নরসিংদীতে বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের সময় আটক করা দুই চাঁদাবাজকে ছিনিয়ে নিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে নরসিংদী পৌর শহরের আরশিনগর মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে আনোয়ার হোসেনের (সদর সার্কেল) নেতৃত্বে একটি টিম সদর উপজেলার বীরপুর এলাকার পুরানপাড়ায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিদর্শনে যান।
সেখান থেকে ফেরার পথে শহরের আরশীনগর মোড়ে সড়কের মাঝখান থেকে কয়েকজন ব্যক্তি যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছিলেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ দুজনকে হাতেনাতে আটক করে। আটকের খবর শুনে তাদের ছাড়িয়ে নিতে ৩০/৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে হুমকি দিতে থাকে।
আরও জানা গেছে, পুলিশ কর্মকর্তা তাদের ছাড়তে রাজি না হওয়ায় তারা পুলিশ সুপারের উপর হামলা চালায় এবং কিল, ঘুষি, লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে আহত হন। এ সময় সন্ত্রাসীরা দুই চাঁদাবাজকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
পরে আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় পুলিশ সদস্যরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করেন চিকিৎসকরা।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. ফরিদা গুলশানা কবির বলেন, আনোয়ার হোসেনের ঘাড় ও পায়ে আঘাতজনিত রক্ত জমাট বেঁধেছে। তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, বীরপুর এলাকা থেকে ফেরার পথে দেখি, কয়েকজন চলন্ত যানবাহন থেকে সড়কের মাঝখানে জোরপূর্বক চাঁদা তুলছে। এ সময় আমি দুজনকে হাতেহাতে আটক করে তাদের জিজ্ঞাসা করছিলাম।
মুহূর্তের মধ্যে ৩০-৪০ জনের একদল সন্ত্রাসী আমার ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমি মাটিতে পড়ে গেলে তারা কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। চাঁদাবাজদের ছাড়িয়ে নিতে ইজারাদারের লোকজন এ হামলা চালায়।
নরসিংদী পৌরসভার সিএনজি-অটোরিকশা স্ট্যান্ডের ইজারাদার মো. আলমগীর মুঠোফোনে জানান, আমি পৌরসভা থেকে বৈধভাবে স্ট্যান্ডের ইজারা নিয়েছি। কিন্তু অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন প্রায়ই ইজারার টাকা তুলতে বাধা দেয়। আজকেও আরশীনগর এলাকায় গিয়ে আমাদের লোকজনকে আটক করছিল।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভার দেওয়া নিয়মনীতি অনুসরণ করেই ইজারার টাকা তোলা হয়। এ কাজে পুলিশ বাধা দেওয়ার কারণে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে বলে শুনতে পেরেছি। তবে পুলিশের উপর হামলার খবর মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি পা পিছলে পড়ে যান বলে শুনেছি।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. কলিমুল্লাহর মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি। তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ফোন রিসিভ করলেও তিনি জানান, তিনি ছুটিতে আছেন।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে নরসিংদী সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন এবং নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাস দেন। একই সঙ্গে তার ওপর যে-কোনো সময় হামলার আশঙ্কার কথাও ওই পোস্টে উল্লেখ করেন।

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৯
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুদিন পর একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বৈদ্যার বাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো হলো—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া এবং শিশু ছেলে সামিন।
স্থানীয় ও উদ্ধারকারী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার শ্রীমন্দী এলাকা থেকে সোনারগাঁয়ের মায়াময়ী গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গরু-ছাগলসহ ১৩ জন ট্রলারে করে রওনা দেন। বৈদ্যার বাজার এলাকায় পৌঁছানোর পথে মেঘনা নদীর মাঝখানে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। একপর্যায়ে ট্রলারটি উল্টে পানিতে ডুবে যায়।
এ সময় ৮ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পরে রাশিদা নামে একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর একই পরিবারের চারজন—হেলাল উদ্দিন, তার ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া ও শিশু ছেলে সামিন—নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার সকালে অভিযান চালিয়ে সজিব, সামিয়া ও সামিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন হেলাল উদ্দিন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুদিন পর একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বৈদ্যার বাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো হলো—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া এবং শিশু ছেলে সামিন।
স্থানীয় ও উদ্ধারকারী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার শ্রীমন্দী এলাকা থেকে সোনারগাঁয়ের মায়াময়ী গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গরু-ছাগলসহ ১৩ জন ট্রলারে করে রওনা দেন। বৈদ্যার বাজার এলাকায় পৌঁছানোর পথে মেঘনা নদীর মাঝখানে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। একপর্যায়ে ট্রলারটি উল্টে পানিতে ডুবে যায়।
এ সময় ৮ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পরে রাশিদা নামে একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর একই পরিবারের চারজন—হেলাল উদ্দিন, তার ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া ও শিশু ছেলে সামিন—নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার সকালে অভিযান চালিয়ে সজিব, সামিয়া ও সামিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন হেলাল উদ্দিন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১২
মাদারীপুরের শিবচরসংলগ্ন ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দুই বাসের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শিবচরের পাঁচ্চর বাখরেরকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ যাত্রী। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার অপরাহ্ণে খুলনা থেকে যাত্রী নিয়ে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল পালকি পরিবহনের একটি বাস। স্থানীয় পাঁচ্চর বাখরেরকান্দি এলাকায় বাসটির চাকা বিকল হয়ে গেলে সেটি সড়কের পাশে থামানো হয়। এ সময় বরিশাল থেকে আসা দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে পালকি পরিবহনের বাসটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে পালকি পরিবহনের চালকের সহকারী এবং হানিফ পরিবহনের দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
দুর্ঘটনার পর রাজধানী ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিবচর হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আবু জাফর সরদার সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। চাকা পাংচার হয়ে গেলে পালকি পরিবহনের বাসটি এক্সপ্রেসওয়েতে থামিয়ে রাখা হয়। এ সময় দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের বাস সামনের বিকল বাসটিকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
শিবচর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মুনতাসির রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি এবং মরদেহ উদ্ধার করি। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।’
মাদারীপুরের শিবচরসংলগ্ন ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দুই বাসের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শিবচরের পাঁচ্চর বাখরেরকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ যাত্রী। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার অপরাহ্ণে খুলনা থেকে যাত্রী নিয়ে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল পালকি পরিবহনের একটি বাস। স্থানীয় পাঁচ্চর বাখরেরকান্দি এলাকায় বাসটির চাকা বিকল হয়ে গেলে সেটি সড়কের পাশে থামানো হয়। এ সময় বরিশাল থেকে আসা দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে পালকি পরিবহনের বাসটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে পালকি পরিবহনের চালকের সহকারী এবং হানিফ পরিবহনের দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
দুর্ঘটনার পর রাজধানী ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিবচর হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আবু জাফর সরদার সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। চাকা পাংচার হয়ে গেলে পালকি পরিবহনের বাসটি এক্সপ্রেসওয়েতে থামিয়ে রাখা হয়। এ সময় দ্রুতগতির হানিফ পরিবহনের বাস সামনের বিকল বাসটিকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
শিবচর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মুনতাসির রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি এবং মরদেহ উদ্ধার করি। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।’

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৪
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

০৪ অক্টোবর, ২০২৫ ১৯:৪৪
নরসিংদীতে বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের সময় আটক করা দুই চাঁদাবাজকে ছিনিয়ে নিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে নরসিংদী পৌর শহরের আরশিনগর মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে আনোয়ার হোসেনের (সদর সার্কেল) নেতৃত্বে একটি টিম সদর উপজেলার বীরপুর এলাকার পুরানপাড়ায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিদর্শনে যান।
সেখান থেকে ফেরার পথে শহরের আরশীনগর মোড়ে সড়কের মাঝখান থেকে কয়েকজন ব্যক্তি যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছিলেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ দুজনকে হাতেনাতে আটক করে। আটকের খবর শুনে তাদের ছাড়িয়ে নিতে ৩০/৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে হুমকি দিতে থাকে।
আরও জানা গেছে, পুলিশ কর্মকর্তা তাদের ছাড়তে রাজি না হওয়ায় তারা পুলিশ সুপারের উপর হামলা চালায় এবং কিল, ঘুষি, লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে আহত হন। এ সময় সন্ত্রাসীরা দুই চাঁদাবাজকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
পরে আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় পুলিশ সদস্যরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করেন চিকিৎসকরা।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. ফরিদা গুলশানা কবির বলেন, আনোয়ার হোসেনের ঘাড় ও পায়ে আঘাতজনিত রক্ত জমাট বেঁধেছে। তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, বীরপুর এলাকা থেকে ফেরার পথে দেখি, কয়েকজন চলন্ত যানবাহন থেকে সড়কের মাঝখানে জোরপূর্বক চাঁদা তুলছে। এ সময় আমি দুজনকে হাতেহাতে আটক করে তাদের জিজ্ঞাসা করছিলাম।
মুহূর্তের মধ্যে ৩০-৪০ জনের একদল সন্ত্রাসী আমার ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমি মাটিতে পড়ে গেলে তারা কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। চাঁদাবাজদের ছাড়িয়ে নিতে ইজারাদারের লোকজন এ হামলা চালায়।
নরসিংদী পৌরসভার সিএনজি-অটোরিকশা স্ট্যান্ডের ইজারাদার মো. আলমগীর মুঠোফোনে জানান, আমি পৌরসভা থেকে বৈধভাবে স্ট্যান্ডের ইজারা নিয়েছি। কিন্তু অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন প্রায়ই ইজারার টাকা তুলতে বাধা দেয়। আজকেও আরশীনগর এলাকায় গিয়ে আমাদের লোকজনকে আটক করছিল।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভার দেওয়া নিয়মনীতি অনুসরণ করেই ইজারার টাকা তোলা হয়। এ কাজে পুলিশ বাধা দেওয়ার কারণে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে বলে শুনতে পেরেছি। তবে পুলিশের উপর হামলার খবর মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি পা পিছলে পড়ে যান বলে শুনেছি।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. কলিমুল্লাহর মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি। তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ফোন রিসিভ করলেও তিনি জানান, তিনি ছুটিতে আছেন।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে নরসিংদী সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন এবং নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাস দেন। একই সঙ্গে তার ওপর যে-কোনো সময় হামলার আশঙ্কার কথাও ওই পোস্টে উল্লেখ করেন।
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২২
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:২১
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৪
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪০