বঙ্গোপসাগরের গভীরে ডুবে যাওয়া পটুয়াখালীর গলাচিপার ৬ জেলের মধ্যে আল-আমিন নামের একজনকে জীবিত উদ্ধার করেছে জেলেরা। তাকে উদ্ধারের পর চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আল আমিনের চিকিৎসার তদারকি করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে ভোলার ঢাল চর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে ভাসমান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে আল আমিনের সঙ্গে থাকা অন্য ৫ জেলের সন্ধান মেলেনি।
উদ্ধার জেলে আল আমিন উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের চান মিয়া হাওলাদারের ছেলে।
গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে চরফ্যাশন থেকে জনৈক দুলাল মাঝি আল আমিনের স্ত্রী মাকসুদা বেগমের কাছে মোবাইল ফোনে একটি বার্তা পাঠান যে, সাগর থেকে আল আমিনকে উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা স্পিডবোট নিয়ে চরফ্যাশন চলে যাই। সেখান থেকে আল আমিনকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তি করি।
উদ্ধার হওয়া জেলে আল আমিন বলেন, বঙ্গোপসাগরে ফিশিং ট্রলার গত রবিবার রাত ১০টার দিকে ঝড়ে কবলে পড়ে ১১ জেলে নিয়ে ডুবে যায়।
সে সময় ট্রলারের ভেতর তিনজন ছিল, তারা বের হতে পারেনি। কিন্তু আমরা ৮ জন সাগরে ভেসেছিলাম। এসময় আমি আক্কাস আর সাগর ট্রলার ধরে ভেসেছিলাম। কিন্তু একসময় সবাই ট্রলার ছেড়ে দিয়ে তীরে ফেরার জন্য সাঁতার দিই। কিন্তু কিছুক্ষণ পর সবাই আলাদা হয়ে যাই।
আল আমিন আরো বলেন, আমি একটি তেলের পট পেয়ে ভেসেছিলাম। বুধবার বিকেলে ভোলার দুলাল মাঝির জেলেরা আমাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন নিয়ে আসে। এ ছাড়া আমার আর কিছু মনে নেই।
গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কলিমুল্লা খান বলেন, আল আমিনের বেঁচে থাকার খবর পেয়ে আমরা তার পরিবারের লোকজন নিয়ে চরফ্যাশন থেকে গলাচিপা নিয়ে এসেছি। সে সুস্থ হোক, পরে বিস্তারিত জানতে পারব।
গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী সাংবাদিকদের বলেন, উদ্ধার হওয়া জেলে আল আমিন জানিয়েছেন, সাগরে ভেসে যাওয়া অন্য ৫ জেলে হয়তো বেঁচে আছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, আল আমিন অন্য জেলেদের অবস্থান সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়েছেন। তার তথ্য অনুসরণ করে উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গত ৫ জুলাই বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পরে গলাচিপার ১১ জন জেলেসহ ফিশিং ট্রলার ডুবে যায়। পরদিন ৫ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এর পর বুধবার বিকেলে জেলে আল আমিন উদ্ধার হলেও ৫ জন জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন, গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের দক্ষিণ পানপট্টির মৃত গেদু হাওলাদারে ছেলে মো. হারুন হাওলাদার, পানপট্টি গ্রামের মো. এমাদুল, গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের মো. ফোরকান, মো. সায়েম এবং গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের মো. আকাশ।’

০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৩২
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় বজ্রপাতে তপন শিকারী (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের পশ্চিম কাচারিকান্দা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তপন শিকারী একই গ্রামের অনিল শিকারীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পশ্চিম পাশে নিজের জমিতে বীজ বপন করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তপন শিকারীর মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন রতনদী তালতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) মিজান দেওয়ান।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, বজ্রপাতে মৃত্যু হলে লাশ পরিবারের কাছেই হস্তান্তর করা হবে।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় বজ্রপাতে তপন শিকারী (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের পশ্চিম কাচারিকান্দা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তপন শিকারী একই গ্রামের অনিল শিকারীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পশ্চিম পাশে নিজের জমিতে বীজ বপন করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তপন শিকারীর মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন রতনদী তালতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) মিজান দেওয়ান।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, বজ্রপাতে মৃত্যু হলে লাশ পরিবারের কাছেই হস্তান্তর করা হবে।

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:২২
পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি রেকর্ডীয় রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে চাষাবাদের অভিযোগে তা অপসারণে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাঠালতলা থেকে তহশিল অফিসের মাঝামাঝি সরকারি রাস্তাটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো. সাইফুল ইসলাম ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদা, তার স্ত্রী ডেইজি বেগম ও ছেলে রামিম প্যাদা সরকারি রাস্তার ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। এতে স্থানীয়দের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় সরকারি লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গাজী সোহরাব হোসেন উপজেলা ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শাহজাহান প্যাদাকে সাত দিনের মধ্যে রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের নির্দেশ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে শাহজাহান প্যাদা বলেন, ‘আমাদের জমি সরকার নিয়েছে, কিন্তু কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তাই রাস্তায় বেড়া দিয়েছি। অন্য জায়গা দিয়ে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করব, তবে ওই জায়গা দিয়ে রাস্তা দেব না।’
উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি রাস্তা থেকে বেড়া অপসারণ না করলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত বেড়া অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি রেকর্ডীয় রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে চাষাবাদের অভিযোগে তা অপসারণে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাঠালতলা থেকে তহশিল অফিসের মাঝামাঝি সরকারি রাস্তাটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো. সাইফুল ইসলাম ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান প্যাদা, তার স্ত্রী ডেইজি বেগম ও ছেলে রামিম প্যাদা সরকারি রাস্তার ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। এতে স্থানীয়দের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় সরকারি লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গাজী সোহরাব হোসেন উপজেলা ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শাহজাহান প্যাদাকে সাত দিনের মধ্যে রাস্তা থেকে বাঁশের বেড়া অপসারণের নির্দেশ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে শাহজাহান প্যাদা বলেন, ‘আমাদের জমি সরকার নিয়েছে, কিন্তু কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তাই রাস্তায় বেড়া দিয়েছি। অন্য জায়গা দিয়ে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করব, তবে ওই জায়গা দিয়ে রাস্তা দেব না।’
উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি রাস্তা থেকে বেড়া অপসারণ না করলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত বেড়া অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:২০
দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল পটুয়াখালীর বাউফলে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে নারিকেলের ফলন। চাষিদের একাংশ মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ারের ক্ষতিকর তরঙ্গকে এর জন্য দায়ী করলেও কৃষিবিদ ও বিজ্ঞানের স্পষ্ট বক্তব্য- এই দাবির পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। মূলত জলবায়ূর বিরুপ প্রভাব, অতিমাত্রায় রোগবালাই এবং সঠিক পরিচর্যার অভাবই নারিকেল উৎপাদন কমে যাওয়ার মূল কারণ।
স্থানীয় চাষি ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একসময় পটুয়াখালীর এই উপকূলীয় অঞ্চল ছিল নারিকেলের জন্য সুপরিচিত। বসতবাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক বাগান-সবখানেই সারি সারি গাছে ঝুলত কাঁদিকাঁদি ডাব ও নারিকেল। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হতো রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অথচ গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে নারিকেলের ফলন কমে গেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। বর্তমানে অধিকাংশ গাছই ফলশূন্য হয়ে পড়েছে, যার ফলে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলার শৌলা গ্রামের ‘নুরজাহান গার্ডেন’-এ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৭০০ নারিকেল গাছ রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৫০০ গাছে প্রচুর ফলন হতো। তবে কয়েক বছর ধরে এসব গাছে ফলন এক প্রকার বন্ধ বললেই চলে।
বাগান দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. খবির হোসেন বলেন, আগে প্রচুর নারিকেল হতো। কিন্তু গত দুই-তিন বছর ধরে প্রায় সব গাছই ফলশূন্য। দু-একটি গাছে কড়ি এলেও তা ঝরে পড়ে যায়।
একই হতাশার কথা জানান চর কালাইয়াা গ্রামের কৃষক মো. রফিক প্যাদা। তার বাড়িতে ১০-১২টি গাছ থেকে একসময় ভালো আয় হলেও এখন ফুল আসার পর তা ঝরে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
নারিকেলের এই ফলন বিপর্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা গুজবের সৃষ্টি হয়েছে। চর মিয়াজান গ্রাামের বাসিন্দা লোকমান মাঝিসহ স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বাড়ার পর থেকেই নাকি নারিকেলের উৎপাদন কমেছে।
তবে এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল ও ভ্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞ ও সচেতন চাষিরা। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি এবং সময়ের সাথে বিভিন্ন নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়াই মূল সমস্যা।
বাউফল উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. রেদওয়ান তালুকদার বলেন, মোবাইল টাওয়ারের তরঙ্গের কারণে ফলন কমার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। মূলত পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ অনেক বেড়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিলন মিয়া বলেন, জলবায়ুর প্রতিকূল পরিবর্তনের ফলে ‘হোয়াইট ফ্লাই’ বা সাদা মাছিসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা ও রোগের উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়েছে। কোনো ভিত্তিহীন গুজবে কান না দিয়ে চাষিদের আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক সময়ে বালাইনাশক ব্যবহার করলেই আগের মতো ফলন ফিরে পাওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল পটুয়াখালীর বাউফলে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে নারিকেলের ফলন। চাষিদের একাংশ মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ারের ক্ষতিকর তরঙ্গকে এর জন্য দায়ী করলেও কৃষিবিদ ও বিজ্ঞানের স্পষ্ট বক্তব্য- এই দাবির পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। মূলত জলবায়ূর বিরুপ প্রভাব, অতিমাত্রায় রোগবালাই এবং সঠিক পরিচর্যার অভাবই নারিকেল উৎপাদন কমে যাওয়ার মূল কারণ।
স্থানীয় চাষি ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, একসময় পটুয়াখালীর এই উপকূলীয় অঞ্চল ছিল নারিকেলের জন্য সুপরিচিত। বসতবাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক বাগান-সবখানেই সারি সারি গাছে ঝুলত কাঁদিকাঁদি ডাব ও নারিকেল। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হতো রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অথচ গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে নারিকেলের ফলন কমে গেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। বর্তমানে অধিকাংশ গাছই ফলশূন্য হয়ে পড়েছে, যার ফলে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলার শৌলা গ্রামের ‘নুরজাহান গার্ডেন’-এ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৭০০ নারিকেল গাছ রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৫০০ গাছে প্রচুর ফলন হতো। তবে কয়েক বছর ধরে এসব গাছে ফলন এক প্রকার বন্ধ বললেই চলে।
বাগান দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. খবির হোসেন বলেন, আগে প্রচুর নারিকেল হতো। কিন্তু গত দুই-তিন বছর ধরে প্রায় সব গাছই ফলশূন্য। দু-একটি গাছে কড়ি এলেও তা ঝরে পড়ে যায়।
একই হতাশার কথা জানান চর কালাইয়াা গ্রামের কৃষক মো. রফিক প্যাদা। তার বাড়িতে ১০-১২টি গাছ থেকে একসময় ভালো আয় হলেও এখন ফুল আসার পর তা ঝরে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
নারিকেলের এই ফলন বিপর্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা গুজবের সৃষ্টি হয়েছে। চর মিয়াজান গ্রাামের বাসিন্দা লোকমান মাঝিসহ স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার বাড়ার পর থেকেই নাকি নারিকেলের উৎপাদন কমেছে।
তবে এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল ও ভ্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞ ও সচেতন চাষিরা। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি এবং সময়ের সাথে বিভিন্ন নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়াই মূল সমস্যা।
বাউফল উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. রেদওয়ান তালুকদার বলেন, মোবাইল টাওয়ারের তরঙ্গের কারণে ফলন কমার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। মূলত পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ অনেক বেড়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিলন মিয়া বলেন, জলবায়ুর প্রতিকূল পরিবর্তনের ফলে ‘হোয়াইট ফ্লাই’ বা সাদা মাছিসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা ও রোগের উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়েছে। কোনো ভিত্তিহীন গুজবে কান না দিয়ে চাষিদের আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক সময়ে বালাইনাশক ব্যবহার করলেই আগের মতো ফলন ফিরে পাওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

০৯ জুলাই, ২০২৬ ১৭:১১
বঙ্গোপসাগরের গভীরে ডুবে যাওয়া পটুয়াখালীর গলাচিপার ৬ জেলের মধ্যে আল-আমিন নামের একজনকে জীবিত উদ্ধার করেছে জেলেরা। তাকে উদ্ধারের পর চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আল আমিনের চিকিৎসার তদারকি করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে ভোলার ঢাল চর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে ভাসমান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে আল আমিনের সঙ্গে থাকা অন্য ৫ জেলের সন্ধান মেলেনি।
উদ্ধার জেলে আল আমিন উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের চান মিয়া হাওলাদারের ছেলে।
গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে চরফ্যাশন থেকে জনৈক দুলাল মাঝি আল আমিনের স্ত্রী মাকসুদা বেগমের কাছে মোবাইল ফোনে একটি বার্তা পাঠান যে, সাগর থেকে আল আমিনকে উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা স্পিডবোট নিয়ে চরফ্যাশন চলে যাই। সেখান থেকে আল আমিনকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তি করি।
উদ্ধার হওয়া জেলে আল আমিন বলেন, বঙ্গোপসাগরে ফিশিং ট্রলার গত রবিবার রাত ১০টার দিকে ঝড়ে কবলে পড়ে ১১ জেলে নিয়ে ডুবে যায়।
সে সময় ট্রলারের ভেতর তিনজন ছিল, তারা বের হতে পারেনি। কিন্তু আমরা ৮ জন সাগরে ভেসেছিলাম। এসময় আমি আক্কাস আর সাগর ট্রলার ধরে ভেসেছিলাম। কিন্তু একসময় সবাই ট্রলার ছেড়ে দিয়ে তীরে ফেরার জন্য সাঁতার দিই। কিন্তু কিছুক্ষণ পর সবাই আলাদা হয়ে যাই।
আল আমিন আরো বলেন, আমি একটি তেলের পট পেয়ে ভেসেছিলাম। বুধবার বিকেলে ভোলার দুলাল মাঝির জেলেরা আমাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন নিয়ে আসে। এ ছাড়া আমার আর কিছু মনে নেই।
গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কলিমুল্লা খান বলেন, আল আমিনের বেঁচে থাকার খবর পেয়ে আমরা তার পরিবারের লোকজন নিয়ে চরফ্যাশন থেকে গলাচিপা নিয়ে এসেছি। সে সুস্থ হোক, পরে বিস্তারিত জানতে পারব।
গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী সাংবাদিকদের বলেন, উদ্ধার হওয়া জেলে আল আমিন জানিয়েছেন, সাগরে ভেসে যাওয়া অন্য ৫ জেলে হয়তো বেঁচে আছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, আল আমিন অন্য জেলেদের অবস্থান সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়েছেন। তার তথ্য অনুসরণ করে উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গত ৫ জুলাই বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পরে গলাচিপার ১১ জন জেলেসহ ফিশিং ট্রলার ডুবে যায়। পরদিন ৫ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এর পর বুধবার বিকেলে জেলে আল আমিন উদ্ধার হলেও ৫ জন জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন, গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের দক্ষিণ পানপট্টির মৃত গেদু হাওলাদারে ছেলে মো. হারুন হাওলাদার, পানপট্টি গ্রামের মো. এমাদুল, গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের মো. ফোরকান, মো. সায়েম এবং গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের মো. আকাশ।’
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:২৪
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২৪
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬