকলে তাঁর সহকর্মী সংগঠনগুলোর সামাজিক ও পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। বিশেষ করে সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণ তহবিল, জরুরি সহায়তা, কর্মসংস্থান বা পেশাগত পুনর্বাসনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা আছে কি না- পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে অনৈক্য ও নেতৃত্বের বিভাজন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃত্বে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সাংবাদিকদের স্বার্থ কতটা অগ্রাধিকার পাচ্ছে- এ নিয়েও প্রশ্ন আছে। পুলক চ্যাটার্জির মতো অভিজ্ঞ সাংবাদিক কর্মজীবন হারানোর পর যদি দীর্ঘ সময় নিজেকে একা মনে করে থাকেন, তবে সেটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সংকট নয়; সাংবাদিক সমাজের সাংগঠনিক সক্ষমতারও একটি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় বরিশালের সাংবাদিক সংগঠনগুলো কতটা সফল- এখন সেটিই আলোচনার বিষয়।
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অন্তত কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত ২০২৩ সালে তাঁর চাকরি বা দায়িত্ব পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল? দ্বিতীয়ত, সমকাল কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর কোনো ন্যায্য পাওনা বকেয়া ছিল কি না? তৃতীয়ত, চাকরি হারানোর পর তাঁর আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতি কী ছিল? চতুর্থত, সাংবাদিক সংগঠন ও সহকর্মীরা তাঁর সংকট সম্পর্কে কতটা অবগত ছিলেন এবং তাঁকে কোনো সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না? পঞ্চমত, মৃত্যুর আগে পাওয়া চিঠিগুলোর বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তে কী উঠে আসে? ষষ্ঠত, স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে রাজনৈতিক প্রভাব কতটা রয়েছে এবং তার কারণে পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা, অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- এই মৃত্যু কি কেবল একজন মানুষের ব্যক্তিগত সংকটের পরিণতি, নাকি এর সঙ্গে পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতারও কোনো যোগসূত্র রয়েছে?
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু নিয়ে আবেগ থাকবে, শোক থাকবে, স্মৃতিচারণ থাকবে। কিন্তু শুধু শোক প্রকাশ করে যদি বিষয়টি শেষ হয়ে যায়, তাহলে তাঁর মৃত্যুর পর সামনে আসা প্রশ্নগুলোর উত্তর আর পাওয়া যাবে না। প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত। প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য। প্রয়োজন তাঁর চাকরি হারানোর প্রেক্ষাপট ও পাওনা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ। প্রয়োজন সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নিজেদের ভূমিকা পর্যালোচনা।
একজন সাংবাদিক তাঁর জীবনের বড় একটি অংশ সংবাদপেশা ও সমাজের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। শেষ জীবনে যদি তিনি আর্থিক সংকট, পেশাগত অনিশ্চয়তা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ভারে ন্যুব্জ হয়ে থাকেন, তবে তাঁর মৃত্যুকে শুধু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখলে মূল প্রশ্নটি আড়ালেই থেকে যাবে। পুলক চ্যাটার্জি নেই। কিন্তু তাঁর মৃত্যু বরিশালের সাংবাদিক সমাজের সামনে যে প্রশ্নগুলো রেখে গেছে, সেগুলো এখনো জীবিত।
একজন সাংবাদিকের দুর্দিনে সাংবাদিক সমাজ কোথায় থাকে- আর সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব যখন পেশাদারিত্বের বদলে অন্য কোনো প্রভাবের কাছে দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন যোগ্য সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াবে কে? পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু এখন সেই প্রশ্নের উত্তর দাবি করছে।’
হাসিবুল ইসলাম, সংবাদকর্মী ও কলাম লেখক।

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৩৯
দৈনিক সমকাল বরিশাল ব্যুরো অফিসে সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা রাতে তার এই আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে শহরের ৯নং ওয়ার্ডের প্যারারা রোডের অফিসে পুলিশ প্রশাসন এবং সহকর্মীরা ছুটে যান। পুলক চ্যাটার্জি এর আগে সমকাল ব্যুরো হিসেবে একই অফিসে দীর্ঘকাল কাজ করেছেন, বছর তিনেক পূর্বে তাকে প্রতিষ্ঠানটি সরিয়ে সহকর্মী রিপোর্টার সুমন চৌধুরীকে দায়িত্ব দেয়।
পুলক চ্যাটার্জির এই মৃত্যু নিয়ে সহকর্মী সিনিয়র-জুনিয়র অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন এবং এর নেপথ্যে কোনো গল্প লুকানো আছে কী না তা তদন্ত করার জোর দাবিও তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে তার ঝুলন্ত ছবিটি মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ বাড়িয়ে তুলেছে। এই বিষয়টিতে পুলিশ আপাতত কোনো মন্তব্য না করলেও একটি চিকন রশিতে ফ্যানের সাথে সাংবাদিকের দেহ ঝুলে থাকা এবং পা মাটিতে ভাজ থাকার চিত্রটি তাদেরও ভাবাচ্ছে।
সহকর্মীরা জানিয়েছে, চাকরি না থাকলেও পুলক চ্যাটার্জি মাঝেমধ্যে অফিসে পত্রিকা পড়তে আসতেন এবং তার কাছে অফিসের একটি বিকল্প চাবি ছিল। শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে তিনি অনুরূপভাবে অফিসে আসেন, যা সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড আছে। তবে এ সময় ব্যুরো চিফ সুমন চৌধুরী অফিসে ছিলেন না বলে জানা গেছে।
প্যারারা রোডের এই অফিস ভবনটি বিএনপি নেতা আনোয়ারুল হক তারিনের। ভবনটিতে দৈনিক আজকের পত্রিকা, দৈনিক যুগান্তর, এনটিভির অফিস রয়েছে।
পুলকের স্ত্রী নিলোৎপলা মুখার্জি সাংবাদিকদের বলেন, “ ২০২৩ সালের দিকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তারপর থেকে তিনি বেকার ছিলেন। পুলক চ্যাটার্জি স্ত্রী ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। পুলক চ্যাটার্জির ভাই ভূমি কর্মকর্তা দীপক চ্যাটার্জি বলেন, চাকরি না থাকার কারণে তার ভাই কিছুটা হতাশ ছিলেন। সে কারণেও এটা হতে পারে। কিন্তু এ কারণে আত্মহত্যা করবেন, সেটা কেউ ভাবিনি।”
৫৭ বছর বয়সি এই সাংবাদিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা-সহকর্মী সাংবাদিকসহ রাজনৈতিক নেতারা ছুটে যান।
বর্তমান ব্যুরো চিফ সুমন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, তিনি সন্ধ্যা ৬টার দিকে এসে অফিসের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখতে পান এবং পাশের জানালা দিয়ে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জিতে রশিতে ঝুলতে দেখেন। তাৎক্ষণিক তৃতীয় তলায় যুগান্তর অফিসের লোকজন ডেকে এনে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলেও সাংবাদিকের মরদেহটি নামানটি, বরং সাথে সাথে পুলিশকে অবহিত করেন।
সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলছেন, প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তাকে একটি চিকন রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং পাটি মেঝেতে ভাজ করা ছিল। ফলে বিষয়টি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন। এই কারণে সাংবাদিকের মরদেহের ময়নাতদন্ত করার প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ।’
দৈনিক সমকাল বরিশাল ব্যুরো অফিসে সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা রাতে তার এই আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে শহরের ৯নং ওয়ার্ডের প্যারারা রোডের অফিসে পুলিশ প্রশাসন এবং সহকর্মীরা ছুটে যান। পুলক চ্যাটার্জি এর আগে সমকাল ব্যুরো হিসেবে একই অফিসে দীর্ঘকাল কাজ করেছেন, বছর তিনেক পূর্বে তাকে প্রতিষ্ঠানটি সরিয়ে সহকর্মী রিপোর্টার সুমন চৌধুরীকে দায়িত্ব দেয়।
পুলক চ্যাটার্জির এই মৃত্যু নিয়ে সহকর্মী সিনিয়র-জুনিয়র অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন এবং এর নেপথ্যে কোনো গল্প লুকানো আছে কী না তা তদন্ত করার জোর দাবিও তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে তার ঝুলন্ত ছবিটি মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ বাড়িয়ে তুলেছে। এই বিষয়টিতে পুলিশ আপাতত কোনো মন্তব্য না করলেও একটি চিকন রশিতে ফ্যানের সাথে সাংবাদিকের দেহ ঝুলে থাকা এবং পা মাটিতে ভাজ থাকার চিত্রটি তাদেরও ভাবাচ্ছে।
সহকর্মীরা জানিয়েছে, চাকরি না থাকলেও পুলক চ্যাটার্জি মাঝেমধ্যে অফিসে পত্রিকা পড়তে আসতেন এবং তার কাছে অফিসের একটি বিকল্প চাবি ছিল। শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে তিনি অনুরূপভাবে অফিসে আসেন, যা সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড আছে। তবে এ সময় ব্যুরো চিফ সুমন চৌধুরী অফিসে ছিলেন না বলে জানা গেছে।
প্যারারা রোডের এই অফিস ভবনটি বিএনপি নেতা আনোয়ারুল হক তারিনের। ভবনটিতে দৈনিক আজকের পত্রিকা, দৈনিক যুগান্তর, এনটিভির অফিস রয়েছে।
পুলকের স্ত্রী নিলোৎপলা মুখার্জি সাংবাদিকদের বলেন, “ ২০২৩ সালের দিকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তারপর থেকে তিনি বেকার ছিলেন। পুলক চ্যাটার্জি স্ত্রী ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। পুলক চ্যাটার্জির ভাই ভূমি কর্মকর্তা দীপক চ্যাটার্জি বলেন, চাকরি না থাকার কারণে তার ভাই কিছুটা হতাশ ছিলেন। সে কারণেও এটা হতে পারে। কিন্তু এ কারণে আত্মহত্যা করবেন, সেটা কেউ ভাবিনি।”
৫৭ বছর বয়সি এই সাংবাদিকের মৃত্যুর খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা-সহকর্মী সাংবাদিকসহ রাজনৈতিক নেতারা ছুটে যান।
বর্তমান ব্যুরো চিফ সুমন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, তিনি সন্ধ্যা ৬টার দিকে এসে অফিসের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখতে পান এবং পাশের জানালা দিয়ে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জিতে রশিতে ঝুলতে দেখেন। তাৎক্ষণিক তৃতীয় তলায় যুগান্তর অফিসের লোকজন ডেকে এনে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলেও সাংবাদিকের মরদেহটি নামানটি, বরং সাথে সাথে পুলিশকে অবহিত করেন।
সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলছেন, প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তাকে একটি চিকন রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং পাটি মেঝেতে ভাজ করা ছিল। ফলে বিষয়টি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন। এই কারণে সাংবাদিকের মরদেহের ময়নাতদন্ত করার প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ।’

২৩ জুন, ২০২৬ ২২:৩৪
বরিশালের বাকেরগঞ্জে বডি স্প্রে ব্যবহারের কারণে ১৪ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পরেছে। মারাত্মক অসুস্থ ৩ জন শিক্ষার্থীকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
২৩ জুন মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের শিবপুর পাবলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থদের মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী মারাত্মক অসুস্থ হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলো বিথি আক্তার (১৪), মারুফ খান (১৪), তানজিলা আক্তার, সারা মনি (১৪), তাজু (১৪), মাহিন (১৪), সুমাইয়া (১৪), ইশরাত (১৪), সাদিয়া (১৪), লামিয়া (১৪), অন্তরা (১৪) ও জিসান (১৪)। বাকি দুই শিক্ষার্থীর নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি, এবং তারা সবাই নবম শ্রেনীর শিক্ষার্থী।
হাসপাতাল ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ব্যাগে থাকা ‘ওয়াইল্ড স্টোন (WILD STONE)’ ব্র্যান্ডের একটি বডি স্প্রে ব্যবহার করার পর প্রথমে বিথি আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে দেখতে গিয়ে এবং ঘটনাটি নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মোট ১৪ জন শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার উপসর্গে আক্রান্ত হয়।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারুফ খান জানান, তাদের সহপাঠী তাওসিফের ব্যাগে থাকা বডি স্প্রে ব্যবহার করার পর প্রথমে বিথি আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে দেখতে আসা অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও একে একে অসুস্থ হয়ে যায়।
শিবপুর পাবলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হান্নান মিয়া বলেন, “দুপুর দেড়টার দিকে হঠাৎ করে একের পর এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের দ্রুত বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এক শিক্ষার্থী বডি স্প্রে ব্যবহারের পর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই অন্যদের মধ্যে একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়।”
বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুজিত চন্দ্র ঢালি বলেন, “শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও অজ্ঞান হওয়ার উপসর্গ নিয়ে শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে অধিকাংশকে চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে তিনজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধুমাত্র একটি বডি স্প্রে ব্যবহারের কারণে একসঙ্গে এত শিক্ষার্থীর অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক নয়। এর সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক বা সাইকোলজিক্যাল প্রভাব জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি চিকিৎসকরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।”
এদিকে ঘটনার পর পুলিশ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছে। বাকেরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬