
৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৩:০১
বরিশাল শহরের বধ্যভূমিসংলগ্ন ত্রিশ গোডাউন এলাকার সকালটি তখনও নিস্তব্ধ। কীর্তনখোলার জলের ওপর কুয়াশার স্বচ্ছ পাতলা আস্তরণ। হঠাৎ সেই নিস্তব্ধতা চিরে ভেসে এলো পুরনো সুর, স্টিমারের সাইরেন। এই শব্দে মুহূর্তেই নদীর সকাল বদলে গেল।
যেন বহুদিনের ঘুম ভাঙল কীর্তনখোলার, আর শহরের মানুষের মনে টোকা দিল সঞ্চিত স্মৃতি।
এই ফিরে আসা স্টিমারটি হলো পিএস মাহসুদ, যা কেবল একটি পরিবহন নয়, বরিশালের মানুষের স্মৃতির সঙ্গে মিশে থাকা এক টুকরো ইতিহাস। ১৯৩৮ সালে নির্মিত স্টিমারটি ২০২০ সাল পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করেছে, এরপর নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এর যাত্রীসেবা থেমে যায়। সংস্কারের পর গত ১৫ নভেম্বর ঢাকার সদরঘাটে নৌপরিবহন উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন এটি উদ্বোধন করেন।
পিএস মাহসুদের চেহারা আজও ভারী ও রাজকীয়। এর কাঠের ডেক, পালের গঠন এবং ধাতব চাকা—সবকিছুই যেন কোনো জাদুঘরের স্মারক। তবে যাত্রীদের আরাম দিতে এর ভেতর নতুন করে সাজানো হয়েছে কেবিন, নিয়ন্ত্রণকক্ষ। নিশ্চিত করা হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।
একসময় ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে স্টিমারের ওপরই ছিল যাত্রীদের প্রধান ভরসা। ধীরে চলা, ডেকে রাত কাটানো এবং নদীর ভোর দেখার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছিল এক নদীসংলগ্ন সংস্কৃতি। বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্বাস উদ্দিন খান বন্ধুদের এগিয়ে দিতে এসে জানান, এই স্টিমারের সঙ্গে তাদের অনেক স্মৃতি জড়িত এবং ভিড় দেখলে তার ভালো লাগে।
৭৭ বছর বয়সী নার্গিস রফিকা রহমান ৬৩ বছর পর আবার ঢাকার পথে এই স্টিমারে উঠেছেন। তিনি বলেন, ‘১৯৬২ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় শেষবার উঠেছিলাম।
এত বছর পর নৌপথে কেমন লাগে, সব আবার দেখতে চাই।’
৫৫ বছর বয়সী রওশন আরা বেগম দীর্ঘক্ষণ স্টিমারের দিকে তাকিয়ে থাকার পর বলেন, ‘স্টিমার যেতে দেখলে বুকের ভেতর যেন টান পড়ে।’ তিনি মনে করিয়ে দেন, সময় বদলালেও নদী কিন্তু আগের মতোই আছে। দ্রুতগামী লঞ্চ ও উন্নত সড়কের ভিড়ে মানুষ এখনও ধীর লয়ের স্টিমার ভ্রমণের সেই শান্তি খুঁজে বেড়ায়, আর নদীর ভোরের আলোয় চোখ মেলার অনুভূতি চায়। কীর্তনখোলার বাতাসে আজও জীবনানন্দ দাশের সেই নদীর ভোর ভেসে থাকে।
প্রথম যাত্রার ফিরতি পথে স্টিমার পিএস মাহসুদ শনিবার সকালে রওনা দিয়ে রাতেই ঢাকায় পৌঁছেছে। বিআইডাব্লিউটিসির বরিশাল টার্মিনাল সুপারিনটেনডেন্ট সোহেল খান জানান, যাত্রীসংখ্যা ছিল ‘খুবই আশাব্যঞ্জক’। এই যাত্রায় প্রথম শ্রেণিতে ১৬ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে দুইজন এবং শোভন শ্রেণিতে দুইজন যাত্রী ছিলেন। ঢাকা থেকে বরিশালে আসা ১৪ জন যাত্রী ফিরতি পথে শনিবার রাতে ঢাকায় ফিরেছেন।
সাংবাদিকরা যখন সকালে ত্রিশ গোডাউন এলাকার অস্থায়ী টার্মিনালে পৌঁছান, তখন একটু একটু করে ঘাট জমতে থাকে। ২০ জন যাত্রী যখন স্টিমারে ওঠেন, তখন ঐতিহ্যবাহী লাল গালিচা বিছিয়ে তাঁদের স্বাগত জানানো হয়। স্টিমারের নিচতলায় কর্মীরা তখন নাস্তার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, আর রান্নার গরম ভাপ ঘাটের কুয়াশার সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল।
এই স্টিমার যাত্রার এক বিশেষ আকর্ষণ হলো ফিশ ‘কাটলেট’। কবি হেনরী স্বপন জানান, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন তিনি তৃতীয় শ্রেণির যাত্রী হয়ে বই কিনতে ঢাকায় যেতেন (তখন ভাড়া ছিল প্রায় ৫০ টাকা), তখন সেই কাটলেটই ছিল তার প্রধান টান। কাটলেটের দাম তখন ভাড়ার চেয়েও বেশি ছিল। টুনা ও সামুদ্রিক মাছ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা এই কাটলেট পরিবেশন করা হতো কাটা চাকু, ছুরি ও সসের সঙ্গে।
এই নতুন যাত্রায়ও কাটলেট ছিল। এক যাত্রী ১৫০ টাকায় কাটলেট, ৫০০ টাকায় ব্রেকফাস্ট এবং ৫০০ টাকায় দুপুরের খাবার খান, যার মোট বিল দাঁড়ায় এক হাজার ২৩০ টাকা। যদিও বিলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, তবে কাটলেটের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার রাতের অন্ধকারে স্টিমার পৌঁছানোর কারণে অনেকে সেটি ভালোভাবে দেখতে পারেননি। তাই শনিবার সকাল থেকেই ঘাটে মানুষের ভিড় জমতে থাকে। কেউ ভিডিও করছিলেন, কেউ ছবি তুলছিলেন, আর কেউ চুপচাপ তাকিয়ে দেখছিলেন, যেন নদীর বুক থেকে ফিরে আসা কোনো পুরনো পরিচিত মুখ দেখছেন।
বিআইডাব্লিউটিসির পরিদর্শক জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, “আপাতত সংস্থাটিই স্টিমার পরিচালনা করছে। তবে দুই দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং লিজ মিলে গেলে এটি ‘হেরিটেজ ক্রুজ’ হিসেবে চলবে।”
বরিশাল শহরের বধ্যভূমিসংলগ্ন ত্রিশ গোডাউন এলাকার সকালটি তখনও নিস্তব্ধ। কীর্তনখোলার জলের ওপর কুয়াশার স্বচ্ছ পাতলা আস্তরণ। হঠাৎ সেই নিস্তব্ধতা চিরে ভেসে এলো পুরনো সুর, স্টিমারের সাইরেন। এই শব্দে মুহূর্তেই নদীর সকাল বদলে গেল।
যেন বহুদিনের ঘুম ভাঙল কীর্তনখোলার, আর শহরের মানুষের মনে টোকা দিল সঞ্চিত স্মৃতি।
এই ফিরে আসা স্টিমারটি হলো পিএস মাহসুদ, যা কেবল একটি পরিবহন নয়, বরিশালের মানুষের স্মৃতির সঙ্গে মিশে থাকা এক টুকরো ইতিহাস। ১৯৩৮ সালে নির্মিত স্টিমারটি ২০২০ সাল পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করেছে, এরপর নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এর যাত্রীসেবা থেমে যায়। সংস্কারের পর গত ১৫ নভেম্বর ঢাকার সদরঘাটে নৌপরিবহন উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন এটি উদ্বোধন করেন।
পিএস মাহসুদের চেহারা আজও ভারী ও রাজকীয়। এর কাঠের ডেক, পালের গঠন এবং ধাতব চাকা—সবকিছুই যেন কোনো জাদুঘরের স্মারক। তবে যাত্রীদের আরাম দিতে এর ভেতর নতুন করে সাজানো হয়েছে কেবিন, নিয়ন্ত্রণকক্ষ। নিশ্চিত করা হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।
একসময় ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে স্টিমারের ওপরই ছিল যাত্রীদের প্রধান ভরসা। ধীরে চলা, ডেকে রাত কাটানো এবং নদীর ভোর দেখার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছিল এক নদীসংলগ্ন সংস্কৃতি। বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্বাস উদ্দিন খান বন্ধুদের এগিয়ে দিতে এসে জানান, এই স্টিমারের সঙ্গে তাদের অনেক স্মৃতি জড়িত এবং ভিড় দেখলে তার ভালো লাগে।
৭৭ বছর বয়সী নার্গিস রফিকা রহমান ৬৩ বছর পর আবার ঢাকার পথে এই স্টিমারে উঠেছেন। তিনি বলেন, ‘১৯৬২ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় শেষবার উঠেছিলাম।
এত বছর পর নৌপথে কেমন লাগে, সব আবার দেখতে চাই।’
৫৫ বছর বয়সী রওশন আরা বেগম দীর্ঘক্ষণ স্টিমারের দিকে তাকিয়ে থাকার পর বলেন, ‘স্টিমার যেতে দেখলে বুকের ভেতর যেন টান পড়ে।’ তিনি মনে করিয়ে দেন, সময় বদলালেও নদী কিন্তু আগের মতোই আছে। দ্রুতগামী লঞ্চ ও উন্নত সড়কের ভিড়ে মানুষ এখনও ধীর লয়ের স্টিমার ভ্রমণের সেই শান্তি খুঁজে বেড়ায়, আর নদীর ভোরের আলোয় চোখ মেলার অনুভূতি চায়। কীর্তনখোলার বাতাসে আজও জীবনানন্দ দাশের সেই নদীর ভোর ভেসে থাকে।
প্রথম যাত্রার ফিরতি পথে স্টিমার পিএস মাহসুদ শনিবার সকালে রওনা দিয়ে রাতেই ঢাকায় পৌঁছেছে। বিআইডাব্লিউটিসির বরিশাল টার্মিনাল সুপারিনটেনডেন্ট সোহেল খান জানান, যাত্রীসংখ্যা ছিল ‘খুবই আশাব্যঞ্জক’। এই যাত্রায় প্রথম শ্রেণিতে ১৬ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে দুইজন এবং শোভন শ্রেণিতে দুইজন যাত্রী ছিলেন। ঢাকা থেকে বরিশালে আসা ১৪ জন যাত্রী ফিরতি পথে শনিবার রাতে ঢাকায় ফিরেছেন।
সাংবাদিকরা যখন সকালে ত্রিশ গোডাউন এলাকার অস্থায়ী টার্মিনালে পৌঁছান, তখন একটু একটু করে ঘাট জমতে থাকে। ২০ জন যাত্রী যখন স্টিমারে ওঠেন, তখন ঐতিহ্যবাহী লাল গালিচা বিছিয়ে তাঁদের স্বাগত জানানো হয়। স্টিমারের নিচতলায় কর্মীরা তখন নাস্তার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, আর রান্নার গরম ভাপ ঘাটের কুয়াশার সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল।
এই স্টিমার যাত্রার এক বিশেষ আকর্ষণ হলো ফিশ ‘কাটলেট’। কবি হেনরী স্বপন জানান, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন তিনি তৃতীয় শ্রেণির যাত্রী হয়ে বই কিনতে ঢাকায় যেতেন (তখন ভাড়া ছিল প্রায় ৫০ টাকা), তখন সেই কাটলেটই ছিল তার প্রধান টান। কাটলেটের দাম তখন ভাড়ার চেয়েও বেশি ছিল। টুনা ও সামুদ্রিক মাছ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা এই কাটলেট পরিবেশন করা হতো কাটা চাকু, ছুরি ও সসের সঙ্গে।
এই নতুন যাত্রায়ও কাটলেট ছিল। এক যাত্রী ১৫০ টাকায় কাটলেট, ৫০০ টাকায় ব্রেকফাস্ট এবং ৫০০ টাকায় দুপুরের খাবার খান, যার মোট বিল দাঁড়ায় এক হাজার ২৩০ টাকা। যদিও বিলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, তবে কাটলেটের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার রাতের অন্ধকারে স্টিমার পৌঁছানোর কারণে অনেকে সেটি ভালোভাবে দেখতে পারেননি। তাই শনিবার সকাল থেকেই ঘাটে মানুষের ভিড় জমতে থাকে। কেউ ভিডিও করছিলেন, কেউ ছবি তুলছিলেন, আর কেউ চুপচাপ তাকিয়ে দেখছিলেন, যেন নদীর বুক থেকে ফিরে আসা কোনো পুরনো পরিচিত মুখ দেখছেন।
বিআইডাব্লিউটিসির পরিদর্শক জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, “আপাতত সংস্থাটিই স্টিমার পরিচালনা করছে। তবে দুই দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং লিজ মিলে গেলে এটি ‘হেরিটেজ ক্রুজ’ হিসেবে চলবে।”

৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ২১:২০
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মরত ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের বহুল প্রতীক্ষিত ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে দুই ঘণ্টাব্যাপী কর্মবিরতি পালিত হয়েছে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এ কর্মবিরতি পালিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বিএমটিএ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি হাসান মাহামুদ, সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান শিপলু, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক কিবরিয়া টিপু, সদস্য ইমতিয়াজ সোবাহান, জাহিদ হোসেন, সাইফুল ইসলাম লিটনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সমাবেশে নেতারা বলেন, দ্রুত ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে সারা দেশব্যাপী আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মরত ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের বহুল প্রতীক্ষিত ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে দুই ঘণ্টাব্যাপী কর্মবিরতি পালিত হয়েছে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এ কর্মবিরতি পালিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বিএমটিএ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি হাসান মাহামুদ, সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান শিপলু, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক কিবরিয়া টিপু, সদস্য ইমতিয়াজ সোবাহান, জাহিদ হোসেন, সাইফুল ইসলাম লিটনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সমাবেশে নেতারা বলেন, দ্রুত ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে সারা দেশব্যাপী আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৯:৩৬
গত চার দিন ধরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যাল ক্যাম্পাসে চাপা অস্বস্তি বিরাজ করছিল সেখানকার শিক্ষার্থীদের জন্য। আজ রবিবার (৩০ নভেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক নবীন শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগে সেই অস্বস্তি এবার বিস্ফোরিত।
নবীন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, একদল সিনিয়র শিক্ষার্থীর হাতে তিনি র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন। রাতভর অপমান, ঠাট্টা আর ভয় দেখানো হয়েছে তাকে। সবকিছু মিলিয়ে তার সঙ্গে যা ঘটেছে তা নবীন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম অধ্যায়কে রীতিমতো দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে ক্যাম্পাসের বাইরে। অভিযোগকারী আল শাহারিয়ার মোহাম্মদ মুস্তাকিম মজুমদার বিভাগটির ১১তম ব্যাচের ছাত্র। রবিবার দুপুরে তিনি উপাচার্য, প্রক্টর এবং বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে তিনটি পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সেই অভিযোগে নাম উঠে এসেছে দশম ব্যাচের পাঁচ শিক্ষার্থীর। তারা হলেন নাফিজ ফারদিন আকন্দ স্বপ্নীল, মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন, ইমন মাহমুদ, নেহাল আহমেদ ও মিরাজ।
অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ‘বুধবার রাত ৮টার দিকে সিনিয়রদের নির্দেশে রুপাতলী হাউজিং মাঠে পৌঁছাই। আমরা ছিলাম ২৮ জন।
সেখান থেকে বাসে তুলে টোল প্লাজার পাশের এক বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। কক্ষে তুলেই গেট বন্ধ। তারপর সব মোবাইল, ডিভাইস বাজেয়াপ্ত, যেন কোনো প্রমাণ না থাকে।’ এরপর শুরু হয়, অভিযোগকারীর ভাষায় ‘অমানবিক মানসিক নির্যাতন’। কখনো কবিতা আবৃত্তি করতে বাধ্য করা, না করলে ‘মেন্টাল’ আখ্যা দেওয়া, বাবা-মাকে নিয়ে অশ্রাব্য মন্তব্য।
কখনো অভিনয়ের নামে সহপাঠীদের নিয়ে অশোভন দৃশ্য তৈরি করতে চাপ। চোখে জল দেখলে কটূক্তি, ‘সিম্পেথি পেতে কান্না করছিস?’ এমনকি লাঠি এনে মারার ভয় দেখানো হয়।
অভিযোগ আরো এগিয়ে যায়। বলা হয়, ছোট প্যান্ট পরিয়ে নাচতে বলা হয়েছে। প্রস্রাবের জন্য ওয়াশরুমে যেতে চাইলে দেওয়া হয়েছে বোতল, ‘এখানেই করো’। এমনকি দরজা খুলে রেখে ওয়াশরুম ব্যবহার করতে চাপ দেওয়া হয়। শীতের রাতে শার্ট খুলতে বাধ্য করা হয়। শেষে বিস্কুট দিয়ে বলা হয়, ‘কুকুরের মতো চেটে খা’। অভিযোগকারী বলেন, ‘এত অপমানের পর আর নিজেকে সামলাতে পারিনি, বসে বসে কাঁদছিলাম।’
অভিযুক্তদের একজন মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন অবশ্য সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, ‘জুনিয়রদের নিয়ে পিকনিক করছিলাম। একটু রাগারাগি হয়েছে, ব্যাস। র্যাগিং নয়।’
ববি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। র্যাগিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের নীতি স্পষ্ট, আর তা হচ্ছে জিরো টলারেন্স। তদন্ত কমিটি হচ্ছে। প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা কঠোরই হবে।’
গত চার দিন ধরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যাল ক্যাম্পাসে চাপা অস্বস্তি বিরাজ করছিল সেখানকার শিক্ষার্থীদের জন্য। আজ রবিবার (৩০ নভেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক নবীন শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগে সেই অস্বস্তি এবার বিস্ফোরিত।
নবীন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, একদল সিনিয়র শিক্ষার্থীর হাতে তিনি র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন। রাতভর অপমান, ঠাট্টা আর ভয় দেখানো হয়েছে তাকে। সবকিছু মিলিয়ে তার সঙ্গে যা ঘটেছে তা নবীন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম অধ্যায়কে রীতিমতো দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে ক্যাম্পাসের বাইরে। অভিযোগকারী আল শাহারিয়ার মোহাম্মদ মুস্তাকিম মজুমদার বিভাগটির ১১তম ব্যাচের ছাত্র। রবিবার দুপুরে তিনি উপাচার্য, প্রক্টর এবং বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে তিনটি পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সেই অভিযোগে নাম উঠে এসেছে দশম ব্যাচের পাঁচ শিক্ষার্থীর। তারা হলেন নাফিজ ফারদিন আকন্দ স্বপ্নীল, মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন, ইমন মাহমুদ, নেহাল আহমেদ ও মিরাজ।
অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ‘বুধবার রাত ৮টার দিকে সিনিয়রদের নির্দেশে রুপাতলী হাউজিং মাঠে পৌঁছাই। আমরা ছিলাম ২৮ জন।
সেখান থেকে বাসে তুলে টোল প্লাজার পাশের এক বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। কক্ষে তুলেই গেট বন্ধ। তারপর সব মোবাইল, ডিভাইস বাজেয়াপ্ত, যেন কোনো প্রমাণ না থাকে।’ এরপর শুরু হয়, অভিযোগকারীর ভাষায় ‘অমানবিক মানসিক নির্যাতন’। কখনো কবিতা আবৃত্তি করতে বাধ্য করা, না করলে ‘মেন্টাল’ আখ্যা দেওয়া, বাবা-মাকে নিয়ে অশ্রাব্য মন্তব্য।
কখনো অভিনয়ের নামে সহপাঠীদের নিয়ে অশোভন দৃশ্য তৈরি করতে চাপ। চোখে জল দেখলে কটূক্তি, ‘সিম্পেথি পেতে কান্না করছিস?’ এমনকি লাঠি এনে মারার ভয় দেখানো হয়।
অভিযোগ আরো এগিয়ে যায়। বলা হয়, ছোট প্যান্ট পরিয়ে নাচতে বলা হয়েছে। প্রস্রাবের জন্য ওয়াশরুমে যেতে চাইলে দেওয়া হয়েছে বোতল, ‘এখানেই করো’। এমনকি দরজা খুলে রেখে ওয়াশরুম ব্যবহার করতে চাপ দেওয়া হয়। শীতের রাতে শার্ট খুলতে বাধ্য করা হয়। শেষে বিস্কুট দিয়ে বলা হয়, ‘কুকুরের মতো চেটে খা’। অভিযোগকারী বলেন, ‘এত অপমানের পর আর নিজেকে সামলাতে পারিনি, বসে বসে কাঁদছিলাম।’
অভিযুক্তদের একজন মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন অবশ্য সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, ‘জুনিয়রদের নিয়ে পিকনিক করছিলাম। একটু রাগারাগি হয়েছে, ব্যাস। র্যাগিং নয়।’
ববি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। র্যাগিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের নীতি স্পষ্ট, আর তা হচ্ছে জিরো টলারেন্স। তদন্ত কমিটি হচ্ছে। প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা কঠোরই হবে।’

৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৭:১১
বরিশালে যোগদান করেছেন সদ্য পদায়নকৃত জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম।
আজ রোববার (৩০ নভেম্বর) তিনি বরিশাল পুলিশ সুপার কার্যালয়ে দায়িত্বভার গ্রহন করেন। দায়িত্ব গ্রহন অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারগণ ছাড়াও দপ্তরটির সকাল পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি জেলার বিভিন্ন থানার ইনচার্যসহ ঊর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা সভায় মিলিত হন। তিনি জেলার আইন শৃঙ্খলা সহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এসময় পুলিশ সুপার আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশ সদস্যদের প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানান।
বরিশালে যোগদান করেছেন সদ্য পদায়নকৃত জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম।
আজ রোববার (৩০ নভেম্বর) তিনি বরিশাল পুলিশ সুপার কার্যালয়ে দায়িত্বভার গ্রহন করেন। দায়িত্ব গ্রহন অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারগণ ছাড়াও দপ্তরটির সকাল পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি জেলার বিভিন্ন থানার ইনচার্যসহ ঊর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা সভায় মিলিত হন। তিনি জেলার আইন শৃঙ্খলা সহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এসময় পুলিশ সুপার আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশ সদস্যদের প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানান।

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.