নির্বাচনী ফলাফল ঘরে তুলতে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা
ত্রয়োদশ নির্বাচনে বরিশালের ৬ টি আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতাদের মধ্যেকার বিভাজনের রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। এবং তাদের কর্মী-সমর্থকেরাও কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিলেন। এই বিভাজন শেষ পর্যন্ত এত প্রকট হয় যে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। উপায়ান্ত না পেয়ে বরিশাল বিএনপির এই বিভক্তি নিয়ে দলটির হাইকমান্ড সপ্তাহখানেক পূর্বে শালিস করে এবং সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দেয়। এমন লেজেগোবরে অবস্থার মধ্যে সোমবার বরিশালের ৫টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা বিএনপি। ধারণা করা হচ্ছিল, একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী বঞ্চিত হয়ে বেসামাল হয়ে পড়বেন এবং নির্বাচনের আগে বরিশাল বিএনপিতে অসন্তোস আরও বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে, মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেতারা হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের বিরোধীতাতো দূরের কথা, নির্বাচন ইস্যুতে কিঞ্চিত শব্দও করেননি। বরং দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী ফলাফল কিভাবে ঘরে তোলা যায় সেই লক্ষে তোড়জোড় চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত সোমবার রাতে বরিশাল ৩ আসন উহ্য রেখে বাকি ৫টিতে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। ঘোষণা অনুযায়ী বরিশাল-১ জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল-২ সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বরিশাল-৪ মো. রাজিব আহসান, বরিশাল-৫ মো. মজিবর রহমান সরোয়ার এবং বরিশাল-৬ আবুল হোসেন খান ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, বরিশাল জেলার ৬টি আসন থেকেই একাধিক বিএনপি নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এবং স্থানীয় রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে। এনিয়ে কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারাও বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
উদাহরণস্বরূপ বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) এবং বরিশাল-৫ (বরিশাল মহানগর ও সদর) আসনকে চিহ্নিত করা যায়। বরিশাল-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন অন্তত ৫ জন। তাদের মধ্যে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার পেয়েছেন সরদার সরফুদ্দিন সান্টু। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সান্টুর ওপর থেকে হাইকমান্ডের নজর সরাতে মনোনয়ন বঞ্চিতদের কেউ কেউ কৌশল নিয়েছিলেন।
কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরিশাল-২ আসনে সেই সান্টুকে মনোনয়ন দেওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দেন। এরপরেই পাল্টে যায় উজিরপুর-বানারীপাড়া বিএনপির রাজনীতির মেরুকরণ। মনোনয়ন বঞ্চিতদের পাশাপাশি তাদের কর্মী-সমর্থকেরাও এই আসনে সান্টুর ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জোরালো ঘোষণা দিয়েছেন।
বরিশাল ৫ সদর আসনে পাঁচবারের এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার ধানের শীষে নির্বাচন করার অধিকার পেয়েছেন। মর্যাদার আসন হিসেবে বিবেচিত এখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ প্রভাবশালী অন্তত হাফডজন নেতা মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মনোনয়ন প্রাপ্তি নিয়ে নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যেকার কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি করতে গিয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের শোকজ খেয়েছিলেন।
বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এতটাই ধারণ করেছিল যে বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন পিতৃতুল্য মজিবর রহমান সরোয়ারকে নিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে একাধিকবার নেতিবাচক মন্তব্য করেন। এনিয়ে বরিশাল বিএনপির রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ উর্ধ্বমুখী হতে থাকলে বিষয়টি হাইকমান্ডের নজরে আসে। এবং একদিনের নোটিসে তাদের সকলকে রাজধানী ঢাকার গুলশান কার্যালয়ে ডেকে নিতে বাধ্য হন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় বরিশালের একটি আসন বাদে বাকি ৫টিতে প্রার্থীতা ঘোষণা দেওয়ার পরে সকলেই সেই পূর্ব বিরোধ ভুলে গেছেন। এবং আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে কি ভাবে বিজয়ী করে তাদের নেতা তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালি করা যায় সে পথে হাঁটতে শুরু করেছেন।
সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে প্রার্থিতা ঘোষণার পরে বরিশাল মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এবং বরিশালের ৫টি আসনে যাদেরকে মনোনীত করা হয়েছে, তাদের সাথে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব যোগাযোগও বাড়িয়েছেন।
বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার জানান, তার আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিনও বরিশাল ৫ সদর আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু হাইকমান্ড মজিবর রহমান সরোয়ারকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, এই সিদ্ধান্ত সকলে মেনে নিয়েছেন। এবং নির্বাচনী ফলাফল ঘরে তুলতে শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আবু নাসের রহমত উল্লাহও অনুরূপ অভিব্যক্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাদের নেতা বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং ধানের শীষ প্রশ্নে নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ।
বরিশাল (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহীন জানান, তিনিও বরিশাল ৫ সদর আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল তাকে বঞ্চিত করেছে। এনিয়ে তার কোনো রাগ বা অনুরাগ নেই। হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন এবং নেতাকর্মীদের ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভাজিত বরিশাল বিএনপি যে ঐক্যবদ্ধ এবং কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখিয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক আলোচনা শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের এমন আচরণে বিএনপির হাইকমান্ডও খুশি বলে মন্তব্য পাওয়া গেছে।
তবে পূর্বের এই বিভাজন নিয়ে কোনোরূপ মন্তব্য করতে চাইছেন না বরিশাল সদর আসনের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। বর্ষীয়াণ এই রাজনৈতিক জানান, নেতা তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত সকলে মেনে নিয়েছেন। এবং মনোনয়ন বঞ্চিতরাও সোমবার সন্ধ্যার পরে তার সাথে বিভিন্ন মাধ্যম যোগাযোগ করেছেন। নির্বাচনে ধানের শীষকে কি ভাবে বিজয়ী করা যায়, সকলে সেই লক্ষে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে আছেন।’

১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০৭
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানী ঢাকার মিরপুরে শামীম ফিরোজ তালুকদার (৪০) নিহতের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ছেলে সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ ওরফে মঈন আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক এবং বরিশালের সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ছেলে। আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১১-এর বিচারক আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
কারাগার থেকে মঈনউদ্দীনকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিম আহমেদ তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে তাঁকে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে রাস্তা পার হচ্ছিলেন শামীম ফিরোজ তালুকদার। সন্ধ্যা ৬টার দিকে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় আলোক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী, পুলিশ কর্মকর্তা, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, শামীম ফিরোজ হত্যাকাণ্ডে মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে আদালতে তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হন মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানী ঢাকার মিরপুরে শামীম ফিরোজ তালুকদার (৪০) নিহতের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ছেলে সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ ওরফে মঈন আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক এবং বরিশালের সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ছেলে। আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১১-এর বিচারক আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
কারাগার থেকে মঈনউদ্দীনকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিম আহমেদ তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে তাঁকে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে রাস্তা পার হচ্ছিলেন শামীম ফিরোজ তালুকদার। সন্ধ্যা ৬টার দিকে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় আলোক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী, পুলিশ কর্মকর্তা, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, শামীম ফিরোজ হত্যাকাণ্ডে মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে আদালতে তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হন মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।’

১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩২
বরিশালের বাবুগঞ্জে স্ত্রী ঐশী আক্তারকে (২৫) হত্যার অভিযোগে স্বামী সোহেল খানকে (২৮) আটক করেছে পুলিশ। দাম্পত্য কলহের জেরে লোহার রড দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐশীর মৃত্যু হয়।
নিহত ঐশী আক্তার উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর সাধুকাঠী গ্রামের শাহে আলমের মেয়ে। অভিযুক্ত সোহেল খান কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া গ্রামের কাদের খানের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। তাঁদের তিন মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার চার দিন আগে দাম্পত্য কলহের জেরে ঐশীর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন সোহেল—এমন অভিযোগ রয়েছে। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার সকালে তাঁকে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে মনিরুল ইসলাম জানান, মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে ঐশীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিল।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সোহেল খানকে আটক করেছে। নিহতের চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।'
বরিশালের বাবুগঞ্জে স্ত্রী ঐশী আক্তারকে (২৫) হত্যার অভিযোগে স্বামী সোহেল খানকে (২৮) আটক করেছে পুলিশ। দাম্পত্য কলহের জেরে লোহার রড দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐশীর মৃত্যু হয়।
নিহত ঐশী আক্তার উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর সাধুকাঠী গ্রামের শাহে আলমের মেয়ে। অভিযুক্ত সোহেল খান কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া গ্রামের কাদের খানের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। তাঁদের তিন মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার চার দিন আগে দাম্পত্য কলহের জেরে ঐশীর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন সোহেল—এমন অভিযোগ রয়েছে। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার সকালে তাঁকে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে মনিরুল ইসলাম জানান, মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে ঐশীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিল।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সোহেল খানকে আটক করেছে। নিহতের চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।'

১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২২
দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী মঙ্গলবারের (১৩ অক্টোবর) মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে বরিশালসহ দেশের তিন বিভাগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস নেই। সোমবার (১২ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দেশের অন্যত্র আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগরে নতুন করে লঘুচাপ সৃষ্টি হলে আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আগামী মঙ্গলবারের (১৩ অক্টোবর) মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে বরিশালসহ দেশের তিন বিভাগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস নেই। সোমবার (১২ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দেশের অন্যত্র আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগরে নতুন করে লঘুচাপ সৃষ্টি হলে আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

০৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০২:১৪
নির্বাচনী ফলাফল ঘরে তুলতে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা
ত্রয়োদশ নির্বাচনে বরিশালের ৬ টি আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতাদের মধ্যেকার বিভাজনের রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। এবং তাদের কর্মী-সমর্থকেরাও কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিলেন। এই বিভাজন শেষ পর্যন্ত এত প্রকট হয় যে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। উপায়ান্ত না পেয়ে বরিশাল বিএনপির এই বিভক্তি নিয়ে দলটির হাইকমান্ড সপ্তাহখানেক পূর্বে শালিস করে এবং সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দেয়। এমন লেজেগোবরে অবস্থার মধ্যে সোমবার বরিশালের ৫টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা বিএনপি। ধারণা করা হচ্ছিল, একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী বঞ্চিত হয়ে বেসামাল হয়ে পড়বেন এবং নির্বাচনের আগে বরিশাল বিএনপিতে অসন্তোস আরও বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে, মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেতারা হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের বিরোধীতাতো দূরের কথা, নির্বাচন ইস্যুতে কিঞ্চিত শব্দও করেননি। বরং দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী ফলাফল কিভাবে ঘরে তোলা যায় সেই লক্ষে তোড়জোড় চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত সোমবার রাতে বরিশাল ৩ আসন উহ্য রেখে বাকি ৫টিতে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। ঘোষণা অনুযায়ী বরিশাল-১ জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল-২ সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বরিশাল-৪ মো. রাজিব আহসান, বরিশাল-৫ মো. মজিবর রহমান সরোয়ার এবং বরিশাল-৬ আবুল হোসেন খান ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, বরিশাল জেলার ৬টি আসন থেকেই একাধিক বিএনপি নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এবং স্থানীয় রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে। এনিয়ে কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারাও বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
উদাহরণস্বরূপ বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) এবং বরিশাল-৫ (বরিশাল মহানগর ও সদর) আসনকে চিহ্নিত করা যায়। বরিশাল-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন অন্তত ৫ জন। তাদের মধ্যে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার পেয়েছেন সরদার সরফুদ্দিন সান্টু। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সান্টুর ওপর থেকে হাইকমান্ডের নজর সরাতে মনোনয়ন বঞ্চিতদের কেউ কেউ কৌশল নিয়েছিলেন।
কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরিশাল-২ আসনে সেই সান্টুকে মনোনয়ন দেওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দেন। এরপরেই পাল্টে যায় উজিরপুর-বানারীপাড়া বিএনপির রাজনীতির মেরুকরণ। মনোনয়ন বঞ্চিতদের পাশাপাশি তাদের কর্মী-সমর্থকেরাও এই আসনে সান্টুর ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জোরালো ঘোষণা দিয়েছেন।
বরিশাল ৫ সদর আসনে পাঁচবারের এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার ধানের শীষে নির্বাচন করার অধিকার পেয়েছেন। মর্যাদার আসন হিসেবে বিবেচিত এখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ প্রভাবশালী অন্তত হাফডজন নেতা মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মনোনয়ন প্রাপ্তি নিয়ে নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যেকার কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি করতে গিয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের শোকজ খেয়েছিলেন।
বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এতটাই ধারণ করেছিল যে বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন পিতৃতুল্য মজিবর রহমান সরোয়ারকে নিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে একাধিকবার নেতিবাচক মন্তব্য করেন। এনিয়ে বরিশাল বিএনপির রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ উর্ধ্বমুখী হতে থাকলে বিষয়টি হাইকমান্ডের নজরে আসে। এবং একদিনের নোটিসে তাদের সকলকে রাজধানী ঢাকার গুলশান কার্যালয়ে ডেকে নিতে বাধ্য হন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় বরিশালের একটি আসন বাদে বাকি ৫টিতে প্রার্থীতা ঘোষণা দেওয়ার পরে সকলেই সেই পূর্ব বিরোধ ভুলে গেছেন। এবং আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে কি ভাবে বিজয়ী করে তাদের নেতা তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালি করা যায় সে পথে হাঁটতে শুরু করেছেন।
সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে প্রার্থিতা ঘোষণার পরে বরিশাল মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এবং বরিশালের ৫টি আসনে যাদেরকে মনোনীত করা হয়েছে, তাদের সাথে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব যোগাযোগও বাড়িয়েছেন।
বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার জানান, তার আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিনও বরিশাল ৫ সদর আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু হাইকমান্ড মজিবর রহমান সরোয়ারকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, এই সিদ্ধান্ত সকলে মেনে নিয়েছেন। এবং নির্বাচনী ফলাফল ঘরে তুলতে শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আবু নাসের রহমত উল্লাহও অনুরূপ অভিব্যক্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাদের নেতা বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং ধানের শীষ প্রশ্নে নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ।
বরিশাল (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহীন জানান, তিনিও বরিশাল ৫ সদর আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল তাকে বঞ্চিত করেছে। এনিয়ে তার কোনো রাগ বা অনুরাগ নেই। হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন এবং নেতাকর্মীদের ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভাজিত বরিশাল বিএনপি যে ঐক্যবদ্ধ এবং কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখিয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক আলোচনা শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের এমন আচরণে বিএনপির হাইকমান্ডও খুশি বলে মন্তব্য পাওয়া গেছে।
তবে পূর্বের এই বিভাজন নিয়ে কোনোরূপ মন্তব্য করতে চাইছেন না বরিশাল সদর আসনের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। বর্ষীয়াণ এই রাজনৈতিক জানান, নেতা তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত সকলে মেনে নিয়েছেন। এবং মনোনয়ন বঞ্চিতরাও সোমবার সন্ধ্যার পরে তার সাথে বিভিন্ন মাধ্যম যোগাযোগ করেছেন। নির্বাচনে ধানের শীষকে কি ভাবে বিজয়ী করা যায়, সকলে সেই লক্ষে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে আছেন।’
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০৭
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩২
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২২
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:০৬