ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় জোটের আত্মপ্রকাশ হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি আসন সমঝোতা। এ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ, নির্বাচন কার্যক্রমে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা ও জোট নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তপশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সময়সীমা সামনে রেখে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করার চাপ বাড়ছে জোটভুক্ত দলগুলোর ওপর। তবে জোট নেতাদের দাবি, বেশ ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে চলছে আসন সমঝোতার আলোচনা। দু-এক দিনের মধ্যেই ৩০০ আসনের সমঝোতা চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
গত রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ১০ দলীয় জোটের ঘোষণা দেন। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ছিল আগে থেকেই। নতুন করে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি, এনসিপি ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) জোটে যুক্ত হয়।
জোটের নির্ভরযোগ্য সূত্রের মতে, সর্বশেষ আলোচনা অনুযায়ী জামায়াত ১১০ আসন ছাড়ার চিন্তা করছে শরিকদের জন্য। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩৫-৪০, এনসিপি ৩০, খেলাফত মজলিস ১৫, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১০, এবি পার্টি ৩, এলডিপি ৩, বিডিপি ২, জাগপা ৩, খেলাফত আন্দোলন ৪ এবং নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি আসনে। তবে দলগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত করা হয়নি। দলীয় জোটের ৬০০-এর বেশি প্রার্থী ৩০০ আসনের বিপরীতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে রেখেছেন। জানা গেছে, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় দর কষাকষি করার জন্যই অতিরিক্ত প্রার্থী রেখে দিয়েছে দলগুলো।
জোটের মধ্যে বিশেষ করে এই সমঝোতা নিয়ে ইসলামী আন্দোলন এবং এনসিপিকে নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে। দু-একটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী এনসিপিকে ১০ আসনের বেশি ছাড়ছে না—এমন খবর আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। তবে এনসিপি নেতাদের দাবি, এ ধরনের তথ্য সঠিক নয়। বরং ৩০ আসন নিয়েই এখন পর্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা চলছে।
এনসিপির একাধিক নেতা জানান, এখন পর্যন্ত ২৫টি আসন চূড়ান্ত হয়ে গেছে। নিশ্চিত হওয়া আসনগুলোর পাশাপাশি দলটি আরও আলোচনা চালাচ্ছে। যাতে ৩৫-৪০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায়। এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে থাকবে কি না, তার ওপর চূড়ান্ত আসনসংখ্যা নির্ভর করবে। দলটি যদি জোটে না থাকে, তাহলে আমরা প্রায় ৪০টি আসনে নির্বাচন করব। অন্যথায় ৩০ বা তার আশপাশেই আমরা থাকছি।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ১০ আসনের কম পাচ্ছে এনসিপি, এটি সঠিক তথ্য নয়। আমরা ৪৪টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। প্রায় সবগুলোই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ জোটের আসন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে এনসিপি ৩০-৩৫ আসনের কম পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারও জানান একই তথ্য। তিনি বলেন, ১০টি আসনের নিউজটি সত্য নয়। যারা করেছে তারা এই তথ্য কোথায় পেয়েছে জানি না। জোটের আসন সমঝোতার আলোচনা খুব ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে চলছে। দু-এক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এনসিপিতে জোটের প্রার্থী হওয়ার আলোচনায় যারা:
এনসিপি সূত্রে জানা যায়, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১, সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা-৪, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম পঞ্চগড়-১, মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬, যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ কুড়িগ্রাম-২ এবং যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল-আমিন নারায়ণগঞ্জ-৪ থেকে নির্বাচন করছেন, তা অনেকটা নিশ্চিত। তাদের প্রায় সবার আসনে এনসিপি প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। এর বাইরে ঢাকা থেকে আরিফুল ইসলাম আদীব ঢাকা-১৮, জাভেদ রাসিন ঢাকা-৯, দিলশানা পারুল ঢাকা-১৯ এবং তারেক মোহাম্মদ আদেল ঢাকা-৭ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকার বাইরে সারোয়ার তুষার নরসিংদী-২, জোবাইরুল হাসান আরিফ চট্টগ্রাম-৮, ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ সিলেট-৩, আলী নাছের খান, গাজীপুর-২, সুলতানা মুহাম্মদ জাকারিয়া নোয়াখালী-২, প্রীতম দাশ মৌলভীবাজার-৪, সাইফুল্লাহ হায়দার টাঙ্গাইল-৩, আশরাফ মাহদী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, মোল্লা ফারুক এহসান চুয়াডাঙ্গা-১, জার্জিস কাদির নাটোর-৩, মোহাম্মদ আতাউল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, ডা. মাহমুদা মিতু ঝালকাঠি-১, সাইফ মোস্তাফিজ সিরাজগঞ্জ-৬, ডা. আব্দুল আহাদ দিনাজপুর-৫, আরিফুল দাড়িয়া গোপালগঞ্জ-৩ এবং সুজা উদ্দিন বান্দরবান থেকে জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন। তবে এগুলো এখনো পর্যন্ত আলোচনাধীন।
ইতিবাচক আলোচনায় ইসলামী আন্দোলন:
নির্বাচনী আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে দূরত্ব পুরোপুরি ঘোচেনি। তবে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলছে আলোচনা। ফের এ নিয়ে দুই দলের নেতাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। জোটের নেতারা বলছেন, বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে কোনো ভাঙন দেখা দেবে না, দুই দলই দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর পক্ষে কথা বলছে।
জোট সূত্রে জানা যায়, আসন সমঝোতায় শুরুতে ১২০-১৫০ আসনের কথা জানায় ইসলামী আন্দোলন। পরে দল বাড়ায় সেটি নামে ১০০-১২০টিতে। বিভিন্ন আলাপ-আলোচনা শেষে সর্বশেষ অন্তত ৭০ আসন চায় দলটি। তবে এতে এখনো সম্মতি জানায়নি জামায়াত। তারা ৩০-৪০ আসনের আলোচনায় ছিল। এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা গেছে দলটির মধ্যে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরদিনই অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি দাবি করেন, তাদের দল ১৪৩টি আসনে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে, কিন্তু সে অনুযায়ী সমঝোতা হচ্ছে না। তিনি বলেছিলেন, তার দল কেন জামায়াতের কাছে আসন চাইবে। এক বাক্স নীতি প্রথম ঘোষণা করে ইসলামী আন্দোলন। কাউকে আসন দেওয়ার কথা উঠলে ইসলামী আন্দোলন দিচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন আসবে।
ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা বলেন, ঐক্য ভেঙে যাক, সেটি আমরা চাই না। তবে আসন সমঝোতা হতে হবে ইনসাফের ভিত্তিতে।
জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন বলেন, আসন সমঝোতার বিষয়ে কিছুটা অসন্তোষ আছে। এ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলমান। ১৯ জানুয়ারির মধ্যেই তা চূড়ান্ত হবে। এরপর পরবর্তী অবস্থান জানা যাবে।
জোটের আসন সমঝোতার বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই সবকিছু চূড়ান্ত হবে। আসন সমঝোতা নিয়ে বড় কোনো সংকট আমরা দেখছি না। জোট ভাঙার বিষয়েও কোনো তথ্য নেই। শঙ্কার চেয়ে প্রোপাগান্ডা বেশি। কিছু সংকট থাকলে সেটি আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে নেব।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৮
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বলেন, নাজমুল ঠাকুরের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বলেন, নাজমুল ঠাকুরের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০২
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃতদের তালিকা প্রকাশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহবুবার রহমান ওরফে বাবু, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া, এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন এবং প্রক্টর দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃতদের তালিকা প্রকাশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহবুবার রহমান ওরফে বাবু, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া, এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন এবং প্রক্টর দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৩৭
কক্সবাজারের টেকনাফে শাহপরী দ্বীপসংলগ্ন নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে অভিযানের সময় নৌকায় থাকা মাদক পাচারকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
কোস্ট গার্ড জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহপরী দ্বীপের জালিয়াপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরী।
অভিযানের সময় নদীতে একটি সন্দেহজনক ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা দেখতে পেয়ে সেটিকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়।
পরে সন্দেহজনক নৌকাটির গতিপথ ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালান কোস্ট গার্ড সদস্যরা। একপর্যায়ে নদীতে ভাসমান একটি ব্যাগের সন্ধান পাওয়া যায়।
ব্যাগটি উদ্ধার করে তল্লাশি চালালে এর ভেতর থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে ইয়াবাগুলো জব্দ করা হয়।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দ করা মাদকের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী এলাকায় কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজারের টেকনাফে শাহপরী দ্বীপসংলগ্ন নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে অভিযানের সময় নৌকায় থাকা মাদক পাচারকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
কোস্ট গার্ড জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহপরী দ্বীপের জালিয়াপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরী।
অভিযানের সময় নদীতে একটি সন্দেহজনক ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা দেখতে পেয়ে সেটিকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়।
পরে সন্দেহজনক নৌকাটির গতিপথ ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালান কোস্ট গার্ড সদস্যরা। একপর্যায়ে নদীতে ভাসমান একটি ব্যাগের সন্ধান পাওয়া যায়।
ব্যাগটি উদ্ধার করে তল্লাশি চালালে এর ভেতর থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে ইয়াবাগুলো জব্দ করা হয়।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দ করা মাদকের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী এলাকায় কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০৩
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় জোটের আত্মপ্রকাশ হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি আসন সমঝোতা। এ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ, নির্বাচন কার্যক্রমে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা ও জোট নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তপশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সময়সীমা সামনে রেখে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করার চাপ বাড়ছে জোটভুক্ত দলগুলোর ওপর। তবে জোট নেতাদের দাবি, বেশ ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে চলছে আসন সমঝোতার আলোচনা। দু-এক দিনের মধ্যেই ৩০০ আসনের সমঝোতা চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
গত রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ১০ দলীয় জোটের ঘোষণা দেন। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ছিল আগে থেকেই। নতুন করে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি, এনসিপি ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) জোটে যুক্ত হয়।
জোটের নির্ভরযোগ্য সূত্রের মতে, সর্বশেষ আলোচনা অনুযায়ী জামায়াত ১১০ আসন ছাড়ার চিন্তা করছে শরিকদের জন্য। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩৫-৪০, এনসিপি ৩০, খেলাফত মজলিস ১৫, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১০, এবি পার্টি ৩, এলডিপি ৩, বিডিপি ২, জাগপা ৩, খেলাফত আন্দোলন ৪ এবং নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি আসনে। তবে দলগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত করা হয়নি। দলীয় জোটের ৬০০-এর বেশি প্রার্থী ৩০০ আসনের বিপরীতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে রেখেছেন। জানা গেছে, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় দর কষাকষি করার জন্যই অতিরিক্ত প্রার্থী রেখে দিয়েছে দলগুলো।
জোটের মধ্যে বিশেষ করে এই সমঝোতা নিয়ে ইসলামী আন্দোলন এবং এনসিপিকে নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে। দু-একটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী এনসিপিকে ১০ আসনের বেশি ছাড়ছে না—এমন খবর আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। তবে এনসিপি নেতাদের দাবি, এ ধরনের তথ্য সঠিক নয়। বরং ৩০ আসন নিয়েই এখন পর্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা চলছে।
এনসিপির একাধিক নেতা জানান, এখন পর্যন্ত ২৫টি আসন চূড়ান্ত হয়ে গেছে। নিশ্চিত হওয়া আসনগুলোর পাশাপাশি দলটি আরও আলোচনা চালাচ্ছে। যাতে ৩৫-৪০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায়। এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে থাকবে কি না, তার ওপর চূড়ান্ত আসনসংখ্যা নির্ভর করবে। দলটি যদি জোটে না থাকে, তাহলে আমরা প্রায় ৪০টি আসনে নির্বাচন করব। অন্যথায় ৩০ বা তার আশপাশেই আমরা থাকছি।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ১০ আসনের কম পাচ্ছে এনসিপি, এটি সঠিক তথ্য নয়। আমরা ৪৪টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। প্রায় সবগুলোই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ জোটের আসন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে এনসিপি ৩০-৩৫ আসনের কম পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারও জানান একই তথ্য। তিনি বলেন, ১০টি আসনের নিউজটি সত্য নয়। যারা করেছে তারা এই তথ্য কোথায় পেয়েছে জানি না। জোটের আসন সমঝোতার আলোচনা খুব ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে চলছে। দু-এক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এনসিপিতে জোটের প্রার্থী হওয়ার আলোচনায় যারা:
এনসিপি সূত্রে জানা যায়, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১, সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা-৪, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম পঞ্চগড়-১, মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬, যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ কুড়িগ্রাম-২ এবং যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল-আমিন নারায়ণগঞ্জ-৪ থেকে নির্বাচন করছেন, তা অনেকটা নিশ্চিত। তাদের প্রায় সবার আসনে এনসিপি প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। এর বাইরে ঢাকা থেকে আরিফুল ইসলাম আদীব ঢাকা-১৮, জাভেদ রাসিন ঢাকা-৯, দিলশানা পারুল ঢাকা-১৯ এবং তারেক মোহাম্মদ আদেল ঢাকা-৭ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকার বাইরে সারোয়ার তুষার নরসিংদী-২, জোবাইরুল হাসান আরিফ চট্টগ্রাম-৮, ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ সিলেট-৩, আলী নাছের খান, গাজীপুর-২, সুলতানা মুহাম্মদ জাকারিয়া নোয়াখালী-২, প্রীতম দাশ মৌলভীবাজার-৪, সাইফুল্লাহ হায়দার টাঙ্গাইল-৩, আশরাফ মাহদী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, মোল্লা ফারুক এহসান চুয়াডাঙ্গা-১, জার্জিস কাদির নাটোর-৩, মোহাম্মদ আতাউল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, ডা. মাহমুদা মিতু ঝালকাঠি-১, সাইফ মোস্তাফিজ সিরাজগঞ্জ-৬, ডা. আব্দুল আহাদ দিনাজপুর-৫, আরিফুল দাড়িয়া গোপালগঞ্জ-৩ এবং সুজা উদ্দিন বান্দরবান থেকে জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন। তবে এগুলো এখনো পর্যন্ত আলোচনাধীন।
ইতিবাচক আলোচনায় ইসলামী আন্দোলন:
নির্বাচনী আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে দূরত্ব পুরোপুরি ঘোচেনি। তবে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলছে আলোচনা। ফের এ নিয়ে দুই দলের নেতাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। জোটের নেতারা বলছেন, বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে কোনো ভাঙন দেখা দেবে না, দুই দলই দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর পক্ষে কথা বলছে।
জোট সূত্রে জানা যায়, আসন সমঝোতায় শুরুতে ১২০-১৫০ আসনের কথা জানায় ইসলামী আন্দোলন। পরে দল বাড়ায় সেটি নামে ১০০-১২০টিতে। বিভিন্ন আলাপ-আলোচনা শেষে সর্বশেষ অন্তত ৭০ আসন চায় দলটি। তবে এতে এখনো সম্মতি জানায়নি জামায়াত। তারা ৩০-৪০ আসনের আলোচনায় ছিল। এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা গেছে দলটির মধ্যে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরদিনই অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি দাবি করেন, তাদের দল ১৪৩টি আসনে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে, কিন্তু সে অনুযায়ী সমঝোতা হচ্ছে না। তিনি বলেছিলেন, তার দল কেন জামায়াতের কাছে আসন চাইবে। এক বাক্স নীতি প্রথম ঘোষণা করে ইসলামী আন্দোলন। কাউকে আসন দেওয়ার কথা উঠলে ইসলামী আন্দোলন দিচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন আসবে।
ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা বলেন, ঐক্য ভেঙে যাক, সেটি আমরা চাই না। তবে আসন সমঝোতা হতে হবে ইনসাফের ভিত্তিতে।
জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন বলেন, আসন সমঝোতার বিষয়ে কিছুটা অসন্তোষ আছে। এ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলমান। ১৯ জানুয়ারির মধ্যেই তা চূড়ান্ত হবে। এরপর পরবর্তী অবস্থান জানা যাবে।
জোটের আসন সমঝোতার বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই সবকিছু চূড়ান্ত হবে। আসন সমঝোতা নিয়ে বড় কোনো সংকট আমরা দেখছি না। জোট ভাঙার বিষয়েও কোনো তথ্য নেই। শঙ্কার চেয়ে প্রোপাগান্ডা বেশি। কিছু সংকট থাকলে সেটি আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে নেব।
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৬
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৫২