বরিশাল শহরের বধ্যভূমিসংলগ্ন ত্রিশ গোডাউন এলাকার সকালটি তখনও নিস্তব্ধ। কীর্তনখোলার জলের ওপর কুয়াশার স্বচ্ছ পাতলা আস্তরণ। হঠাৎ সেই নিস্তব্ধতা চিরে ভেসে এলো পুরনো সুর, স্টিমারের সাইরেন। এই শব্দে মুহূর্তেই নদীর সকাল বদলে গেল।
যেন বহুদিনের ঘুম ভাঙল কীর্তনখোলার, আর শহরের মানুষের মনে টোকা দিল সঞ্চিত স্মৃতি।
এই ফিরে আসা স্টিমারটি হলো পিএস মাহসুদ, যা কেবল একটি পরিবহন নয়, বরিশালের মানুষের স্মৃতির সঙ্গে মিশে থাকা এক টুকরো ইতিহাস। ১৯৩৮ সালে নির্মিত স্টিমারটি ২০২০ সাল পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করেছে, এরপর নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এর যাত্রীসেবা থেমে যায়। সংস্কারের পর গত ১৫ নভেম্বর ঢাকার সদরঘাটে নৌপরিবহন উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন এটি উদ্বোধন করেন।
পিএস মাহসুদের চেহারা আজও ভারী ও রাজকীয়। এর কাঠের ডেক, পালের গঠন এবং ধাতব চাকা—সবকিছুই যেন কোনো জাদুঘরের স্মারক। তবে যাত্রীদের আরাম দিতে এর ভেতর নতুন করে সাজানো হয়েছে কেবিন, নিয়ন্ত্রণকক্ষ। নিশ্চিত করা হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।
একসময় ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে স্টিমারের ওপরই ছিল যাত্রীদের প্রধান ভরসা। ধীরে চলা, ডেকে রাত কাটানো এবং নদীর ভোর দেখার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছিল এক নদীসংলগ্ন সংস্কৃতি। বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্বাস উদ্দিন খান বন্ধুদের এগিয়ে দিতে এসে জানান, এই স্টিমারের সঙ্গে তাদের অনেক স্মৃতি জড়িত এবং ভিড় দেখলে তার ভালো লাগে।
৭৭ বছর বয়সী নার্গিস রফিকা রহমান ৬৩ বছর পর আবার ঢাকার পথে এই স্টিমারে উঠেছেন। তিনি বলেন, ‘১৯৬২ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় শেষবার উঠেছিলাম।
এত বছর পর নৌপথে কেমন লাগে, সব আবার দেখতে চাই।’
৫৫ বছর বয়সী রওশন আরা বেগম দীর্ঘক্ষণ স্টিমারের দিকে তাকিয়ে থাকার পর বলেন, ‘স্টিমার যেতে দেখলে বুকের ভেতর যেন টান পড়ে।’ তিনি মনে করিয়ে দেন, সময় বদলালেও নদী কিন্তু আগের মতোই আছে। দ্রুতগামী লঞ্চ ও উন্নত সড়কের ভিড়ে মানুষ এখনও ধীর লয়ের স্টিমার ভ্রমণের সেই শান্তি খুঁজে বেড়ায়, আর নদীর ভোরের আলোয় চোখ মেলার অনুভূতি চায়। কীর্তনখোলার বাতাসে আজও জীবনানন্দ দাশের সেই নদীর ভোর ভেসে থাকে।
প্রথম যাত্রার ফিরতি পথে স্টিমার পিএস মাহসুদ শনিবার সকালে রওনা দিয়ে রাতেই ঢাকায় পৌঁছেছে। বিআইডাব্লিউটিসির বরিশাল টার্মিনাল সুপারিনটেনডেন্ট সোহেল খান জানান, যাত্রীসংখ্যা ছিল ‘খুবই আশাব্যঞ্জক’। এই যাত্রায় প্রথম শ্রেণিতে ১৬ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে দুইজন এবং শোভন শ্রেণিতে দুইজন যাত্রী ছিলেন। ঢাকা থেকে বরিশালে আসা ১৪ জন যাত্রী ফিরতি পথে শনিবার রাতে ঢাকায় ফিরেছেন।
সাংবাদিকরা যখন সকালে ত্রিশ গোডাউন এলাকার অস্থায়ী টার্মিনালে পৌঁছান, তখন একটু একটু করে ঘাট জমতে থাকে। ২০ জন যাত্রী যখন স্টিমারে ওঠেন, তখন ঐতিহ্যবাহী লাল গালিচা বিছিয়ে তাঁদের স্বাগত জানানো হয়। স্টিমারের নিচতলায় কর্মীরা তখন নাস্তার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, আর রান্নার গরম ভাপ ঘাটের কুয়াশার সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল।
এই স্টিমার যাত্রার এক বিশেষ আকর্ষণ হলো ফিশ ‘কাটলেট’। কবি হেনরী স্বপন জানান, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন তিনি তৃতীয় শ্রেণির যাত্রী হয়ে বই কিনতে ঢাকায় যেতেন (তখন ভাড়া ছিল প্রায় ৫০ টাকা), তখন সেই কাটলেটই ছিল তার প্রধান টান। কাটলেটের দাম তখন ভাড়ার চেয়েও বেশি ছিল। টুনা ও সামুদ্রিক মাছ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা এই কাটলেট পরিবেশন করা হতো কাটা চাকু, ছুরি ও সসের সঙ্গে।
এই নতুন যাত্রায়ও কাটলেট ছিল। এক যাত্রী ১৫০ টাকায় কাটলেট, ৫০০ টাকায় ব্রেকফাস্ট এবং ৫০০ টাকায় দুপুরের খাবার খান, যার মোট বিল দাঁড়ায় এক হাজার ২৩০ টাকা। যদিও বিলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, তবে কাটলেটের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার রাতের অন্ধকারে স্টিমার পৌঁছানোর কারণে অনেকে সেটি ভালোভাবে দেখতে পারেননি। তাই শনিবার সকাল থেকেই ঘাটে মানুষের ভিড় জমতে থাকে। কেউ ভিডিও করছিলেন, কেউ ছবি তুলছিলেন, আর কেউ চুপচাপ তাকিয়ে দেখছিলেন, যেন নদীর বুক থেকে ফিরে আসা কোনো পুরনো পরিচিত মুখ দেখছেন।
বিআইডাব্লিউটিসির পরিদর্শক জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, “আপাতত সংস্থাটিই স্টিমার পরিচালনা করছে। তবে দুই দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং লিজ মিলে গেলে এটি ‘হেরিটেজ ক্রুজ’ হিসেবে চলবে।”

২৯ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৫৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ২৭ জুলাই ২০২৬: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের কৃতী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ২৫ টি বিভাগের মোট ৭টি অনুষদের ১০৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সুনাগরিক ও দেশের কর্ণধার। তাদের মেধা, সততা, গবেষণামনস্কতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তির ওপর নির্ভর করছে একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই, তোমাদের জ্ঞানচর্চায় মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষার্থীদের কেবল ভালো ফলাফল অর্জন নয়, বরং সৎ, দায়িত্বশীল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি। সঠিক পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হক। ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রাপ্তদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষায়িত বিভাগ কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তিনজন শিক্ষার্থী এই সম্মাননা লাভ করেন। তাদের মধ্যে নিহাল ইসলাম খন্দকার, পিতা: খন্দকার নজরুল ইসলাম, বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার কৃতী সন্তান। . হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, উপকূল অধ্যয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ বাংলাদেশের একমাত্র বিভাগ যেখানে উপকূল দুর্যোগ ব্যবস্হাপনা বিষয়ে স্নাতক(সম্মান) ডিগ্রি দেওয়া হয় যা বাংলাদেশের কোথাও দেওয়া হয় না।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ২৭ জুলাই ২০২৬: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের কৃতী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ২৫ টি বিভাগের মোট ৭টি অনুষদের ১০৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সুনাগরিক ও দেশের কর্ণধার। তাদের মেধা, সততা, গবেষণামনস্কতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তির ওপর নির্ভর করছে একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই, তোমাদের জ্ঞানচর্চায় মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষার্থীদের কেবল ভালো ফলাফল অর্জন নয়, বরং সৎ, দায়িত্বশীল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি। সঠিক পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হক। ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রাপ্তদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষায়িত বিভাগ কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তিনজন শিক্ষার্থী এই সম্মাননা লাভ করেন। তাদের মধ্যে নিহাল ইসলাম খন্দকার, পিতা: খন্দকার নজরুল ইসলাম, বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার কৃতী সন্তান। . হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, উপকূল অধ্যয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ বাংলাদেশের একমাত্র বিভাগ যেখানে উপকূল দুর্যোগ ব্যবস্হাপনা বিষয়ে স্নাতক(সম্মান) ডিগ্রি দেওয়া হয় যা বাংলাদেশের কোথাও দেওয়া হয় না।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

২৯ জুলাই, ২০২৬ ০০:৩০
সমাজের অবহেলা, বৈষম্য আর বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে নতুন জীবনের পথে হাঁটতে শুরু করলেন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক মাইদুল ইসলাম অভি। বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) মজুরিভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন তিনি, যা শুধু একটি নিয়োগ নয়—বরং সমতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা।
মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
বিসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভি যোগদানের দিন থেকেই মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন। কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নির্ধারণ না হলেও তাঁকে সম্মানজনক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত অভি বলেন, “আমাদের মতো মানুষদের প্রতিনিয়ত অবহেলা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। এই চাকরি শুধু কর্মসংস্থান নয়, এটি আমার জন্য সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ। এখন আমি আত্মমর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারব।”
বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ অনেকের কাছে একটি চাকরির খবর হলেও, বাস্তবে এটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—যেখানে পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মানবিকতাই হবে মানুষের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।’
সমাজের অবহেলা, বৈষম্য আর বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে নতুন জীবনের পথে হাঁটতে শুরু করলেন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক মাইদুল ইসলাম অভি। বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) মজুরিভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন তিনি, যা শুধু একটি নিয়োগ নয়—বরং সমতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা।
মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
বিসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভি যোগদানের দিন থেকেই মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন। কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নির্ধারণ না হলেও তাঁকে সম্মানজনক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত অভি বলেন, “আমাদের মতো মানুষদের প্রতিনিয়ত অবহেলা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। এই চাকরি শুধু কর্মসংস্থান নয়, এটি আমার জন্য সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ। এখন আমি আত্মমর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারব।”
বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ অনেকের কাছে একটি চাকরির খবর হলেও, বাস্তবে এটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—যেখানে পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মানবিকতাই হবে মানুষের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।’

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৬
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’

৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৩:০১
বরিশাল শহরের বধ্যভূমিসংলগ্ন ত্রিশ গোডাউন এলাকার সকালটি তখনও নিস্তব্ধ। কীর্তনখোলার জলের ওপর কুয়াশার স্বচ্ছ পাতলা আস্তরণ। হঠাৎ সেই নিস্তব্ধতা চিরে ভেসে এলো পুরনো সুর, স্টিমারের সাইরেন। এই শব্দে মুহূর্তেই নদীর সকাল বদলে গেল।
যেন বহুদিনের ঘুম ভাঙল কীর্তনখোলার, আর শহরের মানুষের মনে টোকা দিল সঞ্চিত স্মৃতি।
এই ফিরে আসা স্টিমারটি হলো পিএস মাহসুদ, যা কেবল একটি পরিবহন নয়, বরিশালের মানুষের স্মৃতির সঙ্গে মিশে থাকা এক টুকরো ইতিহাস। ১৯৩৮ সালে নির্মিত স্টিমারটি ২০২০ সাল পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করেছে, এরপর নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এর যাত্রীসেবা থেমে যায়। সংস্কারের পর গত ১৫ নভেম্বর ঢাকার সদরঘাটে নৌপরিবহন উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন এটি উদ্বোধন করেন।
পিএস মাহসুদের চেহারা আজও ভারী ও রাজকীয়। এর কাঠের ডেক, পালের গঠন এবং ধাতব চাকা—সবকিছুই যেন কোনো জাদুঘরের স্মারক। তবে যাত্রীদের আরাম দিতে এর ভেতর নতুন করে সাজানো হয়েছে কেবিন, নিয়ন্ত্রণকক্ষ। নিশ্চিত করা হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।
একসময় ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে স্টিমারের ওপরই ছিল যাত্রীদের প্রধান ভরসা। ধীরে চলা, ডেকে রাত কাটানো এবং নদীর ভোর দেখার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছিল এক নদীসংলগ্ন সংস্কৃতি। বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্বাস উদ্দিন খান বন্ধুদের এগিয়ে দিতে এসে জানান, এই স্টিমারের সঙ্গে তাদের অনেক স্মৃতি জড়িত এবং ভিড় দেখলে তার ভালো লাগে।
৭৭ বছর বয়সী নার্গিস রফিকা রহমান ৬৩ বছর পর আবার ঢাকার পথে এই স্টিমারে উঠেছেন। তিনি বলেন, ‘১৯৬২ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় শেষবার উঠেছিলাম।
এত বছর পর নৌপথে কেমন লাগে, সব আবার দেখতে চাই।’
৫৫ বছর বয়সী রওশন আরা বেগম দীর্ঘক্ষণ স্টিমারের দিকে তাকিয়ে থাকার পর বলেন, ‘স্টিমার যেতে দেখলে বুকের ভেতর যেন টান পড়ে।’ তিনি মনে করিয়ে দেন, সময় বদলালেও নদী কিন্তু আগের মতোই আছে। দ্রুতগামী লঞ্চ ও উন্নত সড়কের ভিড়ে মানুষ এখনও ধীর লয়ের স্টিমার ভ্রমণের সেই শান্তি খুঁজে বেড়ায়, আর নদীর ভোরের আলোয় চোখ মেলার অনুভূতি চায়। কীর্তনখোলার বাতাসে আজও জীবনানন্দ দাশের সেই নদীর ভোর ভেসে থাকে।
প্রথম যাত্রার ফিরতি পথে স্টিমার পিএস মাহসুদ শনিবার সকালে রওনা দিয়ে রাতেই ঢাকায় পৌঁছেছে। বিআইডাব্লিউটিসির বরিশাল টার্মিনাল সুপারিনটেনডেন্ট সোহেল খান জানান, যাত্রীসংখ্যা ছিল ‘খুবই আশাব্যঞ্জক’। এই যাত্রায় প্রথম শ্রেণিতে ১৬ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে দুইজন এবং শোভন শ্রেণিতে দুইজন যাত্রী ছিলেন। ঢাকা থেকে বরিশালে আসা ১৪ জন যাত্রী ফিরতি পথে শনিবার রাতে ঢাকায় ফিরেছেন।
সাংবাদিকরা যখন সকালে ত্রিশ গোডাউন এলাকার অস্থায়ী টার্মিনালে পৌঁছান, তখন একটু একটু করে ঘাট জমতে থাকে। ২০ জন যাত্রী যখন স্টিমারে ওঠেন, তখন ঐতিহ্যবাহী লাল গালিচা বিছিয়ে তাঁদের স্বাগত জানানো হয়। স্টিমারের নিচতলায় কর্মীরা তখন নাস্তার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, আর রান্নার গরম ভাপ ঘাটের কুয়াশার সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল।
এই স্টিমার যাত্রার এক বিশেষ আকর্ষণ হলো ফিশ ‘কাটলেট’। কবি হেনরী স্বপন জানান, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন তিনি তৃতীয় শ্রেণির যাত্রী হয়ে বই কিনতে ঢাকায় যেতেন (তখন ভাড়া ছিল প্রায় ৫০ টাকা), তখন সেই কাটলেটই ছিল তার প্রধান টান। কাটলেটের দাম তখন ভাড়ার চেয়েও বেশি ছিল। টুনা ও সামুদ্রিক মাছ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা এই কাটলেট পরিবেশন করা হতো কাটা চাকু, ছুরি ও সসের সঙ্গে।
এই নতুন যাত্রায়ও কাটলেট ছিল। এক যাত্রী ১৫০ টাকায় কাটলেট, ৫০০ টাকায় ব্রেকফাস্ট এবং ৫০০ টাকায় দুপুরের খাবার খান, যার মোট বিল দাঁড়ায় এক হাজার ২৩০ টাকা। যদিও বিলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, তবে কাটলেটের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার রাতের অন্ধকারে স্টিমার পৌঁছানোর কারণে অনেকে সেটি ভালোভাবে দেখতে পারেননি। তাই শনিবার সকাল থেকেই ঘাটে মানুষের ভিড় জমতে থাকে। কেউ ভিডিও করছিলেন, কেউ ছবি তুলছিলেন, আর কেউ চুপচাপ তাকিয়ে দেখছিলেন, যেন নদীর বুক থেকে ফিরে আসা কোনো পুরনো পরিচিত মুখ দেখছেন।
বিআইডাব্লিউটিসির পরিদর্শক জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, “আপাতত সংস্থাটিই স্টিমার পরিচালনা করছে। তবে দুই দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং লিজ মিলে গেলে এটি ‘হেরিটেজ ক্রুজ’ হিসেবে চলবে।”