বরিশালের বাকেরগঞ্জে প্রবাসীর মালিকানাধীন বাড়িতে গিয়ে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মিজান মিয়া সদলবলে গিয়ে ভুক্তভোগী শিমু বেগমকে ভয়ভীতি দেখানোসহ তাদের গ্রামছাড়া করার হুমকি দিয়েছেন। এই ঘটনায় শনিবার (১ নভেম্বর) বেলা ১২ টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির হলরুমে ভুক্তভোগী নারী সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বর্ণনা দেওয়াসহ এর স্বপক্ষে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সাংবাদিকদের কাছে উপস্থাপন করেন।
বাকেরগঞ্জ থানার দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শিমু বেগম সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, ২০২২ সালে তিনি নিজ উদ্যোগে দাঁড়িয়াল গ্রামে একটি ভবন নির্মাণ করেন, যার মালিক তার বড় মেয়ে জাহিদা আক্তার। বাড়ি নির্মাণের পর থেকে তার স্বামী বজলু হাওলাদার ভবনটি নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। এ বিষয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুজ্জামান মিজান মিয়ার চাপের মুখে মামলাটি তিনি তুলে নিতে বাধ্য হন।
শিমু বেগমের অভিযোগ, গত ২২ অক্টোবর তার মেয়ে জাহিদা আক্তার প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর থেকে বজলু হাওলাদার ও তার সহযোগীরা তাদের কাছে নানা অজুহাতে অর্থ দাবি করতে থাকেন। এবং সবশেষে গত শুক্রবার সকালে কামরুজ্জামান মিজান মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন লোক তাদের বাড়িতে গিয়ে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করাসহ ভবনটি বজলু হাওলাদারের নামে লিখে দিতে চাপপ্রয়োগ করেন।
শিমু বেগম জানান, এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাদেরকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করা হয়। গ্রামবাসীর সম্মুখে এই ধরনের অসভ্য আচরণে তিনি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হন। পরবর্তীতে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা চাওয়ার প্রস্তুতি নিলে বিষয়টি টের পেয়ে বজলু হাওলাদার এবং মিজান মিয়া টাকা চাওয়াসহ ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। এবং হুমকি দেন টাকা না দিলে বাড়ির পাশাপাশি শিমু বেগমকে এলাকাও ছেড়ে চলে যেতে হবে।
বিএনপি নেতার হুমকিতে আছেন জানিয়ে শিমু বেগম বলেন, তার দ্বিতীয় স্বামী বজলু হাওলাদারের সঙ্গে প্রায় এক বছর আগে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তবুও তিনি এখনো বাড়ির মালিকানা দাবি করছেন এবং এতে বিএনপি নেতা মিজান মিয়া তার পক্ষালম্বন করেছেন।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মিজান মিয়া বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির আহ্বায়ক মনোনয়নপ্রত্যাশী আবুল হোসেন খানের ঘনিষ্ঠ অনুসারী। এই বিষয়ে জানতে সাবেক এমপি
আবুল হোসেন খানের মুঠোফোন একাধিকবার কল করলেও অপরপ্রান্ত থেকে সাড়া মেলেলি। এমনকি তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়েও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে আনীত সকল অভিযোগসমূহ অস্বীকার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুজ্জামান মিজান মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই নারীর একাধিক বিয়ে হয়েছে। বজলু আমার পাশের গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই নারীকে বছরে তিনবার তালাক দিয়েছে। আর যে বাড়ির কথা বলা হচ্ছে, সেটি বজলুর নিজের জমির ওপর নির্মিত। তাই বজলু তার মালিকানা বুঝে নিতে চাইছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওই নারী পাশের এলাকার কামাল মাস্টারের সঙ্গে পরকীয়ার পর তাকে বিয়ে করেছেন। কিন্তু তিনি সেই স্বামীর বাড়ি যান না।’
তাদের এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে মিজান মিয়া বলেন, ‘যেহেতু তার বজলুর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে, তাই ওই নারীকে বলেছি, কামাল মাস্টারের সঙ্গে গিয়ে থাকুক।’
৪০ লাখ টাকার দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি ৩১ অক্টোবর তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম শালিসিতে। বজলু বলেছেন, বাড়ি করতে ৬৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে, ওই নারী দিয়েছে ২৮ লাখ টাকা। এখন যদি ওই বাড়িতে বজলুকে থাকতে না দেন, তাহলে তার পাওনা ৪০ লাখ টাকা দিয়ে দেবেন। এখানে কোনো চাঁদা দাবি করা হয়নি।’
বজলু হাওলাদার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়েছে। আমি ১৯৯৮ সাল থেকে ব্যবসা করি। ২০১৯ সালে এই বাড়ি করতে গিয়ে বাবার সম্পত্তি বিক্রি করেছি। এখন সেই বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘তাদের বলা হয়েছে, তারা তাদের অংশ নিয়ে যাবে, আর আমি যা পাই বুঝে নেব। কিন্তু তারা কোনো শালিস মানে না।’

১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:২৫
বরিশাল নগরীর চৌমাথা এলাকায় মহাসড়ক ও ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে পরিচালিত ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে চৌমাথা বাজারের সামনের অংশ থেকে এ অভিযান শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে বাজারসংলগ্ন এলাকা, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের সামনের অংশ এবং চৌমাথা লেক এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ শাখার প্রধান লতিকুল্লাহ, ট্রেড লাইসেন্স বিভাগের আজিজ শাহীন এবং হাটবাজার শাখার প্রধান রেজাউল উপস্থিত ছিলেন।
বিসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামান বলেন, নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করে জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে চৌমাথা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়েছে। নগরীর সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত রাখার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নগরীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকাও পরিবহনকেন্দ্রসহ অন্যান্য স্থানে অবৈধ দখল ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামান বরিশাল টাইমসকে বলেন, “রূপাতলী ও নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়ক ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান দখল করে অবৈধ দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থানে জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি, উচ্ছেদের পর সড়ক ও ফুটপাত পুনরায় দখলমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌমাথা এলাকায় এর আগেও একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে সিটি করপোরেশন। তবে অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই পুনরায় ফুটপাত ও মহাসড়কের অংশবিশেষ দখল করে ব্যবসা পরিচালনার প্রবণতা দেখা যায়। এতে উচ্ছেদ কার্যক্রমের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ফুটপাত দখল থাকায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এ এলাকায় মহাসড়ক ও ফুটপাতের ওপর অবৈধ দখল স্থায়ীভাবে নিরসনে নিয়মিত তদারকি জোরদার এবং উচ্ছেদ-পরবর্তী সময়ে পুনর্দখল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বরিশাল নগরীর চৌমাথা এলাকায় মহাসড়ক ও ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে পরিচালিত ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে চৌমাথা বাজারের সামনের অংশ থেকে এ অভিযান শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে বাজারসংলগ্ন এলাকা, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের সামনের অংশ এবং চৌমাথা লেক এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ শাখার প্রধান লতিকুল্লাহ, ট্রেড লাইসেন্স বিভাগের আজিজ শাহীন এবং হাটবাজার শাখার প্রধান রেজাউল উপস্থিত ছিলেন।
বিসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামান বলেন, নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করে জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে চৌমাথা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়েছে। নগরীর সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত রাখার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নগরীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকাও পরিবহনকেন্দ্রসহ অন্যান্য স্থানে অবৈধ দখল ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামান বরিশাল টাইমসকে বলেন, “রূপাতলী ও নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়ক ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান দখল করে অবৈধ দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থানে জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি, উচ্ছেদের পর সড়ক ও ফুটপাত পুনরায় দখলমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌমাথা এলাকায় এর আগেও একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে সিটি করপোরেশন। তবে অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই পুনরায় ফুটপাত ও মহাসড়কের অংশবিশেষ দখল করে ব্যবসা পরিচালনার প্রবণতা দেখা যায়। এতে উচ্ছেদ কার্যক্রমের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ফুটপাত দখল থাকায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এ এলাকায় মহাসড়ক ও ফুটপাতের ওপর অবৈধ দখল স্থায়ীভাবে নিরসনে নিয়মিত তদারকি জোরদার এবং উচ্ছেদ-পরবর্তী সময়ে পুনর্দখল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২৬
বরিশালের বাকেরগঞ্জে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই পলাতক আসামিকে দীর্ঘ ১৩ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার দুজন হলেন মো. হাসান সিকদার (৩৭) ও মো. রাসেল সিকদার (৩০)। এসআরবি-৮, বরিশাল এবং এসআরবি-৩, মগবাজার, ঢাকার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে হাসান সিকদার এবং হাতিরঝিল এলাকা থেকে রাসেল সিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দুজনের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার উত্তর নলুয়া এলাকায়।
এসআরবি-৮-এর মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার ওয়ালিদ হাসান মিঠু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, বাকেরগঞ্জ থানার একটি হত্যা মামলায় আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় করা মামলাটির বিশেষ দায়রা মামলা নম্বর ১৪৩/১৬, থানার মামলা নম্বর ১৬ এবং জিআর নম্বর ৩৭/১৩।
মামলার বিচার শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত হাসান ও রাসেলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও দুই মাস কারাভোগের নির্দেশ দেন আদালত। এ ছাড়া মামলার অপর ধারায় তাঁদের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ওই জরিমানা অনাদায়ে আরও চার মাসের কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে।
আদালতের রায়ের পর দীর্ঘ সময় ধরে আত্মগোপনে থাকায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য এসআরবি-৮-এর অধিনায়কের কাছে প্রয়োজনীয় অধিযাচনপত্র পাঠানো হয়। পরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করে যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন সংশ্লিষ্ট সদস্যরা।
গ্রেপ্তারের পর হাসান সিকদারকে যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশের কাছে এবং রাসেল সিকদারকে হাতিরঝিল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই পলাতক আসামিকে দীর্ঘ ১৩ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার দুজন হলেন মো. হাসান সিকদার (৩৭) ও মো. রাসেল সিকদার (৩০)। এসআরবি-৮, বরিশাল এবং এসআরবি-৩, মগবাজার, ঢাকার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে হাসান সিকদার এবং হাতিরঝিল এলাকা থেকে রাসেল সিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দুজনের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার উত্তর নলুয়া এলাকায়।
এসআরবি-৮-এর মিডিয়া অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার ওয়ালিদ হাসান মিঠু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, বাকেরগঞ্জ থানার একটি হত্যা মামলায় আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় করা মামলাটির বিশেষ দায়রা মামলা নম্বর ১৪৩/১৬, থানার মামলা নম্বর ১৬ এবং জিআর নম্বর ৩৭/১৩।
মামলার বিচার শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত হাসান ও রাসেলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও দুই মাস কারাভোগের নির্দেশ দেন আদালত। এ ছাড়া মামলার অপর ধারায় তাঁদের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ওই জরিমানা অনাদায়ে আরও চার মাসের কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে।
আদালতের রায়ের পর দীর্ঘ সময় ধরে আত্মগোপনে থাকায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য এসআরবি-৮-এর অধিনায়কের কাছে প্রয়োজনীয় অধিযাচনপত্র পাঠানো হয়। পরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করে যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন সংশ্লিষ্ট সদস্যরা।
গ্রেপ্তারের পর হাসান সিকদারকে যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশের কাছে এবং রাসেল সিকদারকে হাতিরঝিল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০২
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বেজগাতি ও সাউদের খালপাড়ের মধ্যবর্তী এলাকায় সড়কের এক পাশের বড় একটি অংশ ধসে পড়েছে। সড়কের নিচ থেকে মাটি ও পাথর সরে যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের এক পাশের কিনারার মাটি ও পাথর সরে গিয়ে বড় অংশ ভেঙে পড়েছে। এতে সড়কটির ওই অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ধারণ করা ভিডিওতেও সড়কের পাশের মাটি সরে যাওয়া এবং কিনারার অংশ ধসে পড়ার চিত্র দেখা যায়। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঝুঁকিপূর্ণ ওই স্থান দিয়ে চলাচলের সময় যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে।
ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে রাতে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি চালকদের চোখ এড়িয়ে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
তাই দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি মেরামতের পাশাপাশি সেখানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বেজগাতি ও সাউদের খালপাড়ের মধ্যবর্তী এলাকায় সড়কের এক পাশের বড় একটি অংশ ধসে পড়েছে। সড়কের নিচ থেকে মাটি ও পাথর সরে যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের এক পাশের কিনারার মাটি ও পাথর সরে গিয়ে বড় অংশ ভেঙে পড়েছে। এতে সড়কটির ওই অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ধারণ করা ভিডিওতেও সড়কের পাশের মাটি সরে যাওয়া এবং কিনারার অংশ ধসে পড়ার চিত্র দেখা যায়। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঝুঁকিপূর্ণ ওই স্থান দিয়ে চলাচলের সময় যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে।
ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে রাতে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি চালকদের চোখ এড়িয়ে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
তাই দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি মেরামতের পাশাপাশি সেখানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

০১ নভেম্বর, ২০২৫ ১৪:৫৭
বরিশালের বাকেরগঞ্জে প্রবাসীর মালিকানাধীন বাড়িতে গিয়ে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মিজান মিয়া সদলবলে গিয়ে ভুক্তভোগী শিমু বেগমকে ভয়ভীতি দেখানোসহ তাদের গ্রামছাড়া করার হুমকি দিয়েছেন। এই ঘটনায় শনিবার (১ নভেম্বর) বেলা ১২ টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির হলরুমে ভুক্তভোগী নারী সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বর্ণনা দেওয়াসহ এর স্বপক্ষে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সাংবাদিকদের কাছে উপস্থাপন করেন।
বাকেরগঞ্জ থানার দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শিমু বেগম সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, ২০২২ সালে তিনি নিজ উদ্যোগে দাঁড়িয়াল গ্রামে একটি ভবন নির্মাণ করেন, যার মালিক তার বড় মেয়ে জাহিদা আক্তার। বাড়ি নির্মাণের পর থেকে তার স্বামী বজলু হাওলাদার ভবনটি নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। এ বিষয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুজ্জামান মিজান মিয়ার চাপের মুখে মামলাটি তিনি তুলে নিতে বাধ্য হন।
শিমু বেগমের অভিযোগ, গত ২২ অক্টোবর তার মেয়ে জাহিদা আক্তার প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর থেকে বজলু হাওলাদার ও তার সহযোগীরা তাদের কাছে নানা অজুহাতে অর্থ দাবি করতে থাকেন। এবং সবশেষে গত শুক্রবার সকালে কামরুজ্জামান মিজান মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন লোক তাদের বাড়িতে গিয়ে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করাসহ ভবনটি বজলু হাওলাদারের নামে লিখে দিতে চাপপ্রয়োগ করেন।
শিমু বেগম জানান, এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাদেরকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করা হয়। গ্রামবাসীর সম্মুখে এই ধরনের অসভ্য আচরণে তিনি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হন। পরবর্তীতে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা চাওয়ার প্রস্তুতি নিলে বিষয়টি টের পেয়ে বজলু হাওলাদার এবং মিজান মিয়া টাকা চাওয়াসহ ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। এবং হুমকি দেন টাকা না দিলে বাড়ির পাশাপাশি শিমু বেগমকে এলাকাও ছেড়ে চলে যেতে হবে।
বিএনপি নেতার হুমকিতে আছেন জানিয়ে শিমু বেগম বলেন, তার দ্বিতীয় স্বামী বজলু হাওলাদারের সঙ্গে প্রায় এক বছর আগে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তবুও তিনি এখনো বাড়ির মালিকানা দাবি করছেন এবং এতে বিএনপি নেতা মিজান মিয়া তার পক্ষালম্বন করেছেন।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মিজান মিয়া বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির আহ্বায়ক মনোনয়নপ্রত্যাশী আবুল হোসেন খানের ঘনিষ্ঠ অনুসারী। এই বিষয়ে জানতে সাবেক এমপি
আবুল হোসেন খানের মুঠোফোন একাধিকবার কল করলেও অপরপ্রান্ত থেকে সাড়া মেলেলি। এমনকি তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়েও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে আনীত সকল অভিযোগসমূহ অস্বীকার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুজ্জামান মিজান মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই নারীর একাধিক বিয়ে হয়েছে। বজলু আমার পাশের গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই নারীকে বছরে তিনবার তালাক দিয়েছে। আর যে বাড়ির কথা বলা হচ্ছে, সেটি বজলুর নিজের জমির ওপর নির্মিত। তাই বজলু তার মালিকানা বুঝে নিতে চাইছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওই নারী পাশের এলাকার কামাল মাস্টারের সঙ্গে পরকীয়ার পর তাকে বিয়ে করেছেন। কিন্তু তিনি সেই স্বামীর বাড়ি যান না।’
তাদের এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে মিজান মিয়া বলেন, ‘যেহেতু তার বজলুর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে, তাই ওই নারীকে বলেছি, কামাল মাস্টারের সঙ্গে গিয়ে থাকুক।’
৪০ লাখ টাকার দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি ৩১ অক্টোবর তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম শালিসিতে। বজলু বলেছেন, বাড়ি করতে ৬৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে, ওই নারী দিয়েছে ২৮ লাখ টাকা। এখন যদি ওই বাড়িতে বজলুকে থাকতে না দেন, তাহলে তার পাওনা ৪০ লাখ টাকা দিয়ে দেবেন। এখানে কোনো চাঁদা দাবি করা হয়নি।’
বজলু হাওলাদার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়েছে। আমি ১৯৯৮ সাল থেকে ব্যবসা করি। ২০১৯ সালে এই বাড়ি করতে গিয়ে বাবার সম্পত্তি বিক্রি করেছি। এখন সেই বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘তাদের বলা হয়েছে, তারা তাদের অংশ নিয়ে যাবে, আর আমি যা পাই বুঝে নেব। কিন্তু তারা কোনো শালিস মানে না।’
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০৭
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩২
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২২
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:০৬