কেন্দ্রীয় নেতা সরফুদ্দিন সান্টুর বেশ কয়েকটি বেফাঁস মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী এই নেতা একটি বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কর্মী-সমর্থকদের চাঁদাবাজির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি নিজে স্বীকার করেন। তার এই বেফাঁস মন্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তোলপাড়, যা নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য সান্টুর ওপর সংক্ষুব্ধ হয়েছেন বরিশাল জেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এবং দলের দায়িত্বশীল নেতার এমন আচরণে বিব্রত বিএনপির হাইকমান্ড। এই তথ্য বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এবং ঢাকার একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র রূপালী বাংলাদেশকে নিশ্চিত করে।
স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের অভিযোগ, উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরফুদ্দিন সান্টু বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে কখনও মাঠে ছিলেন না। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য করে বিদেশে নিরাপদে থেকেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং নিজের সংসদীয় এলাকা উজিরপুর-বানারীপাড়ায় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন।
এই নেতার অনুগত কর্মী-সমর্থকেরা আওয়ামী লীগের অনপুস্থিতিতে গত এক বছরে বিভিন্ন দখলসন্ত্রাসসহ নানামুখী অপরাধে জড়িয়ে আলোচনায় আছেন। নেতাকর্মীদের এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে নেপথ্য শক্তি হিসেবে এতদিন সরফুদ্দিন সান্টু নিজেই কাজ করেছেন, যা তিনি স্বীকারও করেছেন। বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্য সান্টুর বক্তব্যের একটি ভিডিও বেশকদিন ধরে সমাজপাতায় ঘুরছে, যেখানে তাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘গত এক বছর বিএনপি নেতাকর্মীরা যে চাঁদাবাজি করেছে, সেটা তিনি তাদের করতে দিয়েছেন।
ত্রয়োদশ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির নেতার এমন বেফাঁস মন্তব্যে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইছে। এবং এই বিষয়টিকে তার প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপ আবার সার্বক্ষণিক আলোচনায় রাখছেন। বিশেষ করে ইস্যুটি নিয়ে একই আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু এবং ছাত্রদলের সাবেক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের অনুগত অনুসারীরা সান্টুকে বিতর্কিত করতে নানা কৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ১ মিনিট ২২ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ছাড়াও সরফুদ্দিন সান্টু আরও বেশ কিছু বিতর্কিত কর্মকান্ড করে নিজেকে আলোচনায় রাখেন। গত ১৯ জুলাই উজিরপুর ও ২০ জুলাই বানারীপাড়া উপজেলা এবং পৌর বিএনপির সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘বেগম খালেদা জিয়ার হাতে ১০ লাখ টাকা’ দিয়ে বিএনপির রাজনীতি করার কথা বলেছেন। এছাড়া ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলালের মনোনয়ন এনে দিয়ে ভোটে জেতানোর কথা বলেছেন সান্টু। তার এই দুটি বেফাঁস মন্তব্যের পরে এবার আলোচনায় এসেছে কর্মী-সমর্থকদের দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করানোর বিষয়টি, যা খোদ বিএনপি নেতা নিজের মুখেই স্বীকার করে রীতিমত আলোচনার খোরাক হয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির একটি সূত্র নিশ্চিত করে কর্মী-সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করার সুযোগ দেওয়া সংক্রান্ত যে ভিডিওটি দুদিন পূর্বে ভাইরাল হয়, তা চলতি বছরের জুলাই মাসে বানারীপাড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের। নতুন কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি কর্মীদের উদ্দেশ করে এমন বেসামাল কথা বলেন। ধারনা করা হচ্ছে, তার বক্তব্যের ভিডিওটি দলীয় ঘরনার রাজনৈতিক কারও কাছে সংরক্ষিত ছিল, তিনি সময় বুঝে প্রকাশ করেছেন।
এই ভিডিও ক্লিপে সান্টুকে বলতে শোনা যায়, ‘গত এক বছর বিএনপি নেতা-কর্মীরা যে চাঁদাবাজি করেছে, সেটা তিনি তাদের করতে দিয়েছেন। এবং কেন দিয়েছেন তার যুক্তিও খন্ডন করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর নেতাকর্মীরা কিছু খায় নায়। অবস্থা কিন্তু ভালো না, আমি থাকি আর না থাকি, আপনারা এক থাকেন। বিএনপি ক্ষমতায় না এলে কিন্তু কিছু পাবেন না। এবং নেতাকর্মীদের পকেটে যদি পয়সা না থাকে, তাহলে সমস্যা হলে আমার কাছে আসেন, ইত্যাদি...।
উপজেলাপর্যায়ের শীর্ষ নেতার এই ধরনের বেফাঁস মন্তব্য স্থানীয় নেতাকর্মীদের হাতাশ এবং সংক্ষুব্ধ করে তুলেছে। এই বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম মাহমুদ মাহবুব। তিনি বলেন, উজিরপুরের গুঠিয়ায় সান্টুর মালিকানাধীন বাইতুল ভিউ কনভেনশন হলে আয়োজিত একটি বৈঠকে তিনি বেফাঁস মন্তব্যটি করেছেন। তবে বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মৃধা ওই ভিডিও বক্তব্যকে কাটপিস বলে দাবি করেছেন। এবং তিনি রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ভিডিওটি দেখে মনে হয়েছে এটি কাটপিস করে তৈরি করা হয়েছে। তবে ভিডিওটি যে সুপার এডিট করা নয়, তা বিভিন্ন মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সান্টুর এমন বেফাঁস মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু। এই নেতা সাংবাদিকদের বলছেন, দায়িত্বশীল নেতা হয়ে সান্টু দলের ক্ষতি করছেন। তার এই ধরনের বক্তব্যে দলীয় হাইকমান্ড পুরোপুরি বিব্রত এবং তৃণমূল বিএনপিকে তিনি সন্ত্রাসী বানিয়ে ফেলেছেন।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, সান্টু শুধু বেফাঁস মন্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি, তিনি এর আগে বরিশাল অঞ্চলের প্রবীণ বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারকে নিয়েও ‘খিস্তিখেউর’ করেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বরিশাল সদর আসনের তিনবারের এমপি সরোয়ারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সান্টু বলেছিলেন, ‘সেই দিন ভুলে যান, আমারে আঙুল দিয়েন না। আমি কিন্তু বরিশালে একবার ভোট করেছি, আবারও করে দেখাব। নেতা সরোয়ারকে নিয়ে তার এমন বিষাদগারমূলক এমন বক্তব্য ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করে। এনিয়ে সরোয়ার অনুসারী নেতাকর্মীদের ক্ষোভে ফুসে উঠলেও রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে পরিশেষে চেপে যেতে দেখা যায়।
প্রতাপশালী বিএনপি নেতা সরফুদ্দিন সান্টুর ধারাবাহিক বেফাঁস মন্তব্য পর্যায়ক্রমে প্রকাশ্যে আসা এবং সেগুলো সমাজপাতায় ভাইরাল হওয়া নিয়ে তার কর্মী-অনুসারীরা বেশ টেনশনে রয়েছেন। প্রাসঙ্গিক এই বিষয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশী সান্টুর বক্তব্য না পাওয়া গেলেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার অনুগত একাধিক কর্মী সাংবাদিকদের জানান, বয়সের ভারে নুহ্য নেতা বক্তব্য রাখতে গিয়ে খানিকটা তালগোল পাকিয়ে ফেলছেন। পরবর্তীতে সেগুলো দলীয় ঘরনার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক, বিশেষ করে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা ভাইরাল করে তাকে বিতর্কিত করতে তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছেন।
সান্টুর এই ধারাবাহিক বেফাঁস মন্তব্য যে সামগ্রিকভাবে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তা বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহীনও স্বীকার করেছেন। এবং তিনি বুধবার সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি নিয়ে তার সাথে আলোচনা হয়েছে, সান্টু এর বিভিন্ন ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন। তাছাড়া তিনি নির্বাহী কমিটির সদস্য, বিষয়টি নিয়ে তার সাথে হাইকমান্ডও কথা বলেছেন।’

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:১১
বরিশালের বানারীপাড়ায় নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শ্রমিক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এসএস প্রি-ক্যাডেট স্কুলসংলগ্ন ব্যবসায়ী রিয়াজ হোসেনের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে জামাল হোসেন (৫০) এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চুন্নু মিয়ার ছেলে মো. সোহাগ (৪২)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সৃষ্টি শিক্ষা একাডেমির শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, দুপুরে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের বাঁশ খুলতে গিয়ে দুই শ্রমিক ভেতরে পড়ে যান। ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে তাঁরা বিপদে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বেলা পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শ্রমিককে ট্যাংকের ভেতরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে অক্সিজেন ব্যবহার করে গ্যাস অপসারণের পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
পরে তাঁদের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, সেপটিক ট্যাংকে সেন্টারিংয়ের কাজ করার সময় দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লুৎফুর আজিজের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বরিশালের বানারীপাড়ায় নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শ্রমিক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এসএস প্রি-ক্যাডেট স্কুলসংলগ্ন ব্যবসায়ী রিয়াজ হোসেনের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে জামাল হোসেন (৫০) এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চুন্নু মিয়ার ছেলে মো. সোহাগ (৪২)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সৃষ্টি শিক্ষা একাডেমির শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, দুপুরে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের বাঁশ খুলতে গিয়ে দুই শ্রমিক ভেতরে পড়ে যান। ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে তাঁরা বিপদে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বেলা পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শ্রমিককে ট্যাংকের ভেতরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে অক্সিজেন ব্যবহার করে গ্যাস অপসারণের পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
পরে তাঁদের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, সেপটিক ট্যাংকে সেন্টারিংয়ের কাজ করার সময় দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লুৎফুর আজিজের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৭
কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী একটি বাস বরগুনার আমতলীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়েছে। এতে অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বরগুনার আমতলী উপজেলার বান্দ্রা বাজার এলাকায় বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ইমরান পরিবহনের বাসটি বুধবার রাতে ঢাকা থেকে পর্যটক ও অন্যান্য যাত্রী নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগে একটি বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের আমতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. মাহবুবুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। বাসটির বেশির ভাগ যাত্রীই কুয়াকাটার পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগের একটি স্টপেজে বাসের চালক নেমে যান। এরপর বাসটি চালাচ্ছিলেন তাঁর সহকারী (হেলপার)। সড়কের একটি বাঁক ঘোরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বাসের চালক ও সহকারী পলাতক থাকায় তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী একটি বাস বরগুনার আমতলীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়েছে। এতে অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বরগুনার আমতলী উপজেলার বান্দ্রা বাজার এলাকায় বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ইমরান পরিবহনের বাসটি বুধবার রাতে ঢাকা থেকে পর্যটক ও অন্যান্য যাত্রী নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগে একটি বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের আমতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. মাহবুবুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। বাসটির বেশির ভাগ যাত্রীই কুয়াকাটার পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগের একটি স্টপেজে বাসের চালক নেমে যান। এরপর বাসটি চালাচ্ছিলেন তাঁর সহকারী (হেলপার)। সড়কের একটি বাঁক ঘোরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বাসের চালক ও সহকারী পলাতক থাকায় তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৪৭
বরিশাল সদর উপজেলায় পাওনা টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে এক ঠিকাদারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে তার ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরুদ্ধে। প্রাণ বাঁচাতে খালে ঝাঁপ দিয়ে রক্ষা পান ভুক্তভোগী। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মাখরকাঠি গ্রামে গনি হাওলাদারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার শিকার ঠিকাদার সুলতান আহমেদ নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিনাফুলিয়া এলাকার সালাম হাওলাদারের ছেলে। তার ‘নুসরাত এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসার বাহিনীতে জুতা, কালি, বেল্টসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরবরাহ করে।
২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকায় ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনাকারী সুলতান তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার মাগুরা জেলার বাসিন্দা সালাহউদ্দিন ওরফে সোহেল রানার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা পান।
ফরিদ আহমেদ বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় পাওনা টাকা পরিশোধ করতে সোহেল রানা সেখানে আসেন। তবে টাকা না দিয়ে চেক দেওয়ার পর একটি স্ট্যাম্পে সুলতানকে স্বাক্ষর করতে বললে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে সুলতানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় আত্মরক্ষায় খালে ঝাঁপ দিয়ে চিৎকার শুরু করেন সুলতান। পরে মাইক্রোবাস নিয়ে আসা সোহেল রানা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে দাবি করেন সাবেক এই কাউন্সিলর।
হামলার শিকার সুলতান আহমেদ বলেন, তাঁরা খারাপ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিলেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে বিস্তারিত বলার আগেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন সুলতান।
বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
বরিশাল সদর উপজেলায় পাওনা টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে এক ঠিকাদারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে তার ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরুদ্ধে। প্রাণ বাঁচাতে খালে ঝাঁপ দিয়ে রক্ষা পান ভুক্তভোগী। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মাখরকাঠি গ্রামে গনি হাওলাদারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার শিকার ঠিকাদার সুলতান আহমেদ নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিনাফুলিয়া এলাকার সালাম হাওলাদারের ছেলে। তার ‘নুসরাত এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসার বাহিনীতে জুতা, কালি, বেল্টসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরবরাহ করে।
২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকায় ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনাকারী সুলতান তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার মাগুরা জেলার বাসিন্দা সালাহউদ্দিন ওরফে সোহেল রানার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা পান।
ফরিদ আহমেদ বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় পাওনা টাকা পরিশোধ করতে সোহেল রানা সেখানে আসেন। তবে টাকা না দিয়ে চেক দেওয়ার পর একটি স্ট্যাম্পে সুলতানকে স্বাক্ষর করতে বললে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে সুলতানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় আত্মরক্ষায় খালে ঝাঁপ দিয়ে চিৎকার শুরু করেন সুলতান। পরে মাইক্রোবাস নিয়ে আসা সোহেল রানা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে দাবি করেন সাবেক এই কাউন্সিলর।
হামলার শিকার সুলতান আহমেদ বলেন, তাঁরা খারাপ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিলেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে বিস্তারিত বলার আগেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন সুলতান।
বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

১৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০০:০৭
কেন্দ্রীয় নেতা সরফুদ্দিন সান্টুর বেশ কয়েকটি বেফাঁস মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী এই নেতা একটি বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কর্মী-সমর্থকদের চাঁদাবাজির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি নিজে স্বীকার করেন। তার এই বেফাঁস মন্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তোলপাড়, যা নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য সান্টুর ওপর সংক্ষুব্ধ হয়েছেন বরিশাল জেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এবং দলের দায়িত্বশীল নেতার এমন আচরণে বিব্রত বিএনপির হাইকমান্ড। এই তথ্য বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এবং ঢাকার একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র রূপালী বাংলাদেশকে নিশ্চিত করে।
স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের অভিযোগ, উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরফুদ্দিন সান্টু বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে কখনও মাঠে ছিলেন না। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য করে বিদেশে নিরাপদে থেকেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং নিজের সংসদীয় এলাকা উজিরপুর-বানারীপাড়ায় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন।
এই নেতার অনুগত কর্মী-সমর্থকেরা আওয়ামী লীগের অনপুস্থিতিতে গত এক বছরে বিভিন্ন দখলসন্ত্রাসসহ নানামুখী অপরাধে জড়িয়ে আলোচনায় আছেন। নেতাকর্মীদের এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে নেপথ্য শক্তি হিসেবে এতদিন সরফুদ্দিন সান্টু নিজেই কাজ করেছেন, যা তিনি স্বীকারও করেছেন। বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্য সান্টুর বক্তব্যের একটি ভিডিও বেশকদিন ধরে সমাজপাতায় ঘুরছে, যেখানে তাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘গত এক বছর বিএনপি নেতাকর্মীরা যে চাঁদাবাজি করেছে, সেটা তিনি তাদের করতে দিয়েছেন।
ত্রয়োদশ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির নেতার এমন বেফাঁস মন্তব্যে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইছে। এবং এই বিষয়টিকে তার প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপ আবার সার্বক্ষণিক আলোচনায় রাখছেন। বিশেষ করে ইস্যুটি নিয়ে একই আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু এবং ছাত্রদলের সাবেক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের অনুগত অনুসারীরা সান্টুকে বিতর্কিত করতে নানা কৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ১ মিনিট ২২ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ছাড়াও সরফুদ্দিন সান্টু আরও বেশ কিছু বিতর্কিত কর্মকান্ড করে নিজেকে আলোচনায় রাখেন। গত ১৯ জুলাই উজিরপুর ও ২০ জুলাই বানারীপাড়া উপজেলা এবং পৌর বিএনপির সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘বেগম খালেদা জিয়ার হাতে ১০ লাখ টাকা’ দিয়ে বিএনপির রাজনীতি করার কথা বলেছেন। এছাড়া ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলালের মনোনয়ন এনে দিয়ে ভোটে জেতানোর কথা বলেছেন সান্টু। তার এই দুটি বেফাঁস মন্তব্যের পরে এবার আলোচনায় এসেছে কর্মী-সমর্থকদের দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করানোর বিষয়টি, যা খোদ বিএনপি নেতা নিজের মুখেই স্বীকার করে রীতিমত আলোচনার খোরাক হয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির একটি সূত্র নিশ্চিত করে কর্মী-সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করার সুযোগ দেওয়া সংক্রান্ত যে ভিডিওটি দুদিন পূর্বে ভাইরাল হয়, তা চলতি বছরের জুলাই মাসে বানারীপাড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের। নতুন কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি কর্মীদের উদ্দেশ করে এমন বেসামাল কথা বলেন। ধারনা করা হচ্ছে, তার বক্তব্যের ভিডিওটি দলীয় ঘরনার রাজনৈতিক কারও কাছে সংরক্ষিত ছিল, তিনি সময় বুঝে প্রকাশ করেছেন।
এই ভিডিও ক্লিপে সান্টুকে বলতে শোনা যায়, ‘গত এক বছর বিএনপি নেতা-কর্মীরা যে চাঁদাবাজি করেছে, সেটা তিনি তাদের করতে দিয়েছেন। এবং কেন দিয়েছেন তার যুক্তিও খন্ডন করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর নেতাকর্মীরা কিছু খায় নায়। অবস্থা কিন্তু ভালো না, আমি থাকি আর না থাকি, আপনারা এক থাকেন। বিএনপি ক্ষমতায় না এলে কিন্তু কিছু পাবেন না। এবং নেতাকর্মীদের পকেটে যদি পয়সা না থাকে, তাহলে সমস্যা হলে আমার কাছে আসেন, ইত্যাদি...।
উপজেলাপর্যায়ের শীর্ষ নেতার এই ধরনের বেফাঁস মন্তব্য স্থানীয় নেতাকর্মীদের হাতাশ এবং সংক্ষুব্ধ করে তুলেছে। এই বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম মাহমুদ মাহবুব। তিনি বলেন, উজিরপুরের গুঠিয়ায় সান্টুর মালিকানাধীন বাইতুল ভিউ কনভেনশন হলে আয়োজিত একটি বৈঠকে তিনি বেফাঁস মন্তব্যটি করেছেন। তবে বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মৃধা ওই ভিডিও বক্তব্যকে কাটপিস বলে দাবি করেছেন। এবং তিনি রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ভিডিওটি দেখে মনে হয়েছে এটি কাটপিস করে তৈরি করা হয়েছে। তবে ভিডিওটি যে সুপার এডিট করা নয়, তা বিভিন্ন মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সান্টুর এমন বেফাঁস মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু। এই নেতা সাংবাদিকদের বলছেন, দায়িত্বশীল নেতা হয়ে সান্টু দলের ক্ষতি করছেন। তার এই ধরনের বক্তব্যে দলীয় হাইকমান্ড পুরোপুরি বিব্রত এবং তৃণমূল বিএনপিকে তিনি সন্ত্রাসী বানিয়ে ফেলেছেন।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, সান্টু শুধু বেফাঁস মন্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি, তিনি এর আগে বরিশাল অঞ্চলের প্রবীণ বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারকে নিয়েও ‘খিস্তিখেউর’ করেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বরিশাল সদর আসনের তিনবারের এমপি সরোয়ারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সান্টু বলেছিলেন, ‘সেই দিন ভুলে যান, আমারে আঙুল দিয়েন না। আমি কিন্তু বরিশালে একবার ভোট করেছি, আবারও করে দেখাব। নেতা সরোয়ারকে নিয়ে তার এমন বিষাদগারমূলক এমন বক্তব্য ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করে। এনিয়ে সরোয়ার অনুসারী নেতাকর্মীদের ক্ষোভে ফুসে উঠলেও রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে পরিশেষে চেপে যেতে দেখা যায়।
প্রতাপশালী বিএনপি নেতা সরফুদ্দিন সান্টুর ধারাবাহিক বেফাঁস মন্তব্য পর্যায়ক্রমে প্রকাশ্যে আসা এবং সেগুলো সমাজপাতায় ভাইরাল হওয়া নিয়ে তার কর্মী-অনুসারীরা বেশ টেনশনে রয়েছেন। প্রাসঙ্গিক এই বিষয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশী সান্টুর বক্তব্য না পাওয়া গেলেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার অনুগত একাধিক কর্মী সাংবাদিকদের জানান, বয়সের ভারে নুহ্য নেতা বক্তব্য রাখতে গিয়ে খানিকটা তালগোল পাকিয়ে ফেলছেন। পরবর্তীতে সেগুলো দলীয় ঘরনার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক, বিশেষ করে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা ভাইরাল করে তাকে বিতর্কিত করতে তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছেন।
সান্টুর এই ধারাবাহিক বেফাঁস মন্তব্য যে সামগ্রিকভাবে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তা বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহীনও স্বীকার করেছেন। এবং তিনি বুধবার সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি নিয়ে তার সাথে আলোচনা হয়েছে, সান্টু এর বিভিন্ন ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন। তাছাড়া তিনি নির্বাহী কমিটির সদস্য, বিষয়টি নিয়ে তার সাথে হাইকমান্ডও কথা বলেছেন।’
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:১১
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৫৮
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৮
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:১১