ছাত্র-জনতার টানা আন্দোলনের মুখে অবশেষে বরিশালের সিভিল সার্জন পদে প্রশাসনিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে সরকারি আদেশ হাতে পাওয়ার আগমুহূর্তেও আজ রবিবার সকাল থেকে আবারও বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা। রোববার (২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের কাছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় পরিচালকের জারি করা দুটি সরকারি আদেশের কপি পৌঁছে দেওয়া হয়। সেখানে চিফ সিভিল সার্জন ডা. মবিন চলতি দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে ডা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে বরিশালের সিভিল সার্জনের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার (স্ট্যান্ড রিলিজ) করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), বরিশালের কার্যালয় থেকে জারি করা আদেশে চিফ সার্জন, বরিশালকে নতুন সিভিল সার্জন যোগদান না করা পর্যন্ত সিভিল সার্জনের চলতি দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ডা. মনিরুজ্জামানের বরিশালে যোগদানকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় তাকে এই পদে আনা হয়েছে। তার যোগদান ঠেকাতে ছাত্র-জনতা ধারাবাহিকভাবে অবস্থান কর্মসূচি, তালাবদ্ধ কর্মসূচি ও বিক্ষোভ পালন করে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সাবেক সমন্বয়ক সাব্বির হোসেন সোহাগ বলেন, যেহেতু সিভিল সার্জন অপসারণ দাবী মেনে নিয়ে সরকার এখানে নতুন সিভিল সার্জন না আসা পর্যন্ত চিফ সার্জন ডাঃ মবিনকে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা তাই আমাদের এই ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করে তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু একজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না; বরিশালের স্বাস্থ্য প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে বলে জানান সোহাগ।
এসময় আন্দোলনকারীরা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ বন্ধ না হলে আমাদের এই আন্দোলনও অব্যাহত থাকবে।
এদিকে সরকারি আদেশ জারির ফলে প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটিয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৫ ই আগস্ট এর পূর্বে ডাক্তার মনিরুজ্জামান গৌরনদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে ছিলেন। জুলাই আন্দোলন চলাকালে তিনি আহতদের কোন সহযোগিতা করেননি। এমনকি ৫ ই আগস্ট পরবর্তী আহতদের তালিকা চাওয়া হল তা তৈরিতে গাফিলতি করেন। তিনি ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ নিকটজন। আকস্মিকভাবে তাকে পদোন্নতি দিয়ে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন পদে নিয়োগ দেওয়া হলে সচেতন জনগণ ব্যানারে শুরু হয় আন্দোলন।’

১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৫০
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে অর্থাৎ আওয়ামী লীগের বিএনপির সাড়ে চার হাজারের বেশি নেতাকর্মী ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন। সাতশর অধিক নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছিলেন। যাদের স্বজনেরা এখনো তাহাজ্জুদ নামাজ শেষে জায়নামাজে বসে স্বজন ফেরার প্রতীক্ষায় থাকে। গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে বরিশালের গৌরনদীতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়ার অবিস্মরণীয় ভূমিকা ও বর্তমান প্রেক্ষিত শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির দিশারি হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পেরেছিলেন তার একমাত্র কারণ পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার মতো স্ত্রী। জিয়াউর রহমানের প্রতিটি কাজের ছায়াসঙ্গী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ’
তিনি বলেন, ‘দেশি-বিদেশ ষড়যন্ত্রে যখন জিয়াউর রহমানকে হত্যাকাণ্ডের শিকার ঘটানো হয়। তখন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গৃহবধূ। নাবালক দুইটি সন্তান নিয়ে যখন পরিবারের হাল ধরেছিলেন তিনি, তখন বিএনপির অবস্থাও করুণ। তখন বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা বলেছিলেন, আপনাকে বিএনপির হাল ধরতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘একদিকে দুটি নাবালক সন্তানসহ সংসারের হাল। অন্যদিকে গোটা বিএনপি পরিবারের হাল ধরে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও স্বৈরাচার হটানোর জন্য বেগম খালেদা জিয়া আপষহীন নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানুষের জন্য মুক্তির দিসারী ছিলেন।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা জুলাইকে ছোট করে দেখতে চাইনা। জুলাই বিপ্লব সফল হয়েছে বিগত ১৬ বছর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের যে সূচনা হয়েছিল তার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে।’
আলোচনা সভায় সভা প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্যসচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপি’র আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব সফিকুর রহমান শরীফ স্বপন প্রমুখ।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে অর্থাৎ আওয়ামী লীগের বিএনপির সাড়ে চার হাজারের বেশি নেতাকর্মী ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন। সাতশর অধিক নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছিলেন। যাদের স্বজনেরা এখনো তাহাজ্জুদ নামাজ শেষে জায়নামাজে বসে স্বজন ফেরার প্রতীক্ষায় থাকে। গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে বরিশালের গৌরনদীতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়ার অবিস্মরণীয় ভূমিকা ও বর্তমান প্রেক্ষিত শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির দিশারি হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পেরেছিলেন তার একমাত্র কারণ পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার মতো স্ত্রী। জিয়াউর রহমানের প্রতিটি কাজের ছায়াসঙ্গী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ’
তিনি বলেন, ‘দেশি-বিদেশ ষড়যন্ত্রে যখন জিয়াউর রহমানকে হত্যাকাণ্ডের শিকার ঘটানো হয়। তখন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গৃহবধূ। নাবালক দুইটি সন্তান নিয়ে যখন পরিবারের হাল ধরেছিলেন তিনি, তখন বিএনপির অবস্থাও করুণ। তখন বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা বলেছিলেন, আপনাকে বিএনপির হাল ধরতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘একদিকে দুটি নাবালক সন্তানসহ সংসারের হাল। অন্যদিকে গোটা বিএনপি পরিবারের হাল ধরে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও স্বৈরাচার হটানোর জন্য বেগম খালেদা জিয়া আপষহীন নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানুষের জন্য মুক্তির দিসারী ছিলেন।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা জুলাইকে ছোট করে দেখতে চাইনা। জুলাই বিপ্লব সফল হয়েছে বিগত ১৬ বছর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের যে সূচনা হয়েছিল তার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে।’
আলোচনা সভায় সভা প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্যসচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপি’র আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব সফিকুর রহমান শরীফ স্বপন প্রমুখ।

১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৩৫
আজ ১৮ আগস্ট ২০২৬ইং, সোমবার ভাষা সৈনিক মরহুম শেখ এ মালেকের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০২ সালের এই দিনে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়ি “শেখের হাট লজ” আমানতগঞ্জ, বরিশাল-এ ৭৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি একাধারে নাট্যকর্মী, সমাজসেবক ও দক্ষ সংগঠক এবং সাংবাদিক ছিলেন। প্রখ্যাত সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার সাথে তার নিবিড় সম্পর্ক ছিল। এছাড়া বরিশালের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সাথে তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ট। কর্ম জীবনে তিনি বরিশাল প্রধান ডাকঘরের প্রধান পোস্টমাস্টার (এপিএমজি) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি একাধারে প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি, সাপ্তাহিক খাদেম পত্রিকার সহসম্পাদক, শের-ই বাংলা স্মৃতি সংসদের সভাপতি, সাহিত্য পরিষদ, পাবলিক লাইব্রেরী, ফোকলোল, নাট্য নিকেতন, শিল্পকলা একাডেমি, মুকুল ফৌজসহ নানা সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।
ছাত্রজীবনে তিনি একে স্কুল ও বি এম কলেজে অধ্যয়ন করেন। ১৯৪১-৪৭ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক সম্মুখ সক্রিয় সৈনিক। এবং তিনি ব্রিটিশের বিরুদ্বে কালো পতাকা উত্তলোনকারী। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বরিশাল জেলা সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ১১ মার্চ ফকিরবাড়ি রোডের জনসভা থেকে আন্দোলরত অবস্থায় তিনি গ্রেপ্তার হন। ১৯৭১ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি, বিএম কলেজের ভিপি মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট শেখ আবদুর রব ও ঝালকাঠি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ঝালকাঠি আইনজীবী সমিতির সভাপতি মরহুম অ্যাডভোকেট শেখ আবদুছ শুকুর (অনারারি মেজিস্ট্রেট) তাদেরই বড় ভাই হওয়ায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে অফিস থেকে গ্রেপ্তার করে বরিশাল ওয়াপদার টর্চার সেলে নিয়ে যায় এবং তার ওপর নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন চালায়। স্বাধীনতার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আমানতগঞ্জ রেডক্রসের তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নিজ গ্রাম শেখেরহাটে বহু প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। পোস্ট অফিস, লঞ্চ/স্টিমার ঘাট, টেলিফোন অফিস, পুলিশ ফাড়ি, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ অন্যতম। রোকেয়া খাতুন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার লক্ষে প্রাথমিক কার্যক্রম নিজ কাচারি বাড়িতে শুরু করেন। এককথায় শেখেরহাটের উন্নয়নমূলক কাজে তার সক্রিয় ভূমিকা আজো প্রবাদপ্রতিম। শেখেরহাটের আনজিৎ শাহ (র:) এর মাজারের আধুনিকায়নে তার ভূমিকা অনন্য। সদালাপি, সদাহাস্যোজ্জ্বল শেখ আবদুল মালেক কারও কাছে মালেক ভাই, কারো মালেক দা হিসাবে বিশেষ পরিচিত ছিলেন।
আজকের এই মৃত্যুবার্ষিকীতে তার পৈতৃক বাড়ি “শেখের হাট লজ” আমানতগঞ্জ, বরিশাল ও শেখের হাটে (রাজপাশা) নিজেদের প্রতিষ্ঠিত আরএসএম মাদ্রাসা, মসজিদে কোরাআন খতম, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর পরিবার সকল শুভাকাঙ্খি ও স্বজনদের কাছে মরহুমের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেছেন।’
আজ ১৮ আগস্ট ২০২৬ইং, সোমবার ভাষা সৈনিক মরহুম শেখ এ মালেকের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০২ সালের এই দিনে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়ি “শেখের হাট লজ” আমানতগঞ্জ, বরিশাল-এ ৭৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি একাধারে নাট্যকর্মী, সমাজসেবক ও দক্ষ সংগঠক এবং সাংবাদিক ছিলেন। প্রখ্যাত সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার সাথে তার নিবিড় সম্পর্ক ছিল। এছাড়া বরিশালের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সাথে তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ট। কর্ম জীবনে তিনি বরিশাল প্রধান ডাকঘরের প্রধান পোস্টমাস্টার (এপিএমজি) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি একাধারে প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি, সাপ্তাহিক খাদেম পত্রিকার সহসম্পাদক, শের-ই বাংলা স্মৃতি সংসদের সভাপতি, সাহিত্য পরিষদ, পাবলিক লাইব্রেরী, ফোকলোল, নাট্য নিকেতন, শিল্পকলা একাডেমি, মুকুল ফৌজসহ নানা সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।
ছাত্রজীবনে তিনি একে স্কুল ও বি এম কলেজে অধ্যয়ন করেন। ১৯৪১-৪৭ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক সম্মুখ সক্রিয় সৈনিক। এবং তিনি ব্রিটিশের বিরুদ্বে কালো পতাকা উত্তলোনকারী। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বরিশাল জেলা সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ১১ মার্চ ফকিরবাড়ি রোডের জনসভা থেকে আন্দোলরত অবস্থায় তিনি গ্রেপ্তার হন। ১৯৭১ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি, বিএম কলেজের ভিপি মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট শেখ আবদুর রব ও ঝালকাঠি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ঝালকাঠি আইনজীবী সমিতির সভাপতি মরহুম অ্যাডভোকেট শেখ আবদুছ শুকুর (অনারারি মেজিস্ট্রেট) তাদেরই বড় ভাই হওয়ায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে অফিস থেকে গ্রেপ্তার করে বরিশাল ওয়াপদার টর্চার সেলে নিয়ে যায় এবং তার ওপর নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন চালায়। স্বাধীনতার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আমানতগঞ্জ রেডক্রসের তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নিজ গ্রাম শেখেরহাটে বহু প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। পোস্ট অফিস, লঞ্চ/স্টিমার ঘাট, টেলিফোন অফিস, পুলিশ ফাড়ি, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ অন্যতম। রোকেয়া খাতুন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার লক্ষে প্রাথমিক কার্যক্রম নিজ কাচারি বাড়িতে শুরু করেন। এককথায় শেখেরহাটের উন্নয়নমূলক কাজে তার সক্রিয় ভূমিকা আজো প্রবাদপ্রতিম। শেখেরহাটের আনজিৎ শাহ (র:) এর মাজারের আধুনিকায়নে তার ভূমিকা অনন্য। সদালাপি, সদাহাস্যোজ্জ্বল শেখ আবদুল মালেক কারও কাছে মালেক ভাই, কারো মালেক দা হিসাবে বিশেষ পরিচিত ছিলেন।
আজকের এই মৃত্যুবার্ষিকীতে তার পৈতৃক বাড়ি “শেখের হাট লজ” আমানতগঞ্জ, বরিশাল ও শেখের হাটে (রাজপাশা) নিজেদের প্রতিষ্ঠিত আরএসএম মাদ্রাসা, মসজিদে কোরাআন খতম, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর পরিবার সকল শুভাকাঙ্খি ও স্বজনদের কাছে মরহুমের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেছেন।’

১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:২১
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এই সরকার ৬ মাসের মধ্যে দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আমরা বলছি, সংকট আছে। সেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করছি। মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস আমরা দেই না। রোববার অপরাহ্ণে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির প্রস্তাবিত ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
শান্ত স্নিগ্ধ কীর্তনখোলা তীর জনপদের রূপ সৌন্দর্যে বিমোহিত মন্ত্রী বলেন, জীবনানন্দ দাশের বরিশালে বেড়াতে এসে মনে হচ্ছে, কবি যেমন বলেছিলেন, মানুষের ব্যথা আমি পেয়ে গেছি পৃথিবীর পথে এসে। তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে পারি, আইনজীবীদের ব্যথা আমি পেয়ে গেছি বরিশাল বারে এসে।
আইনজীবীদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা শুনে আইনমন্ত্রী বলেন, বারের সংস্কারের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং বই কেনার জন্য ৫ লাখ টাকা আপাতত দিলাম। ভবন নির্মাণের জন্য যা যা করা দরকার, তা করা হবে।
তিনি বিএনপি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, এই সরকার ৬ মাসের মধ্যে দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। আমরা বলছি, সংকট আছে। সেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করছি। মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস আমরা দেই না।
ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, পুরো পৃথিবী যখন বিপর্যস্ত, তখন বিশ্বের সব দেশেই তেলের দাম বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি সবার শেষে তেলের দাম বাড়াতে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকে যারা গুপ্ত-সুপ্ত আছে, তারা ফ্যামিলি কার্ডের বিপক্ষে ছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় এসে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। আগামী ৫ বছরে দেশের সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে যাবে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি করার অপরাধে ৬০ লাখের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় এমন ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে, যিনি ২০ বছর আগেই মারা গেছেন।
মতবিনিময় সভায় বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা আইনজীবীদের বিভিন্ন সমস্যা, অবকাঠামোগত সংকট ও দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, সদস্য এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এই সরকার ৬ মাসের মধ্যে দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আমরা বলছি, সংকট আছে। সেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করছি। মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস আমরা দেই না। রোববার অপরাহ্ণে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির প্রস্তাবিত ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
শান্ত স্নিগ্ধ কীর্তনখোলা তীর জনপদের রূপ সৌন্দর্যে বিমোহিত মন্ত্রী বলেন, জীবনানন্দ দাশের বরিশালে বেড়াতে এসে মনে হচ্ছে, কবি যেমন বলেছিলেন, মানুষের ব্যথা আমি পেয়ে গেছি পৃথিবীর পথে এসে। তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে পারি, আইনজীবীদের ব্যথা আমি পেয়ে গেছি বরিশাল বারে এসে।
আইনজীবীদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা শুনে আইনমন্ত্রী বলেন, বারের সংস্কারের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং বই কেনার জন্য ৫ লাখ টাকা আপাতত দিলাম। ভবন নির্মাণের জন্য যা যা করা দরকার, তা করা হবে।
তিনি বিএনপি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, এই সরকার ৬ মাসের মধ্যে দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। আমরা বলছি, সংকট আছে। সেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করছি। মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস আমরা দেই না।
ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, পুরো পৃথিবী যখন বিপর্যস্ত, তখন বিশ্বের সব দেশেই তেলের দাম বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি সবার শেষে তেলের দাম বাড়াতে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকে যারা গুপ্ত-সুপ্ত আছে, তারা ফ্যামিলি কার্ডের বিপক্ষে ছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় এসে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। আগামী ৫ বছরে দেশের সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে যাবে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি করার অপরাধে ৬০ লাখের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় এমন ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে, যিনি ২০ বছর আগেই মারা গেছেন।
মতবিনিময় সভায় বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা আইনজীবীদের বিভিন্ন সমস্যা, অবকাঠামোগত সংকট ও দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, সদস্য এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।’

০২ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:০০
ছাত্র-জনতার টানা আন্দোলনের মুখে অবশেষে বরিশালের সিভিল সার্জন পদে প্রশাসনিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে সরকারি আদেশ হাতে পাওয়ার আগমুহূর্তেও আজ রবিবার সকাল থেকে আবারও বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা। রোববার (২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের কাছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় পরিচালকের জারি করা দুটি সরকারি আদেশের কপি পৌঁছে দেওয়া হয়। সেখানে চিফ সিভিল সার্জন ডা. মবিন চলতি দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে ডা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে বরিশালের সিভিল সার্জনের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার (স্ট্যান্ড রিলিজ) করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), বরিশালের কার্যালয় থেকে জারি করা আদেশে চিফ সার্জন, বরিশালকে নতুন সিভিল সার্জন যোগদান না করা পর্যন্ত সিভিল সার্জনের চলতি দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ডা. মনিরুজ্জামানের বরিশালে যোগদানকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় তাকে এই পদে আনা হয়েছে। তার যোগদান ঠেকাতে ছাত্র-জনতা ধারাবাহিকভাবে অবস্থান কর্মসূচি, তালাবদ্ধ কর্মসূচি ও বিক্ষোভ পালন করে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সাবেক সমন্বয়ক সাব্বির হোসেন সোহাগ বলেন, যেহেতু সিভিল সার্জন অপসারণ দাবী মেনে নিয়ে সরকার এখানে নতুন সিভিল সার্জন না আসা পর্যন্ত চিফ সার্জন ডাঃ মবিনকে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা তাই আমাদের এই ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করে তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু একজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না; বরিশালের স্বাস্থ্য প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে বলে জানান সোহাগ।
এসময় আন্দোলনকারীরা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ বন্ধ না হলে আমাদের এই আন্দোলনও অব্যাহত থাকবে।
এদিকে সরকারি আদেশ জারির ফলে প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটিয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৫ ই আগস্ট এর পূর্বে ডাক্তার মনিরুজ্জামান গৌরনদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে ছিলেন। জুলাই আন্দোলন চলাকালে তিনি আহতদের কোন সহযোগিতা করেননি। এমনকি ৫ ই আগস্ট পরবর্তী আহতদের তালিকা চাওয়া হল তা তৈরিতে গাফিলতি করেন। তিনি ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ নিকটজন। আকস্মিকভাবে তাকে পদোন্নতি দিয়ে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন পদে নিয়োগ দেওয়া হলে সচেতন জনগণ ব্যানারে শুরু হয় আন্দোলন।’