১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৯:১০
গণভোটের রায় না মানলে ঢাকায় মহাসমাবেশ: বরিশালে জামায়াত আমির
গণভোটের রায় মানতে বিএনপির নেতৃত্বধীন সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াত ইসলামির আমির ডা. মো. শফিকুল রহমান। আগামী ২৫ জুলাইয়ের আগে গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন না হয় তাহলে রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশ করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তিনি। শনিবার (১৮ জুলাই) বরিশাল বান্দরোডস্থ কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আল্টিমেটাম মিশ্রিত হুঁশিয়ারি দেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আবার গর্জে উঠবো, অধিকার আদায় করেই ছাড়বো। ভুল পথ থেকে ফিরে আসুন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন। ২৫ জুলাই সিলেটে সমাবেশের আগেই গণভোটের রায় মেনে নিন। নতুবা রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
তিনি বলেন, অমরা নতুন শাসন ব্যবস্থা চাই, গণভোটের রায়ের বাস্তবায়ন চাই। কিন্তু ম্যাকানিজম করে ক্ষমতায় গিয়ে সরকার গণভোটের রায় ভুলে গেছেন। এবং সংসদে একজন অবৈতনিক একজন শিক্ষক আছেন, যিনি সংসদে প্রায়ই সংবিধান শেখান। প্রতারণা করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন। আপনারা ফ্যাসিবাদের পথে হাটছেন। এটা জাতির সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা, মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান।
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার তাগিদ দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ফরিদপুরের ভাঙার পরে পুরো রাস্তা ভাঙা, ভোলাবাসীর ন্যায্য দাবি ব্রিজ দিতে হবে, রেল লাইন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অধিকার। বরিশালকে বঞ্চিত রেখে দেশের সুষম উন্নয়ন হবে না।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি, নিয়োগ বাণিজ্য চলছে। যারা নির্বাচনের আগে ওয়াদা দেন একরকম আর কাজ করেন ভিন্ন, তারাই মুনাফিক।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহবায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে তাহলে গণআন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো। আমরা এখনও হরতাল, অবরোধের মতো কর্মসূচি দেইনি।
২৪’র গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শক্তি নাহিদ বলেন, যেকোনো সময় সেই ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা এই মুহূর্তে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়ার পক্ষে ছিলাম না। কিন্তু সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রমশ পরিস্থিতিকে সেই দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু, অন্তরে ছলনা। যেই গণভোটের পক্ষে তিনি হ্যাঁ এর প্রচারণা করলেন, সেখানে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ৭০ ভাগ জনগণ রায় দেওয়া সত্ত্বেও তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না। অথচ মুখে বলে যাচ্ছেন জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। গণঅভ্যুত্থানের সময় আমাদের একটি স্লোগান ছিল নাটক কম করো প্রিয়। তারেক রহমানকেও বলে দিচ্ছি নাটক কম করেন প্রিয়। বাংলাদেশের জনগণ আপনাকে ক্ষমতা দিয়েছে মানে এই নয় যে আপনার যা খুশি ছলনা করবেন।
নাহিদ বলেন, বিএনপি গত ১৬ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে লড়াই করে যাচ্ছে। আসল কথা হচ্ছে, বিএনপি কখনো জনগণের পক্ষে ছিল না, তারা লড়াই করেছিল ক্ষমতার জন্য, স্বার্থ হাসিলের জন্য। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা তাদের কুক্ষিগত হয়েছে। এখন তারা সংবিধান সংস্কার কমিশনের কথা বলে না, এখন তারা ৩১ দফার কথা বলে না।
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকারকে বলতে চাই সংবিধান সংশোধনের নামে কোনো প্রহসন বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না।
এর আগে বক্তব্য রাখে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ফেরার কোন সুযোগ নেই, তাদের উস্কানিমূলক বক্তব্যে আমরা কান দেবোনা। আমরা চাই এদেশ থেকে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মাস্তানি বন্ধ হোক’।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের গুন্ডারা বিএনপির সাথে আর্থিক লেনদেন ও পৃষ্ঠপোষকতায় ফেরার পায়তারা করছেন। এই অপচেষ্টা সফল হতে দিব না।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘বাকশাল ও ভারতীয় অধিপত্যবাদ থেকে বাঁচার জন্য আমরা সংগ্রাম করেছিলাম’।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, যারা মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে চাপ দিয়ে চাঁদা দাবি করে তাদের কাছে উন্নয়ন দাবি করে কোন লাভ নেই। যারা কথায় কথায় মিথ্যা কথা বলে, যারা জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি করে তাদের সাথে কোন আপস নেই, মুনাফিকদের সাথে আপস নেই।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমদ।
এনসিপির যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেন, ‘সংস্কার করলে চাঁদাবাজি করা যাবে না, তাই তারা এখন সংস্কারের কথা ভুলে গেছেন। খালেদা জিয়া বলে গেছেন, আওয়ামী লীগের সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে, অথচ বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের সংবিধান আগলে রাখতে চাইছে’।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, বিচার ও সংস্কারকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য তারা ফ্যাসিবাদীদের মতো উন্নয়নের ধোয়া তুলছে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান, ঢাকা ৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নাল আবেদীন বরিশাল জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুল জব্বার এবং বিএম কলেজের সাবেক এজিএস শেখ নেয়ামুল করিম।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, বরিশাল অঞ্চল জামায়াতের টিম সদস্য ফখরুদ্দিন খান রাজী, এনসিপির বরিশাল জেলা আহবায়ক আবু সাঈদ মুসা, সদস্য সচিব আবু সাঈদ ফেরদৌস, মহানগর আহবায়ক মিজানুর রহমান এবং সদস্যসচিব এম আনোয়ার হোসেন।
সমাবেশ শুরুর আগে সকাল থেকেই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলার নেতাকর্মীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে হাজির হন। দুপুরের আগেই সমাবেশস্থল কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। সকাল ১০টা থেকে স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যের মাঝে উদ্দীপনামূলক কোরাস সংগীত পরিবেশন করেন দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ বরিশাল অঞ্চলের আওতাধীন ৬ জেলা ও মহানগর শিল্পীরা।’
গণভোটের রায় না মানলে ঢাকায় মহাসমাবেশ: বরিশালে জামায়াত আমির
গণভোটের রায় মানতে বিএনপির নেতৃত্বধীন সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াত ইসলামির আমির ডা. মো. শফিকুল রহমান। আগামী ২৫ জুলাইয়ের আগে গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন না হয় তাহলে রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশ করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তিনি। শনিবার (১৮ জুলাই) বরিশাল বান্দরোডস্থ কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আল্টিমেটাম মিশ্রিত হুঁশিয়ারি দেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আবার গর্জে উঠবো, অধিকার আদায় করেই ছাড়বো। ভুল পথ থেকে ফিরে আসুন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন। ২৫ জুলাই সিলেটে সমাবেশের আগেই গণভোটের রায় মেনে নিন। নতুবা রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
তিনি বলেন, অমরা নতুন শাসন ব্যবস্থা চাই, গণভোটের রায়ের বাস্তবায়ন চাই। কিন্তু ম্যাকানিজম করে ক্ষমতায় গিয়ে সরকার গণভোটের রায় ভুলে গেছেন। এবং সংসদে একজন অবৈতনিক একজন শিক্ষক আছেন, যিনি সংসদে প্রায়ই সংবিধান শেখান। প্রতারণা করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন। আপনারা ফ্যাসিবাদের পথে হাটছেন। এটা জাতির সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা, মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান।
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার তাগিদ দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ফরিদপুরের ভাঙার পরে পুরো রাস্তা ভাঙা, ভোলাবাসীর ন্যায্য দাবি ব্রিজ দিতে হবে, রেল লাইন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অধিকার। বরিশালকে বঞ্চিত রেখে দেশের সুষম উন্নয়ন হবে না।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি, নিয়োগ বাণিজ্য চলছে। যারা নির্বাচনের আগে ওয়াদা দেন একরকম আর কাজ করেন ভিন্ন, তারাই মুনাফিক।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহবায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে তাহলে গণআন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো। আমরা এখনও হরতাল, অবরোধের মতো কর্মসূচি দেইনি।
২৪’র গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শক্তি নাহিদ বলেন, যেকোনো সময় সেই ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা এই মুহূর্তে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়ার পক্ষে ছিলাম না। কিন্তু সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রমশ পরিস্থিতিকে সেই দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু, অন্তরে ছলনা। যেই গণভোটের পক্ষে তিনি হ্যাঁ এর প্রচারণা করলেন, সেখানে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ৭০ ভাগ জনগণ রায় দেওয়া সত্ত্বেও তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না। অথচ মুখে বলে যাচ্ছেন জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। গণঅভ্যুত্থানের সময় আমাদের একটি স্লোগান ছিল নাটক কম করো প্রিয়। তারেক রহমানকেও বলে দিচ্ছি নাটক কম করেন প্রিয়। বাংলাদেশের জনগণ আপনাকে ক্ষমতা দিয়েছে মানে এই নয় যে আপনার যা খুশি ছলনা করবেন।
নাহিদ বলেন, বিএনপি গত ১৬ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে লড়াই করে যাচ্ছে। আসল কথা হচ্ছে, বিএনপি কখনো জনগণের পক্ষে ছিল না, তারা লড়াই করেছিল ক্ষমতার জন্য, স্বার্থ হাসিলের জন্য। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা তাদের কুক্ষিগত হয়েছে। এখন তারা সংবিধান সংস্কার কমিশনের কথা বলে না, এখন তারা ৩১ দফার কথা বলে না।
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকারকে বলতে চাই সংবিধান সংশোধনের নামে কোনো প্রহসন বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না।
এর আগে বক্তব্য রাখে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ফেরার কোন সুযোগ নেই, তাদের উস্কানিমূলক বক্তব্যে আমরা কান দেবোনা। আমরা চাই এদেশ থেকে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মাস্তানি বন্ধ হোক’।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের গুন্ডারা বিএনপির সাথে আর্থিক লেনদেন ও পৃষ্ঠপোষকতায় ফেরার পায়তারা করছেন। এই অপচেষ্টা সফল হতে দিব না।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘বাকশাল ও ভারতীয় অধিপত্যবাদ থেকে বাঁচার জন্য আমরা সংগ্রাম করেছিলাম’।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, যারা মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে চাপ দিয়ে চাঁদা দাবি করে তাদের কাছে উন্নয়ন দাবি করে কোন লাভ নেই। যারা কথায় কথায় মিথ্যা কথা বলে, যারা জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি করে তাদের সাথে কোন আপস নেই, মুনাফিকদের সাথে আপস নেই।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমদ।
এনসিপির যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেন, ‘সংস্কার করলে চাঁদাবাজি করা যাবে না, তাই তারা এখন সংস্কারের কথা ভুলে গেছেন। খালেদা জিয়া বলে গেছেন, আওয়ামী লীগের সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে, অথচ বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের সংবিধান আগলে রাখতে চাইছে’।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, বিচার ও সংস্কারকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য তারা ফ্যাসিবাদীদের মতো উন্নয়নের ধোয়া তুলছে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান, ঢাকা ৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নাল আবেদীন বরিশাল জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুল জব্বার এবং বিএম কলেজের সাবেক এজিএস শেখ নেয়ামুল করিম।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, বরিশাল অঞ্চল জামায়াতের টিম সদস্য ফখরুদ্দিন খান রাজী, এনসিপির বরিশাল জেলা আহবায়ক আবু সাঈদ মুসা, সদস্য সচিব আবু সাঈদ ফেরদৌস, মহানগর আহবায়ক মিজানুর রহমান এবং সদস্যসচিব এম আনোয়ার হোসেন।
সমাবেশ শুরুর আগে সকাল থেকেই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলার নেতাকর্মীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে হাজির হন। দুপুরের আগেই সমাবেশস্থল কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। সকাল ১০টা থেকে স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যের মাঝে উদ্দীপনামূলক কোরাস সংগীত পরিবেশন করেন দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ বরিশাল অঞ্চলের আওতাধীন ৬ জেলা ও মহানগর শিল্পীরা।’

১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৪৩
বরিশাল নগরীতে হামলার শিকার হয়েছেন মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেডআই খান পান্নার মেয়ে অ্যাডভোকেট নাদিমা মোহাম্মদী খান (৩৯)। এই অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি পুলিশ। শনিবার রাতে বরিশাল নগরীর সদর রোডে জেড আই খান পান্নার পারিবারিক বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নাদিমার অভিযোগ, ‘গত ১৮ জুলাই আমি ও আমার চাচাতো বোন বাড়িতে আসি। সেখানে কিছু যুবক বাড়ির মধ্যে আবর্জনা ফেলে রাখেন। তারা সেখানে মাদকসেবন ও মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আমরা এর প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ২৫ থেকে ৩০ জন সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তখন আমি ৯৯৯ জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করি।’
আইনজীবী কন্যা অভিযোগ করেন, ‘চাচা নজরুল ইসলাম খানের উসকানি ও প্রশ্রয়ে আমাকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার এবং আমার এই বাড়িতে আসা ঠেকাতে এই হামলা চালানো হয়েছে। আহত অবস্থায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। রোববার সকালে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।
এই মামলাটিতে চাচা নজরুল ইসলাম খানসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করেছেন। আসামিদের মধ্যে আছেন, রেজাউল ইসলাম সাব্বির এবং জাহিদুল ইসলাম রাজু।
এজাহারে উল্লেখ আছে, নাদিমাকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির জেরে মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের একটি সংঘবদ্ধ দল হামলা চালায়।
বরিশাল কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় চাঁদনী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবং অপর আসামিদেরকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, জানান বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. হান্নান। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’

১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৪৯

১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৪১
জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি জাকির হোসেন নান্নু আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানান বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
মরহুমের পারিবারিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা রেখে গেছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) ভোর ৬টায় ঢাকা থেকে মরহুমের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মরহুমের বড় ছেলে জাবেদ হোসেনের সাথে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এদিকে মরহুম জাকির হোসেন নান্নুর মৃত্যুতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি শোক জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে ও তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তারা বলেন, জাকির হোসেন নান্নুর মতো সাহসী নিবেদিত কর্মী সহজে পাওয়া যাবে না। তার আকস্মিক মৃত্যুতে দলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। মহান আল্লাহ যেন তার পরিবারকে শোক কাটিয়ে উঠবার শক্তি দান করেন ও মরহুমকে বেহেশত নসিব করেন এই দোয়া করি।’
বরিশাল নগরীতে হামলার শিকার হয়েছেন মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেডআই খান পান্নার মেয়ে অ্যাডভোকেট নাদিমা মোহাম্মদী খান (৩৯)। এই অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি পুলিশ। শনিবার রাতে বরিশাল নগরীর সদর রোডে জেড আই খান পান্নার পারিবারিক বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নাদিমার অভিযোগ, ‘গত ১৮ জুলাই আমি ও আমার চাচাতো বোন বাড়িতে আসি। সেখানে কিছু যুবক বাড়ির মধ্যে আবর্জনা ফেলে রাখেন। তারা সেখানে মাদকসেবন ও মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আমরা এর প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ২৫ থেকে ৩০ জন সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তখন আমি ৯৯৯ জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করি।’
আইনজীবী কন্যা অভিযোগ করেন, ‘চাচা নজরুল ইসলাম খানের উসকানি ও প্রশ্রয়ে আমাকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার এবং আমার এই বাড়িতে আসা ঠেকাতে এই হামলা চালানো হয়েছে। আহত অবস্থায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। রোববার সকালে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।
এই মামলাটিতে চাচা নজরুল ইসলাম খানসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করেছেন। আসামিদের মধ্যে আছেন, রেজাউল ইসলাম সাব্বির এবং জাহিদুল ইসলাম রাজু।
এজাহারে উল্লেখ আছে, নাদিমাকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির জেরে মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের একটি সংঘবদ্ধ দল হামলা চালায়।
বরিশাল কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় চাঁদনী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবং অপর আসামিদেরকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, জানান বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. হান্নান। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’
‘শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়ার মতো ভুল করার কারণেই জুলাইয়ের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পির)।
তিনি বলেছেন, চব্বিশের এই উত্তাল দিনগুলোতে আমরা আমাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে হুমকির মুখে রেখেও রাজপথে অবস্থান নিয়েছি। চব্বিশের এই দিনেও বাইতুল মোকাররমে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের সমাবেশে আমি ও আমার যুবকর্মীরা ছিলাম। আমাদের ওপরেও নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল স্বৈরাচারের পেটোয়া বাহিনী। আমি ও আমার দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সকলেই সেদিন গুলির মুখে লড়াই করেছি। আমি সেদিনই বলেছিলাম, যত শক্তিশালীই হোক, ফ্যাসিবাদের পতন হবেই ইনশাআল্লাহ। ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। কিন্তু যে লক্ষ্য নিয়ে তরুণ প্রজন্ম আন্দোলন করেছিল, সেই লক্ষ্য পূরণ হয় নাই। শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়ার মতো ভুল করার কারণেই জুলাইয়ের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন হয়নি।
রোববার (১৯ জুলাই) ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসে চেতনায় জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর আরও বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ অতীতের প্রতিটি অভ্যুত্থান, সংগ্রামের পরেই দেশ এমন শক্তির হাতে গিয়েছে, যাদের কাছে ইসলাম, দেশ ও মানবতা নিরাপদ নয়। শিয়ালের কাছে মুরগী বর্গা দেওয়ার মতো ভুল বারবার করার কারণেই জাতির ভাগ্যে বারবার এমন হতাশা নেমে আসে। তাই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইসলামকে ক্ষমতায় নিতে কাজ করতে হবে। কারণ, ইসলামি শরিয়াহর শাসনই প্রকৃত আদর্শ শাসন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ১৯ জুলাই ২০২৪ তথা আজকের এই দিনে ঢাকায় চরমোনাই পীরের উপস্থিতিতে আয়োজিত যুব আন্দোলনের সমাবেশে এবং মিছিলে পুলিশ মুহুর্মুহু গুলি করে শতাধিক যুবনেতাকে আহত করে। জুলাই অভ্যুত্থানে চরমোনাই পীর দলীয় প্রধান হিসেবে যেভাবে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন, অন্য কোনো দলের ক্ষেত্রে এটা দেখা যায়নি। কিন্তু অনেক দলের মধ্যে আজ জুলাই অভ্যুত্থানের ক্রেডিট নিয়ে টানাটানি ও সুবিধা গ্রহণের প্রতিযোগিতা দেখা যায়, যা লজ্জাজনক।
তিনি আরও বলেন, ঐক্যমত কমিশনে সংস্কার প্রস্তাব তৈরির সময় এনসিপি অনেক বিষয়ে বিএনপির পক্ষ নেওয়ায় অনেক প্রস্তাবই চূড়ান্ত করা যায়নি। কিন্তু পরবর্তীতে নির্বাচনের সময় এনসিপি আবার বিএনপিবিরোধী শিবিরে যুক্ত হয়েছে। যা প্রমাণ করে, জুলাইপরবর্তী নির্বাচনে পাতানো খেলা হয়েছে।
ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদের সভাপতিত্বে এবং জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি রহমাতুল্লাহ বিন হাবিব ও অ্যাসিস্টান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা ইলিয়াস হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলনের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন, সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান, ইসলামী যুব অন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মানসুর আহমদ সাকী, যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাদিম হাসান এবং সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওবায়দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।
‘শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়ার মতো ভুল করার কারণেই জুলাইয়ের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পির)।
তিনি বলেছেন, চব্বিশের এই উত্তাল দিনগুলোতে আমরা আমাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে হুমকির মুখে রেখেও রাজপথে অবস্থান নিয়েছি। চব্বিশের এই দিনেও বাইতুল মোকাররমে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের সমাবেশে আমি ও আমার যুবকর্মীরা ছিলাম। আমাদের ওপরেও নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল স্বৈরাচারের পেটোয়া বাহিনী। আমি ও আমার দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সকলেই সেদিন গুলির মুখে লড়াই করেছি। আমি সেদিনই বলেছিলাম, যত শক্তিশালীই হোক, ফ্যাসিবাদের পতন হবেই ইনশাআল্লাহ। ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। কিন্তু যে লক্ষ্য নিয়ে তরুণ প্রজন্ম আন্দোলন করেছিল, সেই লক্ষ্য পূরণ হয় নাই। শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়ার মতো ভুল করার কারণেই জুলাইয়ের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন হয়নি।
রোববার (১৯ জুলাই) ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসে চেতনায় জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর আরও বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ অতীতের প্রতিটি অভ্যুত্থান, সংগ্রামের পরেই দেশ এমন শক্তির হাতে গিয়েছে, যাদের কাছে ইসলাম, দেশ ও মানবতা নিরাপদ নয়। শিয়ালের কাছে মুরগী বর্গা দেওয়ার মতো ভুল বারবার করার কারণেই জাতির ভাগ্যে বারবার এমন হতাশা নেমে আসে। তাই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইসলামকে ক্ষমতায় নিতে কাজ করতে হবে। কারণ, ইসলামি শরিয়াহর শাসনই প্রকৃত আদর্শ শাসন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ১৯ জুলাই ২০২৪ তথা আজকের এই দিনে ঢাকায় চরমোনাই পীরের উপস্থিতিতে আয়োজিত যুব আন্দোলনের সমাবেশে এবং মিছিলে পুলিশ মুহুর্মুহু গুলি করে শতাধিক যুবনেতাকে আহত করে। জুলাই অভ্যুত্থানে চরমোনাই পীর দলীয় প্রধান হিসেবে যেভাবে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন, অন্য কোনো দলের ক্ষেত্রে এটা দেখা যায়নি। কিন্তু অনেক দলের মধ্যে আজ জুলাই অভ্যুত্থানের ক্রেডিট নিয়ে টানাটানি ও সুবিধা গ্রহণের প্রতিযোগিতা দেখা যায়, যা লজ্জাজনক।
তিনি আরও বলেন, ঐক্যমত কমিশনে সংস্কার প্রস্তাব তৈরির সময় এনসিপি অনেক বিষয়ে বিএনপির পক্ষ নেওয়ায় অনেক প্রস্তাবই চূড়ান্ত করা যায়নি। কিন্তু পরবর্তীতে নির্বাচনের সময় এনসিপি আবার বিএনপিবিরোধী শিবিরে যুক্ত হয়েছে। যা প্রমাণ করে, জুলাইপরবর্তী নির্বাচনে পাতানো খেলা হয়েছে।
ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদের সভাপতিত্বে এবং জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি রহমাতুল্লাহ বিন হাবিব ও অ্যাসিস্টান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা ইলিয়াস হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলনের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন, সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান, ইসলামী যুব অন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মানসুর আহমদ সাকী, যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাদিম হাসান এবং সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওবায়দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।
জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি জাকির হোসেন নান্নু আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানান বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
মরহুমের পারিবারিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা রেখে গেছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) ভোর ৬টায় ঢাকা থেকে মরহুমের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মরহুমের বড় ছেলে জাবেদ হোসেনের সাথে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এদিকে মরহুম জাকির হোসেন নান্নুর মৃত্যুতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি শোক জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে ও তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তারা বলেন, জাকির হোসেন নান্নুর মতো সাহসী নিবেদিত কর্মী সহজে পাওয়া যাবে না। তার আকস্মিক মৃত্যুতে দলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। মহান আল্লাহ যেন তার পরিবারকে শোক কাটিয়ে উঠবার শক্তি দান করেন ও মরহুমকে বেহেশত নসিব করেন এই দোয়া করি।’
২০ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৪৪
২০ জুলাই, ২০২৬ ১৫:০৫
১৯ জুলাই, ২০২৬ ২২:৫৯
১৯ জুলাই, ২০২৬ ২২:২৮