পৃথিবীর প্রাণঘাতী ঝড় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশের উপকূলে সংঘটিত ঝড় ‘সাইক্লোন ভোলা’। ছবি : সংগৃহীত
প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ভোলা সাইক্লোনের আজ ৫৫ বছর। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বাংলাদেশের দক্ষিণা পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকার ৫ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। উপকূলীয় দ্বীপ ভোলা ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন চরসমূহের বহু এলাকার ঘরবাড়ি, গবাদিপশু নিশ্চিহ্ন হয়ে বিরান জনপদে পরিণত হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতার কথা মনে করে আজও শিউরে ওঠেন অনেকে। ওই ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে ভোলা এবং তৎকালীন নোয়াখালী উপকূলে। তৎকালীন নোয়াখালী উপকূলের রামগতি, হাতিয়া, সন্দ্বীপ এবং ভোলার মনপুরা ও পটুয়াখালী পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে। সেই স্মৃতি বয়ে আজও যারা বেঁচে রয়েছেন কিংবা স্বজনদের হারিয়েছেন, কেবল তারাই অনুভব করেন সেদিনের ভয়াবহতা।
ধারণা করা হয়, সেই দুর্যোগে শুধু ভোলা জেলাতেই লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সেদিন উত্তাল মেঘনা তেঁতুলিয়া নদী আর তার শাখা-প্রশাখাগুলো রূপান্তরিত হয় লাশের নদীতে। এজন্য একে ‘ভোলা সাইক্লোন’ও বলা হয়ে থাকে।
৭০-এর সেই ভয়াবহ সাইক্লোনের কালো রাতের কথা মনে হলে ধূসর স্মৃতিতে চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসে বলে স্মৃতি রোমন্থন করেন কালের সাক্ষী ভোলার প্রবীণ সাংবাদিক এম এ তাহের। তিনি বলেন, আমরা কয়েকজন ভোলা সদর থেকে কলাগাছ দিয়ে ভেউর্কা বানিয়ে দৌলতখানে যাওয়ার পথে সারি সারি মৃত লাশ আর লাশ। লাশ বাঁশ দিয়ে সরিয়ে যাওয়ার পথে দেখেছি সাপ আর মানুষ দৌলতখানের চৌকিঘাটে জড়িয়ে পড়ে আছে। স্নেহময়ী মা তার শিশুকে কোলে জড়িয়ে পড়ে আছে মেঘনার পাড়ে। সোনাপুরের একটি বাগানে গাছের ডালে এক মহিলার লাশ ঝুলছে। এমনিভাবে মনপুরা, চরফ্যাশন, লালমোহন, তজুমুদ্দিন ও দৌলতখানসহ সমগ্র জেলায় মানুষ আর গবাদিপশু বঙ্গোপসাগরের উত্তাল পানিতে ভেসে গেছে। জনশূন্য হয়ে পড়েছিল দ্বীপ ভোলা।
সেই সময়কার প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ভোলার সমস্ত জনপদ বিধ্বস্ত করে দিয়েছিল আর নদীতে গবাদি পশুসহ বনি আদম সন্তান সারিবদ্ধভাবে পড়ে ছিল। তৎকালীন পূর্বদেশ পত্রিকার ভোলা প্রতিনিধি ও বর্তমান দৈনিক বাংলার কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক এম হাবিবুর রহমান প্রেরিত সচিত্র প্রতিবেদন ছিল ‘বাংলার মানুষ কাঁদো, ভোলার গাছে গাছে ঝুলছে মানুষের লাশ’। আর এ সংবাদ বিশ্ব জানতে পেরেছিল চার দিন পর। সেই চিত্রটি আজও ঢাকা প্রেস ইনস্টিটিউট-এ কালের সাক্ষী হিসেবে বাঁধানো রয়েছে।
৭০-এর ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের পর মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ধ্বংসযজ্ঞ ও বেদনাহতদের দেখতে আসেন ভোলা, এসব দৃশ্য দেখে শোকবিহ্বল হয়ে পড়েন তিনি।
প্রখ্যাত সাংবাদিক মরহুম এম সানাউল্লাহ্ নূরীর এক লেখায় তিনি উল্লেখ করেছেন, (সত্তরের জলোচ্ছ্বাসের পর) ‘আমরা রামগতি বাজারের নিকটবর্তী চর এলাকায় পৌঁছালাম। সেখানে স্তূপীকৃত লাশ এবং মৃত গবাদিপশুর যে হাল দেখলাম, তা ভাষায় অবর্ণনীয়। রামগতি বাজারের একজন শৌখিন ফটোগ্রাফার আমাকে ফুলের মতো ফুটফুটে চারটি শিশুর ছবি দিয়েছিলেন। সেটি আমি ছেপেছি দৈনিক বাংলায়।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমি আমার পত্রিকার বিশেষ সংবাদদাতার দায়িত্ব নিয়ে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে থেকে একটানা কয়েক দিন ঢাকায় দৈনিক বাংলার জন্য রিপোর্ট পাঠাচ্ছিলাম। এতে কাগজের প্রচার সংখ্যা ৩০ হাজার থেকে এক লাখে উঠেছিল। চট্টগ্রামে সে সময় এক টাকা দামের কাগজ পাঁচ-ছয় টাকা বিক্রি হচ্ছিল। আমরা চরবাদাম, চরসীতা এবং চরজব্বরে ধানক্ষেতগুলোতে নাকেমুখে লোনা পানি লেপ্টানো হাজার হাজার লাশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখেছি। সাগরে ভাসতে দেখেছি অসংখ্য লাশ। রামগতি, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, ভোলা ও পটুয়াখালী পরিণত হয়েছিল ধ্বংসস্তূপে। একটি গাছের ৩০ ফুট উঁচু মাথায় অসহায় দুর্গত কুকুরকে দেখেছি হাহাকার করতে। কোথাও পানি উঠেছে ৪০ ফুট ওপরে। গোটা উপকূল অঞ্চলে প্রায় অর্ধকোটি লোক মৃত্যুবরণ করেছে। ১২৮৩ সালের গোর্কির চেয়ে বহুগুণে করুণ এবং ভয়াবহ ছিল ’৭০ সালের গোর্কি। এর ধ্বংসলীলা তো আমরা নিজের চোখেই দেখেছি। সারা দুনিয়ায় সংবাদপত্রের প্রধান সংবাদ হয়েছিল এই প্রলয় ভয়াল দুর্যোগের খবর।’
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এ ঘূর্ণিঝড়কে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে উল্লেখ করেছে। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ১৩ নভেম্বর ভোর পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় প্রথমে ১৮৫ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানলেও পরে তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে তা ২০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। এ বছর সেই প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের ৫৫ বছর পূর্ণ হলেও ভয়াল সেই ঝড়ের অর্ধশতাব্দী পর উপকূলের মানুষ এখনো অরক্ষিত, অবহেলিত।

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:০৮
ভোলার মনপুরায় উপজেলা পরিষদের সরকারি জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের জন্য ভিটা বরাদ্দের উদ্যোগের প্রতিবাদে দোকানপাট বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করেছেন হাজীর হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
পরে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ ও ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম আহমেদের মনপুরায় আগমন উপলক্ষে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় তাঁরা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি ও অভিযোগপত্র দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মনপুরা উপজেলা সদরের সবচেয়ে বড় বাজার হাজীর হাটে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও মন্দা চলছে। এর মধ্যে বাজার থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে উপজেলা পরিষদের সরকারি জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বর্তমান বাজারের চার শতাধিক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁরা এ বরাদ্দ বন্ধের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাঁকে বদলির দাবি জানান। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রায় এক একর জমি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কেওড়া বাগান হিসেবে পরিত্যক্ত ছিল। প্রায় ২০ দিন আগে ওই জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের জন্য ভিটা বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে কিছু ভিটার জন্য এক লাখ টাকা এবং কিছু ভিটার জন্য ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে পে-অর্ডার আহ্বান করা হয়।
বরাদ্দের এ উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে সরব হন হাজীর হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপিও দেন।
পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ওই জমির বরাদ্দ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন। এরপরও সরকারি জমিতে ভিটা বরাদ্দ বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবারের ধর্মঘট ও বিক্ষোভের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
ভোলার মনপুরায় উপজেলা পরিষদের সরকারি জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের জন্য ভিটা বরাদ্দের উদ্যোগের প্রতিবাদে দোকানপাট বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করেছেন হাজীর হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
পরে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ ও ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম আহমেদের মনপুরায় আগমন উপলক্ষে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় তাঁরা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি ও অভিযোগপত্র দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মনপুরা উপজেলা সদরের সবচেয়ে বড় বাজার হাজীর হাটে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও মন্দা চলছে। এর মধ্যে বাজার থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে উপজেলা পরিষদের সরকারি জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বর্তমান বাজারের চার শতাধিক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁরা এ বরাদ্দ বন্ধের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাঁকে বদলির দাবি জানান। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রায় এক একর জমি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কেওড়া বাগান হিসেবে পরিত্যক্ত ছিল। প্রায় ২০ দিন আগে ওই জমিতে নতুন বাজার নির্মাণের জন্য ভিটা বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে কিছু ভিটার জন্য এক লাখ টাকা এবং কিছু ভিটার জন্য ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে পে-অর্ডার আহ্বান করা হয়।
বরাদ্দের এ উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে সরব হন হাজীর হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপিও দেন।
পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ওই জমির বরাদ্দ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন। এরপরও সরকারি জমিতে ভিটা বরাদ্দ বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবারের ধর্মঘট ও বিক্ষোভের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৪০
ভোলার গ্যাস ভোলার উন্নয়নে ব্যবহারের দাবি হাফিজ উদ্দিন আহমেদের
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যেখানে যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সাহস পেতেন না। অর্থ-সম্পদ, জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অযোগ্য ও অসৎ ব্যক্তিদের দাপটে সৎ ও যোগ্য মানুষেরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরে মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন দেখেনি। তাই নির্বাচন কমিশনকে এমন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হয় এবং নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে। বর্তমানে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ভোলার গ্যাস ভোলার মানুষের কাজে লাগানো তাদের ন্যায্য অধিকার।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ভোলার গ্যাস স্থানীয় উন্নয়নে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ভোলার গ্যাস ভোলার উন্নয়নে ব্যবহারের দাবি হাফিজ উদ্দিন আহমেদের
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যেখানে যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সাহস পেতেন না। অর্থ-সম্পদ, জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অযোগ্য ও অসৎ ব্যক্তিদের দাপটে সৎ ও যোগ্য মানুষেরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরে মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন দেখেনি। তাই নির্বাচন কমিশনকে এমন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হয় এবং নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে। বর্তমানে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ভোলার গ্যাস ভোলার মানুষের কাজে লাগানো তাদের ন্যায্য অধিকার।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ভোলার গ্যাস স্থানীয় উন্নয়নে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:১৯
সাইবার সুরক্ষা আইনসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইন সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। আইনগুলোকে যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, সাইবার সিকিউরিটিসহ প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমন একটি টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন করতে চায় সরকার, যাতে গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ সমানভাবে সুরক্ষা পান। আইন সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অচিরেই এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সম্প্রতি নেত্রকোনায় এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু সাংবাদিক বা নির্দিষ্ট কোনো পেশাজীবী নয়, রাষ্ট্রীয় আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অপরাধ সংঘটিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ীই তার বিচার হবে।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। হিন্দু-মুসলমানসহ দেশের সব নাগরিক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাচ্ছেন—এটি আনন্দের বিষয়। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
পূজা কমিটির নেতাদের বরাত দিয়ে তথ্যমন্ত্রী জানান, এবার পূজা চলাকালে ভোলায় কোথাও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, ভোলা সদরের ২৯টি পূজামণ্ডপে ব্যক্তিগতভাবে মোট ২৯ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। বুধবার রাতে তিনি জেলা শহরের বিকাশ মজুমদার বাড়ির পূজামণ্ডপ, অনুজকাহালী লেনের পূজামণ্ডপ, মদনমোহন মন্দির, শতদল বিকাশ ক্লাবসংলগ্ন পূজামণ্ডপ, মিহিরলাল সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ, লক্ষ্মী গোবিন্দ মন্দির, বাপ্তা মহাজনের পোল পূজামণ্ডপ, বাপ্তা শক্তি সংঘ পূজামণ্ডপ ও সার্কুলার রোডের পূজামণ্ডপসহ মোট নয়টি মন্দির পরিদর্শন করেন।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
সাইবার সুরক্ষা আইনসহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইন সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। আইনগুলোকে যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, সাইবার সিকিউরিটিসহ প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমন একটি টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন করতে চায় সরকার, যাতে গণমাধ্যমকর্মী, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ সমানভাবে সুরক্ষা পান। আইন সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অচিরেই এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সম্প্রতি নেত্রকোনায় এক সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু সাংবাদিক বা নির্দিষ্ট কোনো পেশাজীবী নয়, রাষ্ট্রীয় আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অপরাধ সংঘটিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ীই তার বিচার হবে।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। হিন্দু-মুসলমানসহ দেশের সব নাগরিক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাচ্ছেন—এটি আনন্দের বিষয়। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
পূজা কমিটির নেতাদের বরাত দিয়ে তথ্যমন্ত্রী জানান, এবার পূজা চলাকালে ভোলায় কোথাও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, ভোলা সদরের ২৯টি পূজামণ্ডপে ব্যক্তিগতভাবে মোট ২৯ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। বুধবার রাতে তিনি জেলা শহরের বিকাশ মজুমদার বাড়ির পূজামণ্ডপ, অনুজকাহালী লেনের পূজামণ্ডপ, মদনমোহন মন্দির, শতদল বিকাশ ক্লাবসংলগ্ন পূজামণ্ডপ, মিহিরলাল সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ, লক্ষ্মী গোবিন্দ মন্দির, বাপ্তা মহাজনের পোল পূজামণ্ডপ, বাপ্তা শক্তি সংঘ পূজামণ্ডপ ও সার্কুলার রোডের পূজামণ্ডপসহ মোট নয়টি মন্দির পরিদর্শন করেন।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

১২ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:৫৫
প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ভোলা সাইক্লোনের আজ ৫৫ বছর। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বাংলাদেশের দক্ষিণা পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকার ৫ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। উপকূলীয় দ্বীপ ভোলা ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন চরসমূহের বহু এলাকার ঘরবাড়ি, গবাদিপশু নিশ্চিহ্ন হয়ে বিরান জনপদে পরিণত হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতার কথা মনে করে আজও শিউরে ওঠেন অনেকে। ওই ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে ভোলা এবং তৎকালীন নোয়াখালী উপকূলে। তৎকালীন নোয়াখালী উপকূলের রামগতি, হাতিয়া, সন্দ্বীপ এবং ভোলার মনপুরা ও পটুয়াখালী পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে। সেই স্মৃতি বয়ে আজও যারা বেঁচে রয়েছেন কিংবা স্বজনদের হারিয়েছেন, কেবল তারাই অনুভব করেন সেদিনের ভয়াবহতা।
ধারণা করা হয়, সেই দুর্যোগে শুধু ভোলা জেলাতেই লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সেদিন উত্তাল মেঘনা তেঁতুলিয়া নদী আর তার শাখা-প্রশাখাগুলো রূপান্তরিত হয় লাশের নদীতে। এজন্য একে ‘ভোলা সাইক্লোন’ও বলা হয়ে থাকে।
৭০-এর সেই ভয়াবহ সাইক্লোনের কালো রাতের কথা মনে হলে ধূসর স্মৃতিতে চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসে বলে স্মৃতি রোমন্থন করেন কালের সাক্ষী ভোলার প্রবীণ সাংবাদিক এম এ তাহের। তিনি বলেন, আমরা কয়েকজন ভোলা সদর থেকে কলাগাছ দিয়ে ভেউর্কা বানিয়ে দৌলতখানে যাওয়ার পথে সারি সারি মৃত লাশ আর লাশ। লাশ বাঁশ দিয়ে সরিয়ে যাওয়ার পথে দেখেছি সাপ আর মানুষ দৌলতখানের চৌকিঘাটে জড়িয়ে পড়ে আছে। স্নেহময়ী মা তার শিশুকে কোলে জড়িয়ে পড়ে আছে মেঘনার পাড়ে। সোনাপুরের একটি বাগানে গাছের ডালে এক মহিলার লাশ ঝুলছে। এমনিভাবে মনপুরা, চরফ্যাশন, লালমোহন, তজুমুদ্দিন ও দৌলতখানসহ সমগ্র জেলায় মানুষ আর গবাদিপশু বঙ্গোপসাগরের উত্তাল পানিতে ভেসে গেছে। জনশূন্য হয়ে পড়েছিল দ্বীপ ভোলা।
সেই সময়কার প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ভোলার সমস্ত জনপদ বিধ্বস্ত করে দিয়েছিল আর নদীতে গবাদি পশুসহ বনি আদম সন্তান সারিবদ্ধভাবে পড়ে ছিল। তৎকালীন পূর্বদেশ পত্রিকার ভোলা প্রতিনিধি ও বর্তমান দৈনিক বাংলার কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক এম হাবিবুর রহমান প্রেরিত সচিত্র প্রতিবেদন ছিল ‘বাংলার মানুষ কাঁদো, ভোলার গাছে গাছে ঝুলছে মানুষের লাশ’। আর এ সংবাদ বিশ্ব জানতে পেরেছিল চার দিন পর। সেই চিত্রটি আজও ঢাকা প্রেস ইনস্টিটিউট-এ কালের সাক্ষী হিসেবে বাঁধানো রয়েছে।
৭০-এর ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের পর মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ধ্বংসযজ্ঞ ও বেদনাহতদের দেখতে আসেন ভোলা, এসব দৃশ্য দেখে শোকবিহ্বল হয়ে পড়েন তিনি।
প্রখ্যাত সাংবাদিক মরহুম এম সানাউল্লাহ্ নূরীর এক লেখায় তিনি উল্লেখ করেছেন, (সত্তরের জলোচ্ছ্বাসের পর) ‘আমরা রামগতি বাজারের নিকটবর্তী চর এলাকায় পৌঁছালাম। সেখানে স্তূপীকৃত লাশ এবং মৃত গবাদিপশুর যে হাল দেখলাম, তা ভাষায় অবর্ণনীয়। রামগতি বাজারের একজন শৌখিন ফটোগ্রাফার আমাকে ফুলের মতো ফুটফুটে চারটি শিশুর ছবি দিয়েছিলেন। সেটি আমি ছেপেছি দৈনিক বাংলায়।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমি আমার পত্রিকার বিশেষ সংবাদদাতার দায়িত্ব নিয়ে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে থেকে একটানা কয়েক দিন ঢাকায় দৈনিক বাংলার জন্য রিপোর্ট পাঠাচ্ছিলাম। এতে কাগজের প্রচার সংখ্যা ৩০ হাজার থেকে এক লাখে উঠেছিল। চট্টগ্রামে সে সময় এক টাকা দামের কাগজ পাঁচ-ছয় টাকা বিক্রি হচ্ছিল। আমরা চরবাদাম, চরসীতা এবং চরজব্বরে ধানক্ষেতগুলোতে নাকেমুখে লোনা পানি লেপ্টানো হাজার হাজার লাশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখেছি। সাগরে ভাসতে দেখেছি অসংখ্য লাশ। রামগতি, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, ভোলা ও পটুয়াখালী পরিণত হয়েছিল ধ্বংসস্তূপে। একটি গাছের ৩০ ফুট উঁচু মাথায় অসহায় দুর্গত কুকুরকে দেখেছি হাহাকার করতে। কোথাও পানি উঠেছে ৪০ ফুট ওপরে। গোটা উপকূল অঞ্চলে প্রায় অর্ধকোটি লোক মৃত্যুবরণ করেছে। ১২৮৩ সালের গোর্কির চেয়ে বহুগুণে করুণ এবং ভয়াবহ ছিল ’৭০ সালের গোর্কি। এর ধ্বংসলীলা তো আমরা নিজের চোখেই দেখেছি। সারা দুনিয়ায় সংবাদপত্রের প্রধান সংবাদ হয়েছিল এই প্রলয় ভয়াল দুর্যোগের খবর।’
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এ ঘূর্ণিঝড়কে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে উল্লেখ করেছে। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ১৩ নভেম্বর ভোর পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় প্রথমে ১৮৫ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানলেও পরে তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে তা ২০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। এ বছর সেই প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের ৫৫ বছর পূর্ণ হলেও ভয়াল সেই ঝড়ের অর্ধশতাব্দী পর উপকূলের মানুষ এখনো অরক্ষিত, অবহেলিত।
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:২০
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:২৯
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:২৮
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩৭