কদিন পূর্বে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম মিডিয়ায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছেন বরিশাল হবে রাজনৈতিক সন্ত্রাসমুক্ত। এবং গত ৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নেওয়ার আগেও অভিন্ন বক্তব্য রেখেছিলেন তিনি। নির্বাচনে জাহিদ ফারুককে সমর্থন দেওয়া বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের খোকন সেরনিয়াবাতও অনুরুপ অঙ্গীকার রেখেছেন নগরবাসীর কাছে। এবং উভয় জনপ্রতিনিধি এও জানিয়ে ছিলেন রাজনৈতিক হানাহানি বন্ধ করাসহ দখল সন্ত্রাস রোধ করে শান্তিময় ‘নতুন বরিশাল’ গড়ে তোলা হবে। স্বচ্ছ-সৎ-আদর্শিক এই দুই জনপ্রতিনিধি নির্বাচন পূর্বাপর দেওয়া তাদের অঙ্গীকার পালনের ধারা অব্যাহত রাখার ঘোষণার মধ্যেও বরিশালে তাদের অনুসারীরা ক্রমাগত অপরাধ পরিক্রমায় জড়িয়ে পড়ছেন। উভয় নেতার অনুসারীরা দলীয় ঘরনার বিরোধীদের হাট-বাজার দখল করাসহ সংঘাত-সংঘর্ষে বরিশাল উত্তপ্ত করে তুলেছেন। এসব ঘটনাবলীতে বরিশালের চার থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বন্দর এবং বিমানবন্দরে অন্তত ডজনখানে মামলা হলেও নগরবাসী মোটেও স্বস্তিতে নেই। বরং দিনেদিনে আতঙ্ক ক্রমশই বৃদ্ধি করছে, যা প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এবং সিটি মেয়র আবুল খায়েরের ইতিবাচক রাজনৈতিক ধারা নয়, মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।
অভিজ্ঞ মহল বলছেন, কীর্তনখোলা নদীঘেরা জনপদের দুই জনপ্রতিনিধি জাহিদ ফারুক এবং আবুল খায়ের খোকন সেরনিয়াবাত ক্লিন ইমেজের রাজনৈতিক। তাদের দুজনের ওপর বরিশাল সিটি ও সদর আসনের জনগণ আস্থা রেখেছেন বলেই তারা সম্প্রতি অনুষ্ঠেয় দুটি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন। সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ দুটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হলে মহানগর আওয়ামী লীগ বেকে বসে। কিন্তু তারপরেও নৌকার প্রার্থী সিটিতে আবুল খায়ের এবং সংসদে জাহিদ ফারুক শামীমকেই সাধারণ মানুষ বেচে নিয়েছেন। নির্বাচন পূর্বাপর উভয় জনপ্রতিনিধি অনুরুপ প্রতিশ্রুতি করেছিলেন যে অবহেলিত বরিশাল হবে রাজনৈতিক সন্ত্রাসমুক্ত এবং উন্নত ‘নতুন বরিশাল’। অবশ্য এনিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল শহরবাসী। তবে সংসদ নির্বাচনের পর তাদের কর্মী-অনুসারীদের কয়েকজন বরিশালে দখল পাল্টা দখলের উৎসবে মেতে উঠেছেন। এনিয়ে সংঘাত-রক্তপাতে উত্তপ্ত এবং ক্রমাগতভাবে আতঙ্ক বৃদ্ধি হলেও প্রতিমন্ত্রী-মেয়রের নির্লপ্ত থাকা সমীচীন নয়। বরং শহরবাসীর স্বার্থে এই দুই জনপ্রতিনিধির ইতিবাচক রাজনৈতিক ধারা অব্যাহত রাখতে সন্ত্রাস রুখে দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে মনোযোগী হওয়া জরুরি। নতুবা এই সন্ত্রাস প্রতিমন্ত্রী মেয়রের ক্লিন ইমেজে দাগ লাগাবে!, ছাপিয়ে যাবে সাবেক সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র সময়কার সকল বিতর্কিত কর্মকান্ডের রেকর্ড।
৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের আগে বরিশাল নগরীতে সরকারি বেশ কিছু হাট-বাজার এবং ঘাট দখলের একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিশেষ করে সিটি এবং সংসদে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত সাদিক আব্দুল্লাহ অনুসারীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে নেয় প্রতিমন্ত্রী-মেয়রের অনুসারীরা। এই দখল প্রক্রিয়া চালাতে গিয়ে দুই পক্ষের হানাহানি খোদ সরকারের একাধিক দপ্তরকে বিপাকে ফেলে দেয়। মেয়র সমর্থিত খান হাবিব বিআইডব্লিউটিএ’র দুটি ঘাট তার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন, যা এতদিন মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুলের দখলে ছিল। আলোচ্চ্য টুটুল সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়বাত সাদিক আব্দুল্লাহ সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে সমাধিক পরিচিত। ৫ বছর আগে ২০১৮ সালে তার নেতা সাদিক আব্দুল্লাহ মেয়র হলে অনুরুপভাবে তিনিও হাট-ঘাট-বাজারগুলো এককভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন, তখনও সন্ত্রাস-সংঘাতে বরিশাল শহর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
রাজনৈতিক মহল বলছে, সদরের এমপি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক একজন সৎ মানুষ হিসেবে পরিচিত। এছাড়া সিটি মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতও অভিন্ন চরিত্রের। মহানগর আওয়ামী লীগ তাদের দুজনের নির্বাচনেই উল্টো পথে হেটেছে, কিন্তু লাভ হয়নি। বরং নৌকার বিরুদ্ধচারণ করায় সাদিকসহ তার অনুসারীরা বিতর্কিত হয়েছেন। এছাড়া ক্ষমতার আমলে তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ওষ্ঠাগত হয়ে খোকন সেরনিয়াবাত এবং জাহিদ ফারুকের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছিল। অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তারা নৌকা নিয়ে বৈতরণী পার হয়েছেন, নগরবাসী তাদের বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, দুই জনপ্রতিনিধি তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে যখন আধাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন, তখনই গুটিকয়ে কর্মী তাদের এমন উদ্যোগ এবং প্রসংশনীয় কর্ম অপেক্ষা বিতর্ক বেশি তৈরি করেছে দখল সন্ত্রাসের জানান দিয়ে।
জানা যায়, কদিন পূর্বে শহরের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্ত দপদপিয়া ব্রিজের টোলপ্লাজায় আসা একটি যাত্রীবাহী পরিবহন থেকে পটুয়াখালীর ব্যবসায়ীদের মাছ লুটপাট করে সিটি মেয়র অনুসারী কথিত ছাত্র-যুবলীগ নেতাকর্মীরা। বিতর্কিত যুবক রেজভীর নেতৃত্বে মাছগুলো লুটপাট শেষে সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে করে তা নিয়ে যাওয়া হয় শহরের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পোর্টরোডে এবং কাশিপুরে। দুটি স্থানে মাছগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় পটুয়াখালীর ওই ব্যবসায়ী বাদী হয়ে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও নেতৃত্বদানকারী রেজভী আছেন বহাল তবিয়তে।
পুলিশ এই আলোচিত মামলাটি নিয়ে কাজ করছে এবং তদন্ত করতে গিয়ে যা পেয়েছে, পাচ্ছে তা শুনলে অনেকের চক্ষু চড়কগাছ। সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র আমলে অনুরুপ মাছের গাড়িতে লুটপাট চালিয়ে ছিলেন সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক আশিকুর রহমান সুজন। তখন তিনিও পরিবহন থেকে মাছ লুটপাট করে তা সিটি কর্পোরেশনের গাড়িযোগে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যেতেন। জাহিদ ফারুক এবং আবুল খায়েরের নতুন বরিশালে সাদিক অনুসারীদের আধিপত্য নেই, কিন্তু অভিন্ন স্টাইলেই লুটতরাজ চলছে, যা নিয়ে সরব আলোচনা-সমালোচনা হয়।
প্রশ্ন হচ্ছে, রাজনৈতিক সন্ত্রাস রোধে প্রতিমন্ত্রী-মেয়র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাদের স্বদিচ্ছাও আছে, তারপরেও কেনো অনুগত কর্মীরা সংঘাত-সংঘর্ষ ও দখল পাল্টা দখলের পথে হাটছে, যা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর হতে বাধ্য করছে। তবে ভীতিগ্রস্ত করে তুলছে নগরবাসীকে।
অবশ্য পরিবহন থেকে মাছ লুটপাট যে দিন হয়েছিল, সেদিন প্রতিমন্ত্রী রাজধানী ঢাকাতে অবস্থান করছিলেন এবং সিটি মেয়র ওমরাহ পালনে সৌদিতে আছেন। কোতয়ালি পুলিশ বলছে, মাছ লুটপাটের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে, এতে কয়েকজন আছেন নামধারী, বাকিরা অজ্ঞাত। মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এর বেশি পুলিশ কিছু না জানালেও নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ বেশ কিছু চ্যাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে, যার মধ্যে একটি সিটি কর্পোরেশনের পরিবহনে লুটপাটের মাছ বহন করা। এছাড়া এতে রেজভী নামক যুবকের নেতৃত্বে থাকার প্রমাণ ইতিমধ্যে হাতে এসেছে, সিসি ক্যামেরার ভিডিওচিত্রে এমনটি পরিলক্ষিত হয়।
সূত্র নিশ্চিত করেছে, পত্রিশোর্ধ্ব রেজভী সিটি মেয়র আবুল খায়েরের অনুসারী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অসীম দেওয়ানের কর্মী। গুন্ডাবাহিনী নিয়ে পরিবহনের গতিরোধ করে মাছ লুটপাটের ঘটনা রেজভী অস্বীকার করেছেন। কিন্তু সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে তাকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যাচ্ছে এমন বর্ণনা দিয়ে জানতে চাইলে তিনি নিজের সম্পৃক্ততা দ্বিতীয়বার অস্বীকার করলেও পরবর্তী বিভিন্ন মহল থেকে এ প্রতিবেদকের কাছে মুঠোফোনে সুপারিশ রাখেন সংবাদটি চেপে যেতে।
এছাড়া পোর্টরোডে সাদিকপন্থী টুটুলকে হঠিয়ে হাবিবের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ইজারা দেওয়া ঘাটটি দখল নিয়ে সেখান থেকে টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এতে টুটুল ক্ষুব্ধ, বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা বিস্মিত।
মিডিয়ায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাবিব ঘাট দখলের বিষয়টি অস্বীকার করলেও বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক সংবাদমাধ্যমকে বলছেন, ঘাটের বৈধ ইজারাদার নিরব হোসেন টুটুল। কিন্তু তাকে ইজারা তুলতে দেওয়া হচ্ছে না, এমন অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে আলোচনায় আসে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের অনুসারী চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত নেতা শহিদুল ইসলাম ওরফে ইতালি শহীদ ভূমি অফিসের জমিতে নিজস্ব অফিস করেছেন। পাশাপাশি তিনি পার্শ্ববর্তী তালতলী বাজারের ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে প্রতিদিন সকালে ৮/১০ হাজার টাকা চাঁদাও উত্তোলন করছেন। এই বাজার থেকে আগে নিরব হোসেন টুটুলের লোকেরা চাঁদা তুলতেন। এনিয়ে সংবাদ হলে ইতালির সেই অফিসটি ভূমি দপ্তর তালাবদ্ধ করে দিলেও বাজারে চাঁদাবাজি চলছেই।
জানতে চাইলে ইতালি শহীদ বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদল হয়েছে, আগে টুটুলের লোকজন বাজারটি খেতেন, এখন আমি প্রতিমন্ত্রীর লোক হিসেবে খাই। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে একটি নির্ধারিত হারে টুটুল চাঁদা তুলতেন, সেটি এখন আমি করছি।’
জানা যায়, শহরের পোর্টরোড দখলের পর হাবিব এই ঘাটটিরও নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শহর রেখে সদর উপজেলার বাজারে আধিপত্য বিস্তার ঘটাতে গিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিপাকে পড়তে পারেন এমন ভাবনায় পিছু হঠেছেন। এর আগে এই ঘাটটি দখল নেওয়া এবং চাঁদাবাজি করতে গিয়ে স্থানীয়দের গণপিটুনির শিকার হন কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা অসীম দেওয়ান অনুসারী মিলন। তবে শেষ পর্যন্ত বাজারটিতে ইতালি শহীদই চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছেন, এতে ব্যবসায়ী সংক্ষুব্ধ হয়ে বিষয়টি লিখিত আকারে প্রতিমন্ত্রী-মেয়রসহ স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
দখল পাল্টা দখল নিয়ে প্রতিমন্ত্রী-মেয়রের অনুসারীরা সংঘাত-সংঘর্ষে শহর উত্তপ্ত করে তুলেছে, স্থানীয় প্রশাসনও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে না। বরং এই অপরাধকে কোনো রুপ প্রশ্রয় না দিয়ে প্রতিটি ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করছে পুলিশ। সূত্র নিশ্চিত করেছে, প্রতিমন্ত্রী-মেয়রও অপরাধে সম্পৃক্ত এমন কারও ব্যক্তি দায়ভার নিতে নারাজ। জনপ্রতিধিদ্বয় মিডিয়ায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এও জানিয়ে দিয়েছেন, বিশেষ কারও নাম ভাঙিয়ে যারা অপকর্ম করছে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
নির্বাচন পরবর্তী প্রতিমন্ত্রী এবং মেয়র রাজনৈতিক সন্ত্রাসমুক্ত ‘নতুন বরিশাল’ গড়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার অব্যাহত চেষ্টা করে গেলেও তাদের গুটিকয়েক কর্মীর বিতর্কিত কর্মকান্ড তাতে জল ঢালতে পারেন বলে অভিমত পাওয়া যায়। নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণের একটি ধাপ হলো, রাজনৈতিক সন্ত্রাস বন্ধ করা, তা না করা গেলে এই বিপদগামী অংশটি প্রতিমন্ত্রী-মেয়রের ক্লিন ইমেজকে ম্লান করে দিতে পারে, যেমনটি হয়েছে সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র ক্ষেত্রে। দীর্ঘ সময় দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থাকা, তদুপরি সিটি মেয়র হয়ে ইতিবাচক কর্মকান্ড অপেক্ষা নানামুখী বিতর্ক তৈরি করে সমালোচিত হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত আ’লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে খেসারত গুণতে হচ্ছে।
সাদিকের সেই বরিশালকে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এবং মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত শান্তির শহর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এখনও দিচ্ছেন। সেই সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন শহর উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। কিন্তু রাজনৈতিক সন্ত্রাস দমাতে না পারলে তাদের নিয়েও বিতর্ক তৈরির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষ সাদিক আব্দুল্লাহ এবং তার অনুসারীরা ওৎ পেতে আছেন, কখন এই দুই জনপ্রতিনিধির অনুসারীরা বড় ধরনের অঘটনের জন্ম দেয়, তা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডকে জানান দিতে।
এমতাবস্থায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত হচ্ছে, প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এবং মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত নির্বাচন পূর্বাপর নগরবাসীকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি রাজনৈতিক সন্ত্রাস রুখে দেওয়া। কিন্তু নির্বাচনের পর গোটা শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এক শ্রেণির বখাটে যুবক, তরুণ, যাদের দলে পদপদবি না থাকলেও প্রতিমন্ত্রী-মেয়রের নাম ভাঙিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে মরিয়া হয়ে আছে। আবার কেউ কেউ ইতিমধ্যে বেআইনিভাবে বিভিন্ন হাট-ঘাট ও বাজার দখল দেওয়াসহ বিশেষ স্থানে চাঁদাবাজি করছেন। এতে প্রতিমন্ত্রী মেয়রের এক রকমের বদনাম হচ্ছে। এই অনৈতিক কর্মকান্ড রোহিত করা না গেলে প্রতিমন্ত্রী-মেয়র সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা যাবে নগরবাসীর কাছে। সুতরাং কালবিলম্ব না করে এখনই অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক এবং আইনি দুই প্রক্রিয়াতে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছে সচেতন মহল।
হাসিবুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবং সভাপতি, নিউজ এডিটরস্ কাউন্সিল, বরিশাল।

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৪১
এসপি মাহমুদ হাসানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র নতুন কোনো ঘটনা নয়। পতিত আওয়ামী লীগের আমলেও তাকে নিয়ে বহুবার ষড়যন্ত্র হয়েছে। স্বার্থে আঘাত লাগার কারণে তাকে কখনো বিএনপিপন্থী পুলিশ, কখনো জামায়াতপন্থী, আবার কখনো রাজাকার ট্যাগ লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমি নিজে যার বড় সাক্ষী। এর প্রতিবাদ জানিয়ে আমি নিজেই একবার কলাম লিখেছিলাম। আরেকবার একটা কবিতাও লিখেছিলাম।
তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো- এবার তাকে উল্টো আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর বানানোর মিশন নিয়ে নেমেছে একটি গ্রুপ। ট্যাগিং, ফ্রেমিং, ব্লেমিংয়ের সেই ধারা একই আছে তবে এবার জাস্ট ১৮০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ইউটার্ণ নিয়ে পক্ষটা ঘুরে গেছে। কারণ, এসপি মাহমুদ হাসানের দোষ একটাই। সে অন্যায়ের সাথে আপোষ করতে পারে না। নিজের নীতি আর আদর্শ থেকে সহজে বিচ্যুত হতে পারে না। এজন্য বারবারই সমস্যায় পড়তে হয় তাঁকে।
মাহমুদ হাসান কখনো দলীয় পুলিশ হয়নি। সে সবসময় চেয়েছে প্রজাতন্ত্রের পুলিশ হতে। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল জনগণের পুলিশ হয়ে ওঠা। আদর্শবান এক স্কুল শিক্ষকের সন্তান আর অসম্ভব রকমের মেধাবী মাহমুদ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে প্রথমে বিসিএস কৃষি ক্যাডারে এবং পরে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে যোগদান করেছে। সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে বরিশাল মেট্রোপলিটনে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে ঝালকাঠিতে দীর্ঘদিন কাজ করেছে। এরপরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (RAB) পোস্টিং হওয়ার পরে সেখানেও অস্ত্র উদ্ধার, মাদক উদ্ধার, শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারসহ কর্মক্ষেত্রে নিষ্ঠা, দক্ষতা, দায়িত্ব এবং পেশাদারিত্বের বিভিন্ন উদাহরণ তৈরি করেছে মাহমুদ হাসান।
পেশাগত কর্মজীবনে অসম্ভব রকমের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, পরিশ্রম আর সততা দিয়ে সবসময় কাজ করার চেষ্টা করেছে। দিনরাত এক করে মানুষকে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে সার্ভিস দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাঁর আচার, আচরণ, সেবা এবং নীতি দেখে অনেক মানুষ পুলিশকে নতুন করে ভালোবাসতে শিখেছে। আমি মাহমুদকে প্রায় দেড় যুগ থেকে চিনি। আমার ধারণা বরিশাল এবং ঝালকাঠি জেলার হাতেগোনা কিছু চিহ্নিত অপরাধী আর দুষ্কৃতিকারী ছাড়া আমার এই কথার সাথে কেউ দ্বিমত করবে না। তাঁর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া একাধিক সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি থাকতে পারে তবে বিবেকবুদ্ধি থাকলে তারাও অন্তত বলবে মাহমুদ খারাপ মানুষ নয়।
মাহমুদ যখন বরিশাল থেকে বদলি হয়ে ঝালকাঠি গেছে তখন বরিশালের অনেক মানুষ কেঁদেছে। আবার যখন সে প্রমোশন নিয়ে ঝালকাঠি জেলা ত্যাগ করেছে তখন ঝালকাঠির মানুষ তাঁকে রাখার জন্য আন্দোলন করেছে, মিছিল করেছে। পুলিশের মতো নিত্য গালি খাওয়া একটা পেশায় একজন মানুষের জীবনে এরচেয়ে বড় সার্থকতা আর কী হতে পারে? প্রজাতন্ত্রের একজন পুলিশ কর্মকর্তার কর্মজীবনে এরচেয়ে বড় অর্জন আর কী থাকতে পারে? এসপি মাহমুদ এখন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে (SB) ঢাকায় কর্মরত। এর আগে সে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB) এবং অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (ATU)তেও নিষ্ঠা আর সুনামের সাথে কাজ করেছে।
মাহমুদকে নিয়ে নতুন করে আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে আমার সামনে জনৈক এক প্রবাসী ব্যক্তির একটা পোস্ট আসলো। সেখান থেকেই এই লেখার অবতারণা। পোস্টে মাহমুদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার প্রায় সবটাই বানোয়াট আর শত্রুতামূলক। খোঁজ নিয়ে যতদূর জানলাম, একটা পুরাতন অপরাধী গ্রুপ তাঁর চরিত্রহননের নতুন মিশন নিয়ে নেমেছে। অতীতেও অনেকে অনেকবার চেষ্টা করেছিল। তারা যেমন ব্যর্থ হয়েছিল আশাকরি তেমনি এবারের কুশীলবরাও ব্যর্থ হবে। কারণ, মিথ্যাকে সাময়িক সময়ের জন্য ছড়িয়ে দেওয়া যায় কিন্তু টিকিয়ে রাখা যায় না।
টানা ৩ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে আওয়ামী লীগ যখন পুলিশি রাষ্ট্র কায়েম করেছিল তখন ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় ডিপার্টমেন্টের ৯০ জন অফিসারই প্রজাতন্ত্রের পুলিশের পরিবর্তে আওয়ামী পুলিশে পরিনত হয়েছিল। তবে সেদিনও বাকি ১০ জনের মধ্যে ছিল এই মাহমুদ হাসান। দলীয় সরকারের আদেশ কমবেশি পালন করলেও আমার জানামতে সে কখনো দলীয় পুলিশ হয়নি। সে সবসময় জনগণের পুলিশ থাকার চেষ্টা করেছে। যাদের দেখলে মানুষ আবার নতুন করে পুলিশকে ভালোবাসতে শেখে তাদেরকে যখন মিথ্যা ট্যাগিং, ফ্রেমিং, ব্লেমিং করা হয় তখন চুপ থাকা যায় না। বিবেক চিৎকার করে ওঠে। বিবেকের আর্তনাদ কিংবা দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। কারণ, মানুষের বিবেকের চেয়ে বড় কোনো আদালত এই পৃথিবীতে নেই। #
❑ আরিফ আহমেদ মুন্না ✍️
সাংবাদিক, কলামিস্ট, কবি, মানবাধিকার ও সুশাসন ব্যক্তিত্ব।
বাবুগঞ্জঃ ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ।
এসপি মাহমুদ হাসানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র নতুন কোনো ঘটনা নয়। পতিত আওয়ামী লীগের আমলেও তাকে নিয়ে বহুবার ষড়যন্ত্র হয়েছে। স্বার্থে আঘাত লাগার কারণে তাকে কখনো বিএনপিপন্থী পুলিশ, কখনো জামায়াতপন্থী, আবার কখনো রাজাকার ট্যাগ লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমি নিজে যার বড় সাক্ষী। এর প্রতিবাদ জানিয়ে আমি নিজেই একবার কলাম লিখেছিলাম। আরেকবার একটা কবিতাও লিখেছিলাম।
তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো- এবার তাকে উল্টো আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর বানানোর মিশন নিয়ে নেমেছে একটি গ্রুপ। ট্যাগিং, ফ্রেমিং, ব্লেমিংয়ের সেই ধারা একই আছে তবে এবার জাস্ট ১৮০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ইউটার্ণ নিয়ে পক্ষটা ঘুরে গেছে। কারণ, এসপি মাহমুদ হাসানের দোষ একটাই। সে অন্যায়ের সাথে আপোষ করতে পারে না। নিজের নীতি আর আদর্শ থেকে সহজে বিচ্যুত হতে পারে না। এজন্য বারবারই সমস্যায় পড়তে হয় তাঁকে।
মাহমুদ হাসান কখনো দলীয় পুলিশ হয়নি। সে সবসময় চেয়েছে প্রজাতন্ত্রের পুলিশ হতে। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল জনগণের পুলিশ হয়ে ওঠা। আদর্শবান এক স্কুল শিক্ষকের সন্তান আর অসম্ভব রকমের মেধাবী মাহমুদ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে প্রথমে বিসিএস কৃষি ক্যাডারে এবং পরে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে যোগদান করেছে। সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে বরিশাল মেট্রোপলিটনে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে ঝালকাঠিতে দীর্ঘদিন কাজ করেছে। এরপরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (RAB) পোস্টিং হওয়ার পরে সেখানেও অস্ত্র উদ্ধার, মাদক উদ্ধার, শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারসহ কর্মক্ষেত্রে নিষ্ঠা, দক্ষতা, দায়িত্ব এবং পেশাদারিত্বের বিভিন্ন উদাহরণ তৈরি করেছে মাহমুদ হাসান।
পেশাগত কর্মজীবনে অসম্ভব রকমের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, পরিশ্রম আর সততা দিয়ে সবসময় কাজ করার চেষ্টা করেছে। দিনরাত এক করে মানুষকে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে সার্ভিস দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাঁর আচার, আচরণ, সেবা এবং নীতি দেখে অনেক মানুষ পুলিশকে নতুন করে ভালোবাসতে শিখেছে। আমি মাহমুদকে প্রায় দেড় যুগ থেকে চিনি। আমার ধারণা বরিশাল এবং ঝালকাঠি জেলার হাতেগোনা কিছু চিহ্নিত অপরাধী আর দুষ্কৃতিকারী ছাড়া আমার এই কথার সাথে কেউ দ্বিমত করবে না। তাঁর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া একাধিক সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি থাকতে পারে তবে বিবেকবুদ্ধি থাকলে তারাও অন্তত বলবে মাহমুদ খারাপ মানুষ নয়।
মাহমুদ যখন বরিশাল থেকে বদলি হয়ে ঝালকাঠি গেছে তখন বরিশালের অনেক মানুষ কেঁদেছে। আবার যখন সে প্রমোশন নিয়ে ঝালকাঠি জেলা ত্যাগ করেছে তখন ঝালকাঠির মানুষ তাঁকে রাখার জন্য আন্দোলন করেছে, মিছিল করেছে। পুলিশের মতো নিত্য গালি খাওয়া একটা পেশায় একজন মানুষের জীবনে এরচেয়ে বড় সার্থকতা আর কী হতে পারে? প্রজাতন্ত্রের একজন পুলিশ কর্মকর্তার কর্মজীবনে এরচেয়ে বড় অর্জন আর কী থাকতে পারে? এসপি মাহমুদ এখন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে (SB) ঢাকায় কর্মরত। এর আগে সে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB) এবং অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (ATU)তেও নিষ্ঠা আর সুনামের সাথে কাজ করেছে।
মাহমুদকে নিয়ে নতুন করে আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে আমার সামনে জনৈক এক প্রবাসী ব্যক্তির একটা পোস্ট আসলো। সেখান থেকেই এই লেখার অবতারণা। পোস্টে মাহমুদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার প্রায় সবটাই বানোয়াট আর শত্রুতামূলক। খোঁজ নিয়ে যতদূর জানলাম, একটা পুরাতন অপরাধী গ্রুপ তাঁর চরিত্রহননের নতুন মিশন নিয়ে নেমেছে। অতীতেও অনেকে অনেকবার চেষ্টা করেছিল। তারা যেমন ব্যর্থ হয়েছিল আশাকরি তেমনি এবারের কুশীলবরাও ব্যর্থ হবে। কারণ, মিথ্যাকে সাময়িক সময়ের জন্য ছড়িয়ে দেওয়া যায় কিন্তু টিকিয়ে রাখা যায় না।
টানা ৩ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে আওয়ামী লীগ যখন পুলিশি রাষ্ট্র কায়েম করেছিল তখন ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় ডিপার্টমেন্টের ৯০ জন অফিসারই প্রজাতন্ত্রের পুলিশের পরিবর্তে আওয়ামী পুলিশে পরিনত হয়েছিল। তবে সেদিনও বাকি ১০ জনের মধ্যে ছিল এই মাহমুদ হাসান। দলীয় সরকারের আদেশ কমবেশি পালন করলেও আমার জানামতে সে কখনো দলীয় পুলিশ হয়নি। সে সবসময় জনগণের পুলিশ থাকার চেষ্টা করেছে। যাদের দেখলে মানুষ আবার নতুন করে পুলিশকে ভালোবাসতে শেখে তাদেরকে যখন মিথ্যা ট্যাগিং, ফ্রেমিং, ব্লেমিং করা হয় তখন চুপ থাকা যায় না। বিবেক চিৎকার করে ওঠে। বিবেকের আর্তনাদ কিংবা দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। কারণ, মানুষের বিবেকের চেয়ে বড় কোনো আদালত এই পৃথিবীতে নেই। #
❑ আরিফ আহমেদ মুন্না ✍️
সাংবাদিক, কলামিস্ট, কবি, মানবাধিকার ও সুশাসন ব্যক্তিত্ব।
বাবুগঞ্জঃ ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ।

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:২৯
একজন সাংবাদিকের দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ অধ্যায় কি এমনই হওয়ার কথা ছিল? দুই দশকেরও বেশি সময় সাংবাদিকতা করেছেন পুলক চ্যাটার্জি। দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির বরিশাল ব্যুরোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ কর্মজীবনের শেষদিকে এসে চাকরি হারিয়েছেন, দীর্ঘ সময় বেকার ছিলেন, আর্থিক সংকটে পড়েছেন- এমন তথ্যই এখন তাঁর মৃত্যুর পর সামনে আসছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) তাঁর আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর সেই প্রশ্নটিই সবচেয়ে জোরালো হয়ে উঠেছে-একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক যখন একের পর এক সংকটে পড়ছিলেন, তখন তাঁর পাশে ছিলেন কে?
শুধু ব্যক্তিগত হতাশা, শারীরিক সমস্যা কিংবা আর্থিক সংকট দিয়ে কি এই মৃত্যুর পুরো প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করা সম্ভব? নাকি এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পেশাগত অনিশ্চয়তা, কর্মহীনতা, পাওনা নিয়ে জটিলতা এবং সাংবাদিক সমাজের কাঠামোগত দুর্বলতা? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন জরুরি।
সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি ২০০৫ সালে দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর তিনি বরিশাল ব্যুরোর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে সমকাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ব্যুরোর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর সহকর্মী স্টাফ রিপোর্টার সুমন চৌধুরীকে দিয়ে ব্যুরোর কার্যক্রম চালানো হয়। কিন্তু চাকরি বা দায়িত্ব হারানোর পর পুলক চ্যাটার্জির আর্থিক ও পেশাগত পরিস্থিতি কী দাঁড়িয়েছিল- এখন সেটিই অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিশেষ করে তাঁর ন্যায্য পাওনা আদৌ পরিশোধ করা হয়েছিল কি না, হয়ে থাকলে কতটুকু এবং না হয়ে থাকলে কেন- এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রয়োজন। কারণ একজন সাংবাদিকের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবসান শুধু একটি পদ হারানোর ঘটনা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তাঁর জীবিকা, পরিবারের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের প্রশ্ন।
পরিবার ও সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরি হারানোর পরও সমকালের সঙ্গে পুলক চ্যাটার্জির সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তাঁর কাছে সাবেক অফিসের একটি বিকল্প চাবি ছিল বলে জানা গেছে। তিনি মাঝেমধ্যে সেখানে যেতেন, বসতেন এবং পত্রিকা পড়তেন। এখানেও রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- কর্মস্থল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও একজন সাবেক ব্যুরোপ্রধান কেন সেখানে নিয়মিত যেতেন? এটি কি শুধুই পুরোনো কর্মস্থলের প্রতি আবেগ? নাকি দীর্ঘ কর্মজীবনের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও পরিচিত পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে না পারার এক ধরনের মানসিক টান? সহকর্মীদের কেউ কেউ বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখেছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু তাঁর জীবনের শেষ সময়ের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে ঘটনাটির সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিকও তদন্তের দাবি রাখে।
মৃত্যুর পর পুলক চ্যাটার্জির পাশে একাধিক চিরকুট পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব লেখায় আর্থিক সংকট, শারীরিক সমস্যা এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়ার অনুভূতির কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। একটি চিঠিতে সহকর্মী সুমন চৌধুরীর প্রসঙ্গ এসেছে। ছোট ভাই ভূমি কর্মকর্তা দীপক, দুই সন্তান পিয়াঙ্কা ও প্রদ্ধতি এবং বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনকে উদ্দেশ করেও পৃথক লেখা থাকার কথা জানা গেছে। এসব চিঠির বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা ও প্রেক্ষাপট অবশ্যই তদন্তের বিষয়। কিন্তু সেগুলো যদি তাঁর শেষ সময়ের মানসিক ও আর্থিক অবস্থার প্রতিফলন হয়ে থাকে, তাহলে সাংবাদিক সমাজের সামনে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন দাঁড়ায়- তিনি যখন সংকটে ছিলেন, তখন তাঁর সহকর্মীরা কী জানতেন? আর জানলে কী করেছিলেন? নেতৃত্বের দায় কতটুকু?
বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পুলক চ্যাটার্জি। অর্থাৎ সাংবাদিকদের অধিকার, পেশাগত নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে কাজ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নেতৃত্বে তিনি নিজেই ছিলেন। কিন্তু একই সঙ্গে বরিশালের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণ, কিছু সংগঠনে পেশাদার সাংবাদিকদের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তি-স্বার্থের প্রভাব কখনো কখনো বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক ব্যক্তি-বিশেষের প্রভাব সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ওপর চেপে বসলে পেশাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথার্থ মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই কারণে পুলক চ্যাটার্জির মতো দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও যোগ্য সাংবাদিকরা যথার্থ সম্মান ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অবশ্য কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মৃত্যুর দায় সরাসরি কোনো সংগঠন বা ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনের পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত। কিন্তু একজন প্রবীণ সাংবাদিক দীর্ঘদিন কর্মহীন ও আর্থিক সংকটে থাকলে তাঁর সহকর্মী সংগঠনগুলোর সামাজিক ও পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। বিশেষ করে সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণ তহবিল, জরুরি সহায়তা, কর্মসংস্থান বা পেশাগত পুনর্বাসনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা আছে কি না- পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে অনৈক্য ও নেতৃত্বের বিভাজন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃত্বে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সাংবাদিকদের স্বার্থ কতটা অগ্রাধিকার পাচ্ছে- এ নিয়েও প্রশ্ন আছে। পুলক চ্যাটার্জির মতো অভিজ্ঞ সাংবাদিক কর্মজীবন হারানোর পর যদি দীর্ঘ সময় নিজেকে একা মনে করে থাকেন, তবে সেটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সংকট নয়; সাংবাদিক সমাজের সাংগঠনিক সক্ষমতারও একটি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় বরিশালের সাংবাদিক সংগঠনগুলো কতটা সফল- এখন সেটিই আলোচনার বিষয়।
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অন্তত কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত ২০২৩ সালে তাঁর চাকরি বা দায়িত্ব পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল? দ্বিতীয়ত, সমকাল কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর কোনো ন্যায্য পাওনা বকেয়া ছিল কি না? তৃতীয়ত, চাকরি হারানোর পর তাঁর আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতি কী ছিল? চতুর্থত, সাংবাদিক সংগঠন ও সহকর্মীরা তাঁর সংকট সম্পর্কে কতটা অবগত ছিলেন এবং তাঁকে কোনো সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না? পঞ্চমত, মৃত্যুর আগে পাওয়া চিঠিগুলোর বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তে কী উঠে আসে? ষষ্ঠত, স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে রাজনৈতিক প্রভাব কতটা রয়েছে এবং তার কারণে পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা, অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- এই মৃত্যু কি কেবল একজন মানুষের ব্যক্তিগত সংকটের পরিণতি, নাকি এর সঙ্গে পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতারও কোনো যোগসূত্র রয়েছে?
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু নিয়ে আবেগ থাকবে, শোক থাকবে, স্মৃতিচারণ থাকবে। কিন্তু শুধু শোক প্রকাশ করে যদি বিষয়টি শেষ হয়ে যায়, তাহলে তাঁর মৃত্যুর পর সামনে আসা প্রশ্নগুলোর উত্তর আর পাওয়া যাবে না। প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত। প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য। প্রয়োজন তাঁর চাকরি হারানোর প্রেক্ষাপট ও পাওনা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ। প্রয়োজন সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নিজেদের ভূমিকা পর্যালোচনা।
একজন সাংবাদিক তাঁর জীবনের বড় একটি অংশ সংবাদপেশা ও সমাজের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। শেষ জীবনে যদি তিনি আর্থিক সংকট, পেশাগত অনিশ্চয়তা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ভারে ন্যুব্জ হয়ে থাকেন, তবে তাঁর মৃত্যুকে শুধু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখলে মূল প্রশ্নটি আড়ালেই থেকে যাবে। পুলক চ্যাটার্জি নেই। কিন্তু তাঁর মৃত্যু বরিশালের সাংবাদিক সমাজের সামনে যে প্রশ্নগুলো রেখে গেছে, সেগুলো এখনো জীবিত।
একজন সাংবাদিকের দুর্দিনে সাংবাদিক সমাজ কোথায় থাকে- আর সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব যখন পেশাদারিত্বের বদলে অন্য কোনো প্রভাবের কাছে দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন যোগ্য সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াবে কে? পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু এখন সেই প্রশ্নের উত্তর দাবি করছে।’
হাসিবুল ইসলাম, সংবাদকর্মী ও কলাম লেখক।
একজন সাংবাদিকের দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ অধ্যায় কি এমনই হওয়ার কথা ছিল? দুই দশকেরও বেশি সময় সাংবাদিকতা করেছেন পুলক চ্যাটার্জি। দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির বরিশাল ব্যুরোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ কর্মজীবনের শেষদিকে এসে চাকরি হারিয়েছেন, দীর্ঘ সময় বেকার ছিলেন, আর্থিক সংকটে পড়েছেন- এমন তথ্যই এখন তাঁর মৃত্যুর পর সামনে আসছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) তাঁর আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর সেই প্রশ্নটিই সবচেয়ে জোরালো হয়ে উঠেছে-একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক যখন একের পর এক সংকটে পড়ছিলেন, তখন তাঁর পাশে ছিলেন কে?
শুধু ব্যক্তিগত হতাশা, শারীরিক সমস্যা কিংবা আর্থিক সংকট দিয়ে কি এই মৃত্যুর পুরো প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করা সম্ভব? নাকি এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পেশাগত অনিশ্চয়তা, কর্মহীনতা, পাওনা নিয়ে জটিলতা এবং সাংবাদিক সমাজের কাঠামোগত দুর্বলতা? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন জরুরি।
সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি ২০০৫ সালে দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর তিনি বরিশাল ব্যুরোর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে সমকাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ব্যুরোর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর সহকর্মী স্টাফ রিপোর্টার সুমন চৌধুরীকে দিয়ে ব্যুরোর কার্যক্রম চালানো হয়। কিন্তু চাকরি বা দায়িত্ব হারানোর পর পুলক চ্যাটার্জির আর্থিক ও পেশাগত পরিস্থিতি কী দাঁড়িয়েছিল- এখন সেটিই অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিশেষ করে তাঁর ন্যায্য পাওনা আদৌ পরিশোধ করা হয়েছিল কি না, হয়ে থাকলে কতটুকু এবং না হয়ে থাকলে কেন- এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রয়োজন। কারণ একজন সাংবাদিকের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবসান শুধু একটি পদ হারানোর ঘটনা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তাঁর জীবিকা, পরিবারের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের প্রশ্ন।
পরিবার ও সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরি হারানোর পরও সমকালের সঙ্গে পুলক চ্যাটার্জির সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তাঁর কাছে সাবেক অফিসের একটি বিকল্প চাবি ছিল বলে জানা গেছে। তিনি মাঝেমধ্যে সেখানে যেতেন, বসতেন এবং পত্রিকা পড়তেন। এখানেও রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- কর্মস্থল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও একজন সাবেক ব্যুরোপ্রধান কেন সেখানে নিয়মিত যেতেন? এটি কি শুধুই পুরোনো কর্মস্থলের প্রতি আবেগ? নাকি দীর্ঘ কর্মজীবনের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও পরিচিত পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে না পারার এক ধরনের মানসিক টান? সহকর্মীদের কেউ কেউ বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখেছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু তাঁর জীবনের শেষ সময়ের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে ঘটনাটির সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিকও তদন্তের দাবি রাখে।
মৃত্যুর পর পুলক চ্যাটার্জির পাশে একাধিক চিরকুট পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব লেখায় আর্থিক সংকট, শারীরিক সমস্যা এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়ার অনুভূতির কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। একটি চিঠিতে সহকর্মী সুমন চৌধুরীর প্রসঙ্গ এসেছে। ছোট ভাই ভূমি কর্মকর্তা দীপক, দুই সন্তান পিয়াঙ্কা ও প্রদ্ধতি এবং বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনকে উদ্দেশ করেও পৃথক লেখা থাকার কথা জানা গেছে। এসব চিঠির বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা ও প্রেক্ষাপট অবশ্যই তদন্তের বিষয়। কিন্তু সেগুলো যদি তাঁর শেষ সময়ের মানসিক ও আর্থিক অবস্থার প্রতিফলন হয়ে থাকে, তাহলে সাংবাদিক সমাজের সামনে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন দাঁড়ায়- তিনি যখন সংকটে ছিলেন, তখন তাঁর সহকর্মীরা কী জানতেন? আর জানলে কী করেছিলেন? নেতৃত্বের দায় কতটুকু?
বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পুলক চ্যাটার্জি। অর্থাৎ সাংবাদিকদের অধিকার, পেশাগত নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিয়ে কাজ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নেতৃত্বে তিনি নিজেই ছিলেন। কিন্তু একই সঙ্গে বরিশালের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণ, কিছু সংগঠনে পেশাদার সাংবাদিকদের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তি-স্বার্থের প্রভাব কখনো কখনো বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক ব্যক্তি-বিশেষের প্রভাব সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ওপর চেপে বসলে পেশাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথার্থ মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই কারণে পুলক চ্যাটার্জির মতো দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও যোগ্য সাংবাদিকরা যথার্থ সম্মান ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অবশ্য কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মৃত্যুর দায় সরাসরি কোনো সংগঠন বা ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনের পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত। কিন্তু একজন প্রবীণ সাংবাদিক দীর্ঘদিন কর্মহীন ও আর্থিক সংকটে থাকলে তাঁর সহকর্মী সংগঠনগুলোর সামাজিক ও পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। বিশেষ করে সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণ তহবিল, জরুরি সহায়তা, কর্মসংস্থান বা পেশাগত পুনর্বাসনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা আছে কি না- পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে অনৈক্য ও নেতৃত্বের বিভাজন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃত্বে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সাংবাদিকদের স্বার্থ কতটা অগ্রাধিকার পাচ্ছে- এ নিয়েও প্রশ্ন আছে। পুলক চ্যাটার্জির মতো অভিজ্ঞ সাংবাদিক কর্মজীবন হারানোর পর যদি দীর্ঘ সময় নিজেকে একা মনে করে থাকেন, তবে সেটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সংকট নয়; সাংবাদিক সমাজের সাংগঠনিক সক্ষমতারও একটি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় বরিশালের সাংবাদিক সংগঠনগুলো কতটা সফল- এখন সেটিই আলোচনার বিষয়।
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অন্তত কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত ২০২৩ সালে তাঁর চাকরি বা দায়িত্ব পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল? দ্বিতীয়ত, সমকাল কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর কোনো ন্যায্য পাওনা বকেয়া ছিল কি না? তৃতীয়ত, চাকরি হারানোর পর তাঁর আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতি কী ছিল? চতুর্থত, সাংবাদিক সংগঠন ও সহকর্মীরা তাঁর সংকট সম্পর্কে কতটা অবগত ছিলেন এবং তাঁকে কোনো সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না? পঞ্চমত, মৃত্যুর আগে পাওয়া চিঠিগুলোর বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তে কী উঠে আসে? ষষ্ঠত, স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে রাজনৈতিক প্রভাব কতটা রয়েছে এবং তার কারণে পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা, অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- এই মৃত্যু কি কেবল একজন মানুষের ব্যক্তিগত সংকটের পরিণতি, নাকি এর সঙ্গে পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতারও কোনো যোগসূত্র রয়েছে?
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু নিয়ে আবেগ থাকবে, শোক থাকবে, স্মৃতিচারণ থাকবে। কিন্তু শুধু শোক প্রকাশ করে যদি বিষয়টি শেষ হয়ে যায়, তাহলে তাঁর মৃত্যুর পর সামনে আসা প্রশ্নগুলোর উত্তর আর পাওয়া যাবে না। প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত। প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য। প্রয়োজন তাঁর চাকরি হারানোর প্রেক্ষাপট ও পাওনা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ। প্রয়োজন সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নিজেদের ভূমিকা পর্যালোচনা।
একজন সাংবাদিক তাঁর জীবনের বড় একটি অংশ সংবাদপেশা ও সমাজের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। শেষ জীবনে যদি তিনি আর্থিক সংকট, পেশাগত অনিশ্চয়তা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ভারে ন্যুব্জ হয়ে থাকেন, তবে তাঁর মৃত্যুকে শুধু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখলে মূল প্রশ্নটি আড়ালেই থেকে যাবে। পুলক চ্যাটার্জি নেই। কিন্তু তাঁর মৃত্যু বরিশালের সাংবাদিক সমাজের সামনে যে প্রশ্নগুলো রেখে গেছে, সেগুলো এখনো জীবিত।
একজন সাংবাদিকের দুর্দিনে সাংবাদিক সমাজ কোথায় থাকে- আর সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব যখন পেশাদারিত্বের বদলে অন্য কোনো প্রভাবের কাছে দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন যোগ্য সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াবে কে? পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু এখন সেই প্রশ্নের উত্তর দাবি করছে।’
হাসিবুল ইসলাম, সংবাদকর্মী ও কলাম লেখক।

১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০২:৫৬
বিগত ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে ক্ষমতার আমলে পরীক্ষায় নকল বন্ধ, মেয়েদের উপবৃত্তি, অবৈতনিক শিক্ষা, জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ বেশকিছু সফলতা ছিল বিএনপির। তবে এর বিপরীতে সবচেয়ে বেশি যে কয়েকটা ব্যর্থতার জন্য আজো বিএনপিকে লজ্জিত হতে হয় এরমধ্যে অন্যতম একটা হলো বিদ্যুৎ। সেই আমলে বিদ্যুতের জন্য কানসাট বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের মতো যে লজ্জাজনক ইতিহাস রচিত হয়েছিল এবং সেই ঘটনার জন্য যিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী ছিলেন, সেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকেই আবার প্রতিমন্ত্রী থেকে পদোন্নতি দিয়ে এবার পূর্ণমন্ত্রী করা হলো! অযোগ্য মানুষকে প্রমোশন দিয়ে দ্বিতীয়বার আগের চেয়েও বড় চেয়ারে বসাতে কতখানি চাটুকারিতা তোষামোদির যোগ্যতা থাকা লাগে জানিনা, তবে এটা জানি সেই একই ব্যক্তির জন্য বিএনপি এবারও বড় বিতর্কের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে যিনি তীব্র জনরোষের মুখে মন্ত্রীত্ব থেকে অপসারিত হয়েছিলেন তাকেই এবার পূর্ণমন্ত্রী বানিয়ে বিএনপি কী কী সাফল্য অর্জন করবে তা সহজেই অনুমেয়। তিনি যে জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ ম্যানেজমেন্টে পুরোপুরি অযোগ্য তার প্রমাণ ইতোমধ্যে তিনি দিয়েছেন। গ্রামে বর্তমানে গড়ে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতি ২ ঘন্টা পরপর এক থেকে দেড় ঘন্টা বা কোথাও কোথাও এরচেয়ে বেশি সময় ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। এমনকি রাতের অফ-পিক আওয়ারেও গড়ে ২ থেকে ৩ বার লোডশেডিং হচ্ছে। অথচ বিদ্যুৎ মন্ত্রী বললেন- গ্রামে নাকি লোডশেডিং নাই! বিদ্যুতের লম্বা লম্বা লাইনের জন্য নাকি বিদ্যুৎ ট্রিপ বা ফল্ট করে! এটা কোনো যুক্তি? গ্রামের মানুষ বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে এখন অতিষ্ঠ। সেখানে তাদের সান্ত্বনা দেওয়া বা গ্যাস-কয়লা সংকটের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে কৈফিয়ত দেওয়ার পরিবর্তে তিনি দায় চাপালেন পল্লী বিদ্যুতের লম্বা লাইনের উপরে!
মন্ত্রী হওয়ার পরেই কি মানুষ ভারসাম্যহীন হয়ে যায় নাকি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে ভারসাম্যহীন হলেই তখন তাকে মন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয় সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায় এসব অযোগ্য মন্ত্রীদের জন্য বিএনপি এবারও বিতর্কিত হবে, জনবিচ্ছিন্ন হবে এবং বিপদে পড়বে। দেশে এখন তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। ঢাকার অনেক জায়গায় চুলা জ্বলছে না। সিএনজি স্টেশনে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গাড়িতে গ্যাস পাচ্ছে না। কিছু কিছু জায়গায় গ্যাসের সামান্য সরবরাহ থাকলেও গ্যাসের চাপ একদম নেই। এদিকে কয়লা মজুদও প্রায় শেষ। বৈদেশিক ঋণের সুদ-আসল পরিশোধ করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগার প্রায় খালি। ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিজেলের সরবরাহ নেই। দেশের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস, ডিজেল এবং কয়লাচালিত। গ্যাস, ডিজেল এবং কয়লার সরবরাহ না থাকলে এগুলো সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। ভারতীয় কোম্পানি আদানি এবং দেশীয় সামিট গ্রুপকে বিশেষ সু্বিধা দেওয়ার জন্য চড়াদামে কেনা বেসরকারি কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো এখন দেশের অর্থনীতির গলার কাঁটা। সরকারের জন্য বিরাট বড় বোঝা। ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিগত দিনে পাচার হয়েছে দেশের কোটি কোটি ডলার।
বিগত পতিত সরকারের আমলে এদেশে আমদানি নির্ভর কয়লা, ডিজেল ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গড়ে তোলা হয়েছিল মূলত একটি দেশকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য। আশাকরি সেই দেশটার নাম বলার আর দরকার নেই। সবাই বুঝতে পারছে। অথচ নদীমাতৃক এবং মৌসুমী বায়ুর এই বাংলাদেশে দরকার ছিল বেশি বেশি জলবিদ্যুৎ এবং বায়ুচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলা, যা এদেশে সারাবছর বিনামূল্যে পাওয়া যায়। উন্নত বিশ্বের মতো সৌরশক্তি কাজে লাগিয়ে সোলার এনার্জি প্ল্যান্ট নির্মাণ করার দরকার ছিল। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করলে বারবার কাঁচামাল আমদানি করা লাগতো না। তবে সেটা না করার পেছনে মূল রহস্য হলো এই ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে দেশের বিরাট লাভ হলেও ক্ষতি হতো লুটেরাদের। তারা বারবার এলএনজি, গ্যাস, কয়লা, ডিজেল, ইউরেনিয়াম আমদানির নামে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে বিদেশে পাচার করতে পারতো না। এদেশের সকল উন্নয়ন হয় মূলত বড় বড় চোর-ডাকাত, লুটেরাদের লুটপাটে সহায়তা করার জন্য আর কিছু উন্নয়ন প্রদর্শনী করার জন্য। সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের স্বার্থে, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থে কোনো উন্নয়ন হয় না।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়াম আসে বিদেশ থেকে। সেটা যদি না পাওয়া যায় তবে সেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের কানাকড়ি মূল্যও নাই। অথচ এই একটা স্বপ্নবিলাসী বিদ্যুৎকেন্দ্রের খরচ দিয়ে কাপ্তাইয়ের মতো দেশের বিভিন্ন জায়গায় কমপক্ষে ১০টা জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা যেতো। এখানে জ্বালানি লাগতো নদীর স্রোত, যা সারাবছরই কমবেশি থাকতো এই নদীমাতৃক বাংলাদেশে। পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে আমি অপ্রয়োজনীয় বলছি না। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সেটা 'ঋণ নিয়ে ঘি কিনে খাওয়া'র মতো। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই আছে। তবে সেটা তাদের জন্যই প্রযোজ্য যেখানে এর কাঁচামাল ইউরেনিয়ামের খনি বা পর্যাপ্ত জোগান আছে। আমাদের গরীব দেশের বাস্তবতায় স্বপ্নবিলাসী চড়াদামের বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক স্বল্পব্যয়ের বিদ্যুৎকেন্দ্র দরকার। আমাদের সেই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের দরকার, যার কাঁচামাল তথা জ্বালানি আমাদের দেশে পাওয়া যায় বা দেশেই উৎপাদন হয়। অথচ গণহারে নির্মাণ করা হয়েছে সব কয়লা, গ্যাস আর ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র। চিন্তা করা হয়নি এর জ্বালানি কোথা থেকে আসবে। অন্য দেশ যদি না দেয় বা সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যায় তখন কী হবে। কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র কয়লার আমদানি না থাকলে, ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিজেল না পাওয়া গেলে, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বিদ্যুৎ কি হাওয়া-বাতাস থেকে আসবে?
হ্যাঁ, হাওয়া-বাতাস থেকেও তো বিনামূল্যে বিদ্যুৎ আসে। তবে অতীতের মারাত্মক লেভেলের দেশপ্রেমিক দাবিদার রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের লাভের স্বার্থে তারা কোনো উইন্ড পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করেনি। বিনামূল্যে পানি থেকেও বিদ্যুৎ আসে, সূর্যের আলো থেকেও বিদ্যুৎ আসে। কিন্তু তারা ওয়াটার পাওয়ার প্ল্যান্ট বা সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করেনি। কারণ, এতে কোনো জ্বালানি লাগে না। যা লাগে তা প্রকৃতি থেকে বিনামূল্যে পাওয়া যায়। কিন্তু তাহলে তো বারবার জ্বালানি আমদানির নামে কেনাকাটায় চরম লাভের ব্যবসাটা আর থাকে না। রাষ্ট্রের টাকা বারবার লুট আর পাচার করার সুযোগটাও তো তবে হাতছাড়া হয়ে যায়। রাষ্ট্রের হর্তাকর্তা এসব দুর্বৃত্তদের অর্থনৈতিক লুটপাটের এই জটিল অংকটা সাধারণ মানুষ বোঝে না। তারা বুঝতে চায়ও না। তারা শুধু চায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা।
আপনি জনগণের জন্য বেসরকারি কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৫ টাকা ইউনিট দামে বিদ্যুৎ কিনলেন, নাকি ভারত থেকে বিদ্যুৎ চুরি করে আনলেন, নাকি নিজের কেন্দ্রের টারবাইন চালু রাখতে ৫ টাকা দামের কয়লা-ইউরেনিয়াম আপনি ৫০ টাকায় কিনে বাকি ৪৫ টাকাই আত্মসাৎ করলেন, সেটা দেশের সাধারণ মানুষ বুঝতে চায় না। তারা শুধু নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা চায়। সারা পৃথিবী যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির সন্ধানে ব্যস্ত তখন আমরা ব্যস্ত চেতনার সন্ধানে আর বিরোধী মত দমনে। একদল তো চেতনার লালবাতি জ্বালিয়ে রেখে পালিয়েছে। কিন্তু কথা হলো- ফ্যাসিস্ট, লুটেরা, গণহত্যাকারী যাকে বলা হয় সেই শেখ হাসিনার সরকার যদি নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে পারে তাহলে আপনারা নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার হয়ে সেটা পারছেন না কেন? জনগণ এই প্রশ্নটা খুব ভালোভাবেই বোঝে। এই প্রশ্নের উত্তরে আপনি ভূগোল অর্থনীতি বুঝিয়ে, জিডিপি বুঝিয়ে, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি বা হরমুজ প্রণালী বুঝিয়ে কিংবা পল্লী বিদ্যুতের লম্বা লাইনের দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যেতে পারবেন না। সরকারে থাকলে সব ব্যর্থতার দায় আপনাদের নিতেই হবে। #
❑ আরিফ আহমেদ মুন্না ✍️
সাংবাদিক, লেখক, কবি, কলামিস্ট ও সুশাসন বিশেষজ্ঞ।
বাবুগঞ্জঃ ১২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।
বিগত ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে ক্ষমতার আমলে পরীক্ষায় নকল বন্ধ, মেয়েদের উপবৃত্তি, অবৈতনিক শিক্ষা, জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ বেশকিছু সফলতা ছিল বিএনপির। তবে এর বিপরীতে সবচেয়ে বেশি যে কয়েকটা ব্যর্থতার জন্য আজো বিএনপিকে লজ্জিত হতে হয় এরমধ্যে অন্যতম একটা হলো বিদ্যুৎ। সেই আমলে বিদ্যুতের জন্য কানসাট বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের মতো যে লজ্জাজনক ইতিহাস রচিত হয়েছিল এবং সেই ঘটনার জন্য যিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী ছিলেন, সেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকেই আবার প্রতিমন্ত্রী থেকে পদোন্নতি দিয়ে এবার পূর্ণমন্ত্রী করা হলো! অযোগ্য মানুষকে প্রমোশন দিয়ে দ্বিতীয়বার আগের চেয়েও বড় চেয়ারে বসাতে কতখানি চাটুকারিতা তোষামোদির যোগ্যতা থাকা লাগে জানিনা, তবে এটা জানি সেই একই ব্যক্তির জন্য বিএনপি এবারও বড় বিতর্কের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে যিনি তীব্র জনরোষের মুখে মন্ত্রীত্ব থেকে অপসারিত হয়েছিলেন তাকেই এবার পূর্ণমন্ত্রী বানিয়ে বিএনপি কী কী সাফল্য অর্জন করবে তা সহজেই অনুমেয়। তিনি যে জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ ম্যানেজমেন্টে পুরোপুরি অযোগ্য তার প্রমাণ ইতোমধ্যে তিনি দিয়েছেন। গ্রামে বর্তমানে গড়ে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতি ২ ঘন্টা পরপর এক থেকে দেড় ঘন্টা বা কোথাও কোথাও এরচেয়ে বেশি সময় ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। এমনকি রাতের অফ-পিক আওয়ারেও গড়ে ২ থেকে ৩ বার লোডশেডিং হচ্ছে। অথচ বিদ্যুৎ মন্ত্রী বললেন- গ্রামে নাকি লোডশেডিং নাই! বিদ্যুতের লম্বা লম্বা লাইনের জন্য নাকি বিদ্যুৎ ট্রিপ বা ফল্ট করে! এটা কোনো যুক্তি? গ্রামের মানুষ বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে এখন অতিষ্ঠ। সেখানে তাদের সান্ত্বনা দেওয়া বা গ্যাস-কয়লা সংকটের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে কৈফিয়ত দেওয়ার পরিবর্তে তিনি দায় চাপালেন পল্লী বিদ্যুতের লম্বা লাইনের উপরে!
মন্ত্রী হওয়ার পরেই কি মানুষ ভারসাম্যহীন হয়ে যায় নাকি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে ভারসাম্যহীন হলেই তখন তাকে মন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয় সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায় এসব অযোগ্য মন্ত্রীদের জন্য বিএনপি এবারও বিতর্কিত হবে, জনবিচ্ছিন্ন হবে এবং বিপদে পড়বে। দেশে এখন তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। ঢাকার অনেক জায়গায় চুলা জ্বলছে না। সিএনজি স্টেশনে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গাড়িতে গ্যাস পাচ্ছে না। কিছু কিছু জায়গায় গ্যাসের সামান্য সরবরাহ থাকলেও গ্যাসের চাপ একদম নেই। এদিকে কয়লা মজুদও প্রায় শেষ। বৈদেশিক ঋণের সুদ-আসল পরিশোধ করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগার প্রায় খালি। ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিজেলের সরবরাহ নেই। দেশের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস, ডিজেল এবং কয়লাচালিত। গ্যাস, ডিজেল এবং কয়লার সরবরাহ না থাকলে এগুলো সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। ভারতীয় কোম্পানি আদানি এবং দেশীয় সামিট গ্রুপকে বিশেষ সু্বিধা দেওয়ার জন্য চড়াদামে কেনা বেসরকারি কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো এখন দেশের অর্থনীতির গলার কাঁটা। সরকারের জন্য বিরাট বড় বোঝা। ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিগত দিনে পাচার হয়েছে দেশের কোটি কোটি ডলার।
বিগত পতিত সরকারের আমলে এদেশে আমদানি নির্ভর কয়লা, ডিজেল ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গড়ে তোলা হয়েছিল মূলত একটি দেশকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য। আশাকরি সেই দেশটার নাম বলার আর দরকার নেই। সবাই বুঝতে পারছে। অথচ নদীমাতৃক এবং মৌসুমী বায়ুর এই বাংলাদেশে দরকার ছিল বেশি বেশি জলবিদ্যুৎ এবং বায়ুচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলা, যা এদেশে সারাবছর বিনামূল্যে পাওয়া যায়। উন্নত বিশ্বের মতো সৌরশক্তি কাজে লাগিয়ে সোলার এনার্জি প্ল্যান্ট নির্মাণ করার দরকার ছিল। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করলে বারবার কাঁচামাল আমদানি করা লাগতো না। তবে সেটা না করার পেছনে মূল রহস্য হলো এই ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে দেশের বিরাট লাভ হলেও ক্ষতি হতো লুটেরাদের। তারা বারবার এলএনজি, গ্যাস, কয়লা, ডিজেল, ইউরেনিয়াম আমদানির নামে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে বিদেশে পাচার করতে পারতো না। এদেশের সকল উন্নয়ন হয় মূলত বড় বড় চোর-ডাকাত, লুটেরাদের লুটপাটে সহায়তা করার জন্য আর কিছু উন্নয়ন প্রদর্শনী করার জন্য। সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের স্বার্থে, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থে কোনো উন্নয়ন হয় না।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়াম আসে বিদেশ থেকে। সেটা যদি না পাওয়া যায় তবে সেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের কানাকড়ি মূল্যও নাই। অথচ এই একটা স্বপ্নবিলাসী বিদ্যুৎকেন্দ্রের খরচ দিয়ে কাপ্তাইয়ের মতো দেশের বিভিন্ন জায়গায় কমপক্ষে ১০টা জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা যেতো। এখানে জ্বালানি লাগতো নদীর স্রোত, যা সারাবছরই কমবেশি থাকতো এই নদীমাতৃক বাংলাদেশে। পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে আমি অপ্রয়োজনীয় বলছি না। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সেটা 'ঋণ নিয়ে ঘি কিনে খাওয়া'র মতো। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই আছে। তবে সেটা তাদের জন্যই প্রযোজ্য যেখানে এর কাঁচামাল ইউরেনিয়ামের খনি বা পর্যাপ্ত জোগান আছে। আমাদের গরীব দেশের বাস্তবতায় স্বপ্নবিলাসী চড়াদামের বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক স্বল্পব্যয়ের বিদ্যুৎকেন্দ্র দরকার। আমাদের সেই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের দরকার, যার কাঁচামাল তথা জ্বালানি আমাদের দেশে পাওয়া যায় বা দেশেই উৎপাদন হয়। অথচ গণহারে নির্মাণ করা হয়েছে সব কয়লা, গ্যাস আর ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র। চিন্তা করা হয়নি এর জ্বালানি কোথা থেকে আসবে। অন্য দেশ যদি না দেয় বা সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যায় তখন কী হবে। কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র কয়লার আমদানি না থাকলে, ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিজেল না পাওয়া গেলে, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বিদ্যুৎ কি হাওয়া-বাতাস থেকে আসবে?
হ্যাঁ, হাওয়া-বাতাস থেকেও তো বিনামূল্যে বিদ্যুৎ আসে। তবে অতীতের মারাত্মক লেভেলের দেশপ্রেমিক দাবিদার রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের লাভের স্বার্থে তারা কোনো উইন্ড পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করেনি। বিনামূল্যে পানি থেকেও বিদ্যুৎ আসে, সূর্যের আলো থেকেও বিদ্যুৎ আসে। কিন্তু তারা ওয়াটার পাওয়ার প্ল্যান্ট বা সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করেনি। কারণ, এতে কোনো জ্বালানি লাগে না। যা লাগে তা প্রকৃতি থেকে বিনামূল্যে পাওয়া যায়। কিন্তু তাহলে তো বারবার জ্বালানি আমদানির নামে কেনাকাটায় চরম লাভের ব্যবসাটা আর থাকে না। রাষ্ট্রের টাকা বারবার লুট আর পাচার করার সুযোগটাও তো তবে হাতছাড়া হয়ে যায়। রাষ্ট্রের হর্তাকর্তা এসব দুর্বৃত্তদের অর্থনৈতিক লুটপাটের এই জটিল অংকটা সাধারণ মানুষ বোঝে না। তারা বুঝতে চায়ও না। তারা শুধু চায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা।
আপনি জনগণের জন্য বেসরকারি কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৫ টাকা ইউনিট দামে বিদ্যুৎ কিনলেন, নাকি ভারত থেকে বিদ্যুৎ চুরি করে আনলেন, নাকি নিজের কেন্দ্রের টারবাইন চালু রাখতে ৫ টাকা দামের কয়লা-ইউরেনিয়াম আপনি ৫০ টাকায় কিনে বাকি ৪৫ টাকাই আত্মসাৎ করলেন, সেটা দেশের সাধারণ মানুষ বুঝতে চায় না। তারা শুধু নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা চায়। সারা পৃথিবী যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির সন্ধানে ব্যস্ত তখন আমরা ব্যস্ত চেতনার সন্ধানে আর বিরোধী মত দমনে। একদল তো চেতনার লালবাতি জ্বালিয়ে রেখে পালিয়েছে। কিন্তু কথা হলো- ফ্যাসিস্ট, লুটেরা, গণহত্যাকারী যাকে বলা হয় সেই শেখ হাসিনার সরকার যদি নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে পারে তাহলে আপনারা নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার হয়ে সেটা পারছেন না কেন? জনগণ এই প্রশ্নটা খুব ভালোভাবেই বোঝে। এই প্রশ্নের উত্তরে আপনি ভূগোল অর্থনীতি বুঝিয়ে, জিডিপি বুঝিয়ে, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি বা হরমুজ প্রণালী বুঝিয়ে কিংবা পল্লী বিদ্যুতের লম্বা লাইনের দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যেতে পারবেন না। সরকারে থাকলে সব ব্যর্থতার দায় আপনাদের নিতেই হবে। #
❑ আরিফ আহমেদ মুন্না ✍️
সাংবাদিক, লেখক, কবি, কলামিস্ট ও সুশাসন বিশেষজ্ঞ।
বাবুগঞ্জঃ ১২ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।

২৯ মে, ২০২৫ ১৬:১৩
কদিন পূর্বে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম মিডিয়ায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছেন বরিশাল হবে রাজনৈতিক সন্ত্রাসমুক্ত। এবং গত ৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নেওয়ার আগেও অভিন্ন বক্তব্য রেখেছিলেন তিনি। নির্বাচনে জাহিদ ফারুককে সমর্থন দেওয়া বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের খোকন সেরনিয়াবাতও অনুরুপ অঙ্গীকার রেখেছেন নগরবাসীর কাছে। এবং উভয় জনপ্রতিনিধি এও জানিয়ে ছিলেন রাজনৈতিক হানাহানি বন্ধ করাসহ দখল সন্ত্রাস রোধ করে শান্তিময় ‘নতুন বরিশাল’ গড়ে তোলা হবে। স্বচ্ছ-সৎ-আদর্শিক এই দুই জনপ্রতিনিধি নির্বাচন পূর্বাপর দেওয়া তাদের অঙ্গীকার পালনের ধারা অব্যাহত রাখার ঘোষণার মধ্যেও বরিশালে তাদের অনুসারীরা ক্রমাগত অপরাধ পরিক্রমায় জড়িয়ে পড়ছেন। উভয় নেতার অনুসারীরা দলীয় ঘরনার বিরোধীদের হাট-বাজার দখল করাসহ সংঘাত-সংঘর্ষে বরিশাল উত্তপ্ত করে তুলেছেন। এসব ঘটনাবলীতে বরিশালের চার থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বন্দর এবং বিমানবন্দরে অন্তত ডজনখানে মামলা হলেও নগরবাসী মোটেও স্বস্তিতে নেই। বরং দিনেদিনে আতঙ্ক ক্রমশই বৃদ্ধি করছে, যা প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এবং সিটি মেয়র আবুল খায়েরের ইতিবাচক রাজনৈতিক ধারা নয়, মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।
অভিজ্ঞ মহল বলছেন, কীর্তনখোলা নদীঘেরা জনপদের দুই জনপ্রতিনিধি জাহিদ ফারুক এবং আবুল খায়ের খোকন সেরনিয়াবাত ক্লিন ইমেজের রাজনৈতিক। তাদের দুজনের ওপর বরিশাল সিটি ও সদর আসনের জনগণ আস্থা রেখেছেন বলেই তারা সম্প্রতি অনুষ্ঠেয় দুটি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন। সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ দুটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হলে মহানগর আওয়ামী লীগ বেকে বসে। কিন্তু তারপরেও নৌকার প্রার্থী সিটিতে আবুল খায়ের এবং সংসদে জাহিদ ফারুক শামীমকেই সাধারণ মানুষ বেচে নিয়েছেন। নির্বাচন পূর্বাপর উভয় জনপ্রতিনিধি অনুরুপ প্রতিশ্রুতি করেছিলেন যে অবহেলিত বরিশাল হবে রাজনৈতিক সন্ত্রাসমুক্ত এবং উন্নত ‘নতুন বরিশাল’। অবশ্য এনিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল শহরবাসী। তবে সংসদ নির্বাচনের পর তাদের কর্মী-অনুসারীদের কয়েকজন বরিশালে দখল পাল্টা দখলের উৎসবে মেতে উঠেছেন। এনিয়ে সংঘাত-রক্তপাতে উত্তপ্ত এবং ক্রমাগতভাবে আতঙ্ক বৃদ্ধি হলেও প্রতিমন্ত্রী-মেয়রের নির্লপ্ত থাকা সমীচীন নয়। বরং শহরবাসীর স্বার্থে এই দুই জনপ্রতিনিধির ইতিবাচক রাজনৈতিক ধারা অব্যাহত রাখতে সন্ত্রাস রুখে দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে মনোযোগী হওয়া জরুরি। নতুবা এই সন্ত্রাস প্রতিমন্ত্রী মেয়রের ক্লিন ইমেজে দাগ লাগাবে!, ছাপিয়ে যাবে সাবেক সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র সময়কার সকল বিতর্কিত কর্মকান্ডের রেকর্ড।
৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের আগে বরিশাল নগরীতে সরকারি বেশ কিছু হাট-বাজার এবং ঘাট দখলের একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিশেষ করে সিটি এবং সংসদে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত সাদিক আব্দুল্লাহ অনুসারীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে নেয় প্রতিমন্ত্রী-মেয়রের অনুসারীরা। এই দখল প্রক্রিয়া চালাতে গিয়ে দুই পক্ষের হানাহানি খোদ সরকারের একাধিক দপ্তরকে বিপাকে ফেলে দেয়। মেয়র সমর্থিত খান হাবিব বিআইডব্লিউটিএ’র দুটি ঘাট তার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন, যা এতদিন মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুলের দখলে ছিল। আলোচ্চ্য টুটুল সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়বাত সাদিক আব্দুল্লাহ সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে সমাধিক পরিচিত। ৫ বছর আগে ২০১৮ সালে তার নেতা সাদিক আব্দুল্লাহ মেয়র হলে অনুরুপভাবে তিনিও হাট-ঘাট-বাজারগুলো এককভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন, তখনও সন্ত্রাস-সংঘাতে বরিশাল শহর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
রাজনৈতিক মহল বলছে, সদরের এমপি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক একজন সৎ মানুষ হিসেবে পরিচিত। এছাড়া সিটি মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতও অভিন্ন চরিত্রের। মহানগর আওয়ামী লীগ তাদের দুজনের নির্বাচনেই উল্টো পথে হেটেছে, কিন্তু লাভ হয়নি। বরং নৌকার বিরুদ্ধচারণ করায় সাদিকসহ তার অনুসারীরা বিতর্কিত হয়েছেন। এছাড়া ক্ষমতার আমলে তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ওষ্ঠাগত হয়ে খোকন সেরনিয়াবাত এবং জাহিদ ফারুকের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছিল। অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তারা নৌকা নিয়ে বৈতরণী পার হয়েছেন, নগরবাসী তাদের বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, দুই জনপ্রতিনিধি তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে যখন আধাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন, তখনই গুটিকয়ে কর্মী তাদের এমন উদ্যোগ এবং প্রসংশনীয় কর্ম অপেক্ষা বিতর্ক বেশি তৈরি করেছে দখল সন্ত্রাসের জানান দিয়ে।
জানা যায়, কদিন পূর্বে শহরের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্ত দপদপিয়া ব্রিজের টোলপ্লাজায় আসা একটি যাত্রীবাহী পরিবহন থেকে পটুয়াখালীর ব্যবসায়ীদের মাছ লুটপাট করে সিটি মেয়র অনুসারী কথিত ছাত্র-যুবলীগ নেতাকর্মীরা। বিতর্কিত যুবক রেজভীর নেতৃত্বে মাছগুলো লুটপাট শেষে সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে করে তা নিয়ে যাওয়া হয় শহরের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পোর্টরোডে এবং কাশিপুরে। দুটি স্থানে মাছগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় পটুয়াখালীর ওই ব্যবসায়ী বাদী হয়ে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও নেতৃত্বদানকারী রেজভী আছেন বহাল তবিয়তে।
পুলিশ এই আলোচিত মামলাটি নিয়ে কাজ করছে এবং তদন্ত করতে গিয়ে যা পেয়েছে, পাচ্ছে তা শুনলে অনেকের চক্ষু চড়কগাছ। সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র আমলে অনুরুপ মাছের গাড়িতে লুটপাট চালিয়ে ছিলেন সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক আশিকুর রহমান সুজন। তখন তিনিও পরিবহন থেকে মাছ লুটপাট করে তা সিটি কর্পোরেশনের গাড়িযোগে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যেতেন। জাহিদ ফারুক এবং আবুল খায়েরের নতুন বরিশালে সাদিক অনুসারীদের আধিপত্য নেই, কিন্তু অভিন্ন স্টাইলেই লুটতরাজ চলছে, যা নিয়ে সরব আলোচনা-সমালোচনা হয়।
প্রশ্ন হচ্ছে, রাজনৈতিক সন্ত্রাস রোধে প্রতিমন্ত্রী-মেয়র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাদের স্বদিচ্ছাও আছে, তারপরেও কেনো অনুগত কর্মীরা সংঘাত-সংঘর্ষ ও দখল পাল্টা দখলের পথে হাটছে, যা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর হতে বাধ্য করছে। তবে ভীতিগ্রস্ত করে তুলছে নগরবাসীকে।
অবশ্য পরিবহন থেকে মাছ লুটপাট যে দিন হয়েছিল, সেদিন প্রতিমন্ত্রী রাজধানী ঢাকাতে অবস্থান করছিলেন এবং সিটি মেয়র ওমরাহ পালনে সৌদিতে আছেন। কোতয়ালি পুলিশ বলছে, মাছ লুটপাটের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে, এতে কয়েকজন আছেন নামধারী, বাকিরা অজ্ঞাত। মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এর বেশি পুলিশ কিছু না জানালেও নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ বেশ কিছু চ্যাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে, যার মধ্যে একটি সিটি কর্পোরেশনের পরিবহনে লুটপাটের মাছ বহন করা। এছাড়া এতে রেজভী নামক যুবকের নেতৃত্বে থাকার প্রমাণ ইতিমধ্যে হাতে এসেছে, সিসি ক্যামেরার ভিডিওচিত্রে এমনটি পরিলক্ষিত হয়।
সূত্র নিশ্চিত করেছে, পত্রিশোর্ধ্ব রেজভী সিটি মেয়র আবুল খায়েরের অনুসারী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অসীম দেওয়ানের কর্মী। গুন্ডাবাহিনী নিয়ে পরিবহনের গতিরোধ করে মাছ লুটপাটের ঘটনা রেজভী অস্বীকার করেছেন। কিন্তু সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে তাকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যাচ্ছে এমন বর্ণনা দিয়ে জানতে চাইলে তিনি নিজের সম্পৃক্ততা দ্বিতীয়বার অস্বীকার করলেও পরবর্তী বিভিন্ন মহল থেকে এ প্রতিবেদকের কাছে মুঠোফোনে সুপারিশ রাখেন সংবাদটি চেপে যেতে।
এছাড়া পোর্টরোডে সাদিকপন্থী টুটুলকে হঠিয়ে হাবিবের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ইজারা দেওয়া ঘাটটি দখল নিয়ে সেখান থেকে টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এতে টুটুল ক্ষুব্ধ, বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা বিস্মিত।
মিডিয়ায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাবিব ঘাট দখলের বিষয়টি অস্বীকার করলেও বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক সংবাদমাধ্যমকে বলছেন, ঘাটের বৈধ ইজারাদার নিরব হোসেন টুটুল। কিন্তু তাকে ইজারা তুলতে দেওয়া হচ্ছে না, এমন অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে আলোচনায় আসে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের অনুসারী চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত নেতা শহিদুল ইসলাম ওরফে ইতালি শহীদ ভূমি অফিসের জমিতে নিজস্ব অফিস করেছেন। পাশাপাশি তিনি পার্শ্ববর্তী তালতলী বাজারের ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে প্রতিদিন সকালে ৮/১০ হাজার টাকা চাঁদাও উত্তোলন করছেন। এই বাজার থেকে আগে নিরব হোসেন টুটুলের লোকেরা চাঁদা তুলতেন। এনিয়ে সংবাদ হলে ইতালির সেই অফিসটি ভূমি দপ্তর তালাবদ্ধ করে দিলেও বাজারে চাঁদাবাজি চলছেই।
জানতে চাইলে ইতালি শহীদ বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদল হয়েছে, আগে টুটুলের লোকজন বাজারটি খেতেন, এখন আমি প্রতিমন্ত্রীর লোক হিসেবে খাই। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে একটি নির্ধারিত হারে টুটুল চাঁদা তুলতেন, সেটি এখন আমি করছি।’
জানা যায়, শহরের পোর্টরোড দখলের পর হাবিব এই ঘাটটিরও নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শহর রেখে সদর উপজেলার বাজারে আধিপত্য বিস্তার ঘটাতে গিয়ে রাজনৈতিকভাবে বিপাকে পড়তে পারেন এমন ভাবনায় পিছু হঠেছেন। এর আগে এই ঘাটটি দখল নেওয়া এবং চাঁদাবাজি করতে গিয়ে স্থানীয়দের গণপিটুনির শিকার হন কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা অসীম দেওয়ান অনুসারী মিলন। তবে শেষ পর্যন্ত বাজারটিতে ইতালি শহীদই চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছেন, এতে ব্যবসায়ী সংক্ষুব্ধ হয়ে বিষয়টি লিখিত আকারে প্রতিমন্ত্রী-মেয়রসহ স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
দখল পাল্টা দখল নিয়ে প্রতিমন্ত্রী-মেয়রের অনুসারীরা সংঘাত-সংঘর্ষে শহর উত্তপ্ত করে তুলেছে, স্থানীয় প্রশাসনও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে না। বরং এই অপরাধকে কোনো রুপ প্রশ্রয় না দিয়ে প্রতিটি ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করছে পুলিশ। সূত্র নিশ্চিত করেছে, প্রতিমন্ত্রী-মেয়রও অপরাধে সম্পৃক্ত এমন কারও ব্যক্তি দায়ভার নিতে নারাজ। জনপ্রতিধিদ্বয় মিডিয়ায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এও জানিয়ে দিয়েছেন, বিশেষ কারও নাম ভাঙিয়ে যারা অপকর্ম করছে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
নির্বাচন পরবর্তী প্রতিমন্ত্রী এবং মেয়র রাজনৈতিক সন্ত্রাসমুক্ত ‘নতুন বরিশাল’ গড়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার অব্যাহত চেষ্টা করে গেলেও তাদের গুটিকয়েক কর্মীর বিতর্কিত কর্মকান্ড তাতে জল ঢালতে পারেন বলে অভিমত পাওয়া যায়। নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণের একটি ধাপ হলো, রাজনৈতিক সন্ত্রাস বন্ধ করা, তা না করা গেলে এই বিপদগামী অংশটি প্রতিমন্ত্রী-মেয়রের ক্লিন ইমেজকে ম্লান করে দিতে পারে, যেমনটি হয়েছে সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র ক্ষেত্রে। দীর্ঘ সময় দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থাকা, তদুপরি সিটি মেয়র হয়ে ইতিবাচক কর্মকান্ড অপেক্ষা নানামুখী বিতর্ক তৈরি করে সমালোচিত হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত আ’লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে খেসারত গুণতে হচ্ছে।
সাদিকের সেই বরিশালকে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এবং মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত শান্তির শহর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এখনও দিচ্ছেন। সেই সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন শহর উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। কিন্তু রাজনৈতিক সন্ত্রাস দমাতে না পারলে তাদের নিয়েও বিতর্ক তৈরির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষ সাদিক আব্দুল্লাহ এবং তার অনুসারীরা ওৎ পেতে আছেন, কখন এই দুই জনপ্রতিনিধির অনুসারীরা বড় ধরনের অঘটনের জন্ম দেয়, তা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডকে জানান দিতে।
এমতাবস্থায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত হচ্ছে, প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এবং মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত নির্বাচন পূর্বাপর নগরবাসীকে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি রাজনৈতিক সন্ত্রাস রুখে দেওয়া। কিন্তু নির্বাচনের পর গোটা শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এক শ্রেণির বখাটে যুবক, তরুণ, যাদের দলে পদপদবি না থাকলেও প্রতিমন্ত্রী-মেয়রের নাম ভাঙিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে মরিয়া হয়ে আছে। আবার কেউ কেউ ইতিমধ্যে বেআইনিভাবে বিভিন্ন হাট-ঘাট ও বাজার দখল দেওয়াসহ বিশেষ স্থানে চাঁদাবাজি করছেন। এতে প্রতিমন্ত্রী মেয়রের এক রকমের বদনাম হচ্ছে। এই অনৈতিক কর্মকান্ড রোহিত করা না গেলে প্রতিমন্ত্রী-মেয়র সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা যাবে নগরবাসীর কাছে। সুতরাং কালবিলম্ব না করে এখনই অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক এবং আইনি দুই প্রক্রিয়াতে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছে সচেতন মহল।
হাসিবুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবং সভাপতি, নিউজ এডিটরস্ কাউন্সিল, বরিশাল।
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০৩
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৪৯
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:১৯
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:০৫