জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদককে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে।
বার্ধক্যজনিত একাধিক অসুস্থতার কারণে বেশ কিছুদিন যাবত শয্যাশায়ী ছিলেন ওবায়দুল কাদের। কলকাতার নিউ টাউনের বাড়িতেই চলছিল অক্সিজেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) আচমকাই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে কলকাতার বাইপাসের কাছে অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তির পরেই তাকে দেয়া হয় ভেন্টিলেশনে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন তিনি, তবে অবস্থা বেশ সংকটজনক।
গত জুনে বিবিসি বাংলার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ওবায়দুল কাদের জানান, তিনি এখনো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন বলেও সে সময় উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর তিন মাস বাসা বদল করে আত্নগোপনে ছিলেন; শেষ পর্যন্ত তিন মাস পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি দেশ ছেড়েছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের দমননীতির জন্য ক্ষমা চাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা যখন দেশে এসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর পরিবেশ পাবেন, তখন ক্ষমা চাওয়া, ভুল স্বীকার করা বা অনুশোচনার বিষয় আসবে।
২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন ওবায়দুল কাদের। ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪-এর আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতা নোয়াখালী-৫ আসন থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৩৯

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৫০
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস (পরশ), তার স্ত্রী নাহিদ সুলতানা এবং তানজীন ওহাব বৃষ্টিসহ ৩ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ অগাস্ট) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এই আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক (পর্যবেক্ষণ ও বিচারণ) এবং অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা এ কে এম মাহবুবুর রহমান তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।
ওই আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস (পরশ) তার নিজ নামে এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করে মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এই অভিযোগের বিষয়ে বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে।
অনুসন্ধানকালে গোপন সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এজন্য সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ যাত্রা বন্ধ করা একান্ত প্রয়োজন।

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ০২:০৯

০৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:২৫
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদককে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে।
বার্ধক্যজনিত একাধিক অসুস্থতার কারণে বেশ কিছুদিন যাবত শয্যাশায়ী ছিলেন ওবায়দুল কাদের। কলকাতার নিউ টাউনের বাড়িতেই চলছিল অক্সিজেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) আচমকাই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে কলকাতার বাইপাসের কাছে অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তির পরেই তাকে দেয়া হয় ভেন্টিলেশনে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন তিনি, তবে অবস্থা বেশ সংকটজনক।
গত জুনে বিবিসি বাংলার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ওবায়দুল কাদের জানান, তিনি এখনো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন বলেও সে সময় উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর তিন মাস বাসা বদল করে আত্নগোপনে ছিলেন; শেষ পর্যন্ত তিন মাস পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি দেশ ছেড়েছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের দমননীতির জন্য ক্ষমা চাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা যখন দেশে এসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর পরিবেশ পাবেন, তখন ক্ষমা চাওয়া, ভুল স্বীকার করা বা অনুশোচনার বিষয় আসবে।
২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন ওবায়দুল কাদের। ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪-এর আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতা নোয়াখালী-৫ আসন থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নিস্ক্রিয় থাকলেও ডিসেম্বরকে ঘিরে নতুন কৌশলে আগাচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ করাসহ পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার পাশাপাশি ডিসেম্বরকে ‘টার্গেট’ করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় রাখার তৎপরতা চলছে। ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার ছক কষছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছেন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। নারায়ণগঞ্জের পলাতক নেতা শামীম ওসমানও ডিসেম্বরে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তার এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র একটি জাতীয় দৈনিককে নিশ্চিত করেছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিজেদের শক্তির জানান দিতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সপ্তাহ দুয়েক ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি ঝটিকা মিছিল করেছে। এগুলোর মধ্যে বনানী, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, সাভার এবং সুনামগঞ্জের ঘটনায় বেশ উদ্বিগ্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই মধ্যে পুলিশ সদর সপ্তর থেকে এ বিষয়ে সব ইউনিটকে সতর্ক করে মাঠ পর্যায়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাপাড় এলাকায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল প্রতিরোধের ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলার পরিচয় দেওয়ায় ময়মনসিংহের কোতয়ালি মডেল থানার ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির পুরো টিমকে প্রত্যাহার করা হয়। ফাঁড়ির ইনচার্জসহ এই টিমের সদস্যদের সংখ্যা ২৭ জন।
পর্যবেক্ষক মহল ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করছেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার পর সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে এত দ্রুত দেশে ফিরে আসা এবং রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়া আওয়ামী লীগের জন্য মোটেও সহজতর হবে না। তাদের মতে, এটি মূলত কর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল মাত্র। এদিকে যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) আব্দুল কাইয়ুম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগের শীর্ষ থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলাপর্যায়ের নেতারা ব্যাপক দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাদের অনেক টাকা আছে, টাকা খরচ করে তারা দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালাতে পারেন। এক্ষেত্রে তারা সফল হতে পারবে বলে মনে হয় না। কারণ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনা দেশের মানুষের মনে এখনো টাটকা। নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের ওপর চরম নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দলটির প্রতি কোনো সহানুভূতি বা সমর্থন নেই।
তিনি বলেন, তারপরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে হবে। চরমপন্থি যোগাযোগ বা দেশি-বিদেশি চক্রান্তের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা যেন সফল না হতে পারে, সেজন্য আগাম তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ফ্যাসিস্টবিরোধী ঐক্য জোরদার করতে হবে।
অনুসন্ধানী সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতাকর্মীরা পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ রাখছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও এনক্রিপ্টেড (সংকেতায়িত) অ্যাপ ব্যবহার করে তারা দেশ-বিদেশের পলাতক নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। সরকারবিরোধী তৎপরতার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে তহবিলও গঠন করা হচ্ছে।
পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজি সংবাদমাধ্যমকে জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে বিপুলসংখ্যক কনস্টেবল, এসআই ও এএসপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পটপরিবর্তনের পর শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হলেও মাঠপর্যায়ে এখনো অনেক আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তা রয়ে গেছেন। তাদের কারও কারও সঙ্গে বিদেশে পলাতক সাবেক সরকারের শীর্ষ কিছু কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে আলোচনা আছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু আবাসিক এলাকাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসাবে বেছে নিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনটির ক্যাডাররা। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ভাটারা, বনশ্রী, আফতাবনগর, মহানগর আবাসিক, খিলক্ষেত, নিকুঞ্জ, মোহাম্মদপুর, বসিলা, কামরাঙ্গীরচর, শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা। এছাড়া ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও এসব এলাকায় আত্মগোপনে আছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে এবং নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত সচল রাখতে তারা নানা পেশা বেছে নিয়েছেন। কেউ রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল বা অটোরিকশা চালাচ্ছেন। কেউ চালু করেছেন বিউটি পার্লার। কেউ আবার মোটরসাইকেলের শোরুম দিয়েছেন। অনেকে আওয়ামীপন্থি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছেন। কারও কারও নিয়ন্ত্রণে আছে কিছু অনলাইন পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেল। এর মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে তথা আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।
সূত্রগুলো জানায়, সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় দেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা বিদেশে পলাতক যেসব নেতার সঙ্গে বেশি যোগাযোগ করছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নসরুল হামিদ বিপু, এনামুল হক শামীম, জাহাঙ্গীর আলম (গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র), নিক্সন চৌধুরী, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, নজরুল ইসলাম বাবু এবং পিরোজপুরের মহিউদ্দিন মহারাজ প্রমুখ।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ককটেল ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো এবং গোপন নাশকতার ছক বাস্তবায়নের অগ্রিম বার্তা হিসাবে দেখছেন গোয়েন্দারা।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) নাঈম আশফাক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই। চব্বিশের ৫ আগস্টের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে যে ধরনের অস্থিরতা ও নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণের সহযোগিতায় যে কোনো বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করা সম্ভব।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সরকার পতনের পর দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেলেও তাদের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়নি। আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী ঢাকার অপরাধপ্রবণ এলাকা ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ছদ্মবেশে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় আত্মগোপন করে রাজনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তারা টেলিগ্রাম, ফেসবুক ও বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে শেখ হাসিনার বার্তা ছড়িয়ে নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার চেষ্টা করছেন। পাশাপশি ডিসেম্বরকে টার্গেট করে নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা চলছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। প্রতিনিয়ত আমরা তাদের গ্রেপ্তার করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশেষ উদ্দেশে কোনো মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করছে কি না, সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কথাটি মূলত রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার একটি কৌশল। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাতারাতি বা নির্দিষ্ট কোনো ডেডলাইন দিয়ে ফিরে আসা সহজ নয়। বিগত সরকারের আমলের দায়ভার এবং মানুষের ক্ষোভের বিপরীতে তারা কীভাবে সাধারণ মানুষের সামনে দাঁড়াবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।
তিনি বলেন, যে দল বা ব্যক্তির কারণে দেশে একটি চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভীতি তৈরি হয়েছিল, তারা খুব সহজেই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে হুট করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসতে পারবে- এমনটা ভাবাও অমূলক এবং অবান্তর।’
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নিস্ক্রিয় থাকলেও ডিসেম্বরকে ঘিরে নতুন কৌশলে আগাচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ করাসহ পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার পাশাপাশি ডিসেম্বরকে ‘টার্গেট’ করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় রাখার তৎপরতা চলছে। ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার ছক কষছেন। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছেন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। নারায়ণগঞ্জের পলাতক নেতা শামীম ওসমানও ডিসেম্বরে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তার এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র একটি জাতীয় দৈনিককে নিশ্চিত করেছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিজেদের শক্তির জানান দিতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সপ্তাহ দুয়েক ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি ঝটিকা মিছিল করেছে। এগুলোর মধ্যে বনানী, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, সাভার এবং সুনামগঞ্জের ঘটনায় বেশ উদ্বিগ্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই মধ্যে পুলিশ সদর সপ্তর থেকে এ বিষয়ে সব ইউনিটকে সতর্ক করে মাঠ পর্যায়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাপাড় এলাকায় যুবলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল প্রতিরোধের ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলার পরিচয় দেওয়ায় ময়মনসিংহের কোতয়ালি মডেল থানার ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির পুরো টিমকে প্রত্যাহার করা হয়। ফাঁড়ির ইনচার্জসহ এই টিমের সদস্যদের সংখ্যা ২৭ জন।
পর্যবেক্ষক মহল ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করছেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার পর সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে এত দ্রুত দেশে ফিরে আসা এবং রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়া আওয়ামী লীগের জন্য মোটেও সহজতর হবে না। তাদের মতে, এটি মূলত কর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল মাত্র। এদিকে যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) আব্দুল কাইয়ুম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগের শীর্ষ থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলাপর্যায়ের নেতারা ব্যাপক দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তাদের অনেক টাকা আছে, টাকা খরচ করে তারা দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালাতে পারেন। এক্ষেত্রে তারা সফল হতে পারবে বলে মনে হয় না। কারণ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনা দেশের মানুষের মনে এখনো টাটকা। নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের ওপর চরম নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দলটির প্রতি কোনো সহানুভূতি বা সমর্থন নেই।
তিনি বলেন, তারপরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে হবে। চরমপন্থি যোগাযোগ বা দেশি-বিদেশি চক্রান্তের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা যেন সফল না হতে পারে, সেজন্য আগাম তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ফ্যাসিস্টবিরোধী ঐক্য জোরদার করতে হবে।
অনুসন্ধানী সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতাকর্মীরা পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ রাখছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও এনক্রিপ্টেড (সংকেতায়িত) অ্যাপ ব্যবহার করে তারা দেশ-বিদেশের পলাতক নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। সরকারবিরোধী তৎপরতার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে তহবিলও গঠন করা হচ্ছে।
পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজি সংবাদমাধ্যমকে জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে বিপুলসংখ্যক কনস্টেবল, এসআই ও এএসপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পটপরিবর্তনের পর শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হলেও মাঠপর্যায়ে এখনো অনেক আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তা রয়ে গেছেন। তাদের কারও কারও সঙ্গে বিদেশে পলাতক সাবেক সরকারের শীর্ষ কিছু কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে আলোচনা আছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু আবাসিক এলাকাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসাবে বেছে নিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনটির ক্যাডাররা। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ভাটারা, বনশ্রী, আফতাবনগর, মহানগর আবাসিক, খিলক্ষেত, নিকুঞ্জ, মোহাম্মদপুর, বসিলা, কামরাঙ্গীরচর, শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা। এছাড়া ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও এসব এলাকায় আত্মগোপনে আছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে এবং নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত সচল রাখতে তারা নানা পেশা বেছে নিয়েছেন। কেউ রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল বা অটোরিকশা চালাচ্ছেন। কেউ চালু করেছেন বিউটি পার্লার। কেউ আবার মোটরসাইকেলের শোরুম দিয়েছেন। অনেকে আওয়ামীপন্থি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছেন। কারও কারও নিয়ন্ত্রণে আছে কিছু অনলাইন পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেল। এর মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে তথা আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।
সূত্রগুলো জানায়, সংগঠিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় দেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা বিদেশে পলাতক যেসব নেতার সঙ্গে বেশি যোগাযোগ করছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নসরুল হামিদ বিপু, এনামুল হক শামীম, জাহাঙ্গীর আলম (গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র), নিক্সন চৌধুরী, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, নজরুল ইসলাম বাবু এবং পিরোজপুরের মহিউদ্দিন মহারাজ প্রমুখ।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ককটেল ও বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো এবং গোপন নাশকতার ছক বাস্তবায়নের অগ্রিম বার্তা হিসাবে দেখছেন গোয়েন্দারা।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) নাঈম আশফাক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই। চব্বিশের ৫ আগস্টের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে যে ধরনের অস্থিরতা ও নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণের সহযোগিতায় যে কোনো বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করা সম্ভব।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সরকার পতনের পর দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেলেও তাদের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়নি। আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী ঢাকার অপরাধপ্রবণ এলাকা ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ছদ্মবেশে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় আত্মগোপন করে রাজনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তারা টেলিগ্রাম, ফেসবুক ও বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে শেখ হাসিনার বার্তা ছড়িয়ে নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার চেষ্টা করছেন। পাশাপশি ডিসেম্বরকে টার্গেট করে নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা চলছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। প্রতিনিয়ত আমরা তাদের গ্রেপ্তার করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশেষ উদ্দেশে কোনো মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করছে কি না, সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কথাটি মূলত রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার একটি কৌশল। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাতারাতি বা নির্দিষ্ট কোনো ডেডলাইন দিয়ে ফিরে আসা সহজ নয়। বিগত সরকারের আমলের দায়ভার এবং মানুষের ক্ষোভের বিপরীতে তারা কীভাবে সাধারণ মানুষের সামনে দাঁড়াবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।
তিনি বলেন, যে দল বা ব্যক্তির কারণে দেশে একটি চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভীতি তৈরি হয়েছিল, তারা খুব সহজেই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে হুট করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসতে পারবে- এমনটা ভাবাও অমূলক এবং অবান্তর।’
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস (পরশ), তার স্ত্রী নাহিদ সুলতানা এবং তানজীন ওহাব বৃষ্টিসহ ৩ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ অগাস্ট) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এই আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক (পর্যবেক্ষণ ও বিচারণ) এবং অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা এ কে এম মাহবুবুর রহমান তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।
ওই আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস (পরশ) তার নিজ নামে এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করে মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এই অভিযোগের বিষয়ে বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে।
অনুসন্ধানকালে গোপন সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এজন্য সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ যাত্রা বন্ধ করা একান্ত প্রয়োজন।
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পুড়ে যাওয়া দলীয় কার্যালয়ে ঝুলছিল শোক দিবসের একটি ব্যানার। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় লাগানো হয়েছিল ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পোস্টার। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়ের সৌজন্যে দেওয়া ওই ব্যানারে লেখা ছিল- 'শোক থেকে জাগরণ, জাগরণ থেকে প্রত্যাবর্তন।' এ লেখার সাথে বিশালাকৃতির ওই ব্যানারে ১৫ আগস্ট নিহত শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সকল সদস্যদের ছবি যুক্ত ছিল। এর পাশাপাশি উপজেলা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় জায়গায় সাঁটানো হয়েছিল ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় হতাহতদের ছবি সম্বলিত পোস্টার। ব্যানার এবং পোস্টার পরে অপসারণ করা হলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা কার্যালয়ে ব্যানার কীভাবে এলো আর পোস্টারগুলোই বা কে কখন লাগালো তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ব্যানার-পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে তারা।
জানা যায়, বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়টি পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা। উপজেলার কলেজ গেট এলাকার চৌরাস্তায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের নিজস্ব ওই দলীয় কার্যালয়ের পোড়া ভবনটি এরপর থেকেই পরিত্যক্ত ছিল। বুধবার ভোর থেকে সেই দলীয় কার্যালয়ে ১০ ফুট লম্বা এবং ৭ ফুট প্রস্থের একটি শোক দিবসের ব্যানার ঝুলতে দেখা যায়। দুপুর প্রায় দেড়টা পর্যন্ত ব্যানারটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে ঝুলছিল। পরে খবর পেয়ে ছাত্রদল নেতারা সেটিকে অপসারণ করে। এদিকে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুলের তোরণ ও বিভিন্ন স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাঁটানো হয় গ্রেনেড হামলার পোস্টার।
বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুর রহমান আল-আমিন বলেন, 'মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময়ে আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত অফিসে ওই ব্যানারটি কেউ ঝুলিয়ে দিয়ে গেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কলেজ গেট এলাকার ওই দলীয় অফিসের আশেপাশে তেমন কোনো দোকানপাট নেই। ওখানে কিছু গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়। তাই আমরা সাথেসাথে ঘটনাটি টের পাইনি। বেলা ১টায় দিকে আমি খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে ব্যানারটি তাৎক্ষণিক অপসারণ করে।'
রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মহসিন উদ্দিন শামীম বলেন, 'বুধবার ভোরে আলো ফোটার আগে কে বা কারা গোপনে এসে খানপুরা এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের দেয়ালসহ কিছু জায়গায় নিষিদ্ধ সংগঠনের পোস্টার লাগিয়ে যায়। সকালে বিষয়টি নজরে আসার পরে সকল পোস্টার সাথেসাথে অপসারণ করা হয়। এখন চুরি করে রাতের আঁধারে কেউ পোস্টার লাগালে সেখানে বিএনপির আর কী করার আছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটা সংগঠন কীভাবে পোস্টার লাগায় এর ব্যাখ্যা পুলিশ ভালো দিতে পারবে।'
বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, 'ঘটনাটি আমরা জানার পরে যখন ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি তখন সেখানে কিছুই ছিল না। পুলিশ যাওয়ার আগেই ব্যানার পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের যেহেতু কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে সেহেতু তাদের সবধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম করাই আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এসব ব্যানার-পোস্টার কারা কখন লাগিয়েছে সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।'
এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যানার এবং পোস্টার সাঁটানোর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, 'আওয়ামী লীগের সাথে বাংলাদেশ জন্মের ইতিহাস জড়িত। যে দলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে সেই দলকে নির্বাহী আদেশ দিয়ে নিষিদ্ধ করা যায় না। যারা করেছে তারা অন্যায় করেছে। ইতিহাস একদিন তাদের বিচার ঠিকই করবে। বাঁধভাঙা জোয়ার কখনো বাঁধা দিয়ে আটকে রাখা যায় না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রতিটি বাঙালির নেতা। তাকে মুছে ফেলার শক্তি পৃথিবীর কারো নেই। আমাদের শোক থেকে এবার হবে জাগরণ। আর সেই জাগরণ থেকে ডিসেম্বরের আগেই হবে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন। পৃথিবীর ইতিহাসে এক নজিরবিহীন প্রত্যাবর্তন দেখবে সমগ্র বিশ্ব। সেই বার্তাটাই দেওয়া হয়েছে।'
এদিকে থানার ৫০০ গজের মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এই ব্যানার টাঙানো এবং উপজেলা সদর খানপুরাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোস্টার সাঁটানো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় চলছে। বিএনপি এটাকে চোরাগোপ্তা কার্যক্রম হিসেবে দেখলেও কেউ কেউ বলছেন এটা আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণের আভাস। আওয়ামী লীগ ফুরিয়ে যায়নি। এর আগে গত ১৫ আগস্ট খানপুরা এলাকার বিসমিল্লাহ ডেইরি ফার্মের মাঠে শোক দিবসের সংক্ষিপ্ত র্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া-মোনাজাত কর্মসূচি পালন করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। এ ঘটনায় উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরদিন ১৬ আগস্ট এয়ারপোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার খালেদ হোসেন স্বপনসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। #
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পুড়ে যাওয়া দলীয় কার্যালয়ে ঝুলছিল শোক দিবসের একটি ব্যানার। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় লাগানো হয়েছিল ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পোস্টার। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়ের সৌজন্যে দেওয়া ওই ব্যানারে লেখা ছিল- 'শোক থেকে জাগরণ, জাগরণ থেকে প্রত্যাবর্তন।' এ লেখার সাথে বিশালাকৃতির ওই ব্যানারে ১৫ আগস্ট নিহত শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সকল সদস্যদের ছবি যুক্ত ছিল। এর পাশাপাশি উপজেলা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় জায়গায় সাঁটানো হয়েছিল ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় হতাহতদের ছবি সম্বলিত পোস্টার। ব্যানার এবং পোস্টার পরে অপসারণ করা হলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা কার্যালয়ে ব্যানার কীভাবে এলো আর পোস্টারগুলোই বা কে কখন লাগালো তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ব্যানার-পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে তারা।
জানা যায়, বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়টি পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা। উপজেলার কলেজ গেট এলাকার চৌরাস্তায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের নিজস্ব ওই দলীয় কার্যালয়ের পোড়া ভবনটি এরপর থেকেই পরিত্যক্ত ছিল। বুধবার ভোর থেকে সেই দলীয় কার্যালয়ে ১০ ফুট লম্বা এবং ৭ ফুট প্রস্থের একটি শোক দিবসের ব্যানার ঝুলতে দেখা যায়। দুপুর প্রায় দেড়টা পর্যন্ত ব্যানারটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে ঝুলছিল। পরে খবর পেয়ে ছাত্রদল নেতারা সেটিকে অপসারণ করে। এদিকে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুলের তোরণ ও বিভিন্ন স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাঁটানো হয় গ্রেনেড হামলার পোস্টার।
বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুর রহমান আল-আমিন বলেন, 'মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময়ে আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত অফিসে ওই ব্যানারটি কেউ ঝুলিয়ে দিয়ে গেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কলেজ গেট এলাকার ওই দলীয় অফিসের আশেপাশে তেমন কোনো দোকানপাট নেই। ওখানে কিছু গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়। তাই আমরা সাথেসাথে ঘটনাটি টের পাইনি। বেলা ১টায় দিকে আমি খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে ব্যানারটি তাৎক্ষণিক অপসারণ করে।'
রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মহসিন উদ্দিন শামীম বলেন, 'বুধবার ভোরে আলো ফোটার আগে কে বা কারা গোপনে এসে খানপুরা এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের দেয়ালসহ কিছু জায়গায় নিষিদ্ধ সংগঠনের পোস্টার লাগিয়ে যায়। সকালে বিষয়টি নজরে আসার পরে সকল পোস্টার সাথেসাথে অপসারণ করা হয়। এখন চুরি করে রাতের আঁধারে কেউ পোস্টার লাগালে সেখানে বিএনপির আর কী করার আছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটা সংগঠন কীভাবে পোস্টার লাগায় এর ব্যাখ্যা পুলিশ ভালো দিতে পারবে।'
বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, 'ঘটনাটি আমরা জানার পরে যখন ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি তখন সেখানে কিছুই ছিল না। পুলিশ যাওয়ার আগেই ব্যানার পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের যেহেতু কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে সেহেতু তাদের সবধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম করাই আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এসব ব্যানার-পোস্টার কারা কখন লাগিয়েছে সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।'
এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যানার এবং পোস্টার সাঁটানোর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, 'আওয়ামী লীগের সাথে বাংলাদেশ জন্মের ইতিহাস জড়িত। যে দলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে সেই দলকে নির্বাহী আদেশ দিয়ে নিষিদ্ধ করা যায় না। যারা করেছে তারা অন্যায় করেছে। ইতিহাস একদিন তাদের বিচার ঠিকই করবে। বাঁধভাঙা জোয়ার কখনো বাঁধা দিয়ে আটকে রাখা যায় না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রতিটি বাঙালির নেতা। তাকে মুছে ফেলার শক্তি পৃথিবীর কারো নেই। আমাদের শোক থেকে এবার হবে জাগরণ। আর সেই জাগরণ থেকে ডিসেম্বরের আগেই হবে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন। পৃথিবীর ইতিহাসে এক নজিরবিহীন প্রত্যাবর্তন দেখবে সমগ্র বিশ্ব। সেই বার্তাটাই দেওয়া হয়েছে।'
এদিকে থানার ৫০০ গজের মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এই ব্যানার টাঙানো এবং উপজেলা সদর খানপুরাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোস্টার সাঁটানো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় চলছে। বিএনপি এটাকে চোরাগোপ্তা কার্যক্রম হিসেবে দেখলেও কেউ কেউ বলছেন এটা আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণের আভাস। আওয়ামী লীগ ফুরিয়ে যায়নি। এর আগে গত ১৫ আগস্ট খানপুরা এলাকার বিসমিল্লাহ ডেইরি ফার্মের মাঠে শোক দিবসের সংক্ষিপ্ত র্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া-মোনাজাত কর্মসূচি পালন করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। এ ঘটনায় উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরদিন ১৬ আগস্ট এয়ারপোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার খালেদ হোসেন স্বপনসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। #
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬