প্রকৃতি যখন নিজের হাতে কোনো ক্যানভাস সাজায়, তখন তার রূপ কেমন হতে পারে, তা বরিশালের সাতলা বিলে না গেলে অনুধাবন করা অসম্ভব। শরতের ভোরের আলো ফুটতেই এখানে চোখ জুড়িয়ে যায় এক অলৌকিক দৃশ্যে। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত এক জলাশয়, আর তার বুক চিরে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছে কোটি কোটি লাল শাপলা। দূর থেকে মনে হবে যেন সবুজ পাতার বিছানায় কেউ লাল গালিচা পেতে রেখেছে, কিংবা ভোরের উদীয়মান সূর্যটাই টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে পানির বুকে।বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা হলেও, একসঙ্গে এত শাপলার মেলা দেশের আর কোথাও দেখা যায় না। তাই বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার এই সাতলা গ্রামটি এখন সারা দেশে পরিচিত 'শাপলার রাজধানী' বা 'লাল শাপলার স্বর্গরাজ্য' হিসেবে।
বছরের অন্য সময়ে সাতলা বিল দেখতে আর দশটা সাধারণ জলাভূমির মতোই মনে হয়। শুষ্ক মৌসুমে এখানে চাষ হয় ইরি ধান। কিন্তু বর্ষার পানি আসতেই বিলটি তার রূপ বদলাতে শুরু করে। মে-জুন মাস থেকে বিলে পানি জমতে শুরু করলে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় লাল শাপলা। আগস্ট থেকে শুরু করে নভেম্বর পর্যন্ত চলে শাপলার এই রাজত্ব। তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে বিলের সৌন্দর্য পৌঁছায় তার চূড়ায়। ভোরের আলোয় লাল শাপলার মেলাসাতলা বিলের আসল রূপ দেখতে হলে আপনাকে ঘুমকে ছুটি দিতে হবে। সূর্য ওঠার ঠিক আগে, যখন চারপাশ হালকা কুয়াশায় ঢাকা থাকে, তখন বিলের রূপ সবচেয়ে মোহনীয় দেখায়। ভোরের নরম আলোয় পাপড়ি মেলে ধরা শাপলাগুলোর ওপর যখন ভোরের শিশিরবিন্দু জমে থাকে, তখন মনে হয় যেন মুক্তো ছড়ানো রয়েছে। সকাল ৮টা বা ৯টা বেজে যাওয়ার পর যখন রোদের তীব্রতা বাড়ে, তখন ফুলগুলো ধীরে ধীরে বুজে যায়। তাই সাতলার সৌন্দর্য উপভোগ করার মোক্ষম সময় হলো ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা।বিলের জীবন ও জীবিকাসাতলা বিল শুধু পর্যটকদের জন্যই আনন্দের খোরাক নয়, এটি স্থানীয় শত শত পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস। বিলের বুকজুড়ে যখন নৌকায় করে পর্যটকেরা ঘুরে বেড়ায়, স্থানীয় মাঝিরা গল্প শোনায় এই বিলের। অনেকে আবার বিল থেকে শাপলা তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। এই শাপলা দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু তরকারি। শুধু তাই নয়, বিলের মিষ্টি শালুকও স্থানীয়দের অন্যতম প্রিয় খাবার।
বরিশাল সদর কিংবা উজিরপুর উপজেলা থেকে খুব সহজেই সাতলা বিলে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে লঞ্চ বা বাসে বরিশাল এসে, সেখান থেকে মাহিন্দ্র (থ্রি-হুইলার) বা বাস যোগে শিকারপুর হয়ে শাতলা যাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে করেও উজিরপুর বা সাতলা যাওয়া সম্ভব। বিলে ঘোরার জন্য স্থানীয় ঘাটে ছোট ছোট ডিঙি নৌকা পাওয়া যায়, যা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ভাড়া নেওয়া যায়।
প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টিকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। ভ্রমণের সময় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট বা কোনো বর্জ্য বিলে ফেলে পানি দূষিত করবেন না। মনে রাখবেন, ফুল গাছের চেয়ে পানির বুকেই সবচেয়ে বেশি সুন্দর। তাই অকারণে ফুল ছিঁড়ে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য নষ্ট করা থেকে বিরত থাকাই একজন সচেতন ভ্রমণকারীর পরিচয়। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি মুছে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক চিলতে শান্তি পেতে চাইলে, শরতের কোনো এক ভোরে ঘুরে আসতেই পারেন লাল শাপলার এই স্বর্গরাজ্য থেকে।’

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২৪
বরিশালে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষক নেতা, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাঁকে শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত, দোয়া মোনাজাত, বৃক্ষরোপণ, প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং এক আবেগঘন স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল নগরীর রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের শিক্ষা, সাহিত্য, সমাজসেবা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। স্মরণসভায় তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘যে জীবন মানুষের’ প্রদর্শিত হয়।

স্মরণসভায় উপস্থিত থেকে মরহুমের স্মৃতি ও কাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলা সভাপতি ও টিআইবি প্রতিনিধি প্রফেসর গাজী জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা, সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর স ম ইমানুল হাকিম ও প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস, বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ফজলুল হক, এবং ঝালকাঠি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর নুরুল আমিন।
এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন বাকশিস বরিশাল আঞ্চলিক শাখার সভাপতি অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মাহাবুবুর রহমান, সনাক সভাপতি অধ্যাপিকা টুনু রানী কর্মকার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজল ঘোষ, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতা অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম, বরিশাল মহানগর কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফখরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ এম. এ. বায়েজিদ, বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল মোতালেব হাওলাদার, নীলু-মনু ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক নজরুল হক নিলু, শিক্ষাবিদ অধ্যাপিকা বেগম ফয়জুন নাহার শেলী, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খোকন এবং ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর বিমল চক্রবর্তী।

উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা বলেন, 'অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন কেবল একজন সফল শিক্ষাবিদ বা শিক্ষক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠান গড়ার কারিগর ও মানবিকতার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। হিজলা কলেজ, ঝালকাঠি মহিলা কলেজ ও সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে আজীবন লড়ে গেছেন। প্রগতিশীল চেতনা, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নীরব সমাজসেবার মাধ্যমে তিনি যে আদর্শ রেখে গেছেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।'
উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের বড় ছেলে ড. মো. বাহাউদ্দিন গোলাপ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার এবং ছোট ছেলে রেহান উদ্দিন রোমান পেট্রোবাংলার কর্মকর্তা। দীর্ঘ কর্মময় জীবন শেষে ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই মহীয়সী ব্যক্তিত্ব। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। #

বরিশালে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষক নেতা, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাঁকে শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত, দোয়া মোনাজাত, বৃক্ষরোপণ, প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং এক আবেগঘন স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল নগরীর রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের শিক্ষা, সাহিত্য, সমাজসেবা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। স্মরণসভায় তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘যে জীবন মানুষের’ প্রদর্শিত হয়।

স্মরণসভায় উপস্থিত থেকে মরহুমের স্মৃতি ও কাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলা সভাপতি ও টিআইবি প্রতিনিধি প্রফেসর গাজী জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা, সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর স ম ইমানুল হাকিম ও প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস, বিএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ফজলুল হক, এবং ঝালকাঠি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর নুরুল আমিন।
এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন বাকশিস বরিশাল আঞ্চলিক শাখার সভাপতি অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মাহাবুবুর রহমান, সনাক সভাপতি অধ্যাপিকা টুনু রানী কর্মকার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজল ঘোষ, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতা অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম, বরিশাল মহানগর কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফখরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ এম. এ. বায়েজিদ, বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল মোতালেব হাওলাদার, নীলু-মনু ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক নজরুল হক নিলু, শিক্ষাবিদ অধ্যাপিকা বেগম ফয়জুন নাহার শেলী, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খোকন এবং ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর বিমল চক্রবর্তী।

উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা বলেন, 'অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন কেবল একজন সফল শিক্ষাবিদ বা শিক্ষক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠান গড়ার কারিগর ও মানবিকতার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। হিজলা কলেজ, ঝালকাঠি মহিলা কলেজ ও সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে আজীবন লড়ে গেছেন। প্রগতিশীল চেতনা, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নীরব সমাজসেবার মাধ্যমে তিনি যে আদর্শ রেখে গেছেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।'
উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের বড় ছেলে ড. মো. বাহাউদ্দিন গোলাপ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার এবং ছোট ছেলে রেহান উদ্দিন রোমান পেট্রোবাংলার কর্মকর্তা। দীর্ঘ কর্মময় জীবন শেষে ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই মহীয়সী ব্যক্তিত্ব। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। #


১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১০
শুধুমাত্র বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে তোলা ৬৭৩ টি স্থাপনা অপসারণে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল সাত কোটি ৩১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৭ টাকা। কুয়াকাটা-গঙ্গামতি পর্যটন এলকার স্বার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৮ নম্বর পোল্ডারের ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধন এবং সাগরের ভাঙন থেকে রক্ষায় ২০১৯ সালে এমন উদ্যোগ দেওয়া হয়েছিল। এরপরে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রায় দেড় শ’ কোটি টাকা ব্যয় করে ৩৯ কিলোমিটার বাঁধের মেরামত, পুনরাকৃতিকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। কুয়াকাটা সৈকত ঘেঁষা সাগরের পার ঘেঁষে ভাঙনরোধে স্থাপন করা হয়েছে কংক্রিটের ব্লক। বাঁধের রিভার ও কান্ট্রি সাইটে বনায়ন করা হয়েছে। ঘাঁসের আবরণ তৈরি করা হয়েছে। অথচ সেই বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে ফের স্থাপনা তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ছোট-বড় অন্তত দুই শ’ স্থাপনা তোলা হয়েছে। এক কথায় এখানে চলছে অরাজক পরিস্থিতি।
এই পোল্ডারের ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রক্ষায় বাঁধের পৃনরাকৃতি ছাড়াও নয়টি স্লুইসগেট মেরামত ও নতুনভাবে করা হয়েছে। পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য রক্ষা ছাড়াও লতাচাপলী, কুয়াকাটা পৌরসভা ও ধুলাসার ইউনিয়নের একাংশের এসব বাঁধ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণে বাঁধের গাছ কেটে বর্তমানে আবার এসব স্থাপনা তোলা হয়েছে। এখনও স্থাপনা তোলার কাজ চলছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ক্ষতিপুরণ দিয়ে বাঁধ ঠিক করা হলেও আবার ওই বাঁধে স্থাপনা তোলা হলেও কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ নির্বিকার রয়েছেন। ফলে একেতো ফের বাঁধ দখল হয়ে যাচ্ছে। বাঁধের গাছপালা কাটা পড়ছে। বন্যার ঝুঁকিতে পড়ছে গোটা পর্যটন এলাকা। এক কথায় দখলের দৌরাত্ম চলছে ফ্রি-স্টাইলে। একটি মধ্যস্বত্বভোগীচক্র আবার এই দখলদারদের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছেন রাজনৈতিক দলের একটি চিহ্নিত চক্র। ফলে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটি দখলের পাশাপাশি নাজুক হয়ে যাচ্ছে। যাচ্ছে পর্যটকের কাছে আকর্ষণহীন হয়ে। এখনই এসব স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে জেল জরিমানা করলেই পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য রক্ষার বাঁধটি রক্ষা সম্ভব বলে মনে করছেন অধিকাংশ সচেতন মানুষ।
সরেজমিনে বুধবার গিয়ে দেখা গেছে, কুয়াকাটা সৈকতের মিরাবাড়ি থেকে ঝাউবাগান পর্যন্ত বেড়িবাঁধের রিভার সাইটে শত শত স্থাপনা তোলা হয়েছে। সেখান থেকে গঙ্গামতি সেতু এলাকার ধোলাইর মার্কেট পর্যন্ত এলাকায় কিছু কিছু স্থাপনা তোলা হয়েছে। ধোলাই মার্কেটের দুইদিকে এখনো স্থাপনা তোলার কাজ চলছে। সেখানে বনভিাগের সৃজিত বাঁধের স্লোপের গাছপালা কেটে সেখানেই তোলা হচ্ছে স্থাপনা। বনবিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড কারও এনিয়ে যেন কোন দায় নেই। বাধাহীন দখল চলছে বাঁধের স্লোপ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শাহআলম জানান, কুয়াকাটা সৈকতের পাশে যেসব স্থাপনা তোলা হয়েছে তা অপসারণে মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া ধোলাইর মার্কেটের তোলা স্থাপনা অপসারণেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাঁধের সৃজিত গাছপালা কেটে কীভাবে দোকানপাটসহ স্থাপনা তোলা হচ্ছে। বনবিভাগ গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা এনিয়ে সঠিক কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
কুয়াকাটা সী বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, এসব স্থাপনা অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শুধুমাত্র বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে তোলা ৬৭৩ টি স্থাপনা অপসারণে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল সাত কোটি ৩১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৭ টাকা। কুয়াকাটা-গঙ্গামতি পর্যটন এলকার স্বার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৮ নম্বর পোল্ডারের ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধন এবং সাগরের ভাঙন থেকে রক্ষায় ২০১৯ সালে এমন উদ্যোগ দেওয়া হয়েছিল। এরপরে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রায় দেড় শ’ কোটি টাকা ব্যয় করে ৩৯ কিলোমিটার বাঁধের মেরামত, পুনরাকৃতিকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। কুয়াকাটা সৈকত ঘেঁষা সাগরের পার ঘেঁষে ভাঙনরোধে স্থাপন করা হয়েছে কংক্রিটের ব্লক। বাঁধের রিভার ও কান্ট্রি সাইটে বনায়ন করা হয়েছে। ঘাঁসের আবরণ তৈরি করা হয়েছে। অথচ সেই বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে ফের স্থাপনা তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ছোট-বড় অন্তত দুই শ’ স্থাপনা তোলা হয়েছে। এক কথায় এখানে চলছে অরাজক পরিস্থিতি।
এই পোল্ডারের ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রক্ষায় বাঁধের পৃনরাকৃতি ছাড়াও নয়টি স্লুইসগেট মেরামত ও নতুনভাবে করা হয়েছে। পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য রক্ষা ছাড়াও লতাচাপলী, কুয়াকাটা পৌরসভা ও ধুলাসার ইউনিয়নের একাংশের এসব বাঁধ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণে বাঁধের গাছ কেটে বর্তমানে আবার এসব স্থাপনা তোলা হয়েছে। এখনও স্থাপনা তোলার কাজ চলছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ক্ষতিপুরণ দিয়ে বাঁধ ঠিক করা হলেও আবার ওই বাঁধে স্থাপনা তোলা হলেও কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ নির্বিকার রয়েছেন। ফলে একেতো ফের বাঁধ দখল হয়ে যাচ্ছে। বাঁধের গাছপালা কাটা পড়ছে। বন্যার ঝুঁকিতে পড়ছে গোটা পর্যটন এলাকা। এক কথায় দখলের দৌরাত্ম চলছে ফ্রি-স্টাইলে। একটি মধ্যস্বত্বভোগীচক্র আবার এই দখলদারদের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছেন রাজনৈতিক দলের একটি চিহ্নিত চক্র। ফলে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটি দখলের পাশাপাশি নাজুক হয়ে যাচ্ছে। যাচ্ছে পর্যটকের কাছে আকর্ষণহীন হয়ে। এখনই এসব স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে জেল জরিমানা করলেই পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য রক্ষার বাঁধটি রক্ষা সম্ভব বলে মনে করছেন অধিকাংশ সচেতন মানুষ।
সরেজমিনে বুধবার গিয়ে দেখা গেছে, কুয়াকাটা সৈকতের মিরাবাড়ি থেকে ঝাউবাগান পর্যন্ত বেড়িবাঁধের রিভার সাইটে শত শত স্থাপনা তোলা হয়েছে। সেখান থেকে গঙ্গামতি সেতু এলাকার ধোলাইর মার্কেট পর্যন্ত এলাকায় কিছু কিছু স্থাপনা তোলা হয়েছে। ধোলাই মার্কেটের দুইদিকে এখনো স্থাপনা তোলার কাজ চলছে। সেখানে বনভিাগের সৃজিত বাঁধের স্লোপের গাছপালা কেটে সেখানেই তোলা হচ্ছে স্থাপনা। বনবিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড কারও এনিয়ে যেন কোন দায় নেই। বাধাহীন দখল চলছে বাঁধের স্লোপ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শাহআলম জানান, কুয়াকাটা সৈকতের পাশে যেসব স্থাপনা তোলা হয়েছে তা অপসারণে মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া ধোলাইর মার্কেটের তোলা স্থাপনা অপসারণেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাঁধের সৃজিত গাছপালা কেটে কীভাবে দোকানপাটসহ স্থাপনা তোলা হচ্ছে। বনবিভাগ গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা এনিয়ে সঠিক কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
কুয়াকাটা সী বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, এসব স্থাপনা অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:২৯
বৃহস্পতিবারের (০৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যাটা অন্যরকম ছিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ক্যাম্পাসজুড়ে তখন তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, বন্ধুদের আড্ডা আর অপেক্ষা, কখন মঞ্চে উঠবে প্রিয় ব্যান্ড সহজিয়া। গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল আয়োজিত ‘পলাশ কুঁড়ি অভিষেক ৩.০’ অনুষ্ঠানের সেই সন্ধ্যা শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় গান, নাচ, উচ্ছ্বাস আর মানবিকতার এক অনন্য মিলনমেলায়।
মঞ্চে সহজিয়া উঠতেই যেন বদলে যায় পুরো পরিবেশ। একে একে পরিবেশিত হতে থাকে তাদের জনপ্রিয় গান। আর প্রিয় গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতে মেলাতে শ্রোতারা কখন যে দর্শক থেকে অনুষ্ঠানেরই অংশ হয়ে উঠেছেন, তা বোঝার উপায় ছিল না।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় লোক-রক ব্যান্ডের মূল প্রতিষ্ঠাতা, গীতিকার ও ভোকালিস্ট রাজিব আহমেদ রাজুর গান শুরু হতেই উচ্ছ্বাস যেন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসে। রাজু ভাইয়ের কণ্ঠের সঙ্গে কণ্ঠ মেলায় শত শত শিক্ষার্থী। কেউ গাইছেন, কেউ নাচছেন, কেউবা মোবাইলের ক্যামেরায় ধরে রাখছেন স্মরণীয় মুহূর্তগুলো। মনে হচ্ছিল, গানটি শুধু মঞ্চে নয়, সেদিন গাওয়া হচ্ছিল পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদয় থেকে।
এরপর আসে ‘বোকা পাখি’, ‘ছোট্ট পাখি’ ও ‘অপেক্ষা’সহ আরও কয়েকটি জনপ্রিয় গান। প্রতিটি গানের সঙ্গে শ্রোতাদের উচ্ছ্বাস যেন আরও বাড়তে থাকে। পরিচিত সুর আর কথাগুলো ক্যাম্পাসের বাতাসে মিশে তৈরি করে এক আবেগঘন পরিবেশ।
তবে সন্ধ্যাটি শুধু আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সহজিয়ার পক্ষ থেকে একটি গান উৎসর্গ করা হয় ফিলিস্তিনের শিশুদের প্রতি। যুদ্ধের নির্মমতায় যেসব শিশু হারিয়েছে শৈশব, নিরাপত্তা আর স্বাভাবিক জীবনের অধিকার, তাদের স্মরণে গাওয়া সেই গান আনন্দের সন্ধ্যায় এনে দেয় এক গভীর মানবিক অনুভূতি।
একদিকে হাজারো তরুণের কণ্ঠে গান, অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের প্রতি সংহতির বার্তা, সন্ধ্যাটি তাই হয়ে ওঠে একই সঙ্গে আনন্দের এবং অনুভূতির।
সংগীতের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো এখানেই, এটি মানুষকে একত্র করে। ভাষা, মত কিংবা পরিচয়ের সীমারেখা পেরিয়ে কয়েকটি সুর মানুষকে একই অনুভূতিতে যুক্ত করতে পারে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সন্ধ্যায় সহজিয়া ঠিক সেটিই যেন করে দেখাল।
রাত বাড়ল। মঞ্চের আলো নিভল। ধীরে ধীরে অনুষ্ঠান শেষ হলো। কিন্তু সহজিয়ার সুর তখনও যেন ভেসে বেড়াচ্ছিল ক্যাম্পাসের পথে-প্রান্তরে। শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি, মনে গানের রেশ আর স্মৃতিতে জমে রইল একটি অসাধারণ সন্ধ্যা।
‘পলাশ কুঁড়ি অভিষেক ৩.০’, শুধু একটি আয়োজন নয়; বরং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তারুণ্য, সংগীত, বন্ধুত্ব, সংস্কৃতি ও মানবিকতার এক স্মরণীয় সন্ধ্যার নাম। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত নানা পরিবেশনা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক আবহে মুখর হয়ে ওঠে কীর্তনখোলা নদীর তীরের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
এর আগে বিকেল নাগাদ শুরু হয় গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘পলাশ কুঁড়ি অভিষেক ৩.০’। নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা ও উদ্বোধনী গণসংগীত ‘মুক্তিরও মন্দিরও সোপানতলে’র মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। এরপর হাসিবুর রহমানের কণ্ঠে বিদ্রোহী কবিতা এবং ফারিয়া রহমানের আবৃত্তিতে ‘সৃষ্টির মানুষ’ পরিবেশিত হয়।
পরে আনুষ্ঠানিকভাবে আয়োজনের উদ্বোধন করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক আহ্বায়ক সুজয় শুভ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখভাগে যখন বিকেলের আয়োজন জমে উঠেছে, তখনই হঠাৎ বৃষ্টি এসে ছন্দপতন ঘটায়। তবে বৃষ্টি দমাতে পারেনি তরুণদের। উপায়ান্ত না দেখে আয়োজক ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত মঞ্চ সরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারের মেঝেতে নতুন করে মঞ্চ তৈরির উদ্যোগ নেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বদলে যায় আয়োজনের স্থান।
মঞ্চ সরানোর সেই কাজে শুধু আয়োজক বা শিক্ষার্থীরাই নন, সাংবাদিক মানজুর আল মতিনকেও হাত লাগাতে দেখা যায়। তারুণ্যের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনকে ভিন্ন এক মাত্রা দেয়।
নতুন মঞ্চে আয়োজন শুরুর পর সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন লেখক ও গবেষক মাহাতাব উদ্দিন, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকার এবং আইনজীবী ও সাংবাদিক মানজুর আল মতিন। তাদের আলোচনায় উঠে আসে তরুণ প্রজন্ম, সমাজ, সংস্কৃতি ও সমকালীন নানা প্রসঙ্গ।
আলোচনা শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। কল্পনা চাকমার কণ্ঠে কোরাস গান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোরাস আবৃত্তি আসর দর্শকদের মধ্যে তৈরি করে অন্যরকম আবহ। শাকিরা বিনতে সাঈদের পরিবেশনা ‘ও যে মানে না মানা’ও ছিল প্রশংসনীয়।
তবে সন্ধ্যার অন্যতম প্রশান্তিময় মুহূর্ত হয়ে ওঠে হনুফা আহমেদের কণ্ঠে ‘জাত গেল বলে’ গানটি। তার পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় গভীর মনোযোগ ও মুগ্ধতা।
এরপর একে একে মঞ্চে আসেন অরূপ শিকদার, পূর্ণা বচনিকা, অর্জিত ও প্রিয়রত্না। তাদের গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। জারিনের কণ্ঠে ‘প্রিয় যাই যাই বলো না’ এবং শ্রেয়ার রবীন্দ্রসংগীতেও মুগ্ধ হন দর্শকরা।
গালিবের ‘হার কালা করলা রে...’ গানটিও ছিল বেশ উপভোগ্য। শাওনও নিজের পরিবেশনায় দর্শকদের জন্য উপহার দেন একটি চমৎকার গান।
আয়োজনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ ছিল আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নৃত্য পরিবেশনা। তাদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের ছন্দে কীর্তনখোলা নদীতীরের বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন আরও বর্ণিল হয়ে ওঠে। বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির এই উপস্থাপন পুরো আয়োজনের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দেয়।
সবশেষে মঞ্চ মাতাতে আসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড ‘রিটেক’। তাদের পরিবেশনার পর অপেক্ষা ছিল ‘সহজিয়া’র জন্য। জনপ্রিয় এই ব্যান্ড মঞ্চে আসার আগেই রিটেকের পরিবেশনায় উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। পরে সহজিয়ার সুরে রাত আরও গভীর হয়, আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে পুরো প্রাঙ্গণে।
পুরো আয়োজনের সঞ্চালনায় ছিলেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের উদীয়মান নেতৃত্ব ভূমিকা সরকার। তার সাবলীল উপস্থাপনায় বিকেল থেকে রাতের পুরো অনুষ্ঠান এগিয়ে যায় প্রাণবন্ত গতিতে।
বৃষ্টির বাধা, মঞ্চ বদলের তাড়াহুড়ো, স্বেচ্ছাশ্রম, আলোচনা, আবৃত্তি, গান, নৃত্য আর ব্যান্ডের সুর, সবকিছু মিলিয়ে ‘পলাশ কুঁড়ি অভিষেক ৩.০’ শেষ পর্যন্ত কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকেনি। এটি হয়ে উঠেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের নিজেদের মতো করে সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও সৃজনশীলতাকে উদ্যাপনের এক অনন্য আয়োজন।
কীর্তনখোলার বাতাসে যখন শেষ রাতের সুর মিলিয়ে যাচ্ছিল, তখনও যেন থেকে যাচ্ছিল একটি বার্তা—তারুণ্য শুধু উচ্ছ্বাসের নাম নয়; প্রয়োজনের মুহূর্তে একসঙ্গে দাঁড়ানোর, সংস্কৃতিকে ধারণ করার এবং মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখারও নাম তারুণ্য।
হাসিবুল ইসলাম, সংবাদকর্মী ও কলাম লেখক।
বৃহস্পতিবারের (০৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যাটা অন্যরকম ছিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ক্যাম্পাসজুড়ে তখন তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, বন্ধুদের আড্ডা আর অপেক্ষা, কখন মঞ্চে উঠবে প্রিয় ব্যান্ড সহজিয়া। গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল আয়োজিত ‘পলাশ কুঁড়ি অভিষেক ৩.০’ অনুষ্ঠানের সেই সন্ধ্যা শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় গান, নাচ, উচ্ছ্বাস আর মানবিকতার এক অনন্য মিলনমেলায়।
মঞ্চে সহজিয়া উঠতেই যেন বদলে যায় পুরো পরিবেশ। একে একে পরিবেশিত হতে থাকে তাদের জনপ্রিয় গান। আর প্রিয় গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতে মেলাতে শ্রোতারা কখন যে দর্শক থেকে অনুষ্ঠানেরই অংশ হয়ে উঠেছেন, তা বোঝার উপায় ছিল না।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় লোক-রক ব্যান্ডের মূল প্রতিষ্ঠাতা, গীতিকার ও ভোকালিস্ট রাজিব আহমেদ রাজুর গান শুরু হতেই উচ্ছ্বাস যেন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসে। রাজু ভাইয়ের কণ্ঠের সঙ্গে কণ্ঠ মেলায় শত শত শিক্ষার্থী। কেউ গাইছেন, কেউ নাচছেন, কেউবা মোবাইলের ক্যামেরায় ধরে রাখছেন স্মরণীয় মুহূর্তগুলো। মনে হচ্ছিল, গানটি শুধু মঞ্চে নয়, সেদিন গাওয়া হচ্ছিল পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদয় থেকে।
এরপর আসে ‘বোকা পাখি’, ‘ছোট্ট পাখি’ ও ‘অপেক্ষা’সহ আরও কয়েকটি জনপ্রিয় গান। প্রতিটি গানের সঙ্গে শ্রোতাদের উচ্ছ্বাস যেন আরও বাড়তে থাকে। পরিচিত সুর আর কথাগুলো ক্যাম্পাসের বাতাসে মিশে তৈরি করে এক আবেগঘন পরিবেশ।
তবে সন্ধ্যাটি শুধু আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সহজিয়ার পক্ষ থেকে একটি গান উৎসর্গ করা হয় ফিলিস্তিনের শিশুদের প্রতি। যুদ্ধের নির্মমতায় যেসব শিশু হারিয়েছে শৈশব, নিরাপত্তা আর স্বাভাবিক জীবনের অধিকার, তাদের স্মরণে গাওয়া সেই গান আনন্দের সন্ধ্যায় এনে দেয় এক গভীর মানবিক অনুভূতি।
একদিকে হাজারো তরুণের কণ্ঠে গান, অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের প্রতি সংহতির বার্তা, সন্ধ্যাটি তাই হয়ে ওঠে একই সঙ্গে আনন্দের এবং অনুভূতির।
সংগীতের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো এখানেই, এটি মানুষকে একত্র করে। ভাষা, মত কিংবা পরিচয়ের সীমারেখা পেরিয়ে কয়েকটি সুর মানুষকে একই অনুভূতিতে যুক্ত করতে পারে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সন্ধ্যায় সহজিয়া ঠিক সেটিই যেন করে দেখাল।
রাত বাড়ল। মঞ্চের আলো নিভল। ধীরে ধীরে অনুষ্ঠান শেষ হলো। কিন্তু সহজিয়ার সুর তখনও যেন ভেসে বেড়াচ্ছিল ক্যাম্পাসের পথে-প্রান্তরে। শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি, মনে গানের রেশ আর স্মৃতিতে জমে রইল একটি অসাধারণ সন্ধ্যা।
‘পলাশ কুঁড়ি অভিষেক ৩.০’, শুধু একটি আয়োজন নয়; বরং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তারুণ্য, সংগীত, বন্ধুত্ব, সংস্কৃতি ও মানবিকতার এক স্মরণীয় সন্ধ্যার নাম। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত নানা পরিবেশনা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক আবহে মুখর হয়ে ওঠে কীর্তনখোলা নদীর তীরের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
এর আগে বিকেল নাগাদ শুরু হয় গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘পলাশ কুঁড়ি অভিষেক ৩.০’। নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা ও উদ্বোধনী গণসংগীত ‘মুক্তিরও মন্দিরও সোপানতলে’র মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। এরপর হাসিবুর রহমানের কণ্ঠে বিদ্রোহী কবিতা এবং ফারিয়া রহমানের আবৃত্তিতে ‘সৃষ্টির মানুষ’ পরিবেশিত হয়।
পরে আনুষ্ঠানিকভাবে আয়োজনের উদ্বোধন করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক আহ্বায়ক সুজয় শুভ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখভাগে যখন বিকেলের আয়োজন জমে উঠেছে, তখনই হঠাৎ বৃষ্টি এসে ছন্দপতন ঘটায়। তবে বৃষ্টি দমাতে পারেনি তরুণদের। উপায়ান্ত না দেখে আয়োজক ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত মঞ্চ সরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারের মেঝেতে নতুন করে মঞ্চ তৈরির উদ্যোগ নেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বদলে যায় আয়োজনের স্থান।
মঞ্চ সরানোর সেই কাজে শুধু আয়োজক বা শিক্ষার্থীরাই নন, সাংবাদিক মানজুর আল মতিনকেও হাত লাগাতে দেখা যায়। তারুণ্যের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনকে ভিন্ন এক মাত্রা দেয়।
নতুন মঞ্চে আয়োজন শুরুর পর সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন লেখক ও গবেষক মাহাতাব উদ্দিন, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকার এবং আইনজীবী ও সাংবাদিক মানজুর আল মতিন। তাদের আলোচনায় উঠে আসে তরুণ প্রজন্ম, সমাজ, সংস্কৃতি ও সমকালীন নানা প্রসঙ্গ।
আলোচনা শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। কল্পনা চাকমার কণ্ঠে কোরাস গান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোরাস আবৃত্তি আসর দর্শকদের মধ্যে তৈরি করে অন্যরকম আবহ। শাকিরা বিনতে সাঈদের পরিবেশনা ‘ও যে মানে না মানা’ও ছিল প্রশংসনীয়।
তবে সন্ধ্যার অন্যতম প্রশান্তিময় মুহূর্ত হয়ে ওঠে হনুফা আহমেদের কণ্ঠে ‘জাত গেল বলে’ গানটি। তার পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় গভীর মনোযোগ ও মুগ্ধতা।
এরপর একে একে মঞ্চে আসেন অরূপ শিকদার, পূর্ণা বচনিকা, অর্জিত ও প্রিয়রত্না। তাদের গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। জারিনের কণ্ঠে ‘প্রিয় যাই যাই বলো না’ এবং শ্রেয়ার রবীন্দ্রসংগীতেও মুগ্ধ হন দর্শকরা।
গালিবের ‘হার কালা করলা রে...’ গানটিও ছিল বেশ উপভোগ্য। শাওনও নিজের পরিবেশনায় দর্শকদের জন্য উপহার দেন একটি চমৎকার গান।
আয়োজনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ ছিল আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নৃত্য পরিবেশনা। তাদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের ছন্দে কীর্তনখোলা নদীতীরের বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন আরও বর্ণিল হয়ে ওঠে। বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির এই উপস্থাপন পুরো আয়োজনের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দেয়।
সবশেষে মঞ্চ মাতাতে আসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড ‘রিটেক’। তাদের পরিবেশনার পর অপেক্ষা ছিল ‘সহজিয়া’র জন্য। জনপ্রিয় এই ব্যান্ড মঞ্চে আসার আগেই রিটেকের পরিবেশনায় উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। পরে সহজিয়ার সুরে রাত আরও গভীর হয়, আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে পুরো প্রাঙ্গণে।
পুরো আয়োজনের সঞ্চালনায় ছিলেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের উদীয়মান নেতৃত্ব ভূমিকা সরকার। তার সাবলীল উপস্থাপনায় বিকেল থেকে রাতের পুরো অনুষ্ঠান এগিয়ে যায় প্রাণবন্ত গতিতে।
বৃষ্টির বাধা, মঞ্চ বদলের তাড়াহুড়ো, স্বেচ্ছাশ্রম, আলোচনা, আবৃত্তি, গান, নৃত্য আর ব্যান্ডের সুর, সবকিছু মিলিয়ে ‘পলাশ কুঁড়ি অভিষেক ৩.০’ শেষ পর্যন্ত কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকেনি। এটি হয়ে উঠেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের নিজেদের মতো করে সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও সৃজনশীলতাকে উদ্যাপনের এক অনন্য আয়োজন।
কীর্তনখোলার বাতাসে যখন শেষ রাতের সুর মিলিয়ে যাচ্ছিল, তখনও যেন থেকে যাচ্ছিল একটি বার্তা—তারুণ্য শুধু উচ্ছ্বাসের নাম নয়; প্রয়োজনের মুহূর্তে একসঙ্গে দাঁড়ানোর, সংস্কৃতিকে ধারণ করার এবং মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখারও নাম তারুণ্য।
হাসিবুল ইসলাম, সংবাদকর্মী ও কলাম লেখক।

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০০
প্রকৃতি যখন নিজের হাতে কোনো ক্যানভাস সাজায়, তখন তার রূপ কেমন হতে পারে, তা বরিশালের সাতলা বিলে না গেলে অনুধাবন করা অসম্ভব। শরতের ভোরের আলো ফুটতেই এখানে চোখ জুড়িয়ে যায় এক অলৌকিক দৃশ্যে। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত এক জলাশয়, আর তার বুক চিরে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছে কোটি কোটি লাল শাপলা। দূর থেকে মনে হবে যেন সবুজ পাতার বিছানায় কেউ লাল গালিচা পেতে রেখেছে, কিংবা ভোরের উদীয়মান সূর্যটাই টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে পানির বুকে।বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা হলেও, একসঙ্গে এত শাপলার মেলা দেশের আর কোথাও দেখা যায় না। তাই বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার এই সাতলা গ্রামটি এখন সারা দেশে পরিচিত 'শাপলার রাজধানী' বা 'লাল শাপলার স্বর্গরাজ্য' হিসেবে।
বছরের অন্য সময়ে সাতলা বিল দেখতে আর দশটা সাধারণ জলাভূমির মতোই মনে হয়। শুষ্ক মৌসুমে এখানে চাষ হয় ইরি ধান। কিন্তু বর্ষার পানি আসতেই বিলটি তার রূপ বদলাতে শুরু করে। মে-জুন মাস থেকে বিলে পানি জমতে শুরু করলে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় লাল শাপলা। আগস্ট থেকে শুরু করে নভেম্বর পর্যন্ত চলে শাপলার এই রাজত্ব। তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে বিলের সৌন্দর্য পৌঁছায় তার চূড়ায়। ভোরের আলোয় লাল শাপলার মেলাসাতলা বিলের আসল রূপ দেখতে হলে আপনাকে ঘুমকে ছুটি দিতে হবে। সূর্য ওঠার ঠিক আগে, যখন চারপাশ হালকা কুয়াশায় ঢাকা থাকে, তখন বিলের রূপ সবচেয়ে মোহনীয় দেখায়। ভোরের নরম আলোয় পাপড়ি মেলে ধরা শাপলাগুলোর ওপর যখন ভোরের শিশিরবিন্দু জমে থাকে, তখন মনে হয় যেন মুক্তো ছড়ানো রয়েছে। সকাল ৮টা বা ৯টা বেজে যাওয়ার পর যখন রোদের তীব্রতা বাড়ে, তখন ফুলগুলো ধীরে ধীরে বুজে যায়। তাই সাতলার সৌন্দর্য উপভোগ করার মোক্ষম সময় হলো ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা।বিলের জীবন ও জীবিকাসাতলা বিল শুধু পর্যটকদের জন্যই আনন্দের খোরাক নয়, এটি স্থানীয় শত শত পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস। বিলের বুকজুড়ে যখন নৌকায় করে পর্যটকেরা ঘুরে বেড়ায়, স্থানীয় মাঝিরা গল্প শোনায় এই বিলের। অনেকে আবার বিল থেকে শাপলা তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। এই শাপলা দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু তরকারি। শুধু তাই নয়, বিলের মিষ্টি শালুকও স্থানীয়দের অন্যতম প্রিয় খাবার।
বরিশাল সদর কিংবা উজিরপুর উপজেলা থেকে খুব সহজেই সাতলা বিলে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে লঞ্চ বা বাসে বরিশাল এসে, সেখান থেকে মাহিন্দ্র (থ্রি-হুইলার) বা বাস যোগে শিকারপুর হয়ে শাতলা যাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে করেও উজিরপুর বা সাতলা যাওয়া সম্ভব। বিলে ঘোরার জন্য স্থানীয় ঘাটে ছোট ছোট ডিঙি নৌকা পাওয়া যায়, যা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ভাড়া নেওয়া যায়।
প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টিকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। ভ্রমণের সময় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট বা কোনো বর্জ্য বিলে ফেলে পানি দূষিত করবেন না। মনে রাখবেন, ফুল গাছের চেয়ে পানির বুকেই সবচেয়ে বেশি সুন্দর। তাই অকারণে ফুল ছিঁড়ে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য নষ্ট করা থেকে বিরত থাকাই একজন সচেতন ভ্রমণকারীর পরিচয়। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি মুছে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক চিলতে শান্তি পেতে চাইলে, শরতের কোনো এক ভোরে ঘুরে আসতেই পারেন লাল শাপলার এই স্বর্গরাজ্য থেকে।’
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০০
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৫
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২৪
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৮