
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৩:০৯
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটির পক্ষ থেকে এই হামলার জন্য বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গেলে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের গাড়িবহরের ওপর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এই হামলায় হান্নান মাসউদসহ আরও ১৫-২০ জন নেতাকর্মী আহত হন।
জামায়াত নেতা আরও বলেন, ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের এই ন্যক্কারজনক হামলা গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাজনৈতিক সহনশীলতার পরিপন্থী। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর প্রকাশ্যে হামলা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিরই বহিঃপ্রকাশ। দেশবাসী মনে করে, যেখানে একজন সংসদ সদস্যের মতো জনপ্রতিনিধির কোনো নিরাপত্তা নেই, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?’
এতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল হতে হবে। অন্যথায় দেশব্যাপী আইনহীনতার সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করতে পারে, যা জাতির জন্য অত্যন্ত অশনিসংকেত।
অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বরিশাল টাইমস
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটির পক্ষ থেকে এই হামলার জন্য বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গেলে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের গাড়িবহরের ওপর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এই হামলায় হান্নান মাসউদসহ আরও ১৫-২০ জন নেতাকর্মী আহত হন।
জামায়াত নেতা আরও বলেন, ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের এই ন্যক্কারজনক হামলা গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাজনৈতিক সহনশীলতার পরিপন্থী। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর প্রকাশ্যে হামলা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিরই বহিঃপ্রকাশ। দেশবাসী মনে করে, যেখানে একজন সংসদ সদস্যের মতো জনপ্রতিনিধির কোনো নিরাপত্তা নেই, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?’
এতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল হতে হবে। অন্যথায় দেশব্যাপী আইনহীনতার সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করতে পারে, যা জাতির জন্য অত্যন্ত অশনিসংকেত।
অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বরিশাল টাইমস

২১ জুন, ২০২৬ ২৩:২৯
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সাইফুল ইসলাম (২২) নামের এক ছাত্রশিবির কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় সালাউদ্দিন নামের আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (২১ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল ইসলাম বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং শিমুল তাইড় গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে মুকুলের কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। ওই সময় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল ইসলাম ও সালাউদ্দিন সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে এমন আচরণের প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুকুল, তার সহোদর ভাই পলাশ এবং জনৈক আশরাফ ধারালো ছুরি দিয়ে সাইফুল ও সালাউদ্দিনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় সালাউদ্দিনকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

২১ জুন, ২০২৬ ১৯:২৬
সিলেটে দুই ওলি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে কাজ শুরুর আলোচিত ঘটনার মধ্যে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সিলেট জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে বর্তমান পদ থেকে প্রত্যাহারপূর্বক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘উপসচিব (সংযুক্ত)’ পদে বদলিপূর্বক পদায়ন করা হলো।
জনস্বার্থে জারীকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন এক সময় মো. সারওয়ার আলমের বদলির আদেশ এলো, যখন সিলেটে দুই ওলির মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে জেলা প্রশাসনের নানা পদক্ষেপ দেশ-বিদেশে আলোচিত হচ্ছে। এমন পদক্ষেপের পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বেশির ভাগ মানুষ প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। এ রকম সময় এমন সিদ্ধান্ত নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ১২ জুন শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান সিলেটে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সেদিনই দরগাহের দানবাক্সগুলোতে তালা দেওয়া হয়।
এরপর ১৮ জুন বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয়। পাশাপাশি নতুন দানবাক্স স্থাপন করে নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যও নিয়োজিত করা হয়।
এর এক দিন পর ২০ জুন শনিবার বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজার প্রাঙ্গণে দান বাক্সের ওপরে ও ডেগে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
এর আগের দিন ১৯ জুন শুক্রবার জুমার নামাজের আগে শাহপরান (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাজার এলাকায় মদ ও গাঁজার আসর বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
যদিও জেলা প্রশাসনের এসব উদ্যোগকে বাড়াবাড়ি ও জোরজবরদস্তি আখ্যায়িত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাজারসংশ্লিষ্টরা। এ রকম পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের বদলির আদেশ নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

২১ জুন, ২০২৬ ১৭:০১
সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু সই করা এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গত বছরের ২১ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেছিলেন সারওয়ার আলম। মাজারগুলোতে যেন মদ-গাঁজার আসর না বসে: সিলেটের ডিসি সারওয়ার
২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আলোচিত ছিলেন। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত ছিলেন তিনি। ভেজাল, অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আলোচিত এবং মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
হঠাৎ ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।তিনবার বঞ্চিত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট উপসচিব পদে পদোন্নতি পান তিনি। এর আগে তিনি বঞ্চিত হলে নিজের ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন।
স্ট্যাটাস দেওয়ার বিষয়টিকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে ‘তিরস্কার’র শাস্তি দেয়। ২০২২ সালের মে মাসে তাকে শাস্তি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সাইফুল ইসলাম (২২) নামের এক ছাত্রশিবির কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় সালাউদ্দিন নামের আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (২১ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল ইসলাম বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং শিমুল তাইড় গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে মুকুলের কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। ওই সময় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল ইসলাম ও সালাউদ্দিন সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে এমন আচরণের প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুকুল, তার সহোদর ভাই পলাশ এবং জনৈক আশরাফ ধারালো ছুরি দিয়ে সাইফুল ও সালাউদ্দিনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় সালাউদ্দিনকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
সিলেটে দুই ওলি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে কাজ শুরুর আলোচিত ঘটনার মধ্যে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সিলেট জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে বর্তমান পদ থেকে প্রত্যাহারপূর্বক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘উপসচিব (সংযুক্ত)’ পদে বদলিপূর্বক পদায়ন করা হলো।
জনস্বার্থে জারীকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন এক সময় মো. সারওয়ার আলমের বদলির আদেশ এলো, যখন সিলেটে দুই ওলির মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে জেলা প্রশাসনের নানা পদক্ষেপ দেশ-বিদেশে আলোচিত হচ্ছে। এমন পদক্ষেপের পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বেশির ভাগ মানুষ প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। এ রকম সময় এমন সিদ্ধান্ত নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ১২ জুন শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান সিলেটে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সেদিনই দরগাহের দানবাক্সগুলোতে তালা দেওয়া হয়।
এরপর ১৮ জুন বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয়। পাশাপাশি নতুন দানবাক্স স্থাপন করে নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যও নিয়োজিত করা হয়।
এর এক দিন পর ২০ জুন শনিবার বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজার প্রাঙ্গণে দান বাক্সের ওপরে ও ডেগে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
এর আগের দিন ১৯ জুন শুক্রবার জুমার নামাজের আগে শাহপরান (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাজার এলাকায় মদ ও গাঁজার আসর বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
যদিও জেলা প্রশাসনের এসব উদ্যোগকে বাড়াবাড়ি ও জোরজবরদস্তি আখ্যায়িত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাজারসংশ্লিষ্টরা। এ রকম পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের বদলির আদেশ নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু সই করা এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গত বছরের ২১ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেছিলেন সারওয়ার আলম। মাজারগুলোতে যেন মদ-গাঁজার আসর না বসে: সিলেটের ডিসি সারওয়ার
২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আলোচিত ছিলেন। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত ছিলেন তিনি। ভেজাল, অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আলোচিত এবং মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
হঠাৎ ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।তিনবার বঞ্চিত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট উপসচিব পদে পদোন্নতি পান তিনি। এর আগে তিনি বঞ্চিত হলে নিজের ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন।
স্ট্যাটাস দেওয়ার বিষয়টিকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে ‘তিরস্কার’র শাস্তি দেয়। ২০২২ সালের মে মাসে তাকে শাস্তি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
২২ জুন, ২০২৬ ০১:০১
২১ জুন, ২০২৬ ২৩:২৯
২১ জুন, ২০২৬ ১৯:৫১
২১ জুন, ২০২৬ ১৯:২৬