
০৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ২২:৪১
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে ভোটগ্রহণ পরিচালনা নিয়ে চরম প্রশাসনিক সংকটে পড়তে পারে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা শূন্য থাকায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিকল্প পন্থায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে গেলে নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক, বিশৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দশমিনা উপজেলায় মোট ১ লাখ ২১ হাজার ৫২৩ জন ভোটারের জন্য ৪৪টি ভোট কেন্দ্রে ২৪৮টি ভোট কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ পরিচালনার জন্য ৪৪ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২৪৮ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও ৪৯৬ জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন হবে। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের জন্য উপজেলা পর্যায়ের সরকারি দপ্তরের প্রধানদের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবচিত্র ভিন্ন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা, মৎস্য, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি, সমবায়, মাধ্যমিক শিক্ষা, সমাজসেবা বিভাগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এসব দপ্তরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কেউ কেউ অন্য উপজেলা থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন, আবার কেউ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। নির্বাচনকালীন সময়ে তারা নিজ নিজ মূল কর্মস্থলে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে বাধ্য থাকবেন।
এ ছাড়া উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার দুটি পদও শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে ষষ্ঠ গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তারা নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শূন্য পদগুলো পূরণ না হলে উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে গ্রেড বিবেচনায় সরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিতে হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে জটিলতা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত অধিকাংশ শিক্ষক স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা পছন্দের প্রার্থী থাকার অভিযোগ উঠতে পারে। এতে ভোটগ্রহণের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রগুলোতে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে।
উল্লেখ্য, উপজেলার মোট ৪৪টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৯টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাসুদ হাওলাদার বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা প্রশাসনিক দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ হাওলাদার বলেন, চাহিদা অনুযায়ী কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে সরকারি কলেজ থেকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে নির্বাচনি দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এ সংক্রান্ত একটি সভা জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে যে নির্দেশনা পাওয়া যাবে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে বিতর্কমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য একটি প্যানেল গঠনের চেষ্টা চলছে।
বরিশাল টাইমস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে ভোটগ্রহণ পরিচালনা নিয়ে চরম প্রশাসনিক সংকটে পড়তে পারে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা শূন্য থাকায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিকল্প পন্থায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে গেলে নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক, বিশৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দশমিনা উপজেলায় মোট ১ লাখ ২১ হাজার ৫২৩ জন ভোটারের জন্য ৪৪টি ভোট কেন্দ্রে ২৪৮টি ভোট কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ পরিচালনার জন্য ৪৪ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২৪৮ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও ৪৯৬ জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন হবে। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের জন্য উপজেলা পর্যায়ের সরকারি দপ্তরের প্রধানদের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবচিত্র ভিন্ন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা, মৎস্য, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি, সমবায়, মাধ্যমিক শিক্ষা, সমাজসেবা বিভাগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এসব দপ্তরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কেউ কেউ অন্য উপজেলা থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন, আবার কেউ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। নির্বাচনকালীন সময়ে তারা নিজ নিজ মূল কর্মস্থলে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে বাধ্য থাকবেন।
এ ছাড়া উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার দুটি পদও শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে ষষ্ঠ গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তারা নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শূন্য পদগুলো পূরণ না হলে উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে গ্রেড বিবেচনায় সরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিতে হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে জটিলতা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত অধিকাংশ শিক্ষক স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা পছন্দের প্রার্থী থাকার অভিযোগ উঠতে পারে। এতে ভোটগ্রহণের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রগুলোতে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে।
উল্লেখ্য, উপজেলার মোট ৪৪টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৯টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাসুদ হাওলাদার বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা প্রশাসনিক দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ হাওলাদার বলেন, চাহিদা অনুযায়ী কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে সরকারি কলেজ থেকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে নির্বাচনি দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এ সংক্রান্ত একটি সভা জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে যে নির্দেশনা পাওয়া যাবে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে বিতর্কমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য একটি প্যানেল গঠনের চেষ্টা চলছে।
বরিশাল টাইমস

১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:০৫
সারিবদ্ধ মাঝারি আকৃতির গাছে ভরা বরই বাগান। গাছগুলোতে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল, সবুজ ও হলুদ রঙের সুস্বাদু বরই। এসব বরই শুধু ফল নয়, বরং এক নারীর স্বপ্ন, সাহস আর পরিশ্রমের সফল প্রতিফলন। পটুয়াখালীতে বরই চাষ করে সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গৃহবধূ তাসলিমা বেগম।
তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের গুয়াবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় তিন বছর আগে পাশের পেয়ারপুর গ্রামে একটি বরই বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হন তাসলিমা। স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে সেই বাগান ঘুরে দেখেন এবং তখনই সিদ্ধান্ত নেন নিজেও বরই চাষ শুরু করবেন। এরপর বাড়ির সামনে নদীর তীরবর্তী পতিত জমিতেই শুরু হয় তার স্বপ্নযাত্রা।
যশোর থেকে থাই আপেল কুল, কাশ্মিরি আপেল কুল, বলসুন্দরীসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের মোট ১০০টি কলম সংগ্রহ করে নদীর চরের জমিতে রোপণ করেন তিনি। সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে মাত্র এক বছরের মধ্যেই বড়ই বাগান থেকে ফলন পেতে শুরু করেন। অল্প সময়েই তিনি নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন।
তাসলিমা বেগম বলেন, ‘প্রথমে এক বিঘা জমিতে চারা রোপণ করি। সার, ওষুধ ও নিয়মিত পরিচর্যার ফলে কয়েক মাসের মধ্যেই গাছগুলো বড় হয়ে ওঠে। প্রথম বছরে লাভ কম হলেও দ্বিতীয় বছরে প্রায় এক লাখ টাকার মতো লাভ হয়েছিল। আশা করছি, চলতি মৌসুমে প্রায় দেড় লাখ টাকার বরই বিক্রি করতে পারব। এ বছর মোট খরচ হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা। ধারণা করছি, বাকি সবটাই লাভ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বড়ই চাষে প্রথম বছরে খরচ একটু বেশি হলেও পরবর্তীতে তেমন খরচ লাগে না। একবার চারা রোপণের পর নতুন করে চারা লাগানোর প্রয়োজন হয় না। একই গাছ থেকে বারবার ফলন পাওয়া যায়। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি বড়ই ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি, প্রতিটি গাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ কেজি বরই পাওয়া যাবে, যা বিক্রির মাধ্যমে ভালো লাভ হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মাকসুদা বেগম বলেন, তাসলিমা আপার গাছের বরই গুলো দেখতে খুবই ভালো লাগে। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গার মানুষজন এখান থেকে বড়ই কিনতে আসেন। বড়ই গুলো খুবই মিষ্টি।
জানা গেছে, তাসলিমা বেগমের স্বামী ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং তার একমাত্র ছেলে সৌদি আরবে প্রবাসী। এর আগে তাসলিমা নিজেও কর্মসূত্রে ঢাকায় অবস্থান করতেন। বর্তমানে বাড়িতে থেকেই কৃষিকাজে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি।
তাসলিমার সাফল্য দেখে গ্রামের অন্যান্য নারী-পুরুষরাও বড়ই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। অনেকেই তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন এবং নিজ নিজ জমিতে বড়ই চাষ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পটুয়াখালী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘গত বছর উপজেলায় ৩৬ হেক্টর জমিতে বড়ই চাষ হলেও এ বছর তা বেড়ে ৪০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এখানে বরই কুল, আপেল কুল, বাউ কুল, বলসুন্দরীসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের বড়ই চাষ হচ্ছে।
এ অঞ্চল বরই চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকরা আমাদের কাছে পরামর্শ নিতে এলে আমরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে থাকি।’ িনারী উদ্যোক্তা তাসলিমা বেগমের এই সফলতা পটুয়াখালী অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারিবদ্ধ মাঝারি আকৃতির গাছে ভরা বরই বাগান। গাছগুলোতে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল, সবুজ ও হলুদ রঙের সুস্বাদু বরই। এসব বরই শুধু ফল নয়, বরং এক নারীর স্বপ্ন, সাহস আর পরিশ্রমের সফল প্রতিফলন। পটুয়াখালীতে বরই চাষ করে সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গৃহবধূ তাসলিমা বেগম।
তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের গুয়াবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় তিন বছর আগে পাশের পেয়ারপুর গ্রামে একটি বরই বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হন তাসলিমা। স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে সেই বাগান ঘুরে দেখেন এবং তখনই সিদ্ধান্ত নেন নিজেও বরই চাষ শুরু করবেন। এরপর বাড়ির সামনে নদীর তীরবর্তী পতিত জমিতেই শুরু হয় তার স্বপ্নযাত্রা।
যশোর থেকে থাই আপেল কুল, কাশ্মিরি আপেল কুল, বলসুন্দরীসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের মোট ১০০টি কলম সংগ্রহ করে নদীর চরের জমিতে রোপণ করেন তিনি। সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে মাত্র এক বছরের মধ্যেই বড়ই বাগান থেকে ফলন পেতে শুরু করেন। অল্প সময়েই তিনি নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন।
তাসলিমা বেগম বলেন, ‘প্রথমে এক বিঘা জমিতে চারা রোপণ করি। সার, ওষুধ ও নিয়মিত পরিচর্যার ফলে কয়েক মাসের মধ্যেই গাছগুলো বড় হয়ে ওঠে। প্রথম বছরে লাভ কম হলেও দ্বিতীয় বছরে প্রায় এক লাখ টাকার মতো লাভ হয়েছিল। আশা করছি, চলতি মৌসুমে প্রায় দেড় লাখ টাকার বরই বিক্রি করতে পারব। এ বছর মোট খরচ হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা। ধারণা করছি, বাকি সবটাই লাভ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বড়ই চাষে প্রথম বছরে খরচ একটু বেশি হলেও পরবর্তীতে তেমন খরচ লাগে না। একবার চারা রোপণের পর নতুন করে চারা লাগানোর প্রয়োজন হয় না। একই গাছ থেকে বারবার ফলন পাওয়া যায়। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি বড়ই ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি, প্রতিটি গাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ কেজি বরই পাওয়া যাবে, যা বিক্রির মাধ্যমে ভালো লাভ হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মাকসুদা বেগম বলেন, তাসলিমা আপার গাছের বরই গুলো দেখতে খুবই ভালো লাগে। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গার মানুষজন এখান থেকে বড়ই কিনতে আসেন। বড়ই গুলো খুবই মিষ্টি।
জানা গেছে, তাসলিমা বেগমের স্বামী ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং তার একমাত্র ছেলে সৌদি আরবে প্রবাসী। এর আগে তাসলিমা নিজেও কর্মসূত্রে ঢাকায় অবস্থান করতেন। বর্তমানে বাড়িতে থেকেই কৃষিকাজে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি।
তাসলিমার সাফল্য দেখে গ্রামের অন্যান্য নারী-পুরুষরাও বড়ই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। অনেকেই তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন এবং নিজ নিজ জমিতে বড়ই চাষ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পটুয়াখালী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘গত বছর উপজেলায় ৩৬ হেক্টর জমিতে বড়ই চাষ হলেও এ বছর তা বেড়ে ৪০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এখানে বরই কুল, আপেল কুল, বাউ কুল, বলসুন্দরীসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের বড়ই চাষ হচ্ছে।
এ অঞ্চল বরই চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকরা আমাদের কাছে পরামর্শ নিতে এলে আমরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে থাকি।’ িনারী উদ্যোক্তা তাসলিমা বেগমের এই সফলতা পটুয়াখালী অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:১৯
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর অভিযানে মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউপি সদস্য মো. জুয়েল হাওলাদারকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত জুয়েল হাওলাদার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং উত্তর পিপড়াখালী গ্রামের মৃত মোকছেদ আলী হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে তার নিজ ঘর থেকে আটক করা হয়। মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস ছালাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২০২৪ সালে দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন বিএনপি অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় জুয়েল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর অভিযানে মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউপি সদস্য মো. জুয়েল হাওলাদারকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত জুয়েল হাওলাদার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং উত্তর পিপড়াখালী গ্রামের মৃত মোকছেদ আলী হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে তার নিজ ঘর থেকে আটক করা হয়। মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস ছালাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২০২৪ সালে দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন বিএনপি অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় জুয়েল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০১
পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠীতে বরগুনা জেলার বিশেষ শাখা (ডিএসবি) পুলিশের এক সদস্য ও তার কারারক্ষী ভাইয়ের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ উঠেছে।
এতে রামদা ও লোহার রডের আঘাতে ডিএসবি সদস্য শহিদুল ইসলাম গুরুতর আহত হন।
গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) পটুয়াখালী লাউকাঠী ইউনিয়নের জামুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে হামলাকারীরা প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য।
আহত শহিদুল ইসলাম বরগুনা ডিএসবিতে কর্মরত এবং তার ছোট ভাই আনিছুর রহমান মনির বাংলাদেশ কারা অধিদপ্তরের একজন সদস্য।
হামলাকারীরা তাদের পথরোধ করে এলোপাতাড়িভাবে হামলা চালায়। এতে শহিদুল ইসলামের মাথায় এবং হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।
স্থানীয়রা উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকেই পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।
পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠীতে বরগুনা জেলার বিশেষ শাখা (ডিএসবি) পুলিশের এক সদস্য ও তার কারারক্ষী ভাইয়ের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ উঠেছে।
এতে রামদা ও লোহার রডের আঘাতে ডিএসবি সদস্য শহিদুল ইসলাম গুরুতর আহত হন।
গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) পটুয়াখালী লাউকাঠী ইউনিয়নের জামুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে হামলাকারীরা প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য।
আহত শহিদুল ইসলাম বরগুনা ডিএসবিতে কর্মরত এবং তার ছোট ভাই আনিছুর রহমান মনির বাংলাদেশ কারা অধিদপ্তরের একজন সদস্য।
হামলাকারীরা তাদের পথরোধ করে এলোপাতাড়িভাবে হামলা চালায়। এতে শহিদুল ইসলামের মাথায় এবং হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।
স্থানীয়রা উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকেই পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।
পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.