বাবুগঞ্জে জুয়াড়িদের হামলা ও হুমকি-ধামকির প্রতিবাদে কেদারপুর গ্রামবাসীর মানববন্ধন।
বরিশালের বাবুগঞ্জে কথিত বৈশাখী আনন্দ মেলার নামে জুয়া, মাদক ও অশ্লীল নৃত্যের প্যান্ডেলে শুক্রবার রাতে জনতার ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনার জের ধরে এবার পাল্টা হামলা চালিয়ে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকে মারপিট করেছে জুয়াড়িরা। এছাড়াও অসামাজিক কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী এলাকার সুশীল সমাজের মানুষদের ক্রমাগত খুন-জখম আর গ্রামছাড়া করার হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। এমন অভিযোগে জুয়াড়িদের এসব ঔদ্ধত্য আস্ফালনের প্রতিবাদে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সর্বস্তরের এলাকাবাসী। রোববার রাতে উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভূতেরদিয়া খেয়াঘাটে সহস্রাধিক গ্রামবাসী ঘন্টাব্যাপী ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এসময় মানববন্ধন কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বাবুগঞ্জ থানার ওসি জহিরুল আলমও।
ক্ষুদ্রকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ আহমেদের সভাপতিত্বে রোববার রাত সাড়ে ৭টা থেকে প্রায় ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বাবুগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, শিক্ষক সমিতির নেতা নুরুজ্জামান পুলু, আবদুর রশিদ মাস্টার, ইমাম মাওলানা এনায়েতুর রহমান, মাওলানা আক্কাস আলী, ইসলামী যুব আন্দোলনের সভাপতি হাফেজ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ প্রমুখ।
বিক্ষোভ কর্মসূচির সভাপতি ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতা মাসুদ আহমেদ বলেন, 'গত ১৪ এপ্রিল থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট সংলগ্ন বোয়ালিয়া এলাকায় কথিত বৈশাখী আনন্দ মেলার নামে রাতভর জুয়া, মাদক আর অশ্লীল নাচগানের অনুষ্ঠান চালাতে থাকে একটি চিহ্নিত জুয়াড়ি সিন্ডিকেট। জেলা প্রশাসন ১৪ মে পর্যন্ত একমাসের বৈশাখী মেলার অনুমোদন দিলেও তারা মেলার পরিবর্তে দুই মাস ধরে সেখানে বিভিন্ন সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এর প্রতিবাদে স্থানীয় গ্রামবাসী গত ২৮ এপ্রিল কেদারপুর খেয়াঘাটে মানববন্ধন এবং বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিলেও বন্ধ হয়নি জুয়াড়িদের অসামাজিক কার্যকলাপ। বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক আহমেদ দুই দফায় অভিযান চালিয়ে তাদের জুয়া এবং অশ্লীল নাচগানের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিলেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পরের দিনেই আবার তা চালু করে তারা। এসএসসি পরীক্ষার মধ্যেও সারারাত মাইক বাজিয়ে জুয়াড়িদের এসব নাচগান, জুয়া আর মাদক কেনাবেচার উৎসবে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে গত ১৩ জুন রাতে কেদারপুরে জনবিস্ফোরণ ঘটে। বিক্ষুব্ধ শতশত গ্রামবাসী রাস্তায় নেমে এসে তাদের প্যান্ডেল ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে।'
মানববন্ধন সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, 'কেদারপুরের পরিবেশ সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিয়েছিল এই কথিত বৈশাখী আনন্দ মেলা। নিরুপায় হয়ে এসব সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্যান্ডেল উচ্ছেদ করেছে গ্রামবাসী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ, সাবেক ইউপি মেম্বার আবদুল আলীম ওরফে আবদুল জুয়াড়ি, বিএনপি নেতা নূর বেল্লাল ওরফে ভুলু জুয়াড়ি এবং শ্রমিকদল নেতা অপু এখন সবাইকে খুন-জখমের হুমকি দিচ্ছে। যারা তাদের অন্যায়-অপকর্মের প্রতিবাদ করেছে তাদের ডেকে নিয়ে চড়-থাপ্পড় দিচ্ছে এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তারা শনিবার রাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী লুৎফর রহমানকে ধরে নিয়ে মারপিট করেছে। বিএনপির ছাত্রছায়ায় জুয়াড়ি সিন্ডিকেট এখন বেপরোয়া। মৌন সম্মতি আছে বলেই জামায়াত ইসলামী নীরব দর্শকের ভূমিকায়। অথচ জামায়াতের বরিশাল মহানগরের আমীরের বাড়ি এই কেদারপুর ইউনিয়নে। তার ইউনিয়নেই দুই মাস ধরে চলছিল জুয়া, অশ্লীলতা আর বেশ্যাবৃত্তি। জনগণের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় উচ্ছেদ হয়েছে জুয়াড়িরা। অথচ উল্টা জুয়াড়িরা এখন হয়রানি করছে এলাকাবাসীকে। তাই এসবের প্রতিবাদে গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ রোববার রাতে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।'
জুয়াড়িদের হামলায় আহত স্থানীয় ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বলেন, 'এলাকায় বৈশাখী আনন্দ মেলা শুরু হয়েছে শুনে মেলা দেখতে যাই। কিন্তু গিয়ে দেখি সেখানে মেলার কিছুই নাই। পুরাটাই জুয়া, মাদক, অশ্লীল অর্ধ-উলঙ্গ নর্তকীদের নাচগানের রাতভর অনুষ্ঠান আর দেহব্যবসা। সেজন্য আমি সমাজ নষ্টের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে এলাকাবাসীর সাথে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করি। শুক্রবার রাতে গ্রামবাসী জুয়ার প্যান্ডেল উচ্ছেদের ঘটনায় দায়ী করে শনিবার রাতে মেলা কমিটির নির্দেশে আমাকে মারপিট করে জুয়াড়িরা। যারা বিরোধিতা করেছে তাদের সবাইকে গ্রামছাড়া করারও হুমকি দেয় জুয়াড়িরা। তারা একজন একজন ধরবে আর কোপাবে বলেও আমাকে ভয়ভীতি দেখায়।'
বাবুগঞ্জ থানার (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, 'জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের। কেদারপুরে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে সেটা অবশ্যই দুঃখজনক। জুয়া, মাদক, অশ্লীলতাসহ সকল ধরনের সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ সর্বদা জনগণের পাশে থাকবে। কেউ সমাজ নষ্ট করতে চাইলে, পরিবেশ নষ্ট করতে চাইলে, শান্তিপ্রিয় মানুষকে হুমকি, ভয়ভীতি দেখালে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।' #

২১ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:১১
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকর্মী মো. তাইজুল ইসলাম তাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বরিশাল নগরী থেকে তাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সোমবারের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের ছোট ব্রিজসংলগ্ন নলছিটি হাউজিং এলাকায় তিন বহিরাগতকে গাঁজা সেবন করতে দেখেন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান মাহমুদুল ও তাঁর সহকর্মীরা। তাঁদের মাদক সেবন থেকে বিরত থাকতে বলার পাশাপাশি চড়-থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এরপর তাজের নেতৃত্বে বহিরাগত ছাত্রলীগকর্মী মো. সাব্বির খান, মো. ইরফান হিমেল ও তামজিদ বাঁধনসহ ১০ থেকে ১৫ জন সংগঠিত হয়ে ইমরানসহ তিন ছাত্রদল নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ইমরান মাহমুদুল, জনি ও আশিক আহত হন।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদী হয়ে বন্দর থানায় মামলা করেন। এতে তাজ, সাব্বির, হিমেল ও বাঁধনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
হামলার প্রতিবাদে ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে প্রায় ১০ মিনিট পর তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মেহেদী হাসান সোহাগ সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সোমবারই বন্দর থানার ওসির সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। আহতদের আইনি সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট ব্যতীত সব রাজনৈতিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীর পাশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব সময় আছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ইয়াবাসংক্রান্ত একটি মামলায় তাজকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকর্মী মো. তাইজুল ইসলাম তাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বরিশাল নগরী থেকে তাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সোমবারের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের ছোট ব্রিজসংলগ্ন নলছিটি হাউজিং এলাকায় তিন বহিরাগতকে গাঁজা সেবন করতে দেখেন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান মাহমুদুল ও তাঁর সহকর্মীরা। তাঁদের মাদক সেবন থেকে বিরত থাকতে বলার পাশাপাশি চড়-থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এরপর তাজের নেতৃত্বে বহিরাগত ছাত্রলীগকর্মী মো. সাব্বির খান, মো. ইরফান হিমেল ও তামজিদ বাঁধনসহ ১০ থেকে ১৫ জন সংগঠিত হয়ে ইমরানসহ তিন ছাত্রদল নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ইমরান মাহমুদুল, জনি ও আশিক আহত হন।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদী হয়ে বন্দর থানায় মামলা করেন। এতে তাজ, সাব্বির, হিমেল ও বাঁধনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
হামলার প্রতিবাদে ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে প্রায় ১০ মিনিট পর তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মেহেদী হাসান সোহাগ সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সোমবারই বন্দর থানার ওসির সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। আহতদের আইনি সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট ব্যতীত সব রাজনৈতিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীর পাশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব সময় আছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ইয়াবাসংক্রান্ত একটি মামলায় তাজকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

২০ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:২১
বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভাগে নতুন করে ১৯১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দার।
মৃত দুই নারীই ঝালকাঠি জেলার বাসিন্দা। তাদের একজন রাশিদা বেগম (৬২)। তিনি নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা গ্রামের বাসিন্দা। অপর নারী রেক্সনা (৪৫) রাজাপুর উপজেলার বাসিন্দা।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৫ হাজার ৭১৩ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪ হাজার ৯৮৫ জন। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭০০ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ জন।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দার জানান, বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়ার চেয়ে আগেভাগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। রোগীর চাপ সক্ষমতার বাইরে চলে গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, মশার বংশবিস্তার ঠেকাতে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। একই সঙ্গে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভাগে নতুন করে ১৯১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দার।
মৃত দুই নারীই ঝালকাঠি জেলার বাসিন্দা। তাদের একজন রাশিদা বেগম (৬২)। তিনি নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা গ্রামের বাসিন্দা। অপর নারী রেক্সনা (৪৫) রাজাপুর উপজেলার বাসিন্দা।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৫ হাজার ৭১৩ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪ হাজার ৯৮৫ জন। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭০০ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ জন।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দার জানান, বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়ার চেয়ে আগেভাগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। রোগীর চাপ সক্ষমতার বাইরে চলে গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, মশার বংশবিস্তার ঠেকাতে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। একই সঙ্গে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৫২
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে সরকারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও পাঁচজন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার ও পুলিশের কর্মকর্তারা।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল থেকে রাজশাহীগামী আরপি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। বাসটি পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছিল। অন্যদিকে ট্রাকটি কুড়িগ্রাম থেকে পাবনার দিকে যাচ্ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে অংশ নেন। আহতদের উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাটোর জেনারেল হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনায় বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বাসচালক সোহেল রানা (৪০), রাজশাহীর বাগমারার আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের আট বছর বয়সী তাসফিয়া খাতুন এবং শরীয়তপুরের জাজিরা এলাকার কয়েকজন বাসযাত্রী। বাকিদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
এদিকে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নাটোর জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে।’
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে সরকারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও পাঁচজন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার ও পুলিশের কর্মকর্তারা।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল থেকে রাজশাহীগামী আরপি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। বাসটি পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছিল। অন্যদিকে ট্রাকটি কুড়িগ্রাম থেকে পাবনার দিকে যাচ্ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে অংশ নেন। আহতদের উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাটোর জেনারেল হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনায় বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বাসচালক সোহেল রানা (৪০), রাজশাহীর বাগমারার আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের আট বছর বয়সী তাসফিয়া খাতুন এবং শরীয়তপুরের জাজিরা এলাকার কয়েকজন বাসযাত্রী। বাকিদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
এদিকে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নাটোর জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে।’

১৭ জুন, ২০২৫ ০২:৪৭
বরিশালের বাবুগঞ্জে কথিত বৈশাখী আনন্দ মেলার নামে জুয়া, মাদক ও অশ্লীল নৃত্যের প্যান্ডেলে শুক্রবার রাতে জনতার ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনার জের ধরে এবার পাল্টা হামলা চালিয়ে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকে মারপিট করেছে জুয়াড়িরা। এছাড়াও অসামাজিক কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী এলাকার সুশীল সমাজের মানুষদের ক্রমাগত খুন-জখম আর গ্রামছাড়া করার হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। এমন অভিযোগে জুয়াড়িদের এসব ঔদ্ধত্য আস্ফালনের প্রতিবাদে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সর্বস্তরের এলাকাবাসী। রোববার রাতে উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভূতেরদিয়া খেয়াঘাটে সহস্রাধিক গ্রামবাসী ঘন্টাব্যাপী ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এসময় মানববন্ধন কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বাবুগঞ্জ থানার ওসি জহিরুল আলমও।
ক্ষুদ্রকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ আহমেদের সভাপতিত্বে রোববার রাত সাড়ে ৭টা থেকে প্রায় ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বাবুগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, শিক্ষক সমিতির নেতা নুরুজ্জামান পুলু, আবদুর রশিদ মাস্টার, ইমাম মাওলানা এনায়েতুর রহমান, মাওলানা আক্কাস আলী, ইসলামী যুব আন্দোলনের সভাপতি হাফেজ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ প্রমুখ।
বিক্ষোভ কর্মসূচির সভাপতি ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতা মাসুদ আহমেদ বলেন, 'গত ১৪ এপ্রিল থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট সংলগ্ন বোয়ালিয়া এলাকায় কথিত বৈশাখী আনন্দ মেলার নামে রাতভর জুয়া, মাদক আর অশ্লীল নাচগানের অনুষ্ঠান চালাতে থাকে একটি চিহ্নিত জুয়াড়ি সিন্ডিকেট। জেলা প্রশাসন ১৪ মে পর্যন্ত একমাসের বৈশাখী মেলার অনুমোদন দিলেও তারা মেলার পরিবর্তে দুই মাস ধরে সেখানে বিভিন্ন সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এর প্রতিবাদে স্থানীয় গ্রামবাসী গত ২৮ এপ্রিল কেদারপুর খেয়াঘাটে মানববন্ধন এবং বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিলেও বন্ধ হয়নি জুয়াড়িদের অসামাজিক কার্যকলাপ। বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক আহমেদ দুই দফায় অভিযান চালিয়ে তাদের জুয়া এবং অশ্লীল নাচগানের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিলেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পরের দিনেই আবার তা চালু করে তারা। এসএসসি পরীক্ষার মধ্যেও সারারাত মাইক বাজিয়ে জুয়াড়িদের এসব নাচগান, জুয়া আর মাদক কেনাবেচার উৎসবে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে গত ১৩ জুন রাতে কেদারপুরে জনবিস্ফোরণ ঘটে। বিক্ষুব্ধ শতশত গ্রামবাসী রাস্তায় নেমে এসে তাদের প্যান্ডেল ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে।'
মানববন্ধন সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, 'কেদারপুরের পরিবেশ সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিয়েছিল এই কথিত বৈশাখী আনন্দ মেলা। নিরুপায় হয়ে এসব সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্যান্ডেল উচ্ছেদ করেছে গ্রামবাসী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ, সাবেক ইউপি মেম্বার আবদুল আলীম ওরফে আবদুল জুয়াড়ি, বিএনপি নেতা নূর বেল্লাল ওরফে ভুলু জুয়াড়ি এবং শ্রমিকদল নেতা অপু এখন সবাইকে খুন-জখমের হুমকি দিচ্ছে। যারা তাদের অন্যায়-অপকর্মের প্রতিবাদ করেছে তাদের ডেকে নিয়ে চড়-থাপ্পড় দিচ্ছে এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তারা শনিবার রাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী লুৎফর রহমানকে ধরে নিয়ে মারপিট করেছে। বিএনপির ছাত্রছায়ায় জুয়াড়ি সিন্ডিকেট এখন বেপরোয়া। মৌন সম্মতি আছে বলেই জামায়াত ইসলামী নীরব দর্শকের ভূমিকায়। অথচ জামায়াতের বরিশাল মহানগরের আমীরের বাড়ি এই কেদারপুর ইউনিয়নে। তার ইউনিয়নেই দুই মাস ধরে চলছিল জুয়া, অশ্লীলতা আর বেশ্যাবৃত্তি। জনগণের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় উচ্ছেদ হয়েছে জুয়াড়িরা। অথচ উল্টা জুয়াড়িরা এখন হয়রানি করছে এলাকাবাসীকে। তাই এসবের প্রতিবাদে গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ রোববার রাতে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।'
জুয়াড়িদের হামলায় আহত স্থানীয় ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বলেন, 'এলাকায় বৈশাখী আনন্দ মেলা শুরু হয়েছে শুনে মেলা দেখতে যাই। কিন্তু গিয়ে দেখি সেখানে মেলার কিছুই নাই। পুরাটাই জুয়া, মাদক, অশ্লীল অর্ধ-উলঙ্গ নর্তকীদের নাচগানের রাতভর অনুষ্ঠান আর দেহব্যবসা। সেজন্য আমি সমাজ নষ্টের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে এলাকাবাসীর সাথে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করি। শুক্রবার রাতে গ্রামবাসী জুয়ার প্যান্ডেল উচ্ছেদের ঘটনায় দায়ী করে শনিবার রাতে মেলা কমিটির নির্দেশে আমাকে মারপিট করে জুয়াড়িরা। যারা বিরোধিতা করেছে তাদের সবাইকে গ্রামছাড়া করারও হুমকি দেয় জুয়াড়িরা। তারা একজন একজন ধরবে আর কোপাবে বলেও আমাকে ভয়ভীতি দেখায়।'
বাবুগঞ্জ থানার (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, 'জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের। কেদারপুরে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে সেটা অবশ্যই দুঃখজনক। জুয়া, মাদক, অশ্লীলতাসহ সকল ধরনের সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ সর্বদা জনগণের পাশে থাকবে। কেউ সমাজ নষ্ট করতে চাইলে, পরিবেশ নষ্ট করতে চাইলে, শান্তিপ্রিয় মানুষকে হুমকি, ভয়ভীতি দেখালে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।' #
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২০
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১১
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৫৮