Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৩:০১
বরিশাল শহরের বধ্যভূমিসংলগ্ন ত্রিশ গোডাউন এলাকার সকালটি তখনও নিস্তব্ধ। কীর্তনখোলার জলের ওপর কুয়াশার স্বচ্ছ পাতলা আস্তরণ। হঠাৎ সেই নিস্তব্ধতা চিরে ভেসে এলো পুরনো সুর, স্টিমারের সাইরেন। এই শব্দে মুহূর্তেই নদীর সকাল বদলে গেল।
যেন বহুদিনের ঘুম ভাঙল কীর্তনখোলার, আর শহরের মানুষের মনে টোকা দিল সঞ্চিত স্মৃতি।
এই ফিরে আসা স্টিমারটি হলো পিএস মাহসুদ, যা কেবল একটি পরিবহন নয়, বরিশালের মানুষের স্মৃতির সঙ্গে মিশে থাকা এক টুকরো ইতিহাস। ১৯৩৮ সালে নির্মিত স্টিমারটি ২০২০ সাল পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করেছে, এরপর নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এর যাত্রীসেবা থেমে যায়। সংস্কারের পর গত ১৫ নভেম্বর ঢাকার সদরঘাটে নৌপরিবহন উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন এটি উদ্বোধন করেন।
পিএস মাহসুদের চেহারা আজও ভারী ও রাজকীয়। এর কাঠের ডেক, পালের গঠন এবং ধাতব চাকা—সবকিছুই যেন কোনো জাদুঘরের স্মারক। তবে যাত্রীদের আরাম দিতে এর ভেতর নতুন করে সাজানো হয়েছে কেবিন, নিয়ন্ত্রণকক্ষ। নিশ্চিত করা হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।
একসময় ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে স্টিমারের ওপরই ছিল যাত্রীদের প্রধান ভরসা। ধীরে চলা, ডেকে রাত কাটানো এবং নদীর ভোর দেখার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছিল এক নদীসংলগ্ন সংস্কৃতি। বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্বাস উদ্দিন খান বন্ধুদের এগিয়ে দিতে এসে জানান, এই স্টিমারের সঙ্গে তাদের অনেক স্মৃতি জড়িত এবং ভিড় দেখলে তার ভালো লাগে।
৭৭ বছর বয়সী নার্গিস রফিকা রহমান ৬৩ বছর পর আবার ঢাকার পথে এই স্টিমারে উঠেছেন। তিনি বলেন, ‘১৯৬২ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় শেষবার উঠেছিলাম।
এত বছর পর নৌপথে কেমন লাগে, সব আবার দেখতে চাই।’
৫৫ বছর বয়সী রওশন আরা বেগম দীর্ঘক্ষণ স্টিমারের দিকে তাকিয়ে থাকার পর বলেন, ‘স্টিমার যেতে দেখলে বুকের ভেতর যেন টান পড়ে।’ তিনি মনে করিয়ে দেন, সময় বদলালেও নদী কিন্তু আগের মতোই আছে। দ্রুতগামী লঞ্চ ও উন্নত সড়কের ভিড়ে মানুষ এখনও ধীর লয়ের স্টিমার ভ্রমণের সেই শান্তি খুঁজে বেড়ায়, আর নদীর ভোরের আলোয় চোখ মেলার অনুভূতি চায়। কীর্তনখোলার বাতাসে আজও জীবনানন্দ দাশের সেই নদীর ভোর ভেসে থাকে।
প্রথম যাত্রার ফিরতি পথে স্টিমার পিএস মাহসুদ শনিবার সকালে রওনা দিয়ে রাতেই ঢাকায় পৌঁছেছে। বিআইডাব্লিউটিসির বরিশাল টার্মিনাল সুপারিনটেনডেন্ট সোহেল খান জানান, যাত্রীসংখ্যা ছিল ‘খুবই আশাব্যঞ্জক’। এই যাত্রায় প্রথম শ্রেণিতে ১৬ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে দুইজন এবং শোভন শ্রেণিতে দুইজন যাত্রী ছিলেন। ঢাকা থেকে বরিশালে আসা ১৪ জন যাত্রী ফিরতি পথে শনিবার রাতে ঢাকায় ফিরেছেন।
সাংবাদিকরা যখন সকালে ত্রিশ গোডাউন এলাকার অস্থায়ী টার্মিনালে পৌঁছান, তখন একটু একটু করে ঘাট জমতে থাকে। ২০ জন যাত্রী যখন স্টিমারে ওঠেন, তখন ঐতিহ্যবাহী লাল গালিচা বিছিয়ে তাঁদের স্বাগত জানানো হয়। স্টিমারের নিচতলায় কর্মীরা তখন নাস্তার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, আর রান্নার গরম ভাপ ঘাটের কুয়াশার সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল।
এই স্টিমার যাত্রার এক বিশেষ আকর্ষণ হলো ফিশ ‘কাটলেট’। কবি হেনরী স্বপন জানান, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন তিনি তৃতীয় শ্রেণির যাত্রী হয়ে বই কিনতে ঢাকায় যেতেন (তখন ভাড়া ছিল প্রায় ৫০ টাকা), তখন সেই কাটলেটই ছিল তার প্রধান টান। কাটলেটের দাম তখন ভাড়ার চেয়েও বেশি ছিল। টুনা ও সামুদ্রিক মাছ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা এই কাটলেট পরিবেশন করা হতো কাটা চাকু, ছুরি ও সসের সঙ্গে।
এই নতুন যাত্রায়ও কাটলেট ছিল। এক যাত্রী ১৫০ টাকায় কাটলেট, ৫০০ টাকায় ব্রেকফাস্ট এবং ৫০০ টাকায় দুপুরের খাবার খান, যার মোট বিল দাঁড়ায় এক হাজার ২৩০ টাকা। যদিও বিলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, তবে কাটলেটের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার রাতের অন্ধকারে স্টিমার পৌঁছানোর কারণে অনেকে সেটি ভালোভাবে দেখতে পারেননি। তাই শনিবার সকাল থেকেই ঘাটে মানুষের ভিড় জমতে থাকে। কেউ ভিডিও করছিলেন, কেউ ছবি তুলছিলেন, আর কেউ চুপচাপ তাকিয়ে দেখছিলেন, যেন নদীর বুক থেকে ফিরে আসা কোনো পুরনো পরিচিত মুখ দেখছেন।
বিআইডাব্লিউটিসির পরিদর্শক জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, “আপাতত সংস্থাটিই স্টিমার পরিচালনা করছে। তবে দুই দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং লিজ মিলে গেলে এটি ‘হেরিটেজ ক্রুজ’ হিসেবে চলবে।”
বরিশাল শহরের বধ্যভূমিসংলগ্ন ত্রিশ গোডাউন এলাকার সকালটি তখনও নিস্তব্ধ। কীর্তনখোলার জলের ওপর কুয়াশার স্বচ্ছ পাতলা আস্তরণ। হঠাৎ সেই নিস্তব্ধতা চিরে ভেসে এলো পুরনো সুর, স্টিমারের সাইরেন। এই শব্দে মুহূর্তেই নদীর সকাল বদলে গেল।
যেন বহুদিনের ঘুম ভাঙল কীর্তনখোলার, আর শহরের মানুষের মনে টোকা দিল সঞ্চিত স্মৃতি।
এই ফিরে আসা স্টিমারটি হলো পিএস মাহসুদ, যা কেবল একটি পরিবহন নয়, বরিশালের মানুষের স্মৃতির সঙ্গে মিশে থাকা এক টুকরো ইতিহাস। ১৯৩৮ সালে নির্মিত স্টিমারটি ২০২০ সাল পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করেছে, এরপর নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এর যাত্রীসেবা থেমে যায়। সংস্কারের পর গত ১৫ নভেম্বর ঢাকার সদরঘাটে নৌপরিবহন উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন এটি উদ্বোধন করেন।
পিএস মাহসুদের চেহারা আজও ভারী ও রাজকীয়। এর কাঠের ডেক, পালের গঠন এবং ধাতব চাকা—সবকিছুই যেন কোনো জাদুঘরের স্মারক। তবে যাত্রীদের আরাম দিতে এর ভেতর নতুন করে সাজানো হয়েছে কেবিন, নিয়ন্ত্রণকক্ষ। নিশ্চিত করা হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।
একসময় ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে স্টিমারের ওপরই ছিল যাত্রীদের প্রধান ভরসা। ধীরে চলা, ডেকে রাত কাটানো এবং নদীর ভোর দেখার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছিল এক নদীসংলগ্ন সংস্কৃতি। বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্বাস উদ্দিন খান বন্ধুদের এগিয়ে দিতে এসে জানান, এই স্টিমারের সঙ্গে তাদের অনেক স্মৃতি জড়িত এবং ভিড় দেখলে তার ভালো লাগে।
৭৭ বছর বয়সী নার্গিস রফিকা রহমান ৬৩ বছর পর আবার ঢাকার পথে এই স্টিমারে উঠেছেন। তিনি বলেন, ‘১৯৬২ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় শেষবার উঠেছিলাম।
এত বছর পর নৌপথে কেমন লাগে, সব আবার দেখতে চাই।’
৫৫ বছর বয়সী রওশন আরা বেগম দীর্ঘক্ষণ স্টিমারের দিকে তাকিয়ে থাকার পর বলেন, ‘স্টিমার যেতে দেখলে বুকের ভেতর যেন টান পড়ে।’ তিনি মনে করিয়ে দেন, সময় বদলালেও নদী কিন্তু আগের মতোই আছে। দ্রুতগামী লঞ্চ ও উন্নত সড়কের ভিড়ে মানুষ এখনও ধীর লয়ের স্টিমার ভ্রমণের সেই শান্তি খুঁজে বেড়ায়, আর নদীর ভোরের আলোয় চোখ মেলার অনুভূতি চায়। কীর্তনখোলার বাতাসে আজও জীবনানন্দ দাশের সেই নদীর ভোর ভেসে থাকে।
প্রথম যাত্রার ফিরতি পথে স্টিমার পিএস মাহসুদ শনিবার সকালে রওনা দিয়ে রাতেই ঢাকায় পৌঁছেছে। বিআইডাব্লিউটিসির বরিশাল টার্মিনাল সুপারিনটেনডেন্ট সোহেল খান জানান, যাত্রীসংখ্যা ছিল ‘খুবই আশাব্যঞ্জক’। এই যাত্রায় প্রথম শ্রেণিতে ১৬ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে দুইজন এবং শোভন শ্রেণিতে দুইজন যাত্রী ছিলেন। ঢাকা থেকে বরিশালে আসা ১৪ জন যাত্রী ফিরতি পথে শনিবার রাতে ঢাকায় ফিরেছেন।
সাংবাদিকরা যখন সকালে ত্রিশ গোডাউন এলাকার অস্থায়ী টার্মিনালে পৌঁছান, তখন একটু একটু করে ঘাট জমতে থাকে। ২০ জন যাত্রী যখন স্টিমারে ওঠেন, তখন ঐতিহ্যবাহী লাল গালিচা বিছিয়ে তাঁদের স্বাগত জানানো হয়। স্টিমারের নিচতলায় কর্মীরা তখন নাস্তার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, আর রান্নার গরম ভাপ ঘাটের কুয়াশার সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল।
এই স্টিমার যাত্রার এক বিশেষ আকর্ষণ হলো ফিশ ‘কাটলেট’। কবি হেনরী স্বপন জানান, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন তিনি তৃতীয় শ্রেণির যাত্রী হয়ে বই কিনতে ঢাকায় যেতেন (তখন ভাড়া ছিল প্রায় ৫০ টাকা), তখন সেই কাটলেটই ছিল তার প্রধান টান। কাটলেটের দাম তখন ভাড়ার চেয়েও বেশি ছিল। টুনা ও সামুদ্রিক মাছ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা এই কাটলেট পরিবেশন করা হতো কাটা চাকু, ছুরি ও সসের সঙ্গে।
এই নতুন যাত্রায়ও কাটলেট ছিল। এক যাত্রী ১৫০ টাকায় কাটলেট, ৫০০ টাকায় ব্রেকফাস্ট এবং ৫০০ টাকায় দুপুরের খাবার খান, যার মোট বিল দাঁড়ায় এক হাজার ২৩০ টাকা। যদিও বিলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, তবে কাটলেটের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার রাতের অন্ধকারে স্টিমার পৌঁছানোর কারণে অনেকে সেটি ভালোভাবে দেখতে পারেননি। তাই শনিবার সকাল থেকেই ঘাটে মানুষের ভিড় জমতে থাকে। কেউ ভিডিও করছিলেন, কেউ ছবি তুলছিলেন, আর কেউ চুপচাপ তাকিয়ে দেখছিলেন, যেন নদীর বুক থেকে ফিরে আসা কোনো পুরনো পরিচিত মুখ দেখছেন।
বিআইডাব্লিউটিসির পরিদর্শক জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, “আপাতত সংস্থাটিই স্টিমার পরিচালনা করছে। তবে দুই দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং লিজ মিলে গেলে এটি ‘হেরিটেজ ক্রুজ’ হিসেবে চলবে।”

০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:২১

০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৪১
বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের একটি ব্রিজের রেলিং ভেঙে পণ্যবাহী ট্রাক খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ট্রাকটির চালক ও হেলপার আহত হলেও ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেছেন। তারা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে মহাসড়কের টরকী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নীলখোলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বরিশালগামী একটি মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নীলখোলা ব্রিজের রেলিং ভেঙে সরাসরি খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ট্রাকের ভেতর আটকে পড়া চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার তীব্রতা বেশি থাকলেও তারা দুজনেই সামান্য আঘাত পেয়ে প্রাণে রক্ষা পান।
এ বিষয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৩৯
হাম উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৩০ জন শিশু।
বৃহস্পতিবার (০৮ এপ্রিল) সকালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১২ জনে পৌঁছালো।
মৃতরা হলো: বরিশালের বাকেরগঞ্জের পান্না খানের পাঁচ মাস বয়সী ছেলে ইমাম ও বরগুনার আমতলীর আবু বকরের ৯ মাস বয়সী ছেলে আনু সালেহ। শেবাচিম হাসপাতালে বর্তমানে হাম সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে মোট ৯১ জন। আর ছাড়পত্র নিয়ে গেছে ২৭ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আজ ৯ এপ্রিল পর্যন্ত হাসপাতালটি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৩০১ জন।
এ দিকে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, এই রোগের উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন মোট ১০৮০ জন। যার মধ্যে ছাড়পত্র নিয়েছে ৬৩১ জন। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৫৭ জন।
এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাং শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, ‘হাম অতি ছোঁয়াচে সংক্রমণ ব্যাধি। এই রোগ যাতে দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য বিভাগের সব হাসপাতালে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি টিকা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।’
বরিশালের বানারীপাড়ায় যৌতুক না পেয়ে নির্মম নির্যাতন করে স্ত্রী মারিয়া আক্তারকে (১৮) হত্যা মামলার আসামী ঘাতক স্বামী রবিউল মৃধাকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত দুইটার দিকে রাজধানীর নন্দীপাড়ার ছোট বটতলার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে তাকে বানারীপাড়া থানায় নিয়ে আসার পরে বরিশাল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
বানারীপাড়া থানার ওসি মোঃ মজিবুর রহমান জানান, বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার জেড, এম মোস্তাফিজুর রহমানের দূরদর্শী দিক নির্দেশনায় গৃহবধু মারিয়া আক্তার মারা যাওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ঢাকা থেকে হত্যা মামলার মূল আসামী রবিউলকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি।এর আগে বুধবার রাতে নিহত মারিয়া আক্তারের পিতা হুমায়ুন কবির হাওলাদার বাদী হয়ে মেয়ে জামাতা রবিউলকে প্রধান আসামী ও ৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে বানারীপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রসঙ্গত, বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির হাওলাদারের মেয়ে মারিয়া আক্তারের সঙ্গে প্রায় তিন বছর আগে একই এলাকার রবিউল মৃধার পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয়।
তাদের সংসারে দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। জীবিকার তাগিদে তারা রাজধানী ঢাকায় নন্দীপাড়ার ছোট বটতলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। রবিউল সেখানে লেগুনা গাড়ির চালক।
যৌতুকের টাকার দাবি পূরণ ও বিয়ের সময়ে প্রতিশ্রুত স্বর্নের কানের দুল দিতে না পারা এবং মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে রবিউল স্ত্রী মারিয়াকে মানসিক ও শারিরীকভাবে নির্যাতন করতেন।
স্ত্রীকে নির্যাতনে রবিউলকে তার মা ও বোন ইন্ধন যোগাতেন। রমজান মাসে রবিউল তার স্ত্রী মারিয়াকে বাবার বাড়ি থেকে ১৫ হাজার টাকা এনে দিতে বলেন। চা দোকানী দরিদ্র বাবার কাছ থেকে টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং বাসায় বসে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় তাকে প্রায়ই মারধর করা হতো।
এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (৪ এপ্রিল) রবিউল মৃধা স্ত্রী মারিয়াকে অমানবিকভাবে মারধর করে। এ সময় পিটিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। , এমনকি তার সংবেদনশীল অঙ্গেও আঘাতের অভিযোগ রয়েছে।
নির্মম নির্যাতনের পরে তাকে কোন চিকিৎসাও করানো হয়নি। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় বাসায় ফেলে রাখা হয়। অসুস্থতার কারনে বাসায় রান্না করতে না পারায় দ্বিতীয় দফা তাকে মারধর করা হয়।
মারিয়ার গুরুতর অসুস্থ অবস্থার খবর পেয়ে তার মা হাফিজা বেগম ঢাকায় ছুঁটে যান। সেখান থেকে বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে গুরুতর আহত মারিয়াকে বানারীপাড়ায় পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
বাড়িতে আসার পর অবস্থার অবনতি ঘটলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসার পর চিকিৎসাধিন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সেখানে ময়না তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জানাজা শেষে তার মরদেহ বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে মারিয়ার ঘাতক রবিউল মৃধা অল্প সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়ায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা ঘাতকের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
বরিশালের বানারীপাড়ায় যৌতুক না পেয়ে নির্মম নির্যাতন করে স্ত্রী মারিয়া আক্তারকে (১৮) হত্যা মামলার আসামী ঘাতক স্বামী রবিউল মৃধাকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত দুইটার দিকে রাজধানীর নন্দীপাড়ার ছোট বটতলার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে তাকে বানারীপাড়া থানায় নিয়ে আসার পরে বরিশাল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
বানারীপাড়া থানার ওসি মোঃ মজিবুর রহমান জানান, বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার জেড, এম মোস্তাফিজুর রহমানের দূরদর্শী দিক নির্দেশনায় গৃহবধু মারিয়া আক্তার মারা যাওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ঢাকা থেকে হত্যা মামলার মূল আসামী রবিউলকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি।এর আগে বুধবার রাতে নিহত মারিয়া আক্তারের পিতা হুমায়ুন কবির হাওলাদার বাদী হয়ে মেয়ে জামাতা রবিউলকে প্রধান আসামী ও ৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে বানারীপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রসঙ্গত, বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির হাওলাদারের মেয়ে মারিয়া আক্তারের সঙ্গে প্রায় তিন বছর আগে একই এলাকার রবিউল মৃধার পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয়।
তাদের সংসারে দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। জীবিকার তাগিদে তারা রাজধানী ঢাকায় নন্দীপাড়ার ছোট বটতলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। রবিউল সেখানে লেগুনা গাড়ির চালক।
যৌতুকের টাকার দাবি পূরণ ও বিয়ের সময়ে প্রতিশ্রুত স্বর্নের কানের দুল দিতে না পারা এবং মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে রবিউল স্ত্রী মারিয়াকে মানসিক ও শারিরীকভাবে নির্যাতন করতেন।
স্ত্রীকে নির্যাতনে রবিউলকে তার মা ও বোন ইন্ধন যোগাতেন। রমজান মাসে রবিউল তার স্ত্রী মারিয়াকে বাবার বাড়ি থেকে ১৫ হাজার টাকা এনে দিতে বলেন। চা দোকানী দরিদ্র বাবার কাছ থেকে টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং বাসায় বসে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় তাকে প্রায়ই মারধর করা হতো।
এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (৪ এপ্রিল) রবিউল মৃধা স্ত্রী মারিয়াকে অমানবিকভাবে মারধর করে। এ সময় পিটিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। , এমনকি তার সংবেদনশীল অঙ্গেও আঘাতের অভিযোগ রয়েছে।
নির্মম নির্যাতনের পরে তাকে কোন চিকিৎসাও করানো হয়নি। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় বাসায় ফেলে রাখা হয়। অসুস্থতার কারনে বাসায় রান্না করতে না পারায় দ্বিতীয় দফা তাকে মারধর করা হয়।
মারিয়ার গুরুতর অসুস্থ অবস্থার খবর পেয়ে তার মা হাফিজা বেগম ঢাকায় ছুঁটে যান। সেখান থেকে বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে গুরুতর আহত মারিয়াকে বানারীপাড়ায় পূর্ব সলিয়াবাকপুর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
বাড়িতে আসার পর অবস্থার অবনতি ঘটলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসার পর চিকিৎসাধিন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সেখানে ময়না তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জানাজা শেষে তার মরদেহ বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে মারিয়ার ঘাতক রবিউল মৃধা অল্প সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়ায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা ঘাতকের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের একটি ব্রিজের রেলিং ভেঙে পণ্যবাহী ট্রাক খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ট্রাকটির চালক ও হেলপার আহত হলেও ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেছেন। তারা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে মহাসড়কের টরকী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নীলখোলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বরিশালগামী একটি মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নীলখোলা ব্রিজের রেলিং ভেঙে সরাসরি খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ট্রাকের ভেতর আটকে পড়া চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার তীব্রতা বেশি থাকলেও তারা দুজনেই সামান্য আঘাত পেয়ে প্রাণে রক্ষা পান।
এ বিষয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
হাম উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৩০ জন শিশু।
বৃহস্পতিবার (০৮ এপ্রিল) সকালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১২ জনে পৌঁছালো।
মৃতরা হলো: বরিশালের বাকেরগঞ্জের পান্না খানের পাঁচ মাস বয়সী ছেলে ইমাম ও বরগুনার আমতলীর আবু বকরের ৯ মাস বয়সী ছেলে আনু সালেহ। শেবাচিম হাসপাতালে বর্তমানে হাম সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে মোট ৯১ জন। আর ছাড়পত্র নিয়ে গেছে ২৭ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আজ ৯ এপ্রিল পর্যন্ত হাসপাতালটি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৩০১ জন।
এ দিকে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, এই রোগের উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন মোট ১০৮০ জন। যার মধ্যে ছাড়পত্র নিয়েছে ৬৩১ জন। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৫৭ জন।
এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাং শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, ‘হাম অতি ছোঁয়াচে সংক্রমণ ব্যাধি। এই রোগ যাতে দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য বিভাগের সব হাসপাতালে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি টিকা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।’
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৪১
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:২১
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:১০
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:০৬