
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৪১
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় অতিরিক্ত দামে অকটেন বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে অভিযান চালিয়ে বাইকারদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত দামে তেল বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় তেল গ্রাহকরা।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জিয়ানগর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বেশ কিছুদিন ধরে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৬ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চন্ডিপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অকটেন প্রতি লিটার ১৭০ টাকায় বিক্রির অভিযোগে মেসার্স তুহিন হার্ডওয়্যার স্টেশনের মালিক দেলোয়ারকে ভোক্তা অধিকার আইনে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে সেখানে উপস্থিত বাইকারদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।
জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে অকটেন বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ভোক্তা অধিকার আইনে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের সরকারি দামে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
বরিশাল টাইমস
ছবি: সংগৃহীত
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় অতিরিক্ত দামে অকটেন বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে অভিযান চালিয়ে বাইকারদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত দামে তেল বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় তেল গ্রাহকরা।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জিয়ানগর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বেশ কিছুদিন ধরে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৬ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চন্ডিপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অকটেন প্রতি লিটার ১৭০ টাকায় বিক্রির অভিযোগে মেসার্স তুহিন হার্ডওয়্যার স্টেশনের মালিক দেলোয়ারকে ভোক্তা অধিকার আইনে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে সেখানে উপস্থিত বাইকারদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।
জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে অকটেন বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ভোক্তা অধিকার আইনে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের সরকারি দামে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
বরিশাল টাইমস

১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:২০

১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৫৫
পিরোজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন–২০২৬ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অ্যাডভোকেট এম. শাহ আলম ও অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন সরদার। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অ্যাডভোকেট এ.কে.এম. আউয়াল, অ্যাডভোকেট মো. মুনসুর উদ্দিন হাওলাদার, অ্যাডভোকেট রহিমা আক্তার হাসি এবং অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম হাওলাদার।
মোট ২২৬ জন ভোটারের মধ্যে ২১২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম শামীম।
ফলাফল অনুযায়ী সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট এম. শাহ আলম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট এ.কে.এম. আউয়াল নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন— সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকরাম আলী মোল্লা, অর্থ সম্পাদক ওয়াহিদ হাসান (বাবু), গ্রন্থাগার ও পরিসম্পদ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, আপ্যায়ন ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুশেন কুমার হালদার শুভ, ক্রীড়া সম্পাদক মনিরুজ্জামান এবং হিসাব নিরীক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম।
সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট নাসিমা আক্তার, সরজীত কুমার অধিকারী, রিয়াজুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম।

১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:২৪
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় গত ১৮ দিনে পৃথক দুর্ঘটনায় ইটভাটা শ্রমিক, কৃষক, শিশু, গর্ভবতী মা ও নবজাতকসহ মোট পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল দুপুর ১টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামে পুকুরে পড়ে আব্দুল্লাহ শিকদার (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। পরিবারের অগোচরে খেলতে গিয়ে সে পানিতে পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে ৯ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে চন্ডিপুর ইউনিয়নের কেবিআই ইটভাটায় বৃষ্টিতে ভেজা বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে মো. ফারুক হোসেন মোড়ল (৪৫) নামে এক ইটভাটা শ্রমিক নিহত হন। সহকর্মীরা জানান, কাজের সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
অন্যদিকে ২৭ মার্চ উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়ির পাশে কাজ করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে কৃষক মো. অদুদ খান মারা যান। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে ২৯ মার্চ উপজেলার খোলপটুয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুমানা বেগম (৩০)। তিনি দুই সন্তানের জননী ও অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া পথে চৌরাস্তা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সেই একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি।
কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। পরে জন্ম নেওয়া নবজাতকটি তিন দিন পর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এ ধরনের একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার, শিশুদের প্রতি বাড়তি নজরদারি এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
পিরোজপুরে চুরির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মেসের অস্থায়ী কেয়ারটেকার মো. ইউনুস ফকিরকে নির্যাতনের ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহম্মেদ সিদ্দিকী জানান, ডিবির ওসি মো. আরিফুল ইসলাম এবং দুই পুলিশ কনস্টেবল—মো. কাওসার ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ইউনুস ফকির পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাকুনিয়ারি গ্রামের মৃত মোবারেক আলী ফকিরের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক এবং পুলিশ অফিসার্স মেসের অস্থায়ী কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গত সোমবার টাকা চুরির অভিযোগে ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের সময় ইউনুসকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় এবং সংবেদনশীল অঙ্গে মোমের আগুন দিয়ে পোড়ানোর অভিযোগও ওঠে। ঘটনাটি গোপন রাখতে প্রথমে তাকে সরকারি হাসপাতালে না নিয়ে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরিবারের দাবি, সেখানে এবং পরবর্তীতেও নির্যাতনের প্রকৃত ঘটনা গোপন রাখতে ইউনুসকে ভিন্ন বক্তব্য দিতে চাপ দেওয়া হয়। পরে তাকে পিরোজপুরের পুলিশ সুপারের কাছে নেওয়া হলে তিনি বিস্তারিত শুনে মেসের ঝাড়ুদার শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল টাকা চুরির কথা স্বীকার করলে পুলিশ সেই টাকা উদ্ধার করে এবং ইউনুসের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।
ইউনুসের ভাই আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমার ভাইয়ের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা চরম অমানবিক। তাকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
ইউনুসের ভাতিজি মাহমুদা অভিযোগ করেন, ‘আমরা বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও কেউ আমাদের কথা শোনেননি। আমার চাচাকে মারধর করা হয়েছে। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. স্বাগত হাওলাদার জানান, ইউনুসের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তার পুরুষাঙ্গে পোড়ার আলামত পাওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অভিযোগের বিষয়ে ডিবির ওসি মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার জন্য আমি দুঃখিত। তবে আমি কোনো নির্যাতন করিনি। আমাদের এক সোর্স রান্নাঘরে নিয়ে মোমবাতি দিয়ে এ কাজ করেছে।’
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহম্মেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউনুসের চিকিৎসার সব ব্যয় জেলা পুলিশ বহন করবে।’
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পিরোজপুরে চুরির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মেসের অস্থায়ী কেয়ারটেকার মো. ইউনুস ফকিরকে নির্যাতনের ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহম্মেদ সিদ্দিকী জানান, ডিবির ওসি মো. আরিফুল ইসলাম এবং দুই পুলিশ কনস্টেবল—মো. কাওসার ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ইউনুস ফকির পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাকুনিয়ারি গ্রামের মৃত মোবারেক আলী ফকিরের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক এবং পুলিশ অফিসার্স মেসের অস্থায়ী কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গত সোমবার টাকা চুরির অভিযোগে ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের সময় ইউনুসকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় এবং সংবেদনশীল অঙ্গে মোমের আগুন দিয়ে পোড়ানোর অভিযোগও ওঠে। ঘটনাটি গোপন রাখতে প্রথমে তাকে সরকারি হাসপাতালে না নিয়ে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরিবারের দাবি, সেখানে এবং পরবর্তীতেও নির্যাতনের প্রকৃত ঘটনা গোপন রাখতে ইউনুসকে ভিন্ন বক্তব্য দিতে চাপ দেওয়া হয়। পরে তাকে পিরোজপুরের পুলিশ সুপারের কাছে নেওয়া হলে তিনি বিস্তারিত শুনে মেসের ঝাড়ুদার শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল টাকা চুরির কথা স্বীকার করলে পুলিশ সেই টাকা উদ্ধার করে এবং ইউনুসের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।
ইউনুসের ভাই আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমার ভাইয়ের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা চরম অমানবিক। তাকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
ইউনুসের ভাতিজি মাহমুদা অভিযোগ করেন, ‘আমরা বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও কেউ আমাদের কথা শোনেননি। আমার চাচাকে মারধর করা হয়েছে। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. স্বাগত হাওলাদার জানান, ইউনুসের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তার পুরুষাঙ্গে পোড়ার আলামত পাওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অভিযোগের বিষয়ে ডিবির ওসি মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার জন্য আমি দুঃখিত। তবে আমি কোনো নির্যাতন করিনি। আমাদের এক সোর্স রান্নাঘরে নিয়ে মোমবাতি দিয়ে এ কাজ করেছে।’
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহম্মেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউনুসের চিকিৎসার সব ব্যয় জেলা পুলিশ বহন করবে।’
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পিরোজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন–২০২৬ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অ্যাডভোকেট এম. শাহ আলম ও অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন সরদার। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অ্যাডভোকেট এ.কে.এম. আউয়াল, অ্যাডভোকেট মো. মুনসুর উদ্দিন হাওলাদার, অ্যাডভোকেট রহিমা আক্তার হাসি এবং অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম হাওলাদার।
মোট ২২৬ জন ভোটারের মধ্যে ২১২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম শামীম।
ফলাফল অনুযায়ী সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট এম. শাহ আলম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট এ.কে.এম. আউয়াল নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন— সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকরাম আলী মোল্লা, অর্থ সম্পাদক ওয়াহিদ হাসান (বাবু), গ্রন্থাগার ও পরিসম্পদ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, আপ্যায়ন ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুশেন কুমার হালদার শুভ, ক্রীড়া সম্পাদক মনিরুজ্জামান এবং হিসাব নিরীক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম।
সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট নাসিমা আক্তার, সরজীত কুমার অধিকারী, রিয়াজুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম।
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় গত ১৮ দিনে পৃথক দুর্ঘটনায় ইটভাটা শ্রমিক, কৃষক, শিশু, গর্ভবতী মা ও নবজাতকসহ মোট পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল দুপুর ১টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামে পুকুরে পড়ে আব্দুল্লাহ শিকদার (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। পরিবারের অগোচরে খেলতে গিয়ে সে পানিতে পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে ৯ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে চন্ডিপুর ইউনিয়নের কেবিআই ইটভাটায় বৃষ্টিতে ভেজা বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে মো. ফারুক হোসেন মোড়ল (৪৫) নামে এক ইটভাটা শ্রমিক নিহত হন। সহকর্মীরা জানান, কাজের সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
অন্যদিকে ২৭ মার্চ উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়ির পাশে কাজ করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে কৃষক মো. অদুদ খান মারা যান। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে ২৯ মার্চ উপজেলার খোলপটুয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুমানা বেগম (৩০)। তিনি দুই সন্তানের জননী ও অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া পথে চৌরাস্তা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সেই একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি।
কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। পরে জন্ম নেওয়া নবজাতকটি তিন দিন পর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এ ধরনের একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার, শিশুদের প্রতি বাড়তি নজরদারি এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৫৭
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৪৮
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:২০
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:০৫