প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘মাত্র কদিন আগের কথা, আমরা এই দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সকলে মিলে স্বৈরাচারকে হটিয়েছি। তার মানে আমরা কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের জন্য যে কাজগুলো ভালো, সেই কাজগুলো করলে সকলে উপকৃত হবে। আমাদের পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। এলাকার পরিবেশের যদি খেয়াল না রাখি, তাহলে ভুক্তভোগী আমরাই হব।’
আজ সোমবার দুপুরে বরিশাল নগরের কীর্তনখোলা নদীর শাখা সাগরদী খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী এক দিনের সফরে এসে প্রথম গৌরনদী এবং পরে বরিশাল নগরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। জাঁকজমকহীন এবং সাদামাটাভাবে এ কর্মসূচি হলেও দিনভর নেতা-কর্মীদের সাংগঠনিক ভিতকে ঝাঁকি দিয়ে সতেজ করে দিয়ে গেলেন দলীয় প্রধান।
প্রধানমন্ত্রী দুপুরে সাগরদী খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণকালে আরও বলেন, ‘আসুন, আমরা প্রতিশ্রুতি দিই আমাদের দেশের পরিবেশ যেন সুন্দর থাকে। আমরা যেখানে বসবাস করি, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।’ তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশে বলেন, এই সাগরদী খালের পাড়ে সাড়ে তিন শ গাছ রোপণ করা হবে। এলাকাবাসীর দায়িত্ব হলো এসব গাছের যত্ন নেওয়া।
প্রধানমন্ত্রীর এ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সারওয়ার এমপি, উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং জেলা পরিষদ সদস্য আকন কুদ্দুসুর রহমান প্রমুখ।
এর আগে সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাটাজোর অশ্বিনীকুমার ইনস্টিটিউশন মাঠে প্রধানমন্ত্রী উপকারভোগীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে নারীদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি মেধাবী ছাত্রীদের বৃত্তি দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে দেশের ৪ কোটি পরিবারের নারীপ্রধানের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গড়ে প্রতিটি উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার পরিবার এ সুবিধা পাবে।
সরকারপ্রধান বললেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের জন্য প্রথম শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার স্নাতক পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার সুযোগ চালু করবে। যেসব ছাত্রী ভালো ফল করবে, তাদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে।
বিকেলে বরিশাল নগরের শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সভায় দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান ভাঙা-কুয়াকাটা ৬ লেন করে পায়রা বন্দরকে সচল করার আহ্বান জানান। দেশের অর্থনীতিতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি। এ সময় হলভর্তি নেতা-কর্মীরাও ৬ লেনের দাবি জানান।
তবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আপনারা আশা করেছেন ৬ লেনের কথা বলব। আমি কিন্তু হ্যাঁ বলিনি। কেননা, বুঝেসুঝে কথা দিতে হয়।’
সাংগঠনিক সভায় তারেক রহমান বলেন, ‘দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শিগগির শুরু করব। কিন্তু এ কার্যক্রম করতে গিয়ে হাইব্রিড এবং গুপ্ত—এই দুটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘দলে মতপার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু অনৈক্য করা যাবে না। আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে হাইব্রিড, গুপ্ত ফ্যাসিস্ট ঢুকতে পারবে না।’
প্রধানমন্ত্রী নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রায় একটি চক্র অঘটন ঘটাতে পারে। আপনারা প্রশাসনের পাশাপাশি সতর্ক থাকবেন।’
মজিবর রহমান সরওয়ারের সভাপতিত্বে সাংগঠনিক এ সভায় প্রায় ৬০০ নেতা-কর্মী অংশ নেন। সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকার উদ্দেশে বরিশাল ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’

১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:১৭
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ভাঙাচোরা সানুহার-ধামুড়া-সাতলা সড়ক নিয়ে বছরের পর বছর জনদুর্ভোগ চললেও সমাধান মিলছে না।
সড়ক সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর আন্দোলনের পর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়কে ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
তার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের হুমকি ও শাসানোর অভিযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়ম, দুর্নীতি ও তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
সড়ক সংস্কারের দাবিতে গত ৯ আগস্ট বামরাইল ইউনিয়নের ঈদগাহ বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ রেখে তারা দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি করেন। শত শত মানুষের অংশগ্রহণে বিক্ষোভে দীর্ঘদিনের জনক্ষোভ প্রকাশ পায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন খানাখন্দ, গর্ত ও কাদায় পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়ে ঝুঁকি।
প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, শিশু, বৃদ্ধ, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অথচ সংস্কারের নামে দীর্ঘদিন ধরে চলছে শুধু আশ্বাস।
এরমধ্যেই আন্দোলনকারীদের হুমকি-শাসানোর অভিযোগে প্রকৌশলী সুব্রত রায়কে ঘিরে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তার সঙ্গে কথোপকথনের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় শুরু হয় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
তবে অডিওটির সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রকৌশলী সুব্রত রায়ও কল রেকর্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
অপরদিকে সড়ক নিয়ে প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি (প্রকৌশলী) বলেন, রাস্তার পাশ দিয়ে পানি নামানো না গেলে এ রাস্তা এক মাসও টিকবে না।
তিনি আরও বলেন, ঠিকাদার কাজ শুরু করার আগে জনগণের চলাচলের জন্য কিছু করা যাবেনা।
প্রকৌশলীর এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের স্থায়ীত্ব যদি পানি নিষ্কাশনের ওপর নির্ভর করে, তাহলে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সময় পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি কেন?
জনগণের চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না করেই কাজ শুরু হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
অপরদিকে প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা, সানুহার-ধামুড়া-সাতলা সড়কের প্রকল্প, টেন্ডার, ব্যয়, কাজের মান ও তদারকির বিষয়গুলো তদন্তের পাশাপাশি প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ভাঙাচোরা সানুহার-ধামুড়া-সাতলা সড়ক নিয়ে বছরের পর বছর জনদুর্ভোগ চললেও সমাধান মিলছে না।
সড়ক সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর আন্দোলনের পর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়কে ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
তার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের হুমকি ও শাসানোর অভিযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়ম, দুর্নীতি ও তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
সড়ক সংস্কারের দাবিতে গত ৯ আগস্ট বামরাইল ইউনিয়নের ঈদগাহ বাজারে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ রেখে তারা দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি করেন। শত শত মানুষের অংশগ্রহণে বিক্ষোভে দীর্ঘদিনের জনক্ষোভ প্রকাশ পায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন খানাখন্দ, গর্ত ও কাদায় পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়ে ঝুঁকি।
প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, শিশু, বৃদ্ধ, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অথচ সংস্কারের নামে দীর্ঘদিন ধরে চলছে শুধু আশ্বাস।
এরমধ্যেই আন্দোলনকারীদের হুমকি-শাসানোর অভিযোগে প্রকৌশলী সুব্রত রায়কে ঘিরে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তার সঙ্গে কথোপকথনের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় শুরু হয় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
তবে অডিওটির সত্যতা ও পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রকৌশলী সুব্রত রায়ও কল রেকর্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
অপরদিকে সড়ক নিয়ে প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি (প্রকৌশলী) বলেন, রাস্তার পাশ দিয়ে পানি নামানো না গেলে এ রাস্তা এক মাসও টিকবে না।
তিনি আরও বলেন, ঠিকাদার কাজ শুরু করার আগে জনগণের চলাচলের জন্য কিছু করা যাবেনা।
প্রকৌশলীর এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের স্থায়ীত্ব যদি পানি নিষ্কাশনের ওপর নির্ভর করে, তাহলে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সময় পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি কেন?
জনগণের চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না করেই কাজ শুরু হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
অপরদিকে প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা, সানুহার-ধামুড়া-সাতলা সড়কের প্রকল্প, টেন্ডার, ব্যয়, কাজের মান ও তদারকির বিষয়গুলো তদন্তের পাশাপাশি প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:০৪
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে রাতের মধ্যে বরিশাল-পটুয়াখালীসহ দেশের ১৫ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে সংস্থাটি। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলামের দেওয়া রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ রাত ১টার মধ্যে বরিশাল, পটুয়াখালী, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে সমুদ্রবন্দরের সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সাগরে এই নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।’
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে রাতের মধ্যে বরিশাল-পটুয়াখালীসহ দেশের ১৫ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে সংস্থাটি। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলামের দেওয়া রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ রাত ১টার মধ্যে বরিশাল, পটুয়াখালী, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে সমুদ্রবন্দরের সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সাগরে এই নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।’

১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৫০
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে অর্থাৎ আওয়ামী লীগের বিএনপির সাড়ে চার হাজারের বেশি নেতাকর্মী ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন। সাতশর অধিক নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছিলেন। যাদের স্বজনেরা এখনো তাহাজ্জুদ নামাজ শেষে জায়নামাজে বসে স্বজন ফেরার প্রতীক্ষায় থাকে। গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে বরিশালের গৌরনদীতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়ার অবিস্মরণীয় ভূমিকা ও বর্তমান প্রেক্ষিত শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির দিশারি হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পেরেছিলেন তার একমাত্র কারণ পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার মতো স্ত্রী। জিয়াউর রহমানের প্রতিটি কাজের ছায়াসঙ্গী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ’
তিনি বলেন, ‘দেশি-বিদেশ ষড়যন্ত্রে যখন জিয়াউর রহমানকে হত্যাকাণ্ডের শিকার ঘটানো হয়। তখন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গৃহবধূ। নাবালক দুইটি সন্তান নিয়ে যখন পরিবারের হাল ধরেছিলেন তিনি, তখন বিএনপির অবস্থাও করুণ। তখন বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা বলেছিলেন, আপনাকে বিএনপির হাল ধরতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘একদিকে দুটি নাবালক সন্তানসহ সংসারের হাল। অন্যদিকে গোটা বিএনপি পরিবারের হাল ধরে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও স্বৈরাচার হটানোর জন্য বেগম খালেদা জিয়া আপষহীন নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানুষের জন্য মুক্তির দিসারী ছিলেন।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা জুলাইকে ছোট করে দেখতে চাইনা। জুলাই বিপ্লব সফল হয়েছে বিগত ১৬ বছর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের যে সূচনা হয়েছিল তার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে।’
আলোচনা সভায় সভা প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্যসচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপি’র আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব সফিকুর রহমান শরীফ স্বপন প্রমুখ।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে অর্থাৎ আওয়ামী লীগের বিএনপির সাড়ে চার হাজারের বেশি নেতাকর্মী ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন। সাতশর অধিক নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছিলেন। যাদের স্বজনেরা এখনো তাহাজ্জুদ নামাজ শেষে জায়নামাজে বসে স্বজন ফেরার প্রতীক্ষায় থাকে। গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে বরিশালের গৌরনদীতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়ার অবিস্মরণীয় ভূমিকা ও বর্তমান প্রেক্ষিত শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির দিশারি হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পেরেছিলেন তার একমাত্র কারণ পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার মতো স্ত্রী। জিয়াউর রহমানের প্রতিটি কাজের ছায়াসঙ্গী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ’
তিনি বলেন, ‘দেশি-বিদেশ ষড়যন্ত্রে যখন জিয়াউর রহমানকে হত্যাকাণ্ডের শিকার ঘটানো হয়। তখন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গৃহবধূ। নাবালক দুইটি সন্তান নিয়ে যখন পরিবারের হাল ধরেছিলেন তিনি, তখন বিএনপির অবস্থাও করুণ। তখন বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা বলেছিলেন, আপনাকে বিএনপির হাল ধরতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘একদিকে দুটি নাবালক সন্তানসহ সংসারের হাল। অন্যদিকে গোটা বিএনপি পরিবারের হাল ধরে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও স্বৈরাচার হটানোর জন্য বেগম খালেদা জিয়া আপষহীন নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানুষের জন্য মুক্তির দিসারী ছিলেন।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা জুলাইকে ছোট করে দেখতে চাইনা। জুলাই বিপ্লব সফল হয়েছে বিগত ১৬ বছর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের যে সূচনা হয়েছিল তার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে।’
আলোচনা সভায় সভা প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্যসচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপি’র আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব সফিকুর রহমান শরীফ স্বপন প্রমুখ।

১৩ জুলাই, ২০২৬ ২১:১৩
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘মাত্র কদিন আগের কথা, আমরা এই দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সকলে মিলে স্বৈরাচারকে হটিয়েছি। তার মানে আমরা কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের জন্য যে কাজগুলো ভালো, সেই কাজগুলো করলে সকলে উপকৃত হবে। আমাদের পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। এলাকার পরিবেশের যদি খেয়াল না রাখি, তাহলে ভুক্তভোগী আমরাই হব।’
আজ সোমবার দুপুরে বরিশাল নগরের কীর্তনখোলা নদীর শাখা সাগরদী খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী এক দিনের সফরে এসে প্রথম গৌরনদী এবং পরে বরিশাল নগরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। জাঁকজমকহীন এবং সাদামাটাভাবে এ কর্মসূচি হলেও দিনভর নেতা-কর্মীদের সাংগঠনিক ভিতকে ঝাঁকি দিয়ে সতেজ করে দিয়ে গেলেন দলীয় প্রধান।
প্রধানমন্ত্রী দুপুরে সাগরদী খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণকালে আরও বলেন, ‘আসুন, আমরা প্রতিশ্রুতি দিই আমাদের দেশের পরিবেশ যেন সুন্দর থাকে। আমরা যেখানে বসবাস করি, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।’ তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশে বলেন, এই সাগরদী খালের পাড়ে সাড়ে তিন শ গাছ রোপণ করা হবে। এলাকাবাসীর দায়িত্ব হলো এসব গাছের যত্ন নেওয়া।
প্রধানমন্ত্রীর এ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সারওয়ার এমপি, উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং জেলা পরিষদ সদস্য আকন কুদ্দুসুর রহমান প্রমুখ।
এর আগে সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাটাজোর অশ্বিনীকুমার ইনস্টিটিউশন মাঠে প্রধানমন্ত্রী উপকারভোগীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে নারীদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি মেধাবী ছাত্রীদের বৃত্তি দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে দেশের ৪ কোটি পরিবারের নারীপ্রধানের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গড়ে প্রতিটি উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার পরিবার এ সুবিধা পাবে।
সরকারপ্রধান বললেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের জন্য প্রথম শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার স্নাতক পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার সুযোগ চালু করবে। যেসব ছাত্রী ভালো ফল করবে, তাদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে।
বিকেলে বরিশাল নগরের শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সভায় দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান ভাঙা-কুয়াকাটা ৬ লেন করে পায়রা বন্দরকে সচল করার আহ্বান জানান। দেশের অর্থনীতিতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি। এ সময় হলভর্তি নেতা-কর্মীরাও ৬ লেনের দাবি জানান।
তবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আপনারা আশা করেছেন ৬ লেনের কথা বলব। আমি কিন্তু হ্যাঁ বলিনি। কেননা, বুঝেসুঝে কথা দিতে হয়।’
সাংগঠনিক সভায় তারেক রহমান বলেন, ‘দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শিগগির শুরু করব। কিন্তু এ কার্যক্রম করতে গিয়ে হাইব্রিড এবং গুপ্ত—এই দুটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘দলে মতপার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু অনৈক্য করা যাবে না। আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে হাইব্রিড, গুপ্ত ফ্যাসিস্ট ঢুকতে পারবে না।’
প্রধানমন্ত্রী নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রায় একটি চক্র অঘটন ঘটাতে পারে। আপনারা প্রশাসনের পাশাপাশি সতর্ক থাকবেন।’
মজিবর রহমান সরওয়ারের সভাপতিত্বে সাংগঠনিক এ সভায় প্রায় ৬০০ নেতা-কর্মী অংশ নেন। সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকার উদ্দেশে বরিশাল ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’