
১৯ জুন, ২০২৫ ১৫:২০
পটুয়াখালী জেলায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩০ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া স্বাক্ষরিত ‘দৈনিক ডেঙ্গু রোগীর প্রতিবেদন’ অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একদিনে ৩০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ২১ জন এবং মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জন। এছাড়া কলাপাড়ায় ২ জন, গলাচিপায় ৫ জন ভর্তি হয়েছেন। দশমিনা, বাউফল ও দুমকি উপজেলায় এদিন নতুন করে কেউ ভর্তি হননি।
চলতি বছরের (১ জানুয়ারি থেকে ১৭ জুন) পর্যন্ত জেলায় সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সর্বমোট ৪৫৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৪০৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫০ জন।
সরেজমিনে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, সাধারণ রোগীদের সঙ্গে একই ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীদের। এতে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রোগীদের।
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুমকি উপজেলার আনসার সদস্য জয়নুল আবেদিন এবং গলাচিপা উপজেলার দশম শ্রেণির ছাত্রী বিথি দেবনাথ এর মধ্যে রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, এডিস মশার বিস্তার রোধে নাগরিকদের সচেতনতা জরুরি। জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ, মশার জন্মস্থল ধ্বংস এবং ব্যক্তিগত সাবধানতা অবলম্বনের পাশাপাশি মশকনিধনে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসক জুয়েল রানা জানান, এডিস মশার বিস্তার রোধে পৌরসভা নিয়মিত স্প্রে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে যারা নিয়মিত এলাকা পরিদর্শন করে ড্রেনসহ জমে থাকা পানি অপসারণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে। এছাড়া মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের তত্ত্বাবধায়ক দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা জানান, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের শিশু, নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আলাদা ওয়ার্ডের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
পটুয়াখালী জেলায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩০ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া স্বাক্ষরিত ‘দৈনিক ডেঙ্গু রোগীর প্রতিবেদন’ অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একদিনে ৩০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ২১ জন এবং মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জন। এছাড়া কলাপাড়ায় ২ জন, গলাচিপায় ৫ জন ভর্তি হয়েছেন। দশমিনা, বাউফল ও দুমকি উপজেলায় এদিন নতুন করে কেউ ভর্তি হননি।
চলতি বছরের (১ জানুয়ারি থেকে ১৭ জুন) পর্যন্ত জেলায় সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সর্বমোট ৪৫৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৪০৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫০ জন।
সরেজমিনে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, সাধারণ রোগীদের সঙ্গে একই ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীদের। এতে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রোগীদের।
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুমকি উপজেলার আনসার সদস্য জয়নুল আবেদিন এবং গলাচিপা উপজেলার দশম শ্রেণির ছাত্রী বিথি দেবনাথ এর মধ্যে রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, এডিস মশার বিস্তার রোধে নাগরিকদের সচেতনতা জরুরি। জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ, মশার জন্মস্থল ধ্বংস এবং ব্যক্তিগত সাবধানতা অবলম্বনের পাশাপাশি মশকনিধনে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসক জুয়েল রানা জানান, এডিস মশার বিস্তার রোধে পৌরসভা নিয়মিত স্প্রে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে যারা নিয়মিত এলাকা পরিদর্শন করে ড্রেনসহ জমে থাকা পানি অপসারণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে। এছাড়া মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের তত্ত্বাবধায়ক দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা জানান, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের শিশু, নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আলাদা ওয়ার্ডের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

১১ মার্চ, ২০২৬ ২২:১৫
বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নিবিড় গাজীর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পটুয়াখালী সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়ার স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, গত ৯ মার্চ গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিবিড় গাজী নামে এক কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্তের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গঠিত তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রউফকে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. শেখ শহিদুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে সহকারী সার্জন ডা. গোলাম মোস্তাহিদ তাসরিফকে।
এই কমিটিকে আগামী চার কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন সিভিল সার্জনের কাছে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকেলে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নিবিড় গাজীর মৃত্যু হয়। নিবিড়ের পরিবারের অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত ৯ মার্চ ‘রাঙ্গাবালীতে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ’ এবং ১০ মার্চ প্রিন্ট সংস্করণে ‘ছাত্রদল নেতার মৃত্যুতে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
বরিশাল টাইমস
বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নিবিড় গাজীর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পটুয়াখালী সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়ার স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, গত ৯ মার্চ গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিবিড় গাজী নামে এক কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্তের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গঠিত তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রউফকে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. শেখ শহিদুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে সহকারী সার্জন ডা. গোলাম মোস্তাহিদ তাসরিফকে।
এই কমিটিকে আগামী চার কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন সিভিল সার্জনের কাছে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকেলে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নিবিড় গাজীর মৃত্যু হয়। নিবিড়ের পরিবারের অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত ৯ মার্চ ‘রাঙ্গাবালীতে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ’ এবং ১০ মার্চ প্রিন্ট সংস্করণে ‘ছাত্রদল নেতার মৃত্যুতে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
বরিশাল টাইমস

১১ মার্চ, ২০২৬ ২০:০১
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গ্রাম পুলিশ সদস্য নিয়োগে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও গোটা দক্ষিণাঞ্চলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ঘুষকাণ্ডে ভাইরাল হওয়া ওই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নাম হাফেজ আব্দুর রহিম। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিম খালি গায়ে বসে লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় ভিডিওর বিপরীতে থাকা এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকার বান্ডিল নিচ্ছেন।
এসময় তাকে বলতে শোনা যায়, বোর্ডে থাকমু আমি, ইউএনও আর ওসি। এর বাইরেও তিন চারজন আছে। এছাড়াও ইউএনও অফিসে থাহে (থাকে) ক্লার্ক বশার এবং মামুন হেরে দেওয়া লাগবে, বলতে শোনা যায়। ৬ নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ সদস্য প্রার্থী তালিমের কাছ থেকে নিয়োগের বিষয়ে ঘুষের টাকার বান্ডিল নেওয়া হয়েছিল বলে একটি সূত্রে জানা যায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বলেন, আমাকে ফাঁসাতে টাকাটা একজন গ্রাম পুলিশের চাকরিপ্রত্যাশী রেখে গেছে। আমি টাকাটা স্থানীয় একজনের কাছে জামানত রেখেছিলাম। তার চাকরি না হওয়ায় পরবর্তীতে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে টাকা ফেরত দিয়েছি। তবে নিয়োগ বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা তাদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান জানান, পরীক্ষার দিন তিনি পটুয়াখালীতে মিটিংয়ে ছিলেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অবগত না হওয়ার পাশাপাশি শতভাগ স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও কাউসার হামিদ।
তিনি বলেন, ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরালের বিষয়ে চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর শোকজ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তাকে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গ্রাম পুলিশ সদস্য নিয়োগে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও গোটা দক্ষিণাঞ্চলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ঘুষকাণ্ডে ভাইরাল হওয়া ওই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নাম হাফেজ আব্দুর রহিম। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিম খালি গায়ে বসে লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় ভিডিওর বিপরীতে থাকা এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকার বান্ডিল নিচ্ছেন।
এসময় তাকে বলতে শোনা যায়, বোর্ডে থাকমু আমি, ইউএনও আর ওসি। এর বাইরেও তিন চারজন আছে। এছাড়াও ইউএনও অফিসে থাহে (থাকে) ক্লার্ক বশার এবং মামুন হেরে দেওয়া লাগবে, বলতে শোনা যায়। ৬ নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ সদস্য প্রার্থী তালিমের কাছ থেকে নিয়োগের বিষয়ে ঘুষের টাকার বান্ডিল নেওয়া হয়েছিল বলে একটি সূত্রে জানা যায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বলেন, আমাকে ফাঁসাতে টাকাটা একজন গ্রাম পুলিশের চাকরিপ্রত্যাশী রেখে গেছে। আমি টাকাটা স্থানীয় একজনের কাছে জামানত রেখেছিলাম। তার চাকরি না হওয়ায় পরবর্তীতে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে টাকা ফেরত দিয়েছি। তবে নিয়োগ বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা তাদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান জানান, পরীক্ষার দিন তিনি পটুয়াখালীতে মিটিংয়ে ছিলেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অবগত না হওয়ার পাশাপাশি শতভাগ স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও কাউসার হামিদ।
তিনি বলেন, ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরালের বিষয়ে চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর শোকজ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তাকে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

১১ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৫৫
পটুয়াখালীর বাউফল পৌর শহরে বাড়ি তৈরি করার নকশা আটকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে প্রকৌশলী আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ২০০১ সালে বিএনপি সময় চাকুরিতে যোগদান করলেও পরবর্তীতে বনে যান আওয়ামী লীগের সমর্থক। কিন্তু ৫ আগস্টের পর আবারও বোল পাল্টে অন্য সংগঠনের কর্মী হওয়ার চেষ্টা অব্যহত রেখেছেন। সে চেষ্টায় তিনি সফল হবেন হয়তো কিন্তু স্থানীয়দের দাবি ইঞ্জিনিয়ার আতিকের অপসারণ।
বিভিন্ন মাধ্যম জানা গেছে, ইঞ্জিনিয়ার আতিকুল ইসলাম ২০০১ সালে চাকুরিতে যোগদান করেন। যোগদানের ২৫ বছরে মধ্যে বাউফল পৌরসভাতেই প্রায় ১৮ বছর কর্মরত আছেন। পৌরসভার বিল্ডিং প্লানিংয়ের অনুমোদনের দায়িত্ব তার হাতে। কিন্তু বাহিরের কোন আর্কিটেকচারের করা নকশা তার হাতে পাশ হয় না বলে অভিযোগে রয়েছে। বিধান রয়েছে, প্লান অনুমোদন প্রক্রিয়ার সাথে পৌরসভার কর্মকর্তাবৃন্দ কোনভাবেই জড়িত থাকতে পারবেন না। কিন্তু নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ইঞ্জিনিয়ার আতিকের মাধ্যমে নকশা তৈরি করে পাশ করাতে বাধ্য করা হয় গ্রাহককে। না হলে প্ল্যান পাশ করাতে পারেন না ভবন নির্মাণ মালিকগণ।
তাছাড়া নিজের করা প্লান পাশ করাতে গুণতে হয় মোটা অংকের টাকা। ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন ফি ১০০০ টাকা, ৫০০ বর্গফিট একটি একতলা বিশিষ্ট ভবনের জন্য ২০০০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি বর্গফিটের জন্য ২০০০ করে সরকারী ভাবে জমা দিতে হয়। পৌরসভা কর্তৃক নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও গ্রাহককে দুইগুণ, তিনগুণ ক্ষেত্রবিশেষ তারচেয়েও বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।
অথচ নিয়ম রয়েছে, প্রতি তিন মাস অন্তর বিল্ডিং প্ল্যানিং কমিটির সভা করতে হবে। কিন্তু ২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ১টি সভাও অনুষ্ঠিত হয়নি। ৫ আগস্টের পর দেড় বছরে মাত্র ২টি সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক শক্তি কাজে লাগিয়ে নিজেই নিজের মত করে তার দপ্তর পরিচালনা করে আসছেন গত ১৯ বছর ধরে।
অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের সাথে আঁতাত করে একই উপজেলায় বহু বছর কর্মরত রয়েছেন। একজন কর্মকর্তা এত বছর একই উপজেলায় কর্মরত থাকতে পারেন কিনা সে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন মাধ্যমে প্ল্যান তৈরি করার কারণে বর্তমানে পৌরসভা ইঞ্জিনিয়ারের কাছে ২৫-৩০টি প্ল্যান পেন্ডিং রয়েছে। পৌরসভার শুরু থেকেই ভবন নির্মাণের নকশা বাধ্যতামূলক। এ সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আতিক। ভবন নির্মাণ মালিকদের কাছ থেকে নানা টালবাহানা পাকিয়ে অনৈতিক ভাবে অর্থ হাতিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএননিসি) এর নিয়ম অনুসারে ডিজাইনকৃত প্রকৌশলী ওই সাইট সুপারভাইস বা দেখাশোনা করবেন এবং অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। কাগজে কলমে সব ঠিক থাকলেও নকশা করা প্রকৌশলীরা বাউফল উপজেলায় কোন দিন আসে নাই বা তারা চিনেনও না।
মুঠোফোনে কথা হয় প্রকৌশলী মো ফয়েজউল্লাহর সাথে। তিনি জানান, ইঞ্জিনিয়ার আতিক তাকে দিয়ে নকশার সকল কাজ করিয়ে থাকেন। প্লানের তদারকি তারা করেন না। তিনি বাউফল উপজেলায় অসেননি এবং চিনেনও না।
ইঞ্জিনিয়ার নাঈম নামের অপর এক প্রকৌশলী জানান, তিনি আগে ইঞ্জিনিয়ার আতিকের সকল কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি ভান্ডারিয়া পৌরসভায় কর্মরত রয়েছেন। কোন কাজের তদারকি তিনি বাউফলে এসে করেননি।
ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জয় নামের পটুয়াখালীর একজন প্রকৌশলী জানান, তাকে দিয়ে নামমাত্র পারিশ্রমিক দিয়ে নকশার ডিজাইনের কাজ করাতেন। ইঞ্জিনিয়ার আতিক তাকে বলতেন, বাউফল পৌরসভার সকল নাগরিকের নকসার কাজ আতিক সাহেব বিনামূল্যে করে থাকেন। তাই তাকে নামমাত্র পারিশ্রমিক পরিশোধ করতেন।
মো. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, ইঞ্জিনিয়ার আতিকের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ সত্য। আমি নিজে একজন ইঞ্জিনিয়ার। আমাদের করা কোন নকসার কাজের অনুমোদন দেয়া হয় না। আমি এর আগে পৌর প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছিলাম।
পৌর প্রশাসক আমাদেরকে এক সাথে নিয়ে বসে সকল নকশা পাশ করার নির্দেশ দেন আতিক সাহেবকে। কিন্তু এর পরও সে আমাদের কোন নকসা অনুমোদন দেন না। বর্তমান ইউএনও মহোদয়ের কাছে অভিযোগ করলে তিনি কিছুটা তাড়িয়ে দেয়ার মত আচারণ করেছেন।
এবিষয়ে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ‘আমি ২৪ সালের ৫ আগস্টের ৩ মাস আগে প্লান অনুমোদনের জন্য দিয়েছি। এখনও অনুমোদন পাইনি। আমার কাছ থেকে কয়েক ধাপে মোট ৬০ হাজার টাকার বেশি নেয়া হয়েছে। টাকাও ফেরৎ দেয় না আর নকসা অনুমোদনও দেয় না।
পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোহাগ বলেন, ‘চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে প্লান অনুমোদনের জন্য যাবতীয় সকল কাগজ-পত্র দিয়েছি কিন্তু কবে অনুমোদন হবে জানিনা। আমার কাছ থেকে ২৬-২৮হাজার টাকা নিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের একজন সরকারী কর্মকর্তা জানান, আমার কাছ থেকে ২৩ হাজার টাকা নিয়েছে নকসা অনুমোদনের জন্য। ১বছর হয়ে গেছে এখন পর্যন্ত অনুমোদন হয়নি। তার প্লানটি বাহিরের ইঞ্জিয়ার দিয়ে করিয়েছেন।
পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের নির্মাণ ভবন মালিক তাসলিমা বেগম বলেন, ‘আমি বাহিরে একজন ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা নকশা তৈরি করেছি। প্রায় ৬মাস হয়েছে অনুমোদন দিচ্ছে না। কাজ শুরু করতে মালামাল এনে রেখেছি অনুমোদনের কারণে কাজ শুরু করতে পারছি না। অনেক মাল নষ্ট হয়ে গেছে।
পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের মহিলা কলেজ রোডের বাসিন্দা মো. ফয়সাল বলেন, ‘আমি ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে আমার বিল্ডিং প্লান ও সয়েল স্টেস্টের কথা বলে ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আতিক। এখনও পর্যন্ত প্লান পাশ হয়নি। সম্প্রতি তিনি আবার নতুন করে টাকা দাবি করছেন।’
পৌরসভার ২নংওয়ার্ডে বাসিন্দা মো আনিক জানান, তার নিজস্ব সম্পত্তিতে একটি বাউন্ডারি ওয়াল করতে আতিক তার কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নিয়েছেন। ১ বছরের বেশি সময় হয়ে গেলেও কোন ধরনের প্লান অনুমোদন না দিয়ে নানা অজুহাতে আজ-কাল করে সময় ক্ষেপণ করছেন।
অভিযুক্ত প্রকৌশলী মো আতিকুল ইসলাম সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোন অনিয়মের সাথে জড়িত নই। এমনকি জানুয়ারী পর্যন্ত কোন প্লান পেইন্ডিং নেই। তিনি কোন প্লানের সাথে জড়িত না বলেও জানান তিনি।’
এবিষয়ে ডেপুটি ডিরেক্টর অব লোকাল গভার্নমেন্ট (ডিডিএলজি) জুয়েল রানা বলেন, ‘পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে আমরা তদন্ত করেছি তার বিরুযদ্ধে কোন অভিযোগ পাইনি। এক ব্যক্তি এক উপজেলায় ১৮/১৯ বছর থাকতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এটি মন্ত্রণালয়ের বিষয়।’
পটুয়াখালীর বাউফল পৌর শহরে বাড়ি তৈরি করার নকশা আটকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে প্রকৌশলী আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ২০০১ সালে বিএনপি সময় চাকুরিতে যোগদান করলেও পরবর্তীতে বনে যান আওয়ামী লীগের সমর্থক। কিন্তু ৫ আগস্টের পর আবারও বোল পাল্টে অন্য সংগঠনের কর্মী হওয়ার চেষ্টা অব্যহত রেখেছেন। সে চেষ্টায় তিনি সফল হবেন হয়তো কিন্তু স্থানীয়দের দাবি ইঞ্জিনিয়ার আতিকের অপসারণ।
বিভিন্ন মাধ্যম জানা গেছে, ইঞ্জিনিয়ার আতিকুল ইসলাম ২০০১ সালে চাকুরিতে যোগদান করেন। যোগদানের ২৫ বছরে মধ্যে বাউফল পৌরসভাতেই প্রায় ১৮ বছর কর্মরত আছেন। পৌরসভার বিল্ডিং প্লানিংয়ের অনুমোদনের দায়িত্ব তার হাতে। কিন্তু বাহিরের কোন আর্কিটেকচারের করা নকশা তার হাতে পাশ হয় না বলে অভিযোগে রয়েছে। বিধান রয়েছে, প্লান অনুমোদন প্রক্রিয়ার সাথে পৌরসভার কর্মকর্তাবৃন্দ কোনভাবেই জড়িত থাকতে পারবেন না। কিন্তু নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ইঞ্জিনিয়ার আতিকের মাধ্যমে নকশা তৈরি করে পাশ করাতে বাধ্য করা হয় গ্রাহককে। না হলে প্ল্যান পাশ করাতে পারেন না ভবন নির্মাণ মালিকগণ।
তাছাড়া নিজের করা প্লান পাশ করাতে গুণতে হয় মোটা অংকের টাকা। ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন ফি ১০০০ টাকা, ৫০০ বর্গফিট একটি একতলা বিশিষ্ট ভবনের জন্য ২০০০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি বর্গফিটের জন্য ২০০০ করে সরকারী ভাবে জমা দিতে হয়। পৌরসভা কর্তৃক নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও গ্রাহককে দুইগুণ, তিনগুণ ক্ষেত্রবিশেষ তারচেয়েও বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।
অথচ নিয়ম রয়েছে, প্রতি তিন মাস অন্তর বিল্ডিং প্ল্যানিং কমিটির সভা করতে হবে। কিন্তু ২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ১টি সভাও অনুষ্ঠিত হয়নি। ৫ আগস্টের পর দেড় বছরে মাত্র ২টি সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক শক্তি কাজে লাগিয়ে নিজেই নিজের মত করে তার দপ্তর পরিচালনা করে আসছেন গত ১৯ বছর ধরে।
অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের সাথে আঁতাত করে একই উপজেলায় বহু বছর কর্মরত রয়েছেন। একজন কর্মকর্তা এত বছর একই উপজেলায় কর্মরত থাকতে পারেন কিনা সে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন মাধ্যমে প্ল্যান তৈরি করার কারণে বর্তমানে পৌরসভা ইঞ্জিনিয়ারের কাছে ২৫-৩০টি প্ল্যান পেন্ডিং রয়েছে। পৌরসভার শুরু থেকেই ভবন নির্মাণের নকশা বাধ্যতামূলক। এ সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আতিক। ভবন নির্মাণ মালিকদের কাছ থেকে নানা টালবাহানা পাকিয়ে অনৈতিক ভাবে অর্থ হাতিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএননিসি) এর নিয়ম অনুসারে ডিজাইনকৃত প্রকৌশলী ওই সাইট সুপারভাইস বা দেখাশোনা করবেন এবং অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। কাগজে কলমে সব ঠিক থাকলেও নকশা করা প্রকৌশলীরা বাউফল উপজেলায় কোন দিন আসে নাই বা তারা চিনেনও না।
মুঠোফোনে কথা হয় প্রকৌশলী মো ফয়েজউল্লাহর সাথে। তিনি জানান, ইঞ্জিনিয়ার আতিক তাকে দিয়ে নকশার সকল কাজ করিয়ে থাকেন। প্লানের তদারকি তারা করেন না। তিনি বাউফল উপজেলায় অসেননি এবং চিনেনও না।
ইঞ্জিনিয়ার নাঈম নামের অপর এক প্রকৌশলী জানান, তিনি আগে ইঞ্জিনিয়ার আতিকের সকল কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি ভান্ডারিয়া পৌরসভায় কর্মরত রয়েছেন। কোন কাজের তদারকি তিনি বাউফলে এসে করেননি।
ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জয় নামের পটুয়াখালীর একজন প্রকৌশলী জানান, তাকে দিয়ে নামমাত্র পারিশ্রমিক দিয়ে নকশার ডিজাইনের কাজ করাতেন। ইঞ্জিনিয়ার আতিক তাকে বলতেন, বাউফল পৌরসভার সকল নাগরিকের নকসার কাজ আতিক সাহেব বিনামূল্যে করে থাকেন। তাই তাকে নামমাত্র পারিশ্রমিক পরিশোধ করতেন।
মো. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, ইঞ্জিনিয়ার আতিকের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ সত্য। আমি নিজে একজন ইঞ্জিনিয়ার। আমাদের করা কোন নকসার কাজের অনুমোদন দেয়া হয় না। আমি এর আগে পৌর প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছিলাম।
পৌর প্রশাসক আমাদেরকে এক সাথে নিয়ে বসে সকল নকশা পাশ করার নির্দেশ দেন আতিক সাহেবকে। কিন্তু এর পরও সে আমাদের কোন নকসা অনুমোদন দেন না। বর্তমান ইউএনও মহোদয়ের কাছে অভিযোগ করলে তিনি কিছুটা তাড়িয়ে দেয়ার মত আচারণ করেছেন।
এবিষয়ে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ‘আমি ২৪ সালের ৫ আগস্টের ৩ মাস আগে প্লান অনুমোদনের জন্য দিয়েছি। এখনও অনুমোদন পাইনি। আমার কাছ থেকে কয়েক ধাপে মোট ৬০ হাজার টাকার বেশি নেয়া হয়েছে। টাকাও ফেরৎ দেয় না আর নকসা অনুমোদনও দেয় না।
পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোহাগ বলেন, ‘চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে প্লান অনুমোদনের জন্য যাবতীয় সকল কাগজ-পত্র দিয়েছি কিন্তু কবে অনুমোদন হবে জানিনা। আমার কাছ থেকে ২৬-২৮হাজার টাকা নিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের একজন সরকারী কর্মকর্তা জানান, আমার কাছ থেকে ২৩ হাজার টাকা নিয়েছে নকসা অনুমোদনের জন্য। ১বছর হয়ে গেছে এখন পর্যন্ত অনুমোদন হয়নি। তার প্লানটি বাহিরের ইঞ্জিয়ার দিয়ে করিয়েছেন।
পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের নির্মাণ ভবন মালিক তাসলিমা বেগম বলেন, ‘আমি বাহিরে একজন ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা নকশা তৈরি করেছি। প্রায় ৬মাস হয়েছে অনুমোদন দিচ্ছে না। কাজ শুরু করতে মালামাল এনে রেখেছি অনুমোদনের কারণে কাজ শুরু করতে পারছি না। অনেক মাল নষ্ট হয়ে গেছে।
পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের মহিলা কলেজ রোডের বাসিন্দা মো. ফয়সাল বলেন, ‘আমি ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে আমার বিল্ডিং প্লান ও সয়েল স্টেস্টের কথা বলে ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার আতিক। এখনও পর্যন্ত প্লান পাশ হয়নি। সম্প্রতি তিনি আবার নতুন করে টাকা দাবি করছেন।’
পৌরসভার ২নংওয়ার্ডে বাসিন্দা মো আনিক জানান, তার নিজস্ব সম্পত্তিতে একটি বাউন্ডারি ওয়াল করতে আতিক তার কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নিয়েছেন। ১ বছরের বেশি সময় হয়ে গেলেও কোন ধরনের প্লান অনুমোদন না দিয়ে নানা অজুহাতে আজ-কাল করে সময় ক্ষেপণ করছেন।
অভিযুক্ত প্রকৌশলী মো আতিকুল ইসলাম সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোন অনিয়মের সাথে জড়িত নই। এমনকি জানুয়ারী পর্যন্ত কোন প্লান পেইন্ডিং নেই। তিনি কোন প্লানের সাথে জড়িত না বলেও জানান তিনি।’
এবিষয়ে ডেপুটি ডিরেক্টর অব লোকাল গভার্নমেন্ট (ডিডিএলজি) জুয়েল রানা বলেন, ‘পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে আমরা তদন্ত করেছি তার বিরুযদ্ধে কোন অভিযোগ পাইনি। এক ব্যক্তি এক উপজেলায় ১৮/১৯ বছর থাকতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এটি মন্ত্রণালয়ের বিষয়।’
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.