আওয়ামী শোকের মাস আগস্টে দেশবাসীকে কাঁদাতে চায় ফ্যাসিবাদীরা। অন্তর্বর্তী সরকার হটাতে তৈরি করা হচ্ছে ভয়াবহ নাশকতার ছক। বিভিন্ন দেশে পলাতক মুজিববাদী নেতাকর্মী এবং আমলা, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের সাবেক কর্মকর্তাদের দিয়ে আঁটা হচ্ছে কূটকৌশল। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দলীয় ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। ভারতে বসে এ নীলনকশা প্রস্তুত করছেন শেখ হাসিনা। জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি করা প্রতিবেদনে মিলেছে উদ্বেগজনক এ তথ্য।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামী ৫ আগস্ট। সেদিন দেশ দখলের স্বপ্ন দেখছে আওয়ামী লীগ। অস্থিরতা তৈরি করতে ঢাকা ও দিল্লিতে চলছে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। ইতোমধ্যে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় চার শতাধিক আওয়ামী ক্যাডারকে কর্মশালার নামে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গোপালগঞ্জকে সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম ধরে সেখানে প্রস্তুত করা হচ্ছে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র। দেশের বাইরেও পুরোদমে কার্যক্রম চালাচ্ছে আওয়ামী ক্যাডাররা। ভারতের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় জড়ো হচ্ছে পলাতক ও গা-ঢাকা দেওয়া ফ্যাসিবাদীরা। আয়ত্ত করছে নাশকতার বিভিন্ন উপায় ও হামলার কৌশল।
আওয়ামী লীগ আগস্টকে আবেগের অস্ত্র বানাতে চায় জানিয়ে গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, এ মাসকে ঘিরে নেতাকর্মীদের নতুন করে শোকের আবহে সংঘবদ্ধ করতে চায় ফ্যাসিবাদী দলটি। ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্দোলনের নামে সরকারের বিরুদ্ধে হানতে চায় চূড়ান্ত আঘাত।
প্রতিবেদনের কিছু তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য এ পর্যন্ত গৃহীত পরিকল্পনা তেমন সাফল্যের মুখ না দেখায় চব্বিশের ৫ আগস্টের মতো পরিস্থিতি তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এ লক্ষ্যে সারা দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে পারদর্শী ও ‘ডাই হার্ট’ আওয়ামী লীগারদের বাছাই করা হয়েছে, যারা দলের জন্য জীবনও দিতে প্রস্তুত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের ভারতে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাসিনার নির্দেশনা অনুসরণ করে সপ্তাহ দুই আগ থেকে বুকিং দেওয়া শুরু হয়েছে এয়ার টিকিট। অনেকে ইতোমধ্যে ভারতে পৌঁছেছেন। সেখানে বাছাইকৃত নেতাদের চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়া হবে।
রাজধানী ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন এবং জেলার জন্য একজন করে নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা নাশকতার বিষয়গুলো (আওয়ামী লীগের ভাষায় আন্দোলন) তদারক করবেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ঢাকায় নাশকতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কামাল বর্তমানে ভারতে পলাতক আছেন। তিনি ইতোমধ্যে তার বাহিনী গঠনের কাজ শেষ করেছেন এবং বাছাইকৃতদের দেশে ও দেশের বাইরে প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছেন।
কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সব সহায়তা দেওয়ার জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন এসবির সাবেক প্রধান, ভারতে পলাতক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম। এছাড়া পলাতক বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা এসএসএফের সাবেক ডিজি ও সাবেক কিউএমজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মুজিবুর রহমান বর্তমানে দিল্লিতে আছেন। তিনিও হাসিনার সঙ্গে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত জেনারেল মুজিব। ময়মনসিংহ অঞ্চলের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে তিনি ভারতে পালান। মুজিব ছাড়াও পলাতক একাধিক জেনারেল নাশকতার পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। এসবি মনিরুল দেশবিরোধী তৎপরতা চালানোর জন্য দিল্লিতে একটি কার্যালয় নিয়েছেন। সেখানে বসে ‘র’-এর সঙ্গে পরামর্শ করে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন হাসিনা। নাশকতার সার্বিক বিষয় তত্ত্বাবধান করছেন জেনারেল মুজিব ও এসবি মনিরুল।
পাশাপাশি দেশে অবস্থান করা কয়েক সাবেক ও বর্তমান পুলিশ কর্মকর্তার নিবিড় তত্ত্বাবধানে ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ চলছে। প্রশিক্ষিত কর্মীদের কাজ হবে নির্দেশনা অনুযায়ী ‘হিট অ্যান্ড রান’ পদ্ধতিতে কাজ করা। এমন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে, যা আগে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। এতে নানাভাবে সহায়তা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা। এ বিষয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। ফাঁস হওয়া একটি অডিওবার্তায় তাকে বলতে শোনা গেছে, ১৬ বছরে অনেক অফিসার ও অধস্তন ফোর্স নিয়োগ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এরাই সময়মতো আওয়ামী লীগের পক্ষে বন্দুকের নল ঘুরিয়ে দেবে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদন বিশ্লেষণে আরও জানা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় স্থাপনায় নাশকতাসহ ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, কৌশলে অভ্যুত্থানপন্থি দলগুলোর কিছু কর্মীকে ভাড়া করে নিজেদের মধ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর মাধ্যমে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে নির্বাচনের আগেই ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে চায় আওয়ামী লীগ। বর্তমানে পুলিশের দুর্বল অবস্থার সুযোগে বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য তাদেরই প্রথম টার্গেট করা হতে পারে, যাতে পুলিশ আন্দোলন দমনে নিষ্ক্রিয় থাকে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আঘাত করা, যাতে দেশ ও দেশের বাইরে আলোড়ন তৈরি হয়। বাছাইকৃত কর্মীদের যোগাযোগের জন্য প্রচলিত মাধ্যম এড়িয়ে অপরিচিত আলাদা অ্যাপ চালু, সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছে প্রশিক্ষিত দল।
এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমন্বয়কদের প্রয়োজনে তাদের কাছে টাকা পাঠানো হচ্ছে। হুন্ডির মাধ্যমে ভারত থেকে অর্থ আসছে। এছাড়া দেশে অবস্থান করা তুলনামূলক কম বিতর্কিত নেতাদের মাধ্যমে টাকা সরবরাহ করা হচ্ছে। সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করা সামিট গ্রুপের মালিক আজিজ খানকে বিদেশে ফান্ড ম্যানেজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ৮ জুলাই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি কনভেনশন হল ভাড়া নিয়ে দিনব্যাপী ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এনজিওর প্রশিক্ষণের নামে চার শতাধিক নেতাকর্মীকে নাশকতার বিভিন্ন আধুনিক কৌশল শেখানো হয়। গুজব ছড়ানোর নানা উপায় সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া হয়। এ ঘটনায় দুজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজনের বাড়ি গোপালগঞ্জে।
নাশকতার ছকের অংশ হিসেবে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির মতো উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতির সুযোগ কাজে লাগাতে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে আওয়ামী ক্যাডারদের। সর্বশেষ ২২ জুলাই সচিবালয়ে আক্রমণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের মধ্যে অভিষেক সিকদারসহ চারজনের অনলাইন যোগাযোগের সূত্র ধরে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অবস্থানরত নেতাদের নির্দেশনায় ২২ জুলাই সচিবালয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পাশাপাশি শাহবাগ দখল করার পরিকল্পনা ছিল আওয়ামী লীগের। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার খোরশেদ আলম গোপালগঞ্জ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। গ্রেপ্তার শাকিলও আওয়ামী পরিবারের সদস্য ও ছাত্রলীগে জড়িত।
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম শানতু সাংবাদিকদের বলেন, দেশবিরোধী যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত। তাদের যে কোনো অপতৎপরতা ঠেকিয়ে দেওয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, গোপালগঞ্জসহ যেখানেই অপরাধীরা থাকবে, অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সব সময় প্রস্তুত। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় সদা সজাগ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী সাংবাদিকদের বলেন, সচিবালয়ে হামলা ও মাইলস্টোনের কাছে উত্তরা দিয়াবাড়ী এলাকায় বিক্ষোভে উসকানি ও মদতদাতারা রেহাই পাবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় প্রস্তুত আছে।’
সংবাদসূত্র: দৈনিক আমার দেশ।

১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০৭
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে তাঁর এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। ইশরাকের দাবি, তাঁকে টার্গেট করে হেয় করা হয়েছে। দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চান না বলেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাতে সম্মতি দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আজকের দিন থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি। পুরো সময়টা ঢাকা-৬ আসন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাদক নির্মূল এবং অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আমি পদত্যাগ করতে চাই। আমার জন্য যেন কাউকে বিব্রত হতে না হয়।’
সম্প্রতি অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামার ঘটনায় আলোচনায় আসেন ইশরাক হোসেন। তাঁর এই কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমেও আলোচিত হয়। এর পরপরই তাঁর মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি সামনে আসে।
এর আগে রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক নিজেই দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইশরাক বলেন, গত দুই-তিন দিন ধরে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে কিছু সত্যের পাশাপাশি অতিরঞ্জিত তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তাঁর ভাষ্য, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কল্পকাহিনি তৈরি করা হয়েছে এবং তাঁকে হেয় করার চেষ্টা হয়েছে।
ইশরাকের অভিযোগ, এসব আলোচনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন এবং এতে দলও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও ঢাকা-৬ আসন ও আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ইশরাক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মন্ত্রিত্বের বাইরে থেকে এসব বিষয়ে বেশি সময় দিতে চান তিনি।
ইশরাকের পদত্যাগের ঘোষণার মধ্য দিয়ে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। এখন তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ঢাকা-৬ এলাকার সমস্যা সমাধানে ভূমিকা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।’
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে তাঁর এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। ইশরাকের দাবি, তাঁকে টার্গেট করে হেয় করা হয়েছে। দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চান না বলেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাতে সম্মতি দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আজকের দিন থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি। পুরো সময়টা ঢাকা-৬ আসন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাদক নির্মূল এবং অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আমি পদত্যাগ করতে চাই। আমার জন্য যেন কাউকে বিব্রত হতে না হয়।’
সম্প্রতি অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামার ঘটনায় আলোচনায় আসেন ইশরাক হোসেন। তাঁর এই কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমেও আলোচিত হয়। এর পরপরই তাঁর মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি সামনে আসে।
এর আগে রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক নিজেই দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইশরাক বলেন, গত দুই-তিন দিন ধরে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে কিছু সত্যের পাশাপাশি অতিরঞ্জিত তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তাঁর ভাষ্য, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কল্পকাহিনি তৈরি করা হয়েছে এবং তাঁকে হেয় করার চেষ্টা হয়েছে।
ইশরাকের অভিযোগ, এসব আলোচনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন এবং এতে দলও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও ঢাকা-৬ আসন ও আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ইশরাক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মন্ত্রিত্বের বাইরে থেকে এসব বিষয়ে বেশি সময় দিতে চান তিনি।
ইশরাকের পদত্যাগের ঘোষণার মধ্য দিয়ে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। এখন তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ঢাকা-৬ এলাকার সমস্যা সমাধানে ভূমিকা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।’

১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:১৭
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান। সেখানে তাঁকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্য নিয়ে আপত্তি না থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এদিকে, ইশরাকের অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিবি প্রধান জানিয়েছেন, ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দিতে স্থানীয় জেলা প্রশাসককে বলা হয়েছে। আইনগত কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।
ঘটনার পরদিনই প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। তবে পদত্যাগের নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কি না, কিংবা এ বিষয়ে পরবর্তী কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস, কালবেলা, প্রথম আলো ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন।
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান। সেখানে তাঁকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্য নিয়ে আপত্তি না থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এদিকে, ইশরাকের অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিবি প্রধান জানিয়েছেন, ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দিতে স্থানীয় জেলা প্রশাসককে বলা হয়েছে। আইনগত কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।
ঘটনার পরদিনই প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। তবে পদত্যাগের নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কি না, কিংবা এ বিষয়ে পরবর্তী কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস, কালবেলা, প্রথম আলো ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন।

১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৪৫
বরিশাল জেলা ও মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদকসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, নদীভাঙন প্রতিরোধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠাসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ১০ দফা দাবিতে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকারের হাতে রোববার ওই স্মারকলিপি তুলে দেন এবি পার্টির জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ। এসময় এবি পার্টির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের জেলা ও মহানগর কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ওই স্মারকলিপিতে বরিশালের জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, মাদক ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা, নদীভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগরের সদস্য সচিব প্রকৌশলী জি.এম রাব্বী, যুগ্ম-আহ্বায়ক সাকিব হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব রাকিব সিকদার, শাকিল হাওলাদার, সদস্য জসিম উদ্দিন, বাহারুল গাজী, নারী নেত্রী নাজমুন নাহার বেবী ছাড়াও বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের বরিশাল জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ।
এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জি.এম রাব্বী বলেন, 'জনগণের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ, জবাবদিহিতা ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বরিশাল জেলা ও মহানগরের সার্বিক উন্নয়ন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় এবি পার্টি সর্বদা দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।'
বরিশাল জেলা ও মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদকসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, নদীভাঙন প্রতিরোধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠাসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ১০ দফা দাবিতে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকারের হাতে রোববার ওই স্মারকলিপি তুলে দেন এবি পার্টির জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ। এসময় এবি পার্টির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের জেলা ও মহানগর কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ওই স্মারকলিপিতে বরিশালের জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, মাদক ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা, নদীভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগরের সদস্য সচিব প্রকৌশলী জি.এম রাব্বী, যুগ্ম-আহ্বায়ক সাকিব হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব রাকিব সিকদার, শাকিল হাওলাদার, সদস্য জসিম উদ্দিন, বাহারুল গাজী, নারী নেত্রী নাজমুন নাহার বেবী ছাড়াও বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের বরিশাল জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ।
এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জি.এম রাব্বী বলেন, 'জনগণের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ, জবাবদিহিতা ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বরিশাল জেলা ও মহানগরের সার্বিক উন্নয়ন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় এবি পার্টি সর্বদা দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।'

২৮ জুলাই, ২০২৫ ১৯:২৪
আওয়ামী শোকের মাস আগস্টে দেশবাসীকে কাঁদাতে চায় ফ্যাসিবাদীরা। অন্তর্বর্তী সরকার হটাতে তৈরি করা হচ্ছে ভয়াবহ নাশকতার ছক। বিভিন্ন দেশে পলাতক মুজিববাদী নেতাকর্মী এবং আমলা, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের সাবেক কর্মকর্তাদের দিয়ে আঁটা হচ্ছে কূটকৌশল। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দলীয় ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। ভারতে বসে এ নীলনকশা প্রস্তুত করছেন শেখ হাসিনা। জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি করা প্রতিবেদনে মিলেছে উদ্বেগজনক এ তথ্য।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামী ৫ আগস্ট। সেদিন দেশ দখলের স্বপ্ন দেখছে আওয়ামী লীগ। অস্থিরতা তৈরি করতে ঢাকা ও দিল্লিতে চলছে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। ইতোমধ্যে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় চার শতাধিক আওয়ামী ক্যাডারকে কর্মশালার নামে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গোপালগঞ্জকে সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম ধরে সেখানে প্রস্তুত করা হচ্ছে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র। দেশের বাইরেও পুরোদমে কার্যক্রম চালাচ্ছে আওয়ামী ক্যাডাররা। ভারতের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় জড়ো হচ্ছে পলাতক ও গা-ঢাকা দেওয়া ফ্যাসিবাদীরা। আয়ত্ত করছে নাশকতার বিভিন্ন উপায় ও হামলার কৌশল।
আওয়ামী লীগ আগস্টকে আবেগের অস্ত্র বানাতে চায় জানিয়ে গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, এ মাসকে ঘিরে নেতাকর্মীদের নতুন করে শোকের আবহে সংঘবদ্ধ করতে চায় ফ্যাসিবাদী দলটি। ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্দোলনের নামে সরকারের বিরুদ্ধে হানতে চায় চূড়ান্ত আঘাত।
প্রতিবেদনের কিছু তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য এ পর্যন্ত গৃহীত পরিকল্পনা তেমন সাফল্যের মুখ না দেখায় চব্বিশের ৫ আগস্টের মতো পরিস্থিতি তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এ লক্ষ্যে সারা দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে পারদর্শী ও ‘ডাই হার্ট’ আওয়ামী লীগারদের বাছাই করা হয়েছে, যারা দলের জন্য জীবনও দিতে প্রস্তুত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের ভারতে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাসিনার নির্দেশনা অনুসরণ করে সপ্তাহ দুই আগ থেকে বুকিং দেওয়া শুরু হয়েছে এয়ার টিকিট। অনেকে ইতোমধ্যে ভারতে পৌঁছেছেন। সেখানে বাছাইকৃত নেতাদের চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়া হবে।
রাজধানী ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন এবং জেলার জন্য একজন করে নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা নাশকতার বিষয়গুলো (আওয়ামী লীগের ভাষায় আন্দোলন) তদারক করবেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ঢাকায় নাশকতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কামাল বর্তমানে ভারতে পলাতক আছেন। তিনি ইতোমধ্যে তার বাহিনী গঠনের কাজ শেষ করেছেন এবং বাছাইকৃতদের দেশে ও দেশের বাইরে প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছেন।
কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সব সহায়তা দেওয়ার জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন এসবির সাবেক প্রধান, ভারতে পলাতক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম। এছাড়া পলাতক বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা এসএসএফের সাবেক ডিজি ও সাবেক কিউএমজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মুজিবুর রহমান বর্তমানে দিল্লিতে আছেন। তিনিও হাসিনার সঙ্গে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত জেনারেল মুজিব। ময়মনসিংহ অঞ্চলের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে তিনি ভারতে পালান। মুজিব ছাড়াও পলাতক একাধিক জেনারেল নাশকতার পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। এসবি মনিরুল দেশবিরোধী তৎপরতা চালানোর জন্য দিল্লিতে একটি কার্যালয় নিয়েছেন। সেখানে বসে ‘র’-এর সঙ্গে পরামর্শ করে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন হাসিনা। নাশকতার সার্বিক বিষয় তত্ত্বাবধান করছেন জেনারেল মুজিব ও এসবি মনিরুল।
পাশাপাশি দেশে অবস্থান করা কয়েক সাবেক ও বর্তমান পুলিশ কর্মকর্তার নিবিড় তত্ত্বাবধানে ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ চলছে। প্রশিক্ষিত কর্মীদের কাজ হবে নির্দেশনা অনুযায়ী ‘হিট অ্যান্ড রান’ পদ্ধতিতে কাজ করা। এমন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে, যা আগে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। এতে নানাভাবে সহায়তা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা। এ বিষয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। ফাঁস হওয়া একটি অডিওবার্তায় তাকে বলতে শোনা গেছে, ১৬ বছরে অনেক অফিসার ও অধস্তন ফোর্স নিয়োগ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এরাই সময়মতো আওয়ামী লীগের পক্ষে বন্দুকের নল ঘুরিয়ে দেবে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদন বিশ্লেষণে আরও জানা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় স্থাপনায় নাশকতাসহ ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, কৌশলে অভ্যুত্থানপন্থি দলগুলোর কিছু কর্মীকে ভাড়া করে নিজেদের মধ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর মাধ্যমে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে নির্বাচনের আগেই ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে চায় আওয়ামী লীগ। বর্তমানে পুলিশের দুর্বল অবস্থার সুযোগে বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য তাদেরই প্রথম টার্গেট করা হতে পারে, যাতে পুলিশ আন্দোলন দমনে নিষ্ক্রিয় থাকে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আঘাত করা, যাতে দেশ ও দেশের বাইরে আলোড়ন তৈরি হয়। বাছাইকৃত কর্মীদের যোগাযোগের জন্য প্রচলিত মাধ্যম এড়িয়ে অপরিচিত আলাদা অ্যাপ চালু, সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছে প্রশিক্ষিত দল।
এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমন্বয়কদের প্রয়োজনে তাদের কাছে টাকা পাঠানো হচ্ছে। হুন্ডির মাধ্যমে ভারত থেকে অর্থ আসছে। এছাড়া দেশে অবস্থান করা তুলনামূলক কম বিতর্কিত নেতাদের মাধ্যমে টাকা সরবরাহ করা হচ্ছে। সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করা সামিট গ্রুপের মালিক আজিজ খানকে বিদেশে ফান্ড ম্যানেজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ৮ জুলাই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি কনভেনশন হল ভাড়া নিয়ে দিনব্যাপী ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এনজিওর প্রশিক্ষণের নামে চার শতাধিক নেতাকর্মীকে নাশকতার বিভিন্ন আধুনিক কৌশল শেখানো হয়। গুজব ছড়ানোর নানা উপায় সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া হয়। এ ঘটনায় দুজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজনের বাড়ি গোপালগঞ্জে।
নাশকতার ছকের অংশ হিসেবে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির মতো উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতির সুযোগ কাজে লাগাতে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে আওয়ামী ক্যাডারদের। সর্বশেষ ২২ জুলাই সচিবালয়ে আক্রমণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের মধ্যে অভিষেক সিকদারসহ চারজনের অনলাইন যোগাযোগের সূত্র ধরে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অবস্থানরত নেতাদের নির্দেশনায় ২২ জুলাই সচিবালয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পাশাপাশি শাহবাগ দখল করার পরিকল্পনা ছিল আওয়ামী লীগের। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার খোরশেদ আলম গোপালগঞ্জ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। গ্রেপ্তার শাকিলও আওয়ামী পরিবারের সদস্য ও ছাত্রলীগে জড়িত।
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম শানতু সাংবাদিকদের বলেন, দেশবিরোধী যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত। তাদের যে কোনো অপতৎপরতা ঠেকিয়ে দেওয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, গোপালগঞ্জসহ যেখানেই অপরাধীরা থাকবে, অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সব সময় প্রস্তুত। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় সদা সজাগ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী সাংবাদিকদের বলেন, সচিবালয়ে হামলা ও মাইলস্টোনের কাছে উত্তরা দিয়াবাড়ী এলাকায় বিক্ষোভে উসকানি ও মদতদাতারা রেহাই পাবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় প্রস্তুত আছে।’
সংবাদসূত্র: দৈনিক আমার দেশ।
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩১
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫৩
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:০১
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৪