আগামী ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন। প্রথম দিন থেকেই সরকারকে কীভাবে চাপে ফেলা যায়, সে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে প্রথমবারের মতো বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যু, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নির্বাচনে অনিয়ম, জুলাই সনদ ও গণভোট এবং সুশাসনের প্রশ্নে বিরোধী দলের তোপের মুখে পড়তে হতে পারে সরকারি দলকে। এর মধ্যে মূল ফোকাস থাকবে আইনশৃঙ্খলা, নির্বাচনে অনিয়ম এবং জুলাই সনদ ও গণভোট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল এবং নতুন মুখের আগমনের খবরের মধ্যেই সংসদের এই অধিবেশন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধী দল যদি ঐক্যবদ্ধভাবে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তবে তা সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে। সব মিলিয়ে অধিবেশনের শুরু থেকেই সংসদ প্রাণবন্ত ও কিছুটা উত্তপ্ত থাকার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
বিরোধীদলীয় নীতিনির্ধারণী সূত্র জানায়, রাজপথের পরিবর্তে সংসদ অধিবেশনের শুরু থেকেই তারা সরকারের বিভিন্ন ত্রুটি চিহ্নিত করে সরব থাকবে। এরই মধ্যে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছে। গত ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রথমবার নির্বাচিতদের সংসদীয় কার্যক্রম, বিল-বাজেট, স্থায়ী কমিটির কাজসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়। ‘ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম’ শিরোনামে ওই কর্মশালায় অভিজ্ঞ সাবেক আমলা, একাডেমিশিয়ান ও সাবেক সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে এমপিদের দায়িত্ব ও বিরোধী দলের কৌশলগত ভূমিকা কেমন হবে, তা তুলে ধরা হয়।
পাশাপাশি দলটির নেতারা বলেছেন, সরকারের সব ইতিবাচক পদক্ষেপে বিরোধী দলের পূর্ণ সমর্থন থাকবে। কিন্তু সরকার কোনো অসংগত বা জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিলে প্রথমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে। সংশোধন না হলে বিরোধী দলের যে ভূমিকা, সেটিই পালন করা হবে। এককথায় জনগণের মৌলিক অধিকারের পক্ষে সরব থাকবে বিরোধী দল।
বিরোধী দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, সংসদ হচ্ছে জনগণের কথা বলার জায়গা। তারা চান সরকার প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক জবাব দিক। দেশ ও জনগণের স্বার্থ এবং জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ বিরোধী দল দেবে না।
অবশ্য বিরোধী দল সংসদে নানা বিষয় উত্থাপন করবে, এমনটা বিবেচনায় রেখে সরকারি দলও এ বিষয়ে প্রস্তুত বলে জানা গেছে। বিরোধী দলের ‘চাপ’ মোকাবিলায় সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা তথ্যের ভিত্তিতে বিরোধীদের অভিযোগ খণ্ডন করেন। সংসদ নেতা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সংসদীয় রীতি মেনেই সব প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে। এ জন্য বিএনপি আজ শুক্রবার এবং আগামীকাল শনিবার তাদের সংসদ সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২৯৭ আসনের ফল গেজেট আকারে ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ৬৮টি। বাকি আসনগুলোতে বিভিন্ন জোট, দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। এবারের নির্বাচনে বিজয়ীদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জন কখনো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি। তার মধ্যে বিরোধী দল জামায়াতের ৮০ ভাগ সংসদ সদস্য একেবারেই নতুন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। এর দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। সংবিধানে বলা আছে, ‘কোনো সাধারণ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহ্বান করা হবে।’ এখন সংসদ নির্বাচনের এক মাসের মাথায় আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ওই দিন বেলা ১১টায় সংসদের বৈঠক শুরু হবে। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন। সাধারণত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন দীর্ঘ হয়। প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা; অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলো উত্থাপন; শোক প্রস্তাব ও রাষ্ট্রপতির ভাষণ থাকার কথা রয়েছে। অধিবেশনজুড়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা।
১১-দলীয় জোটের কয়েকজন সংসদ সদস্য আলাপকালে জানান, যেহেতু সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাছে, তাই পরিস্থিতি বুঝে ইস্যুভিত্তিক আলোচনা হবে। তবে তাদের মূল ফোকাস থাকবে দেশ ও জনগণের স্বার্থ। বিশেষ করে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে প্রথমেই সংসদের বক্তব্য দেবেন তারা। এরপর ক্রমান্বয়ে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট ইস্যুতে আদালতে রিট আবেদন নিয়ে এ বিষয়ে সরকারি দল হিসেবে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা হবে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যক্রম, বিভিন্ন মেগা প্রজেক্ট ও সরকারি দপ্তরের অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে। জননিরাপত্তা তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ও মানবাধিকার ইস্যুতেও কথা বলবে বিরোধী দল জামায়াতসহ এনসিপি।
জানতে চাইলে পটুয়াখালী-২ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘আমরা সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জানতে চাইব। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলাসহ দেশ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে কথা বলব। সর্বোপরি, সরকারি দল তাদের ভূমিকা পালন করবে, আমরা বিরোধী দল হিসেবে যৌক্তিক বিষয়গুলো তুলে ধরব।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে ভোট গণনায় জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের অভিযোগ করে বলেন, ‘জালিয়াতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন আসনে ভোট গণনায় অতিরিক্ত দেরি, পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া ফল প্রকাশ, ভুয়া পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর, এমনকি পেনসিল দিয়ে ফল লেখাসহ বিভিন্ন অনিয়ম করা হয়েছে।’ এসব বিষয় নিয়ে প্রথম অধিবেশন থেকেই সংসদে কথা বলবেন তারা।
এদিকে সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদ্য সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে বলে দাবি করেছে জামায়াত। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নায়েবে আমির ও বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, ‘আমরা একটা রাজসাক্ষী পেয়েছি। সেই রাজসাক্ষীর নাম হচ্ছে সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান। তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে এটা প্রকাশ করেছেন, তার ভাষায়—যারা নারীদের উপযুক্ত অধিকারকে নিশ্চিত করতে পারেনি, তারা বিরোধী দলে থাকলেও আমরা কিন্তু তাদের মূলধারায় বা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দিইনি। তখনই বোঝা যায়, যে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা এসেছে, সেটাকে উনি নিজেই স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন। সুতরাং আমি এই সরকারের কাছে দাবি জানাব, রিজওয়ানা হাসানকে তারা কীভাবে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনবেন এবং আওতায় এনে পরিষ্কার যে সিচুয়েশন তিনি তৈরি করেছিলেন, সে সম্পর্কে ওনারা জানবেন, আমাদের জানাবেন, দেশবাসীর কাছেও এটা পরিষ্কার করবেন।’
অন্যদিকে জুলাই সনদ ও গণভোট বাতিল চেয়ে আদালতে রিট করার বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ বিরোধী দল। দলটির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে, মাত্র কয়েকটি ভিন্নমত ছাড়া। যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে জারি করা হয়েছে, সেখানে স্পষ্ট বলা আছে, ‘জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সুপারিশ অনুযায়ী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি এ আদেশ জারি করেছেন।’ এ আদেশটিকেও তারা (সরকারি দল) সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করছেন।
তিনি বলেন, ‘কেন শুধু গণভোট বাতিলের দাবি উঠছে? কেন জাতীয় নির্বাচন বাতিলের দাবি উঠছে না? মাঝখানে আরও ১৩৫টি অধ্যাদেশ রয়েছে, সেগুলোর কী হবে? তাহলে কি আমরা আবার ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যাব? সুতরাং একটি বিপ্লব-পরবর্তী চার্টারকে অপ্রাসঙ্গিক করার উদ্যোগ নেওয়া হলে তা হবে রাজনৈতিক ও আইনি ভুল। বিচার বিভাগের কাঁধে বন্দুক রেখে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করা সঠিক নয়। অতীতে আদালতকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে, যা বুমেরাং হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এর সমাধান হওয়া উচিত।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দলের এক ইফতার মাহফিলে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘চব্বিশের ৩৬ জুলাই ছাত্রজনতার বিপ্লবে আমরা দলমত নির্বিশেষে সবাই শামিল হয়েছিলাম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর সংসদ ও সরকার গঠিত হয়েছে। সরকার ও সংসদের কাছে জনগণের বিপুল প্রত্যাশা। আমরা গতানুগতিক বিরোধী দল হিসেবে এই সংসদে কাজ করতে চাই না। আমরা চাই এই সংসদ হোক অর্থবহ। জনগণের সব চাওয়া-পাওয়ার কেন্দ্র। সরকারি দল তারাও যেমন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন, আমরাও বিরোধী দল হিসেবে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে চাই।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘সরকারের সকল সংগত পদক্ষেপে আমাদের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে। কিন্তু আমাদের বিবেচনায় আমরা যদি দেখি সরকার কোনো অসংগত সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়েছে, আমরা প্রথমে দৃষ্টি আকর্ষণ করব। সরকার আমাদের পরামর্শ গ্রহণ করলে জাতি উপকৃত হবে, আমরা কৃতজ্ঞ হবো। সরকার পরামর্শ গ্রহণ না করলে বিরোধী দলের যে ভূমিকা সেটিই আমরা পালন করব।’
জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘যৌক্তিক দাবি ও ইস্যুতে বিরোধী দল সমালোচনা করবে ও সরকারকে চাপে রাখবে, এটাই স্বাভাবিক। আমরা প্রত্যাশা করি তাই। সরকারের একটা অন্যতম প্রধান কাজ হলো জাতীয় সংসদের বিরোধী দলকে শক্তিশালী করা; শক্তিশালী রাখা, যেন সরকার ‘ইন-ট্র্যাক’ থাকে এবং ভালো কাজ করতে পারে। সংসদকে কার্যকর রাখতে হলে গঠনমূলক আলোচনার বিকল্প নেই। আমরা যে কোনো যৌক্তিক বিতর্ক স্বাগত জানাতে এবং সংসদীয় রীতি মেনেই সব প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত।’

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১৪
রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে নারীসহ আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর নাদের হাজির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক মাহবুব আলম একসময় চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। বর্তমানে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত এবং সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন।
জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে নাদের হাজির মোড়ের একটি ফ্ল্যাটের দরজায় দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে দরজা খুলে মাহবুব আলম ও এক নারীকে বের করে আনেন। পরে তাদের চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনাস্থলে থাকা আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’ দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে।
আন্নির দাবি, এর আগেও রাজশিয়ার পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের নিজস্ব ফ্ল্যাটে ওই নারীকে তার সঙ্গে পেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও মাহবুবকে ওই নারীর সঙ্গে নাদের হাজির মোড়ের ফ্ল্যাটে থাকার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান।
মাহবুব আলম অবশ্য ওই নারীকে নিজের স্ত্রী দাবি করেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। একই সঙ্গে আন্নিকে চারদিন আগে তালাক দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজ জমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
তবে আন্নির দাবি, তিনি কোনো তালাকের কাগজ পাননি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মাহবুব আলমকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে নওগাঁ জেলা পুলিশে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।
সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, মাহবুব আলম কোনো ছুটি বা অনুমতি ছাড়াই রাজশিয়ায় গেছেন। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও ওই নারীর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে নারীসহ আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর নাদের হাজির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক মাহবুব আলম একসময় চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। বর্তমানে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত এবং সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন।
জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে নাদের হাজির মোড়ের একটি ফ্ল্যাটের দরজায় দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে দরজা খুলে মাহবুব আলম ও এক নারীকে বের করে আনেন। পরে তাদের চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনাস্থলে থাকা আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’ দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে।
আন্নির দাবি, এর আগেও রাজশিয়ার পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের নিজস্ব ফ্ল্যাটে ওই নারীকে তার সঙ্গে পেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও মাহবুবকে ওই নারীর সঙ্গে নাদের হাজির মোড়ের ফ্ল্যাটে থাকার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান।
মাহবুব আলম অবশ্য ওই নারীকে নিজের স্ত্রী দাবি করেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। একই সঙ্গে আন্নিকে চারদিন আগে তালাক দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজ জমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
তবে আন্নির দাবি, তিনি কোনো তালাকের কাগজ পাননি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মাহবুব আলমকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরে নওগাঁ জেলা পুলিশে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।
সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, মাহবুব আলম কোনো ছুটি বা অনুমতি ছাড়াই রাজশিয়ায় গেছেন। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
চন্দ্রিমা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও ওই নারীর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪৬
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মারা গেছেন আরও আটজন, যা এ বছর একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ নিয়ে এবার মোট ১৫৭ জনের মৃত্যু হলো।
এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭৩৩ জন। এ নিয়ে এবার মোট ভর্তি হলেন ৫৩ হাজার ৫৭০ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে ছয়জন নারী ও দুজন পুরুষ। তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ছয় থেকে ১০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ১৬ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক।
মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৫৭ জনের মধ্যে নারী ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান।
সেই তুলনায় চলতি মাসে অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৬০ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জন মারা যান ৮ সেপ্টেম্বর।
ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৫১, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১৯ ও সিটি করপোরেশনের বাইরে নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুলনায় ২৭, ময়মনসিংহে ১৬, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১৫, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন।
রোগীর মাসভিত্তিক হিসাব মতে, গত আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৯১ জন। এর মধ্যে সোমবারের আগ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৭১ জন ভর্তি হয়েছিলেন ৮ সেপ্টেম্বর।
এর আগে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ ও জুনে দুই হাজার ৯০৭ জন হাসপাতালে আসেন।
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মারা গেছেন আরও আটজন, যা এ বছর একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ নিয়ে এবার মোট ১৫৭ জনের মৃত্যু হলো।
এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭৩৩ জন। এ নিয়ে এবার মোট ভর্তি হলেন ৫৩ হাজার ৫৭০ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে ছয়জন নারী ও দুজন পুরুষ। তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ছয় থেকে ১০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ১৬ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক।
মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৫৭ জনের মধ্যে নারী ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান।
সেই তুলনায় চলতি মাসে অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৬০ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জন মারা যান ৮ সেপ্টেম্বর।
ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৫১, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১৯ ও সিটি করপোরেশনের বাইরে নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুলনায় ২৭, ময়মনসিংহে ১৬, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১৫, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন।
রোগীর মাসভিত্তিক হিসাব মতে, গত আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৯১ জন। এর মধ্যে সোমবারের আগ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৭১ জন ভর্তি হয়েছিলেন ৮ সেপ্টেম্বর।
এর আগে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ ও জুনে দুই হাজার ৯০৭ জন হাসপাতালে আসেন।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৪৬
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চায়ের দোকানের ৪৫ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও পুরুষসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ফের হাতাহাতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জয়ন্তীপুর এলাকার চা বিক্রেতা শামিম হোসেনের দোকানে মুদি ব্যবসায়ী মোস্তফার ৪৫ টাকা বাকি ছিল। সন্ধ্যার দিকে ওই টাকা পরিশোধের জন্য মোস্তফার কাছে জানতে চান শামিম। এ সময় পাওনা টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও লোকজন সেখানে এসে জড়ো হন। পরে তাদের মধ্যেও বিরোধ সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দ্রুত বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসা নিতে এসে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে দুই পক্ষের লোকজন ফের বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সেখানে মারামারির ঘটনাও ঘটে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিলে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইফফাত মেহেজাবীন অনন্যা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন আহতদের নিয়ে হাসপাতালে আসতে থাকেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চায়ের দোকানের ৪৫ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও পুরুষসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে ফের হাতাহাতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জয়ন্তীপুর এলাকার চা বিক্রেতা শামিম হোসেনের দোকানে মুদি ব্যবসায়ী মোস্তফার ৪৫ টাকা বাকি ছিল। সন্ধ্যার দিকে ওই টাকা পরিশোধের জন্য মোস্তফার কাছে জানতে চান শামিম। এ সময় পাওনা টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও লোকজন সেখানে এসে জড়ো হন। পরে তাদের মধ্যেও বিরোধ সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দ্রুত বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসা নিতে এসে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে দুই পক্ষের লোকজন ফের বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সেখানে মারামারির ঘটনাও ঘটে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিলে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইফফাত মেহেজাবীন অনন্যা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন আহতদের নিয়ে হাসপাতালে আসতে থাকেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:৪২
আগামী ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন। প্রথম দিন থেকেই সরকারকে কীভাবে চাপে ফেলা যায়, সে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে প্রথমবারের মতো বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যু, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নির্বাচনে অনিয়ম, জুলাই সনদ ও গণভোট এবং সুশাসনের প্রশ্নে বিরোধী দলের তোপের মুখে পড়তে হতে পারে সরকারি দলকে। এর মধ্যে মূল ফোকাস থাকবে আইনশৃঙ্খলা, নির্বাচনে অনিয়ম এবং জুলাই সনদ ও গণভোট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল এবং নতুন মুখের আগমনের খবরের মধ্যেই সংসদের এই অধিবেশন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধী দল যদি ঐক্যবদ্ধভাবে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তবে তা সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে। সব মিলিয়ে অধিবেশনের শুরু থেকেই সংসদ প্রাণবন্ত ও কিছুটা উত্তপ্ত থাকার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
বিরোধীদলীয় নীতিনির্ধারণী সূত্র জানায়, রাজপথের পরিবর্তে সংসদ অধিবেশনের শুরু থেকেই তারা সরকারের বিভিন্ন ত্রুটি চিহ্নিত করে সরব থাকবে। এরই মধ্যে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছে। গত ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রথমবার নির্বাচিতদের সংসদীয় কার্যক্রম, বিল-বাজেট, স্থায়ী কমিটির কাজসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়। ‘ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম’ শিরোনামে ওই কর্মশালায় অভিজ্ঞ সাবেক আমলা, একাডেমিশিয়ান ও সাবেক সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে এমপিদের দায়িত্ব ও বিরোধী দলের কৌশলগত ভূমিকা কেমন হবে, তা তুলে ধরা হয়।
পাশাপাশি দলটির নেতারা বলেছেন, সরকারের সব ইতিবাচক পদক্ষেপে বিরোধী দলের পূর্ণ সমর্থন থাকবে। কিন্তু সরকার কোনো অসংগত বা জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিলে প্রথমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে। সংশোধন না হলে বিরোধী দলের যে ভূমিকা, সেটিই পালন করা হবে। এককথায় জনগণের মৌলিক অধিকারের পক্ষে সরব থাকবে বিরোধী দল।
বিরোধী দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, সংসদ হচ্ছে জনগণের কথা বলার জায়গা। তারা চান সরকার প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক জবাব দিক। দেশ ও জনগণের স্বার্থ এবং জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ বিরোধী দল দেবে না।
অবশ্য বিরোধী দল সংসদে নানা বিষয় উত্থাপন করবে, এমনটা বিবেচনায় রেখে সরকারি দলও এ বিষয়ে প্রস্তুত বলে জানা গেছে। বিরোধী দলের ‘চাপ’ মোকাবিলায় সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা তথ্যের ভিত্তিতে বিরোধীদের অভিযোগ খণ্ডন করেন। সংসদ নেতা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সংসদীয় রীতি মেনেই সব প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে। এ জন্য বিএনপি আজ শুক্রবার এবং আগামীকাল শনিবার তাদের সংসদ সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২৯৭ আসনের ফল গেজেট আকারে ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ৬৮টি। বাকি আসনগুলোতে বিভিন্ন জোট, দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। এবারের নির্বাচনে বিজয়ীদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জন কখনো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি। তার মধ্যে বিরোধী দল জামায়াতের ৮০ ভাগ সংসদ সদস্য একেবারেই নতুন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। এর দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। সংবিধানে বলা আছে, ‘কোনো সাধারণ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহ্বান করা হবে।’ এখন সংসদ নির্বাচনের এক মাসের মাথায় আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ওই দিন বেলা ১১টায় সংসদের বৈঠক শুরু হবে। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন। সাধারণত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন দীর্ঘ হয়। প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা; অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলো উত্থাপন; শোক প্রস্তাব ও রাষ্ট্রপতির ভাষণ থাকার কথা রয়েছে। অধিবেশনজুড়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা।
১১-দলীয় জোটের কয়েকজন সংসদ সদস্য আলাপকালে জানান, যেহেতু সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাছে, তাই পরিস্থিতি বুঝে ইস্যুভিত্তিক আলোচনা হবে। তবে তাদের মূল ফোকাস থাকবে দেশ ও জনগণের স্বার্থ। বিশেষ করে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে প্রথমেই সংসদের বক্তব্য দেবেন তারা। এরপর ক্রমান্বয়ে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট ইস্যুতে আদালতে রিট আবেদন নিয়ে এ বিষয়ে সরকারি দল হিসেবে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা হবে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যক্রম, বিভিন্ন মেগা প্রজেক্ট ও সরকারি দপ্তরের অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে। জননিরাপত্তা তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ও মানবাধিকার ইস্যুতেও কথা বলবে বিরোধী দল জামায়াতসহ এনসিপি।
জানতে চাইলে পটুয়াখালী-২ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘আমরা সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জানতে চাইব। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলাসহ দেশ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে কথা বলব। সর্বোপরি, সরকারি দল তাদের ভূমিকা পালন করবে, আমরা বিরোধী দল হিসেবে যৌক্তিক বিষয়গুলো তুলে ধরব।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে ভোট গণনায় জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের অভিযোগ করে বলেন, ‘জালিয়াতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন আসনে ভোট গণনায় অতিরিক্ত দেরি, পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া ফল প্রকাশ, ভুয়া পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর, এমনকি পেনসিল দিয়ে ফল লেখাসহ বিভিন্ন অনিয়ম করা হয়েছে।’ এসব বিষয় নিয়ে প্রথম অধিবেশন থেকেই সংসদে কথা বলবেন তারা।
এদিকে সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদ্য সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে বলে দাবি করেছে জামায়াত। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নায়েবে আমির ও বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, ‘আমরা একটা রাজসাক্ষী পেয়েছি। সেই রাজসাক্ষীর নাম হচ্ছে সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান। তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে এটা প্রকাশ করেছেন, তার ভাষায়—যারা নারীদের উপযুক্ত অধিকারকে নিশ্চিত করতে পারেনি, তারা বিরোধী দলে থাকলেও আমরা কিন্তু তাদের মূলধারায় বা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দিইনি। তখনই বোঝা যায়, যে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা এসেছে, সেটাকে উনি নিজেই স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন। সুতরাং আমি এই সরকারের কাছে দাবি জানাব, রিজওয়ানা হাসানকে তারা কীভাবে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনবেন এবং আওতায় এনে পরিষ্কার যে সিচুয়েশন তিনি তৈরি করেছিলেন, সে সম্পর্কে ওনারা জানবেন, আমাদের জানাবেন, দেশবাসীর কাছেও এটা পরিষ্কার করবেন।’
অন্যদিকে জুলাই সনদ ও গণভোট বাতিল চেয়ে আদালতে রিট করার বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ বিরোধী দল। দলটির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে, মাত্র কয়েকটি ভিন্নমত ছাড়া। যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে জারি করা হয়েছে, সেখানে স্পষ্ট বলা আছে, ‘জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সুপারিশ অনুযায়ী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি এ আদেশ জারি করেছেন।’ এ আদেশটিকেও তারা (সরকারি দল) সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করছেন।
তিনি বলেন, ‘কেন শুধু গণভোট বাতিলের দাবি উঠছে? কেন জাতীয় নির্বাচন বাতিলের দাবি উঠছে না? মাঝখানে আরও ১৩৫টি অধ্যাদেশ রয়েছে, সেগুলোর কী হবে? তাহলে কি আমরা আবার ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যাব? সুতরাং একটি বিপ্লব-পরবর্তী চার্টারকে অপ্রাসঙ্গিক করার উদ্যোগ নেওয়া হলে তা হবে রাজনৈতিক ও আইনি ভুল। বিচার বিভাগের কাঁধে বন্দুক রেখে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করা সঠিক নয়। অতীতে আদালতকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে, যা বুমেরাং হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এর সমাধান হওয়া উচিত।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দলের এক ইফতার মাহফিলে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘চব্বিশের ৩৬ জুলাই ছাত্রজনতার বিপ্লবে আমরা দলমত নির্বিশেষে সবাই শামিল হয়েছিলাম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর সংসদ ও সরকার গঠিত হয়েছে। সরকার ও সংসদের কাছে জনগণের বিপুল প্রত্যাশা। আমরা গতানুগতিক বিরোধী দল হিসেবে এই সংসদে কাজ করতে চাই না। আমরা চাই এই সংসদ হোক অর্থবহ। জনগণের সব চাওয়া-পাওয়ার কেন্দ্র। সরকারি দল তারাও যেমন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন, আমরাও বিরোধী দল হিসেবে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে চাই।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘সরকারের সকল সংগত পদক্ষেপে আমাদের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে। কিন্তু আমাদের বিবেচনায় আমরা যদি দেখি সরকার কোনো অসংগত সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়েছে, আমরা প্রথমে দৃষ্টি আকর্ষণ করব। সরকার আমাদের পরামর্শ গ্রহণ করলে জাতি উপকৃত হবে, আমরা কৃতজ্ঞ হবো। সরকার পরামর্শ গ্রহণ না করলে বিরোধী দলের যে ভূমিকা সেটিই আমরা পালন করব।’
জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘যৌক্তিক দাবি ও ইস্যুতে বিরোধী দল সমালোচনা করবে ও সরকারকে চাপে রাখবে, এটাই স্বাভাবিক। আমরা প্রত্যাশা করি তাই। সরকারের একটা অন্যতম প্রধান কাজ হলো জাতীয় সংসদের বিরোধী দলকে শক্তিশালী করা; শক্তিশালী রাখা, যেন সরকার ‘ইন-ট্র্যাক’ থাকে এবং ভালো কাজ করতে পারে। সংসদকে কার্যকর রাখতে হলে গঠনমূলক আলোচনার বিকল্প নেই। আমরা যে কোনো যৌক্তিক বিতর্ক স্বাগত জানাতে এবং সংসদীয় রীতি মেনেই সব প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত।’
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১২
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৩
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৪৩
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৫