Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৭:৩৭
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্কুলে যাওয়ার পথে পিকআপ ভ্যানচাপায় রবিউল হোসেন ফাহিম নামের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এদিকে শিক্ষার্থী নিহতের খবরে সবার মাঝে শোকের ছায়া নেমে এলেও শিক্ষক মিলনায়তন কক্ষে শিক্ষকরা মিষ্টি খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের টেরিয়াইর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফাহিম উপজেলার বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের ফেদাইনগর গ্রামের হারুন হোসেনের ছেলে ও টেরিয়াইর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফাহিম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন বিদ্যালয়ের মূল গেটের সামনে বিদ্যালয়ে প্রবেশের আগ মুহূর্তে একটি পিকআপভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে সে লুটিয়ে পড়ে।
স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয়ারা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসকরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ফাহিম।
সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গেছে, নিহত ফাহিম স্কুলের সামনে রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটছে। ফাঁকা রাস্তার মধ্যে পিকআপ ভ্যানটি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায়, স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া দেখা গেলেও শিক্ষকদের মাঝে কোনো শোক দেখা যায়নি। শিক্ষক মিলনায়তন কক্ষে চলছে মিষ্টিসহ বিভিন্ন ধরনের খাওয়া-দাওয়া। এতে স্কুল শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে।
শ্রাবন্তী নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ফাহিম ভাইয়া বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী। তার মৃত্যুতে শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। এদিকে প্রধান শিক্ষকের রুমে মিষ্টি খাওয়ার বিষয়টি দেখে ছাত্র-ছাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে।
ফারিয়া নামের আরেক শিক্ষার্থী বলে, শিক্ষকরাই যদি একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে মিষ্টি খাওয়াতে ব্যস্ত থাকে সেটি খুবই দুঃখজনক। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলে, নিহত ফাহিম ব্যবসা বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ও রোল নম্বর ১। সে শুধু পড়ালেখায় নয়, খেলাধুলায়ও ছিল যথেষ্ট পারদর্শী।
স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে নিহত ফাহিমকে নিয়ে আমি হাসপাতালে ব্যস্ত ছিলাম। মিষ্টি খাওয়ার বিষয়টি যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে আমি এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেব।
টেরিয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহির উদ্দিন বলেন, স্কুলের তিনজন নতুন শিক্ষক এসেছেন। তারাই মিষ্টি নিয়ে এসেছে। অন্য শিক্ষকরা মিষ্টি খেলেও আমি সকাল থেকে এ পর্যন্ত কিছু খাইনি।
কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাকির রাব্বানী বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাই। পরে শিক্ষার্থীদের স্বজনদের মাধ্যমে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে সে। গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম বলেন, একজন ছাত্র সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার বিষয়টি শুনেছি। তাতে আমরা শোকাহত। কিন্তু একটি বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার ঘটনার পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসার কথা। সেখানে যদি শিক্ষকরা মিষ্টি খান সেটা খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্কুলে যাওয়ার পথে পিকআপ ভ্যানচাপায় রবিউল হোসেন ফাহিম নামের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এদিকে শিক্ষার্থী নিহতের খবরে সবার মাঝে শোকের ছায়া নেমে এলেও শিক্ষক মিলনায়তন কক্ষে শিক্ষকরা মিষ্টি খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের টেরিয়াইর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফাহিম উপজেলার বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের ফেদাইনগর গ্রামের হারুন হোসেনের ছেলে ও টেরিয়াইর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফাহিম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন বিদ্যালয়ের মূল গেটের সামনে বিদ্যালয়ে প্রবেশের আগ মুহূর্তে একটি পিকআপভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে সে লুটিয়ে পড়ে।
স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয়ারা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসকরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ফাহিম।
সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গেছে, নিহত ফাহিম স্কুলের সামনে রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটছে। ফাঁকা রাস্তার মধ্যে পিকআপ ভ্যানটি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায়, স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া দেখা গেলেও শিক্ষকদের মাঝে কোনো শোক দেখা যায়নি। শিক্ষক মিলনায়তন কক্ষে চলছে মিষ্টিসহ বিভিন্ন ধরনের খাওয়া-দাওয়া। এতে স্কুল শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে।
শ্রাবন্তী নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ফাহিম ভাইয়া বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী। তার মৃত্যুতে শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। এদিকে প্রধান শিক্ষকের রুমে মিষ্টি খাওয়ার বিষয়টি দেখে ছাত্র-ছাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে।
ফারিয়া নামের আরেক শিক্ষার্থী বলে, শিক্ষকরাই যদি একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে মিষ্টি খাওয়াতে ব্যস্ত থাকে সেটি খুবই দুঃখজনক। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলে, নিহত ফাহিম ব্যবসা বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ও রোল নম্বর ১। সে শুধু পড়ালেখায় নয়, খেলাধুলায়ও ছিল যথেষ্ট পারদর্শী।
স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে নিহত ফাহিমকে নিয়ে আমি হাসপাতালে ব্যস্ত ছিলাম। মিষ্টি খাওয়ার বিষয়টি যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে আমি এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেব।
টেরিয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহির উদ্দিন বলেন, স্কুলের তিনজন নতুন শিক্ষক এসেছেন। তারাই মিষ্টি নিয়ে এসেছে। অন্য শিক্ষকরা মিষ্টি খেলেও আমি সকাল থেকে এ পর্যন্ত কিছু খাইনি।
কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাকির রাব্বানী বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাই। পরে শিক্ষার্থীদের স্বজনদের মাধ্যমে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে সে। গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম বলেন, একজন ছাত্র সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার বিষয়টি শুনেছি। তাতে আমরা শোকাহত। কিন্তু একটি বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার ঘটনার পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসার কথা। সেখানে যদি শিক্ষকরা মিষ্টি খান সেটা খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।

১৬ জুন, ২০২৬ ১৫:০৫
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ খেলাকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী চলছে উন্মাদনা। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচেও ছড়িয়ে পড়েছে এর রেশ। নিজের পছন্দের দলকে সমর্থন দিতে গিয়ে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন অভিনব পন্থা। তারই ধারাবাহিকতায় রাজবাড়ীতে ঘটেছে ব্যতিক্রমী এক ঘটনা।
জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় এবার দুধ দিয়ে গোসল করে নিজের দীর্ঘদিনের পছন্দের দল আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরানের সমর্থক হয়েছেন এক কৃষক। তার নাম আলাল মোল্লা।
সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনার সমর্থন ত্যাগ করেন আলাল। তিনি গোয়ালন্দের চর দৌলতদিয়ার হামেদ মৃধার হাট এলাকার ছোরাপ মোল্লার ছেলে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দৌলতদিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক আলাল মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনার অন্ধ ভক্ত ছিলেন। আর্জেন্টিনার সাদা-আকাশি জার্সির প্রতি তার টান ছিল অন্যরকম।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মুসলিম দেশের ওপর অমুসলিম দেশের নির্যাতনের ঘটনায় তিনি ব্যথিত হন। একপর্যায়ে তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থন ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে ইরান ফুটবল দলের সমর্থকদের অনুরোধে তিনি ইরানকে সমর্থন জানান।
কৃষক আলাল মোল্লা জানান, কৃষিকাজ করলেও ফুটবল তার প্রিয় খেলা। জ্ঞান-বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে তিনি আর্জেন্টিনা দলকে ভালোবাসতেন।
কিন্তু চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরানকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেন। এবারের বিশ্বকাপে ইরান ভালো কিছু করবে বলেও তিনি আশাবাদী।
ইরানের সমর্থক শওকত জামান জানান, এবার তাদের এলাকায় ইরান দলের সমর্থক অনেক। এর মধ্যে কৃষক আলাল মোল্লা একজন ফুটবলপাগল মানুষ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে আসছিলেন। এবার আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান দলকে সমর্থন দিয়েছেন তিনি। তাকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে বরণ করে নিয়েছেন তারা।
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ খেলাকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী চলছে উন্মাদনা। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচেও ছড়িয়ে পড়েছে এর রেশ। নিজের পছন্দের দলকে সমর্থন দিতে গিয়ে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন অভিনব পন্থা। তারই ধারাবাহিকতায় রাজবাড়ীতে ঘটেছে ব্যতিক্রমী এক ঘটনা।
জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় এবার দুধ দিয়ে গোসল করে নিজের দীর্ঘদিনের পছন্দের দল আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরানের সমর্থক হয়েছেন এক কৃষক। তার নাম আলাল মোল্লা।
সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনার সমর্থন ত্যাগ করেন আলাল। তিনি গোয়ালন্দের চর দৌলতদিয়ার হামেদ মৃধার হাট এলাকার ছোরাপ মোল্লার ছেলে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দৌলতদিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক আলাল মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনার অন্ধ ভক্ত ছিলেন। আর্জেন্টিনার সাদা-আকাশি জার্সির প্রতি তার টান ছিল অন্যরকম।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মুসলিম দেশের ওপর অমুসলিম দেশের নির্যাতনের ঘটনায় তিনি ব্যথিত হন। একপর্যায়ে তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থন ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে ইরান ফুটবল দলের সমর্থকদের অনুরোধে তিনি ইরানকে সমর্থন জানান।
কৃষক আলাল মোল্লা জানান, কৃষিকাজ করলেও ফুটবল তার প্রিয় খেলা। জ্ঞান-বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে তিনি আর্জেন্টিনা দলকে ভালোবাসতেন।
কিন্তু চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরানকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেন। এবারের বিশ্বকাপে ইরান ভালো কিছু করবে বলেও তিনি আশাবাদী।
ইরানের সমর্থক শওকত জামান জানান, এবার তাদের এলাকায় ইরান দলের সমর্থক অনেক। এর মধ্যে কৃষক আলাল মোল্লা একজন ফুটবলপাগল মানুষ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে আসছিলেন। এবার আর্জেন্টিনা ছেড়ে ইরান দলকে সমর্থন দিয়েছেন তিনি। তাকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে বরণ করে নিয়েছেন তারা।

১৬ জুন, ২০২৬ ১৪:৪৮
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে গত ৫২ ঘণ্টা ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সুমি আক্তার-বেলাল হোসেন দম্পতি।
দুই শিশু সন্তানসহ মোট ছয়জনকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করলেও বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা এখনো শূন্যরেখায় আটকে আছেন।
এর আগে গত রোববার (১৪ জুন) ভোরে উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তপথে নারী-শিশুসহ ৬ জন এবং বড়াইবাড়ি ভন্দুরচর সীমান্তে আরও ৩ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। তাদের কাঁটাতারের এপাড়ে বাংলাদেশ প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হলেও বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর বাঁধায় তাদেরকে বাংলাদেশ ভূখন্ডে পাঠাতে পারেনি বিএসএফ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেলা ১১টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নারী-শিশুসহ ভুক্তভোগীরা সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছিলেন। ভারত কিংবা বাংলাদেশ কোনো দেশেই ঠাঁই মেলেনি তাদের।
গয়টাপাড়া সীমান্তে গিয়ে দেখা গেছে, সীমান্তের শূন্যরেখার একদিকে বিএসএফ, আরেক দিকে বিজিবি। মাঝখানে দুই শিশু সন্তান নিয়ে অসহায় বসে আছেন সুমি আক্তার-বেলাল হোসেন দম্পতি। সুমির কোলে ৬ মাসের শিশু সন্তান ফাইমা আর বেলালের কোলে ৪ বছরের ফাতেমা। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি সয়ে ৫২ ঘণ্টা ধরে এভাবে বসে আছেন তারা।
সুমি আক্তার ও বেলালের বাড়ি বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। কয়েক মাস আগে সিলেট সীমান্তপথে তারা ভারতে পাড়ি জমান।
পরে বিএসএফ তাদের ধরে নিয়ে গত রোববার ভোরে সীমান্তের কাঁটাতার পার করে দেয়। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেননি।
বিজিবি জানায়, বিএসএফ সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে রৌমারীর দুই সীমান্তপথে ৯ জনকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। ঠেলে দেওয়া ব্যক্তিরা কাঁটাতারের এপাড়ে শূন্যরেখার কাছে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থান করলেও তাদের ফেরত নেয়নি বিএসএফ। এদিকে বিজিবিও তাদেরকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেয়নি।
বিজিবি আরও জানায়, পুশইন চেষ্টার পর রোববার দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। বৈঠকে সীমান্তে জড়ো করা ব্যক্তিদের বাংলাদেশের নাগরিক দাবি করেছে বিএসএফ।
ভুক্তভোগী নারী-পুরুষরাও নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করেছে। তবে অবৈধ অনুপ্রবেশ করায় তাদের গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় বিজিবি। একই সঙ্গে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, ঠেলে দেওয়া ব্যক্তিরা মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পর্যন্ত অবস্থানেই আছেন। তারা শূন্যরেখার কাছে ভারতের প্রান্তে রয়েছেন। ওই প্রান্তে বিএসএফ এবং আমাদের প্রান্তে বিজিবি রয়েছে। কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, অবস্থানকারীদের বিএসএফ কম্বল ও পলিথিন, খাবার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমাদের এখানকার লোকজন খাবার ও ছাতা দিয়েছে।
শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলাম। তাদেরকে খাবার দেওয়াসহ সহযোগিতা করা হচ্ছে।
জামালপুর ৩৫-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিজিবি সীমান্তে জনবল ও নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। স্থানীয়রা বিজিবিকে সহায়তা করছে।
সীমান্তে জড়ো করা নারী-শিশুসহ অন্যান্যরা পূর্বের স্থানেই অবস্থান করছে। ইন্ডিয়া পুশ করেছে, আমরা আসতে দেইনি। আপাতত আসতে দেব না যতক্ষণ পর্যন্ত না একটা ভালো সমাধানে আসছে।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে গত ৫২ ঘণ্টা ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সুমি আক্তার-বেলাল হোসেন দম্পতি।
দুই শিশু সন্তানসহ মোট ছয়জনকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করলেও বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা এখনো শূন্যরেখায় আটকে আছেন।
এর আগে গত রোববার (১৪ জুন) ভোরে উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তপথে নারী-শিশুসহ ৬ জন এবং বড়াইবাড়ি ভন্দুরচর সীমান্তে আরও ৩ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। তাদের কাঁটাতারের এপাড়ে বাংলাদেশ প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হলেও বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর বাঁধায় তাদেরকে বাংলাদেশ ভূখন্ডে পাঠাতে পারেনি বিএসএফ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেলা ১১টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নারী-শিশুসহ ভুক্তভোগীরা সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছিলেন। ভারত কিংবা বাংলাদেশ কোনো দেশেই ঠাঁই মেলেনি তাদের।
গয়টাপাড়া সীমান্তে গিয়ে দেখা গেছে, সীমান্তের শূন্যরেখার একদিকে বিএসএফ, আরেক দিকে বিজিবি। মাঝখানে দুই শিশু সন্তান নিয়ে অসহায় বসে আছেন সুমি আক্তার-বেলাল হোসেন দম্পতি। সুমির কোলে ৬ মাসের শিশু সন্তান ফাইমা আর বেলালের কোলে ৪ বছরের ফাতেমা। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি সয়ে ৫২ ঘণ্টা ধরে এভাবে বসে আছেন তারা।
সুমি আক্তার ও বেলালের বাড়ি বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। কয়েক মাস আগে সিলেট সীমান্তপথে তারা ভারতে পাড়ি জমান।
পরে বিএসএফ তাদের ধরে নিয়ে গত রোববার ভোরে সীমান্তের কাঁটাতার পার করে দেয়। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেননি।
বিজিবি জানায়, বিএসএফ সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে রৌমারীর দুই সীমান্তপথে ৯ জনকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। ঠেলে দেওয়া ব্যক্তিরা কাঁটাতারের এপাড়ে শূন্যরেখার কাছে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থান করলেও তাদের ফেরত নেয়নি বিএসএফ। এদিকে বিজিবিও তাদেরকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেয়নি।
বিজিবি আরও জানায়, পুশইন চেষ্টার পর রোববার দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। বৈঠকে সীমান্তে জড়ো করা ব্যক্তিদের বাংলাদেশের নাগরিক দাবি করেছে বিএসএফ।
ভুক্তভোগী নারী-পুরুষরাও নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করেছে। তবে অবৈধ অনুপ্রবেশ করায় তাদের গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় বিজিবি। একই সঙ্গে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, ঠেলে দেওয়া ব্যক্তিরা মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পর্যন্ত অবস্থানেই আছেন। তারা শূন্যরেখার কাছে ভারতের প্রান্তে রয়েছেন। ওই প্রান্তে বিএসএফ এবং আমাদের প্রান্তে বিজিবি রয়েছে। কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, অবস্থানকারীদের বিএসএফ কম্বল ও পলিথিন, খাবার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমাদের এখানকার লোকজন খাবার ও ছাতা দিয়েছে।
শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলাম। তাদেরকে খাবার দেওয়াসহ সহযোগিতা করা হচ্ছে।
জামালপুর ৩৫-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিজিবি সীমান্তে জনবল ও নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। স্থানীয়রা বিজিবিকে সহায়তা করছে।
সীমান্তে জড়ো করা নারী-শিশুসহ অন্যান্যরা পূর্বের স্থানেই অবস্থান করছে। ইন্ডিয়া পুশ করেছে, আমরা আসতে দেইনি। আপাতত আসতে দেব না যতক্ষণ পর্যন্ত না একটা ভালো সমাধানে আসছে।

১৬ জুন, ২০২৬ ১৪:০৮
নড়াইলের লোহাগড়ায় সুমনা ফেরদৌসী (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করেছে তার স্বামী লিমন মল্লিক। এ ঘটনায় লিমনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। একই দিন রাতে অভিযুক্ত লিমন মল্লিককে আটক করা হয়।
নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়ার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। সুমনার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। পরে ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়। এটি ছিল লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন লিমন। তবে প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসায় পরিবারে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে লিমনের প্রথম স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে রংপুরে চলে যান। এরপর চায়ের দোকান পরিচালনা ও কাঠ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন লিমন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, লিমনের অনুপস্থিতিতে সুমনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। সোমবার সকালে টিকটক ব্যবহার ও অনলাইনে যোগাযোগ নিয়ে দুজনের মধ্যে আবারও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লিমনের মারধরে সুমনা আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর লিমন স্বাভাবিকভাবে কাজে চলে যান। বিকেলে বাড়ি ফিরে নিজেই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। চিৎকার শুনে আশেপাশের মানুষ ছুটে আসে। খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদনের পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিমনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, আটক লিমন মল্লিক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
নড়াইলের লোহাগড়ায় সুমনা ফেরদৌসী (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করেছে তার স্বামী লিমন মল্লিক। এ ঘটনায় লিমনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। একই দিন রাতে অভিযুক্ত লিমন মল্লিককে আটক করা হয়।
নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়ার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। সুমনার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। পরে ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়। এটি ছিল লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন লিমন। তবে প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসায় পরিবারে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে লিমনের প্রথম স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে রংপুরে চলে যান। এরপর চায়ের দোকান পরিচালনা ও কাঠ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন লিমন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, লিমনের অনুপস্থিতিতে সুমনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। সোমবার সকালে টিকটক ব্যবহার ও অনলাইনে যোগাযোগ নিয়ে দুজনের মধ্যে আবারও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লিমনের মারধরে সুমনা আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর লিমন স্বাভাবিকভাবে কাজে চলে যান। বিকেলে বাড়ি ফিরে নিজেই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। চিৎকার শুনে আশেপাশের মানুষ ছুটে আসে। খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদনের পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাণ্ড। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিমনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, আটক লিমন মল্লিক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’