Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০৩
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় জোটের আত্মপ্রকাশ হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি আসন সমঝোতা। এ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ, নির্বাচন কার্যক্রমে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা ও জোট নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তপশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সময়সীমা সামনে রেখে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করার চাপ বাড়ছে জোটভুক্ত দলগুলোর ওপর। তবে জোট নেতাদের দাবি, বেশ ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে চলছে আসন সমঝোতার আলোচনা। দু-এক দিনের মধ্যেই ৩০০ আসনের সমঝোতা চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
গত রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ১০ দলীয় জোটের ঘোষণা দেন। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ছিল আগে থেকেই। নতুন করে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি, এনসিপি ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) জোটে যুক্ত হয়।
জোটের নির্ভরযোগ্য সূত্রের মতে, সর্বশেষ আলোচনা অনুযায়ী জামায়াত ১১০ আসন ছাড়ার চিন্তা করছে শরিকদের জন্য। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩৫-৪০, এনসিপি ৩০, খেলাফত মজলিস ১৫, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১০, এবি পার্টি ৩, এলডিপি ৩, বিডিপি ২, জাগপা ৩, খেলাফত আন্দোলন ৪ এবং নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি আসনে। তবে দলগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত করা হয়নি। দলীয় জোটের ৬০০-এর বেশি প্রার্থী ৩০০ আসনের বিপরীতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে রেখেছেন। জানা গেছে, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় দর কষাকষি করার জন্যই অতিরিক্ত প্রার্থী রেখে দিয়েছে দলগুলো।
জোটের মধ্যে বিশেষ করে এই সমঝোতা নিয়ে ইসলামী আন্দোলন এবং এনসিপিকে নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে। দু-একটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী এনসিপিকে ১০ আসনের বেশি ছাড়ছে না—এমন খবর আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। তবে এনসিপি নেতাদের দাবি, এ ধরনের তথ্য সঠিক নয়। বরং ৩০ আসন নিয়েই এখন পর্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা চলছে।
এনসিপির একাধিক নেতা জানান, এখন পর্যন্ত ২৫টি আসন চূড়ান্ত হয়ে গেছে। নিশ্চিত হওয়া আসনগুলোর পাশাপাশি দলটি আরও আলোচনা চালাচ্ছে। যাতে ৩৫-৪০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায়। এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে থাকবে কি না, তার ওপর চূড়ান্ত আসনসংখ্যা নির্ভর করবে। দলটি যদি জোটে না থাকে, তাহলে আমরা প্রায় ৪০টি আসনে নির্বাচন করব। অন্যথায় ৩০ বা তার আশপাশেই আমরা থাকছি।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ১০ আসনের কম পাচ্ছে এনসিপি, এটি সঠিক তথ্য নয়। আমরা ৪৪টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। প্রায় সবগুলোই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ জোটের আসন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে এনসিপি ৩০-৩৫ আসনের কম পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারও জানান একই তথ্য। তিনি বলেন, ১০টি আসনের নিউজটি সত্য নয়। যারা করেছে তারা এই তথ্য কোথায় পেয়েছে জানি না। জোটের আসন সমঝোতার আলোচনা খুব ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে চলছে। দু-এক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এনসিপিতে জোটের প্রার্থী হওয়ার আলোচনায় যারা:
এনসিপি সূত্রে জানা যায়, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১, সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা-৪, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম পঞ্চগড়-১, মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬, যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ কুড়িগ্রাম-২ এবং যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল-আমিন নারায়ণগঞ্জ-৪ থেকে নির্বাচন করছেন, তা অনেকটা নিশ্চিত। তাদের প্রায় সবার আসনে এনসিপি প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। এর বাইরে ঢাকা থেকে আরিফুল ইসলাম আদীব ঢাকা-১৮, জাভেদ রাসিন ঢাকা-৯, দিলশানা পারুল ঢাকা-১৯ এবং তারেক মোহাম্মদ আদেল ঢাকা-৭ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকার বাইরে সারোয়ার তুষার নরসিংদী-২, জোবাইরুল হাসান আরিফ চট্টগ্রাম-৮, ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ সিলেট-৩, আলী নাছের খান, গাজীপুর-২, সুলতানা মুহাম্মদ জাকারিয়া নোয়াখালী-২, প্রীতম দাশ মৌলভীবাজার-৪, সাইফুল্লাহ হায়দার টাঙ্গাইল-৩, আশরাফ মাহদী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, মোল্লা ফারুক এহসান চুয়াডাঙ্গা-১, জার্জিস কাদির নাটোর-৩, মোহাম্মদ আতাউল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, ডা. মাহমুদা মিতু ঝালকাঠি-১, সাইফ মোস্তাফিজ সিরাজগঞ্জ-৬, ডা. আব্দুল আহাদ দিনাজপুর-৫, আরিফুল দাড়িয়া গোপালগঞ্জ-৩ এবং সুজা উদ্দিন বান্দরবান থেকে জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন। তবে এগুলো এখনো পর্যন্ত আলোচনাধীন।
ইতিবাচক আলোচনায় ইসলামী আন্দোলন:
নির্বাচনী আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে দূরত্ব পুরোপুরি ঘোচেনি। তবে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলছে আলোচনা। ফের এ নিয়ে দুই দলের নেতাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। জোটের নেতারা বলছেন, বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে কোনো ভাঙন দেখা দেবে না, দুই দলই দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর পক্ষে কথা বলছে।
জোট সূত্রে জানা যায়, আসন সমঝোতায় শুরুতে ১২০-১৫০ আসনের কথা জানায় ইসলামী আন্দোলন। পরে দল বাড়ায় সেটি নামে ১০০-১২০টিতে। বিভিন্ন আলাপ-আলোচনা শেষে সর্বশেষ অন্তত ৭০ আসন চায় দলটি। তবে এতে এখনো সম্মতি জানায়নি জামায়াত। তারা ৩০-৪০ আসনের আলোচনায় ছিল। এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা গেছে দলটির মধ্যে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরদিনই অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি দাবি করেন, তাদের দল ১৪৩টি আসনে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে, কিন্তু সে অনুযায়ী সমঝোতা হচ্ছে না। তিনি বলেছিলেন, তার দল কেন জামায়াতের কাছে আসন চাইবে। এক বাক্স নীতি প্রথম ঘোষণা করে ইসলামী আন্দোলন। কাউকে আসন দেওয়ার কথা উঠলে ইসলামী আন্দোলন দিচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন আসবে।
ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা বলেন, ঐক্য ভেঙে যাক, সেটি আমরা চাই না। তবে আসন সমঝোতা হতে হবে ইনসাফের ভিত্তিতে।
জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন বলেন, আসন সমঝোতার বিষয়ে কিছুটা অসন্তোষ আছে। এ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলমান। ১৯ জানুয়ারির মধ্যেই তা চূড়ান্ত হবে। এরপর পরবর্তী অবস্থান জানা যাবে।
জোটের আসন সমঝোতার বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই সবকিছু চূড়ান্ত হবে। আসন সমঝোতা নিয়ে বড় কোনো সংকট আমরা দেখছি না। জোট ভাঙার বিষয়েও কোনো তথ্য নেই। শঙ্কার চেয়ে প্রোপাগান্ডা বেশি। কিছু সংকট থাকলে সেটি আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে নেব।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় জোটের আত্মপ্রকাশ হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি আসন সমঝোতা। এ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ, নির্বাচন কার্যক্রমে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা ও জোট নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তপশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সময়সীমা সামনে রেখে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করার চাপ বাড়ছে জোটভুক্ত দলগুলোর ওপর। তবে জোট নেতাদের দাবি, বেশ ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে চলছে আসন সমঝোতার আলোচনা। দু-এক দিনের মধ্যেই ৩০০ আসনের সমঝোতা চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
গত রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ১০ দলীয় জোটের ঘোষণা দেন। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ছিল আগে থেকেই। নতুন করে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি, এনসিপি ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) জোটে যুক্ত হয়।
জোটের নির্ভরযোগ্য সূত্রের মতে, সর্বশেষ আলোচনা অনুযায়ী জামায়াত ১১০ আসন ছাড়ার চিন্তা করছে শরিকদের জন্য। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩৫-৪০, এনসিপি ৩০, খেলাফত মজলিস ১৫, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১০, এবি পার্টি ৩, এলডিপি ৩, বিডিপি ২, জাগপা ৩, খেলাফত আন্দোলন ৪ এবং নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি আসনে। তবে দলগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত করা হয়নি। দলীয় জোটের ৬০০-এর বেশি প্রার্থী ৩০০ আসনের বিপরীতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে রেখেছেন। জানা গেছে, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় দর কষাকষি করার জন্যই অতিরিক্ত প্রার্থী রেখে দিয়েছে দলগুলো।
জোটের মধ্যে বিশেষ করে এই সমঝোতা নিয়ে ইসলামী আন্দোলন এবং এনসিপিকে নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে। দু-একটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী এনসিপিকে ১০ আসনের বেশি ছাড়ছে না—এমন খবর আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। তবে এনসিপি নেতাদের দাবি, এ ধরনের তথ্য সঠিক নয়। বরং ৩০ আসন নিয়েই এখন পর্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা চলছে।
এনসিপির একাধিক নেতা জানান, এখন পর্যন্ত ২৫টি আসন চূড়ান্ত হয়ে গেছে। নিশ্চিত হওয়া আসনগুলোর পাশাপাশি দলটি আরও আলোচনা চালাচ্ছে। যাতে ৩৫-৪০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায়। এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে থাকবে কি না, তার ওপর চূড়ান্ত আসনসংখ্যা নির্ভর করবে। দলটি যদি জোটে না থাকে, তাহলে আমরা প্রায় ৪০টি আসনে নির্বাচন করব। অন্যথায় ৩০ বা তার আশপাশেই আমরা থাকছি।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ১০ আসনের কম পাচ্ছে এনসিপি, এটি সঠিক তথ্য নয়। আমরা ৪৪টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। প্রায় সবগুলোই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ জোটের আসন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে এনসিপি ৩০-৩৫ আসনের কম পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারও জানান একই তথ্য। তিনি বলেন, ১০টি আসনের নিউজটি সত্য নয়। যারা করেছে তারা এই তথ্য কোথায় পেয়েছে জানি না। জোটের আসন সমঝোতার আলোচনা খুব ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে চলছে। দু-এক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এনসিপিতে জোটের প্রার্থী হওয়ার আলোচনায় যারা:
এনসিপি সূত্রে জানা যায়, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১, সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা-৪, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম পঞ্চগড়-১, মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬, যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ কুড়িগ্রাম-২ এবং যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল-আমিন নারায়ণগঞ্জ-৪ থেকে নির্বাচন করছেন, তা অনেকটা নিশ্চিত। তাদের প্রায় সবার আসনে এনসিপি প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। এর বাইরে ঢাকা থেকে আরিফুল ইসলাম আদীব ঢাকা-১৮, জাভেদ রাসিন ঢাকা-৯, দিলশানা পারুল ঢাকা-১৯ এবং তারেক মোহাম্মদ আদেল ঢাকা-৭ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকার বাইরে সারোয়ার তুষার নরসিংদী-২, জোবাইরুল হাসান আরিফ চট্টগ্রাম-৮, ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ সিলেট-৩, আলী নাছের খান, গাজীপুর-২, সুলতানা মুহাম্মদ জাকারিয়া নোয়াখালী-২, প্রীতম দাশ মৌলভীবাজার-৪, সাইফুল্লাহ হায়দার টাঙ্গাইল-৩, আশরাফ মাহদী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, মোল্লা ফারুক এহসান চুয়াডাঙ্গা-১, জার্জিস কাদির নাটোর-৩, মোহাম্মদ আতাউল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, ডা. মাহমুদা মিতু ঝালকাঠি-১, সাইফ মোস্তাফিজ সিরাজগঞ্জ-৬, ডা. আব্দুল আহাদ দিনাজপুর-৫, আরিফুল দাড়িয়া গোপালগঞ্জ-৩ এবং সুজা উদ্দিন বান্দরবান থেকে জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন। তবে এগুলো এখনো পর্যন্ত আলোচনাধীন।
ইতিবাচক আলোচনায় ইসলামী আন্দোলন:
নির্বাচনী আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে দূরত্ব পুরোপুরি ঘোচেনি। তবে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলছে আলোচনা। ফের এ নিয়ে দুই দলের নেতাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। জোটের নেতারা বলছেন, বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে কোনো ভাঙন দেখা দেবে না, দুই দলই দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর পক্ষে কথা বলছে।
জোট সূত্রে জানা যায়, আসন সমঝোতায় শুরুতে ১২০-১৫০ আসনের কথা জানায় ইসলামী আন্দোলন। পরে দল বাড়ায় সেটি নামে ১০০-১২০টিতে। বিভিন্ন আলাপ-আলোচনা শেষে সর্বশেষ অন্তত ৭০ আসন চায় দলটি। তবে এতে এখনো সম্মতি জানায়নি জামায়াত। তারা ৩০-৪০ আসনের আলোচনায় ছিল। এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা গেছে দলটির মধ্যে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরদিনই অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি দাবি করেন, তাদের দল ১৪৩টি আসনে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে, কিন্তু সে অনুযায়ী সমঝোতা হচ্ছে না। তিনি বলেছিলেন, তার দল কেন জামায়াতের কাছে আসন চাইবে। এক বাক্স নীতি প্রথম ঘোষণা করে ইসলামী আন্দোলন। কাউকে আসন দেওয়ার কথা উঠলে ইসলামী আন্দোলন দিচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন আসবে।
ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা বলেন, ঐক্য ভেঙে যাক, সেটি আমরা চাই না। তবে আসন সমঝোতা হতে হবে ইনসাফের ভিত্তিতে।
জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন বলেন, আসন সমঝোতার বিষয়ে কিছুটা অসন্তোষ আছে। এ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলমান। ১৯ জানুয়ারির মধ্যেই তা চূড়ান্ত হবে। এরপর পরবর্তী অবস্থান জানা যাবে।
জোটের আসন সমঝোতার বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই সবকিছু চূড়ান্ত হবে। আসন সমঝোতা নিয়ে বড় কোনো সংকট আমরা দেখছি না। জোট ভাঙার বিষয়েও কোনো তথ্য নেই। শঙ্কার চেয়ে প্রোপাগান্ডা বেশি। কিছু সংকট থাকলে সেটি আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে নেব।

০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:২৩
প্রেমের টানে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে মো. আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামের এক বাংলাদেশি যুবক ভারতীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন। ভারতের অভ্যন্তরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তিনি এখন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বুটিয়াপাড়া সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত আনোয়ার হোসেন ওই উপজেলার উত্তর নলকুড়া গ্রামের মো. মজিবরের ছেলে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) জানায়, আনোয়ার হোসেন জনৈক এক ভারতীয় নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। মূলত সেই সম্পর্কের টানেই তিনি বারবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হতেন।
গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, গত বছরও একই কারণে ভারতে প্রবেশ করতে গিয়ে তিনি ভারতীয় দুষ্কৃতকারীদের হামলার শিকার হয়েছিলেন। তবুও দমানো যায়নি তাকে।
বিজিবি জানায়, মঙ্গলবার রাতে প্রেমের টানে জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করে ভারতের প্রায় ৩৫০ গজ ভেতরে ঢুকে পড়েন আনোয়ার। কাঁটাতারের বেড়ার কাছে পৌঁছাতেই রাতের অন্ধকারে ওত পেতে থাকা একদল অজ্ঞাতনামা পাহাড়ি গারো লোক তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের হামলায় আনোয়ার গুরুতর জখম হন।
আহত অবস্থায় কোনো মতে বাংলাদেশে ফিরে আসলে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি ঢাকাতেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল নুরুল আজিম বায়েজীদ জানান, সীমান্ত রক্ষা এবং মাদক ও চোরাচালানসহ যেকোনোপ্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত আইন অমান্য করার ফলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনা ঘটছে।

০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৩০
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের সমরগাঁও গ্রামে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে এক মাদক কারবারির ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সমরগাও গ্রামের বাসিন্দা রফিজ আলীর ছেলে সমুজ আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও তিনি জোরপূর্বক গ্রামবাসীর জমি দখল করে সেখানে বসবাস করছিলেন বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সকালে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তার বসতঘর ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, সমুজ আলী একজন মাদক কারবারি বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রামবাসী তার বসতঘর উচ্ছেদ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।

০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:৫৯
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় অবৈধভাবে ঘোড়া জবাই করে মাংস সরবরাহ করে এমন একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে। স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে চক্রের সদস্যরা ১৪টি জবাইকৃত ঘোড়া ফেলে পালিয়ে যায়।
বুধবার (৮ মার্চ) ভোরে উপজেলার আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তিতাস গ্যাসের সাবস্টেশনের পেছনের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে জবাইকৃত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়। এ সময় জবাইয়ের উদ্দেশ্যে আনা একটি জীবিত ঘোড়াও উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত ঘোড়াগুলো থেকে প্রায় ৩০ মণ মাংস পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় গভীর রাতে সন্দেহজনক কার্যক্রম চলছিল। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে গ্রামবাসী নজরদারি শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা হাসান জানান, বুধবার ভোরে গ্রামবাসী ওঁৎ পেতে থেকে চক্রটিকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে তাদের ধাওয়া দিলে মো. তিতাস ও রাজিবসহ কয়েকজন পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চক্রটি নিয়মিত ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন হোটেল ও কসাইদের কাছে সরবরাহ করত। প্রমাণ গোপন করতে তারা চামড়া, হাড় ও নাড়িভুঁড়ি মাটিতে পুঁতে রাখত। ঘটনাস্থলে অন্তত ২০টি গর্ত এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হাড়গোড়ের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সপ্তাহে কয়েকদিন গভীর রাতে সেখানে গাড়ি আসত। সকালে রক্ত ও হাড় পড়ে থাকতে দেখা যেত। যা সন্দেহ আরও বাড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তার আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১’ অনুযায়ী ঘোড়া জবাই বৈধ নয়।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জবাইকৃত ঘোড়াগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।
প্রেমের টানে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে মো. আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামের এক বাংলাদেশি যুবক ভারতীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন। ভারতের অভ্যন্তরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তিনি এখন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বুটিয়াপাড়া সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত আনোয়ার হোসেন ওই উপজেলার উত্তর নলকুড়া গ্রামের মো. মজিবরের ছেলে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) জানায়, আনোয়ার হোসেন জনৈক এক ভারতীয় নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। মূলত সেই সম্পর্কের টানেই তিনি বারবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হতেন।
গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, গত বছরও একই কারণে ভারতে প্রবেশ করতে গিয়ে তিনি ভারতীয় দুষ্কৃতকারীদের হামলার শিকার হয়েছিলেন। তবুও দমানো যায়নি তাকে।
বিজিবি জানায়, মঙ্গলবার রাতে প্রেমের টানে জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করে ভারতের প্রায় ৩৫০ গজ ভেতরে ঢুকে পড়েন আনোয়ার। কাঁটাতারের বেড়ার কাছে পৌঁছাতেই রাতের অন্ধকারে ওত পেতে থাকা একদল অজ্ঞাতনামা পাহাড়ি গারো লোক তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের হামলায় আনোয়ার গুরুতর জখম হন।
আহত অবস্থায় কোনো মতে বাংলাদেশে ফিরে আসলে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি ঢাকাতেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল নুরুল আজিম বায়েজীদ জানান, সীমান্ত রক্ষা এবং মাদক ও চোরাচালানসহ যেকোনোপ্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত আইন অমান্য করার ফলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনা ঘটছে।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের সমরগাঁও গ্রামে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে এক মাদক কারবারির ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সমরগাও গ্রামের বাসিন্দা রফিজ আলীর ছেলে সমুজ আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও তিনি জোরপূর্বক গ্রামবাসীর জমি দখল করে সেখানে বসবাস করছিলেন বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সকালে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তার বসতঘর ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, সমুজ আলী একজন মাদক কারবারি বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রামবাসী তার বসতঘর উচ্ছেদ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় অবৈধভাবে ঘোড়া জবাই করে মাংস সরবরাহ করে এমন একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে। স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে চক্রের সদস্যরা ১৪টি জবাইকৃত ঘোড়া ফেলে পালিয়ে যায়।
বুধবার (৮ মার্চ) ভোরে উপজেলার আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তিতাস গ্যাসের সাবস্টেশনের পেছনের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে জবাইকৃত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়। এ সময় জবাইয়ের উদ্দেশ্যে আনা একটি জীবিত ঘোড়াও উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত ঘোড়াগুলো থেকে প্রায় ৩০ মণ মাংস পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় গভীর রাতে সন্দেহজনক কার্যক্রম চলছিল। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে গ্রামবাসী নজরদারি শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা হাসান জানান, বুধবার ভোরে গ্রামবাসী ওঁৎ পেতে থেকে চক্রটিকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে তাদের ধাওয়া দিলে মো. তিতাস ও রাজিবসহ কয়েকজন পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চক্রটি নিয়মিত ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন হোটেল ও কসাইদের কাছে সরবরাহ করত। প্রমাণ গোপন করতে তারা চামড়া, হাড় ও নাড়িভুঁড়ি মাটিতে পুঁতে রাখত। ঘটনাস্থলে অন্তত ২০টি গর্ত এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হাড়গোড়ের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সপ্তাহে কয়েকদিন গভীর রাতে সেখানে গাড়ি আসত। সকালে রক্ত ও হাড় পড়ে থাকতে দেখা যেত। যা সন্দেহ আরও বাড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তার আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১’ অনুযায়ী ঘোড়া জবাই বৈধ নয়।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জবাইকৃত ঘোড়াগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।