ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে ভোটগ্রহণ পরিচালনা নিয়ে চরম প্রশাসনিক সংকটে পড়তে পারে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা শূন্য থাকায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিকল্প পন্থায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে গেলে নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক, বিশৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দশমিনা উপজেলায় মোট ১ লাখ ২১ হাজার ৫২৩ জন ভোটারের জন্য ৪৪টি ভোট কেন্দ্রে ২৪৮টি ভোট কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ পরিচালনার জন্য ৪৪ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২৪৮ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও ৪৯৬ জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন হবে। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের জন্য উপজেলা পর্যায়ের সরকারি দপ্তরের প্রধানদের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবচিত্র ভিন্ন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা, মৎস্য, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি, সমবায়, মাধ্যমিক শিক্ষা, সমাজসেবা বিভাগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এসব দপ্তরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কেউ কেউ অন্য উপজেলা থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন, আবার কেউ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। নির্বাচনকালীন সময়ে তারা নিজ নিজ মূল কর্মস্থলে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে বাধ্য থাকবেন।
এ ছাড়া উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার দুটি পদও শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে ষষ্ঠ গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তারা নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শূন্য পদগুলো পূরণ না হলে উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে গ্রেড বিবেচনায় সরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিতে হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে জটিলতা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত অধিকাংশ শিক্ষক স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা পছন্দের প্রার্থী থাকার অভিযোগ উঠতে পারে। এতে ভোটগ্রহণের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রগুলোতে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে।
উল্লেখ্য, উপজেলার মোট ৪৪টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৯টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাসুদ হাওলাদার বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা প্রশাসনিক দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ হাওলাদার বলেন, চাহিদা অনুযায়ী কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে সরকারি কলেজ থেকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে নির্বাচনি দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এ সংক্রান্ত একটি সভা জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে যে নির্দেশনা পাওয়া যাবে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে বিতর্কমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য একটি প্যানেল গঠনের চেষ্টা চলছে।
বরিশাল টাইমস

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৭:২৫
পটুয়াখালীর বাউফলে সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে একটি পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় ২০ হাজার টাকা নগদ ও ১০ হাজার টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে রক্ষা পান ওই পরিবারটি। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাউফল থানায় মামলা করেছেন রতন মন্ডল নামের ভুক্তভোগী পরিবারের এক ব্যক্তি। মামলায় দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচ-ছয়জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের।
মামলায় উল্লেখ দুই আসামি হলেন এনামুল হক এনা (৩৫) ও মো. রিয়াজ (৩৭)। এনামুল হক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উপকূলীয় প্রতিনিধি। রিয়াজ দৈনিক জাগো জনতার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি।
মামলার এজাহার,স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,তিন বছরেরও বেশি সময় আগে অসম প্রেমের সম্পর্কের টানে একটি মুসলিম পরিবারের মেয়ে পালিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ছেলেকে বিয়ে করে। এ নিয়ে শুরুতে দুই পরিবারের মধ্যে বিভেদ তৈরি হলেও পরে এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করেননি মুসলিম পরিবারটি। মেয়েটি হিন্দু ধর্ম পালন করছে। তাঁদের সংসারে ছয় মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
ওই পুরানো ঘটনাকে সামনে এনে গত রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সাংবাদিক এনামুল হক মো. রিয়াজসহ আর পাঁচ-ছয় জন নিজেদের সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য পরিচয়ে ওই হিন্দু পরিবারের বাড়িতে যান এবং হিন্দু পরিবারের ঘরে ঢুকে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
মামলার বাদী রতন মন্ডললের ভাষ্য মতে এনামুল হক পুলিশ পরিচয়ে তাঁদেরকে (হিন্দু পরিবার) বলেন-মুসলিম মেয়েকে অবৈধভাবে ঘরে রেখে অবৈধ কাজ করা হচ্ছে। বাঁচতে হলে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। পরে তাঁরা (হিন্দু পরিবার) মিনতি করে বলেন, তাঁরা (হিন্দু পরিবার) গরীব মানুষ, তাঁদের কাছে টাকা নাই। তখন তাঁরা (সাংবাদিক ও পুলিশ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা) ঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাড়ির অদূরে এক দোকানির কাছ থেকে ধার করে এনে এনামুলের হাতে ২০ হাজার টাকা দেন এবং পরের দিন (মঙ্গলবার) সকালে আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলে তাঁরা চলে আসেন।
এ বিষয়ে এনামুল হক এনা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাংবাদিক পরিচয়ে বলেন,একজন মুসলিম নারীকে হিন্দু পরিবারের এক ছেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিবাহ ব্যতীত তাঁদের ঘরে রেখেছে, সন্তান প্রসব করিয়েছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তিনিসহ মানবকন্ঠের ডিজিটাল বিভাগের প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন অন্তু, জাগো জনতার মো. রিয়াজ ও আনন্দ টিভির জেলা প্রতিনিধি এম নাজিম উদ্দিন সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য যান। তবে চাঁদা দাবি ও চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সত্য না।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে চাঁদা দাবি ও চাঁদা গ্রহণের সত্যতা পাওয়ায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’
পটুয়াখালীর বাউফলে সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে একটি পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় ২০ হাজার টাকা নগদ ও ১০ হাজার টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে রক্ষা পান ওই পরিবারটি। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাউফল থানায় মামলা করেছেন রতন মন্ডল নামের ভুক্তভোগী পরিবারের এক ব্যক্তি। মামলায় দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচ-ছয়জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের।
মামলায় উল্লেখ দুই আসামি হলেন এনামুল হক এনা (৩৫) ও মো. রিয়াজ (৩৭)। এনামুল হক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উপকূলীয় প্রতিনিধি। রিয়াজ দৈনিক জাগো জনতার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি।
মামলার এজাহার,স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,তিন বছরেরও বেশি সময় আগে অসম প্রেমের সম্পর্কের টানে একটি মুসলিম পরিবারের মেয়ে পালিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ছেলেকে বিয়ে করে। এ নিয়ে শুরুতে দুই পরিবারের মধ্যে বিভেদ তৈরি হলেও পরে এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করেননি মুসলিম পরিবারটি। মেয়েটি হিন্দু ধর্ম পালন করছে। তাঁদের সংসারে ছয় মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
ওই পুরানো ঘটনাকে সামনে এনে গত রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সাংবাদিক এনামুল হক মো. রিয়াজসহ আর পাঁচ-ছয় জন নিজেদের সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য পরিচয়ে ওই হিন্দু পরিবারের বাড়িতে যান এবং হিন্দু পরিবারের ঘরে ঢুকে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
মামলার বাদী রতন মন্ডললের ভাষ্য মতে এনামুল হক পুলিশ পরিচয়ে তাঁদেরকে (হিন্দু পরিবার) বলেন-মুসলিম মেয়েকে অবৈধভাবে ঘরে রেখে অবৈধ কাজ করা হচ্ছে। বাঁচতে হলে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। পরে তাঁরা (হিন্দু পরিবার) মিনতি করে বলেন, তাঁরা (হিন্দু পরিবার) গরীব মানুষ, তাঁদের কাছে টাকা নাই। তখন তাঁরা (সাংবাদিক ও পুলিশ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা) ঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাড়ির অদূরে এক দোকানির কাছ থেকে ধার করে এনে এনামুলের হাতে ২০ হাজার টাকা দেন এবং পরের দিন (মঙ্গলবার) সকালে আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলে তাঁরা চলে আসেন।
এ বিষয়ে এনামুল হক এনা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাংবাদিক পরিচয়ে বলেন,একজন মুসলিম নারীকে হিন্দু পরিবারের এক ছেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিবাহ ব্যতীত তাঁদের ঘরে রেখেছে, সন্তান প্রসব করিয়েছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তিনিসহ মানবকন্ঠের ডিজিটাল বিভাগের প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন অন্তু, জাগো জনতার মো. রিয়াজ ও আনন্দ টিভির জেলা প্রতিনিধি এম নাজিম উদ্দিন সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য যান। তবে চাঁদা দাবি ও চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সত্য না।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে চাঁদা দাবি ও চাঁদা গ্রহণের সত্যতা পাওয়ায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১৫
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের সৈকত হোটেলের সামনে তাঁকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের–ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ব্যক্তির নাম কে এম বাচ্চু। তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ও কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি।
পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বায়জিদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি শহিদ সিকদার, স্থানীয় হারুন মুসল্লিসহ আরও কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেন বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন কেএম বাচ্চুর ছোট ভাই সোহাগ খলিফা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বায়জিদসহ অভিযুক্ত কয়েকজনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সৈকত হোটেলের সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন কে এম বাচ্চু। এ সময় বায়জিদ সেখানে এসে তাঁর প্রকাশিত একটি সংবাদ নিয়ে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে বায়জিদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে বাচ্চুর ওপর হামলা চালান। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। হামলাকারীরা বাচ্চুকে আহত অবস্থায় ফেলে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, কে এম বাচ্চুর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।
ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ। একই কথা বলেছেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুকও।
মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বরিশালটাইমসকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের সৈকত হোটেলের সামনে তাঁকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের–ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ব্যক্তির নাম কে এম বাচ্চু। তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ও কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি।
পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বায়জিদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি শহিদ সিকদার, স্থানীয় হারুন মুসল্লিসহ আরও কয়েকজন এ হামলায় অংশ নেন বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন কেএম বাচ্চুর ছোট ভাই সোহাগ খলিফা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বায়জিদসহ অভিযুক্ত কয়েকজনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সৈকত হোটেলের সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন কে এম বাচ্চু। এ সময় বায়জিদ সেখানে এসে তাঁর প্রকাশিত একটি সংবাদ নিয়ে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে বায়জিদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে বাচ্চুর ওপর হামলা চালান। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। হামলাকারীরা বাচ্চুকে আহত অবস্থায় ফেলে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, কে এম বাচ্চুর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।
ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ। একই কথা বলেছেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফারুকও।
মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বরিশালটাইমসকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১৪:২১
পটুয়াখালীর মহিপুরে ছোয়ামনি (১১) নামের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে মহিপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের পূর্ব নতুনপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ছোট ভাইকে নিয়ে অবস্থান করছিল ওই শিশু। এ সময় তার মা জরুরি কাজে এবং বাবা জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, এই সুযোগে একই এলাকার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ হাওলাদার শিশুটির বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় লোকজন চলে আসতে দেখে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর সামাজিক লজ্জা ও স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ করেননি। দীর্ঘদিন স্থানীয়ভাবে সুবিচার পাওয়ার চেষ্টা করেও কোনো ফল না পাওয়ায় বুধবার (২২ জুলাই) শিশুটির মা মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মহিপুর থানা পুলিশ মামলা রুজু করে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পটুয়াখালীর মহিপুরে ছোয়ামনি (১১) নামের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে মহিপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মহিপুর থানার ধুলাসার ইউনিয়নের পূর্ব নতুনপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ছোট ভাইকে নিয়ে অবস্থান করছিল ওই শিশু। এ সময় তার মা জরুরি কাজে এবং বাবা জীবিকার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, এই সুযোগে একই এলাকার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ হাওলাদার শিশুটির বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় লোকজন চলে আসতে দেখে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর সামাজিক লজ্জা ও স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ করেননি। দীর্ঘদিন স্থানীয়ভাবে সুবিচার পাওয়ার চেষ্টা করেও কোনো ফল না পাওয়ায় বুধবার (২২ জুলাই) শিশুটির মা মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মহিপুর থানা পুলিশ মামলা রুজু করে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

০৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ২২:৪১
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে ভোটগ্রহণ পরিচালনা নিয়ে চরম প্রশাসনিক সংকটে পড়তে পারে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা শূন্য থাকায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিকল্প পন্থায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে গেলে নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক, বিশৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দশমিনা উপজেলায় মোট ১ লাখ ২১ হাজার ৫২৩ জন ভোটারের জন্য ৪৪টি ভোট কেন্দ্রে ২৪৮টি ভোট কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ পরিচালনার জন্য ৪৪ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২৪৮ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও ৪৯৬ জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন হবে। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের জন্য উপজেলা পর্যায়ের সরকারি দপ্তরের প্রধানদের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবচিত্র ভিন্ন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা, মৎস্য, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি, সমবায়, মাধ্যমিক শিক্ষা, সমাজসেবা বিভাগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এসব দপ্তরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কেউ কেউ অন্য উপজেলা থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন, আবার কেউ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। নির্বাচনকালীন সময়ে তারা নিজ নিজ মূল কর্মস্থলে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে বাধ্য থাকবেন।
এ ছাড়া উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার দুটি পদও শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে ষষ্ঠ গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তারা নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শূন্য পদগুলো পূরণ না হলে উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে গ্রেড বিবেচনায় সরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিতে হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে জটিলতা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত অধিকাংশ শিক্ষক স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা পছন্দের প্রার্থী থাকার অভিযোগ উঠতে পারে। এতে ভোটগ্রহণের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রগুলোতে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে।
উল্লেখ্য, উপজেলার মোট ৪৪টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৯টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাসুদ হাওলাদার বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা প্রশাসনিক দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ হাওলাদার বলেন, চাহিদা অনুযায়ী কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে সরকারি কলেজ থেকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে নির্বাচনি দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এ সংক্রান্ত একটি সভা জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে যে নির্দেশনা পাওয়া যাবে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে বিতর্কমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য একটি প্যানেল গঠনের চেষ্টা চলছে।
বরিশাল টাইমস