পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা শিল্পী হালদার এবং পরিবার পরিকল্পনা সহকারী হাসিনা খানমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচরিতার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ৪০ জন মাঠকর্মীরা নানা অভিযোগ তুলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা শিল্পী হালদার কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকে মাঠকর্মীদের বিভিন্ন কারণে অকারণে হয়রানি করছেন। তিনি বিভিন্ন অজুহতে মাঠকর্মীদের থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। টাকা না দিলে তাদের ফাইল আটকে হয়রানি করছেন। তাকে খুশি করতে পারলেই বৈধ-অবৈধ সব ঠিক হয়ে যায়।
কর্মচারীরা নিজের পারিশ্রমিকের বিল দাখিল করলে যেমন ভ্রমণ ভাতা বিল পেতে হলে তাকে ৩৫% হারে কমিশন দিতে হয়। না হলে তাদের ভ্রমণভাতা বিল পাশ হয় না।
২৪-২৫ গত অর্থ বছরের অফিসের অসবাবপত্র ক্রয় বাবদ সকল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। সম্প্রতি মাঠকর্মীদের অভিযোগের পরে একটি চেয়ার ও দুটি পর্দা কিনে অসবাবপত্রের সকল টাকা আত্মসাৎ করেন।
স্থায়ীকরণ আদেশ জেলা কর্মকর্তার নির্দেশ থাকলেও তার চাহিদামতো অর্থ প্রদান না করলে তার আদেশ সার্ভিস বুকের মাধ্যমে উঠানো হয় না। নির্ধারিত ফি পেলেই তিনি তখন সার্ভিস বুক তুলে দেন।
নিরাপত্তা প্রহরী শাহ আলম নামের এক কর্মচারী লাম্পগ্রান্ড ও জিপিএফ কাগজপত্র তৈরির নামে এক লক্ষ টাকা দাবি করেছেন। ওই কর্মচারী অর্ধ লক্ষ টাকা প্রদান করলেও বাকী টাকার জন্য দীর্ঘদিন ফাইল আটকে রাখা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের চাপে পড়ে বিল প্রদান করা হয়।
ভুক্তভোগী মাঠকর্মীরা অভিযোগ করেন, উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শিল্পী হালদার এ উপজেলায় যোগদানের পর তিনি বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্প ও বিভিন্ন ইউনিয়নে পাক্ষিক সভার নামে সেখানে উপজেলার সকল স্টাফদের দুপুরে লাঞ্চ করার চাপ প্রয়োগ করেন।
লাঞ্চের জন্য তার নির্ধারিত আইটেমের খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়, যেখানে ১০-১২ আইটেমের ভর্তা, মাছ, মুরগী, হাঁস, খাশির মাংস ও লেগ পিস সাইজে বড় হতে হবে বাধ্যতামূলক। ইউনিয়নের এসব খাবারের আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিদর্শককে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিদর্শক ও সকল মাঠকর্মীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে এই খাবারের আয়োজনের নির্দেশ দেন।
চার সেপ্টেম্বর ২০২৫ মাসে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা হল রুমে উপজেলা মাসিক সভায় তিনি সকল মাঠকর্মী ও কর্মচারীদের হুমকি প্রদান করে বলেন, ‘যাঁরা মাসিক চাঁদা দেবেন না তারা পেনশন নিয়ে বাড়ি যেতে পারবেন না’। হল রুমে বসে স্টাফরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি মাইক ছুড়ে ফেলে দেন। যা সকল কর্মচারী দেখেছেন ও ভিডিও করে রেখেছেন।
২৪-২৫ অর্থ বছরের কোন কিছু না কিনে শুধু কাগজ কলমে ভাউচার দিয়ে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। স্থায়ী পদ্ধতি ও দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতির টাকা-পয়সা নিয়ে মাঠকর্মীদের হয়রানি ও কর্মচারীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছেন।
উপজেলার তেলিখালী পরিদর্শক সোহাগ হাওলাদার চাকুরি বাণিজ্য করে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ভিটাবাড়ীয়ার পরিদর্শক আবদুল মতিন কর্মকর্তার চাহিদা পূরণের জন্য কর্মচারীদের কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে টাকা তুলে দেন, তিনি আদায়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভিটাবাড়ীয়া পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের আয়া সালমা বেগম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আ. মতিনের হাতে লঞ্চিত হয় ওই আয়া। এ দুই পরিদর্শক দুর্নীতিগ্রস্ত অফিস সহকারী ও কর্মকর্তার সহায়ক হিসেবে কাজ করছেন।
পরিবার পরিকল্পনা সহকারী হাসিনা খানম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে দুইজন কর্মকর্তা আছেন, তারা আমার বিষয়ে ভালো জানেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছে’।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শরণদীপ হাওলাদার সন্দীপ (অ.দা) সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বিল, ভাউচার ও হিসাব-নিকাশের দায়িত্বে নেই; এ বিষয়ে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই’।
অভিযুক্ত উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা শিল্পী হালদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘অফিসের জন্য মালামাল ক্রয় করা হয়েছে, এখানে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়নি। তবে একজন কর্মচারী প্রশাসনিক কারণে বদলী করা হয়েছে। তিনি পুনরায় আসতে চাচ্ছেন; এ কারণে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে পুনরায় আমার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন’।
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:১৬
পূজার আনন্দ শেষে বাড়ি ফেরার পথেই নেমে এলো বিষাদ। পিরোজপুরের নাজিরপুরে কালিগঙ্গা নদীতে যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন শিশুটির মা। নদীতে স্বজনকে হারিয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন পরিবারের সদস্যরা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নাজিরপুরের শ্রীরামকাঠী ও নেছারাবাদের ভরতকাঠী ফেরিঘাটের মধ্যবর্তী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পরিবার নিয়ে এলাকায় বেড়াতে এসেছিলেন নেছারাবাদ উপজেলার ভরতকাঠী গ্রামের শংকর বেপারী। পূজা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য তাঁরা ট্রলারে ওঠেন। ট্রলারটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রীর পাশাপাশি ৬টি মোটরসাইকেল ছিল বলে জানা গেছে।
ঘাট ছাড়ার পরপরই ট্রলারটি নদীতে ডুবে যায়। এ সময় অনেক যাত্রী সাঁতরে ও স্থানীয়দের সহায়তায় তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে শংকর বেপারীর স্ত্রী রিনা বেপারী এবং তাঁদের মেয়ে নিখোঁজ হন। পরে উদ্ধার অভিযানে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সদস্যরা। নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। রাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে মঙ্গলবার সকালে পুনরায় অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়।
পূজার আনন্দ শেষে বাড়ি ফেরার পথেই নেমে এলো বিষাদ। পিরোজপুরের নাজিরপুরে কালিগঙ্গা নদীতে যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন শিশুটির মা। নদীতে স্বজনকে হারিয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন পরিবারের সদস্যরা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নাজিরপুরের শ্রীরামকাঠী ও নেছারাবাদের ভরতকাঠী ফেরিঘাটের মধ্যবর্তী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পরিবার নিয়ে এলাকায় বেড়াতে এসেছিলেন নেছারাবাদ উপজেলার ভরতকাঠী গ্রামের শংকর বেপারী। পূজা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য তাঁরা ট্রলারে ওঠেন। ট্রলারটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রীর পাশাপাশি ৬টি মোটরসাইকেল ছিল বলে জানা গেছে।
ঘাট ছাড়ার পরপরই ট্রলারটি নদীতে ডুবে যায়। এ সময় অনেক যাত্রী সাঁতরে ও স্থানীয়দের সহায়তায় তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে শংকর বেপারীর স্ত্রী রিনা বেপারী এবং তাঁদের মেয়ে নিখোঁজ হন। পরে উদ্ধার অভিযানে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সদস্যরা। নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। রাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে মঙ্গলবার সকালে পুনরায় অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়।

১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৩৪
পিরোজপুরের নাজিরপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রির অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করার পর এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে সার ব্যবসায়ী বাবুল মোল্লার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার দীঘিরজান বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা।
আহত কর্মকর্তার নাম বিপুল কুমার মল্লিক (৪৬)। তিনি নাজিরপুরে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। অভিযুক্ত বাবুল মোল্লার (৫৫) বিরুদ্ধে নাজিরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাবুল মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে দীঘিরজান বাজারে লাইসেন্স ছাড়াই সার বিক্রি করে আসছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে ওই বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন বিপুল কুমার মল্লিক।
এ সময় বাবুল মোল্লার দোকান ও গুদামে তল্লাশি চালিয়ে দুই বস্তা ইউরিয়া, সাড়ে তিন বস্তা ডিএপি, এক বস্তা এমওপি ও পাঁচ বস্তা টিএসপি সার পাওয়া যায়। লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির দায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযান শেষে কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর বিপুল কুমার মল্লিক বাজারে কেনাকাটা করতে যান। এ সময় বাবুল মোল্লা তাঁর পথরোধ করেন। মোবাইল কোর্টে সহযোগিতা করার জেরে তাঁকে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই কর্মকর্তা।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।
নাজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাতুন্নেছা এশা বলেন, ‘লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির দায়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও সার জব্দ করা হয়। আমরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর বাবুল মোল্লা আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব বলেন, দীঘিরজান বাজারের ব্যবসায়ী বাবুল মোল্লার দোকান থেকে অবৈধভাবে মজুত করা সার জব্দ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযান শেষে চলে আসার পর কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তাকে ওই ব্যবসায়ী মারধর করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। অফিস খোলার পর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
পিরোজপুরের নাজিরপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রির অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করার পর এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে সার ব্যবসায়ী বাবুল মোল্লার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার দীঘিরজান বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা।
আহত কর্মকর্তার নাম বিপুল কুমার মল্লিক (৪৬)। তিনি নাজিরপুরে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। অভিযুক্ত বাবুল মোল্লার (৫৫) বিরুদ্ধে নাজিরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাবুল মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে দীঘিরজান বাজারে লাইসেন্স ছাড়াই সার বিক্রি করে আসছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে ওই বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন বিপুল কুমার মল্লিক।
এ সময় বাবুল মোল্লার দোকান ও গুদামে তল্লাশি চালিয়ে দুই বস্তা ইউরিয়া, সাড়ে তিন বস্তা ডিএপি, এক বস্তা এমওপি ও পাঁচ বস্তা টিএসপি সার পাওয়া যায়। লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির দায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযান শেষে কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর বিপুল কুমার মল্লিক বাজারে কেনাকাটা করতে যান। এ সময় বাবুল মোল্লা তাঁর পথরোধ করেন। মোবাইল কোর্টে সহযোগিতা করার জেরে তাঁকে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই কর্মকর্তা।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।
নাজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাতুন্নেছা এশা বলেন, ‘লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির দায়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও সার জব্দ করা হয়। আমরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর বাবুল মোল্লা আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব বলেন, দীঘিরজান বাজারের ব্যবসায়ী বাবুল মোল্লার দোকান থেকে অবৈধভাবে মজুত করা সার জব্দ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযান শেষে চলে আসার পর কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তাকে ওই ব্যবসায়ী মারধর করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। অফিস খোলার পর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’

১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৪৯
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বসতঘরে অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুভ সাচকী (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় অলিউর রহমান (৪৯) নামে আরেক ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) মঠবাড়িয়া থানা-পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, পিরোজপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চালিতাবুনিয়া গ্রামের একটি বসতঘরে অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল।
এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ তল্লাশি করে তিনটি প্যাকেটে সংরক্ষিত ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে সুভ সাচকীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও অলিউর রহমান পালিয়ে যান।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চার কেজি গাঁজাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বসতঘরে অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুভ সাচকী (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় অলিউর রহমান (৪৯) নামে আরেক ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) মঠবাড়িয়া থানা-পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, পিরোজপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চালিতাবুনিয়া গ্রামের একটি বসতঘরে অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল।
এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ তল্লাশি করে তিনটি প্যাকেটে সংরক্ষিত ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে সুভ সাচকীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও অলিউর রহমান পালিয়ে যান।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চার কেজি গাঁজাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

০৬ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:০৪
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা শিল্পী হালদার এবং পরিবার পরিকল্পনা সহকারী হাসিনা খানমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচরিতার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ৪০ জন মাঠকর্মীরা নানা অভিযোগ তুলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা শিল্পী হালদার কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকে মাঠকর্মীদের বিভিন্ন কারণে অকারণে হয়রানি করছেন। তিনি বিভিন্ন অজুহতে মাঠকর্মীদের থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। টাকা না দিলে তাদের ফাইল আটকে হয়রানি করছেন। তাকে খুশি করতে পারলেই বৈধ-অবৈধ সব ঠিক হয়ে যায়।
কর্মচারীরা নিজের পারিশ্রমিকের বিল দাখিল করলে যেমন ভ্রমণ ভাতা বিল পেতে হলে তাকে ৩৫% হারে কমিশন দিতে হয়। না হলে তাদের ভ্রমণভাতা বিল পাশ হয় না।
২৪-২৫ গত অর্থ বছরের অফিসের অসবাবপত্র ক্রয় বাবদ সকল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। সম্প্রতি মাঠকর্মীদের অভিযোগের পরে একটি চেয়ার ও দুটি পর্দা কিনে অসবাবপত্রের সকল টাকা আত্মসাৎ করেন।
স্থায়ীকরণ আদেশ জেলা কর্মকর্তার নির্দেশ থাকলেও তার চাহিদামতো অর্থ প্রদান না করলে তার আদেশ সার্ভিস বুকের মাধ্যমে উঠানো হয় না। নির্ধারিত ফি পেলেই তিনি তখন সার্ভিস বুক তুলে দেন।
নিরাপত্তা প্রহরী শাহ আলম নামের এক কর্মচারী লাম্পগ্রান্ড ও জিপিএফ কাগজপত্র তৈরির নামে এক লক্ষ টাকা দাবি করেছেন। ওই কর্মচারী অর্ধ লক্ষ টাকা প্রদান করলেও বাকী টাকার জন্য দীর্ঘদিন ফাইল আটকে রাখা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের চাপে পড়ে বিল প্রদান করা হয়।
ভুক্তভোগী মাঠকর্মীরা অভিযোগ করেন, উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শিল্পী হালদার এ উপজেলায় যোগদানের পর তিনি বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্প ও বিভিন্ন ইউনিয়নে পাক্ষিক সভার নামে সেখানে উপজেলার সকল স্টাফদের দুপুরে লাঞ্চ করার চাপ প্রয়োগ করেন।
লাঞ্চের জন্য তার নির্ধারিত আইটেমের খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়, যেখানে ১০-১২ আইটেমের ভর্তা, মাছ, মুরগী, হাঁস, খাশির মাংস ও লেগ পিস সাইজে বড় হতে হবে বাধ্যতামূলক। ইউনিয়নের এসব খাবারের আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিদর্শককে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিদর্শক ও সকল মাঠকর্মীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে এই খাবারের আয়োজনের নির্দেশ দেন।
চার সেপ্টেম্বর ২০২৫ মাসে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা হল রুমে উপজেলা মাসিক সভায় তিনি সকল মাঠকর্মী ও কর্মচারীদের হুমকি প্রদান করে বলেন, ‘যাঁরা মাসিক চাঁদা দেবেন না তারা পেনশন নিয়ে বাড়ি যেতে পারবেন না’। হল রুমে বসে স্টাফরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি মাইক ছুড়ে ফেলে দেন। যা সকল কর্মচারী দেখেছেন ও ভিডিও করে রেখেছেন।
২৪-২৫ অর্থ বছরের কোন কিছু না কিনে শুধু কাগজ কলমে ভাউচার দিয়ে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। স্থায়ী পদ্ধতি ও দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতির টাকা-পয়সা নিয়ে মাঠকর্মীদের হয়রানি ও কর্মচারীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছেন।
উপজেলার তেলিখালী পরিদর্শক সোহাগ হাওলাদার চাকুরি বাণিজ্য করে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ভিটাবাড়ীয়ার পরিদর্শক আবদুল মতিন কর্মকর্তার চাহিদা পূরণের জন্য কর্মচারীদের কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে টাকা তুলে দেন, তিনি আদায়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভিটাবাড়ীয়া পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের আয়া সালমা বেগম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আ. মতিনের হাতে লঞ্চিত হয় ওই আয়া। এ দুই পরিদর্শক দুর্নীতিগ্রস্ত অফিস সহকারী ও কর্মকর্তার সহায়ক হিসেবে কাজ করছেন।
পরিবার পরিকল্পনা সহকারী হাসিনা খানম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে দুইজন কর্মকর্তা আছেন, তারা আমার বিষয়ে ভালো জানেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছে’।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শরণদীপ হাওলাদার সন্দীপ (অ.দা) সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বিল, ভাউচার ও হিসাব-নিকাশের দায়িত্বে নেই; এ বিষয়ে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই’।
অভিযুক্ত উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা শিল্পী হালদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘অফিসের জন্য মালামাল ক্রয় করা হয়েছে, এখানে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়নি। তবে একজন কর্মচারী প্রশাসনিক কারণে বদলী করা হয়েছে। তিনি পুনরায় আসতে চাচ্ছেন; এ কারণে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে পুনরায় আমার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন’।
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:০১
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৪
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৪
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৭