বরিশাল সদরে জামায়াতের প্রার্থী না থাকায় ফুরফুরে মেজাজে ধানের শীষের সরওয়ার। গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় দলীয় বিদ্রোহী নিয়ে টেনশনে ধানের শীষের প্রার্থী।
আর মাত্র একদিন বাদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে বরিশালের ৬ টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩৬ প্রার্থী অংশগ্রহণের কথা থাকলেও রোববার একজন সরে দাঁড়িয়েছেন। বরিশাল ২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে জাসদ মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত ‘মোটরগাড়ি’ প্রতীকের আবুল কালাম আজাদ শারীরিক অসুস্থার অজুহাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় এখন ৬টি আসনে ৩৫ প্রার্থী ভোটযুদ্ধে থাকছেন। এই ভোট আয়োজনকে ঘিরে প্রতিটি আসনে বিএনপি-জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা আলোচনার অগ্রভাগে আছেন। বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী আলোচনায় এই তিনটির দলের প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন এবং ভোটারদের মধ্যেও তাদের নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তবে নিজ দলের বিদ্রোহী নিয়ে বরিশাল ১ আসনে বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন আছেন বিপদে।
৩ লাখ ২৮ হাজার ১৯৮ ভোটারের বরিশাল ১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের সাথে জামায়াত ইসলামীর মো. কামরুল ইসলাম খানের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নিজ দলীয় নেতা আব্দুস সোবাহান বিদ্রোহ করে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনঢ় থাকায় ধানের শীষের প্রার্থীর স্নায়ুচাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এই আসনে বিএনপির ভাগ্যে কি আছে তা নিয়ে দলীয় কর্ম-সমর্থকেরাও চিন্তায় আছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলের ১৫ বছরে এ আসনটিতে একবার তালুকদার মো. ইউনুস এবং দুইবার শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি ছিলেন।
এর আগে ২০০১ সালে ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি থাকাকালে সংখ্যালঘু নির্যাতনের উদাহরণ আছে। এবং ১/১১-তে স্বপনকে সংস্কারপন্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুস সোবাহান। তিনি বলেন, ‘হিন্দুদের রক্ষার জন্য প্রার্থী হয়েছি। ফলে কিছুটা হলেও অনুমান করা যায়, ধানের শীষের প্রার্থীকে কতটা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে হচ্ছে।
বরিশাল ২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে ৮ প্রার্থী থাকলেও রোববার ঘোষণা দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন জাসদের আবুল কালাম আজাদ। ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৭ ভোটারের এই আসনে এখন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী সরদার শরফুদ্দিন সান্টুর মূল জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নান। বানারীপাড়া উপজেলার সহ-সভাপতি গোলাম মাহবুব এবং পৌর কৃষক দলের আব্দুল গাফফার হোসেনসহ কয়েক শ নেতাকর্মী গত ৩০ জানুয়ারি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। যোগদানের পরপরই তারা জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নানের জন্য ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন। এতে ধানের শীষের প্রার্থীকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে জানিয়েছে ভোটাররা।
আড়িয়াল খাঁ নদীতীরবাতী বরিশাল ৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে মোট ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও আলোচনার কেন্দ্রে আছেন ধানের শীষের জয়নুল আবেদীন, লাঙ্গল প্রতীকের গোলাম কিবরিয়া টিপু এবং ঈগল প্রতীকের ব্যারিস্টার মো. আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তবে এখানে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিনের সাথে জাতীয় পার্টির প্রার্থী টিপুর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তিনবারের সাবেক এমপি টিপু জুলাই আন্দোলনসহ একাধিক মামলায় কারান্তরীণ থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছেন মেয়ে। এই আসনে মোট ৩ লাখ ৩২ হাজার ০৯৭ জন ভোটাধিকার পেয়েছেন।
জাপার কেন্দ্রীয় অতিরিক্ত যুগ্ম মহাসচিব ইকবাল হোসেন তাপস সাংবাদিকদের বলেন, মুক্ত টিপুর চেয়ে কারাবন্দী টিপু বেশি শক্তিশালী, তিনি বারবার এই আসনের এমপি হয়েছেন, এবারও হবেন।
বরিশাল ৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রাজিব আহসান এবার ধানের শীষের প্রার্থী। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল জব্বার। বরিশালের ৬ টি আসনের মধ্যে এখানে জয়ের সম্ভাবনা দেখছে জামায়াত। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের ৬ ফেব্রুয়ারি মেহেন্দিগঞ্জে সমাবেশও করেছেন। ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৭৫ ভোটারের এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীসহ মোট ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
আওয়ামী লীগ শাসানামলে বরিশাল ৪ আসনে টানা তিনবারের এমপি ছিলেন বিতর্কিত রাজনৈতিক পঙ্কজ দেবনাথ। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে তিনি পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এরপরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী চরের জমি দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। ফলে এখানে ধানের শীষের প্রার্থী রাজিব আহসানের জয়লাভ করাটা অনেকটা চ্যালেঞ্জের বলে মন্তব্য পাওয়া গেছে।
সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল ৫ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলাল প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই ফুরফুরে মেজাজে আছেন ধানের শীষের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার। এই আসনে ধানের শীষের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখার প্রার্থী মুফতি মুহাম্মাদ ফয়জুল করিমকে ভাবা হলেও তিনি অতটা শক্তপোক্ত জনসমর্থনে নেই। ৫ লাখ ১৩ হাজার ৪ জন ভোটারের এ আসনে আলোচিত বাসদ নেত্রী মনীষা চক্রবর্তীও আলোচনায় আছেন।
কীর্তনখোলা তীর জনপদের সবচে মর্যাদাসম্পন্ন এই আসনে আওয়ামী লীগের শাসানামলে একবার জেবুন্নেছা আফরোজ এবং দুবার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাহিদ ফারুক শামীম এমপি ছিলেন। তার আগে পাঁচবার এমপি ছিলেন ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার এবং তিনি জনপ্রিয় রাজনৈতিকও বটে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বরিশাল ৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ৬ প্রার্থী। তবে সবচে আলোচনার বিষয় হচ্ছে বরিশাল সদর আসনের পাশাপাশি বাকেরগঞ্জেও প্রার্থিতা করছেন হাতপাখার প্রার্থী ফয়জুল করিম। এখানে ধানের শীষের শক্তিশালি প্রার্থী আবুল হাসেন খান। আছে জামায়াতের প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবীও।
তবে এই আসনে বেশিমাত্রায় আলোচনায় আছেন ধানের শীষ এবং হাতপাখার প্রার্থী। ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ ভোটার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আবুল এবং ফয়জুলের মধ্যেকার একজনকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে চূড়ান্ত করবেন।
ভোট পেতে দুই প্রার্থী বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। তবে চরমোনাই প্রার্থী ফয়জুল আওয়ামী লীগের ভোটারদের টানতে বেশ কৌশলী পদক্ষেপ রাখছেন। তিনি পদধারী আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এমনকি আ’লীগের নিরিহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতেও পুলিশের কাছে সুপারিশ রাখেন।
এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আবুল হোসেন একবার এমপি ছিলেন। কর্মীসমর্থকেরা বলছেন, আবুল হোসেনের জনপ্রিয়তা আছে, তিনি এবারও এমপি হবেন।
অবশ্য হাতপাখার প্রার্থীর অনুসারীদের দাবি হচ্ছে, বরিশাল সদর এবং বাকেরগঞ্জে তাদের ভোট বেড়েছে। এছাড়া মানুষের মধ্যে চরমোনাই নায়েবে আমির ফয়জুল করিমকে নিয়ে আগ্রহ আছে, এই কারণে তিনি দুটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে বরিশালের ৬টি আসনের ৫টিতে ধানের শীষ-জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের মধ্যেকার তুমুল ভোটযুদ্ধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রভাব দেখা যেতে পারে বরিশাল ১, ২, ৩, ৪ এবং ৬ আসনে। তবে মর্যাদার বরিশাল ৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ারের তেমন একটা বেগ না পাওয়ার সম্ভবনা বেশি।
চির প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের অনপুস্থিতিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ নির্বাচনে বরিশালের মানুষ এখন কোন আসনে কার পক্ষে রায় দেবেন সেটাই দেখার অপেক্ষা।’

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৪
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার)। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মসূচির সূচনা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বরিশাল আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে। এরপর বেলা ১১টায় সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে বৃক্ষরোপণ, বাদ যোহর মরহুমের নিজ এলাকা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা মিয়ার পুল এবং পার্শ্ববর্তী মসজিদ ও স্থানীয় এতিমখানাসমূহে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টায় কাউনিয়া হাউজিংয়ে অবস্থিত বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ এবং বিকেল ৩টা থেকে সেখানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হবে।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৫টায় বরিশাল রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রদর্শিত হবে অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের বর্নাঢ্য জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র, যে জীবন মানুষের।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, তিনি বরিশালের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাহাউদ্দিন গোলাপের পিতা।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার)। এ উপলক্ষে ‘বেলায়েত হোসেন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মসূচির সূচনা হবে ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বরিশাল আঞ্জুমানের মুসলিম গোরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে। এরপর বেলা ১১টায় সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে বৃক্ষরোপণ, বাদ যোহর মরহুমের নিজ এলাকা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা মিয়ার পুল এবং পার্শ্ববর্তী মসজিদ ও স্থানীয় এতিমখানাসমূহে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টায় কাউনিয়া হাউজিংয়ে অবস্থিত বৃদ্ধাশ্রমে প্রবীণদের সাথে সহমর্মিতার মধ্যাহ্নভোজ এবং বিকেল ৩টা থেকে সেখানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হবে।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৫টায় বরিশাল রায় রোডস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মিন্টু বসু সড়কের ‘খেয়ালী গ্রুপ থিয়েটার’ মিলনায়তনে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রদর্শিত হবে অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের বর্নাঢ্য জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র, যে জীবন মানুষের।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, তিনি বরিশালের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাহাউদ্দিন গোলাপের পিতা।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৩৫
বরিশালের বাবুগঞ্জে দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় এক সহকারী শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দ্বারিকা-শিকারপুর ব্রিজের ঢালের পশ্চিম পাশে রাকুদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রেহানা বেগম (৪৫) রাকুদিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা নাসিরউদ্দিনের স্ত্রী।
স্থানীয় ও মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে শিকারপুর ব্রিজের ঢাল এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন রেহানা বেগম। এ সময় ঢাকা থেকে বরিশালগামী লাবিবা কোম্পানির ‘আহনাফ পরিবহন’ নামের একটি বেপরোয়া গতির বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে সড়কের পাশে পড়ে গিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাদরাসার শিক্ষকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে রেহানা বেগমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর খবর মাদরাসায় পৌঁছালে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের বিচার ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করে রাখার কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
সংবাদ পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও বাবুগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে চালক ও বাস আটকের আশ্বাসসহ লাবিবা কোম্পানির কয়েকটি বাস আটক করা হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ব্রেকিংনিউজ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বরিশালটাইমসকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।’
বরিশালের বাবুগঞ্জে দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় এক সহকারী শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দ্বারিকা-শিকারপুর ব্রিজের ঢালের পশ্চিম পাশে রাকুদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রেহানা বেগম (৪৫) রাকুদিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা নাসিরউদ্দিনের স্ত্রী।
স্থানীয় ও মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে শিকারপুর ব্রিজের ঢাল এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন রেহানা বেগম। এ সময় ঢাকা থেকে বরিশালগামী লাবিবা কোম্পানির ‘আহনাফ পরিবহন’ নামের একটি বেপরোয়া গতির বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে সড়কের পাশে পড়ে গিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাদরাসার শিক্ষকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে রেহানা বেগমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর খবর মাদরাসায় পৌঁছালে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের বিচার ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করে রাখার কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
সংবাদ পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও বাবুগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে চালক ও বাস আটকের আশ্বাসসহ লাবিবা কোম্পানির কয়েকটি বাস আটক করা হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ব্রেকিংনিউজ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বরিশালটাইমসকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।’

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২০
একসময় ‘বাংলার শস্যভাণ্ডার’ আর নদী-খালের সৌন্দর্যে ‘বাংলার ভেনিস’ নামে পরিচিত ছিল বরিশাল। বন্দরে দূর-দূরান্তের বণিকদের আনাগোনা ছিল। সেই বরিশাল এখন দেশের সবচেয়ে দরিদ্র বিভাগ। কৃষি উৎপাদন কমেছে, গড়ে ওঠেনি শিল্প-কারখানা, তৈরি হয়নি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান। গ্যাসের বড় মজুদ থাকার পরও কাজে লাগানো যায়নি সেই সম্পদ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২ অনুযায়ী, দেশে দারিদ্র্যের হার ১৯ দশমিক ২ শতাংশ।
বরিশাল বিভাগে এ হার ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশের আট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। একসময় দেশের দরিদ্রতম বিভাগ রংপুর হলেও এখন সেই অবস্থানে বরিশাল। কর্মসংস্থানের অভাবে এ অঞ্চলের মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বরিশালের স্থানীয় বাসিন্দাদের ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এখন ঢাকায় বসবাস করছে। স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বস্তিবাসীর প্রায় ১৩ শতাংশ বরিশালের।
বরিশালকে একসময় শস্যভাণ্ডার বলা হলেও ধান উৎপাদনে এখন পিছিয়ে পড়ছে বিভাগটি। বিবিএসের ইয়ারবুক অব অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৫ অনুযায়ী, আউশ উৎপাদনে বরিশাল চতুর্থ, আমনে পঞ্চম এবং বোরো উৎপাদনে অষ্টম।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভাগটিতে আউশ উৎপাদন হয়েছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার ২০ টন।
পরের অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯৯ টনে। আমন উৎপাদনও ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৯ টন থেকে কমে ১৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ টনে নেমেছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির অধ্যাপক এ এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরিশাল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা বাড়ায় অনেক জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কৃষক বিকল্প হিসেবে চিংড়ি চাষসহ অন্য কাজে যাচ্ছেন।
আরো পড়ুন
মৎস্যসম্পদেও একই চিত্র। বিভাগীয় মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বরিশালে ৩ লাখ ৭২ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার টন। তিন বছরে উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিবিএসের ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা যায়, ধান, গম ও শস্য উৎপাদনে বরিশালের কৃষকদের বার্ষিক নিট আয় মাত্র ৬ হাজার ৮১ টাকা আট বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ভোলায় রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বর্তমানে ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। ১৯৯৫ সালে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ সম্পদকে ঘিরে বড় শিল্পায়ন হয়নি।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে শিল্প-কারখানা কার্যত সীমিত। বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বরিশাল ছাড়া বাকি পাঁচ জেলায় উল্লেখযোগ্য কলকারখানা নেই। বরিশাল জেলায় কারখানা রয়েছে ৪০৯টি, যেখানে কাজ করেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, যে ধরনের শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। কৃষি ও মৎস্যকে ঘিরে আগের অর্থনৈতিক তৎপরতাও কমেছে। ফলে কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে।
স্থানীয় রাজনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নদীনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা এবং শিল্পায়নের অভাব বরিশালের অর্থনৈতিক বিকাশে বড় বাধা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবও সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারেনি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের বড় রাজনৈতিক নেতারা জাতীয় রাজনীতিতে বেশি মনোযোগী ছিলেন। পুরো অঞ্চলের জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।
তবে পরিস্থিতি বদলাতে বর্তমান সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও ৫০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমকে বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপ্রতুলতা এবং দুর্গম যোগাযোগের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্প গড়ে ওঠেনি। ভোলার গ্যাসের সঠিক ব্যবহার, পায়রা বন্দর সচল, কুয়াকাটায় পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক যোগাযোগ বাড়ানো গেলে দক্ষিণাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক কাঠামো দ্রুত বদলে যেতে পারে।
একসময় ‘বাংলার শস্যভাণ্ডার’ আর নদী-খালের সৌন্দর্যে ‘বাংলার ভেনিস’ নামে পরিচিত ছিল বরিশাল। বন্দরে দূর-দূরান্তের বণিকদের আনাগোনা ছিল। সেই বরিশাল এখন দেশের সবচেয়ে দরিদ্র বিভাগ। কৃষি উৎপাদন কমেছে, গড়ে ওঠেনি শিল্প-কারখানা, তৈরি হয়নি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান। গ্যাসের বড় মজুদ থাকার পরও কাজে লাগানো যায়নি সেই সম্পদ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২ অনুযায়ী, দেশে দারিদ্র্যের হার ১৯ দশমিক ২ শতাংশ।
বরিশাল বিভাগে এ হার ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশের আট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। একসময় দেশের দরিদ্রতম বিভাগ রংপুর হলেও এখন সেই অবস্থানে বরিশাল। কর্মসংস্থানের অভাবে এ অঞ্চলের মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বরিশালের স্থানীয় বাসিন্দাদের ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এখন ঢাকায় বসবাস করছে। স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বস্তিবাসীর প্রায় ১৩ শতাংশ বরিশালের।
বরিশালকে একসময় শস্যভাণ্ডার বলা হলেও ধান উৎপাদনে এখন পিছিয়ে পড়ছে বিভাগটি। বিবিএসের ইয়ারবুক অব অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৫ অনুযায়ী, আউশ উৎপাদনে বরিশাল চতুর্থ, আমনে পঞ্চম এবং বোরো উৎপাদনে অষ্টম।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভাগটিতে আউশ উৎপাদন হয়েছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার ২০ টন।
পরের অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯৯ টনে। আমন উৎপাদনও ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৯ টন থেকে কমে ১৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ টনে নেমেছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির অধ্যাপক এ এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরিশাল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা বাড়ায় অনেক জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কৃষক বিকল্প হিসেবে চিংড়ি চাষসহ অন্য কাজে যাচ্ছেন।
আরো পড়ুন
মৎস্যসম্পদেও একই চিত্র। বিভাগীয় মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বরিশালে ৩ লাখ ৭২ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার টন। তিন বছরে উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিবিএসের ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা যায়, ধান, গম ও শস্য উৎপাদনে বরিশালের কৃষকদের বার্ষিক নিট আয় মাত্র ৬ হাজার ৮১ টাকা আট বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ভোলায় রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বর্তমানে ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। ১৯৯৫ সালে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ সম্পদকে ঘিরে বড় শিল্পায়ন হয়নি।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে শিল্প-কারখানা কার্যত সীমিত। বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বরিশাল ছাড়া বাকি পাঁচ জেলায় উল্লেখযোগ্য কলকারখানা নেই। বরিশাল জেলায় কারখানা রয়েছে ৪০৯টি, যেখানে কাজ করেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, যে ধরনের শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। কৃষি ও মৎস্যকে ঘিরে আগের অর্থনৈতিক তৎপরতাও কমেছে। ফলে কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে।
স্থানীয় রাজনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নদীনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা এবং শিল্পায়নের অভাব বরিশালের অর্থনৈতিক বিকাশে বড় বাধা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবও সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারেনি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের বড় রাজনৈতিক নেতারা জাতীয় রাজনীতিতে বেশি মনোযোগী ছিলেন। পুরো অঞ্চলের জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।
তবে পরিস্থিতি বদলাতে বর্তমান সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও ৫০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমকে বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপ্রতুলতা এবং দুর্গম যোগাযোগের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্প গড়ে ওঠেনি। ভোলার গ্যাসের সঠিক ব্যবহার, পায়রা বন্দর সচল, কুয়াকাটায় পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক যোগাযোগ বাড়ানো গেলে দক্ষিণাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক কাঠামো দ্রুত বদলে যেতে পারে।

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৫৮
বরিশাল সদরে জামায়াতের প্রার্থী না থাকায় ফুরফুরে মেজাজে ধানের শীষের সরওয়ার। গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় দলীয় বিদ্রোহী নিয়ে টেনশনে ধানের শীষের প্রার্থী।
আর মাত্র একদিন বাদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে বরিশালের ৬ টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩৬ প্রার্থী অংশগ্রহণের কথা থাকলেও রোববার একজন সরে দাঁড়িয়েছেন। বরিশাল ২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে জাসদ মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত ‘মোটরগাড়ি’ প্রতীকের আবুল কালাম আজাদ শারীরিক অসুস্থার অজুহাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় এখন ৬টি আসনে ৩৫ প্রার্থী ভোটযুদ্ধে থাকছেন। এই ভোট আয়োজনকে ঘিরে প্রতিটি আসনে বিএনপি-জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা আলোচনার অগ্রভাগে আছেন। বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী আলোচনায় এই তিনটির দলের প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন এবং ভোটারদের মধ্যেও তাদের নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তবে নিজ দলের বিদ্রোহী নিয়ে বরিশাল ১ আসনে বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন আছেন বিপদে।
৩ লাখ ২৮ হাজার ১৯৮ ভোটারের বরিশাল ১ (আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের সাথে জামায়াত ইসলামীর মো. কামরুল ইসলাম খানের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নিজ দলীয় নেতা আব্দুস সোবাহান বিদ্রোহ করে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনঢ় থাকায় ধানের শীষের প্রার্থীর স্নায়ুচাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এই আসনে বিএনপির ভাগ্যে কি আছে তা নিয়ে দলীয় কর্ম-সমর্থকেরাও চিন্তায় আছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলের ১৫ বছরে এ আসনটিতে একবার তালুকদার মো. ইউনুস এবং দুইবার শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি ছিলেন।
এর আগে ২০০১ সালে ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি থাকাকালে সংখ্যালঘু নির্যাতনের উদাহরণ আছে। এবং ১/১১-তে স্বপনকে সংস্কারপন্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুস সোবাহান। তিনি বলেন, ‘হিন্দুদের রক্ষার জন্য প্রার্থী হয়েছি। ফলে কিছুটা হলেও অনুমান করা যায়, ধানের শীষের প্রার্থীকে কতটা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে হচ্ছে।
বরিশাল ২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে ৮ প্রার্থী থাকলেও রোববার ঘোষণা দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন জাসদের আবুল কালাম আজাদ। ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৭ ভোটারের এই আসনে এখন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী সরদার শরফুদ্দিন সান্টুর মূল জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নান। বানারীপাড়া উপজেলার সহ-সভাপতি গোলাম মাহবুব এবং পৌর কৃষক দলের আব্দুল গাফফার হোসেনসহ কয়েক শ নেতাকর্মী গত ৩০ জানুয়ারি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। যোগদানের পরপরই তারা জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নানের জন্য ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন। এতে ধানের শীষের প্রার্থীকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে জানিয়েছে ভোটাররা।
আড়িয়াল খাঁ নদীতীরবাতী বরিশাল ৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে মোট ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও আলোচনার কেন্দ্রে আছেন ধানের শীষের জয়নুল আবেদীন, লাঙ্গল প্রতীকের গোলাম কিবরিয়া টিপু এবং ঈগল প্রতীকের ব্যারিস্টার মো. আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তবে এখানে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিনের সাথে জাতীয় পার্টির প্রার্থী টিপুর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তিনবারের সাবেক এমপি টিপু জুলাই আন্দোলনসহ একাধিক মামলায় কারান্তরীণ থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছেন মেয়ে। এই আসনে মোট ৩ লাখ ৩২ হাজার ০৯৭ জন ভোটাধিকার পেয়েছেন।
জাপার কেন্দ্রীয় অতিরিক্ত যুগ্ম মহাসচিব ইকবাল হোসেন তাপস সাংবাদিকদের বলেন, মুক্ত টিপুর চেয়ে কারাবন্দী টিপু বেশি শক্তিশালী, তিনি বারবার এই আসনের এমপি হয়েছেন, এবারও হবেন।
বরিশাল ৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রাজিব আহসান এবার ধানের শীষের প্রার্থী। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল জব্বার। বরিশালের ৬ টি আসনের মধ্যে এখানে জয়ের সম্ভাবনা দেখছে জামায়াত। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের ৬ ফেব্রুয়ারি মেহেন্দিগঞ্জে সমাবেশও করেছেন। ৪ লাখ ২১ হাজার ৯৭৫ ভোটারের এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীসহ মোট ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
আওয়ামী লীগ শাসানামলে বরিশাল ৪ আসনে টানা তিনবারের এমপি ছিলেন বিতর্কিত রাজনৈতিক পঙ্কজ দেবনাথ। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে তিনি পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এরপরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী চরের জমি দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। ফলে এখানে ধানের শীষের প্রার্থী রাজিব আহসানের জয়লাভ করাটা অনেকটা চ্যালেঞ্জের বলে মন্তব্য পাওয়া গেছে।
সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল ৫ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলাল প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই ফুরফুরে মেজাজে আছেন ধানের শীষের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার। এই আসনে ধানের শীষের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখার প্রার্থী মুফতি মুহাম্মাদ ফয়জুল করিমকে ভাবা হলেও তিনি অতটা শক্তপোক্ত জনসমর্থনে নেই। ৫ লাখ ১৩ হাজার ৪ জন ভোটারের এ আসনে আলোচিত বাসদ নেত্রী মনীষা চক্রবর্তীও আলোচনায় আছেন।
কীর্তনখোলা তীর জনপদের সবচে মর্যাদাসম্পন্ন এই আসনে আওয়ামী লীগের শাসানামলে একবার জেবুন্নেছা আফরোজ এবং দুবার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাহিদ ফারুক শামীম এমপি ছিলেন। তার আগে পাঁচবার এমপি ছিলেন ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার এবং তিনি জনপ্রিয় রাজনৈতিকও বটে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বরিশাল ৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ৬ প্রার্থী। তবে সবচে আলোচনার বিষয় হচ্ছে বরিশাল সদর আসনের পাশাপাশি বাকেরগঞ্জেও প্রার্থিতা করছেন হাতপাখার প্রার্থী ফয়জুল করিম। এখানে ধানের শীষের শক্তিশালি প্রার্থী আবুল হাসেন খান। আছে জামায়াতের প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবীও।
তবে এই আসনে বেশিমাত্রায় আলোচনায় আছেন ধানের শীষ এবং হাতপাখার প্রার্থী। ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ ভোটার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আবুল এবং ফয়জুলের মধ্যেকার একজনকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে চূড়ান্ত করবেন।
ভোট পেতে দুই প্রার্থী বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। তবে চরমোনাই প্রার্থী ফয়জুল আওয়ামী লীগের ভোটারদের টানতে বেশ কৌশলী পদক্ষেপ রাখছেন। তিনি পদধারী আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এমনকি আ’লীগের নিরিহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতেও পুলিশের কাছে সুপারিশ রাখেন।
এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আবুল হোসেন একবার এমপি ছিলেন। কর্মীসমর্থকেরা বলছেন, আবুল হোসেনের জনপ্রিয়তা আছে, তিনি এবারও এমপি হবেন।
অবশ্য হাতপাখার প্রার্থীর অনুসারীদের দাবি হচ্ছে, বরিশাল সদর এবং বাকেরগঞ্জে তাদের ভোট বেড়েছে। এছাড়া মানুষের মধ্যে চরমোনাই নায়েবে আমির ফয়জুল করিমকে নিয়ে আগ্রহ আছে, এই কারণে তিনি দুটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে বরিশালের ৬টি আসনের ৫টিতে ধানের শীষ-জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের মধ্যেকার তুমুল ভোটযুদ্ধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রভাব দেখা যেতে পারে বরিশাল ১, ২, ৩, ৪ এবং ৬ আসনে। তবে মর্যাদার বরিশাল ৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ারের তেমন একটা বেগ না পাওয়ার সম্ভবনা বেশি।
চির প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের অনপুস্থিতিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ নির্বাচনে বরিশালের মানুষ এখন কোন আসনে কার পক্ষে রায় দেবেন সেটাই দেখার অপেক্ষা।’
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:১৬
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৮
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৫:৫৬
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৪