ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এনসিপি নেতা আশরাফ শেখকে অবরুদ্ধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। হবু স্ত্রীর সঙ্গে এসএসসির পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরে এই ঘটনা ঘটে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গা কাজী শামসুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ঘটে এই ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কাজী শামসুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা চলছে। আজ সকালে ভাঙ্গা উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. আশরাফ তাঁর হবু স্ত্রীর সঙ্গে পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রে আসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে কিছু পরীক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনার প্রতিবাদে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
একপর্যায়ে এনসিপির নেতাকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ ধাওয়া দেয় কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ সময় দৌড়ে পালিয়ে কেন্দ্রসচিবের কক্ষে আশ্রয় নেন এনসিপির নেতা। তখন স্কুলের কয়েক শিক্ষক এগিয়ে এলে ইটের আঘাতে আহত হন প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ ছাড়া অবরুদ্ধ অবস্থায় এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের সঙ্গে বহিরাগতদেরও স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত আজকের পত্রিকাকে বলেন, এনসিপি নেতা আশরাফ প্রতিটি পরীক্ষায় তাঁর হবু স্ত্রীকে নিয়ে এসেছিল। পরীক্ষা শুরুর আগেই অভিভাবকদের সঙ্গে সে কেন্দ্রে অবস্থান করে থাকে। আজও পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রে এসেছিল এবং তাঁর হবু স্ত্রীর কক্ষের কয়েকজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হলে ঘটনাটি ঘটে। এতে এক ঘণ্টা পর পরীক্ষা শুরু হয়।
এই ঘটনার পর ভাঙ্গা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ কয়েক শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের জানান, ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই এনসিপি নেতা আশরাফ শেখ পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। তাঁর হবু স্ত্রী ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন। সেই সুবাদে প্রত্যেক পরীক্ষায় কেন্দ্রে ঢুকে বিভিন্নভাবে তাঁর স্ত্রীকে সহায়তা করছিলেন। আজও পরীক্ষা শুরু হতেই তাঁর স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষায় সহায়তা করছিলেন।
আওয়ামী লীগ নেতাদের পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়েছেন বলে এনসিপি নেতা আশরাফ বলেন, পারিবারিকভাবে আমাদের বাগ্দান হয়েছে। তাকে আমি প্রায়ই কেন্দ্রে দিয়ে আসি। এর মধ্যে আমার হবু স্ত্রীকে কয়েক দিন ধরে বখাটে পরীক্ষার্থীরা উত্ত্যক্ত করছিল। বিষয়টি জানতে পেরে আজ গিয়ে প্রতিবাদ করলে পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা করা হয়। হামলাকারী সবাই ছাত্রলীগের কর্মী এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সন্তান।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এনসিপির নেতাকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১৪
রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে নারীসহ আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর নাদের হাজির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক মাহবুব আলম একসময় চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। বর্তমানে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত এবং সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন।
জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে নাদের হাজির মোড়ের একটি ফ্ল্যাটের দরজায় দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে দরজা খুলে মাহবুব আলম ও এক নারীকে বের করে আনেন। পরে তাদের চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনাস্থলে থাকা আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’ দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে।
আন্নির দাবি, এর আগেও রাজশিয়ার পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের নিজস্ব ফ্ল্যাটে ওই নারীকে তার সঙ্গে পেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও মাহবুবকে ওই নারীর সঙ্গে নাদের হাজির মোড়ের ফ্ল্যাটে থাকার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান।
মাহবুব আলম অবশ্য ওই নারীকে নিজের স্ত্রী দাবি করেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। একই সঙ্গে আন্নিকে চারদিন আগে তালাক দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজ জমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
তবে আন্নির দাবি, তিনি কোনো তালাকের কাগজ পাননি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মাহবুব আলমকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে নওগাঁ জেলা পুলিশে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।
সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, মাহবুব আলম কোনো ছুটি বা অনুমতি ছাড়াই রাজশিয়ায় গেছেন। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও ওই নারীর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে নারীসহ আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর নাদের হাজির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক মাহবুব আলম একসময় চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। বর্তমানে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত এবং সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন।
জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে নাদের হাজির মোড়ের একটি ফ্ল্যাটের দরজায় দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে দরজা খুলে মাহবুব আলম ও এক নারীকে বের করে আনেন। পরে তাদের চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনাস্থলে থাকা আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’ দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে।
আন্নির দাবি, এর আগেও রাজশিয়ার পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের নিজস্ব ফ্ল্যাটে ওই নারীকে তার সঙ্গে পেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও মাহবুবকে ওই নারীর সঙ্গে নাদের হাজির মোড়ের ফ্ল্যাটে থাকার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান।
মাহবুব আলম অবশ্য ওই নারীকে নিজের স্ত্রী দাবি করেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। একই সঙ্গে আন্নিকে চারদিন আগে তালাক দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজ জমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
তবে আন্নির দাবি, তিনি কোনো তালাকের কাগজ পাননি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মাহবুব আলমকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে নওগাঁ জেলা পুলিশে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।
সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, মাহবুব আলম কোনো ছুটি বা অনুমতি ছাড়াই রাজশিয়ায় গেছেন। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও ওই নারীর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মারা গেছেন আরও আটজন, যা এ বছর একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ নিয়ে এবার মোট ১৫৭ জনের মৃত্যু হলো।
এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭৩৩ জন। এ নিয়ে এবার মোট ভর্তি হলেন ৫৩ হাজার ৫৭০ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে ছয়জন নারী ও দুজন পুরুষ। তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ছয় থেকে ১০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ১৬ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক।
মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৫৭ জনের মধ্যে নারী ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান।
সেই তুলনায় চলতি মাসে অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৬০ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জন মারা যান ৮ সেপ্টেম্বর।
ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৫১, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১৯ ও সিটি করপোরেশনের বাইরে নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুলনায় ২৭, ময়মনসিংহে ১৬, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১৫, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন।
রোগীর মাসভিত্তিক হিসাব মতে, গত আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৯১ জন। এর মধ্যে সোমবারের আগ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৭১ জন ভর্তি হয়েছিলেন ৮ সেপ্টেম্বর।
এর আগে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ ও জুনে দুই হাজার ৯০৭ জন হাসপাতালে আসেন।
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মারা গেছেন আরও আটজন, যা এ বছর একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ নিয়ে এবার মোট ১৫৭ জনের মৃত্যু হলো।
এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭৩৩ জন। এ নিয়ে এবার মোট ভর্তি হলেন ৫৩ হাজার ৫৭০ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে ছয়জন নারী ও দুজন পুরুষ। তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ছয় থেকে ১০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ১৬ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক।
মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৫৭ জনের মধ্যে নারী ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান।
সেই তুলনায় চলতি মাসে অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৬০ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জন মারা যান ৮ সেপ্টেম্বর।
ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৫১, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১৯ ও সিটি করপোরেশনের বাইরে নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুলনায় ২৭, ময়মনসিংহে ১৬, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১৫, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন।
রোগীর মাসভিত্তিক হিসাব মতে, গত আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৯১ জন। এর মধ্যে সোমবারের আগ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৭১ জন ভর্তি হয়েছিলেন ৮ সেপ্টেম্বর।
এর আগে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ ও জুনে দুই হাজার ৯০৭ জন হাসপাতালে আসেন।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৪৬
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চায়ের দোকানের ৪৫ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও পুরুষসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ফের হাতাহাতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জয়ন্তীপুর এলাকার চা বিক্রেতা শামিম হোসেনের দোকানে মুদি ব্যবসায়ী মোস্তফার ৪৫ টাকা বাকি ছিল। সন্ধ্যার দিকে ওই টাকা পরিশোধের জন্য মোস্তফার কাছে জানতে চান শামিম। এ সময় পাওনা টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও লোকজন সেখানে এসে জড়ো হন। পরে তাদের মধ্যেও বিরোধ সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দ্রুত বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসা নিতে এসে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে দুই পক্ষের লোকজন ফের বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সেখানে মারামারির ঘটনাও ঘটে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিলে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইফফাত মেহেজাবীন অনন্যা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন আহতদের নিয়ে হাসপাতালে আসতে থাকেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চায়ের দোকানের ৪৫ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও পুরুষসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ফের হাতাহাতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জয়ন্তীপুর এলাকার চা বিক্রেতা শামিম হোসেনের দোকানে মুদি ব্যবসায়ী মোস্তফার ৪৫ টাকা বাকি ছিল। সন্ধ্যার দিকে ওই টাকা পরিশোধের জন্য মোস্তফার কাছে জানতে চান শামিম। এ সময় পাওনা টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও লোকজন সেখানে এসে জড়ো হন। পরে তাদের মধ্যেও বিরোধ সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দ্রুত বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসা নিতে এসে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে দুই পক্ষের লোকজন ফের বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সেখানে মারামারির ঘটনাও ঘটে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিলে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইফফাত মেহেজাবীন অনন্যা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন আহতদের নিয়ে হাসপাতালে আসতে থাকেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

১১ জুন, ২০২৬ ১৮:৪৪
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এনসিপি নেতা আশরাফ শেখকে অবরুদ্ধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। হবু স্ত্রীর সঙ্গে এসএসসির পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরে এই ঘটনা ঘটে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গা কাজী শামসুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ঘটে এই ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কাজী শামসুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা চলছে। আজ সকালে ভাঙ্গা উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. আশরাফ তাঁর হবু স্ত্রীর সঙ্গে পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রে আসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে কিছু পরীক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনার প্রতিবাদে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
একপর্যায়ে এনসিপির নেতাকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ ধাওয়া দেয় কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ সময় দৌড়ে পালিয়ে কেন্দ্রসচিবের কক্ষে আশ্রয় নেন এনসিপির নেতা। তখন স্কুলের কয়েক শিক্ষক এগিয়ে এলে ইটের আঘাতে আহত হন প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ ছাড়া অবরুদ্ধ অবস্থায় এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের সঙ্গে বহিরাগতদেরও স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত আজকের পত্রিকাকে বলেন, এনসিপি নেতা আশরাফ প্রতিটি পরীক্ষায় তাঁর হবু স্ত্রীকে নিয়ে এসেছিল। পরীক্ষা শুরুর আগেই অভিভাবকদের সঙ্গে সে কেন্দ্রে অবস্থান করে থাকে। আজও পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রে এসেছিল এবং তাঁর হবু স্ত্রীর কক্ষের কয়েকজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হলে ঘটনাটি ঘটে। এতে এক ঘণ্টা পর পরীক্ষা শুরু হয়।
এই ঘটনার পর ভাঙ্গা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ কয়েক শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের জানান, ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই এনসিপি নেতা আশরাফ শেখ পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। তাঁর হবু স্ত্রী ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন। সেই সুবাদে প্রত্যেক পরীক্ষায় কেন্দ্রে ঢুকে বিভিন্নভাবে তাঁর স্ত্রীকে সহায়তা করছিলেন। আজও পরীক্ষা শুরু হতেই তাঁর স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষায় সহায়তা করছিলেন।
আওয়ামী লীগ নেতাদের পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়েছেন বলে এনসিপি নেতা আশরাফ বলেন, পারিবারিকভাবে আমাদের বাগ্দান হয়েছে। তাকে আমি প্রায়ই কেন্দ্রে দিয়ে আসি। এর মধ্যে আমার হবু স্ত্রীকে কয়েক দিন ধরে বখাটে পরীক্ষার্থীরা উত্ত্যক্ত করছিল। বিষয়টি জানতে পেরে আজ গিয়ে প্রতিবাদ করলে পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা করা হয়। হামলাকারী সবাই ছাত্রলীগের কর্মী এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সন্তান।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এনসিপির নেতাকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩১
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৩১
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১৭
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১৫