Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:১৮
১৪ হাজার ৩৮৫ পদে প্রার্থী পৌনে ১১ লাখের বেশি
৬১ জেলায় পাঠানো প্রশ্নপত্র ফাঁসের ‘কানাঘুষা’
ফেসবুক গ্রুপগুলোতে সক্রিয়া প্রশ্নফাঁস চক্র
গুজব ছড়িয়ে পরীক্ষা ভণ্ডুলের অপচেষ্টা: অধিদপ্তর
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘হিসাব সহকারী’ নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এ কারণে পরীক্ষা শুরুর মাত্র এক ঘণ্টা আগে বিনা নোটিশে তা স্থগিত করে দেওয়া হয়। এ নিয়ে চাকরিপ্রার্থীরা একদিকে যেমন ক্ষোভ জানিয়েছেন, অন্যদিকে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জড়িত বলেও অভিযোগ তুলেছেন তারা।
হিসাব সহকারী পদের প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এবার সামনে এসেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। এক দফা পিছিয়ে আগামী ৯ জানুয়ারি এ পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে অধিদপ্তর। তবে এ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা।
চাকরিপ্রার্থী ও অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি চাকরিতে দেশের সবচেয়ে বড় নিয়োগ হয় প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে। এবারও ১৪ হাজার ৩৮৫ পদে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে এ পরীক্ষা নিতে তৎপর হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে সন্দেহ-সংশয় বেড়েছে।
তাদের অভিযোগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উচ্চপদে থাকা কর্মকর্তারা নির্বাচনের পর আর নাও থাকতে পারেন। অধিকাংশ পদে পরিবর্তন আসতে পারে। এজন্য তড়িঘড়ি করে এ পরীক্ষা নিয়ে মৌখিক পরীক্ষা শেষ করতে চান। এ কারণে নিয়োগে প্রভাব ও অনিয়মের আশঙ্কা করছেন বিভিন্ন পক্ষ।
প্রশ্নফাঁস চক্র সক্রিয়, অভিযোগ পাচ্ছেন কর্মকর্তারাও:
রংপুর বিভাগের একটি জেলার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, সাধারণত প্রাথমিকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদনের পর এত দ্রুত সময়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায় না। কিন্তু এবার দ্রুত এ পরীক্ষা নেওয়ার তোড়জোড় করায় সবার মধ্যে সন্দেহ বেড়েছে।
চাকরিপ্রার্থীরা প্রতারকচক্রের কাছ থেকে প্রশ্ন কেনার অফার পাচ্ছেন- এমন অভিযোগও পাচ্ছেন জানিয়ে এ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, গত কয়েকদিন একাধিক প্রার্থী কল করে জানিয়েছেন যে, তাদেরকে ফেসবুকের বিভিন্ন সিক্রেট গ্রুপে যুক্ত করে সেখানে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরীক্ষার আগে কেন্দ্রের আশপাশে কোনো বাসায় রেখে তাদের হাতে প্রশ্ন ও উত্তর দিয়ে পড়ানো বা প্রস্তুতি নেওয়ানো হবে। সেখান থেকে শতভাগ প্রশ্ন কমন আসবে বলেও নিশ্চয়তা দিচ্ছে চক্রটি। এর বিনিময়ে তারা অগ্রিম কিছু টাকা দাবি করছে। পাশাপাশি প্রবেশপত্র জমা রেখে পরীক্ষায় পাস করলে বাকি টাকা দিতে হবে বলে চুক্তি করছে। এ ধরনের প্রস্তাবের বিষয়টি অভিযোগ আকারে আসছে। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তা জানিয়ে দিয়েছি।
যেভাবে প্রশ্নফাঁসের প্রলোভন
প্রশ্নফাঁস চক্রের অফার পাওয়া দুজন প্রার্থীর মোবাইল ফোন নম্বরও দেন ওই প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তাদের একজনের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছে জাগো নিউজ। নাম প্রকাশ না করে ওই নারী চাকরিপ্রার্থী জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি নামের একটা গ্রুপে যুক্ত আছি। সেখান থেকে একজন আমাকে প্রার্থী দেখে নক দিয়েছেন। কিছু কথাবার্তার পর মেসেঞ্জারে কল দিয়ে প্রশ্ন দেওয়ার অফার করছেন। তাদের অফার অনুযায়ী- তিন লাখে চুক্তি করতে হবে। ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দিতে হবে। তাহলে স্পেশাল গ্রুপে নেবে।’
‘এরপর পরীক্ষার আগের দিন মোবাইল ফোন রেখে তাদের নির্ধারিত বাসায় যেতে হবে। সেখানে তারা খাওয়া-থাকা ও প্রস্তুতির ব্যবস্থা করবেন। পরদিন তারাই কেন্দ্রে দিয়ে আসবেন। কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পর তাদেরকে প্রবেশপত্র দিতে হবে। রেজাল্ট হলে লিখিত পরীক্ষায় পাস করলে বাকি আড়াই লাখ টাকা দিয়ে প্রবেশপত্র নিতে হবে। তারা মৌখিক পরীক্ষার কোনো দায়িত্ব নেবে না’ যোগ করেন ওই চাকরিপ্রার্থী।
প্রশ্নপত্র কোথায়?
গত ২ জানুয়ারি একযোগে দেশের ৬১ জেলায় প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু ও তার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পিছিয়ে ৯ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র বলছে, সেসময় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এমনকি প্রশ্নপত্রও প্রস্তুত করে জেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানেই এক সপ্তাহের বেশি প্রশ্নপত্রগুলো রয়ে গেছে। সে কারণে প্রশ্নফাঁসের কানাঘুষাটা বেশি ছড়িয়েছে বলে ধারণা করছেন অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের এক কর্মকর্তা।
তবে জেলায় প্রশ্নপত্র পাঠানো হলেও তা ফাঁস হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন পলিসি অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক এ কে মোহম্মদ সামছুল আহসান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ২ জানুয়ারি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। সঙ্গতকারণে আমাদেরকে সেসময় জেলা পর্যায়ে প্রশ্নপত্র পাঠিয়ে দিতে হয়েছে। প্রশ্নপত্রগুলো স্ব স্ব জেলা প্রশাসনের (ডিসি) ট্রেজারিতে জমা থাকে। সেখানে কঠোর নিরাপত্তায় সিলগালা এসব প্রশ্ন রাখা হয়। সেখান থেকে প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগই নেই।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অপতথ্য বা মিথ্যা-ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, এটি একটি চক্রের কাজ। একটি চক্র পরীক্ষা ভণ্ডুল করতে চায়। আবার কেউ কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করে পরীক্ষাটা পেছাতে চান। এসব অপতথ্য রুখতে গণমাধ্যম ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা গণামধ্যমের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের জানাতে চাই যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবে কান দেবেন না। ৯ জানুয়ারি বিকেলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা হবে। শতভাগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার দুই ধাপ মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে লড়াই করবেন প্রায় ৭৫ জন চাকরিপ্রার্থী।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রথম ধাপে (রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগ) ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে (ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ) ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি।
বরিশাল টাইমস
১৪ হাজার ৩৮৫ পদে প্রার্থী পৌনে ১১ লাখের বেশি
৬১ জেলায় পাঠানো প্রশ্নপত্র ফাঁসের ‘কানাঘুষা’
ফেসবুক গ্রুপগুলোতে সক্রিয়া প্রশ্নফাঁস চক্র
গুজব ছড়িয়ে পরীক্ষা ভণ্ডুলের অপচেষ্টা: অধিদপ্তর
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘হিসাব সহকারী’ নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এ কারণে পরীক্ষা শুরুর মাত্র এক ঘণ্টা আগে বিনা নোটিশে তা স্থগিত করে দেওয়া হয়। এ নিয়ে চাকরিপ্রার্থীরা একদিকে যেমন ক্ষোভ জানিয়েছেন, অন্যদিকে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জড়িত বলেও অভিযোগ তুলেছেন তারা।
হিসাব সহকারী পদের প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এবার সামনে এসেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। এক দফা পিছিয়ে আগামী ৯ জানুয়ারি এ পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে অধিদপ্তর। তবে এ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা।
চাকরিপ্রার্থী ও অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি চাকরিতে দেশের সবচেয়ে বড় নিয়োগ হয় প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে। এবারও ১৪ হাজার ৩৮৫ পদে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে এ পরীক্ষা নিতে তৎপর হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে সন্দেহ-সংশয় বেড়েছে।
তাদের অভিযোগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উচ্চপদে থাকা কর্মকর্তারা নির্বাচনের পর আর নাও থাকতে পারেন। অধিকাংশ পদে পরিবর্তন আসতে পারে। এজন্য তড়িঘড়ি করে এ পরীক্ষা নিয়ে মৌখিক পরীক্ষা শেষ করতে চান। এ কারণে নিয়োগে প্রভাব ও অনিয়মের আশঙ্কা করছেন বিভিন্ন পক্ষ।
প্রশ্নফাঁস চক্র সক্রিয়, অভিযোগ পাচ্ছেন কর্মকর্তারাও:
রংপুর বিভাগের একটি জেলার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, সাধারণত প্রাথমিকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদনের পর এত দ্রুত সময়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায় না। কিন্তু এবার দ্রুত এ পরীক্ষা নেওয়ার তোড়জোড় করায় সবার মধ্যে সন্দেহ বেড়েছে।
চাকরিপ্রার্থীরা প্রতারকচক্রের কাছ থেকে প্রশ্ন কেনার অফার পাচ্ছেন- এমন অভিযোগও পাচ্ছেন জানিয়ে এ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, গত কয়েকদিন একাধিক প্রার্থী কল করে জানিয়েছেন যে, তাদেরকে ফেসবুকের বিভিন্ন সিক্রেট গ্রুপে যুক্ত করে সেখানে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরীক্ষার আগে কেন্দ্রের আশপাশে কোনো বাসায় রেখে তাদের হাতে প্রশ্ন ও উত্তর দিয়ে পড়ানো বা প্রস্তুতি নেওয়ানো হবে। সেখান থেকে শতভাগ প্রশ্ন কমন আসবে বলেও নিশ্চয়তা দিচ্ছে চক্রটি। এর বিনিময়ে তারা অগ্রিম কিছু টাকা দাবি করছে। পাশাপাশি প্রবেশপত্র জমা রেখে পরীক্ষায় পাস করলে বাকি টাকা দিতে হবে বলে চুক্তি করছে। এ ধরনের প্রস্তাবের বিষয়টি অভিযোগ আকারে আসছে। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তা জানিয়ে দিয়েছি।
যেভাবে প্রশ্নফাঁসের প্রলোভন
প্রশ্নফাঁস চক্রের অফার পাওয়া দুজন প্রার্থীর মোবাইল ফোন নম্বরও দেন ওই প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তাদের একজনের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছে জাগো নিউজ। নাম প্রকাশ না করে ওই নারী চাকরিপ্রার্থী জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি নামের একটা গ্রুপে যুক্ত আছি। সেখান থেকে একজন আমাকে প্রার্থী দেখে নক দিয়েছেন। কিছু কথাবার্তার পর মেসেঞ্জারে কল দিয়ে প্রশ্ন দেওয়ার অফার করছেন। তাদের অফার অনুযায়ী- তিন লাখে চুক্তি করতে হবে। ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দিতে হবে। তাহলে স্পেশাল গ্রুপে নেবে।’
‘এরপর পরীক্ষার আগের দিন মোবাইল ফোন রেখে তাদের নির্ধারিত বাসায় যেতে হবে। সেখানে তারা খাওয়া-থাকা ও প্রস্তুতির ব্যবস্থা করবেন। পরদিন তারাই কেন্দ্রে দিয়ে আসবেন। কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পর তাদেরকে প্রবেশপত্র দিতে হবে। রেজাল্ট হলে লিখিত পরীক্ষায় পাস করলে বাকি আড়াই লাখ টাকা দিয়ে প্রবেশপত্র নিতে হবে। তারা মৌখিক পরীক্ষার কোনো দায়িত্ব নেবে না’ যোগ করেন ওই চাকরিপ্রার্থী।
প্রশ্নপত্র কোথায়?
গত ২ জানুয়ারি একযোগে দেশের ৬১ জেলায় প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু ও তার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পিছিয়ে ৯ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র বলছে, সেসময় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এমনকি প্রশ্নপত্রও প্রস্তুত করে জেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানেই এক সপ্তাহের বেশি প্রশ্নপত্রগুলো রয়ে গেছে। সে কারণে প্রশ্নফাঁসের কানাঘুষাটা বেশি ছড়িয়েছে বলে ধারণা করছেন অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের এক কর্মকর্তা।
তবে জেলায় প্রশ্নপত্র পাঠানো হলেও তা ফাঁস হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন পলিসি অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক এ কে মোহম্মদ সামছুল আহসান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ২ জানুয়ারি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। সঙ্গতকারণে আমাদেরকে সেসময় জেলা পর্যায়ে প্রশ্নপত্র পাঠিয়ে দিতে হয়েছে। প্রশ্নপত্রগুলো স্ব স্ব জেলা প্রশাসনের (ডিসি) ট্রেজারিতে জমা থাকে। সেখানে কঠোর নিরাপত্তায় সিলগালা এসব প্রশ্ন রাখা হয়। সেখান থেকে প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগই নেই।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অপতথ্য বা মিথ্যা-ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, এটি একটি চক্রের কাজ। একটি চক্র পরীক্ষা ভণ্ডুল করতে চায়। আবার কেউ কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করে পরীক্ষাটা পেছাতে চান। এসব অপতথ্য রুখতে গণমাধ্যম ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা গণামধ্যমের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের জানাতে চাই যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবে কান দেবেন না। ৯ জানুয়ারি বিকেলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা হবে। শতভাগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার দুই ধাপ মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে লড়াই করবেন প্রায় ৭৫ জন চাকরিপ্রার্থী।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রথম ধাপে (রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগ) ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে (ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ) ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি।
বরিশাল টাইমস

০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:২৩
প্রেমের টানে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে মো. আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামের এক বাংলাদেশি যুবক ভারতীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন। ভারতের অভ্যন্তরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তিনি এখন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বুটিয়াপাড়া সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত আনোয়ার হোসেন ওই উপজেলার উত্তর নলকুড়া গ্রামের মো. মজিবরের ছেলে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) জানায়, আনোয়ার হোসেন জনৈক এক ভারতীয় নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। মূলত সেই সম্পর্কের টানেই তিনি বারবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হতেন।
গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, গত বছরও একই কারণে ভারতে প্রবেশ করতে গিয়ে তিনি ভারতীয় দুষ্কৃতকারীদের হামলার শিকার হয়েছিলেন। তবুও দমানো যায়নি তাকে।
বিজিবি জানায়, মঙ্গলবার রাতে প্রেমের টানে জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করে ভারতের প্রায় ৩৫০ গজ ভেতরে ঢুকে পড়েন আনোয়ার। কাঁটাতারের বেড়ার কাছে পৌঁছাতেই রাতের অন্ধকারে ওত পেতে থাকা একদল অজ্ঞাতনামা পাহাড়ি গারো লোক তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের হামলায় আনোয়ার গুরুতর জখম হন।
আহত অবস্থায় কোনো মতে বাংলাদেশে ফিরে আসলে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি ঢাকাতেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল নুরুল আজিম বায়েজীদ জানান, সীমান্ত রক্ষা এবং মাদক ও চোরাচালানসহ যেকোনোপ্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত আইন অমান্য করার ফলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনা ঘটছে।

০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৩০
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের সমরগাঁও গ্রামে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে এক মাদক কারবারির ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সমরগাও গ্রামের বাসিন্দা রফিজ আলীর ছেলে সমুজ আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও তিনি জোরপূর্বক গ্রামবাসীর জমি দখল করে সেখানে বসবাস করছিলেন বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সকালে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তার বসতঘর ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, সমুজ আলী একজন মাদক কারবারি বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রামবাসী তার বসতঘর উচ্ছেদ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।

০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:৫৯
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় অবৈধভাবে ঘোড়া জবাই করে মাংস সরবরাহ করে এমন একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে। স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে চক্রের সদস্যরা ১৪টি জবাইকৃত ঘোড়া ফেলে পালিয়ে যায়।
বুধবার (৮ মার্চ) ভোরে উপজেলার আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তিতাস গ্যাসের সাবস্টেশনের পেছনের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে জবাইকৃত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়। এ সময় জবাইয়ের উদ্দেশ্যে আনা একটি জীবিত ঘোড়াও উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত ঘোড়াগুলো থেকে প্রায় ৩০ মণ মাংস পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় গভীর রাতে সন্দেহজনক কার্যক্রম চলছিল। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে গ্রামবাসী নজরদারি শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা হাসান জানান, বুধবার ভোরে গ্রামবাসী ওঁৎ পেতে থেকে চক্রটিকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে তাদের ধাওয়া দিলে মো. তিতাস ও রাজিবসহ কয়েকজন পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চক্রটি নিয়মিত ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন হোটেল ও কসাইদের কাছে সরবরাহ করত। প্রমাণ গোপন করতে তারা চামড়া, হাড় ও নাড়িভুঁড়ি মাটিতে পুঁতে রাখত। ঘটনাস্থলে অন্তত ২০টি গর্ত এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হাড়গোড়ের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সপ্তাহে কয়েকদিন গভীর রাতে সেখানে গাড়ি আসত। সকালে রক্ত ও হাড় পড়ে থাকতে দেখা যেত। যা সন্দেহ আরও বাড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তার আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১’ অনুযায়ী ঘোড়া জবাই বৈধ নয়।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জবাইকৃত ঘোড়াগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।
প্রেমের টানে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে মো. আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামের এক বাংলাদেশি যুবক ভারতীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন। ভারতের অভ্যন্তরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তিনি এখন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বুটিয়াপাড়া সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত আনোয়ার হোসেন ওই উপজেলার উত্তর নলকুড়া গ্রামের মো. মজিবরের ছেলে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) জানায়, আনোয়ার হোসেন জনৈক এক ভারতীয় নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। মূলত সেই সম্পর্কের টানেই তিনি বারবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হতেন।
গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, গত বছরও একই কারণে ভারতে প্রবেশ করতে গিয়ে তিনি ভারতীয় দুষ্কৃতকারীদের হামলার শিকার হয়েছিলেন। তবুও দমানো যায়নি তাকে।
বিজিবি জানায়, মঙ্গলবার রাতে প্রেমের টানে জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করে ভারতের প্রায় ৩৫০ গজ ভেতরে ঢুকে পড়েন আনোয়ার। কাঁটাতারের বেড়ার কাছে পৌঁছাতেই রাতের অন্ধকারে ওত পেতে থাকা একদল অজ্ঞাতনামা পাহাড়ি গারো লোক তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের হামলায় আনোয়ার গুরুতর জখম হন।
আহত অবস্থায় কোনো মতে বাংলাদেশে ফিরে আসলে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি ঢাকাতেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল নুরুল আজিম বায়েজীদ জানান, সীমান্ত রক্ষা এবং মাদক ও চোরাচালানসহ যেকোনোপ্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত আইন অমান্য করার ফলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনা ঘটছে।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের সমরগাঁও গ্রামে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে এক মাদক কারবারির ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সমরগাও গ্রামের বাসিন্দা রফিজ আলীর ছেলে সমুজ আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও তিনি জোরপূর্বক গ্রামবাসীর জমি দখল করে সেখানে বসবাস করছিলেন বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সকালে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তার বসতঘর ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, সমুজ আলী একজন মাদক কারবারি বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রামবাসী তার বসতঘর উচ্ছেদ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় অবৈধভাবে ঘোড়া জবাই করে মাংস সরবরাহ করে এমন একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে। স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে চক্রের সদস্যরা ১৪টি জবাইকৃত ঘোড়া ফেলে পালিয়ে যায়।
বুধবার (৮ মার্চ) ভোরে উপজেলার আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তিতাস গ্যাসের সাবস্টেশনের পেছনের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে জবাইকৃত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়। এ সময় জবাইয়ের উদ্দেশ্যে আনা একটি জীবিত ঘোড়াও উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত ঘোড়াগুলো থেকে প্রায় ৩০ মণ মাংস পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় গভীর রাতে সন্দেহজনক কার্যক্রম চলছিল। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে গ্রামবাসী নজরদারি শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা হাসান জানান, বুধবার ভোরে গ্রামবাসী ওঁৎ পেতে থেকে চক্রটিকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে তাদের ধাওয়া দিলে মো. তিতাস ও রাজিবসহ কয়েকজন পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চক্রটি নিয়মিত ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন হোটেল ও কসাইদের কাছে সরবরাহ করত। প্রমাণ গোপন করতে তারা চামড়া, হাড় ও নাড়িভুঁড়ি মাটিতে পুঁতে রাখত। ঘটনাস্থলে অন্তত ২০টি গর্ত এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হাড়গোড়ের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সপ্তাহে কয়েকদিন গভীর রাতে সেখানে গাড়ি আসত। সকালে রক্ত ও হাড় পড়ে থাকতে দেখা যেত। যা সন্দেহ আরও বাড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তার আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১’ অনুযায়ী ঘোড়া জবাই বৈধ নয়।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জবাইকৃত ঘোড়াগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।