পিরোজপুরের নেছারাবাদে জন্ম নিয়েছে হাত-পাবিহীন এক নবজাতক। শিশুটির দুই পা নেই এবং একটি হাত অর্ধেক। জন্মের পর শিশুটিকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তার বাবা। এমনকি সন্তানকে অন্যত্র দিয়ে দিতে কিংবা ফেলে আসারও নির্দেশ দেন তিনি।
তবে স্বামীর সেই নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সন্তানকে বুকে নিয়েই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মা লিজা আক্তার। বিষয়টি রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার নিউ সততা প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরের নিউ সততা প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ছেলেসন্তানটির জন্ম হয়। শিশুটির পিতা দিনমজুর আল আমীন নবজাতককে নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।
প্রসূতি লিজা আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশনসহ সব ধরনের চিকিৎসা ব্যয় মওকুফ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসক ডা. প্রীতিষ বিশ্বাসও তার সার্জন ফি গ্রহণ করেননি।
লিজা আক্তারের বাড়ি পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামে। হাসপাতালের বেডে বসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, এটি তার তৃতীয় সন্তান। জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় কয়েক দিন আগে বাড়িতে আসেন এবং ২২ এপ্রিল সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এই সন্তানের জন্ম দেন।
তিনি বলেন, ‘আমার সন্তান অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে জন্মায়নি। তার দুই পা ও একটি হাত নেই। এ কারণে আমার স্বামী তাকে ফেলে আসতে বলেছে। কিন্তু আমি আমার সন্তানকে কখনো ফেলে দিতে পারব না। স্বামী আমাকে না রাখলেও আমি আমার সন্তানকে ছাড়ব না। আমি তাকে মানুষ করে তুলব।’
লিজা আরও বলেন, ‘আমি যতদিন বেঁচে আছি, কাজ করে সন্তানকে খাওয়াতে পারব। কিন্তু আমি মারা গেলে আমার সন্তানকে কে দেখবে—এই চিন্তাই আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি যদি সাহায্যের হাত বাড়ান, তাহলে আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও নিশ্চিত হতে পারে।’
নিউ সততা প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘দিনমজুর এই নারী ও নবজাতকের অবস্থা বিবেচনা করে আমাদের সার্জন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার প্রীতিশ বিশ্বাস, সহযোগী ডাক্তার মোস্তফা কাউসার, অজ্ঞানের ডাক্তার নাসরিন রহমান খান। এই তিনজনের অপারেশন টিমটি তাদের অপারেশন চার্জ মানবিক কারণে ফ্রি করে দিয়েছেন এবং হাসপাতালের সব খরচ মওকুফ করেছি।’
অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসক ডা. প্রীতিষ বিশ্বাস বলেন, ‘জিনগত কারণ বা গর্ভকালীন যথাযথ চিকিৎসার অভাবে অনেক সময় এ ধরনের শিশু জন্ম নিতে পারে। অপারেশনটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তবে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শিশুটির শারীরিক ত্রুটি আমাদেরও মর্মাহত করেছে। মানবিক দিক বিবেচনায় আমি আমার সার্জন ফিও মওকুফ করেছি।’
একদিকে বাবার নির্মম অস্বীকৃতি, অন্যদিকে মায়ের অটুট ভালোবাসা—এই নবজাতকের জন্ম যেন সমাজের সামনে এক মানবিক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে। এখন সহানুভূতিশীল মানুষের সহযোগিতাই হতে পারে শিশুটির ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ভরসা।

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:২৩
পিরোজপুরের নেছারাবাদে মো. আবুল মল্লিক (৫৫) নামে এক অসহায় চা দোকানির লাশ নিজের দোকানের ভেতর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার জলাবাড়ী ইউনিয়নের কামারকাঠি ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, আবুল মল্লিক দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি অনেক সময় অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। পাশাপাশি সংসারে ছিল চরম অভাব-অনটন। একসময় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও প্রায় পাঁচ বছর ধরে অসুস্থ থাকায় সেই কাজ করতে পারতেন না। পরে ধারদেনা করে বাড়ির সামনে একটি ছোট চায়ের দোকান দেন। তবে দোকান থেকেও সংসারের অভাব দূর হয়নি।
নিহতের মেয়ের জামাই আবীর হোসেন জানান, গত মঙ্গলবার আবুল মল্লিককে হাতে রশি নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। প্রতিদিনের মতো রাতে তিনি নিজের চা দোকানেই ঘুমিয়ে ছিলেন। বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় তাকে ডাকতে যান স্বজনরা। একপর্যায়ে দোকানের ফাঁক দিয়ে গলায় লাইলনের রশি পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হারুন বলেন, আবুল মল্লিক অত্যন্ত অসহায় ছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পাশাপাশি সংসারে অভাব থাকায় তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের অনেক সময় ভিক্ষা করে সংসার চালাতে হয়েছে। গতকালও তাকে হাতে রশি নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে বলে জানান তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পিরোজপুরের নেছারাবাদে মো. আবুল মল্লিক (৫৫) নামে এক অসহায় চা দোকানির লাশ নিজের দোকানের ভেতর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার জলাবাড়ী ইউনিয়নের কামারকাঠি ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, আবুল মল্লিক দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি অনেক সময় অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। পাশাপাশি সংসারে ছিল চরম অভাব-অনটন। একসময় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও প্রায় পাঁচ বছর ধরে অসুস্থ থাকায় সেই কাজ করতে পারতেন না। পরে ধারদেনা করে বাড়ির সামনে একটি ছোট চায়ের দোকান দেন। তবে দোকান থেকেও সংসারের অভাব দূর হয়নি।
নিহতের মেয়ের জামাই আবীর হোসেন জানান, গত মঙ্গলবার আবুল মল্লিককে হাতে রশি নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। প্রতিদিনের মতো রাতে তিনি নিজের চা দোকানেই ঘুমিয়ে ছিলেন। বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় তাকে ডাকতে যান স্বজনরা। একপর্যায়ে দোকানের ফাঁক দিয়ে গলায় লাইলনের রশি পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হারুন বলেন, আবুল মল্লিক অত্যন্ত অসহায় ছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পাশাপাশি সংসারে অভাব থাকায় তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের অনেক সময় ভিক্ষা করে সংসার চালাতে হয়েছে। গতকালও তাকে হাতে রশি নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে বলে জানান তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ২২:২৯
পিরোজপুরে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরাফাত ইসলামের বিরুদ্ধে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে পিরোজপুর শহরের কৃষ্ণচূড়া মোড় এলাকায় শহীদ ওমর ফারুক কিন্ডারগার্টেনের পেছনে একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন- স্টার নিউজের জেলা প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও চ্যানেল ওয়ানের পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি শাফিউল মিল্লাত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকদের অভিযোগ, পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরাফাত ওই কক্ষে অষ্টম শ্রেণির প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থীকে কোচিং করাচ্ছিলেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষকদের নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর সুযোগ নেই। এছাড়া পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বর্তমানে জেলার সব ধরনের কোচিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে ওই শিক্ষক নিয়মিত কোচিং করাচ্ছেন এমন তথ্য গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে আসে। পরে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের জন্য সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
হামলার শিকার চ্যানেল ওয়ানের পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি শাফিউল মিল্লাত বলেন, সরকারি আইন অমান্য করে আরাফাতুর রহমান নামে পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক কোচিং বাণিজ্য করছেন এমন একটি অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে আমিসহ আমার দুই সহকর্মী সাংবাদিকদের ওপরে শিক্ষক আরাফাতুর রহমান অতর্কিত হামলা চালান। এসময় তিনি আমাদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি এবং আমাদের সাথে কোনো কথা বলতে চাননি। তিনি তার কোচিং সেন্টারের পিয়ন ও কিছু শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমাদের আটকানোর চেষ্টা করেন। আমরা কোনোমতে সেখান থেকে বের হয়ে চলে আসি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আরাফাত ইসলামকে ঘটনার সত্যতা জানতে মুঠো ফোনে ফোন দিলে তিনি ফোনটা রিসিভ করে ঘটনার বিষয় কোনো বক্তব্য দেননি। ব্যস্ত আছি বলে ফোনটি কেটে দেন। পরবর্তীতে আবার ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবর তালুকদার বলেন, ১০-১৫ দিন আগেই স্কুলের সকল শিক্ষককে কোচিং না করানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমার জানামতে আমার স্কুলের সকল শিক্ষক এই নির্দেশনা মেনে চলছে কিন্তু কোচিং বিষয়ে সাংবাদিকরা নিউজ সংগ্রহ করতে গেলে শিক্ষকের সাথে একটি ঘটনার কথা শুনেছি। এ বিষয়ে আমাদের বিদ্যালয়ের সভাপতি পিরোজপুর জেলা প্রশাসক (আবু সাঈদ) তার নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, কোচিং সংক্রান্ত নিউজ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিক শিক্ষক কর্তৃক আক্রমণের শিকার হয়েছে, এরকম একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কোচিং পরিচালনার অভিযোগ তদন্ত এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পিরোজপুরে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরাফাত ইসলামের বিরুদ্ধে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে পিরোজপুর শহরের কৃষ্ণচূড়া মোড় এলাকায় শহীদ ওমর ফারুক কিন্ডারগার্টেনের পেছনে একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন- স্টার নিউজের জেলা প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও চ্যানেল ওয়ানের পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি শাফিউল মিল্লাত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকদের অভিযোগ, পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরাফাত ওই কক্ষে অষ্টম শ্রেণির প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থীকে কোচিং করাচ্ছিলেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষকদের নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর সুযোগ নেই। এছাড়া পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বর্তমানে জেলার সব ধরনের কোচিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে ওই শিক্ষক নিয়মিত কোচিং করাচ্ছেন এমন তথ্য গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে আসে। পরে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের জন্য সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
হামলার শিকার চ্যানেল ওয়ানের পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি শাফিউল মিল্লাত বলেন, সরকারি আইন অমান্য করে আরাফাতুর রহমান নামে পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক কোচিং বাণিজ্য করছেন এমন একটি অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে আমিসহ আমার দুই সহকর্মী সাংবাদিকদের ওপরে শিক্ষক আরাফাতুর রহমান অতর্কিত হামলা চালান। এসময় তিনি আমাদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি এবং আমাদের সাথে কোনো কথা বলতে চাননি। তিনি তার কোচিং সেন্টারের পিয়ন ও কিছু শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমাদের আটকানোর চেষ্টা করেন। আমরা কোনোমতে সেখান থেকে বের হয়ে চলে আসি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আরাফাত ইসলামকে ঘটনার সত্যতা জানতে মুঠো ফোনে ফোন দিলে তিনি ফোনটা রিসিভ করে ঘটনার বিষয় কোনো বক্তব্য দেননি। ব্যস্ত আছি বলে ফোনটি কেটে দেন। পরবর্তীতে আবার ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবর তালুকদার বলেন, ১০-১৫ দিন আগেই স্কুলের সকল শিক্ষককে কোচিং না করানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমার জানামতে আমার স্কুলের সকল শিক্ষক এই নির্দেশনা মেনে চলছে কিন্তু কোচিং বিষয়ে সাংবাদিকরা নিউজ সংগ্রহ করতে গেলে শিক্ষকের সাথে একটি ঘটনার কথা শুনেছি। এ বিষয়ে আমাদের বিদ্যালয়ের সভাপতি পিরোজপুর জেলা প্রশাসক (আবু সাঈদ) তার নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, কোচিং সংক্রান্ত নিউজ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিক শিক্ষক কর্তৃক আক্রমণের শিকার হয়েছে, এরকম একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কোচিং পরিচালনার অভিযোগ তদন্ত এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩৩
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় মাকে খুন করার অভিযোগে সুজন বালা (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে সুজন বালাকে আদালতে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, ভাত রান্না নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে মায়ের মাথায় কাঠের ডাসা দিয়ে আঘাত করেন সুজন বালা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কানন বালা (৬৫) নামে ওই নারীর মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মৃত সুনীল বালার স্ত্রী কানন বালার সঙ্গে তার ছেলে সুজন বালার ভাত রান্না নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাদের মধ্যে ঝগড়া চলার একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে দরজায় ব্যবহৃত কাঠের ডাসা দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করেন।
পরদিন ভোরে কানন বালাকে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কানন বালার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই প্রদীপ মিস্ত্রী বাদী হয়ে সোমবার (১৭ আগস্ট) কাউখালী থানায় ভাগনে সুজন বালাকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর ওইদিন গভীর রাতে নিজ বাড়ি থেকে সুজন বালাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কাউখালী থানার পরিদর্শক (ওসি/তদন্ত) এবাদ আলী বরিশালটাইমসকে বলেন, কানন বালার ভাই বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলার পর সোমবার রাতে আসামি সুজন বালাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় মাকে খুন করার অভিযোগে সুজন বালা (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে সুজন বালাকে আদালতে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, ভাত রান্না নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে মায়ের মাথায় কাঠের ডাসা দিয়ে আঘাত করেন সুজন বালা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কানন বালা (৬৫) নামে ওই নারীর মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মৃত সুনীল বালার স্ত্রী কানন বালার সঙ্গে তার ছেলে সুজন বালার ভাত রান্না নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাদের মধ্যে ঝগড়া চলার একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে দরজায় ব্যবহৃত কাঠের ডাসা দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করেন।
পরদিন ভোরে কানন বালাকে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কানন বালার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই প্রদীপ মিস্ত্রী বাদী হয়ে সোমবার (১৭ আগস্ট) কাউখালী থানায় ভাগনে সুজন বালাকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর ওইদিন গভীর রাতে নিজ বাড়ি থেকে সুজন বালাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কাউখালী থানার পরিদর্শক (ওসি/তদন্ত) এবাদ আলী বরিশালটাইমসকে বলেন, কানন বালার ভাই বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলার পর সোমবার রাতে আসামি সুজন বালাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৩৫
পিরোজপুরের নেছারাবাদে জন্ম নিয়েছে হাত-পাবিহীন এক নবজাতক। শিশুটির দুই পা নেই এবং একটি হাত অর্ধেক। জন্মের পর শিশুটিকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তার বাবা। এমনকি সন্তানকে অন্যত্র দিয়ে দিতে কিংবা ফেলে আসারও নির্দেশ দেন তিনি।
তবে স্বামীর সেই নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সন্তানকে বুকে নিয়েই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মা লিজা আক্তার। বিষয়টি রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার নিউ সততা প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরের নিউ সততা প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ছেলেসন্তানটির জন্ম হয়। শিশুটির পিতা দিনমজুর আল আমীন নবজাতককে নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।
প্রসূতি লিজা আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশনসহ সব ধরনের চিকিৎসা ব্যয় মওকুফ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসক ডা. প্রীতিষ বিশ্বাসও তার সার্জন ফি গ্রহণ করেননি।
লিজা আক্তারের বাড়ি পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামে। হাসপাতালের বেডে বসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, এটি তার তৃতীয় সন্তান। জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় কয়েক দিন আগে বাড়িতে আসেন এবং ২২ এপ্রিল সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এই সন্তানের জন্ম দেন।
তিনি বলেন, ‘আমার সন্তান অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে জন্মায়নি। তার দুই পা ও একটি হাত নেই। এ কারণে আমার স্বামী তাকে ফেলে আসতে বলেছে। কিন্তু আমি আমার সন্তানকে কখনো ফেলে দিতে পারব না। স্বামী আমাকে না রাখলেও আমি আমার সন্তানকে ছাড়ব না। আমি তাকে মানুষ করে তুলব।’
লিজা আরও বলেন, ‘আমি যতদিন বেঁচে আছি, কাজ করে সন্তানকে খাওয়াতে পারব। কিন্তু আমি মারা গেলে আমার সন্তানকে কে দেখবে—এই চিন্তাই আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি যদি সাহায্যের হাত বাড়ান, তাহলে আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও নিশ্চিত হতে পারে।’
নিউ সততা প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘দিনমজুর এই নারী ও নবজাতকের অবস্থা বিবেচনা করে আমাদের সার্জন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার প্রীতিশ বিশ্বাস, সহযোগী ডাক্তার মোস্তফা কাউসার, অজ্ঞানের ডাক্তার নাসরিন রহমান খান। এই তিনজনের অপারেশন টিমটি তাদের অপারেশন চার্জ মানবিক কারণে ফ্রি করে দিয়েছেন এবং হাসপাতালের সব খরচ মওকুফ করেছি।’
অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসক ডা. প্রীতিষ বিশ্বাস বলেন, ‘জিনগত কারণ বা গর্ভকালীন যথাযথ চিকিৎসার অভাবে অনেক সময় এ ধরনের শিশু জন্ম নিতে পারে। অপারেশনটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তবে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শিশুটির শারীরিক ত্রুটি আমাদেরও মর্মাহত করেছে। মানবিক দিক বিবেচনায় আমি আমার সার্জন ফিও মওকুফ করেছি।’
একদিকে বাবার নির্মম অস্বীকৃতি, অন্যদিকে মায়ের অটুট ভালোবাসা—এই নবজাতকের জন্ম যেন সমাজের সামনে এক মানবিক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে। এখন সহানুভূতিশীল মানুষের সহযোগিতাই হতে পারে শিশুটির ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ভরসা।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬