বরগুনায় মহামারি আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গু, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এ অবস্থায় হাসপাতালে রোগীদের বার্তি চাপে পরীক্ষা সঙ্কটে বেশিরভাগ রোগী ছুটছেন বাইরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
তবে এসব পরীক্ষায় একের পর এক ভুল রিপোর্ট ধরা পড়ায় চিকিৎসা দিতে বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসকরা। অপরদিকে একই পরীক্ষা বারবার করায় বাড়তি টাকা খরচের ভোগান্তি ভুক্তভোগীদের।
সরেজমিনে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের জন্য নির্ধারিত ৫৫টি বেডের বিপরীতে প্রায় দেড় শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদের মধ্যে গত তিন দিন আগে ৯৩ হাজার প্লাটিলেট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বরগুনা সদর উপজেলার খেজুরতলা নামক এলাকার বাসিন্দা মো. সাগর। এর এক দিন পর ১৬ জুন হাসপাতালের বাইরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তিনি পরীক্ষা করেন।
এ সময় ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দেওয়া রিপোর্টে সাগরের মাত্র ১ হাজার ২৬০ প্লাটিলেট পরিমাপ করা হয়। পরে হাসপাতালের চিকিৎসকদের সন্দেহ হলে পূনরায় পরীক্ষা করতে বললে একই দিনে তিন থেকে চার ঘণ্টার ব্যবধানে আরেকটি ক্লিনিকের পরীক্ষায় সাগরের প্লাটিলেট পরিমাপ করা হয় ১ লাখ ৪৯ হাজার।
ভুক্তভোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সাগর বলেন, ডাক্তারকে শারীরিক অবস্থা জানাতে বাইরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করি। সেখান থেকে আমার ১ হাজার ২৬০ প্লাটিলেট পরিমাপ করে রিপোর্ট দেওয়া হয়। রিপোর্ট দেখে আমি ভয় পেয়ে তড়িঘড়ি করে বরিশাল যেতে চাই। এ ছাড়া ভয়ে আমার বুক কাঁপা শুরু করে। পরে ওই রিপোর্টটি ডাক্তারকে দেখালে রিপোর্টে ভুল হয়েছে জানিয়ে আবারও পরীক্ষা করতে বলেন। পরবর্তী অন্য একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করলে ১ লাখ ৪৯ হাজার প্লাটিলেট আছে এমন রিপোর্ট দেওয়া হয়।
ফোরকান নামে সাগরের এক মামা বলেন, বাইরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে সোহাগের পরীক্ষায় ১ হাজার ২৬০ প্লাটিলেট পরিমাপ করে রিপোর্ট দেয়। তবে ওই রিপোর্ট ভুল হয়েছে বলে ডাক্তার আবারও পরীক্ষা করতে বলেন। আমারা এমনিতেই রোগী নিয়ে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির মধ্যে থাকি। এরপর আবার ভুল রিপোর্টের কারণে এক পরীক্ষা বারবার করে বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু সাগর নয় আরও অনেকেরই পরীক্ষার রিপোর্ট ভুল দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন রোগী ও স্বজনদের। খেজুর তলা এলাকার বাসিন্দা মরিয়ম নামে আরও এক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সঙ্গেও ঘটেছে এমন ঘটনা। তিনি গত শুক্রবার ৬৭ হাজার প্লাটিলেট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন স্থানীয় অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে তার প্লাটিলেট পরিমাপ করা হয় ২ লাখ ৯৬ হাজার। তবে এক দিনের ব্যবধানে এমন রিপোর্ট দেখে সন্দেহ হয় চিকিৎসকের। পরে আরেকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে প্লাটিলেট দেখায় ৫৪ হাজার।
এর আগে গত ১১ জুন একই ক্লিনিক থেকে ১০ বছর বয়সী তানিয়া নামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এক শিশুর পরীক্ষায়ও দেওয়া হয় ভুল রিপোর্ট। ক্লিনিকের দেওয়া রিপোর্টে তার প্লাটিলেট দেখায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার। ভুক্তভোগী মরিয়ম বলেন, পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে ডাক্তার আমাকে আবারও পরীক্ষা করতে বলেছেন। কি হয়েছে বা না হয়েছে আমি তা বলতে পারি না।
হাসপাতালে ভর্তি ১৩ বছর বয়সী মুসা নামে এক রোগীর স্বজন মো. আব্দুস সালাম বলেন, সোমবার প্রথমে অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করলে ৪৭ হাজার প্লাটিলেট পাওয়া যায়। পরে একই সময়ে আরেকটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করালে ৮৯ হাজার প্লাটিলেটের রিপোর্ট দেওয়া হয়। একেক ক্লিনিকের একেক ধরনের রিপোর্ট, কোন রিপোর্টটি সঠিক তা আমরা কিভাবে বুঝবো।
ভুল রিপোর্ট রোগীকে প্রদান করার বিষয়ে অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালীক সজীব বলেন, টাইপিং ভুলের কারণে রিপোর্ট ভুল হতে পারে। তবে এসব ভুল অনিচ্ছেকৃতভাবে হয়েছে।
বরগুনা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি মনির হোসেন কামাল বলেন, প্লাটিলেট পরীক্ষার জন্য হাসপাতালের মেশিনটি দামি। বাইরের ক্লিনিকগুলোতে যে মেশিন রয়েছে তা কম দামের এবং অনেক নিম্নমানের।
সে কারণে বাইরে থেকে অনেক সময় সঠিক রিপোর্ট আসে না। যদি হাসপাতালেই রোগীদের এ পরীক্ষাটি করা হয় তাহলে রোগীরা সঠিক রিপোর্ট এবং সঠিক চিকিৎসা পাবে। এ ছাড়া রোগীদের হয়রানি বন্ধের পাশাপাশি তাদের বাড়তি টাকাও খরচ হবে না।
বরগুনার বেসরকারি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মানোন্নয়নে নিয়ন্ত্রণকারী দপ্তরকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হাসপাতালে দায়িত্বরত মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. আশিকুর রহমান বলেন, রিপোর্ট নিয়ে আমাদের চিন্তায় পড়তে হয়।
কিছু কিছু রিপোর্ট দেখেই তা অসামঞ্জস্য মনে হয়। তখন আমরা রোগীকে কষ্ট হলেও আরেকবার আরেক জায়গায় পুনরায় পরীক্ষা করতে বলি। তবে এতে রোগীদের অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়।
আমাদের হাসপাতালে পরীক্ষা হয় তবে অতিরিক্ত রোগীর চাপে ভীড় এড়াতে অনেকেই বাইরে থেকে পরীক্ষা করেন। প্লাটিলেট যেহেতু আমরা চোখে দেখি না তাই রিপোর্টটের ওপর ভিত্তি করেই চিকিৎসা দিতে হয়। তবে আমরা আগের রিপোর্টের সঙ্গে বর্তমান রিপোর্ট মিলিয়ে দেখে যদি খুব বেশি পার্থক্য আসে তাহলে রোগীকে আবারও পরীক্ষা করতে বলি।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে সিভিসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তবে অতিরিক্ত ভর্তি থাকায় শুধু ইনডোরের রোগীদের পরীক্ষা করা হয়। আশা করি, খুব দ্রুতই বেশি পরিমাণ পরীক্ষা হাসপাতালেই করা যাবে। তবে বাইরের ক্লিনিক থেকে উল্টাপাল্টা রিপোর্ট হলে রোগীর চিকিৎসা করাটাও চিকিৎসকের জন্য বিপদজনক।

২৪ জুলাই, ২০২৬ ২০:২৬
বরগুনার বেতাগী পৌর শহরে গভীর রাতে সরকারি জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নেছার খানের বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিযান চালিয়ে ঘর দুটি উচ্ছেদ করেন। পাশাপাশি দুই নির্মাণশ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বেতাগী পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফলপট্টি এলাকায় একটি খাসজমি দখল করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নেছার খান। পরে রাতেই দুটি টিনশেড দোকানঘর নির্মাণ করেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সরকার পরিবর্তনের পর নেছার খান বেতাগী বাজারের ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাঁদা আদায় করেছেন। তাঁর অত্যাচারে অনেকে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হন। সবশেষ তিনি বাজারের ভেতরে সরকারি জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করেন।
বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. শাহীন মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি এই জমি ইজারা নিয়ে খোরসেদ আলী মল্লিক ও মতি সিকদার ব্যবসা করেছেন। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন এই জমি খালি পড়ে ছিল। এই সুযোগে বিএনপি নেতা অবৈধভাবে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করেন। দলের পরিচয়ে তিনি এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন।
বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শাহ জাহান কবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা রাতের আঁধারে দখলবাজি করে, তারা বিএনপির কেউ হতে পারে না। এদের আমরা কঠোরভাবে প্রতিহত করব।’
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদ্দাম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, পৌরসভার মধ্যে ঘর নির্মাণ করতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। বাজারের ভেতরে সরকারি জমি দখল করে যাঁরা ঘর নির্মাণ করেছেন, তাঁরা আইন অমান্য করেছেন। জামাল ও রুবেল নামের দুই নির্মাণশ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

২৪ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৪৮

২১ জুলাই, ২০২৬ ০০:২৭

১৭ জুন, ২০২৫ ১৭:৫২
বরগুনায় মহামারি আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গু, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এ অবস্থায় হাসপাতালে রোগীদের বার্তি চাপে পরীক্ষা সঙ্কটে বেশিরভাগ রোগী ছুটছেন বাইরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
তবে এসব পরীক্ষায় একের পর এক ভুল রিপোর্ট ধরা পড়ায় চিকিৎসা দিতে বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসকরা। অপরদিকে একই পরীক্ষা বারবার করায় বাড়তি টাকা খরচের ভোগান্তি ভুক্তভোগীদের।
সরেজমিনে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের জন্য নির্ধারিত ৫৫টি বেডের বিপরীতে প্রায় দেড় শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদের মধ্যে গত তিন দিন আগে ৯৩ হাজার প্লাটিলেট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বরগুনা সদর উপজেলার খেজুরতলা নামক এলাকার বাসিন্দা মো. সাগর। এর এক দিন পর ১৬ জুন হাসপাতালের বাইরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তিনি পরীক্ষা করেন।
এ সময় ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দেওয়া রিপোর্টে সাগরের মাত্র ১ হাজার ২৬০ প্লাটিলেট পরিমাপ করা হয়। পরে হাসপাতালের চিকিৎসকদের সন্দেহ হলে পূনরায় পরীক্ষা করতে বললে একই দিনে তিন থেকে চার ঘণ্টার ব্যবধানে আরেকটি ক্লিনিকের পরীক্ষায় সাগরের প্লাটিলেট পরিমাপ করা হয় ১ লাখ ৪৯ হাজার।
ভুক্তভোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সাগর বলেন, ডাক্তারকে শারীরিক অবস্থা জানাতে বাইরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করি। সেখান থেকে আমার ১ হাজার ২৬০ প্লাটিলেট পরিমাপ করে রিপোর্ট দেওয়া হয়। রিপোর্ট দেখে আমি ভয় পেয়ে তড়িঘড়ি করে বরিশাল যেতে চাই। এ ছাড়া ভয়ে আমার বুক কাঁপা শুরু করে। পরে ওই রিপোর্টটি ডাক্তারকে দেখালে রিপোর্টে ভুল হয়েছে জানিয়ে আবারও পরীক্ষা করতে বলেন। পরবর্তী অন্য একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করলে ১ লাখ ৪৯ হাজার প্লাটিলেট আছে এমন রিপোর্ট দেওয়া হয়।
ফোরকান নামে সাগরের এক মামা বলেন, বাইরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে সোহাগের পরীক্ষায় ১ হাজার ২৬০ প্লাটিলেট পরিমাপ করে রিপোর্ট দেয়। তবে ওই রিপোর্ট ভুল হয়েছে বলে ডাক্তার আবারও পরীক্ষা করতে বলেন। আমারা এমনিতেই রোগী নিয়ে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির মধ্যে থাকি। এরপর আবার ভুল রিপোর্টের কারণে এক পরীক্ষা বারবার করে বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু সাগর নয় আরও অনেকেরই পরীক্ষার রিপোর্ট ভুল দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন রোগী ও স্বজনদের। খেজুর তলা এলাকার বাসিন্দা মরিয়ম নামে আরও এক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সঙ্গেও ঘটেছে এমন ঘটনা। তিনি গত শুক্রবার ৬৭ হাজার প্লাটিলেট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন স্থানীয় অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে তার প্লাটিলেট পরিমাপ করা হয় ২ লাখ ৯৬ হাজার। তবে এক দিনের ব্যবধানে এমন রিপোর্ট দেখে সন্দেহ হয় চিকিৎসকের। পরে আরেকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে প্লাটিলেট দেখায় ৫৪ হাজার।
এর আগে গত ১১ জুন একই ক্লিনিক থেকে ১০ বছর বয়সী তানিয়া নামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এক শিশুর পরীক্ষায়ও দেওয়া হয় ভুল রিপোর্ট। ক্লিনিকের দেওয়া রিপোর্টে তার প্লাটিলেট দেখায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার। ভুক্তভোগী মরিয়ম বলেন, পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে ডাক্তার আমাকে আবারও পরীক্ষা করতে বলেছেন। কি হয়েছে বা না হয়েছে আমি তা বলতে পারি না।
হাসপাতালে ভর্তি ১৩ বছর বয়সী মুসা নামে এক রোগীর স্বজন মো. আব্দুস সালাম বলেন, সোমবার প্রথমে অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করলে ৪৭ হাজার প্লাটিলেট পাওয়া যায়। পরে একই সময়ে আরেকটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করালে ৮৯ হাজার প্লাটিলেটের রিপোর্ট দেওয়া হয়। একেক ক্লিনিকের একেক ধরনের রিপোর্ট, কোন রিপোর্টটি সঠিক তা আমরা কিভাবে বুঝবো।
ভুল রিপোর্ট রোগীকে প্রদান করার বিষয়ে অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালীক সজীব বলেন, টাইপিং ভুলের কারণে রিপোর্ট ভুল হতে পারে। তবে এসব ভুল অনিচ্ছেকৃতভাবে হয়েছে।
বরগুনা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি মনির হোসেন কামাল বলেন, প্লাটিলেট পরীক্ষার জন্য হাসপাতালের মেশিনটি দামি। বাইরের ক্লিনিকগুলোতে যে মেশিন রয়েছে তা কম দামের এবং অনেক নিম্নমানের।
সে কারণে বাইরে থেকে অনেক সময় সঠিক রিপোর্ট আসে না। যদি হাসপাতালেই রোগীদের এ পরীক্ষাটি করা হয় তাহলে রোগীরা সঠিক রিপোর্ট এবং সঠিক চিকিৎসা পাবে। এ ছাড়া রোগীদের হয়রানি বন্ধের পাশাপাশি তাদের বাড়তি টাকাও খরচ হবে না।
বরগুনার বেসরকারি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মানোন্নয়নে নিয়ন্ত্রণকারী দপ্তরকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হাসপাতালে দায়িত্বরত মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. আশিকুর রহমান বলেন, রিপোর্ট নিয়ে আমাদের চিন্তায় পড়তে হয়।
কিছু কিছু রিপোর্ট দেখেই তা অসামঞ্জস্য মনে হয়। তখন আমরা রোগীকে কষ্ট হলেও আরেকবার আরেক জায়গায় পুনরায় পরীক্ষা করতে বলি। তবে এতে রোগীদের অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়।
আমাদের হাসপাতালে পরীক্ষা হয় তবে অতিরিক্ত রোগীর চাপে ভীড় এড়াতে অনেকেই বাইরে থেকে পরীক্ষা করেন। প্লাটিলেট যেহেতু আমরা চোখে দেখি না তাই রিপোর্টটের ওপর ভিত্তি করেই চিকিৎসা দিতে হয়। তবে আমরা আগের রিপোর্টের সঙ্গে বর্তমান রিপোর্ট মিলিয়ে দেখে যদি খুব বেশি পার্থক্য আসে তাহলে রোগীকে আবারও পরীক্ষা করতে বলি।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে সিভিসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তবে অতিরিক্ত ভর্তি থাকায় শুধু ইনডোরের রোগীদের পরীক্ষা করা হয়। আশা করি, খুব দ্রুতই বেশি পরিমাণ পরীক্ষা হাসপাতালেই করা যাবে। তবে বাইরের ক্লিনিক থেকে উল্টাপাল্টা রিপোর্ট হলে রোগীর চিকিৎসা করাটাও চিকিৎসকের জন্য বিপদজনক।
বরগুনার বেতাগী পৌর শহরে গভীর রাতে সরকারি জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নেছার খানের বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিযান চালিয়ে ঘর দুটি উচ্ছেদ করেন। পাশাপাশি দুই নির্মাণশ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বেতাগী পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফলপট্টি এলাকায় একটি খাসজমি দখল করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নেছার খান। পরে রাতেই দুটি টিনশেড দোকানঘর নির্মাণ করেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সরকার পরিবর্তনের পর নেছার খান বেতাগী বাজারের ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাঁদা আদায় করেছেন। তাঁর অত্যাচারে অনেকে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হন। সবশেষ তিনি বাজারের ভেতরে সরকারি জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করেন।
বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. শাহীন মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি এই জমি ইজারা নিয়ে খোরসেদ আলী মল্লিক ও মতি সিকদার ব্যবসা করেছেন। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন এই জমি খালি পড়ে ছিল। এই সুযোগে বিএনপি নেতা অবৈধভাবে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করেন। দলের পরিচয়ে তিনি এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন।
বেতাগী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শাহ জাহান কবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা রাতের আঁধারে দখলবাজি করে, তারা বিএনপির কেউ হতে পারে না। এদের আমরা কঠোরভাবে প্রতিহত করব।’
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদ্দাম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, পৌরসভার মধ্যে ঘর নির্মাণ করতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। বাজারের ভেতরে সরকারি জমি দখল করে যাঁরা ঘর নির্মাণ করেছেন, তাঁরা আইন অমান্য করেছেন। জামাল ও রুবেল নামের দুই নির্মাণশ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক সার্জনকে অনৈতিক প্রস্তাব, অশালীন ইঙ্গিত এবং মানসিকভাবে হয়রানির অভিযোগে হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব (শৃঙ্খলা-২ শাখা) মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত (২২ জুলাই) পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ওই নারী চিকিৎসক বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক সার্জন হিসেবে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন সময় কোনো প্রয়োজন ছাড়াই নিজের দপ্তরে ডাকতেন তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম। সেখানে তিনি তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন এবং অশালীন ইঙ্গিত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের মধ্যে পড়ে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।
একই প্রজ্ঞাপনে ডা. রেজওয়ানুর আলমকে নোটিশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন তার বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ উপযুক্ত বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি ব্যক্তিগত শুনানি চান কি না, তাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা শুরু হলে অভিযোগের গুরুত্ব ও তদন্তে প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে পারে। সেই বিধান অনুযায়ী ডা. রেজওয়ানুর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এর আগে, ১৪ জুলাই স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী ওই আবাসিক সার্জন উল্লেখ করেন, গত ৬ জুন হাসপাতালে যোগদানের পর থেকেই তত্ত্বাবধায়ক তাকে বিভিন্ন সময় নিজের অফিস কক্ষে ডেকে কুরুচিপূর্ণ আচরণ করতেন এবং মানসিকভাবে হয়রানি করতেন।
অভিযোগে ভুক্তভোগী আরও বলেন, ১৩ জুলাই সকালে তত্ত্বাবধায়ক হোয়াটসঅ্যাপ কলে যোগাযোগ করে নিজের ডরমিটরি কক্ষে একসঙ্গে সময় কাটানোর অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরদিন হাসপাতালের স্টাফ ও নার্সদের সামনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। এতে তিনি নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করে বিষয়টির তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানান।
ঘটনার একপর্যায়ে ২১ জুলাই হাসপাতালের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর ভুক্তভোগী চিকিৎসক অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করেন। সেখানে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝির অবসানের কথা উল্লেখ করা হয়।
তবে পরদিনই নতুন আবেদন দিয়ে তিনি অভিযোগ প্রত্যাহারের নেপথ্যের ঘটনা তুলে ধরেন। আবেদনে ভুক্তভোগী দাবি করেন, চাকরিজীবনে ক্ষতির আশঙ্কা দেখিয়ে কয়েকজন চিকিৎসক তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট ও সংবাদ দেখিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তাকে বক্তব্য দিতেও বাধ্য করা হয়েছিল।
ভুক্তভোগী আরও উল্লেখ করেন, জেলার স্বাস্থ্যসেবায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে এমন বিবেচনায় সে সময় প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করেননি। তবে ১৪ জুলাই দেওয়া তার মূল অভিযোগের প্রতিটি বিষয়ে তিনি এখনো অনড় রয়েছেন এবং অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেন। তাই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
ভুক্তভোগী বলেন, আমার অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। এটি সমাজের জন্যও একটি বার্তা। স্বাস্থ্যসেবায় কর্মরত সবারই দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদনটি আমার কাছ থেকে চাপ সৃষ্টি করে নেওয়া হয়েছিল। আমি সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. রেজওয়ানুর আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করে বাইরে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতেন। এ কারণে আমি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলাম। শোকজ দেওয়ার পরদিনই তিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। হাসপাতালের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি।’
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক সার্জনকে অনৈতিক প্রস্তাব, অশালীন ইঙ্গিত এবং মানসিকভাবে হয়রানির অভিযোগে হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব (শৃঙ্খলা-২ শাখা) মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত (২২ জুলাই) পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ওই নারী চিকিৎসক বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক সার্জন হিসেবে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন সময় কোনো প্রয়োজন ছাড়াই নিজের দপ্তরে ডাকতেন তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম। সেখানে তিনি তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন এবং অশালীন ইঙ্গিত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের মধ্যে পড়ে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।
একই প্রজ্ঞাপনে ডা. রেজওয়ানুর আলমকে নোটিশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন তার বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ উপযুক্ত বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি ব্যক্তিগত শুনানি চান কি না, তাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা শুরু হলে অভিযোগের গুরুত্ব ও তদন্তে প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে পারে। সেই বিধান অনুযায়ী ডা. রেজওয়ানুর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এর আগে, ১৪ জুলাই স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী ওই আবাসিক সার্জন উল্লেখ করেন, গত ৬ জুন হাসপাতালে যোগদানের পর থেকেই তত্ত্বাবধায়ক তাকে বিভিন্ন সময় নিজের অফিস কক্ষে ডেকে কুরুচিপূর্ণ আচরণ করতেন এবং মানসিকভাবে হয়রানি করতেন।
অভিযোগে ভুক্তভোগী আরও বলেন, ১৩ জুলাই সকালে তত্ত্বাবধায়ক হোয়াটসঅ্যাপ কলে যোগাযোগ করে নিজের ডরমিটরি কক্ষে একসঙ্গে সময় কাটানোর অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরদিন হাসপাতালের স্টাফ ও নার্সদের সামনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। এতে তিনি নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করে বিষয়টির তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানান।
ঘটনার একপর্যায়ে ২১ জুলাই হাসপাতালের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর ভুক্তভোগী চিকিৎসক অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করেন। সেখানে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝির অবসানের কথা উল্লেখ করা হয়।
তবে পরদিনই নতুন আবেদন দিয়ে তিনি অভিযোগ প্রত্যাহারের নেপথ্যের ঘটনা তুলে ধরেন। আবেদনে ভুক্তভোগী দাবি করেন, চাকরিজীবনে ক্ষতির আশঙ্কা দেখিয়ে কয়েকজন চিকিৎসক তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট ও সংবাদ দেখিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তাকে বক্তব্য দিতেও বাধ্য করা হয়েছিল।
ভুক্তভোগী আরও উল্লেখ করেন, জেলার স্বাস্থ্যসেবায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে এমন বিবেচনায় সে সময় প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করেননি। তবে ১৪ জুলাই দেওয়া তার মূল অভিযোগের প্রতিটি বিষয়ে তিনি এখনো অনড় রয়েছেন এবং অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেন। তাই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
ভুক্তভোগী বলেন, আমার অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। এটি সমাজের জন্যও একটি বার্তা। স্বাস্থ্যসেবায় কর্মরত সবারই দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদনটি আমার কাছ থেকে চাপ সৃষ্টি করে নেওয়া হয়েছিল। আমি সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. রেজওয়ানুর আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করে বাইরে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতেন। এ কারণে আমি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলাম। শোকজ দেওয়ার পরদিনই তিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। হাসপাতালের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি।’
বরগুনার পাথরঘাটা পৌর শহরের ব্যবসায়ী রাধেশ্যাম কর্মকার তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা মামলা, ভুয়া লিগ্যাল নোটিশ ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সোমবার সকাল ১১ টায় পাথরঘাটা প্রেসক্লাবে তিনি সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সঞ্জিব কর্মকার তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন আদালতে মিথ্যা মামলা ও লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে হয়রানি করে আসছেন।
তিনি দাবি করেন, ২০১৭ সালে সঞ্জিব কর্মকার তার বিরুদ্ধে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। এর জবাবে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে জানান, জমি বিক্রির কোনো বায়নাপত্র, দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর কিংবা ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ নেই। পরে ২০১৯ সালে মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশের প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাধেশ্যাম কর্মকার আরও বলেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যশোরের এক আইনজীবীর নাম ব্যবহার করে ডাকযোগে দুটি খাকি খাম পাঠানো হয়। খাম খুলে তিনি ভেতরে লিগ্যাল নোটিশের পরিবর্তে সাদা কাগজ পান। পরে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। এ ঘটনার কল রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালে তার বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা করা হয়। মামলায় যে ব্যাংক হিসাব ও চেক নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে, সেই ব্যাংকের কোনো শাখায় তার নামে কোনো হিসাব নেই। একইভাবে সুনামগঞ্জ থেকে পাঠানো পৃথক দুটি লিগ্যাল নোটিশেও ভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হলেও একই ব্যাংক হিসাব ও চেক নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, যা তার ভাষ্য অনুযায়ী অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।
রাধেশ্যাম কর্মকার বলেন, সর্বশেষ গত ১৬ জুলাই ডাকযোগে আরও দুটি খাকি খাম পান। পূর্বের অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় সাংবাদিক, ডাক বিভাগের কর্মচারী ও অন্যান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে খাম দুটি খোলা হলে ভেতরে কোনো লিখিত নোটিশ পাওয়া যায়নি। পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সঞ্জিব কর্মকার ও তার ছোট ভাই সঞ্জয় কর্মকারসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে ভুয়া চেক, লিগ্যাল নোটিশ ও মামলা দিয়ে তাকে এবং তার পরিবারকে হয়রানি করছে। তিনি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রধান বিচারপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয় সাংবাদিক ইমাম হোসেন নাহিদ, ব্যবসায়ী আবু সাইদ, আল আমিনসহ একাধিক ব্যক্তিরা বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব কাজ করে মানুষকে হয়রানি করছে। রাধেশ্যাম কর্মকারকেও দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এ চক্রের সাথে স্থানীয় স্বর্ন ব্যবসায়ীরাও রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত সঞ্জিব কর্মকারের ফোন দিলেও তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে বারবার লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো যশোরের আইনজীবী আব্দুল হালিম জোয়ার্দারকে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিককে বলেন, 'আপনি সাংবাদিক হন না কেন আপনি আমাকে ফোন দিবেন না।'
বরগুনার পাথরঘাটা পৌর শহরের ব্যবসায়ী রাধেশ্যাম কর্মকার তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা মামলা, ভুয়া লিগ্যাল নোটিশ ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সোমবার সকাল ১১ টায় পাথরঘাটা প্রেসক্লাবে তিনি সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সঞ্জিব কর্মকার তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন আদালতে মিথ্যা মামলা ও লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে হয়রানি করে আসছেন।
তিনি দাবি করেন, ২০১৭ সালে সঞ্জিব কর্মকার তার বিরুদ্ধে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। এর জবাবে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে জানান, জমি বিক্রির কোনো বায়নাপত্র, দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর কিংবা ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ নেই। পরে ২০১৯ সালে মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশের প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাধেশ্যাম কর্মকার আরও বলেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যশোরের এক আইনজীবীর নাম ব্যবহার করে ডাকযোগে দুটি খাকি খাম পাঠানো হয়। খাম খুলে তিনি ভেতরে লিগ্যাল নোটিশের পরিবর্তে সাদা কাগজ পান। পরে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। এ ঘটনার কল রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালে তার বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা করা হয়। মামলায় যে ব্যাংক হিসাব ও চেক নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে, সেই ব্যাংকের কোনো শাখায় তার নামে কোনো হিসাব নেই। একইভাবে সুনামগঞ্জ থেকে পাঠানো পৃথক দুটি লিগ্যাল নোটিশেও ভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হলেও একই ব্যাংক হিসাব ও চেক নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, যা তার ভাষ্য অনুযায়ী অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।
রাধেশ্যাম কর্মকার বলেন, সর্বশেষ গত ১৬ জুলাই ডাকযোগে আরও দুটি খাকি খাম পান। পূর্বের অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় সাংবাদিক, ডাক বিভাগের কর্মচারী ও অন্যান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে খাম দুটি খোলা হলে ভেতরে কোনো লিখিত নোটিশ পাওয়া যায়নি। পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সঞ্জিব কর্মকার ও তার ছোট ভাই সঞ্জয় কর্মকারসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে ভুয়া চেক, লিগ্যাল নোটিশ ও মামলা দিয়ে তাকে এবং তার পরিবারকে হয়রানি করছে। তিনি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রধান বিচারপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয় সাংবাদিক ইমাম হোসেন নাহিদ, ব্যবসায়ী আবু সাইদ, আল আমিনসহ একাধিক ব্যক্তিরা বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব কাজ করে মানুষকে হয়রানি করছে। রাধেশ্যাম কর্মকারকেও দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এ চক্রের সাথে স্থানীয় স্বর্ন ব্যবসায়ীরাও রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত সঞ্জিব কর্মকারের ফোন দিলেও তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে বারবার লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো যশোরের আইনজীবী আব্দুল হালিম জোয়ার্দারকে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিককে বলেন, 'আপনি সাংবাদিক হন না কেন আপনি আমাকে ফোন দিবেন না।'