বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া এবং বাকেরগঞ্জের চরামদ্দি ইউনিয়নের হঠাৎ করে ভূমিদস্যু একটি গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চরকরমজীর বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিকদারের নেতৃত্বে চরামদ্দির সঠিখোলা গ্রামের আইয়ুব আলীসহ অন্তত ৫/৬ জনের গ্রুপটি দীর্ঘদিন ধরে দুই ইউনিয়নের ২০টির বেশি পরিবারকে হয়রানি করে আসছে। বিশেষ করে কারও জমি দখলে ব্যর্থ হলে জালজালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে মামলা-মোকাদ্দমা করাসহ প্রশাসনকে ব্যবহার করে হয়রানি করার অভিযোগ আছে। এবং জমি নিয়ে আদালতে মামলা করে পরাস্ত হয়েছেন, পরবর্তীতে একই জমি নিজের দাবি করে ভূমি অফিসসহ পুলিশের কাছে অভিযোগ করারও উদাহরণ রয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিকদার লতিফ বাহিনী হয়রানি করেছে, এমন অন্তত ১৫ টি পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেছে বরিশালের চরকাউয়া ইউনিয়নের চরকরমজী এবং চরামদ্দির সঠিখোলা গ্রামে। দুটি গ্রামের মাঝখান দিয়ে নদী বয়ে গেছে এবং নদীর তীরবর্তী সরকারি ভূমি রয়েছে। এই ভূমি সরকারের তরফ থেকে পূর্বে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় ভূমিহীনদের বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার পাশে বরিশাল সদর উপজেলার অংশে রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতার ইটভাটা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিকদার বিগত সময়ে সরকারি খাস জমি থেকে ইটভাটার মাটি কেটে নিয়েছেন। ওই সময় তার দল ক্ষমতায় থাকায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেনি। আ’লীগের পতন হলে তিনি আড়ালে থেকে চরামদ্দির সঠিখোলার বাসিন্দা আইয়ুব আলীকে সামনে ফেলে হয়রানি অব্যাহত রেখেছেন। তাদের কয়েকজনের ভূমিদস্যুতায় দুটি গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীদের একজন মো. হান্নান জানান, চরসঠিখোলা মৌজায় ২৫ বছর আগে সরকার তাকে ২০ ভূমি বন্দোবস্ত দেয়। এই ভূমিতে তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর তুলে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে এই ভূমিটি আইয়ুব আলী নিজের দাবি করে বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন, যার নেপথ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিকদার। একই বছরের ২৪ জুলাই আদালত হান্নানের পক্ষে রায় দেন, যার অনুলিপি বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশকে পাঠানো হয়।
হান্নানের অভিযোগ, মামলা দিয়ে হয়রানির পরে সেই আইয়ুব আলী কিছুদিন পূর্বে বাকেরগঞ্জ ভূমি অফিসে অভিযোগ করেছেন। এবং মাঝে মধ্যে হুমকিও দিচ্ছেন, হয় জমি ছেড়ে দিবি, নয়তো প্রাণ যাবে।
অনুরুপ অভিযোগ করেছেন, কামরুল ইসলাম নান্টু, গিয়াস, নজরুল, সবুজ, পিন্টু, শাহীন, তোফাজ্জেল এবং সিরাজসহ অন্তত ১৫ জন বাসিন্দা। তারা জানান, প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সৈয়দ ফয়জুল করিম (রহ:) ক্বিরাতুল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার জমিও এখন আইয়ুব আলী নিজের দাবি করেন। এনিয়ে তিনি একাধিক জনের বিরুদ্ধে মামলা করাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগও করেন। কিন্তু সবখানেই তার দুই নম্বরি ধরা পড়ছে, তারপরেও হয়রানি করে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের মধ্যেকার আরেকজন সিরাজ অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে বন্দোবস্ত পাওয়া তার ভূমিটি আইয়ুব আলী নিজের দাবি করেন। এবং ভূমিটি সরকার তাকে নতুন করে বন্দোবস্ত দিয়েছে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু এর স্বপক্ষে তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারছেন না। এমনকি তিনি প্রশাসনের যে সব স্থানে অভিযোগ করেছেন, সেখানে গিয়েও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এই লতিফ সিকদার এবং সহযোগী আইয়ুব আলীর হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ঐক্যবব্ধ হয়েছে। তারা পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে স্বৈরাচারের দোসর আওয়ামী লীগ নেতা লতিফসহ তার গ্রুপের সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছে।
তবে লতিফ সিকদার জমি নিয়ে কারও সাথে বিরোধ নেই দাবি করলেও চতুর আইয়ুব আলী বলছেন, কাগজপত্র আছে বিধায় আমালতে যাচ্ছি, মামলা করছি। কিন্তু আপনিতো মামলায় হেরেছেন প্রশ্নে তিনি বলেন একটি আদালতে হারলে, আরেকটিতে মামলা করার সুযোগ আছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জের এসিল্যান্ড তন্ময় হালদার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তেমন একটা জানা নেই। তবে আইয়ুব আলী নামের জনৈক ব্যক্তি সঠিখোলা এলাকার একটি জমি নিয়ে অভিযোগ দিয়েছেন, সেটি তদন্ত করা হচ্ছে। এবং তার সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে।’

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৮
বরিশালের উজিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে এক শয্যাশায়ী ব্যক্তির বসতঘর থেকে চিকিৎসার জন্য রাখা ১৫ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গৌরনদী সার্কেলের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে গত এক মাসে দুই দফায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বিলাঞ্চল ওড়াবাশবাড়ি গ্রামের কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন সাদা পোশাকে আসা ডিএনসি সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী কামরুজ্জামান কালুর চিকিৎসার জন্য বালিশের নিচে ১৫ হাজার টাকা রাখা ছিল। ঘরে তল্লাশির সময় ওই টাকা নিয়ে যান অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেছেন কালুর স্ত্রী সুখী বেগম।
সুখী বেগমের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে ফাইজুল ইসলাম ও হৃদয়সহ চার থেকে পাঁচজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে আসেন। শুরুতে নিজেদের পরিচয় না দিয়ে তাঁর স্বামীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তাঁরা।
সুখী বেগম বলেন, অভিযানে আসা ব্যক্তিরা তাঁকে বলেন, তাঁর স্বামী মাদক সেবন ছেড়ে দিলেও ডোপ টেস্টের মাধ্যমে আগের মাদক সেবনের বিষয়টি বের করে মামলা দেওয়া হবে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ও মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন বাড়িতে জড়ো হন। পরে গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেনকে খবর দেওয়া হয়। তাঁর উপস্থিতিতে বসতঘরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।
সুখী বেগমের অভিযোগ, তল্লাশির একপর্যায়ে বালিশের নিচে রাখা চিকিৎসার ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, স্বামী কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। অথচ তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএনসি গৌরনদী সার্কেলের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার। তাঁর নেতৃত্বে অভিযানে রুবেল হোসেন, ফয়সাল হোসেনসহ কয়েকজন সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা যায়নি। এটি তাঁদের একটি ‘নিষ্ফল অভিযান’ ছিল।
তবে তল্লাশির সময় টাকা চুরি এবং এর আগে দুই দফায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেন বলেন, সাদা পোশাকে ডিএনসি কর্মকর্তারা কালুর বাড়িতে এসেছিলেন। স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তিনি সেখানে যান। তবে বাড়ি থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তানভীর হোসেন খান বলেন, গৌরনদী সার্কেল থেকে সকালে একটি অভিযান পরিচালনার তথ্য তাঁর জানা আছে। তবে সেটি উজিরপুরে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নন।
টাকা চুরি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসআই ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার দীর্ঘ সাত বছর ধরে গৌরনদী সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। একই স্টেশনে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরা মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আগৈলঝাড়া ও উজিরপুরের প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য জমানো টাকা হারানোর অভিযোগ তুলে সুখী বেগম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের বিষয়ে ডিএনসি কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং তদন্তে কী উঠে আসে।
বরিশালের উজিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে এক শয্যাশায়ী ব্যক্তির বসতঘর থেকে চিকিৎসার জন্য রাখা ১৫ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গৌরনদী সার্কেলের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে গত এক মাসে দুই দফায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বিলাঞ্চল ওড়াবাশবাড়ি গ্রামের কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন সাদা পোশাকে আসা ডিএনসি সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী কামরুজ্জামান কালুর চিকিৎসার জন্য বালিশের নিচে ১৫ হাজার টাকা রাখা ছিল। ঘরে তল্লাশির সময় ওই টাকা নিয়ে যান অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেছেন কালুর স্ত্রী সুখী বেগম।
সুখী বেগমের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে ফাইজুল ইসলাম ও হৃদয়সহ চার থেকে পাঁচজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে আসেন। শুরুতে নিজেদের পরিচয় না দিয়ে তাঁর স্বামীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তাঁরা।
সুখী বেগম বলেন, অভিযানে আসা ব্যক্তিরা তাঁকে বলেন, তাঁর স্বামী মাদক সেবন ছেড়ে দিলেও ডোপ টেস্টের মাধ্যমে আগের মাদক সেবনের বিষয়টি বের করে মামলা দেওয়া হবে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ও মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন বাড়িতে জড়ো হন। পরে গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেনকে খবর দেওয়া হয়। তাঁর উপস্থিতিতে বসতঘরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।
সুখী বেগমের অভিযোগ, তল্লাশির একপর্যায়ে বালিশের নিচে রাখা চিকিৎসার ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, স্বামী কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। অথচ তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএনসি গৌরনদী সার্কেলের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার। তাঁর নেতৃত্বে অভিযানে রুবেল হোসেন, ফয়সাল হোসেনসহ কয়েকজন সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা যায়নি। এটি তাঁদের একটি ‘নিষ্ফল অভিযান’ ছিল।
তবে তল্লাশির সময় টাকা চুরি এবং এর আগে দুই দফায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেন বলেন, সাদা পোশাকে ডিএনসি কর্মকর্তারা কালুর বাড়িতে এসেছিলেন। স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তিনি সেখানে যান। তবে বাড়ি থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তানভীর হোসেন খান বলেন, গৌরনদী সার্কেল থেকে সকালে একটি অভিযান পরিচালনার তথ্য তাঁর জানা আছে। তবে সেটি উজিরপুরে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নন।
টাকা চুরি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসআই ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার দীর্ঘ সাত বছর ধরে গৌরনদী সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। একই স্টেশনে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরা মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আগৈলঝাড়া ও উজিরপুরের প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য জমানো টাকা হারানোর অভিযোগ তুলে সুখী বেগম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের বিষয়ে ডিএনসি কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং তদন্তে কী উঠে আসে।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:১১
বরিশালের বানারীপাড়ায় নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শ্রমিক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এসএস প্রি-ক্যাডেট স্কুলসংলগ্ন ব্যবসায়ী রিয়াজ হোসেনের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে জামাল হোসেন (৫০) এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চুন্নু মিয়ার ছেলে মো. সোহাগ (৪২)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সৃষ্টি শিক্ষা একাডেমির শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, দুপুরে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের বাঁশ খুলতে গিয়ে দুই শ্রমিক ভেতরে পড়ে যান। ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে তাঁরা বিপদে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বেলা পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শ্রমিককে ট্যাংকের ভেতরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে অক্সিজেন ব্যবহার করে গ্যাস অপসারণের পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
পরে তাঁদের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, সেপটিক ট্যাংকে সেন্টারিংয়ের কাজ করার সময় দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লুৎফুর আজিজের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বরিশালের বানারীপাড়ায় নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শ্রমিক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এসএস প্রি-ক্যাডেট স্কুলসংলগ্ন ব্যবসায়ী রিয়াজ হোসেনের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে জামাল হোসেন (৫০) এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চুন্নু মিয়ার ছেলে মো. সোহাগ (৪২)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সৃষ্টি শিক্ষা একাডেমির শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, দুপুরে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের বাঁশ খুলতে গিয়ে দুই শ্রমিক ভেতরে পড়ে যান। ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে তাঁরা বিপদে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বেলা পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শ্রমিককে ট্যাংকের ভেতরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে অক্সিজেন ব্যবহার করে গ্যাস অপসারণের পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
পরে তাঁদের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, সেপটিক ট্যাংকে সেন্টারিংয়ের কাজ করার সময় দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লুৎফুর আজিজের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৭
কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী একটি বাস বরগুনার আমতলীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়েছে। এতে অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বরগুনার আমতলী উপজেলার বান্দ্রা বাজার এলাকায় বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ইমরান পরিবহনের বাসটি বুধবার রাতে ঢাকা থেকে পর্যটক ও অন্যান্য যাত্রী নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগে একটি বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের আমতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. মাহবুবুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। বাসটির বেশির ভাগ যাত্রীই কুয়াকাটার পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগের একটি স্টপেজে বাসের চালক নেমে যান। এরপর বাসটি চালাচ্ছিলেন তাঁর সহকারী (হেলপার)। সড়কের একটি বাঁক ঘোরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বাসের চালক ও সহকারী পলাতক থাকায় তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী একটি বাস বরগুনার আমতলীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়েছে। এতে অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বরগুনার আমতলী উপজেলার বান্দ্রা বাজার এলাকায় বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ইমরান পরিবহনের বাসটি বুধবার রাতে ঢাকা থেকে পর্যটক ও অন্যান্য যাত্রী নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগে একটি বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের আমতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. মাহবুবুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। বাসটির বেশির ভাগ যাত্রীই কুয়াকাটার পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগের একটি স্টপেজে বাসের চালক নেমে যান। এরপর বাসটি চালাচ্ছিলেন তাঁর সহকারী (হেলপার)। সড়কের একটি বাঁক ঘোরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বাসের চালক ও সহকারী পলাতক থাকায় তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

০৩ আগস্ট, ২০২৫ ১৯:৪২
বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া এবং বাকেরগঞ্জের চরামদ্দি ইউনিয়নের হঠাৎ করে ভূমিদস্যু একটি গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চরকরমজীর বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিকদারের নেতৃত্বে চরামদ্দির সঠিখোলা গ্রামের আইয়ুব আলীসহ অন্তত ৫/৬ জনের গ্রুপটি দীর্ঘদিন ধরে দুই ইউনিয়নের ২০টির বেশি পরিবারকে হয়রানি করে আসছে। বিশেষ করে কারও জমি দখলে ব্যর্থ হলে জালজালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে মামলা-মোকাদ্দমা করাসহ প্রশাসনকে ব্যবহার করে হয়রানি করার অভিযোগ আছে। এবং জমি নিয়ে আদালতে মামলা করে পরাস্ত হয়েছেন, পরবর্তীতে একই জমি নিজের দাবি করে ভূমি অফিসসহ পুলিশের কাছে অভিযোগ করারও উদাহরণ রয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিকদার লতিফ বাহিনী হয়রানি করেছে, এমন অন্তত ১৫ টি পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেছে বরিশালের চরকাউয়া ইউনিয়নের চরকরমজী এবং চরামদ্দির সঠিখোলা গ্রামে। দুটি গ্রামের মাঝখান দিয়ে নদী বয়ে গেছে এবং নদীর তীরবর্তী সরকারি ভূমি রয়েছে। এই ভূমি সরকারের তরফ থেকে পূর্বে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় ভূমিহীনদের বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার পাশে বরিশাল সদর উপজেলার অংশে রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতার ইটভাটা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিকদার বিগত সময়ে সরকারি খাস জমি থেকে ইটভাটার মাটি কেটে নিয়েছেন। ওই সময় তার দল ক্ষমতায় থাকায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেনি। আ’লীগের পতন হলে তিনি আড়ালে থেকে চরামদ্দির সঠিখোলার বাসিন্দা আইয়ুব আলীকে সামনে ফেলে হয়রানি অব্যাহত রেখেছেন। তাদের কয়েকজনের ভূমিদস্যুতায় দুটি গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীদের একজন মো. হান্নান জানান, চরসঠিখোলা মৌজায় ২৫ বছর আগে সরকার তাকে ২০ ভূমি বন্দোবস্ত দেয়। এই ভূমিতে তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর তুলে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে এই ভূমিটি আইয়ুব আলী নিজের দাবি করে বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন, যার নেপথ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিকদার। একই বছরের ২৪ জুলাই আদালত হান্নানের পক্ষে রায় দেন, যার অনুলিপি বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশকে পাঠানো হয়।
হান্নানের অভিযোগ, মামলা দিয়ে হয়রানির পরে সেই আইয়ুব আলী কিছুদিন পূর্বে বাকেরগঞ্জ ভূমি অফিসে অভিযোগ করেছেন। এবং মাঝে মধ্যে হুমকিও দিচ্ছেন, হয় জমি ছেড়ে দিবি, নয়তো প্রাণ যাবে।
অনুরুপ অভিযোগ করেছেন, কামরুল ইসলাম নান্টু, গিয়াস, নজরুল, সবুজ, পিন্টু, শাহীন, তোফাজ্জেল এবং সিরাজসহ অন্তত ১৫ জন বাসিন্দা। তারা জানান, প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সৈয়দ ফয়জুল করিম (রহ:) ক্বিরাতুল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার জমিও এখন আইয়ুব আলী নিজের দাবি করেন। এনিয়ে তিনি একাধিক জনের বিরুদ্ধে মামলা করাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগও করেন। কিন্তু সবখানেই তার দুই নম্বরি ধরা পড়ছে, তারপরেও হয়রানি করে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের মধ্যেকার আরেকজন সিরাজ অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে বন্দোবস্ত পাওয়া তার ভূমিটি আইয়ুব আলী নিজের দাবি করেন। এবং ভূমিটি সরকার তাকে নতুন করে বন্দোবস্ত দিয়েছে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু এর স্বপক্ষে তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারছেন না। এমনকি তিনি প্রশাসনের যে সব স্থানে অভিযোগ করেছেন, সেখানে গিয়েও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এই লতিফ সিকদার এবং সহযোগী আইয়ুব আলীর হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ঐক্যবব্ধ হয়েছে। তারা পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে স্বৈরাচারের দোসর আওয়ামী লীগ নেতা লতিফসহ তার গ্রুপের সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছে।
তবে লতিফ সিকদার জমি নিয়ে কারও সাথে বিরোধ নেই দাবি করলেও চতুর আইয়ুব আলী বলছেন, কাগজপত্র আছে বিধায় আমালতে যাচ্ছি, মামলা করছি। কিন্তু আপনিতো মামলায় হেরেছেন প্রশ্নে তিনি বলেন একটি আদালতে হারলে, আরেকটিতে মামলা করার সুযোগ আছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জের এসিল্যান্ড তন্ময় হালদার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তেমন একটা জানা নেই। তবে আইয়ুব আলী নামের জনৈক ব্যক্তি সঠিখোলা এলাকার একটি জমি নিয়ে অভিযোগ দিয়েছেন, সেটি তদন্ত করা হচ্ছে। এবং তার সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে।’
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:২০
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৪২
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:২৮
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২৪