
০৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০২:১৪
নির্বাচনী ফলাফল ঘরে তুলতে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা
ত্রয়োদশ নির্বাচনে বরিশালের ৬ টি আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতাদের মধ্যেকার বিভাজনের রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। এবং তাদের কর্মী-সমর্থকেরাও কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিলেন। এই বিভাজন শেষ পর্যন্ত এত প্রকট হয় যে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। উপায়ান্ত না পেয়ে বরিশাল বিএনপির এই বিভক্তি নিয়ে দলটির হাইকমান্ড সপ্তাহখানেক পূর্বে শালিস করে এবং সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দেয়। এমন লেজেগোবরে অবস্থার মধ্যে সোমবার বরিশালের ৫টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা বিএনপি। ধারণা করা হচ্ছিল, একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী বঞ্চিত হয়ে বেসামাল হয়ে পড়বেন এবং নির্বাচনের আগে বরিশাল বিএনপিতে অসন্তোস আরও বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে, মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেতারা হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের বিরোধীতাতো দূরের কথা, নির্বাচন ইস্যুতে কিঞ্চিত শব্দও করেননি। বরং দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী ফলাফল কিভাবে ঘরে তোলা যায় সেই লক্ষে তোড়জোড় চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত সোমবার রাতে বরিশাল ৩ আসন উহ্য রেখে বাকি ৫টিতে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। ঘোষণা অনুযায়ী বরিশাল-১ জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল-২ সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বরিশাল-৪ মো. রাজিব আহসান, বরিশাল-৫ মো. মজিবর রহমান সরোয়ার এবং বরিশাল-৬ আবুল হোসেন খান ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, বরিশাল জেলার ৬টি আসন থেকেই একাধিক বিএনপি নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এবং স্থানীয় রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে। এনিয়ে কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারাও বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
উদাহরণস্বরূপ বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) এবং বরিশাল-৫ (বরিশাল মহানগর ও সদর) আসনকে চিহ্নিত করা যায়। বরিশাল-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন অন্তত ৫ জন। তাদের মধ্যে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার পেয়েছেন সরদার সরফুদ্দিন সান্টু। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সান্টুর ওপর থেকে হাইকমান্ডের নজর সরাতে মনোনয়ন বঞ্চিতদের কেউ কেউ কৌশল নিয়েছিলেন।
কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরিশাল-২ আসনে সেই সান্টুকে মনোনয়ন দেওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দেন। এরপরেই পাল্টে যায় উজিরপুর-বানারীপাড়া বিএনপির রাজনীতির মেরুকরণ। মনোনয়ন বঞ্চিতদের পাশাপাশি তাদের কর্মী-সমর্থকেরাও এই আসনে সান্টুর ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জোরালো ঘোষণা দিয়েছেন।
বরিশাল ৫ সদর আসনে পাঁচবারের এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার ধানের শীষে নির্বাচন করার অধিকার পেয়েছেন। মর্যাদার আসন হিসেবে বিবেচিত এখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ প্রভাবশালী অন্তত হাফডজন নেতা মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মনোনয়ন প্রাপ্তি নিয়ে নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যেকার কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি করতে গিয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের শোকজ খেয়েছিলেন।
বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এতটাই ধারণ করেছিল যে বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন পিতৃতুল্য মজিবর রহমান সরোয়ারকে নিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে একাধিকবার নেতিবাচক মন্তব্য করেন। এনিয়ে বরিশাল বিএনপির রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ উর্ধ্বমুখী হতে থাকলে বিষয়টি হাইকমান্ডের নজরে আসে। এবং একদিনের নোটিসে তাদের সকলকে রাজধানী ঢাকার গুলশান কার্যালয়ে ডেকে নিতে বাধ্য হন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় বরিশালের একটি আসন বাদে বাকি ৫টিতে প্রার্থীতা ঘোষণা দেওয়ার পরে সকলেই সেই পূর্ব বিরোধ ভুলে গেছেন। এবং আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে কি ভাবে বিজয়ী করে তাদের নেতা তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালি করা যায় সে পথে হাঁটতে শুরু করেছেন।
সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে প্রার্থিতা ঘোষণার পরে বরিশাল মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এবং বরিশালের ৫টি আসনে যাদেরকে মনোনীত করা হয়েছে, তাদের সাথে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব যোগাযোগও বাড়িয়েছেন।
বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার জানান, তার আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিনও বরিশাল ৫ সদর আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু হাইকমান্ড মজিবর রহমান সরোয়ারকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, এই সিদ্ধান্ত সকলে মেনে নিয়েছেন। এবং নির্বাচনী ফলাফল ঘরে তুলতে শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আবু নাসের রহমত উল্লাহও অনুরূপ অভিব্যক্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাদের নেতা বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং ধানের শীষ প্রশ্নে নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ।
বরিশাল (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহীন জানান, তিনিও বরিশাল ৫ সদর আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল তাকে বঞ্চিত করেছে। এনিয়ে তার কোনো রাগ বা অনুরাগ নেই। হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন এবং নেতাকর্মীদের ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভাজিত বরিশাল বিএনপি যে ঐক্যবদ্ধ এবং কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখিয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক আলোচনা শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের এমন আচরণে বিএনপির হাইকমান্ডও খুশি বলে মন্তব্য পাওয়া গেছে।
তবে পূর্বের এই বিভাজন নিয়ে কোনোরূপ মন্তব্য করতে চাইছেন না বরিশাল সদর আসনের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। বর্ষীয়াণ এই রাজনৈতিক জানান, নেতা তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত সকলে মেনে নিয়েছেন। এবং মনোনয়ন বঞ্চিতরাও সোমবার সন্ধ্যার পরে তার সাথে বিভিন্ন মাধ্যম যোগাযোগ করেছেন। নির্বাচনে ধানের শীষকে কি ভাবে বিজয়ী করা যায়, সকলে সেই লক্ষে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে আছেন।’
নির্বাচনী ফলাফল ঘরে তুলতে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা
ত্রয়োদশ নির্বাচনে বরিশালের ৬ টি আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতাদের মধ্যেকার বিভাজনের রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। এবং তাদের কর্মী-সমর্থকেরাও কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিলেন। এই বিভাজন শেষ পর্যন্ত এত প্রকট হয় যে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। উপায়ান্ত না পেয়ে বরিশাল বিএনপির এই বিভক্তি নিয়ে দলটির হাইকমান্ড সপ্তাহখানেক পূর্বে শালিস করে এবং সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দেয়। এমন লেজেগোবরে অবস্থার মধ্যে সোমবার বরিশালের ৫টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা বিএনপি। ধারণা করা হচ্ছিল, একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী বঞ্চিত হয়ে বেসামাল হয়ে পড়বেন এবং নির্বাচনের আগে বরিশাল বিএনপিতে অসন্তোস আরও বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে, মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেতারা হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের বিরোধীতাতো দূরের কথা, নির্বাচন ইস্যুতে কিঞ্চিত শব্দও করেননি। বরং দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী ফলাফল কিভাবে ঘরে তোলা যায় সেই লক্ষে তোড়জোড় চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত সোমবার রাতে বরিশাল ৩ আসন উহ্য রেখে বাকি ৫টিতে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। ঘোষণা অনুযায়ী বরিশাল-১ জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল-২ সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বরিশাল-৪ মো. রাজিব আহসান, বরিশাল-৫ মো. মজিবর রহমান সরোয়ার এবং বরিশাল-৬ আবুল হোসেন খান ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, বরিশাল জেলার ৬টি আসন থেকেই একাধিক বিএনপি নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এবং স্থানীয় রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে। এনিয়ে কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারাও বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
উদাহরণস্বরূপ বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) এবং বরিশাল-৫ (বরিশাল মহানগর ও সদর) আসনকে চিহ্নিত করা যায়। বরিশাল-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন অন্তত ৫ জন। তাদের মধ্যে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার পেয়েছেন সরদার সরফুদ্দিন সান্টু। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সান্টুর ওপর থেকে হাইকমান্ডের নজর সরাতে মনোনয়ন বঞ্চিতদের কেউ কেউ কৌশল নিয়েছিলেন।
কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরিশাল-২ আসনে সেই সান্টুকে মনোনয়ন দেওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দেন। এরপরেই পাল্টে যায় উজিরপুর-বানারীপাড়া বিএনপির রাজনীতির মেরুকরণ। মনোনয়ন বঞ্চিতদের পাশাপাশি তাদের কর্মী-সমর্থকেরাও এই আসনে সান্টুর ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জোরালো ঘোষণা দিয়েছেন।
বরিশাল ৫ সদর আসনে পাঁচবারের এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার ধানের শীষে নির্বাচন করার অধিকার পেয়েছেন। মর্যাদার আসন হিসেবে বিবেচিত এখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ প্রভাবশালী অন্তত হাফডজন নেতা মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মনোনয়ন প্রাপ্তি নিয়ে নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যেকার কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি করতে গিয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের শোকজ খেয়েছিলেন।
বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এতটাই ধারণ করেছিল যে বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন পিতৃতুল্য মজিবর রহমান সরোয়ারকে নিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে একাধিকবার নেতিবাচক মন্তব্য করেন। এনিয়ে বরিশাল বিএনপির রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ উর্ধ্বমুখী হতে থাকলে বিষয়টি হাইকমান্ডের নজরে আসে। এবং একদিনের নোটিসে তাদের সকলকে রাজধানী ঢাকার গুলশান কার্যালয়ে ডেকে নিতে বাধ্য হন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় বরিশালের একটি আসন বাদে বাকি ৫টিতে প্রার্থীতা ঘোষণা দেওয়ার পরে সকলেই সেই পূর্ব বিরোধ ভুলে গেছেন। এবং আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে কি ভাবে বিজয়ী করে তাদের নেতা তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালি করা যায় সে পথে হাঁটতে শুরু করেছেন।
সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে প্রার্থিতা ঘোষণার পরে বরিশাল মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এবং বরিশালের ৫টি আসনে যাদেরকে মনোনীত করা হয়েছে, তাদের সাথে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব যোগাযোগও বাড়িয়েছেন।
বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার জানান, তার আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিনও বরিশাল ৫ সদর আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু হাইকমান্ড মজিবর রহমান সরোয়ারকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, এই সিদ্ধান্ত সকলে মেনে নিয়েছেন। এবং নির্বাচনী ফলাফল ঘরে তুলতে শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আবু নাসের রহমত উল্লাহও অনুরূপ অভিব্যক্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাদের নেতা বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং ধানের শীষ প্রশ্নে নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ।
বরিশাল (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহীন জানান, তিনিও বরিশাল ৫ সদর আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল তাকে বঞ্চিত করেছে। এনিয়ে তার কোনো রাগ বা অনুরাগ নেই। হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন এবং নেতাকর্মীদের ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভাজিত বরিশাল বিএনপি যে ঐক্যবদ্ধ এবং কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখিয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক আলোচনা শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের এমন আচরণে বিএনপির হাইকমান্ডও খুশি বলে মন্তব্য পাওয়া গেছে।
তবে পূর্বের এই বিভাজন নিয়ে কোনোরূপ মন্তব্য করতে চাইছেন না বরিশাল সদর আসনের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। বর্ষীয়াণ এই রাজনৈতিক জানান, নেতা তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত সকলে মেনে নিয়েছেন। এবং মনোনয়ন বঞ্চিতরাও সোমবার সন্ধ্যার পরে তার সাথে বিভিন্ন মাধ্যম যোগাযোগ করেছেন। নির্বাচনে ধানের শীষকে কি ভাবে বিজয়ী করা যায়, সকলে সেই লক্ষে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে আছেন।’

১৬ মার্চ, ২০২৬ ০৩:৩১
সন্ধ্যা রাতে বরিশাল শহরের পরেশ সাগর মাঠে জান আহম্মেদ নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয়। পূর্বপরিচিত রাকিব নামের বিশোর্ধ্ব যুবক ফোন করে মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানাধীন শাহ পরান সড়কের ২০ বছর বয়সি জানকে ডেকে নেন। এবং সেখানে পৌছানো মাত্রই সৌরভ (২২) নামক যুবকের নেতৃত্বে রাকিব (২৩), সজিব (২২), অরিনসহ (২১) ৯/১০ জনের একটি বাহিনী হামলে পড়েন। একপর্যায়ে তারা জানকে ব্যাপক মারধর করাসহ লোহার রড পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে যুবক রক্তাক্ত জখম হলে তার ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার করে। রোববার রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র বরিশাল শহরে আতঙ্ক-উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কোতয়ালি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের গ্রেপ্তারে করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আশ্বাস দিয়েছে। পুলিশ যাওয়ার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বরিশাল সিটির ১৫ নং ওয়ার্ডের পরেশ সাগরের মাঠে জান আহমেদ নামের যুবককে ৯/১০ জন যুবক একত্রিত হয়ে মারধর করেছিল। একপর্যায়ে তারা তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন, তখন আরও পেটানো হয়। মারধর সহ্য করতে না পেরে যুবক বাচানোর আকুতি জানিয়ে ডাক-চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এসময় সৌরভসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা বীরদর্পে চলে গেলেও পরবর্তীতে খুনের হুমকি দিতে ভুল করেননি। সন্ধ্যা রাতে শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে যুবককে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টার এই ঘটনা জনমনে আতঙ্ক-উত্তেজনা সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে কোতয়ালি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করলেও হামলাকারীরা আগেই পালিয়ে যায়।
অভিযোগ আছে, শহরের বটতলা এলাকার শামীমের ছেলে সৌরভ একটি সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান। তার নেতৃত্বে শহরের একটি অংশে মাদক বাণিজ্যসহ বহুমুখী সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চলে আসছে। সবশেষ তার সন্ত্রাসের শিকার হলেন শাহ পরান সড়কের সুমন আহম্মেদের ছেলে জান আহম্মেদ। হামলায় আক্রান্ত যুবকের মামা রেদোয়ান রানা বরিশালের একজন প্রতিষ্ঠিত সংবাদ কর্মী, ফলে বিষয়টি মিডিয়াঙ্গনে আলোচনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
সাংবাদিক রেদোয়ান রানা জানান, ভাগিনা জানকে হত্যার উদ্দেশে মারধর করাসহ রড় দিয়ে পিটিয়েছে কিশোর গ্যাং গ্রুপ। তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মাথাসহ শরীরের একাধিক স্থান জখম হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাকে পর্যবেক্ষকে রেখেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, যুবক জানের বাবা সুমন আহম্মেদ ছেলেকে খুনের চেষ্টা করাসহ বিভিন্ন ধারায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। এতে তিনি ছেলে পূর্ববিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন। তার এই এজাহারটি যে কোনো সময়ে নথিভুক্ত হতে পারে। কোতয়ালি পুলিশের ওসি মামুন উল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এর আগে হামলার খবর পেয়ে সন্ধ্যা রাতে পরেশ সাগর মাঠে পুলিশ পাঠানো হয়। কিন্তু পুলিশ সেখানে পৌছানোর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে গেছে। তাদের ধরতে মাঠপুলিশ কাজ করছে এবং বর্তমানে শহরের পরিবেশ-পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’
সন্ধ্যা রাতে বরিশাল শহরের পরেশ সাগর মাঠে জান আহম্মেদ নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয়। পূর্বপরিচিত রাকিব নামের বিশোর্ধ্ব যুবক ফোন করে মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানাধীন শাহ পরান সড়কের ২০ বছর বয়সি জানকে ডেকে নেন। এবং সেখানে পৌছানো মাত্রই সৌরভ (২২) নামক যুবকের নেতৃত্বে রাকিব (২৩), সজিব (২২), অরিনসহ (২১) ৯/১০ জনের একটি বাহিনী হামলে পড়েন। একপর্যায়ে তারা জানকে ব্যাপক মারধর করাসহ লোহার রড পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে যুবক রক্তাক্ত জখম হলে তার ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার করে। রোববার রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র বরিশাল শহরে আতঙ্ক-উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কোতয়ালি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের গ্রেপ্তারে করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আশ্বাস দিয়েছে। পুলিশ যাওয়ার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বরিশাল সিটির ১৫ নং ওয়ার্ডের পরেশ সাগরের মাঠে জান আহমেদ নামের যুবককে ৯/১০ জন যুবক একত্রিত হয়ে মারধর করেছিল। একপর্যায়ে তারা তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন, তখন আরও পেটানো হয়। মারধর সহ্য করতে না পেরে যুবক বাচানোর আকুতি জানিয়ে ডাক-চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এসময় সৌরভসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা বীরদর্পে চলে গেলেও পরবর্তীতে খুনের হুমকি দিতে ভুল করেননি। সন্ধ্যা রাতে শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে যুবককে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টার এই ঘটনা জনমনে আতঙ্ক-উত্তেজনা সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে কোতয়ালি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করলেও হামলাকারীরা আগেই পালিয়ে যায়।
অভিযোগ আছে, শহরের বটতলা এলাকার শামীমের ছেলে সৌরভ একটি সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান। তার নেতৃত্বে শহরের একটি অংশে মাদক বাণিজ্যসহ বহুমুখী সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চলে আসছে। সবশেষ তার সন্ত্রাসের শিকার হলেন শাহ পরান সড়কের সুমন আহম্মেদের ছেলে জান আহম্মেদ। হামলায় আক্রান্ত যুবকের মামা রেদোয়ান রানা বরিশালের একজন প্রতিষ্ঠিত সংবাদ কর্মী, ফলে বিষয়টি মিডিয়াঙ্গনে আলোচনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
সাংবাদিক রেদোয়ান রানা জানান, ভাগিনা জানকে হত্যার উদ্দেশে মারধর করাসহ রড় দিয়ে পিটিয়েছে কিশোর গ্যাং গ্রুপ। তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মাথাসহ শরীরের একাধিক স্থান জখম হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাকে পর্যবেক্ষকে রেখেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, যুবক জানের বাবা সুমন আহম্মেদ ছেলেকে খুনের চেষ্টা করাসহ বিভিন্ন ধারায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। এতে তিনি ছেলে পূর্ববিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন। তার এই এজাহারটি যে কোনো সময়ে নথিভুক্ত হতে পারে। কোতয়ালি পুলিশের ওসি মামুন উল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এর আগে হামলার খবর পেয়ে সন্ধ্যা রাতে পরেশ সাগর মাঠে পুলিশ পাঠানো হয়। কিন্তু পুলিশ সেখানে পৌছানোর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে গেছে। তাদের ধরতে মাঠপুলিশ কাজ করছে এবং বর্তমানে শহরের পরিবেশ-পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’

১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৭:০৮
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নার্সের পুশ করা ভুল ইনজেকশনে দুই নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৫ মার্চ) সকালে হাসপাতালের চতুর্থ তলায় নাক, কান, গলা (ইএনটি) বিভাগের এ ঘটনা ঘটে। তারা হলেন- পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডাব্লুগঞ্জ গ্রামের মান্নানের স্ত্রী শেফালী বেগম (৬০) ও বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকার মৃত বাবু হাওলাদারের স্ত্রী হেলেনা বেগম (৪৫)। তাদের মধ্যে শেফালী হাসপাতালের মহিলা ইএনটি ওয়ার্ডের ৭ নম্বর ও হেলেনা ১০ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এদিকে ভুল ইনজেকশনে রোগী মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত নার্সদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর। মৃত দুই নারীর স্বজন এবং চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা জানান, শেফালী গালে টিউমার জাতীয় চিস্ট ও হেলেনা বেগম থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়।
রোববার তাদের দুজনের অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। সকালে ওই ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স মলিনা রানী হাওলাদার তাদের দুজনের শরীরে ভুলক্রমে নরকিউ এনেস্থেসিয়া ইনজেকশন পুশ করেন বলে জানায় রোগীর স্বজনরা। এর মাত্র ২ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যে একে একে দুই রোগীর মৃত্যু হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ওই নার্স ওয়ার্ড থেকে সরে পড়েন। স্বজন ও অন্য রোগীরা বলেন, ভর্তি থাকা দুই নারী শেফালী ও হেলেনা সুস্থ স্বাভাবিক ছিলেন। ওই ইনজেকশন তাদের হাতের শিরায় পুশ করার পর পরই দুজন নিস্তেজ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন স্বজন এবং চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা। অভিযুক্ত নাক, কান, গলা বিভাগের সিনিয়র নার্স মলিনা রানী হালদার নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, কীভাবে কী হলো তা আমি বলতে পারছি না। আমার ভুল হয়েছে। একই কথা বলেন সিনিয়র নার্স হেলেনাও। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মনীর বলেন, দুই রোগীর আজ (রোববার) অপরারেশন হওয়ার কথা ছিল। অপারেশন হওয়ার আগে ও অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে কিছু ওষুধ দিতে হয়।
কিন্তু তারা এনেস্থেসিয়া ইনজেকশন আগে পুশ করেছে। তারা নিজেদের কাজে গাফিলতি করেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে ইএনটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আমিনুল হককে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক শাহনাজ পারভীন ও ইএনটির আবাসিক সার্জন ডা. আল মামুন খান। এছাড়া যারা মারা গেছেন তাদের স্বজনরা যদি আইনিব্যবস্থা নিতে চান তবে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নার্সের পুশ করা ভুল ইনজেকশনে দুই নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৫ মার্চ) সকালে হাসপাতালের চতুর্থ তলায় নাক, কান, গলা (ইএনটি) বিভাগের এ ঘটনা ঘটে। তারা হলেন- পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডাব্লুগঞ্জ গ্রামের মান্নানের স্ত্রী শেফালী বেগম (৬০) ও বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকার মৃত বাবু হাওলাদারের স্ত্রী হেলেনা বেগম (৪৫)। তাদের মধ্যে শেফালী হাসপাতালের মহিলা ইএনটি ওয়ার্ডের ৭ নম্বর ও হেলেনা ১০ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এদিকে ভুল ইনজেকশনে রোগী মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত নার্সদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর। মৃত দুই নারীর স্বজন এবং চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা জানান, শেফালী গালে টিউমার জাতীয় চিস্ট ও হেলেনা বেগম থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়।
রোববার তাদের দুজনের অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। সকালে ওই ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স মলিনা রানী হাওলাদার তাদের দুজনের শরীরে ভুলক্রমে নরকিউ এনেস্থেসিয়া ইনজেকশন পুশ করেন বলে জানায় রোগীর স্বজনরা। এর মাত্র ২ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যে একে একে দুই রোগীর মৃত্যু হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ওই নার্স ওয়ার্ড থেকে সরে পড়েন। স্বজন ও অন্য রোগীরা বলেন, ভর্তি থাকা দুই নারী শেফালী ও হেলেনা সুস্থ স্বাভাবিক ছিলেন। ওই ইনজেকশন তাদের হাতের শিরায় পুশ করার পর পরই দুজন নিস্তেজ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন স্বজন এবং চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা। অভিযুক্ত নাক, কান, গলা বিভাগের সিনিয়র নার্স মলিনা রানী হালদার নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, কীভাবে কী হলো তা আমি বলতে পারছি না। আমার ভুল হয়েছে। একই কথা বলেন সিনিয়র নার্স হেলেনাও। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মনীর বলেন, দুই রোগীর আজ (রোববার) অপরারেশন হওয়ার কথা ছিল। অপারেশন হওয়ার আগে ও অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে কিছু ওষুধ দিতে হয়।
কিন্তু তারা এনেস্থেসিয়া ইনজেকশন আগে পুশ করেছে। তারা নিজেদের কাজে গাফিলতি করেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে ইএনটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আমিনুল হককে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক শাহনাজ পারভীন ও ইএনটির আবাসিক সার্জন ডা. আল মামুন খান। এছাড়া যারা মারা গেছেন তাদের স্বজনরা যদি আইনিব্যবস্থা নিতে চান তবে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৩:৩৮
বরিশালের বাকেরগঞ্জে হামলা চালিয়ে এক বিএনপি নেতা ও তার স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। আহত বিএনপি নেতা মোঃ রফিক হাওলাদার (৪০) ও তার স্ত্রী মোসাঃ সালমা বেগম (৩০) বর্তমানে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার রাত ৭টার দিকে উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ভান্ডারীকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার বিএনপি নেতা মোঃ রফিক হাওলাদার গারুড়িয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ভান্ডারীকাঠী গ্রামের আনেস হাওলাদারের ছেলে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার বিএনপি নেতা রফিক হাওলাদারের ব্যবহৃত তার ঘরের পল্লী বিদ্যুতের মিটার থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার চেষ্টা করে।
এতে তিনি বাঁধা দিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার ও উজ্জল হাওলাদার লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করে।
এ সময় তার স্ত্রী সালমা বেগম তাকে বাঁচাতে গেলে হামলাকারীরা তার শ্লীলতাহানি করে পিটিয়ে তাকেও আহত করে। স্থানীয়রা চিৎকার শুনে তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার ভান্ডারকাঠী গ্রামের নজরুল হাওলাদারের পুত্র এবং উজ্জ্বল হাওলাদার একই গ্রামের হানিফ হাওলাদারের পুত্র।
আহত বিএনপি নেতা মোঃ রফিক হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ না দেয়ার কারণে ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার ও উজ্জ্বল হাওলাদার হামলা চালিয়ে তাকেসহ তার স্ত্রীকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।
এই ঘটনায় হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকারকে কে এম সোহেল রানা বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে হামলা চালিয়ে এক বিএনপি নেতা ও তার স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। আহত বিএনপি নেতা মোঃ রফিক হাওলাদার (৪০) ও তার স্ত্রী মোসাঃ সালমা বেগম (৩০) বর্তমানে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার রাত ৭টার দিকে উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ভান্ডারীকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার বিএনপি নেতা মোঃ রফিক হাওলাদার গারুড়িয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ভান্ডারীকাঠী গ্রামের আনেস হাওলাদারের ছেলে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার বিএনপি নেতা রফিক হাওলাদারের ব্যবহৃত তার ঘরের পল্লী বিদ্যুতের মিটার থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার চেষ্টা করে।
এতে তিনি বাঁধা দিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার ও উজ্জল হাওলাদার লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করে।
এ সময় তার স্ত্রী সালমা বেগম তাকে বাঁচাতে গেলে হামলাকারীরা তার শ্লীলতাহানি করে পিটিয়ে তাকেও আহত করে। স্থানীয়রা চিৎকার শুনে তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার ভান্ডারকাঠী গ্রামের নজরুল হাওলাদারের পুত্র এবং উজ্জ্বল হাওলাদার একই গ্রামের হানিফ হাওলাদারের পুত্র।
আহত বিএনপি নেতা মোঃ রফিক হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ না দেয়ার কারণে ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদার ও উজ্জ্বল হাওলাদার হামলা চালিয়ে তাকেসহ তার স্ত্রীকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।
এই ঘটনায় হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকারকে কে এম সোহেল রানা বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
১৬ মার্চ, ২০২৬ ০৩:৩১
১৫ মার্চ, ২০২৬ ২০:৩৩
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৮:৫৭
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৩৫