প্রবাসে থেকেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করে অনুমোদন পেয়েছেন বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ৮৬ হাজার ৭১৬ জন নাগরিক। এদের মধ্যে পুরুষ ৬৭ হাজার ৯১৫ এবং নারী ১৮ হাজার ৮০১ জন। অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছেন ৩৭৫ জন প্রবাসী।
বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, প্রথমবার হিসেবে মোটামুটি ভালো সাড়া পেয়েছি। দেশের ইতিহাসের প্রথম পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল জেলা থেকে ২৯ হাজার ৪৭৭ জন প্রবাসীর পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২১ হাজার ৮২৮ জন, নারী সাত হাজার ৬৪৯ জন এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন আরও ১৫৮ জন।
ভোলা জেলার মোট ১৪ হাজার ৮২৩ জন প্রবাসীর পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ১২ হাজার ৮৫৪ জন, নারী এক হাজার ৯৬৯ জন এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে আরও ৯৭ জন।
পিরোজপুরের ১১ হাজার ৮৩৪ জনের মধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ৫৬৯ জন এবং নারী দুই হাজার ২৬৫ জনের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন আরও ৪৩ জন।
পটুয়াখালীর ১১ হাজার ৭৫৪ জন প্রবাসীর মধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ৪১৭ জন ও নারী দুই হাজার ৩৩৭ জনের নিবন্ধন হয়েছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে ৫৩ জন।
বরগুনা জেলার ১১ হাজার ৩২৭ প্রবাসীর নিবন্ধন শেষ হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ আট হাজার ৩৩২ জন এবং নারী দুই হাজার ৯৯৫ জন। অনুমোদনের অপেক্ষায় আরও ৫২ জন।
ঝালকাঠির মোট সাত হাজার ৫০১ জন প্রবাসীর পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ পাঁচ হাজার ৯১৫ জন এবং এক হাজার ৫৮৬ জন নারী। অনুমোদনের অপেক্ষায় আরও ২৩ জন।
এছাড়া ৫৭ হাজার ২৯৩ জন সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনি কর্মকর্তা, কারাবন্দি এবং আনসার ও ভিডিপি সদস্য পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটার হয়েছেন। এর মধ্যে কারাবন্দি ৩৪৬, আনসার ও ভিডিপি ৭৫৪, নির্বাচনি কর্মকর্তা ১২ হাজার ৪৭৭ এবং সরকারি চাকরিজীবী ৪৩ হাজার ৭১৬ জন।
কোন আসনে কত নিবন্ধন
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসন থেকে চার হাজার ৫১৬ জন, বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) থেকে পাঁচ হাজার ১০৯ জন, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) থেকে চার হাজার ৬৭২ জন, বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) থেকে চার হাজার ৪৭৮ জন, বরিশাল-৫ (সদর) থেকে ছয় হাজার ৭৩৭ জন এবং বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসন থেকে তিন হাজার ৮৮৬ জন প্রবাসী ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন।
এর আগে গত ১৮ নভেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি রাত ১২টায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শুধু বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা থেকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে পোস্টাল ভোটের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিলেন তারা। এদের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী এবং দেশের কারাবন্দি, নির্বাচন কর্মকর্তা, সরকারি চাকরিজীবী ও আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটার তালিকায় নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন জানায়, এই ব্যবস্থায় প্রবাসী ভোটার, আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি এবং নির্বাচনি দায়িত্বরত কর্মকর্তারাও ভোট দিতে পারবেন। পোস্টাল ভোটে নিবন্ধিত ভোটারদের ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটে ভোট দেওয়া শেষে নির্ধারিত ফিরতি খামে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫১
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাদকসহ গ্রেপ্তার উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাসেন্ট রায়কে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জেলা ছাত্রদল। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বরিশাল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. তৌফিকুল ইসলাম ইমরান ও সদস্য সচিব মো. আল আমিন মৃধার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে এ্যাসেন্ট রায়ের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের একটি দল জোবারপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাসেন্ট রায়কে ৫টি ইয়াবা বড়িসহ আটক করা হয়।
এ ঘটনায় পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরদিন সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাদকসহ গ্রেপ্তার উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাসেন্ট রায়কে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জেলা ছাত্রদল। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বরিশাল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. তৌফিকুল ইসলাম ইমরান ও সদস্য সচিব মো. আল আমিন মৃধার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে এ্যাসেন্ট রায়ের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের একটি দল জোবারপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাসেন্ট রায়কে ৫টি ইয়াবা বড়িসহ আটক করা হয়।
এ ঘটনায় পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরদিন সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২১
বরিশালের মুলাদীতে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগের তিন নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো তিনজন হলেন—মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আলামিন শিকদার, জাকির হাওলাদার ও আরিফ হাওলাদার।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ নাজিরপুর ইউনিয়নের একটি স্থানে কেক কেটে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উদযাপন করেন নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় ওই রাতেই মুলাদী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ১৭ মার্চ কেক কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করে। মামলার অধিকাংশ আসামিই বর্তমানে পলাতক। মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করা আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বরিশালের মুলাদীতে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগের তিন নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো তিনজন হলেন—মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আলামিন শিকদার, জাকির হাওলাদার ও আরিফ হাওলাদার।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ নাজিরপুর ইউনিয়নের একটি স্থানে কেক কেটে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উদযাপন করেন নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় ওই রাতেই মুলাদী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ১৭ মার্চ কেক কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করে। মামলার অধিকাংশ আসামিই বর্তমানে পলাতক। মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করা আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:২৪
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবিরের তদন্ত সংস্থায় দেওয়া জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জবানবন্দিটি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের আবেদন করা হলে তা মঞ্জুর করা হয়। একই দিনে মামলায় ২৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণও সম্পন্ন হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা জবানবন্দিতে সাবেক ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবির দাবি করেন, তৎকালীন বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক নির্দেশ ও প্রভাবের কারণে তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ আগৈলঝাড়ায় দুই বিএনপি নেতাকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার ঘটনায় জড়িত হন।
জবানবন্দির বরাত দিয়ে মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়ায় ফলবাহী একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়। ওই মামলায় এসপি এহসানউল্লাহর তদারকিতে ঢাকা ও কেরানীগঞ্জ থেকে আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং উপজেলা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে আগৈলঝাড়া এলাকায় গুলি করে তাঁদের হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগ।
সাবেক ডিআইজি হুমায়ুন কবিরের জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার পর তিনি আগৈলঝাড়া থানার তৎকালীন ওসি মনিরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওসি তাকে জানান, এসপি এহসানউল্লাহ গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ‘ক্রসফায়ার’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ সদস্যরা এতে রাজি না হওয়ায় উজিরপুর থানা থেকে পুলিশ সদস্য এনে হত্যাকাণ্ডটি কার্যকর করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, ঘটনার পর এসপি নিজে থানায় গিয়ে জিডিতে এ বিষয়ে নোট দেওয়ার নির্দেশ দেন।
হুমায়ুন কবির আরও দাবি করেন, এহসানউল্লাহর ওই ভূমিকার কারণে ২০১৫ সালে তাঁর বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে (এসিআর) বিরূপ মন্তব্য লিখে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছিলেন তিনি। পরে এহসানউল্লাহকে বরিশাল থেকে মাগুরায় বদলি করা হয়।
তবে মামলার নথিতে সাবেক ডিআইজির জবানবন্দির বরাতে আরও দাবি করা হয়েছে, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হওয়ায় বিরূপ মন্তব্য থাকা সত্ত্বেও এহসানউল্লাহ পরবর্তীতে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান এবং পুনরায় বরিশাল রেঞ্জে পদায়ন পান।
এ মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন এসপি এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিনকে।
আসামিদের মধ্যে হাসানাত আবদুল্লাহ ও এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। মঙ্গলবার তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী–গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে অধস্তন পুলিশ সদস্যদের দিয়ে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবিরের তদন্ত সংস্থায় দেওয়া জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জবানবন্দিটি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের আবেদন করা হলে তা মঞ্জুর করা হয়। একই দিনে মামলায় ২৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণও সম্পন্ন হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা জবানবন্দিতে সাবেক ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবির দাবি করেন, তৎকালীন বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক নির্দেশ ও প্রভাবের কারণে তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ আগৈলঝাড়ায় দুই বিএনপি নেতাকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার ঘটনায় জড়িত হন।
জবানবন্দির বরাত দিয়ে মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়ায় ফলবাহী একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়। ওই মামলায় এসপি এহসানউল্লাহর তদারকিতে ঢাকা ও কেরানীগঞ্জ থেকে আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং উপজেলা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে আগৈলঝাড়া এলাকায় গুলি করে তাঁদের হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগ।
সাবেক ডিআইজি হুমায়ুন কবিরের জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার পর তিনি আগৈলঝাড়া থানার তৎকালীন ওসি মনিরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওসি তাকে জানান, এসপি এহসানউল্লাহ গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ‘ক্রসফায়ার’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ সদস্যরা এতে রাজি না হওয়ায় উজিরপুর থানা থেকে পুলিশ সদস্য এনে হত্যাকাণ্ডটি কার্যকর করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, ঘটনার পর এসপি নিজে থানায় গিয়ে জিডিতে এ বিষয়ে নোট দেওয়ার নির্দেশ দেন।
হুমায়ুন কবির আরও দাবি করেন, এহসানউল্লাহর ওই ভূমিকার কারণে ২০১৫ সালে তাঁর বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে (এসিআর) বিরূপ মন্তব্য লিখে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছিলেন তিনি। পরে এহসানউল্লাহকে বরিশাল থেকে মাগুরায় বদলি করা হয়।
তবে মামলার নথিতে সাবেক ডিআইজির জবানবন্দির বরাতে আরও দাবি করা হয়েছে, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হওয়ায় বিরূপ মন্তব্য থাকা সত্ত্বেও এহসানউল্লাহ পরবর্তীতে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান এবং পুনরায় বরিশাল রেঞ্জে পদায়ন পান।
এ মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন এসপি এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিনকে।
আসামিদের মধ্যে হাসানাত আবদুল্লাহ ও এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। মঙ্গলবার তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী–গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে অধস্তন পুলিশ সদস্যদের দিয়ে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়।

০৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৩৯
প্রবাসে থেকেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করে অনুমোদন পেয়েছেন বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ৮৬ হাজার ৭১৬ জন নাগরিক। এদের মধ্যে পুরুষ ৬৭ হাজার ৯১৫ এবং নারী ১৮ হাজার ৮০১ জন। অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছেন ৩৭৫ জন প্রবাসী।
বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, প্রথমবার হিসেবে মোটামুটি ভালো সাড়া পেয়েছি। দেশের ইতিহাসের প্রথম পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল জেলা থেকে ২৯ হাজার ৪৭৭ জন প্রবাসীর পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২১ হাজার ৮২৮ জন, নারী সাত হাজার ৬৪৯ জন এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন আরও ১৫৮ জন।
ভোলা জেলার মোট ১৪ হাজার ৮২৩ জন প্রবাসীর পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ১২ হাজার ৮৫৪ জন, নারী এক হাজার ৯৬৯ জন এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে আরও ৯৭ জন।
পিরোজপুরের ১১ হাজার ৮৩৪ জনের মধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ৫৬৯ জন এবং নারী দুই হাজার ২৬৫ জনের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছেন আরও ৪৩ জন।
পটুয়াখালীর ১১ হাজার ৭৫৪ জন প্রবাসীর মধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ৪১৭ জন ও নারী দুই হাজার ৩৩৭ জনের নিবন্ধন হয়েছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে ৫৩ জন।
বরগুনা জেলার ১১ হাজার ৩২৭ প্রবাসীর নিবন্ধন শেষ হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ আট হাজার ৩৩২ জন এবং নারী দুই হাজার ৯৯৫ জন। অনুমোদনের অপেক্ষায় আরও ৫২ জন।
ঝালকাঠির মোট সাত হাজার ৫০১ জন প্রবাসীর পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ পাঁচ হাজার ৯১৫ জন এবং এক হাজার ৫৮৬ জন নারী। অনুমোদনের অপেক্ষায় আরও ২৩ জন।
এছাড়া ৫৭ হাজার ২৯৩ জন সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনি কর্মকর্তা, কারাবন্দি এবং আনসার ও ভিডিপি সদস্য পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটার হয়েছেন। এর মধ্যে কারাবন্দি ৩৪৬, আনসার ও ভিডিপি ৭৫৪, নির্বাচনি কর্মকর্তা ১২ হাজার ৪৭৭ এবং সরকারি চাকরিজীবী ৪৩ হাজার ৭১৬ জন।
কোন আসনে কত নিবন্ধন
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসন থেকে চার হাজার ৫১৬ জন, বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) থেকে পাঁচ হাজার ১০৯ জন, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) থেকে চার হাজার ৬৭২ জন, বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) থেকে চার হাজার ৪৭৮ জন, বরিশাল-৫ (সদর) থেকে ছয় হাজার ৭৩৭ জন এবং বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসন থেকে তিন হাজার ৮৮৬ জন প্রবাসী ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন।
এর আগে গত ১৮ নভেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি রাত ১২টায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শুধু বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা থেকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে পোস্টাল ভোটের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিলেন তারা। এদের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী এবং দেশের কারাবন্দি, নির্বাচন কর্মকর্তা, সরকারি চাকরিজীবী ও আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটার তালিকায় নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন জানায়, এই ব্যবস্থায় প্রবাসী ভোটার, আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি এবং নির্বাচনি দায়িত্বরত কর্মকর্তারাও ভোট দিতে পারবেন। পোস্টাল ভোটে নিবন্ধিত ভোটারদের ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটে ভোট দেওয়া শেষে নির্ধারিত ফিরতি খামে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৬
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৫২